বৈদেশিক-সম্পর্ক
নিরাপদ অঞ্চল গড়তে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র যৌথ সামরিক মহড়া চলবে
নিরাপদ অঞ্চল গড়ার লক্ষ্যে সহযোগিতা জোরদারে এই গ্রীষ্মে তিনটি যৌথ মহড়ার মাধ্যমে দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারিত্ব অব্যাহত রাখবে যুক্তরাষ্ট্র এবং বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী, যা দুই দেশের অভিন্ন নিরাপত্তা লক্ষ্যকে আরও দৃঢ় করবে।
রবিবার (২০ জুলাই) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস জানিয়েছে, এই উদ্যোগগুলো যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশকে আরও শক্তিশালী করবে এবং পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তাকে আরও সুদৃঢ় করবে।
টাইগার লাইটনিং মহড়া
চতুর্থবারের মতো বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও যুক্তরাষ্ট্রের ইউএস আর্মি প্যাসিফিক (ইউএসএআরপিএসি) ‘টাইগার লাইটনিং’ মহড়া পরিচালনা করবে। এই মহড়ায় বাস্তবধর্মী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান, শান্তিরক্ষা, জঙ্গলে অভিযান, আহতদের চিকিৎসার জন্য দ্রুত সরিয়ে নেওয়া (মেডিকেল ইভাকুয়েশন) এবং তাৎক্ষণিক বিস্ফোরক ডিভাইস (আইইডি) প্রতিরোধের প্রস্তুতি নেওয়া হবে।
টাইগার শার্ক ২০২৫ মহড়া
২০০৯ সাল থেকে চলমান ‘টাইগার শার্ক’ যৌথ প্রশিক্ষণ মহড়া ‘ফ্ল্যাশ বেঙ্গল’ সিরিজের অংশ। এতে দুই দেশের বিশেষ বাহিনী একত্রে বিভিন্ন যুদ্ধকৌশল অনুশীলন করে।
২০২৫ সালের মহড়ায় থাকবে টহল নৌকা পরিচালনা, ছোট অস্ত্র চালনায় দক্ষতা অর্জন, এবং যুক্তরাষ্ট্রের সরঞ্জাম ব্যবহার— যা বাংলাদেশের স্পেশাল ওয়ারফেয়ার ডাইভিং অ্যান্ড সালভেজ ইউনিট এবং প্যারা কমান্ডো ব্রিগেডের সংকট মোকাবিলায় সক্ষমতা বাড়াবে।
প্রশান্ত অ্যাঞ্জেল মহড়া
‘প্রশান্ত অ্যাঞ্জেল’ মহড়া বাংলাদেশে চতুর্থবারের মতো অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এতে দুই দেশের মধ্যে মানবিক সহায়তা ও দুর্যোগ মোকাবিলায় সামরিক সহযোগিতা তুলে ধরা হবে। এ মহড়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সি-১৩০ বিমান বহরের ব্যবহারে মনোযোগ দেওয়া হবে, যা দুর্যোগকালে আকাশপথে ত্রাণ সরবরাহ ও দ্রুতগতির সাড়াদান কার্যক্রমে অপরিহার্য।
মহড়ায় আরও থাকবে উদ্ধার অভিযান (এসএআর) এবং আকাশপথে চিকিৎসা সহায়তা (অ্যারোমেডিকেল অপারেশন) প্রশিক্ষণ, যা বাংলাদেশের মানবিক সহায়তা কার্যক্রমকে আরও উন্নত করবে।
আরকিউ-২১ প্রোগ্রামের উদ্বোধন
যুক্তরাষ্ট্র এখন বাংলাদেশের সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনীর সঙ্গে যৌথভাবে ‘আরকিউ-২১ ব্ল্যাকজ্যাক’ নামে একটি মানবহীন আকাশযান (ইউএএস) সক্ষমতা গড়ে তুলছে।
বাংলাদেশ সেনা ও নৌবাহিনীর সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত একটি রেজিমেন্ট এই নতুন আরকিউ-২১ ব্ল্যাকজ্যাক সিস্টেম পরিচালনা করবে। এর মাধ্যমে সমুদ্রসীমা নজরদারি, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের সক্ষমতা বাড়বে।
২২৯ দিন আগে
বৈদেশিক বিনিয়োগ প্রচারে চীনের উদ্দেশে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল
বাংলাদেশে সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ (এফডিআই) আকর্ষণে একটি উচ্চপর্যায়ের সরকারি প্রতিনিধি দল চীনের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন।
এই প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে রয়েছেন—বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ও বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী।
এই প্রতিনিধি দলে বিডা ও বেজার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি ব্যাংক খাতের প্রতিনিধিরাও রয়েছেন। এদের মধ্যে আছেন এইচএসবিসি, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশ ও সিটি এনএ’র প্রতিনিধিরা।
যাত্রার শুরুতে আশিক চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের এই সফর ঘিরে চীনের বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য আগ্রহ দেখা গেছে। আমরা তাদের প্রয়োজনীয় তথ্য ও সহায়তা দিতে প্রস্তুত।’
প্রতিনিধি দলটি ২০ থেকে ২৬ জুলাই পর্যন্ত চীনের সাংহাই ও গুয়াংজুতে একাধিক বৈঠকে অংশ নেবেন।
২১ জুলাই সাংহাইয়ে আয়োজিত একটি ব্যবসায়িক সেমিনার সফরের মূল আকর্ষণ। বিডা ও চীনে বাংলাদেশের দূতাবাস এটি যৌথভাবে আয়োজন করছে।
এতে ইলেকট্রনিকস, টেক্সটাইল, কৃষি, বায়োটেকনোলজি, ওষুধ ও চিকিৎসা যন্ত্রাংশ খাতের শতাধিক চীনা বিনিয়োগকারী ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি উপস্থিত থাকবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
২২৯ দিন আগে
প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবার আহ্বান অধ্যাপক ইউনূসের
অন্তর্ভুক্তিমূলক স্বাস্থ্যসেবার উপর জোর দিয়ে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ যাতে অনলাইনে চিকিৎসকদের সঙ্গে পরামর্শ করতে পারেন—সেজন্য সরকার ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
শুক্রবার (১৮ জুলাই) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় স্পেসএক্সের ভাইস প্রেসিডেন্ট লরেন ড্রেয়ার তার সঙ্গে দেখা করার সময় প্রধান উপদেষ্টা এ কথা বলেন।
ড. ইউনূস বলেন, তাদের চিকিৎসার ইতিহাস ডিজিটালভাবে সংরক্ষণ করা হবে, যা ভবিষ্যতে পরামর্শ দেওয়াকে সহজ করে তুলবে।
তিনি বলেন, ‘গর্ভাবস্থায় এটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। নারীদের প্রায়শই চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার জন্য পুরুষদের সহায়তার প্রয়োজন হয়। ডিজিটাল পরিষেবার মাধ্যমে তারা বাড়ি থেকে চিকিৎসকদের সঙ্গে পরামর্শ করতে পারেন।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানায়, স্পেসএক্সের গ্লোবাল এনগেজমেন্ট কনসালট্যান্ট রিচার্ড গ্রিফিথস, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমেদ তৈয়্যব ও বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে স্টারলিংক কার্যকরভাবে চালু করার জন্য বাংলাদেশের সরকারি কর্মকর্তাদের সমন্বিত প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বের ১৫০টি দেশ এবং অঞ্চলে কাজ করি। আমরা কখনও এত দক্ষতা এবং সিদ্ধান্তমূলক মনোভাব দেখিনি। স্পেসএক্সে আমার সকল সহকর্মীর পক্ষ থেকে আমি আপনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আমরা আপনার দলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার জন্য আগ্রহী।’
প্রধান উপদেষ্টা বাংলাদেশ সফরের জন্য স্পেসএক্সের ভাইস প্রেসিডেন্টকে ধন্যবাদ জানান। ‘এটি চলতি বছরের একটি সুন্দর সময়, বর্ষাকাল। সর্বত্র সবুজ ও জলরাশি।’
পড়ুন: স্পেসএক্সের প্রতিনিধিদল ঢাকায় আসছে শুক্রবার
একই সঙ্গে আমরা বন্যা এবং জলাবদ্ধতার চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হই, যা সংযোগ বজায় রাখার জন্য নির্ভরযোগ্য প্রযুক্তির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।
তিনি বলেন, ‘আমাদের পার্বত্য অঞ্চলের প্রত্যন্ত অঞ্চলে উন্নত সংযোগ জরুরি প্রয়োজন। এই অঞ্চলগুলোতে উপযুক্ত স্কুল, শিক্ষক এবং চিকিৎসকের অভাব রয়েছে। আমরা ১০০টি স্কুলে অনলাইন শিক্ষা চালু করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছি, যা দুর্গম এলাকার শিক্ষার্থীদের উপকার করবে।’
অধ্যাপক ইউনূস বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশীরাও ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা থেকে উপকৃত হবেন।
তিনি বলেন, ‘ভাষাগত প্রতিবন্ধকতার কারণে অনেকেই বিদেশে চিকিৎসকদের সঙ্গে পরামর্শ করতে দ্বিধা করেন। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে তারা বিদেশ থেকে বাংলাদেশি চিকিৎসকদের সঙ্গে পরামর্শ করতে পারবেন। আমরা এখানে ছোট ছোট উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছি— তবে আপনি এই প্রকল্পগুলোকে সারা বিশ্বে নিয়ে যেতে পারেন।’
লরেন ড্রেয়ার অধ্যাপক ইউনূসের দূরদৃষ্টির প্রশংসা প্রকাশ করে বলেন, ‘আপনি এখানে যে উদাহরণ স্থাপন করছেন— তা অন্যান্য নেতাদের কাছে তুলে ধরা যেতে পারে। যদি অধ্যাপক ইউনূস তার দেশে এটি করতে পারেন—তাহলে অন্যরাও করতে পারেন।’
তিনি দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অধ্যাপক ইউনূসের প্রচেষ্টারও প্রশংসা করেন।
স্পেসেএক্সের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘জনগণের কাছে জনসেবা পৌঁছানোর আপনার উদ্যোগগুলো অত্যন্ত প্রশংসনীয়। বিশ্বজুড়ে ভ্রমণ করা আমার কাজের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ।’
ড্রেয়ার আরও বলেন, আমি বুঝতে পারি দুর্নীতি কতটা গুরুতর সমস্যা হতে পারে। পরিষেবা বিকেন্দ্রীকরণ এবং শাসনব্যবস্থা উন্নত করার জন্য প্রযুক্তি ব্যবহার করা একটি অর্থপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি।
২৩১ দিন আগে
স্পেসএক্সের প্রতিনিধিদল ঢাকায় আসছে শুক্রবার
বিশ্বখ্যাত মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের সহযোগী প্রতিষ্ঠান স্টারলিংকের ব্যবসা পরিচালনা বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট লরেন ড্রেয়ারের নেতৃত্বে একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদল শুক্রবার ঢাকায় আসছেন। প্রতিনিধি দলের অন্য সদস্য হলেন স্পেসএক্সের আন্তর্জাতিক কৌশল ও সরকারি সম্পর্ক পরিচালক রিচার্ড গ্রিফিথস।
বৃহস্পতিবার(১৭ জুলাই) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানায় ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়।
প্রতিনিধিদলটি বাংলাদেশ সফরে আসছেন তথ্যপ্রযুক্তি ও যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নে স্টারলিংকের সম্ভাব্য বিনিয়োগ ও অংশীদারত্বের দিকগুলো মূল্যায়ন করতে এবং সরকার ও নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নিতে। পাশাপাশি তারা বাংলাদেশে স্টার লিংকের অফিসিয়াল যাত্রা শুরুর ঘোষণা দেবেন।
লরেন ড্রেয়ারের নেতৃত্বে আগত দলটি ব্যবসায়িক সম্ভাবনা যাচাই, নতুন প্রযুক্তির স্থানীয় বাস্তবায়ন এবং গ্রামীণ ও দুর্গম অঞ্চলে ইন্টারনেট পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগে বাংলাদেশকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাজার হিসেবে দেখছে।
পড়ুন: বাংলাদেশে মে মাসেই চালু হবে স্পেসএক্সের সেবা
স্পেসএক্স ও স্টারলিংকের এই সফর বাংলাদেশের ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশনের লক্ষ্য পূরণে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আগামীকাল প্রতিনিধিদলটি প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। বিকাল ৫টায় হোটেল ইন্টার কন্টিনেন্টালে প্রেস কনফারেন্সে বক্তব্য দেবেন। রাতে ঢাকার হাতিরঝিলে অনুষ্ঠিত জুলাই পুনর্জাগরণ অনুষ্ঠানে যোগ দিবেন তারা। পরদিন শনিবার তারা ফিরে যাবেন।
২৩২ দিন আগে
বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা-সুবিধা চালু করল মালয়েশিয়া
বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা-সুবিধা চালু করেছে মালয়েশিয়া। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল।
মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে এসব জানান তিনি।
আসিফ নজরুল বলেন, মালয়েশিয়া ১৫টি দেশ থেকে কর্মী নিয়ে থাকে। এর মধ্যে শুধু বাংলাদেশি কর্মীদের মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসার পরিবর্তে সিঙ্গেল এন্ট্রি ভিসা দেওয়া হচ্ছিল। এটি নিয়ে প্রবাসীদের অনেক ভোগান্তি হতো।
এখন এই মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা প্রবাসী কর্মীদের ভোগান্তি কমাবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বাংলাদেশি কর্মীদের ভিসা–সংক্রান্ত বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনার পর ১০ জুলাই মাল্টিপল ভিসা-সুবিধা দিয়ে পরিপত্র জারি করে মালয়েশিয়া সরকার।
উপদেষ্টা আসিফ নজরুল জানান, গত মাসে মালয়েশিয়া সফরকালে তিনি ও প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকীর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন।
আরও পড়ুন: জাহাজ শিল্প ও বন্দর অবকাঠামোয় সিঙ্গাপুরকে বিনিয়োগের আহ্বান নৌউপদেষ্টার
উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেন, ‘বৈঠকে বিষয়টি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরার পর মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দ্রুত এ সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছিলেন। এরপর থেকে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের দূতাবাসের কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখেন। অবশেষে ১০ জুলাই প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা–সুবিধা চালু করে মালয়েশিয়া ইমিগ্রেশনের মহাপরিচালকের সই করা একটি পরিপত্র জারি করা হয়।’
আসিফ নজরুল আরও বলেন, যেসব বাংলাদেশি কর্মীর পরিপত্র জারির আগে সিঙ্গেল এন্ট্রি ভিসা এবং টেম্পোরারি এমপ্লয়মেন্ট ভিজিট পাস (পিএলকেএস) ইস্যু করা আছে, তাদের নতুন করে মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা আবেদন করতে হবে না। পিএলকেএস নবায়নের সময় মাল্টিপল ভিসা নিজ থেকেই ইস্যু হয়ে যাবে।
পাশাপাশি এখন থেকে যেসব বাংলাদেশি কর্মীর সিঙ্গেল এন্ট্রি ভিসা ছিল এবং পিএলকেএস বৈধ আছে, তারা নতুন মাল্টিপল ভিসা ছাড়াই মালয়েশিয়া থেকে দেশে আসা–যাওয়া করতে পারবেন। এ বিষয়ে মালয়েশিয়ার সব আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও স্থলবন্দরে পরিপত্রের মাধ্যমে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
২৩৩ দিন আগে
জাহাজ শিল্প ও বন্দর অবকাঠামোয় সিঙ্গাপুরকে বিনিয়োগের আহ্বান নৌউপদেষ্টার
বাংলাদেশের জাহাজ শিল্পসহ বন্দর অবকাঠামো উন্নয়নে সিঙ্গাপুরকে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন নৌপরিবহন এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন।
মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) সকালে সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত সিঙ্গাপুরের ভারপ্রাপ্ত পরিবহন মন্ত্রী মি. জেফ্রি সিও’র সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এ আহ্বান জানান।
উপদেষ্টা বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের জাহাজ শিল্প খাতে বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ বিরাজ করছে এবং সকল প্রক্রিয়া এখন স্বচ্ছতার সাথে উন্মুক্ত মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। দেশের সম্ভাবনাময় জাহাজ শিল্প খাতসহ বন্দর অবকাঠামো উন্নয়নে সিঙ্গাপুর বিনিয়োগ করতে পারে।
বৈঠকে ড. এম সাখাওয়াত হোসেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের বিষয়ে সিঙ্গাপুরের পরিবহন মন্ত্রীকে অবহিত করেন এবং বন্দর অবকাঠামো নির্মাণ ও ব্যবস্থাপনার অভিজ্ঞতা বিনিময় ও প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতায় সিঙ্গাপুরের সহায়তা কামনা করেন।
তিনি বলেন, বন্দর অবকাঠামো নির্মাণ ও ব্যবস্থাপনায় সিঙ্গাপুরের চমৎকার অভিজ্ঞতা রয়েছে। সিঙ্গাপুর বাংলাদেশের বিভিন্ন বন্দর, বে টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্প, মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দরে শিপইয়ার্ড নির্মাণ, মোংলা বন্দরের আধুনিকায়নসহ গুরুত্বপূর্ণ বন্দরের অবকাঠামো উন্নয়নে বিনিয়োগ করতে পারে।
উপদেষ্টা বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের মেগা সম্প্রসারণ প্রকল্প বে টার্মিনাল নির্মাণে বাংলাদেশকে ৬৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের ঋণ অনুমোদন দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। এই টার্মিনালটি নির্মিত হলে বাংলাদেশের বৈশ্বিক বাণিজ্য প্রতিযোগিতা-সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।
‘বন্দরের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধির ফলে অনেকাংশে কমে আসবে আমদানি ও রপ্তানি ব্যয়। উপদেষ্টা বে টার্মিনালের কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণে পিএসএ সিঙ্গাপুরের সাথে আসন্ন অক্টোবর মাসের মধ্যে একটি চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন,’ যোগ করেন উপদেষ্টা।
তিনি মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর বা বাংলাদেশের উপর্যুক্ত যে কোনো স্থানে একটি আন্তর্জাতিক মানের শিপইয়ার্ড/ডকইয়ার্ড নির্মাণে সিঙ্গাপুর সরকারকে অনুরোধ জানান। সিঙ্গাপুরের পরিবহন মন্ত্রী এ বিষয়ে উপদেষ্টাকে আশ্বস্ত করেন।
বাংলাদেশের মেরিন একাডেমিগুলো থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত দক্ষ ও মেধাবী মেরিনারদের সিঙ্গাপুরে কর্মসংস্থানের সুযোগ দেওয়ার জন্য উপদেষ্টা সিঙ্গাপুর সরকারকে অনুরোধ করেন।
এছাড়া বাংলাদেশি নাবিকদের জন্য সিঙ্গাপুর সরকার কর্তৃক ট্রানজিট ভিসা প্রদানের আহ্বান জানান। সিঙ্গাপুরের পরিবহন মন্ত্রী বাংলাদেশি নাবিকদের জন্য দ্রুতই ট্রানজিট বা ওয়ার্কিং ভিসা প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে বলে জানান।
বাংলাদেশ ২০২৬-২৭ মেয়াদের জন্য ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশন (আইএমও) কাউন্সিলের ক্যাটাগরি ‘সি’-এর সদস্য হিসেবে প্রার্থিতা ঘোষণা করেছে। আসন্ন নির্বাচনে বাংলাদেশের পক্ষে সিঙ্গাপুরসহ অন্যান্য সদস্য রাষ্ট্রের সমর্থন কামনা করেন নৌপরিবহন উপদেষ্টা।
২৩৪ দিন আগে
ড. ইউনূসকে আন্তঃধর্মীয় সংলাপে আমন্ত্রণ আর্চবিশপের
পোপের রাষ্ট্রদূত (অ্যাপোস্টলিক নানসিও) আর্চবিশপ কেভিন এস. র্যান্ডাল আগামী ৬–১২ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠেয় এক আন্তধর্মীয় সংলাপে অংশগ্রহণের জন্য প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন আর্চবিশপ র্যান্ডাল। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং সূত্রে জানা যায়, তিনি বলেন এই সংলাপটি দ্বিমাত্রিক—একদিকে একাডেমিক এবং অন্যদিকে ব্যবহারিক আলোচনার মাধ্যমে বৃহত্তর জনগণের কাছে পৌঁছানোই এর লক্ষ্য।
তিনি বলেন, এই সংলাপের মূল উদ্দেশ্য হলো সহনশীলতা, সম্প্রীতি ও বন্ধুত্বের সংস্কৃতি প্রচার করা।
আর্চবিশপ র্যান্ডাল আগামী সেপ্টেম্বর মাসে রোমে ‘ফ্রাতেল্লি তুত্তি’ ফাউন্ডেশনের একটি অনুষ্ঠানে যোগদানের জন্যও প্রধান উপদেষ্টাকে আমন্ত্রণ জানান।
প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ইউনূস তার আমন্ত্রণের জন্য আর্চবিশপকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, ‘এটি একটি বড় আয়োজন। আমি আপনাদের সর্বাঙ্গীন সাফল্য কামনা করি।’
এ সময় তিনি নতুন পোপের প্রতি শুভকামনাও জানান।
২৩৪ দিন আগে
ভৌগলিক নয়, অগ্রগতির দৃষ্টিতে বাংলাদেশকে দেখার আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার
বাংলাদেশকে কেবল একটি ‘ভৌগোলিক সীমানা’ হিসেবে না দেখে বরং অগ্রগতির দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে বিশ্বব্যাংকের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি ভৌগলিক সীমানার চেয়ে বৃহত্তর।
সোমবার (১৪ জুলাই) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বিশ্বব্যাংকের নবনিযুক্ত দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট জোহানেস জুট। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটান বিষয়ক নতুন বিভাগীয় পরিচালক জ্যাঁ পেসমে। সাক্ষাতকালে বিশ্বব্যাংকের প্রতি এই আহ্বান জানান অধ্যাপক ইউনূস।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ সমৃদ্ধ হলে, পুরো দক্ষিণ এশীয় অঞ্চল সমৃদ্ধ হবে। যদি আমরা নিজেদের বিচ্ছিন্ন করি, তবে আমরা অগ্রগতি করছি না। আমাদের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সুবিধা এবং পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন করতে হবে। আমাদের একটি সমুদ্র আছে। এটি আমাদের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।’
মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই সাক্ষাতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং। বিজ্ঞপ্তিতে তারা জানিয়েছে, বৈঠকে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির প্রতি দৃঢ় সমর্থন জানিয়েছেন জুট। একই সঙ্গে অর্থনৈতিক খাতে অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার কর্মসূচির জন্য অধ্যাপক ইউনূসকে সাধুবাদও জানান তিনি।
আলোচনায় বাংলাদেশের প্রতি নিজের গভীর ভালোবাসার কথা জানান জুট। তিনি ২০১৩ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ, ভুটান ও নেপালের কান্ট্রি ডিরেক্টর হিসেবে তার দায়িত্ব পালনের স্মৃতিচারণও করেন।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশের নির্বাচন সর্বোচ্চ অন্তর্ভুক্তিমূলক হবে, আশা রাষ্ট্রদূত মাসদুপুইয়ের
অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রচেষ্টার প্রশংসা করে জুট বলেন, ‘আপনার এবং আপনার চমৎকার টিমকে ভালো কাজের জন্য সাধুবাদ।’
এ সময় বিশেষ করে আর্থিক খাতের অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং কিছু বিষয় মোকাবিলায় সরকারের প্রচেষ্টার কথা তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এই যাত্রা অব্যাহত রাখতে এবং বাংলাদেশের মানুষের উচ্চাকাঙ্ক্ষায় অংশীদার হতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।’
এ ছাড়াও বৈঠকে গত বছরের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহত শিক্ষার্থীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান জুট। একে তিনি ‘বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্ত সবার জন্য একটি অত্যন্ত আবেগঘন মুহূর্ত’ বলে অভিহিত করেন।
জুটের সমর্থন ও প্রশংসার জন্য তাকে ধন্যবাদ জানান প্রধান উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, আমরা যখন দায়িত্ব নিয়েছিলাম, তখন দেশের অবস্থা ছিল একটি ধ্বংসস্তূপের মতো, যেন ভূমিকম্প-পরবর্তী এলাকা। আমাদের অভিজ্ঞতা না থাকার পরও সব উন্নয়ন অংশীদার আমাদের সমর্থন করেছে। এটি আমাদের অনেক সাহায্য করেছে; আমাদের আত্মবিশ্বাসী করেছে।
অধ্যাপক ইউনূস গত জুলাইয়ের অভ্যুত্থানে তরুণদের ভূমিকার কথা তুলে ধরে বলেন, ‘তরুণরা এই জাতিকে একটি নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখিয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, গত জুলাইয়ে আমাদের তরুণরা যা করেছে তা ঐতিহাসিক। বিশেষ করে আমাদের মেয়েরা এবং নারীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। আমরা আজ জুলাই নারী দিবস পালন করছি, তাদের ত্যাগ যেন ব্যর্থ না হয়। তরুণরাই আমাদের দেশের মূল কেন্দ্রবিন্দু। আমাদের উচিত তাদের দিকে মনোযোগ দেওয়া এবং তাদের উচ্চাকাঙ্ক্ষার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলা।
অধ্যাপক ইউনূস বলেন, বেশিরভাগ দেশেই তরুণদের অভাব রয়েছে। তাই আমরা তাদের বলেছি, তাদের কারখানাগুলো এখানে নিয়ে আসতে। আমরা শিল্পগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছু সরবরাহ করব যাতে এটি একটি উৎপাদনকেন্দ্রে পরিণত হতে পারে।
আরও পড়ুন: নেপাল-বাংলাদেশের মধ্যে দৃড় সম্পর্ক গড়ে ওঠার আশাবাদ
বিশ্বব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট নারীর ক্ষমতায়নে অধ্যাপক ইউনূসের ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, আমরা আপনাকে সমর্থন দেওয়া অব্যাহত রাখব। বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় বাংলাদেশে মেয়েদের জন্য শিক্ষাবৃত্তি কর্মসূচি চালু হয়েছিল যা অন্যান্য দেশেও অনুকরণীয় হয়ে উঠেছে।
তিনি জানান, গত অর্থবছরে বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশে ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থায়ন করেছে এবং আগামী তিন বছরেও একইরকম সমর্থন অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকীও উপস্থিত ছিলেন। তিনি চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) সম্পর্কে হালনাগাদ তথ্য দেন।
লুৎফে সিদ্দিকী বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটিতে নতুন পরিচালন ব্যবস্থা চালুর পর কন্টেইনার হ্যান্ডলিং বৃদ্ধি পেয়েছে। আমাদের লক্ষ্য এটি আরও কার্যকর করা।
তিনি আরও বলেন, আমরা ২০২৫ সালের জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে নিট বৈদেশিক প্রত্যক্ষ বিনিয়োগে (এফডিআই) উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি লক্ষ করেছি, যা মূলত কোম্পানিগুলোর অভ্যন্তরীণ ঋণ ও শক্তিশালী ইকুইটি বিনিয়োগ বৃদ্ধির ফলে হয়েছে।
২৩৪ দিন আগে
বাংলাদেশের নির্বাচন সর্বোচ্চ অন্তর্ভুক্তিমূলক হবে, আশা রাষ্ট্রদূত মাসদুপুইয়ের
‘মুক্ত ও সুষ্ঠু’ নির্বাচন আয়োজনে সরকারের প্রস্তুতির কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশে পরবর্তী জাতীয় নির্বাচনকে অন্তর্ভুক্তিমূলক হিসেবে দেখার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত মারি মাসদুপুই।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, নির্বাচন কমিশন খুব ভালোভাবে কাজ করবে। এটাই যে তাদের উদ্দেশ্য তা পরিষ্কার। তাই আশা করছি, নির্বাচনটি যতটা সম্ভব অন্তর্ভুক্তিমূলক হবে।’
তবে নির্বাচন কতটা অন্তর্ভুক্তিমূলক হবে, তা প্রস্তুতির ধরন ও প্রয়োগের ওপর নির্ভর করছে বলেও এ সময় উল্লেখ করেন তিনি।
ইউএনবির সংবাদদাতাসহ গুটিকয়েক সাংবাদিকের সঙ্গে আলাপকালে রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘অবশ্যই আমরা সবাই জানি, বাংলাদেশের একটি ঐতিহাসিক রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ রয়েছে। যতক্ষণ না সেই দল নিজেদের সংস্কার করছে, ক্ষমা চাইছে এবং তাদের কিছু নেতার বিচার হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত যে তাদের নির্বাচনে অংশ নেওয়া কঠিন সেটি আমরা বুঝি।’
তার মতে, অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন মানে শুধু বড় দল নয়, স্বতন্ত্র ও ছোট দলগুলোর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। যত বেশি দল অংশ নেবে, নির্বাচন তত বেশি অন্তর্ভুক্তিমূলক হবে বলে মনে করেন তিনি।
চলতি বছরের মে মাসে অন্তর্বর্তী সরকার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় এক গেজেটের মাধ্যমে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও দলটির অঙ্গসংগঠনগুলোর সব ধরনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। যতদিন না আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল দলটির নেতাদের বিচার সম্পন্ন করছে, ততদিন এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে বলেও জানানো হয়।
আরও পড়ুন: ‘বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে বিশ্বব্যাংক প্রতিশ্রুতিবদ্ধ’
রাষ্ট্রদূত বলেন, অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ‘মুক্ত ও সুষ্ঠু’ নির্বাচন আয়োজনের পরিবেশ তৈরিতে কাজ করছে। এটি তাদের অঙ্গীকার। ফ্রান্স এই প্রচেষ্টাকে সমর্থন করছে। সম্ভব হলে, আমরা ইউরোপীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক দল পাঠিয়েও সহায়তা করতে চাই।
আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি বা এপ্রিলের মধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে—এমন ইঙ্গিত দিয়ে প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস এরই মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রস্তুতি শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন।
ঢাকায় ফরাসি দূতাবাসে রবিবার রাতে অনুষ্ঠিত ফ্রান্সের জাতীয় দিবসের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তৃতায় রাষ্ট্রদূত মাসদুপুই বলেন, গণতন্ত্র মানে স্বাধীনতা, সমতা এবং ভ্রাতৃত্ববোধ ও অন্তর্ভুক্তি।
তিনি বলেন, ‘প্রধান উপদেষ্টার বিচক্ষণ ও অসাধারণ নেতৃত্বে বাংলাদেশ এখন সত্যিকারের গণতান্ত্রিক নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তাতে অনেক বাধা আসবে। তবে সাহস ও দৃঢ় প্রত্যয় থাকলে বাধাগুলো কাটিয়ে ওঠা যাবে।’
এয়ারবাস বিষয়ে আলোচনা চলছে
এয়ারবাস ক্রয়সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘আলোচনা এখনো চলছে। এটি বন্ধ হয়নি।’
যুক্তরাষ্ট্র থেকে বোয়িং বিমান কেনার বিষয়টি বিবেচনায় নিচ্ছে বাংলাদেশ, যাতে বাণিজ্য ঘাটতি কমানো যায় এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত ৩৫ শতাংশ শুল্ক (আগামী ১ আগস্ট থেকে কার্যকর) এড়ানো সম্ভব হয়।
রাষ্ট্রদূতের মন্তব্য, ‘আমরা চাই সবাই সমান সুযোগ পাক। আমাদের মনে হয়, বিমানের বহরে এয়ারবাস ও বোয়িং—উভয় ধরনের উড়োজাহাজ থাকলে যাত্রীদের জন্য তা সবচেয়ে বৈচিত্র্যপূর্ণ সেবা নিশ্চিত করবে।’
গত জুনে লন্ডনে প্রধান উপদেষ্টা ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এয়ারবাসের নির্বাহী সহ-সভাপতি ওয়াউটার ভ্যান ওয়ার্স। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশকে আমরা একটি অগ্রাধিকারমূলক দেশ হিসেবে দেখছি।’
আরও পড়ুন: শুল্কনীতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিতীয় ধাপের আলোচনা আশাব্যঞ্জক: বাণিজ্য উপদেষ্টা
ভ্যান ওয়ার্স আরও জানান, বছরে ৮০০টি বিমান সরবরাহ করা এয়ারবাস শুধু যাত্রীবাহী নয়, হেলিকপ্টার ও যুদ্ধবিমান তৈরিতেও দক্ষ। বাংলাদেশ যদি বিমানের বহরে এয়ারবাস যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে রপ্তানি ঋণ সংস্থা (ইসিএ) থেকে ৮৫ শতাংশ অর্থায়ন পাওয়া যেতে পারে।
সম্পর্ক ইতিবাচক রয়েছে
রাষ্ট্রদূত মাসদুপুই বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের চলমান সংস্কারের প্রতি ফ্রান্সের সমর্থন রয়েছে। সরকারের সঙ্গে আরও গভীরভাবে যুক্ত হতে আমরা আগ্রহী।
তিনি বলেন, ‘অনেক প্রকল্প পর্যালোচনার পর্যায়ে রয়েছে। তাই সেগুলোর জন্য ধৈর্য ধরতে হবে। তবে আমরা চাই, সেগুলো যেন দ্রুত বাস্তবায়ন করা যায়।’
‘আমাদের দ্বিপাক্ষীয় সম্পর্ক খুব ভালো, সবসময়ই ইতিবাচক। আমরা নানা খাতে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করছি এবং সেটা আরও বাড়াতে চাই।’
তিনি জানান, জলবায়ু পরিবর্তন পর্যবেক্ষণে স্যাটেলাইট ডেটা ব্যবহারের মাধ্যমে বাংলাদেশের সার্বভৌম সক্ষমতা বাড়াতে মহাকাশ প্রযুক্তি নিয়ে নতুন সহযোগিতা শুরু করছে ফ্রান্স। উন্নয়ন ও কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের ক্ষেত্রেও সহযোগিতার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
২৩৪ দিন আগে
শুল্কনীতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিতীয় ধাপের আলোচনা আশাব্যঞ্জক: বাণিজ্য উপদেষ্টা
শুল্কনীতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিতীয় ধাপের আলোচনা আশাব্যঞ্জক বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন।
সোমবার (১৪ জুলাই) বিকালে সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে যুক্তরাষ্ট্র এবং বাংলাদেশের মধ্যে রেসিপ্রোকল ট্যারিফ অ্যাগ্রিমেন্টের খসড়া বিষয়ক আলোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, ‘আমরা গতকাল (রবিবার) যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফিরেছি আমাদের দ্বিতীয় রাউন্ডের আলোচনা শেষ করে। আলোচনার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আমরা স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আজ কথা বলেছি।’
তিনি বলেন, ‘আমরা দ্বিতীয় ধাপের আলোচনা শেষ করে আবার প্রস্তুতি নিচ্ছি তৃতীয় রাউন্ডের আলোচনার জন্য। আমরা চলতি মাসে যুক্তরাষ্ট্রে যাব। আমরা আশা করছি একটা ভালো আউটকাম আসবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে আমাদের আলোচনাগুলো আশাব্যঞ্জক হয়েছে। আলোচনাটা যথেষ্ট এনগেজিং ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গেও আমার বৈঠক হয়েছে। দফাওয়ারি আমাদের সঙ্গে যারা নেগোশিয়েশনে যুক্ত ছিলেন তাদের ৩৫-৪০ জনের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে।’
পড়ুন: নেপাল-বাংলাদেশের মধ্যে দৃড় সম্পর্ক গড়ে ওঠার আশাবাদ
উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা সেখান থেকে বেশকিছু পরামর্শ পেয়েছি। আমরা আশা করছি, এই আলোচনার মাধ্যমে রপ্তানির ওপর আমাদের জন্য যুক্তরাষ্ট্র একটি যৌক্তিক শুল্কহার নির্ধারণ করবে।’
শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, ‘আমরা প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ব্যবসা করি। ২০১৫ সাল থেকে আমরা শুল্ক পরিশোধ করে ব্যবসা করছি। আমাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নিজস্ব সক্ষমতার ভিত্তিতে এই ব্যবসা করে থাকে। যদি তুলনামূলকভাবে আমাদের সঙ্গে কোনো বৈষম্যমূলক অবস্থান তৈরি না হয় তাহলে আমাদের ব্যবসায়ীরা সফলতার সঙ্গে ব্যবসা করে যাবে।’
যৌক্তিক শুল্কহারের কথা বলা হচ্ছে। আসলে কত শতাংশ শুল্ককে যৌক্তিক মনে করছেন? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘শূন্য।’
২৩৫ দিন আগে