বৈদেশিক-সম্পর্ক
নেপাল-বাংলাদেশের মধ্যে দৃড় সম্পর্ক গড়ে ওঠার আশাবাদ
বাংলাদেশ ও নেপাল বিদ্যমান বিভিন্ন খাতে, বিশেষ করে ব্যবসা ও বাণিজ্য, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট দ্বিপক্ষীয় ইস্যুতে আলোচনা ও মতবিনিময় করেছে। এ সময় উভয় পক্ষ দুই দেশের মধ্যে শক্তিশালী সম্পৃক্ততার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে।
নেপালে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত শফিকুর রহমান দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. আরজু রানা দেওবার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ সময়ে দুদেশের সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে।
সোমবার (১৪ জুলাই) নেপালে বাংলাদেশের দূতাবাস এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এমন তথ্য জানিয়েছে। বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানিয়ে নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিকট-ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে একটি দৃঢ় সম্পর্ক গড়ে ওঠার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা, টেক্সটাইলস, সরকারি ও বেসরকারি খাতে শিক্ষা ও গবেষণায় সহযোগিতা, পর্যটন উন্নয়ন, জনগণের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ, শিক্ষাবিদ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সম্পর্ক বৃদ্ধিসহ সহযোগিতার নতুন খাত অনুসন্ধান করছে দুই দেশ।
রাষ্ট্রদূত সহযোগিতার ক্ষেত্রকে এগিয়ে নিতে আন্তরিকভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন এবং মন্ত্রীর আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন। জবাবে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাকে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেন এবং তার মেয়াদের সাফল্য কামনা করেন।
২৩৫ দিন আগে
‘বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে বিশ্বব্যাংক প্রতিশ্রুতিবদ্ধ’
বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের নতুন ভাইস প্রেসিডেন্ট জোহানেস জুট বলেছেন, বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের একটি ‘টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির ধারা বজায় রাখতে সহায়তা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এছাড়াও প্রতি বছর কর্মসংস্থানের বাজারে প্রবেশকারী ২০ লাখ তরুণের জন্য আরও উন্নত কর্মসংস্থান তৈরিতে সহায়তা করবে।
দায়িত্ব গ্রহণের পর শনিবার(১২ জুলাই) প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ সফরে ঢাকায় পৌঁছেছেন জুট। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ও এদেশের জনগণের সঙ্গে আমার তৈরি বন্ধুত্বের খুব মধুর স্মৃতি রয়েছে। বাংলাদেশি জনগণের সহনশীলতা, সৃজনশীলতা এবং তাদের সন্তানদের জন্য একটি উন্নত ভবিষ্যত গড়ে তোলার জন্য তাদের দৃঢ় সংকল্প দেখে আমি সর্বদা মুগ্ধ হয়েছি।’
বিশ্বব্যাংকের মতে, তার চার দিনের সরকারি সফরে জুট প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস, অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা এবং বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিদের সঙ্গে দেখা করবেন।
বিশ্বব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেন, কান্ট্রি ডিরেক্টরের পদ থেকে অবসর নেওয়ার পর থেকে দশ বছরে যে রূপান্তরমূলক পরিবর্তনগুলো অর্জিত হয়েছে—তা তিনি সরাসরি দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।
পড়ুন: জরুরি সংস্কারের মাধ্যমে অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির পথে ফিরতে পারে বাংলাদেশ: বিশ্ব ব্যাংক
চলতি জুলাইয়ের ১ তারিখে দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের জন্য বিশ্বব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন জুট। এর আগে তিনি ২০১৩-২০১৫ সাল পর্যন্ত বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ, ভুটান এবং নেপালের কান্ট্রি ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
ডাচ নাগরিক জুট ১৯৯৯ সালে বিশ্বব্যাংকে যোগ দেন এবং ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
তিনি সর্বশেষ ব্রাজিলে বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এর আগে তিনি অপারেশনাল পলিসি ও কান্ট্রি সার্ভিসেস (ওপিসিএস) ভাইস প্রেসিডেন্সির অধীনে কৌশল, ফলাফল, ঝুঁকি ও এবং শিক্ষা বিভাগের পরিচালক ছিলেন।
জুট তুরস্ক, কোমোরোস, ইরিত্রিয়া, কেনিয়া, রুয়ান্ডা, সেশেলস ও সোমালিয়ার কান্ট্রি ডিরেক্টর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
স্বাধীনতার পর বাংলাদেশকে সহায়তা প্রদানকারী প্রথম দিকের উন্নয়ন অংশীদারদের মধ্যে অন্যতম ছিল বিশ্বব্যাংক।
তখন থেকে, বিশ্ব ব্যাংক বাংলাদেশকে প্রায় ৪৬০ কোটি ডলারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যার বেশিরভাগই অনুদান বা স্বল্প সুদের ঋণ হিসেবে।
বর্তমানে বাংলাদেশে বিশ্বব্যাংক গ্রুপের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার (আইডিএ) সহায়তায় পরিচালিত কর্মসূচিগুলোর মধ্যে একটি বৃহত্তম কর্মসূচি চলমান।
২৩৭ দিন আগে
শুল্ক আলোচনা: আগস্টের আগেই ইতিবাচক ফলের আশাবাদ ঢাকার
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তিনদিনব্যাপী দ্বিতীয় দফা শুল্ক আলোচনা শেষে বেশ কিছু বিষয়ে অগ্রগতি হওয়ায় বাংলাদেশের আশা, ১ আগস্টের নির্ধারিত সময়ের আগেই একটি ইতিবাচক ফল অর্জন সম্ভব হবে।
শনিবার (১২ জুলাই) প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার বলেন, ‘কিছু বিষয় এখনও অমীমাংসিত থাকলেও আলোচনায় বেশ অগ্রগতি হয়েছে।’
আগামী ১ আগস্ট থেকে যুক্তরাষ্ট্র সব বাংলাদেশি পণ্যে অতিরিক্ত ৩৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে।
তিনি জানান, উভয় পক্ষই সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে আন্তঃমন্ত্রণালয় পর্যায়ে আলোচনা চলবে এবং দুই দেশের প্রতিনিধিরা আবারও বৈঠকে বসবেন। আলোচনা সরাসরি ও ভার্চুয়ালি— উভয় মাধ্যমেই হতে পারে। তারিখ ও সময় শিগগিরই নির্ধারণ করা হবে।
প্রয়োজনে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিন, বাণিজ্য সচিব ও অতিরিক্ত সচিব আবারও যুক্তরাষ্ট্র সফর করবেন বলে জানান আজাদ।
তিনদিনের আলোচনা শেষে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিন ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই একটি ইতিবাচক সমঝোতায় পৌঁছানোর ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত আলোচনায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল নেতৃত্ব দেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিন। জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফাইজ আহমাদ তায়েব ঢাকা থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন।
আরও পড়ুন: শুল্ক আলোচনা: বৃহস্পতিবারের বৈঠকেও অগ্রগতির দেখা নেই
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও এতে অংশ নেন। যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি, জ্বালানি, বাণিজ্য ও কপিরাইট সংক্রান্ত সংস্থার কর্মকর্তারাও এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনার সমন্বয় করে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের দূতাবাস। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি কার্যালয় (ইউএসটিআর) ৯–১১ জুলাই পারস্পরিক শুল্ক চুক্তি নিয়ে দ্বিতীয় দফা আলোচনার জন্য বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানায়।
গত ৭ জুলাই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ১৪টি দেশের নেতাদের চিঠি পাঠান, যেখানে বাংলাদেশ অন্যতম।
তিনি চিঠিতে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে বলেন, ‘আপনার দেশের বাজার আমাদের জন্য উন্মুক্ত করলে এবং শুল্ক ও অশুল্ক বাধা তুলে নিলে, আমরা এই চিঠিতে উল্লিখিত ৩৫ শতাংশ শুল্ক হার পুনর্বিবেচনা করতে পারি।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করে ঘোষিত এই শুল্কহার বৃদ্ধি বা হ্রাস— উভয়ই হতে পারে। তিনি প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে লেখা চিঠিতে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র কখনোই আপনাকে হতাশ করবে না।’
ট্রাম্প আরও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি পূরণে ৩৫ শতাংশ হার এখনও যথেষ্ট নয়। তবে আপনি যদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কারখানা স্থাপন করেন, তাহলে কোনো শুল্কই থাকবে না। বরং দ্রুত অনুমোদন পেতে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে।’
২৩৭ দিন আগে
জঙ্গিবাদে সম্পৃক্ত সন্দেহে বাংলাদেশিদের গ্রেপ্তারে ঢাকার উদ্বেগ, কুয়ালামপুরের সঙ্গে সমন্বয়ের আহ্বান
সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে বাংলাদেশি নাগরিকদের গ্রেপ্তারে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কুয়ালালামপুরে অবস্থানরত পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। শুক্রবার (১১ জুলাই) তিনি এই উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, সম্প্রতি মালয়েশিয়ার পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া বাংলাদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে জঙ্গিবাদের অভিযোগ তদন্তে বাংলাদেশ সরকার মালয়েশিয়ার সঙ্গে কাজ করবে।
কুয়ালালামপুরে ৩২তম আসিয়ান আঞ্চলিক ফোরাম (এআরএফ) মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনের ফাঁকে মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাজী মোহাম্মদ বিন হাজী হাসানের সঙ্গে এক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এসব কথা বলেন বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন।
তিনি বলেন, মালয়েশিয়ায় সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া বাংলাদেশি নাগরিকদের বিষয়ে যথাযথ তদন্তে সরকার আন্তরিক এবং এই ক্ষেত্রে মালয়েশিয়ার সহযোগিতা চায় ঢাকা।
বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ এবং সহযোগিতা সহজতর করতে ঢাকাকে আশ্বস্ত করেছেন মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
এর আগে, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র সচিব ডেভিড ল্যামির সঙ্গে দেখা করেন। এসময় তারা বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক এবং বহুপাক্ষিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।
পড়ুন: শুল্ক আলোচনা: বৃহস্পতিবারের বৈঠকেও অগ্রগতির দেখা নেই
উভয় পক্ষই বাংলাদেশে চলমান সংস্কার, রোহিঙ্গা সংকট, এলডিসি স্নাতকোত্তর সহায়তা নিয়ে আলোচনা করেন বলে জানিয়েছে কুয়ালালামপুরের বাংলাদেশ মিশন।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা নিউজিল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইনস্টন পিটার্স, শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিজিথা হেরাথ এবং কোরিয়া প্রজাতন্ত্রের উপমন্ত্রী এবং প্রতিনিধিদলের প্রধান পার্ক ইউনজুর সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন। এসময় তারা দ্বিপাক্ষিক এবং বহুপাক্ষিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।
বাংলাদেশ ২০০৬ সালে এআরএফ’র সদস্য হয়, যা নব্বইয়ের দশকের গোড়ার দিকে প্রতিষ্ঠিত একটি ফোরাম। এটি ২৭টি সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে আস্থা ও বিশ্বাস বৃদ্ধির জন্য গঠিত হয়েছিল। সংস্থাটিতে বৃহত্তর এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলো অন্তর্ভুক্ত।
বর্তমানে, বাংলাদেশ এআরএফ-এর দুটি অগ্রাধিকার ক্ষেত্র, ‘সন্ত্রাসবাদ দমন এবং আন্তঃজাতিক অপরাধ’ এবং ‘দুর্যোগ ত্রাণ’র সহ-সভাপতিত্ব করছে।
এআরএফ মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের পরবর্তী অধিবেশন ২০২৬ সালে ম্যানিলায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
বিকালে, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা আসিয়ান আঞ্চলিক ফোরামের মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে জাতীয় বিবৃতি দেন। এতে তিনি জাতীয় ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার প্রভাব বিবেচনা করে রোহিঙ্গা সংকটের প্রতি আরও বেশি মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা আসিয়ান সদস্যদের বাংলাদেশের সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার হওয়ার প্রচেষ্টাকে ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছেন।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার মো. শামীম আহসান, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক মো. ফরহাদুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ সরকারের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
২৩৮ দিন আগে
শুল্ক আলোচনা: বৃহস্পতিবারের বৈঠকেও অগ্রগতির দেখা নেই
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত শুল্ক আলোচনায়ও কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হয়নি। ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে বাণিজ্য, শুল্ক ও দ্বিপাক্ষিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়, কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষিত ৩৫ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহারে কোনো আশার আলো দেখা যায়নি।
এ বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে কথার সৌজন্য প্রকাশ করা হলেও বৃহস্পতিবারের আলোচনার মূল সারাংশ হলো— আগামী ১ আগস্ট থেকে কার্যকর হতে যাওয়া বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের ওপর ৩৫ শতাংশ শুল্ক বিষয়ে কোনো অগ্রগতি হয়নি এবং তা যে শিগগিরই হবে, এমন সম্ভাবনাও নেই।
প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ শুক্রবার ভোরে বলেন, বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় বেলা ১১টায় (বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা) বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দিন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির (ইউএসটিআর) অফিসে রাষ্ট্রদূত জেমিসন গ্রিয়ারের সঙ্গে বৈঠক করেন। আলোচনা শেষে উভয়পক্ষই ‘পারস্পরিক কল্যাণে একযোগে কাজ করার প্রতিশ্রুতি’ পুনর্ব্যক্ত করেছে বলে তিনি জানান।
বৃহস্পতিবার ছিল তিন দিনের শুল্ক আলোচনার দ্বিতীয় দিন। বৈঠক শেষে আজাদ বলেন, ‘আলোচনাটি ছিল বিস্তৃত, যা উভয় দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্কের প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ দিককে ছুঁয়ে গেছে।’
আরও পড়ুন: শুল্ক নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বিশেষজ্ঞ নিয়োগ করতে অন্তর্বতী সরকারকে আহ্বান ফখরুলের
ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বাণিজ্য বিষয়ক উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দিন।
ঢাকায় অবস্থান করেও ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান এবং প্রধান উপদেষ্টার আইসিটি ও টেলিকম বিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। এ ছাড়া বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও আলোচনায় অংশ নেন।
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে কৃষি, জ্বালানি, বাণিজ্য ও কপিরাইট সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার সিনিয়র প্রতিনিধিরা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
তিন দিনের আলোচনার শেষ পর্বটি শুক্রবার অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে সপ্তাহের শুরুতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে দেওয়া চিঠিতে যে শুল্ক হার ঘোষণা করেছিলেন, তা কমানোর সম্ভাবনা এখন প্রায় নেই বললেই চলে।
২৩৮ দিন আগে
ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রীকে প্রধান উপদেষ্টার আম উপহার
ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য উপহার হিসেবে ৩০০ কেজি হাড়িভাঙ্গা আম পাঠিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) বিকাল সোয়া ৫টার দিকে আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে ৬০টি কার্টনে করে আমগুলো পাঠানো হয়।
প্রতি বছর বাংলাদেশ সরকার ত্রিপুরা রাজ্য সরকার এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের জন্য মৌসুমি ফল উপহার হিসেবে পাঠিয়ে থাকে। এর জবাবে ত্রিপুরা সরকার বাংলাদেশে উপহার হিসেবে তাদের সুস্বাদু ‘কুইন’ জাতের আনারস পাঠায়।
চলতি বছরের আম উপহার প্রক্রিয়াটি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে তদারকি করা হয় এবং একজন রপ্তানিকারকের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে। আখাউড়ায় বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশনের প্রতিনিধিদের কাছে আমের চালানটি হস্তান্তর করা হয়।
আখাউড়া স্থল শুল্ক স্টেশনের রাজস্ব কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর থেকে বাংলাদেশ হাইকমিশন আগরতলার জন্য আম পাঠানো হয়েছে। চালান ছাড়ের আগে সব শুল্ক আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়েছে।
আম-আনারসের এই মৌসুমি উপহার বিনিময় ছাড়াও বাংলাদেশ সরকার প্রতি বছর দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা হিসেবে সীমিত সময়ের জন্য ভারতে ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দিয়ে থাকে।
২৩৯ দিন আগে
বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য-বিনিয়োগে ‘নতুন সহযোগিতা’ প্রত্যাশা চীন ও কানাডার
চীন ও কানাডা বাণিজ্য বৈচিত্র্য ও বিনিয়োগে বাংলাদেশের কাছে ‘ব্যাপক সহযোগিতা’ প্রত্যাশা করেছে। একই সঙ্গে দেশগুলো জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে ৩২তম আসিয়ান আঞ্চলিক ফোরামের ফাঁকে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে বৈঠককালে চীন ও কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা একথা জানান।
শুক্রবার (১১ জুলাই) অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ৩২তম এআরএফ মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইয়ের সঙ্গে বৈঠককালে উভয় পক্ষ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার প্রতি আস্থা প্রকাশ করেছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বাংলাদেশ সরকারের সংস্কার উদ্যোগে চীনের পূর্ণ সমর্থনের কথঅ জানিয়েছেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এছাড়া চিকিৎসা পর্যটন এবং পানি ব্যবস্থাপনার মতো অনেক অগ্রাধিকারমূলক ক্ষেত্রে চীনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
বাংলাদেশে চীনের সাম্প্রতিক বিনিয়োগ সম্মেলনের কথা স্মরণ করে তিনি বাংলাদেশের সঙ্গে টেক্সটাইল, জ্বালানি, হালকা প্রকৌশল ইত্যাদি ক্ষেত্রে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
পড়ুন: শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের অনুরোধ অব্যাহত থাকবে: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারকে চীনের দেওয়া রাজনৈতিক ও উন্নয়ন সহায়তার জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তিনি রোহিঙ্গা সংকটের জরুরি ও তাৎক্ষণিক সমাধানের জন্য বাংলাদেশের আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন এবং এই বিষয়ে চীনের সমর্থন কামনা করেন।
জাতিসংঘসহ আঞ্চলিক ও বহুপক্ষীয় প্ল্যাটফর্মে বাংলাদেশকে সমর্থন করার জন্য চীনের প্রতি আহ্বান জানান তৌহিদ হোসেন।
পরে বিকালে, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী অনিতা আনন্দের সঙ্গে দেখা করেন। এসময় উভয় পক্ষ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক সম্প্রসারণের সম্ভাব্য উপায় নিয়ে আলোচনা করেন। বিশেষ করে বাণিজ্য ক্ষেত্রে বৈচিত্র্য এবং সহনশীলতা তৈরির মাধ্যমে এটি বাড়ানোর বিষয় প্রাধান্য পায়।
কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীর্ঘদিনের রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় কানাডার সমর্থন দেওয়ার আশা প্রকাশ করেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার রাষ্ট্রদূত শামীম আহসান, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক মো. ফরহাদুল ইসলাম এবং বাংলাদেশের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
পড়ুন: সহযোগিতা এগিয়ে নিতে ঢাকা–ইসলামাবাদের সঙ্গে কাজ করছে বেইজিং: রাষ্ট্রদূত ইয়াও
২৩৯ দিন আগে
শুল্ক নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে: উপ-প্রেস সচিব
ওয়াশিংটন ডিসিতে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিতীয় দফার শুল্ক বিষয়ক বৈঠকের প্রথম দিন শেষ হয়েছে। আলোচনায় উভয় দেশের বাণিজ্য সম্পর্কের নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় প্রাধান্য পায় বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার।
বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার রাত ৯টায় দুপক্ষের মধ্যে দ্বিতীয় দিনের আলোচনা শুরু হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। আলোচনা চলবে শুক্রবারও।
আজাদ মজুমদার জানিয়েছেন, আলোচনা অত্যন্ত বিস্তৃত ছিল। দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্কের প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এ সময় উঠে আসে।
আরও পড়ুন: ঢাকা-ওয়াশিংটন দ্বিতীয় দফার শুল্ক আলোচনা শুরু হচ্ছে আজ
ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বাণিজ্য বিষয়ক উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দিন।
ঢাকায় অবস্থান করেও ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান এবং প্রধান উপদেষ্টার আইসিটি ও টেলিকম বিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। এ ছাড়া বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও আলোচনায় অংশ নেন।
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে কৃষি, জ্বালানি, বাণিজ্য ও কপিরাইট সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার সিনিয়র প্রতিনিধিরা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
২৩৯ দিন আগে
নেতৃত্ব যার কাছেই থাকুক, দ্রুত বাংলাদেশের সঙ্গে বিনিয়োগ চুক্তি চায় চীন
চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেছেন, বাংলাদেশের নেতৃত্ব যার কাছেই থাকুক, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়িয়ে দেশের টেকসই উন্নয়ন ও জনজীবনের মানোন্নয়নে সহায়তা অব্যাহত রাখবে চীন।
বুধবার (৯ জুলাই) রাজধানীতে আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি এ অঙ্গীকার করেন।
তিনি বলেন, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গঠনে প্রাতিষ্ঠানিক সুরক্ষা জরুরি। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও চীন যৌথভাবে কাজ করবে। পাশাপাশি, দ্বিপক্ষীয় বিনিয়োগ চুক্তি এবং মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) দ্রুত আলোচনার টেবিলে আনার আহ্বান জানান বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ওয়েন।
রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘এই উদ্যোগ চীনা উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আস্থা ও আগ্রহ আরও বাড়াবে। বাংলাদেশি বন্ধুদের বলছি— চুক্তির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিন।’
সেমিনারে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন বলেন, ‘আমাদের একটা প্রবণতা ছিল—প্রতিশ্রুতি দেই, বাস্তবায়ন করি না। তবে সরকার এখন সেই সংস্কৃতি পরিবর্তনের চেষ্টা করছে। আশাকরি, আপনি (রাষ্ট্রদূত) বড় পরিবর্তন দেখবেন।’
বাংলাদেশে চীনা ব্যবসায়ী সংগঠন চাইনিজ এন্টারপ্রাইজ অ্যাসোসিয়েশন ইন বাংলাদেশ (সিইএবি) আয়োজিত ‘চীন–বাংলাদেশ শিল্প ও সরবরাহ চেইন সহযোগিতা’ শীর্ষক সেমিনারটি আয়োজন করে। এ সময়, শিল্প ও খাতভিত্তিক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।
বিডা চেয়ারম্যান ছাড়াও বিভিন্ন সরকারি সংস্থা, বিভাগ ও দুই দেশের ব্যবসায়ী নেতারা সেমিনারে অংশ নেন।
রাষ্ট্রদূত বলেন, দুই দেশের নেতার কৌশলগত দিকনির্দেশনা অনুসরণ করে 'সুবর্ণ জয়ন্তী' সামনে রেখে উচ্চমানের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ বাস্তবায়ন, শিল্প ও সরবরাহ চেইন একীভূতকরণ, বিনিয়োগ ও বাণিজ্য বৃদ্ধির মাধ্যমে অর্থনৈতিক সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।
সেমিনারে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, সড়ক ও সেতু, বন্দর, টেক্সটাইল ও গার্মেন্টস, বাণিজ্য ও সেবা, রেলপথ ও বেসামরিক বিমান, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি এবং পানি ও পরিবেশ খাতভিত্তিক গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। এতে বাজার বিশ্লেষণ, বিনিয়োগ সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ তুলে ধরা হয়েছে।
আরও পড়ুন: সহযোগিতা এগিয়ে নিতে ঢাকা–ইসলামাবাদের সঙ্গে কাজ করছে বেইজিং: রাষ্ট্রদূত ইয়াও
রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘দুই দেশের যৌথ প্রচেষ্টায় বাংলাদেশে চীনা কোম্পানিগুলো আরও সমৃদ্ধ হবে এবং দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন এবং জনগণের জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।’
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন রূপান্তরের সন্ধিক্ষণে। প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অর্থনীতি স্থিতিশীল ও ইতিবাচক ধারায় রয়েছে, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ ক্রমশ উন্নত হচ্ছে—ফলে দক্ষিণ এশিয়ার একটি নতুন বিনিয়োগ গন্তব্যে পরিণত হচ্ছে বাংলাদেশ।’
রাষ্ট্রদূত জানান, চীনা কোম্পানিগুলো বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বিদেশি বিনিয়োগকারী গোষ্ঠী। তাদের দীর্ঘমেয়াদি অভিজ্ঞতা ও পর্যালোচনার আলোকে প্রকাশিত ১০টি প্রতিবেদনের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকার উপকৃত হবে।
চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগ ৩.৭ গুণ বেড়েছে। গত আগস্ট থেকে প্রায় ২০টি চীনা কোম্পানি বাংলাদেশি অংশীদারদের সঙ্গে চুক্তি সই করেছে। এসব চুক্তির সম্ভাব্য মোট বিনিয়োগের পরিমাণ ৪০ কোটি মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বাংলাদেশে সর্ববৃহৎ সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগকারী দেশ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে চীন।
চট্টগ্রাম চায়নিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন নির্মাণ কাজ শুরু হতে যাচ্ছে।
বাহেরচর দ্বীপে চীনের ‘অ্যাগ্রিভোলটাইক্স ইকোনমিক জোন’ সংক্রান্ত দলিল সই হয়েছে। পাশাপাশি, মোংলা বন্দর এলাকায় চীন-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চলের কাজও এগিয়ে চলেছে।
রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, চীন কেবল বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারকেই নয়, ভবিষ্যতের নির্বাচিত সরকারকেও সমর্থন করে এবং বাংলাদেশ নিয়ে তাদের রয়েছে পূর্ণ আস্থা।
২৪০ দিন আগে
সহযোগিতা এগিয়ে নিতে ঢাকা–ইসলামাবাদের সঙ্গে কাজ করছে বেইজিং: রাষ্ট্রদূত ইয়াও
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ত্রিপক্ষীয় বৈঠককে নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে ‘কনক্রিট সহযোগিতার’ উদ্যোগ হিসেবে বর্ণনা করে ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেছেন, ‘বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সঙ্গে মিলে চীন এ নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ ও যেসব বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছানো হয়েছে, তা বাস্তবায়নে কাজ করছে।
‘আমরা এরইমধ্যে শিল্প, বাণিজ্য, শিক্ষা, পরিবেশ সুরক্ষা, পানিসম্পদসহ ১২টি ক্ষেত্রে কনক্রিট সহযোগিতা চিহ্নিত করেছি। এ নিয়ে কিছু ফলোআপ হবে এবং আমরা বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সঙ্গে মিলে এ ঐকমত্য বাস্তবায়নে কাজ করছি,’ বলেন তিনি।
বুধবার (৯ জুলাই) রাজধানীতে এক সেমিনারে অংশ নিয়ে সাংবাদিকদের রাষ্ট্রদূত ইয়াও বলেন, সম্প্রতি কুনমিংয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকটি ছিল অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও তিন দেশের—বাংলাদেশ, চীন ও পাকিস্তানের—জনগণের জীবনমান উন্নয়নে পারস্পরিক সহযোগিতার একটি উদ্যোগের অংশ।
‘আমরা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়ে রয়েছি। বহু বিষয়ে একসঙ্গে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। আমি এটিকে তিন দেশের সাধারণ স্বার্থে একটি উদ্যোগ হিসেবে দেখি,’ বলেন চীনের রাষ্ট্রদূত।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, সহযোগিতার মূলনীতি হলো উন্মুক্ত থাকা, স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং পারস্পরিক উপকার নিশ্চিত করা। ‘আমাদের সহযোগিতা পারস্পরিক আস্থার ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে। এটি উন্মুক্ত ও স্বচ্ছ একটি প্রক্রিয়া। এটি কোনো তৃতীয় দেশকে লক্ষ্য করে নয়। এটিই আমাদের বার্তা, বলেন এই কূটনীতিক।
আরও পড়ুন: ঢাকা-ওয়াশিংটন দ্বিতীয় দফার শুল্ক আলোচনা শুরু হচ্ছে আজ
বাংলাদেশে চীনা ব্যবসায়ী সংগঠন চাইনিজ এন্টারপ্রাইজ অ্যাসোসিয়েশন ইন বাংলাদেশ (সিইএবি) আয়োজিত ‘চীন–বাংলাদেশ শিল্প ও সরবরাহ চেইন সহযোগিতা’ শীর্ষক সেমিনারে এই বক্তব্য দেন তিনি।
সেমিনারে ‘সিইএবি ইন্ডাস্ট্রি রিপোর্ট’ প্রকাশ করা হয়।
বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন, সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও বিভাগের প্রতিনিধিরা এবং দুই দেশের ব্যবসায়ী নেতারা সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে বাংলাদেশ, চীন ও পাকিস্তান অবকাঠামো, সংযোগ, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি, সামুদ্রিক বিষয়, তথ্যপ্রযুক্তি, দুর্যোগ প্রস্তুতি এবং জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুতে গভীরতর সহযোগিতার জন্য একাধিক খাত চিহ্নিত করে।
চীন–দক্ষিণ এশিয়া এক্সপো’র ৯ম আসর এবং চীন–দক্ষিণ এশিয়া সহযোগিতা বৈঠকের ৬ষ্ঠ আসরের ফাঁকে গত ১৯ জুন কুনমিংয়ে বাংলাদেশ, চীন ও পাকিস্তানের মধ্যে একটি ‘অনানুষ্ঠানিক ত্রিপক্ষীয় বৈঠক’ অনুষ্ঠিত হয়।
২৬ জুন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন স্পষ্ট করেন, বাংলাদেশ, চীন ও পাকিস্তানের মধ্যে কোনো নতুন জোট গঠনের বিষয় নেই এবং এটি প্রতিবেশী দেশ ভারতের বিরুদ্ধে কিছু নয়।
‘আমরা কোনো জোট গঠন করছি না। এটি ছিল সরকারি পর্যায়ের একটি বৈঠক, রাজনৈতিক পর্যায়ে নয়… এখানে কোনো জোট গঠনের উপাদান ছিল না,’ গত মাসে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন তিনি।
বৈঠকটি ভারতের বিপক্ষে কোনো কৌশল ছিল কি না— এমন প্রশ্নে উপদেষ্টা হোসেন বলেন, ‘এটি অবশ্যই কোনো তৃতীয় পক্ষকে লক্ষ্য করে নয়। আমি আপনাদের তা নিশ্চিত করে বলতে পারি।’
২৪০ দিন আগে