বৈদেশিক-সম্পর্ক
আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করবে যুক্তরাষ্ট্র: টামি ব্রুস
আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ এবং দুদেশের মধ্যকার ক্রমবর্ধমান ব্যবসা ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
শুক্রবার (২০ জুন) ওয়াশিংটন ডিসিতে নিয়মিত মিডিয়া ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র টামি ব্রুস। সম্প্রতি বাংলাদেশের নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান ও মার্কিন উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টোফার ল্যান্ডোর মধ্যকার বৈঠক নিয়ে কথা বলেন তিনি।
পড়ুন: সন্তান জন্মদানের উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণে ভিসা নবায়নের ঝুঁকি: দূতাবাসের সতর্কতা
টামি ব্রুস বলেন, ‘বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার সঙ্গে দেখা করেছেন ল্যান্ডো এবং জাতীয় নির্বাচনের আগে অন্তর্বর্তী সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে তারা আলোচনা করেছেন। তারা বাণিজ্য ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্প্রসারণসহ যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের সম্পর্ক নিয়েও কথা বলেছেন।’
ড. খলিলুর রহমান এবং মার্কিন উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠকের পর প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছে, ‘বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস যে নেতৃত্ব দিয়েছেন, তার প্রশংসা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এ সময়ে বাংলাদেশের প্রতি অব্যাহত মার্কিন সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন তিনি।’
তারা রোহিঙ্গা সংকট, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান শুল্ক আলোচনা, দক্ষিণ এশিয়ার উন্নয়ন এবং বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ নিয়ে আলোচনা করেছেন।
২৫৮ দিন আগে
বাংলাদেশকে চাপে রাখতেই পুশইন করছে ভারত: মির্জা ফখরুল
বাংলাদেশে একটি বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি করতে ও এ দেশের সরকারকে চাপে রাখতেই সীমান্ত দিয়ে অব্যাহত পুশইন করছে ভারত বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
শুক্রবার (২০ জুন) রাতে ঠাকুরগাঁও শহরে নিজের কালিবাড়িস্থ বাসভবনে জেলার আলেম-ওলামাদের নিয়ে নৈশভোজের আয়োজনে এসব মন্তব্য করেন তিনি।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমাদের সামনে এখন একটি কঠিন সমস্যা দেখা দিয়েছে। সীমান্ত দিয়ে ভারত নিয়মিত পুশইন করে যাচ্ছে। জনগণকে ধরে নিয়ে এসে জোর করে আমাদের দেশে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।’
‘ন্যায্য পানির হিস্যা ভারত আমাদের দেয়নি। তার ওপর তারা আমাদের বর্ডারে পাখির মতো মানুষ মারে ও অবৈধ পুশইন করে। এতদিন এগুলো তারা করেনি, যেহেতু আওয়ামী সরকারকে এদেশ থেকে উৎখাত করা হয়েছে এবং হাসিনা ভারতে আশ্রয় নিয়েছে, তাই তারা এসব শুরু করেছে।’
বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘আওয়ামী সরকারের আমলে সারা বাংলাদেশে জঙ্গি নাটক সাজানো হয়েছে। র্যাবের লোকদের মাধ্যমে জঙ্গি মতবাদ দিয়ে মাদ্রাসার এতিম ছেলেদেরকে নিয়ে গিয়ে তাদের হাতে লিফলেট ঢুকিয়ে তাদের হত্যা করেছে। এসব ঘটনা বিগত আওয়ামী সরকার একটা না হাজারটা ঘটিয়েছে।’
আরও পড়ুন: লন্ডন বৈঠকের পর ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের আশা বাড়ছে: ডা. জাহিদ
মির্জা ফখরুল বলেন, ছাত্র জনতার অভ্যুত্থানের সময়ে শেখ হাসিনা সরকার যে হত্যাকান্ড চালিয়েছে, এরকম হত্যাকান্ড তারা আগেও একটি ঘটিয়েছিল। সেটি হলো—শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের ওপর চালানো হত্যাকাণ্ড। রাতের অন্ধকারে মেশিনগান দিয়ে এই হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে তারা।’
‘যেসব ছেলেরা অভ্যুত্থানের সময় বুকের তাজা রক্ত দিয়েছে, সেসব ছেলেদের রক্তের বিনিময়ে সাধারণ জনগণের রক্তের বিনিময়ে আমরা সেই অবস্থা থেকে মুক্তি পেয়েছি। তাদের রক্তের বিনিময়ে আল্লাহ আমাদের একটা সুযোগ তৈরি করে দিয়েছেন,’ যোগ করেন তিনি।নির্বাচনের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘লন্ডনে গিয়ে তারেক রহমানের সঙ্গে প্রফেসর ইউনূসের যে বৈঠক হয়েছে, তাতে সম্ভাব্য একটি নির্বাচনের সময় উঠে এসেছে। ফেব্রুয়ারি মাস সে সময় হিসেবে ঘোষণা হয়েছে। নির্বাচনের মাধ্যমে আমরা আমাদের সঠিক দেশ নেতাকে বেছে নেওয়ার অধিকার ফিরে পাবো।’
এসময় আরও ছিলেন, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মির্জা ফয়সল আমিন, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম শরীফসহ জেলার আলেম-ওলামারা।
২৫৮ দিন আগে
ত্রিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদারে বাংলাদেশ, চীন ও পাকিস্তানের অঙ্গীকার
ত্রিপাক্ষিক সহযোগিতা বিষয়ে বিস্তৃত আলোচনা করেছে বাংলাদেশ, চীন ও পাকিস্তান। সেই সঙ্গে পরস্পরের প্রতি প্রতিবেশীসুলভ আচরণ, পারস্পরিক আস্থা, সমতা, উন্মুক্ততা, অন্তর্ভুক্তি ও যৌথ উন্নয়নের নীতির ভিত্তিতে এই সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে সম্মত হয়েছে দেশ তিনটি।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চীনের কুনমিং শহরে গত বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে তিন দেশই জোর দিয়ে বলেছে, চীন-বাংলাদেশ-পাকিস্তান যৌথ সহযোগিতা সত্যিকারের বহুপাক্ষিকতা ও উন্মুক্ত আঞ্চলিকতাকে অনুসরণ করে। এই সম্পর্ক যে তৃতীয় কোনো পক্ষের বিরুদ্ধে নয়, তা-ও উল্লেখ করা হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশের সাবেক ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সচিব রুহুল আলম সিদ্দিকী, চীনের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সান ওয়েইদং এবং পাকিস্তানের এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল বিষয়ক অতিরিক্ত সচিব ইমরান আহমেদ সিদ্দিকী অংশ নেন। বৈঠকের প্রথম ধাপে ভিডিও লিংকের মাধ্যমে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র সচিব আমনা বালোচও অংশগ্রহণ করেন।
তবে বৈঠকের ফলাফলের বিষয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য আসেনি।
সান ওয়েইদং বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে ভবিষ্যতের এক অভিন্ন সমাজ গড়তে চীন সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ও পাকিস্তান—উভয়ই চীনের ভালো প্রতিবেশী, বন্ধু ও অংশীদার। পাশাপাশি তারা উচ্চমানের বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারও বটে।’
চীনের পক্ষ থেকে বলা হয়, গ্লোবাল সাউথের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য এবং আঞ্চলিক অন্যতম প্রধান দেশ হিসেবে এই তিন দেশের সামনেই রয়েছে জাতীয় পুনরুত্থান ও আধুনিকায়নের লক্ষ্য, যা অর্জনে প্রয়োজন শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীল পরিবেশ।
ওয়েইদং বলেন, ‘চীন-পাকিস্তান-বাংলাদেশ সহযোগিতা তিন দেশের জনগণের অভিন্ন স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং তা আঞ্চলিক শান্তি, স্থিতিশীলতা, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধিতে অবদান রাখতে পারে।’
অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও জনগণের জীবনমান উন্নয়ন এই ত্রিপাক্ষিক সহযোগিতার মূল লক্ষ্য বলে জানান তিনি।
তিনটি দেশই শিল্প, বাণিজ্য, সামুদ্রিক বিষয়, পানিসম্পদ, জলবায়ু পরিবর্তন, কৃষি, মানবসম্পদ, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও তরুণ সমাজসহ বিভিন্ন খাতে প্রকল্প অনুসন্ধান ও বাস্তবায়নে একমত হয়েছে।
বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহ বাস্তবায়নের জন্য একটি কর্মী দল (ওয়ার্কিং গ্রুপ) গঠন করতেও সম্মত হয়েছে তারা।
অন্যদিকে, পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই বৈঠক ছিল বাংলাদেশ-চীন-পাকিস্তান ত্রিপাক্ষিক ব্যবস্থার ‘প্রথম বৈঠক’।
দেশটির পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, এই বৈঠকে আঞ্চলিক যোগাযোগ জোরদার এবং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার নানা ক্ষেত্র, যেমন: বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, কৃষি, ডিজিটাল অর্থনীতি, পরিবেশ সুরক্ষা ও সমুদ্রবিজ্ঞান, সবুজ অবকাঠামো, সংস্কৃতি, শিক্ষা এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ সহযোগিতা গভীরতর করার বিষয়ে একমত হয়েছে তিন দেশ।
আরও পড়ুন: এশিয়ায় নেতৃত্ব দেবে জাপান, বাংলাদেশকে সহযোগিতা বাড়ানোর আশায় ড. ইউনূস
বৈঠকের ফাঁকে কুনমিংয়ে আফগানিস্তানের অন্তর্বর্তী সরকারের ভারপ্রাপ্ত উপ-প্রধানমন্ত্রী হাজি মৌলবি আব্দুল সালাম হানাফির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন সান ওয়েইদং। তিনি রুহুল আলম সিদ্দিকী ও ইমরান আহমেদ সিদ্দিকীর সঙ্গেও পৃথক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন।
২৫৮ দিন আগে
রোহিঙ্গা সংকট আঞ্চলিক নিরাপত্তায় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা
রোহিঙ্গা সমস্যার টেকসই সমাধান না হলে তা আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে সতর্ক করেছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন।
বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ‘আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার ওপর দারিদ্র্য, উন্নয়ন-ঘাটতি ও সংঘাতের প্রভাব’ শীর্ষক উচ্চ পর্যায়ের এক আলোচনা সভায় বক্তৃতাকালে তিনি এ কথা বলেন। শুক্রবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য দিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, বিগত আট বছরের বেশি সময় ধরে ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে বাংলাদেশ মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে আশ্রয় দিয়ে আসছে। কিন্তু দীর্ঘসূত্রিতার কারণে এই সংকট এখন আর শুধু মানবিক বিষয় নয়; এটি অর্থনৈতিক, পরিবেশগত ও ক্রমবর্ধমানভাবে নিরাপত্তা ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নিজ দেশ মিয়ানমারে নির্মম নির্যাতনের কারণে বাস্তুচ্যুত এই জনগোষ্ঠীকে পূর্ণ নিরাপত্তা ও অধিকারের সঙ্গে প্রত্যাবাসনের জন্য অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান।
আরও পড়ুন: তহবিল সংকটে শিক্ষার ঝুঁকিতে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সোয়া ২ লাখ শিশু: ইউনিসেফ
এ সময় তারুণ্যের গৌরব প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে তরুণরা বারবার পরিবর্তনের অগ্রভাগে থেকেছে। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং সাম্প্রতিক জুলাই বিপ্লবসহ সব আন্দোলনে অন্যায় ও অসাম্যের বিরুদ্ধে সর্বদাই সোচ্চার ছিল বাংলাদেশের তরুণ সমাজ।
তিনি বলেন, তরুণরা যদি শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়, তাহলে তারা সহজেই চরমপন্থার শিকার হতে পারে। এ ছাড়া দারিদ্র্য, বৈষম্য ও উন্নয়ন-ঘাটতি যদি দীর্ঘমেয়াদে চলতে থাকে, তাহলে একপর্যায়ে তা সহিংসতা ও অস্থিরতায় রূপ নিতে পারে।
বিশ্বব্যাপী বিদ্যমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অসাম্যের প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের তিন শূন্য নীতির কথা উল্লেখ করে তৌহিদ হোসেন বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীল একটি ভবিষ্যৎ চাই, যেখানে থাকবে শূন্য দারিদ্র্য, শূন্য বেকারত্ব এবং শূন্য নিট কার্বন নিঃসরণ। এ লক্ষ্যে পৌঁছাতে হলে উন্নয়ন ও শান্তি স্থাপন প্রচেষ্টাকে এক সূত্রে যুক্ত করতে হবে।
পাশাপাশি তিনি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ, অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশন এবং সম্প্রতি গঠিত পিসবিল্ডিং কমিশনের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর আহ্বান জানান, যাতে শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগগুলো বাস্তবভিত্তিক এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়।
আরও পড়ুন: রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদারের দাবি তারেক রহমানের
অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের জন্য ‘সামাজিক ব্যবসায়’ ব্যবস্থার প্রাসঙ্গিকতার বিষয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও বলেন, নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস প্রবর্তিত এই মডেল দারিদ্র্য বিমোচন ও সংঘাত প্রতিরোধে একটি কার্যকর মাধ্যম হতে পারে।
বক্তৃতাকালে একটি সমৃদ্ধ, ন্যয়ভিত্তিক ও শান্তিপূর্ণ বিশ্ব গঠনে বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন উপদেষ্টা।
নিরাপত্তা পরিষদের এই বৈঠকে বাংলাদেশ ছাড়াও সুইডেন, উরুগুয়ে ও পূর্ব তিমুরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং জার্মানির পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীসহ বিভিন্ন দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন।
২৫৯ দিন আগে
অভিন্ন অভিজ্ঞতা ও ত্যাগের বন্ধনে গড়ে উঠেছে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক: ভারতের পররাষ্ট্রপ্রতিমন্ত্রী
অভিন্ন অভিজ্ঞতা ও ত্যাগের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের পররাষ্ট্রপ্রতিমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিং। এ সম্পর্কের স্থায়ী শক্তির ওপর আলোকপাত করে একে সহনশীল ও ভবিষ্যতমুখী অংশীদারত্বের ভিত্তি হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) সন্ধ্যায় নয়াদিল্লির তাজ প্যালেস হোটেলে বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবসের (২৬ মার্চ) বিলম্বিত উদযাপনে যোগ দিয়ে এসব বলেন তিনি।
কীর্তি বর্ধন সিং বলেন, ‘বাংলাদেশের সঙ্গে সবক্ষেত্রে আন্তঃসম্পর্ক ও সংযোগ জোরদারে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা একসঙ্গে কাজ করতে এবং আমাদের জনগণের মধ্যকার সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করতে আগ্রহী, যা আমাদের অংশীদারত্বের মূলভিত্তি।’
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিস্তৃত প্রকৃতি তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, ‘বাণিজ্য, যোগাযোগ, জ্বালানি, নিরাপত্তা ও সাংস্কৃতিক বিনিময়সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এই সম্পর্ক বিস্তৃত এবং আঞ্চলিক শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
আরও পড়ুন: বাংলাদেশ-নেপালের মধ্যে পর্যটন সম্পর্ক জোরদারে উদ্যোগ
বাংলাদেশ হাইকমিশন জানিয়েছেন, নতুন হাইকমিশনারের আগমন ও পরিচয়পত্র পেশ এবং সেই সময়ে রমজান পালনের কারণে স্বাধীনতা দিবসের (২৬ মার্চ) স্বাভাবিক সময়ের অনুষ্ঠান স্থগিত করা হয়েছিল।
এই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার, জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক, সরকারি কর্মকর্তা, গবেষক, নাগরিক সমাজের সদস্য ও গণমাধ্যমকর্মীসহ শতাধিক অতিথি উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় প্রতিবেশি দেশ দুটির মধ্যে ভবিষ্যতমুখী সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরেন ভারতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার মো. রিয়াজ হামিদুল্লাহ।
তিনি বলেন, ‘আমরা শুধু অতীতকে স্মরণ করতেই এই সন্ধ্যা উদযাপন করছি না, বরং প্রতিবেশী ও উন্নয়নের অংশীদার হিসেবে ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবনার সুযোগ হিসেবেও এটি পালন করছি।’
পাশাপাশি আঞ্চলিক অংশীদারত্ব পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে হাইকমিশনার সম্প্রতি ভারতের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে ৪০ মেগাওয়াট নেপালি জলবিদ্যুৎ সরবরাহের বিষয়টিকে উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতার একটি উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
আরও পড়ুন: ইউনূস-মোদির ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময়
তিনি আরও বলেন, ‘বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টিসেক্টরাল, টেকনিকাল এন্ড ইকোনমিক কোঅপারেশনের (বিমসটেক) বর্তমান চেয়ার হিসেবে বাংলাদেশ আঞ্চলিক সহযোগিতা পুনর্জীবিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
২৫৯ দিন আগে
বাংলাদেশ-নেপালের মধ্যে পর্যটন সম্পর্ক জোরদারে উদ্যোগ
বাংলাদেশ-নেপাল সম্পর্কের ক্ষেত্রে পর্যটন এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে সরাসরি সংযোগের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন ঢাকায় নিযুক্ত নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভান্ডারি।
দুই দেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সম্পর্কের অংশ হিসেবে হিমালয়ের উচ্চতা এবং বঙ্গোপসাগরের গভীরতার মধ্যে প্রকৃত সংযোগ গড়ে তোলার লক্ষ্যে আরও জোরালো উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
আরও পড়ুন: ভিসা সমস্যা ও সম্পর্ক জোরদারে একসঙ্গে কাজ করবে ঢাকা-আমিরাত: লুৎফে সিদ্দিকী
‘নেপাল-বাংলাদেশ ট্যুরিজম মিট’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে এই মন্তব্য করেন রাষ্ট্রদূত। নেপাল পর্যটন বোর্ডের সহযোগিতায় ঢাকাস্থ নেপাল দূতাবাস অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘নেপাল সরকার পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়নে যে পদক্ষেপ নিচ্ছে, তা তুলে ধরার পাশাপাশি নেপালকে জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তুলতে যাত্রা ও ভ্রমণ উদ্যোক্তাদের অবদানও প্রশংসার যোগ্য।’
২৬০ দিন আগে
অধ্যাপক ইউনূসের লন্ডন সফর অত্যন্ত সফল: ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সচিব
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সাম্প্রতিক যুক্তরাজ্য সফরকে ‘অত্যন্ত সফল’ বলে বর্ণনা করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তবে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সঙ্গে শেষ মুহূর্তে সাক্ষাৎ করতে না পারার জন্য কিছু কারণও উল্লেখ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৭ জুন) ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সচিব রুহুল আলম সিদ্দিক পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘আমাদের বিবেচনায়, এই সফর অত্যন্ত সফল ছিল।’
সচিব (পূর্ব) ড. মো. নজরুল ইসলাম ও মহাপরিচালক (জন কূটনীতি) শাহ আসিফ রহমানও সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশে ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক সফরের আগে তার সঙ্গে এক প্রাতঃরাশের বৈঠকে জানিয়েছিলেন যে, এই সফরকে একটি সরকারি সফরে উন্নীত করা হয়েছে।
পড়ুন: ড. ইউনূসকে মর্যাদাপূর্ণ ‘হারমনি অ্যাওয়ার্ডে’ ভূষিত করলেন কিং চার্লস তৃতীয়
পরে, তিনি প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে দেখা করেন এবং বাংলাদেশ পক্ষকে একই বার্তা দেন।
যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার আবিদা ইসলামকেও যুক্তরাজ্যের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে এটি একটি সরকারি সফর।
ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সচিব বলেন, এটি এক সরকারি সফর। তারা মনে করেন কিছু কর্মকাণ্ডে জড়িত হবে, যার মধ্যে রয়েছে দুই দেশের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ের একটি বৈঠক।
সিদ্দিক বলেন, প্রধান উপদেষ্টা লন্ডনে পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত বৈঠকটি এজেন্ডায় ছিল কিন্তু নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করা হয়নি। ‘শেষ মুহূর্তেও আমাদের প্রত্যাশা ছিল যে বৈঠকটি হবে। শেষ মুহূর্তে, যেকোনো কারণে বৈঠকটি হয়নি।’
তিনি বলেন, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক ব্যতীত প্রধান উপদেষ্টা পরিকল্পনার চেয়ে বেশি বৈঠক করেছেন এবং তাকে পূর্ণ প্রোটোকল দেওয়া হয়েছে।
তবে ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সচিব স্বীকার করেন যে, তাদের কাঁধে কিছু দায়িত্ব আসে কারণ তারা (পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়) সফরের প্রস্তুতির অংশ ছিলেন।
এই সফরকে কেন অত্যন্ত সফল হিসেবে দেখা হচ্ছে তা ব্যাখ্যা করে তিনি পাচার করা সম্পদ পুনরুদ্ধার, প্রধান উপদেষ্টা কর্তৃক কিং চার্লস তৃতীয় হারমনি অ্যাওয়ার্ড গ্রহণ এবং রাজার সঙ্গে একান্ত বৈঠকের ক্ষেত্রে বাস্তব অগ্রগতির কথা উল্লেখ করেন।
ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ‘একটি ইস্যুতে সফল সফরের পর দুই দেশের মধ্যে ঐতিহাসিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের বিষয়টিকে জটিল করে তোলার কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ তিনি দেখছেন না।’
বৃহস্পতিবার লন্ডনের সেন্ট জেমস প্যালেসে প্রধান উপদেষ্টা কিং চার্লস তৃতীয় হারমনি পুরস্কার গ্রহণ করেন।
মানুষ, প্রকৃতি এবং পরিবেশের মধ্যে ভারসাম্যপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করতে, প্রান্তিক সম্প্রদায়ের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে এবং একটি শান্তিপূর্ণ ও টেকসই বিশ্ব গড়ে তুলতে অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ অধ্যাপক ইউনূসকে এই পুরষ্কারে ভূষিত করা হয়।
পড়ুন: হারমনি অ্যাওয়ার্ড গ্রহণের আগে রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গে দেখা করবেন ড. ইউনূস
পুরষ্কার বিতরণ অনুষ্ঠানের আগে রাজা চার্লস বাকিংহাম প্যালেসে একান্ত সাক্ষাতকালে প্রধান উপদেষ্টাকে স্বাগত জানান।
আো ঘন্টাব্যাপী একান্ত বৈঠকে তারা পারস্পরিক স্বার্থের বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করেন।
যুক্তরাজ্য সফরকালে অধ্যাপক ইউনূস বিবিসিকে বলেন, তিনি প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমারের সঙ্গে একটি বৈঠকের ব্যবস্থা করতে পারেননি।
বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আমি জানি না তার হতাশ হওয়া উচিত নাকি একটি সুযোগ হাতছাড়া।’ ‘এজন্যই আমি বলছি বাংলাদেশে আসাটা হবে সহজ, সেই মুহূর্তটি দেখার এবং অনুভব করার একটি ভালো সুযোগ।’
ডাউনিং স্ট্রিট স্টারমারের সঙ্গে বৈঠকের সময়সূসি নির্ধারণ না করার কোনো কারণ জানিয়েছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি না আমরা এই ধরণের কোনো ব্যাখ্যা পেয়েছি। সম্ভবত তিনি অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ব্যস্ত।’
২৬২ দিন আগে
ভিসা সমস্যা ও সম্পর্ক জোরদারে একসঙ্গে কাজ করবে ঢাকা-আমিরাত: লুৎফে সিদ্দিকী
সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ‘সামগ্রিক পুনর্গঠনের’ অংশ হিসেবে ভিসা সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশ একসঙ্গে কাজ করবে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক-বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী। পাশাপাশি বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও জনগণের চলাচল-সংক্রান্ত বিষয়ে পারস্পরিক সদিচ্ছা ও বিশ্বাস গঠনের চেষ্টা অব্যাহত রাখার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।
সোমবার (১৬ জুন) ইউএইয়ের ফেডারেল অথরিটি ফর আইডেন্টিটি, সিটিজেনশিপ, কাস্টমস অ্যান্ড পোর্টস সিকিউরিটির (আইসিপি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল সুহেইল সাঈদ আল খাইলির সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এসব বলেন।
এ সময় তার সঙ্গে বাংলাদেশ দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত ও অন্যান্য সহকর্মীরাও ছিলেন।
লুৎফে সিদ্দিকী বলেন, ‘মেজর জেনারেল সুহেইলের সঙ্গে দীর্ঘ, খোলামেলা ও অকপট আলোচনা করেছি।’নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে আরব আমিরাতের ভিসা বা আবাসন নীতিমালার সবচেয়ে বড় সংখ্যক লঙ্ঘনকারী হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছেন বাংলাদেশিরা। এখানকার মোট ভিসা লঙ্ঘনকারীর মধ্যে ২৫ শতাংশেরও বেশি বাংলাদেশি।’
আরও পড়ুন: সন্তান জন্মদানের উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণে ভিসা নবায়নের ঝুঁকি: দূতাবাসের সতর্কতা
এই সমস্যার মূল কারণ সম্ভবত বাংলাদেশে কর্মী নিয়োগের পর্যায়েই নিহিত এবং এটি এক ধরনের দুষ্ট চক্র সৃষ্টি করেছে বলে মন্তব্য করেন এই দূত।
তার ভাষ্যে, অন্যান্য দেশের নাগরিকদের তুলনায় বাংলাদেশিদের জন্য কার্যকর অভিবাসন ব্যয় তুলনামূলকভাবে বেশি, বিশেষ করে প্রাপ্ত বেতনের সঙ্গে তুলনা করলে।
লুৎফে সিদ্দিকী বলেন, ‘বছরের পর বছর ধরে আমাদের সরকার অপরাধমূলক আচরণের মূল কারণগুলো মোকাবিলায় তেমন গুরুত্বই দেয়নি।’
তিনি আরও বলেন, ‘ভিসা নীতিতে কিছু সময়ের জন্য শিথিলতা আসার পর এর অপব্যবহার বেড়ে গেলেও সরকার তার বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি।’
দূত বলেন, ‘শুধু যে অনেকে ওভার স্টে (ভিসার মেয়াদ শেষ হলেও থাকা) করে (এবং গত বছরের সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার প্রতিক্রিয়া জানাতেও ব্যর্থ হয়েছে) তা নয়, বরং বাংলাদেশিরা প্রচুর ভুয়া সনদ তৈরি করে, যা কখনো কখনো আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতিসহ পেশ করা হয়–এমন অভিযোগও রয়েছে।’
তিনি জানান, সেখানে একটি রিক্রুটমেন্ট ফার্মের সঙ্গেও আলাদা করে কথা বলেছেন (যারা আফ্রিকা ও এশিয়ার একাধিক দেশ থেকে আগত অভিবাসীদের সংযুক্ত আরব আমিরাতে কাজের সুযোগ করে দেয়)। তারাও অভিযোগগুলোর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
তিনি আরও বলেন, চলতি বছরের মার্চে ভিসা আংশিকভাবে চালু হওয়ার পর মধ্যস্বত্বভোগীদের কিছু উদ্বেগজনক আচরণের কথাও তিনি বেসরকারিভাবে শুনেছেন।
আরও পড়ুন: ড. ইউনূসের যুক্তরাজ্য সফরে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সন্তোষ প্রকাশ
বিশেষ দূত জানান, তারা এখন বিভিন্ন ধরনের ভিসার (পরিবার বা দম্পতির জন্য, দেশীয় নিয়োগকর্তার মধ্যে স্থানান্তর, পর্যটক ভিসা, বিভিন্ন দক্ষতার জন্য ওয়ার্ক পারমিট, নাবিকদের জন্য ভিসা ইত্যাদি) বিষয়ভিত্তিক ভাগ করেও দেখার চেষ্টা করবেন।
তিনি বলেন, ‘এই সময়ের মধ্যে আমাদের সবাইকে অনিয়ম ও এর মূল কারণ দমন করার কাজে আরও ভালো করতে হবে। এসব অনিয়ম দীর্ঘ প্রভাব ফেলছে।’
২৬২ দিন আগে
তেহরানে বাংলাদেশ দূতাবাসের সবাইকে দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত
ইরান-ইসরায়েলের মধ্যে চলমান সংঘাত ক্রমেই উদ্বেগজনক রূপ নিচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে তেহরানে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের কূটনীতিকসহ অন্যান্য কর্মকর্তাদের যেকোনো সময় নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হতে পারে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে তেহরানে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে বলে একটি কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে।
সূত্র জানিয়েছে, দূতাবাসের বর্তমান ভবনটি নিরাপদ নয়। কারণ এটি তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম পারমাণবিক গবেষণা কেন্দ্রের এক কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত, যা সাম্প্রতিক সময়ে হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল।
আরও পড়ুন: ইরানে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের জন্য হটলাইন চালু
এ ছাড়া তেহরানের দুটি ইন্টারনেট হাবের একটি ওই ভবনের খুব কাছেই অবস্থিত। দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আশঙ্কা করছেন, এসব স্থাপনায় হামলা হলে তার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় তারাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন।
হটলাইন চালু
এদিকে, ইরানে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের জন্য হটলাইন সেবা চালু করা হয়েছে।
রবিবার (১৫ জুন) ইরানে বাংলাদেশ দূতাবাস কর্তৃপক্ষের বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ইরানে বসবাসরত সব বাংলাদেশি নাগরিকের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, বর্তমান উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জরুরি প্রয়োজনে যোগাযোগের জন্য দূতাবাস ইমার্জেন্সি হটলাইন স্থাপন করেছে।
এ ক্ষেত্রে ইরানে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিক এবং বাংলাদেশে অবস্থানরত তাদের স্বজনরা নিচের নম্বরগুলোতে (হোয়াটসঅ্যাপসহ) জরুরি প্রয়োজনে যোগাযোগ করতে পারবেন:
বাংলাদেশ দূতাবাস, তেহরান হটলাইন:
১. +৯৮৯৯০৮৫৭৭৩৬৮
২. +৯৮৯১২২০৬৫৭৪৫
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ঢাকা হটলাইন:
+৮৮০১৭১২০১২৮৪৭
ইরানে নথিভুক্ত বাংলাদেশি নাগরিকের সংখ্যা ২ হাজারেরও কম বলে জানিয়েছে সূত্র।
২৬২ দিন আগে
ইরানে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের জন্য হটলাইন চালু
ইরান ও ইসরায়েলের চলমান সংঘাত ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। এমতাবস্থায় ইরানে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের জন্য হটলাইন চালু করেছে তেহরানের বাংলাদেশ দূতাবাস ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
সোমবার (১৬ জুন) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
ইরানে বসবাসরত সকল বাংলাদেশি নাগরিক ও বাংলাদেশে তাদের স্বজনদের বর্তমান উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জরুরি প্রয়োজনে তেহরানস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ঢাকায় স্থাপন করা হটলাইনে জরুরি প্রয়োজনে যোগাযোগ করতে অনুরোধ করা হয়েছে।
হটলাইন নাম্বারগুলোর হোয়াটসঅ্যাপে যে কেউ যোগাযোগ করতে পারবেন।
বাংলাদেশ দূতাবাস, তেহরান- হটলাইন:১। +৯৮৯৯০৮৫৭৭৩৬৮২। +৯৮৯১২২০৬৫৭৪৫পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ঢাকা- হটলাইন:+৮৮০১৭১২০১২৮৪৭
২৬৩ দিন আগে