বৈদেশিক-সম্পর্ক
আগস্টে ইন্দোনেশিয়া সফর করতে পারেন অধ্যাপক ইউনূস
আগামী আগস্টে ইন্দোনেশিয়ায় একটি সরকারি সফরে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের। বাংলাদেশ এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বৃহত্তম দেশটির মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং সাংস্কৃতিক সম্পর্ক বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করছে দেশ দুটি।
দেশ দুটির কর্মকর্তারা উভয় পক্ষের জন্য সুবিধাজনক একটি তারিখ নির্ধারণের জন্য কাজ করছেন বলে একটি কূটনৈতিক সূত্র সোমবার (২৩ জুন) ইউএনবিকে জানিয়েছে।
সূত্রটি আরও জানিয়েছে, ঢাকার সঙ্গে জাকার্তা তার সম্পর্ক আরও গভীর করতে আগ্রহী।
কর্মকর্তাদের মতে, সফরে বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সহযোগিতা প্রধান হিসেবে গুরুত্ব পাবে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যেই ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সহযোগিতার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে মতামত চেয়েছে।
আরও পড়ুন: তারেক রহমানকে চীন সফরের আমন্ত্রণ সিপিসির
প্রধান উপদেষ্টা তার অন্যান্য ব্যস্ততার পাশাপাশি পরিকল্পিত সফরের সময় ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রপতি প্রাবোও সুবিয়ান্তোর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন।
চলতি মাসের শুরুতে বাংলাদেশ সফরকারী ইন্দোনেশিয়ার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরমানাথ ক্রিশ্চিয়াওয়ান নাসির বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে তাদের 'কৌশলগত' এবং 'গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য অংশীদার' হিসাবে বর্ণনা করেছেন।
তিনি বাংলাদেশে ভবিষ্যতে বিনিয়োগের জন্য উভয়ের লাভজনক ক্ষেত্রগুলো অন্বেষণে তার দেশের প্রস্তুতি ব্যক্ত করেন এবং বাংলাদেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন, জ্বালানি সঞ্চয় এবং জ্বালানি অবকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে বৃহত্তর সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন।
গত ২ জুন নাসিরের সঙ্গে সাক্ষাতের আগে প্রধান উপদেষ্টা হিসেব দায়িত্ব গ্রহণের আগে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বেশ কয়েকবার ইন্দোনেশিয়া সফর করেছিলেন। তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন যে ঢাকা এবং জাকার্তা তাদের ধর্মীয়, ঐতিহাসিক এবং সাংস্কৃতিক পটভূমি সত্ত্বেও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারেনি।
‘আমাদের অবশ্যই সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধু হতে হবে উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, সাংস্কৃতিক ও শিক্ষামূলক সফরসহ আরও বেশি করে উভয় দেশের জনগণের মধ্যে বিনিময়ের উপর গুরুত্ব দিতে হবে। ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে একটি শক্তিশালী সম্পর্ক গড়ে তোলার জন্য আমরা সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাতে প্রস্তুত।’
৩৪৬ দিন আগে
আগামী সপ্তাহে ইরান থেকে প্রথম দফায় দেশে ফিরবেন বাংলাদেশিরা
ইরান থেকে প্রথম দফায় কয়েকজন বাংলাদেশি আগামী সপ্তাহে দেশে ফিরে আসতে পারেন।
রবিবার (২২ জুন) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র শাহ আসিফ রহমান জানান, ইরান-ইসরায়েলের সংঘর্ষের কারণে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ায় বাংলাদেশিদের দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।কিভাবে তাদের আনা হবে, সেটাও নির্ধারণ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
এর আগে, সোমবার (১৬ জুন) ইরানে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের জন্য হটলাইন চালু করেছে তেহরানের বাংলাদেশ দূতাবাস ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
আরও পড়ুন: ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলায় গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে ঢাকা
ইরানে বসবাসরত সকল বাংলাদেশি নাগরিক ও বাংলাদেশে তাদের স্বজনদের বর্তমান উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জরুরি প্রয়োজনে তেহরানস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ঢাকায় স্থাপন করা হটলাইনে জরুরি প্রয়োজনে যোগাযোগ করতে অনুরোধ করা হয়েছে।
হটলাইন নাম্বারগুলোর হোয়াটসঅ্যাপে যে কেউ যোগাযোগ করতে পারবেন।
বাংলাদেশ দূতাবাস, তেহরান- হটলাইন:১. +৯৮৯৯০৮৫৭৭৩৬৮২। +৯৮৯১২২০৬৫৭৪৫
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ঢাকা- হটলাইন:+৮৮০১৭১২০১২৮৪৭
৩৪৭ দিন আগে
ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলায় গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে ঢাকা
ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোয় সাম্প্রতিক হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে বাংলাদেশ।
রবিবার (২২ জুন) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র শাহ আসিফ রহমান বলেন, ‘এই ধরনের ঘটনা ইতোমধ্যে অস্থির একটি অঞ্চলকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে এবং আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি বাড়াচ্ছে।’
বাংলাদেশ তার দীর্ঘদিনের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বলেছে, সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানে সংলাপ ও কূটনীতির কোনো বিকল্প নেই।
আসিফ রহমান বলেন, ‘আমরা সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানাচ্ছি এবং এমন কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ার অনুরোধ করছি, যা এই অঞ্চলে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।’
আরও পড়ুন: আদর্শ নাকি নমনীয়তা, কোন পথে যাবেন খামেনি
তিনি একটি লিখিত বিবৃতি পড়ে শোনান, যেখানে বলা হয়, ‘বাংলাদেশ জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে—তারা যেন সক্রিয়ভাবে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমনে ভূমিকা রাখে এবং শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগ নেয়।’
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই মুখপাত্র বলেন, ‘বাংলাদেশ বিশ্বাস করে, গঠনমূলক সংলাপ, পারস্পরিক সম্মান এবং আন্তর্জাতিক নিয়মনীতি মেনে চলাই দীর্ঘস্থায়ী শান্তির একমাত্র পথ।’
আরও পড়ুন: মার্কিন হামলার শিকার ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো সম্পর্কে যা জানা প্রয়োজন
এদিকে, ইরান থেকে প্রথম ধাপে বাংলাদেশিদের একটি দল আগামী সপ্তাহে দেশে ফিরতে পারে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
৩৪৭ দিন আগে
নির্বাচনের প্রস্তুতি: ইসি ও সুশীল সমাজের সঙ্গে কাজ করছে ইইউ
ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) জানিয়েছে, তারা বাংলাদেশের আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতির পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ও সুশীল সমাজের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে।
রবিবার (২২ জুন) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ঢাকায় ইউরোপীয় দূতাবাস এমন তথ্য জানিয়েছে।
ইইউ দূতাবাস বিবৃতিতে জানায়, বাংলাদেশের জন্য আরও গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ নির্মাণে সুশীল সমাজকে ক্ষমতায়নে কাজ করছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রতিনিধি ও এর অংশীদাররা।
ইউরোপীয় পার্টনারশিপ ফর ডেমোক্রেসির (ইপিডি) সহায়তায় এর অংশীদার সংগঠন আনফারেল ১৮ থেকে ২০ জুন ঢাকায় তিনদিনব্যাপী একটি ওয়ার্কশপের আয়োজন করে। এর বিষয়বস্তু ছিল নাগরিক নির্বাচন পর্যবেক্ষণ।
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ নিয়ে নতুন প্রস্তাবে তিনটি বাদে সব দল একমত: জোনায়েদ সাকি
ইইউ দূতাবাস জানায়, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সক্রিয় ও নিরপেক্ষ নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়ে সব অংশগ্রহণকারী একমত পোষণ করেছেন।
নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের জন্য সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা প্রণয়নে সহযোগিতা এবং এতে কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালনের কথা স্বীকার করেছে বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন।
৩৪৭ দিন আগে
ইসরায়েলকে জবাবদিহিতার আওতায় আনার আহ্বান পররাষ্ট্র উপদেষ্টার
ইসরায়েলকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন।
তুরস্কের ইস্তানবুলে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা—ওআইসির পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের ৫১তম সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে এ আহ্বান জানান তিনি।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তার বক্তব্যে ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের বেআইনি ও আগ্রাসী সামরিক হামলার তীব্র নিন্দা জানান। এ আগ্রাসনকে আন্তর্জাতিক আইন, জাতিসংঘ সনদ এবং ইরানের সার্বভৌমত্বের মারাত্মক লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘ইসরায়েলের এ ধরনের বেপরোয়া কর্মকাণ্ড এ অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করার এবং বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তাকে বিঘ্নিত করার হুমকি সৃষ্টি করেছে।’
তিনি অবিলম্বে এ ধরনের উস্কানি বন্ধের আহ্বান জানান এবং কূটনীতি ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধার মাধ্যমে শান্তি নিশ্চিত করতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার সময় ইসরায়েলকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান।
আরও পড়ুন: আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করবে যুক্তরাষ্ট্র: টামি ব্রুস
অবিলম্বে ফিলিস্তিনে চলমান ইসরায়েলি আগ্রাসনে বন্ধেরও আহ্বান জানান পররাষ্ট্র উপদেষ্টা।
এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালত (আইসিজে) ও আইসিসির মাধ্যমে ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতার দাবিতে ওআইসিকে অবশ্যই ঐক্যবদ্ধ ও সোচ্চার থাকতে হবে। আমাদের সংহতিকে অবশ্যই কৌশলগত এবং টেকসই পদক্ষেপে রূপান্তরিত করতে হবে।’
এ সময় রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়টিও তার বক্তব্যে উঠে আসে। আইসিজেতে ওআইসির আইনি উদ্যোগ এবং ওআইসি টেন ইয়ার প্রোগ্রাম অব অ্যাকশনে রোহিঙ্গা ইস্যুকে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত লক্ষ্য হিসেবে অন্তর্ভুক্তির জন্য ওআইসির প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তনের জন্য মিয়ানমারের ওপর কূটনৈতিক চাপ বাড়ানোর পাশাপাশি আইসিজেতে চলমান আইনি কার্যক্রমে অর্থায়নে সহায়তা করতে তিনি আহ্বান জানান।
মুসলিম বিশ্বের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও ইসলামভীতি মোকাবিলায় আরও বিস্তৃত ও কার্যকর ভূমিকা রাখার জন্য ওআইসিকে আহ্বান জানান পররাষ্ট্র উপদেষ্টা।
আরও পড়ুন: রোহিঙ্গা সংকট আঞ্চলিক নিরাপত্তায় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা
তিনি বলেন, ‘বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমাদের উচিত ওআইসির প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা, জবাবদিহিতা এবং বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করা।’
সম্মেলনের সাইডলাইনে মালয়েশিয়ায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী দাতো সেরি উটামা হাজি মোহাম্মদ বিন হাজি হাসান, ইরাকের পররাষ্ট্র মন্ত্রী ফুয়াদ হোসেন, উজবেকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইদভ বাখতিয়র ওদিলোভিচ এবং পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র মন্ত্রী ইসহাক দারের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন মো. তৌহিদ হোসেন।
৩৪৭ দিন আগে
আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করবে যুক্তরাষ্ট্র: টামি ব্রুস
আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ এবং দুদেশের মধ্যকার ক্রমবর্ধমান ব্যবসা ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
শুক্রবার (২০ জুন) ওয়াশিংটন ডিসিতে নিয়মিত মিডিয়া ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র টামি ব্রুস। সম্প্রতি বাংলাদেশের নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান ও মার্কিন উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টোফার ল্যান্ডোর মধ্যকার বৈঠক নিয়ে কথা বলেন তিনি।
পড়ুন: সন্তান জন্মদানের উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণে ভিসা নবায়নের ঝুঁকি: দূতাবাসের সতর্কতা
টামি ব্রুস বলেন, ‘বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার সঙ্গে দেখা করেছেন ল্যান্ডো এবং জাতীয় নির্বাচনের আগে অন্তর্বর্তী সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে তারা আলোচনা করেছেন। তারা বাণিজ্য ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্প্রসারণসহ যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের সম্পর্ক নিয়েও কথা বলেছেন।’
ড. খলিলুর রহমান এবং মার্কিন উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠকের পর প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছে, ‘বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস যে নেতৃত্ব দিয়েছেন, তার প্রশংসা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এ সময়ে বাংলাদেশের প্রতি অব্যাহত মার্কিন সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন তিনি।’
তারা রোহিঙ্গা সংকট, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান শুল্ক আলোচনা, দক্ষিণ এশিয়ার উন্নয়ন এবং বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ নিয়ে আলোচনা করেছেন।
৩৪৮ দিন আগে
বাংলাদেশকে চাপে রাখতেই পুশইন করছে ভারত: মির্জা ফখরুল
বাংলাদেশে একটি বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি করতে ও এ দেশের সরকারকে চাপে রাখতেই সীমান্ত দিয়ে অব্যাহত পুশইন করছে ভারত বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
শুক্রবার (২০ জুন) রাতে ঠাকুরগাঁও শহরে নিজের কালিবাড়িস্থ বাসভবনে জেলার আলেম-ওলামাদের নিয়ে নৈশভোজের আয়োজনে এসব মন্তব্য করেন তিনি।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমাদের সামনে এখন একটি কঠিন সমস্যা দেখা দিয়েছে। সীমান্ত দিয়ে ভারত নিয়মিত পুশইন করে যাচ্ছে। জনগণকে ধরে নিয়ে এসে জোর করে আমাদের দেশে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।’
‘ন্যায্য পানির হিস্যা ভারত আমাদের দেয়নি। তার ওপর তারা আমাদের বর্ডারে পাখির মতো মানুষ মারে ও অবৈধ পুশইন করে। এতদিন এগুলো তারা করেনি, যেহেতু আওয়ামী সরকারকে এদেশ থেকে উৎখাত করা হয়েছে এবং হাসিনা ভারতে আশ্রয় নিয়েছে, তাই তারা এসব শুরু করেছে।’
বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘আওয়ামী সরকারের আমলে সারা বাংলাদেশে জঙ্গি নাটক সাজানো হয়েছে। র্যাবের লোকদের মাধ্যমে জঙ্গি মতবাদ দিয়ে মাদ্রাসার এতিম ছেলেদেরকে নিয়ে গিয়ে তাদের হাতে লিফলেট ঢুকিয়ে তাদের হত্যা করেছে। এসব ঘটনা বিগত আওয়ামী সরকার একটা না হাজারটা ঘটিয়েছে।’
আরও পড়ুন: লন্ডন বৈঠকের পর ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের আশা বাড়ছে: ডা. জাহিদ
মির্জা ফখরুল বলেন, ছাত্র জনতার অভ্যুত্থানের সময়ে শেখ হাসিনা সরকার যে হত্যাকান্ড চালিয়েছে, এরকম হত্যাকান্ড তারা আগেও একটি ঘটিয়েছিল। সেটি হলো—শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের ওপর চালানো হত্যাকাণ্ড। রাতের অন্ধকারে মেশিনগান দিয়ে এই হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে তারা।’
‘যেসব ছেলেরা অভ্যুত্থানের সময় বুকের তাজা রক্ত দিয়েছে, সেসব ছেলেদের রক্তের বিনিময়ে সাধারণ জনগণের রক্তের বিনিময়ে আমরা সেই অবস্থা থেকে মুক্তি পেয়েছি। তাদের রক্তের বিনিময়ে আল্লাহ আমাদের একটা সুযোগ তৈরি করে দিয়েছেন,’ যোগ করেন তিনি।নির্বাচনের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘লন্ডনে গিয়ে তারেক রহমানের সঙ্গে প্রফেসর ইউনূসের যে বৈঠক হয়েছে, তাতে সম্ভাব্য একটি নির্বাচনের সময় উঠে এসেছে। ফেব্রুয়ারি মাস সে সময় হিসেবে ঘোষণা হয়েছে। নির্বাচনের মাধ্যমে আমরা আমাদের সঠিক দেশ নেতাকে বেছে নেওয়ার অধিকার ফিরে পাবো।’
এসময় আরও ছিলেন, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মির্জা ফয়সল আমিন, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম শরীফসহ জেলার আলেম-ওলামারা।
৩৪৮ দিন আগে
ত্রিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদারে বাংলাদেশ, চীন ও পাকিস্তানের অঙ্গীকার
ত্রিপাক্ষিক সহযোগিতা বিষয়ে বিস্তৃত আলোচনা করেছে বাংলাদেশ, চীন ও পাকিস্তান। সেই সঙ্গে পরস্পরের প্রতি প্রতিবেশীসুলভ আচরণ, পারস্পরিক আস্থা, সমতা, উন্মুক্ততা, অন্তর্ভুক্তি ও যৌথ উন্নয়নের নীতির ভিত্তিতে এই সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে সম্মত হয়েছে দেশ তিনটি।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চীনের কুনমিং শহরে গত বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে তিন দেশই জোর দিয়ে বলেছে, চীন-বাংলাদেশ-পাকিস্তান যৌথ সহযোগিতা সত্যিকারের বহুপাক্ষিকতা ও উন্মুক্ত আঞ্চলিকতাকে অনুসরণ করে। এই সম্পর্ক যে তৃতীয় কোনো পক্ষের বিরুদ্ধে নয়, তা-ও উল্লেখ করা হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশের সাবেক ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সচিব রুহুল আলম সিদ্দিকী, চীনের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সান ওয়েইদং এবং পাকিস্তানের এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল বিষয়ক অতিরিক্ত সচিব ইমরান আহমেদ সিদ্দিকী অংশ নেন। বৈঠকের প্রথম ধাপে ভিডিও লিংকের মাধ্যমে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র সচিব আমনা বালোচও অংশগ্রহণ করেন।
তবে বৈঠকের ফলাফলের বিষয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য আসেনি।
সান ওয়েইদং বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে ভবিষ্যতের এক অভিন্ন সমাজ গড়তে চীন সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ও পাকিস্তান—উভয়ই চীনের ভালো প্রতিবেশী, বন্ধু ও অংশীদার। পাশাপাশি তারা উচ্চমানের বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারও বটে।’
চীনের পক্ষ থেকে বলা হয়, গ্লোবাল সাউথের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য এবং আঞ্চলিক অন্যতম প্রধান দেশ হিসেবে এই তিন দেশের সামনেই রয়েছে জাতীয় পুনরুত্থান ও আধুনিকায়নের লক্ষ্য, যা অর্জনে প্রয়োজন শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীল পরিবেশ।
ওয়েইদং বলেন, ‘চীন-পাকিস্তান-বাংলাদেশ সহযোগিতা তিন দেশের জনগণের অভিন্ন স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং তা আঞ্চলিক শান্তি, স্থিতিশীলতা, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধিতে অবদান রাখতে পারে।’
অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও জনগণের জীবনমান উন্নয়ন এই ত্রিপাক্ষিক সহযোগিতার মূল লক্ষ্য বলে জানান তিনি।
তিনটি দেশই শিল্প, বাণিজ্য, সামুদ্রিক বিষয়, পানিসম্পদ, জলবায়ু পরিবর্তন, কৃষি, মানবসম্পদ, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও তরুণ সমাজসহ বিভিন্ন খাতে প্রকল্প অনুসন্ধান ও বাস্তবায়নে একমত হয়েছে।
বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহ বাস্তবায়নের জন্য একটি কর্মী দল (ওয়ার্কিং গ্রুপ) গঠন করতেও সম্মত হয়েছে তারা।
অন্যদিকে, পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই বৈঠক ছিল বাংলাদেশ-চীন-পাকিস্তান ত্রিপাক্ষিক ব্যবস্থার ‘প্রথম বৈঠক’।
দেশটির পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, এই বৈঠকে আঞ্চলিক যোগাযোগ জোরদার এবং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার নানা ক্ষেত্র, যেমন: বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, কৃষি, ডিজিটাল অর্থনীতি, পরিবেশ সুরক্ষা ও সমুদ্রবিজ্ঞান, সবুজ অবকাঠামো, সংস্কৃতি, শিক্ষা এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ সহযোগিতা গভীরতর করার বিষয়ে একমত হয়েছে তিন দেশ।
আরও পড়ুন: এশিয়ায় নেতৃত্ব দেবে জাপান, বাংলাদেশকে সহযোগিতা বাড়ানোর আশায় ড. ইউনূস
বৈঠকের ফাঁকে কুনমিংয়ে আফগানিস্তানের অন্তর্বর্তী সরকারের ভারপ্রাপ্ত উপ-প্রধানমন্ত্রী হাজি মৌলবি আব্দুল সালাম হানাফির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন সান ওয়েইদং। তিনি রুহুল আলম সিদ্দিকী ও ইমরান আহমেদ সিদ্দিকীর সঙ্গেও পৃথক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন।
৩৪৯ দিন আগে
রোহিঙ্গা সংকট আঞ্চলিক নিরাপত্তায় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা
রোহিঙ্গা সমস্যার টেকসই সমাধান না হলে তা আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে সতর্ক করেছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন।
বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ‘আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার ওপর দারিদ্র্য, উন্নয়ন-ঘাটতি ও সংঘাতের প্রভাব’ শীর্ষক উচ্চ পর্যায়ের এক আলোচনা সভায় বক্তৃতাকালে তিনি এ কথা বলেন। শুক্রবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য দিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, বিগত আট বছরের বেশি সময় ধরে ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে বাংলাদেশ মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে আশ্রয় দিয়ে আসছে। কিন্তু দীর্ঘসূত্রিতার কারণে এই সংকট এখন আর শুধু মানবিক বিষয় নয়; এটি অর্থনৈতিক, পরিবেশগত ও ক্রমবর্ধমানভাবে নিরাপত্তা ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নিজ দেশ মিয়ানমারে নির্মম নির্যাতনের কারণে বাস্তুচ্যুত এই জনগোষ্ঠীকে পূর্ণ নিরাপত্তা ও অধিকারের সঙ্গে প্রত্যাবাসনের জন্য অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান।
আরও পড়ুন: তহবিল সংকটে শিক্ষার ঝুঁকিতে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সোয়া ২ লাখ শিশু: ইউনিসেফ
এ সময় তারুণ্যের গৌরব প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে তরুণরা বারবার পরিবর্তনের অগ্রভাগে থেকেছে। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং সাম্প্রতিক জুলাই বিপ্লবসহ সব আন্দোলনে অন্যায় ও অসাম্যের বিরুদ্ধে সর্বদাই সোচ্চার ছিল বাংলাদেশের তরুণ সমাজ।
তিনি বলেন, তরুণরা যদি শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়, তাহলে তারা সহজেই চরমপন্থার শিকার হতে পারে। এ ছাড়া দারিদ্র্য, বৈষম্য ও উন্নয়ন-ঘাটতি যদি দীর্ঘমেয়াদে চলতে থাকে, তাহলে একপর্যায়ে তা সহিংসতা ও অস্থিরতায় রূপ নিতে পারে।
বিশ্বব্যাপী বিদ্যমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অসাম্যের প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের তিন শূন্য নীতির কথা উল্লেখ করে তৌহিদ হোসেন বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীল একটি ভবিষ্যৎ চাই, যেখানে থাকবে শূন্য দারিদ্র্য, শূন্য বেকারত্ব এবং শূন্য নিট কার্বন নিঃসরণ। এ লক্ষ্যে পৌঁছাতে হলে উন্নয়ন ও শান্তি স্থাপন প্রচেষ্টাকে এক সূত্রে যুক্ত করতে হবে।
পাশাপাশি তিনি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ, অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশন এবং সম্প্রতি গঠিত পিসবিল্ডিং কমিশনের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর আহ্বান জানান, যাতে শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগগুলো বাস্তবভিত্তিক এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়।
আরও পড়ুন: রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদারের দাবি তারেক রহমানের
অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের জন্য ‘সামাজিক ব্যবসায়’ ব্যবস্থার প্রাসঙ্গিকতার বিষয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও বলেন, নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস প্রবর্তিত এই মডেল দারিদ্র্য বিমোচন ও সংঘাত প্রতিরোধে একটি কার্যকর মাধ্যম হতে পারে।
বক্তৃতাকালে একটি সমৃদ্ধ, ন্যয়ভিত্তিক ও শান্তিপূর্ণ বিশ্ব গঠনে বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন উপদেষ্টা।
নিরাপত্তা পরিষদের এই বৈঠকে বাংলাদেশ ছাড়াও সুইডেন, উরুগুয়ে ও পূর্ব তিমুরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং জার্মানির পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীসহ বিভিন্ন দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন।
৩৪৯ দিন আগে
অভিন্ন অভিজ্ঞতা ও ত্যাগের বন্ধনে গড়ে উঠেছে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক: ভারতের পররাষ্ট্রপ্রতিমন্ত্রী
অভিন্ন অভিজ্ঞতা ও ত্যাগের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের পররাষ্ট্রপ্রতিমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিং। এ সম্পর্কের স্থায়ী শক্তির ওপর আলোকপাত করে একে সহনশীল ও ভবিষ্যতমুখী অংশীদারত্বের ভিত্তি হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) সন্ধ্যায় নয়াদিল্লির তাজ প্যালেস হোটেলে বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবসের (২৬ মার্চ) বিলম্বিত উদযাপনে যোগ দিয়ে এসব বলেন তিনি।
কীর্তি বর্ধন সিং বলেন, ‘বাংলাদেশের সঙ্গে সবক্ষেত্রে আন্তঃসম্পর্ক ও সংযোগ জোরদারে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা একসঙ্গে কাজ করতে এবং আমাদের জনগণের মধ্যকার সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করতে আগ্রহী, যা আমাদের অংশীদারত্বের মূলভিত্তি।’
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিস্তৃত প্রকৃতি তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, ‘বাণিজ্য, যোগাযোগ, জ্বালানি, নিরাপত্তা ও সাংস্কৃতিক বিনিময়সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এই সম্পর্ক বিস্তৃত এবং আঞ্চলিক শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
আরও পড়ুন: বাংলাদেশ-নেপালের মধ্যে পর্যটন সম্পর্ক জোরদারে উদ্যোগ
বাংলাদেশ হাইকমিশন জানিয়েছেন, নতুন হাইকমিশনারের আগমন ও পরিচয়পত্র পেশ এবং সেই সময়ে রমজান পালনের কারণে স্বাধীনতা দিবসের (২৬ মার্চ) স্বাভাবিক সময়ের অনুষ্ঠান স্থগিত করা হয়েছিল।
এই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার, জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক, সরকারি কর্মকর্তা, গবেষক, নাগরিক সমাজের সদস্য ও গণমাধ্যমকর্মীসহ শতাধিক অতিথি উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় প্রতিবেশি দেশ দুটির মধ্যে ভবিষ্যতমুখী সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরেন ভারতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার মো. রিয়াজ হামিদুল্লাহ।
তিনি বলেন, ‘আমরা শুধু অতীতকে স্মরণ করতেই এই সন্ধ্যা উদযাপন করছি না, বরং প্রতিবেশী ও উন্নয়নের অংশীদার হিসেবে ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবনার সুযোগ হিসেবেও এটি পালন করছি।’
পাশাপাশি আঞ্চলিক অংশীদারত্ব পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে হাইকমিশনার সম্প্রতি ভারতের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে ৪০ মেগাওয়াট নেপালি জলবিদ্যুৎ সরবরাহের বিষয়টিকে উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতার একটি উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
আরও পড়ুন: ইউনূস-মোদির ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময়
তিনি আরও বলেন, ‘বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টিসেক্টরাল, টেকনিকাল এন্ড ইকোনমিক কোঅপারেশনের (বিমসটেক) বর্তমান চেয়ার হিসেবে বাংলাদেশ আঞ্চলিক সহযোগিতা পুনর্জীবিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
৩৪৯ দিন আগে