বৈদেশিক-সম্পর্ক
জামায়াতের নারী নেত্রীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারা কুক
জামায়াতে ইসলামীর নারী নেত্রীদের সঙ্গে দেখা করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারা কুক।
সোমবার (১৯ মে) ঢাকাস্থ ব্রিটিশ হাইকমিশনের ভ্যারিফায়েড ফেসবুক পেজে এই তথ্য জানানো হয়।
এসময় পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করেন তারা।
পোস্টে বলা হয়, জামায়াতে ইসলামীর নারী সম্প্রদায়ের ব্যস্ততা এবং নীতি সম্পর্কিত বিষয়গুলো নিয়ে তাদের মধ্যে অর্থবহ আলোচনা হয়েছে। যা দলটির নারী সদস্যদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আরও পড়ুন: পারিবারিক পুনর্মিলন ভিসায় অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলছে ইতালীয় দূতাবাস
২৯১ দিন আগে
পারিবারিক পুনর্মিলন ভিসায় অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলছে ইতালীয় দূতাবাস
পারিবারিক পুনর্মিলন ভিসার আবেদনগুলো প্রক্রিয়াকরণে নিয়মিত কাজ করছে বলে জানিয়েছে ইতালি দূতাবাস। চলতি বছরের পারিবারিক নথিগুলো নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে প্রক্রিয়াকরণ ভিসা অফিসের একটি অগ্রাধিকার বলে জানানো হয়েছে।
সোমবার (১৯ মে) পারিবারিক পুনর্মিলন ভিসা আবেদন নিয়ে এ সুখবর দিয়েছে ঢাকার ইতালি দূতাবাস।
কয়েকজন আবেদনকারীর জিজ্ঞাসার পরিপ্রেক্ষিতে দূতাবাস এক বিবৃতিতে জানায়, পারিবারিক ভিসার আবেদন প্রক্রিয়াকরণে তাদের ভিসা অফিস ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, বর্তমানে চলতি বছরের পারিবারিক ফাইলগুলো নির্ধারিত সময়সীমার প্রক্রিয়াকরণ করা ভিসা অফিসের একটি অগ্রাধিকার, যা এ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য আইনের অধীনে সম্পন্ন হচ্ছে। একইসঙ্গে দূতাবাস ২০২৪ সালের ব্যাকলগ (পিছিয়ে থাকা আবেদন) দূরীকরণের জন্য ধারাবাহিক এবং বিষয়ভিত্তিক অগ্রাধিকার নীতিমালা অনুযায়ী কাজ করছে।
এর মধ্যে রয়েছে জরুরি নথিগুলোর প্রক্রিয়াকরণ, যেমন শিশু বা মানবিক পরিস্থিতির বিষয়। কিছু আবেদন বিচারিক সিদ্ধান্ত এবং আইনি বিবেচনার কারণে বিশেষ গুরুত্বসহকারে প্রক্রিয়া করা হচ্ছে বলেও জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুন: ভিসা প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি বন্ধে পদক্ষেপ ইতালি দূতাবাসের
দূতাবাস জানায়, কিছু আবেদন বিচারিক আদেশ বা আইনি কারণে বিশেষ গুরুত্বসহকারে প্রক্রিয়া করা হচ্ছে।
এ ছাড়া, আবেদনকারীদের ধৈর্য ধরতে এবং ভিএফএস গ্লোবালের মাধ্যমে ভিসা প্রক্রিয়া সংক্রান্ত সর্বশেষ আপডেটের জন্য অপেক্ষা করার জন্য আহ্বান জানিয়েছে ইতালির দূতাবাস।
এ সময় সব আবেদন যথাযথ প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি করা হবে এবং ইতালিতে পরিবারের সঙ্গে পুনর্মিলনের লক্ষ্যে যেসব আবেদন জমা পড়েছে, তা যথাসম্ভব দ্রুত সম্পন্ন করা হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়।
২৯১ দিন আগে
পররাষ্ট্র সচিবের সঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ
বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে ‘গভীর ও ফলপ্রসূ’ আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট সূত্র।
রবিবার (১৮ মে) ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন পররাষ্ট্র সচিব মো. জসীম উদ্দিন ও ঢাকায় নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। এ সময় তারা ঢাকা-বেইজিং সম্পর্ক আরও জোরদার করার উপায় নিয়ে আলোচনা করেন।
আলোচনায় পারস্পরিক স্বার্থ এবং দুই দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অন্যান্য বিষয়েও মতবিনিময় হয়েছে বলে জানা গেছে।
আরও পড়ুন: জামায়াত আমিরের সাথে ইইউ রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ
এদিকে, পররাষ্ট্র সচিব জসীম উদ্দিনকে পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে চলছে আলোচনা। তবে এ বিষয়ে এখনো সরকারিভাবে কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
অন্যদিকে, সম্প্রতি জাপানের সঙ্গে অনুষ্ঠিত ফরেন অফিস কনসালটেশনে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (পূর্ব) ড. মো. নজরুল ইসলাম।
দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক ও উচ্চ পর্যায়ের সফর নিয়ে ভবিষ্যতে আরও অগ্রগতি আশা করা হচ্ছে বলে ইঙ্গিত মিলেছে সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে।
২৯১ দিন আগে
আগস্টে বাংলাদেশ সফরে আসতে পারেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার করার লক্ষ্যে চলতি বছরের আগস্টের শেষ সপ্তাহে রাষ্ট্রীয় সফরে বাংলাদেশে আসতে পারেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি।
দুই দেশের কর্মকর্তারা সফরটি সফল করতে চূড়ান্ত প্রস্তুতির কাজ করছেন বলে ইউএনবিকে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট একটি কূটনৈতিক সূত্র।
এর আগে, চলতি মাসের শুরুতে বাংলাদেশ সফরে আসেন ইতালির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাত্তেও পিয়ান্তেদোসি। ৫ মে ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি।
বৈঠকে বৈধ উপায়ে বাংলাদেশ থেকে আরও জনশক্তি নেওয়ার পাশাপাশি নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করার কথাও জানান ইতালির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
এ সময় নিরাপদ ও বৈধ অভিবাসন, মানবপাচার প্রতিরোধ এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগসহ পারস্পরিক আগ্রহের বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করেন তারা।
আরও পড়ুন: আমরা কূটনীতিতে বিশ্বাসী, পুশ-ইন করি না: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
এছাড়া ঢাকার সঙ্গে রোমের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নবায়ন ও পুনরুজ্জীবিতকরণ নিয়েও আলোচনা করেন তারা। এ লক্ষ্যে, চলতি বছরের সেপ্টেম্বরের আগেই ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি বাংলাদেশ সফর করবেন বলে সে সময় জানান মাত্তেও।
অবৈধ অভিবাসন ও মানবপাচার রোধের মতো বিষয়ে বাংলাদেশও ইতালির সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী বলে ওই বৈঠকে মাত্তেওকে আশ্বস্ত করেন প্রধান উপদেষ্টা।
ড. ইউনূস বলেন, ‘ইতালিতে বসবাসরত বাংলাদেশিরা দেশটির প্রতি কৃতজ্ঞ। তারাও ইতালির প্রতি সন্তুষ্ট।’
ওই বৈঠকে গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ইতালির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার বৈঠকের কথাও উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা। বৈঠকে দুই দেশ একসঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বলে জানান তিনি।
২৯১ দিন আগে
বিদেশি নাগরিকত্ব থাকার দাবি প্রত্যাখ্যান খলিলুরের
বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে নিজের সব অধিকার ভোগ করার প্রস্তুত রয়েছেন বলে জানিয়েছেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান। এ সময়ে তার বিদেশি নাগরিকত্ব আছে বলে বিএনপির পক্ষ থেকে যে দাবি করা হয়েছে, তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেছেন।
রবিবার (১৮ মে) বার্তা সংস্থা ইউএনবিকে তিনি এমন কথা বলেন। জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা বলেন, ‘আমি একজন বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে আমার পূর্ণাঙ্গ অধিকার ভোগ করার জন্য প্রস্তুত রয়েছি।’
‘এই অভিযোগ যিনি করেছেন, তাকে সেটি প্রমাণ করতে হবে। প্রয়োজনে আাদলতের মাধ্যমে এটি প্রমাণ করতে হবে’, যোগ করেন তিনি।
এরআগে খুলনার সার্কিট হাউস মাঠে এক সমাবেশে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে উদ্দেশ্য করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আপনার সরকারে একজন বিদেশি নাগরিককে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা করেছেন। আপনার কি সেই আক্কেলজ্ঞান নেই—একজন বিদেশি নাগরিকের কাছে এই দেশের সেনাবাহিনী কীভাবে নিরাপত্তাসংক্রান্ত রিপোর্ট প্রদান করবে।’
আরও পড়ুন: আমাদের ঘাড়ের ওপর একটি গাজা বসে আছে: খলিলুর রহমান
‘তিনি রোহিঙ্গা করিডোরের নামে, মানবিক করিডোরের নামে বাংলাদেশকে যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত করতে চান। সেই জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাকে বিদায় করুন,’ যোগ করেন তিনি।
সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, ‘এই দেশে বন্দর, করিডোর—সব কিছু নাকি ইউনূস সরকারের অধিকারের মধ্যে পড়ে। বিদেশে আপনি কী কন্ট্রাক্ট করে এসেছেন জানি না। আপনি অবলীলাক্রমে বাংলাদেশের সমুদ্রবন্দর, নদীবন্দর, করিডোর সব বিদেশিদের কাছেন হস্তান্তর করবেন—কী চুক্তি করে এসেছেন? কী এখতিয়ার আছে আপনার? কী ম্যান্ডেট নিয়ে এসেছেন।
জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহামান ১৯৭৭ সালে প্রথম নিয়মিত বিসিএস পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করে ১৯৭৯ সালে কূটনৈতিক জীবন শুরু করেন। একই বছর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে প্রথম শ্রেণিতে এমএ ডিগ্রি অর্জন করেন এবং ফরেন সার্ভিসে যোগদানের আগে আমেরিকান এক্সপ্রেস ইন্টারন্যাশনাল ব্যাংকে অল্প সময়ের জন্য কাজ করেন।
আরও পড়ুন: আরাকানের যুদ্ধাবস্থা নিরসন করেই রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন: খলিলুর রহমান
তিনি ফ্লেচার স্কুল অফ ল অ্যান্ড ডিপ্লোমেসি, টাফটস বিশ্ববিদ্যালয় এবং কেনেডি স্কুল অফ গভর্নমেন্ট, হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন ও কূটনীতিতে এমএ এবং অর্থনীতিতে পিএইচডি অর্জন করেন।
তার কূটনৈতিক মেয়াদে তিনি বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, জাতিসংঘে স্থায়ী মিশন এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রীর একান্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও আর্থিক কমিটির স্বল্পোন্নত দেশগুলোর (এলডিসি) মুখপাত্র ছিলেন।
২৯২ দিন আগে
ভারতের আমদানি নিষেধাজ্ঞায় বিপাকে তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকরা
বাংলাদেশি কিছু পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে ভারতের স্থলবন্দর ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে রয়েছে, বাংলাদেশি তৈরি পোশাক ও কিছু খাদ্যপণ্য। ভারতের এ সিদ্ধান্তের ফলে বিপাকে পড়েছে দেশের শীর্ষস্থানীয় তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো।
প্রতিষ্ঠানগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের কঠোর সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও খারাপের দিকে ঠেলে দেবে।
বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল ইউএনবিকে বলেন, ‘এখন বাংলাদেশের পোশাক ভারতে পৌঁছাতে আগের চেয়ে বেশি সময় লাগবে। এতে খরচও বাড়বে। অর্থাৎ, (ভারতে পোশাক) রপ্তানি কিছুটা কমে যাবে।’
তিনি বলেন, ‘বিশ্ব বাণিজ্য যখন নানা সমস্যায় জর্জরিত, তখন এমন পাল্টাপাল্টি সিদ্ধান্ত উভয় পক্ষের ক্ষতির পরিমাণ বাড়াবে।’
আরও পড়ুন: দুই সমুদ্রবন্দর দিয়ে বাংলাদেশি তৈরি পোশাক আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা দিল ভারত
বাংলাদেশ প্রতি বছর গড়ে ৫০ কোটি ডলারের পণ্য ভারতে রপ্তানি করে বলে জানান বিজিএমইএর সাবেক এই পরিচালক। বলেন, ‘ভারত বাংলাদেশের বড় ক্রেতা দেশ এবং সেখানে বাংলাদেশি তৈরি পোশাকের বাজার বড় হচ্ছিল। এখন এই সিদ্ধান্ত নতুন করে আমাদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াল।’
ভারতের এই নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্তে ভুটান বা নেপালের ট্রানজিট পণ্য প্রভাবিত না হলেও সামগ্রিকভাবে ব্যবসায়িক সম্পর্কের ওপর এটি একটি নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে জানান তিনি।
এদিকে, রপ্তানিকারকরা বলছেন, শুধু তৈরি পোশাক নয়; ফলমূল, কার্বনেটেড বেভারেজ, প্লাস্টিক ও পিভিসি পণ্য, কাঠের আসবাবপত্রসহ বেশ কিছু পণ্যের ওপরও ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় স্থলবন্দরগুলোতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় সার্বিকভাবে ব্যবসা ও আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা থাকছেই।
শনিবার ভারতের বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের বৈদেশিক বাণিজ্য অধিদপ্তর (ডিজিএফটি) এক বিবৃতিতে জানায়, বাংলাদেশ থেকে কিছু পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিকভাবে নির্দিষ্ট বন্দর ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে এক কূটনৈতিক সূত্র ইউএনবিকে জানায়, বাংলাদেশের সমুদ্রবন্দর দিয়ে ভারতীয় তুলা আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং স্থলবন্দরগুলো বন্ধ করে দেওয়ার পর ভারত এই সিদ্ধান্ত নেয়।
তবে ভারত সরকারের ওই বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ভারতের বন্দর ব্যবহার করে নেপাল ও ভুটানে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে এ বিধিনিষেধ প্রযোজ্য হবে না।
ডিজিএফটির বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশ থেকে কোনো স্থলবন্দর দিয়ে তৈরি পোশাক আমদানি করা যাবে না। তবে ভারতের ব্যবসায়ীরা কেবল কলকাতা ও মুম্বাইয়ের নবসেবা সমুদ্রবন্দর ব্যবহার করে বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক আমদানি করতে পারবেন।
আরও পড়ুন: আমরা কূটনীতিতে বিশ্বাসী, পুশ-ইন করি না: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
এতে আরও উল্লেখ করা হয়, অবিলম্বে নতুন এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে।
পাশাপাশি ভারতের আসাম, মেঘালয়, ত্রিপুরা ও মিজোরাম ল্যান্ড কাস্টমস স্টেশন (এলসিএস)/ইন্টিগ্রেটেড চেকপোস্ট (আইসিপি) এবং পশ্চিমবঙ্গের চ্যাংড়াবান্ধা ও ফুলবাড়ী শুল্ক স্টেশন দিয়ে ফল এবং ফলের স্বাদযুক্ত পানীয়, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, প্লাস্টিক পণ্য ইত্যাদি রপ্তানি করা যাবে না।
তবে মাছ, তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি), ভোজ্যতেল ও ভাঙা পাথর নিষেধাজ্ঞার আওতায় রাখেনি ভারত।
২৯২ দিন আগে
বন্দর দিয়ে বাংলাদেশি তৈরি পোশাক আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা দিল ভারত
বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক (আরএমজি) ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্য সামগ্রীসহ কিছু পণ্য বন্দর দিয়ে আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ভারত। শনিবার (১৭ মে) দেশটির বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের বৈদেশিক বাণিজ্য অধিদপ্তর (ডিজিএফটি) এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা জারি করেছে।
বাংলাদেশ সমুদ্রবন্দর ও স্থল বন্দর দিয়ে ভারতীয় তুলা আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর ভারত এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে বলে একটি কূটনৈতিক সূত্র ইউএনবিকে জানিয়েছে।আরও পড়ুন: আমরা কূটনীতিতে বিশ্বাসী, পুশ-ইন করি না: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
তবে, ভারত সরকার জানিয়েছে, এই ধরনের বন্দর নিষেধাজ্ঞা ভারতের মধ্য দিয়ে পরিবহনকারী বাংলাদেশি পণ্যের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না, যা নেপাল ও ভুটানের উদ্দেশে পাঠানো হয়। এই নির্দেশিকা অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে।
কোনো স্থল বন্দর দিয়ে বাংলাদেশ থেকে সকল ধরণের তৈরি পোশাক আমদানির অনুমতি দেওয়া হবে না। তবে, বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কেবল নাভা শেভা এবং কলকাতা সমুদ্রবন্দর দিয়েই আমদানির অনুমতি থাকবে।
ফল/ফলের স্বাদযুক্ত ও কার্বনেটেড পানীয়, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য সামগ্রী, তুলা ও সুতির সুতার বর্জ্য, প্লাস্টিক ও পিভিসি তৈরি পণ্য আমদানি, নিজস্ব শিল্পের জন্য ইনপুট তৈরি করে এমন রঙিন পদার্থ, রঙ, প্লাস্টিসাইজার, কাঠের আসবাবপত্র এবং অন্যান্য পণ্য আসাম, মেঘালয়, ত্রিপুরা ও মিজোরামের কোনো স্থল কাস্টমস স্টেশন (এলসিএস)/ ইন্টিগ্রেটেড চেক পোস্ট (আইসিপি) ও পশ্চিমবঙ্গের (এলসিএস) চ্যাংড়াবান্ধা ও ফুলবাড়ি দিয়ে আমদানির অনুমতি দেওয়া হবে না।
বাংলাদেশ থেকে মাছ, এলপিজি, ভোজ্যতেল এবং চূর্ণ পাথর আমদানির ক্ষেত্রে বন্দরের নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য নয়।
ভারতে বাংলাদেশি রপ্তানির একটি বড় অংশ হলো তৈরি পোশাক।
বর্তমানে তাদের মূলত চট্টগ্রাম হয়ে কলকাতা ও মুম্বাই- দুটি ভারতীয় বন্দরে আসতে হয়। এতে খরচ বেড়ে যায়।
গত মাসে তৎকালীন জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে সুতা আমদানি স্থগিত করেছে।
এতে বলা হয়েছে, বেনাপোল, ভোমরা, সোনামসজিদ, বাংলাবান্ধা ও বুড়িমারী স্থল বন্দর দিয়ে সুতা আমদানির আর অনুমতি দেওয়া হবে না।
ভারত থেকে সুতা আমদানির জন্য এই বন্দরগুলোই ছিল সহজ প্রবেশপথ।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শুরুতে বস্ত্র শিল্প মালিকদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ) স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে সুতা আমদানি বন্ধের দাবি জানায়।
২৯৩ দিন আগে
আমরা কূটনীতিতে বিশ্বাসী, পুশ-ইন করি না: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
আমরা কূটনৈতিক সমাধানে বিশ্বাসী, ভারতের মতো কাউকে পুশ-ইন করি না বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
শনিবার (১৭ মে) সকালে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার রায়মঙ্গল নদী ও বয়েসিং খালের সংযোগস্থলে ‘বয়েসিং ভাসমান বিওপি’ উদ্বোধন শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।‘বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে ভারতের পুশ-ইন সমস্যা প্রতিরোধে বাংলাদেশ কূটনৈতিক সমাধানে বিশ্বাসী। বাংলাদেশ সবসময় আন্তর্জাতিক আইন ও প্রটোকল অনুসরণ করে আসছে। আমরা এরইমধ্যে এ সমস্যা সমাধানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ভারতকে চিঠি লিখেছি,’ বলেন উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, ‘আমাদের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার রোহিঙ্গা সমস্যাবিষয়ক হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ খলিলুর রহমান এ সমস্যার সমাধানে কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছেন।’
‘বাংলাদেশি কেউ অবৈধভাবে ভারতে থাকলে তাদের যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পাঠানোর বিষয়ে ভারতীয় কতৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশে অবৈধ ভারতীয় নাগরিক থাকলেও তাদেরকে আমরা যথাযথ চ্যানেলের মাধ্যমে ফেরত পাঠাবো। সেজন্য ভারতীয় পক্ষকে বলা হয়েছে, তারাও যেন পুশ-ইন না করে যথাযথ চ্যানেলে ফেরত পাঠায়।’
তিনি জানান, ‘গতকাল ব্রাহ্মণবাড়িয়া সীমান্তে ভারত পুশ-ইনের চেষ্টা করেছে, যা বিজিবি, আনসার এবং স্থানীয় জনগণের সহায়তায় প্রতিহত করা হয়েছে।’
সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, ‘সীমান্ত এলাকায় সবাই সতর্ক থাকলে ভারত পুশ-ইন করতে পারবে না। ভারত গুজরাটে অবস্থিত একটি বাঙালি বস্তি ভেঙে দিয়েছে। সেখানে আমাদের দেশেরও কিছু রোহিঙ্গা গিয়েছিলো। ওই বস্তি ভেঙে দেওয়ার পরই মূলত পুশ-ইন শুরু হয়েছে।’
‘বাংলাদেশে পুশ-ইন করা ব্যক্তিদের মধ্যে জাতিসংঘ শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনারের (ইউএনএইচসিআর) কার্ডধারী কিছু রোহিঙ্গাও রয়েছেন। আবার যারা ভারতীয় রোহিঙ্গা তাদেরও পুশ-ইন করে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দিচ্ছে। সেজন্য আমরা একটা প্রতিবাদলিপি পাঠিয়েছি’, যোগ করেন তিনি।
আরও পড়ুন: টেকসই সংস্কারে বাংলাদেশকে সহযোগিতার আশ্বাস জাতিসংঘের
উপদেষ্টা আরও বলেন, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) এই ভাসমান বিওপি একটি অপারেশনাল প্লাটফর্ম, যা জলপথে সীমান্ত এলাকায় টহল ও নজরদারি জোরদার করবে। বয়েসিং ভাসমান বিওপি শুধু একটি স্থাপনা নয়, এটি একটি কৌশলগত নিরাপত্তা পদক্ষেপ। এটি সীমান্ত এলাকায় শান্তি, স্থিতিশীলতা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিতের লক্ষ্যে বিজিবির অঙ্গীকারের প্রতিফলন। এই উদ্যোগ সীমান্তে নতুন নিরাপত্তা সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার পথে অগ্রণী ভূমিকা রাখবে এবং কার্যকর সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় সহায়ক হবে বলে মন্তব্য করেন উপদেষ্টা।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, সীমান্তে কার্যকর জলভিত্তিক নজরদারি নিশ্চিত করতে বিজিবির অধীনে একটি বিশেষ রিভারাইন বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়ন গঠনের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে, যা ভবিষ্যতে সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে।উপদেষ্টা বলেন, সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ জলাভূমি ও নদীঘেরা সীমান্ত এলাকাগুলোতে স্থলপথে নিয়মিত টহল ও নিরাপত্তা বজায় রাখা কঠিন। এই ভাসমান বিওপি চোরাচালান, মানবপাচার, বনজসম্পদ লুণ্ঠন এবং সীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধে বিজিবিকে তাৎক্ষণিক ও কার্যকর প্রতিক্রিয়া নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে।
২৯৩ দিন আগে
টেকসই সংস্কারে বাংলাদেশকে সহযোগিতার আশ্বাস জাতিসংঘের
স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বাংলাদেশকে টেকসই সংস্কারে সহযোগিতা করতে জাতিসংঘ প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে সংস্থাটির আবাসিক সমন্বয়কারী গোয়েন লুইস।
বৃহস্পতিবার (১৫ মে) বাংলাদেশ সরকার ও জাতিসংঘ কান্ট্রি টিমের যৌথ স্টিয়ারিং কমিটির (জেএসসি) দ্বিবার্ষিক সভায় তিনি এ আশ্বাস দেন।
সভায় যৌথভাবে সভাপতিত্ব করেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী এবং গোয়েন লুইস। এতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও জাতিসংঘের জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
লুইস বলেন, ‘বাংলাদেশের এলডিসি তালিকা থেকে উত্তরণের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে টেকসই সংস্কার, জলবায়ু সহনশীলতা, অর্থনৈতিক রূপান্তর, জেন্ডার সমতা ও সমাজের কেউ যেন পিছিয়ে না পড়ে সেজন্য সহযোগিতা করতে জাতিসংঘ প্রস্তুত রয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের জন্য বিগত বছরটি চ্যালেঞ্জিং ছিল, যদিও এই সময়ে বাংলাদেশের মানুষ আত্মমর্যাদাবোধ ও দৃঢ়তা প্রদর্শন করেছে।’ এই সময়ে বাংলাদেশ ও জাতিসংঘের অংশীদারত্বের জন্য তিনি গর্ববোধ করেন উল্লেখ করে বলেন, ‘এই অংশীদারত্ব আমাদের যৌথ মূল্যবোধ ও আকাঙ্ক্ষার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।’
আরও পড়ুন: বাংলাদেশ-ভিয়েতনাম বাণিজ্য চুক্তি সই, শুল্কবাধা দূর করার পরামর্শ
বৈঠকে জাতিসংঘ টেকসই উন্নয়ন সহযোগিতা কাঠামোর (ইউএনএসডিসিএফ) বাস্তবায়ন মূল্যায়ন কর্মসূচির আওতায় ২০২৪ সালের বাংলাদেশের জাতিসংঘ কান্ট্রি রেজাল্ট রিপোর্ট প্রকাশ এবং আগামী বছরের জন্য কৌশলগত অগ্রাধিকার অনুমোদন করা হয়।
জাতিসংঘ ২০২৪ সালে উন্নয়ন কর্মসূচিতে ২১ কোটি ৫০ লাখ ডলার দিয়েছে বাংলাদেশকে। এই অর্থায়নের আওতায় উল্লেখযোগ্য কাজগুলো হচ্ছে— বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে মসৃণ উত্তরণ কৌশল তৈরিতে সহায়তা, বেসরকারি খাতের সঙ্গে অংশীদারত্বে ৪ হাজারের বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ১১৬টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের টার্নওভার উন্নত করতে সহায়তা এবং ১১ হাজারের বেশি তরুণ-তরুণীকে ডিজিটাল দক্ষতা প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা।
জাতিসংঘের এ সহায়তার আওতায় অন্তত ৪ কোটি মানুষ সামাজিক সুরক্ষা সেবা পেয়েছেন। এর মধ্যে শিশু সুরক্ষা কর্মসূচি থেকে উপকৃত হয়েছে ৫ লাখ ৮০ হাজার। এ ছাড়া সারা দেশে ৫৬ লাখ কিশোরীকে জরায়ুমুখের ক্যান্সার থেকে রক্ষা করার জন্য হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাসের টিকা দেওয়া হয়েছে। এতে দেশে ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সী মেয়েদের অন্তত ৯৩ শতাংশ টিকা পেয়েছে।
তাছাড়া জলবায়ু দুর্যোগে চিহ্নিত বছরে ৪ কোটি ৪০ লাখ ডলারের বন্যা ও ঘূর্ণিঝড় সহায়তা সমন্বয় করেছে সংস্থাটি। পাশাপাশি প্রায় ১৭ লাখ ২০ হাজার দুর্যোগকবলিত মানুষকে মানবিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে এবং ২০ লাখ মানুষের মধ্যে জলবায়ু ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করা হয়েছে।
অর্থ সহায়তার পাশাপাশি শাসনব্যবস্থা ও লিঙ্গ সমতার কাজের মাধ্যমে জাতিসংঘ গ্রামীণ এলাকার ৬৬ শতাংশ গ্রাম্য আদালত কার্যকর করতে সহায়তা করেছে। প্রায় ৬ কোটি ১০ লাখ মানুষের কাছে এই সেবা পৌঁছে গেছে। এ ছাড়া, যৌন হয়রানি প্রতিরোধ ও সুরক্ষা বিলকে সমর্থনের পাশাপাশি গার্হস্থ্য সহিংসতা আইন সংশোধনের পক্ষেও প্রচার চালিয়েছে জাতিসংঘ।
আরও পড়ুন: আলী রীয়াজের সঙ্গে হিউম্যান রাইটস প্রেসিডেন্টের বৈঠক
বৈঠকে সরকার অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা এক বছর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ায় জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখতে আনুষ্ঠানিকভাবে ইউএনএসডিসিএফ (২০২২-২০২৬) এক বছরের সম্প্রসারণের অনুমোদন দেয় জেএসসি।
বৈঠক শেষে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ঘোষণাপত্র এবং যুব সম্পৃক্ততা নিয়ে জাতিসংঘ কী কী কাজ করে থাকে, তা নিয়ে একটি সেশন হয়।
সভায় অংশগ্রহণকারীরা গত বছরের ‘সামিট অফ দ্য ফিউচারের’ ধারাবাহিকতায় তরুণদের কণ্ঠস্বর তুলে ধরেন এবং আন্তঃপ্রজন্ম সমতাকে জাতীয় নীতিমালার অগ্রাধিকার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়েও আলোচনা করেন।
এ সময় জাতিসংঘের চলমান অংশীদারত্বের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ইআরডি সচিব শাহরিয়ার কাদের। পাশাপাশি সম্প্রসারিত ইউএনএসডিসিএফ এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় করতে একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
শাহরিয়ার কাদের বলেন, ‘বাংলাদেশ ক্লাইমেট ডেভেলপমেন্ট পার্টনারশিপের মতো জলবায়ু অর্থায়ন প্ল্যাটফর্মের অগ্রগতিকে আমরা স্বাগত জানাই। এ ব্যাপারে জাতিসংঘ ও উন্নয়ন অংশীদারদের সমর্থন অব্যাহত থাকা প্রয়োজন।’
তিনি আরও বলেন, “প্রধান উপদেষ্টার ‘তিন শূন্য নীতির’ লক্ষ্য পূরণে যুবকদের কর্মসংস্থান, সামাজিক উদ্যোগ এবং প্রভাবভিত্তিক অর্থায়নকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। একই সঙ্গে পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা, স্থানীয় শাসনব্যবস্থা এবং আসন্ন সংস্কার ও নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘের কার্যকর সহায়তা জরুরি।”
এদিন সভা শেষে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরবর্তী পদক্ষেপে সম্মতি দেওয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে— চলতি বছেরের শেষ নাগাদ ইউএনএসডিসিএফের চূড়ান্ত বছর মূল্যায়নের সূচনা এবং এসডিজি বাস্তবায়ন ও এলডিসি উত্তরণে গতি আনার প্রতিশ্রুতি।
আরও পড়ুন: আ. লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করায় দিল্লির উদ্বেগ প্রকাশ, দ্রুত নির্বাচনের প্রত্যাশা
ইউএনএসডিসিএফ কাঠামোটি এসডিজি অর্জনে জাতিসংঘের পাঁচটি কৌশলগত অগ্রাধিকার নির্ধারণ করে। এর মধ্যে রয়েছে— অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন; সমতার ভিত্তিতে মানবসম্পদ উন্নয়ন ও কল্যাণ; টেকসই, সহনশীল ও উপযোগী পরিবেশ; রূপান্তর, অংশগ্রহণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সুশাসন এবং লিঙ্গ-সমতা ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা নির্মূল।
জেএসসির পরবর্তী সভা চলতি বছরের শেষ দিকে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের ঢাকা কার্যালয়।
২৯৪ দিন আগে
বাংলাদেশ-ভিয়েতনাম বাণিজ্য চুক্তি সই, শুল্কবাধা দূর করার পরামর্শ
বাংলাদেশ ও ভিয়েতনামের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণে উচ্চ শুল্ক (ট্যারিফ) বাধা দূরী করাসহ দুদেশের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি সই ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন ভিয়েতনামের শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক ডেপুটি মিনিস্টার ফ্যান থি থ্যাং।
বুধবার (১৪ মে) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে দি ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই) আয়োজিত ভিয়েতনাম-বাংলাদেশ বিজনেস ফোরাম ২০২৫–এ তিনি এ কথা বলেন।
ফোরামে ভিয়েতনামের ১৬ সদস্যের একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দল অংশগ্রহণ করেন। দলটির নেতৃত্ব দেন দেশটির ডেপুটি মিনিস্টার ফ্যান থি থ্যাং।
কৃষি, পর্যটন, ঔষধ, মৎস্য, তথ্য প্রযুক্তিসহ বেশকিছু শিল্পের বাণিজ্য সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে ফ্যান থি থ্যাং বলেন, ‘বাংলাদেশ ও ভিয়েতনাম উভয় দেশই একে অপরের পণ্যে উচ্চ শুল্ক (ট্যারিফ) আরোপ করে রেখেছে। দুদেশের মধ্যে ট্যারিফ ও নন-ট্যারিফ বাধা দূর করাসহ পরিবহন, যোগাযোগ ও লজিস্টিকস ব্যবস্থা সহজ করা গেলে অনাবিষ্কৃত খাতসমূহে বড় সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান তিনি।
এসময়, দু’দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান ও পারস্পরিক সহযোগিতা দৃঢ় করার পরামর্শ দেন তিনি।
আরও পড়ুন: হেল্পলাইন চালু হচ্ছে দেশের সব আদালতে
উভয় দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের জন্য শুল্ক প্রতিবন্ধকতা দূর করার কথা বলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আব্দুর রহিম খান। পাশাপাশি, দুই দেশের মধ্যে লেনদেন ব্যবস্থা আরও সহজ করার পরামর্শ দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে এফবিসিসিআই’র প্রশাসক মো. হাফিজুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ ও ভিয়েতনামের মধ্যে বিপুল বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্ভাবনা রয়েছে। এর একটি বড় অংশই অনাবিষ্কৃত রয়ে গেছে। এরপর অবকাঠামো উন্নয়ন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেন তিনি।
বাংলাদেশ ও ভিয়েতনামের মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে যৌথ উদ্যোগ ও পারস্পরিক সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরেন ঢাকায় নিযুক্ত ভিয়েতনামের রাষ্ট্রদূত গুয়েন মান কোং। প্রযুক্তি স্থানান্তর ও কারিগরি সহযোগিতার মাধ্যমে উভয় দেশে শিল্প ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের সুফল পেতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
এসময়, বাংলাদেশ ও ভিয়েতনামের মধ্যে বাণিজ্য-ভিসা সহজ করার আহ্বান জানান ভিয়েতনামে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ লুৎফর রহমান।
দুদেশের ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে যোগাযোগ ও অংশীদারত্ব আরও জোরদার করার গুরুত্ব তুলে ধরেন ভিয়েতনাম বিজনেস অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান ডো ভ্যান থ্রং।
অনুষ্ঠানে এফবিসিসিআই’র মহাসচিব মো. আলমগীর, এফবিসিসিআই’র সাবেক পরিচালক আব্দুল হক, নাসরিন ফাতেমা আউয়াল, ড. ফেরদৌসী রহমান, এফবিসিসিআই’র সহায়ক কমিটির সদস্য, সাধারণ পরিষদের সদস্য, ব্যবসায়ী নেতাসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
২৯৬ দিন আগে