রংপুর
রংপুরে ঘুষের টাকাসহ হাতেনাতে ধরা ইউএনও অফিসের কর্মচারী
জন্মনিবন্ধন সংশোধনের নামে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে রংপুরের পীরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কার্যালয়ের অফিস সহায়ক মমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার (১৯ মে) বিকেলে এক কলেজ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ঘুষের টাকা নেওয়ার সময় সাংবাদিকদের ক্যামেরায় হাতেনাতে ধরা পড়েন তিনি। নিজেকে বাঁচাতে এ সময় ঘটনাস্থল থেকে দৌড়ে পালিয়ে যান এই কর্মচারী।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী নাঈম ইসলামের দাবি, তার মায়ের জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর ব্যবহার করে অন্য কেউ জন্মনিবন্ধন করায় তিনি তা সংশোধনের জন্য ইউএনও কার্যালয়ে আবেদন করেন। কিন্তু গত চার-পাঁচ মাস ধরে তাকে ঘোরানো হচ্ছিল। একপর্যায়ে অফিস সহায়ক মমিনুল কাজটি করে দেওয়ার জন্য ১০ হাজার টাকা দাবি করেন। পরে ৩ হাজার টাকায় রফা হয়।
তিনি আরও বলেন, কথা অনুযায়ী মমিনুল টাকা নেওয়ার জন্য নাঈমকে বারবার ফোন দিতে থাকেন। অফিসের ভেতরে টাকা না নিয়ে তিনি নাঈমকে উপজেলা পরিষদের ফটক এবং পরে রেলওয়ে স্টেশনের পাশে ‘শিমুলতলা’ নামক নির্জন জায়গায় ডাকেন। সেখানে টাকা নেওয়ার সময় গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত হয়ে পরিচয় জানতে চাইলে মমিনুল নিজেকে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের কর্মচারী ‘মমিন’ বলে দাবি করেন। ঠিক সেই মুহূর্তেই মাইমুনা খাতুন নামে অন্য এক ভুক্তভোগী সেখানে উপস্থিত হয়ে মমিনুলের বিরুদ্ধে টাকা নেওয়ার সরাসরি অভিযোগ তোলেন। তখন আর কোনো উপায় না দেখে ‘টাকা ফেরত দেব’ বলে মমিনুল দৌড়ে পালিয়ে যান।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত অন্য ভুক্তভোগীরা জানান, মমিনুলের ঘুষ বাণিজ্য এখন ‘ওপেন সিক্রেট’।
গোলাপ মিয়া নামে এক ব্যক্তি জানান, ইউএনওর সই নেওয়ার কথা বলে তার কাছ থেকে টাকা নিলেও কাজ করে দেননি মমিনুল।
মাইমুনা খাতুন জানান, তিনি ৫০০ টাকা দিলেও মমিনুল আরও টাকা দাবি করেছিলেন এবং পরবর্তীতে তার মোবাইল নম্বরটি ব্লক করে দেন।
সেবাগ্রহীতাদের দাবি, মমিনুল প্রায়ই এভাবে টাকা হাতিয়ে নেন। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত মমিনুল ইসলামের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।
এ বিষয়ে পীরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জায়িদ ইমরুল মোজাক্কিন বলেন, জন্মনিবন্ধনের কোনো কাজ সরাসরি মমিনুলের হাতে নেই। সে মানুষকে বিভ্রান্ত করে টাকা নিয়েছে। কোনো অবস্থাতেই দুর্নীতি বা হয়রানি সহ্য করা হবে না। বিষয়টি তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
১৫ দিন আগে
গাইবান্ধায় অগ্নিকাণ্ডে ৮ দোকান ভস্মীভূত
গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলায় অগ্নিকাণ্ডে ৮টি দোকানঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আগুনে দোকানগুলোর মালামাল, আসবাবপত্র ও ব্যবসায়িক সরঞ্জাম পুড়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে হতাশা নেমে এসেছে।
বুধবার (২০ মে) ভোর ৪টার দিকে উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ফুলছড়ি হাটে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভোরে হাটের একটি দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই দাউ দাউ করে আগুন পাশের দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় আগুনের লেলিহান শিখা দেখে স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালান। পরে খবর পেয়ে ফুলছড়ি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করে। পরবর্তীতে সাঘাটার দুইটি ও গাইবান্ধার একটি ইউনিট মিলে প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, আগুনে ওষুধ, মুদি পণ্য, কাপড়, কসমেটিকস ও বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালামাল পুড়ে গেছে। এতে অনেক ব্যবসায়ী পথে বসার উপক্রম হয়েছেন।
ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক হিসেবে, অগ্নিকাণ্ডে আনুমানিক ৩৮ লাখ ১০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে আরও প্রায় ৭৩ লাখ ৫০ হাজার টাকার মালামাল উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী জেহাদ আলী বলেন, ‘ভোরে হঠাৎ খবর পাই, হাটে আগুন লেগেছে। ছুটে এসে দেখি, আমার দোকানসহ কয়েকটি দোকান আগুনে ছাই হয়ে গেছে। দোকানের সব মালামাল পুড়ে শেষ হয়ে গেছে। অনেক কষ্ট করে ব্যবসাটা দাঁড় করিয়েছিলাম, এখন কীভাবে আবার শুরু করব বুঝতে পারছি না।’
স্থানীয় ইউপি সদস্য জিহাদুর রহমান মওলা বলেন, আগুন লাগার খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসে এবং আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালায়। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। আগুনে ব্যবসায়ীদের অনেক বড় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
ফুলছড়ি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের পরিদর্শক নুর মোহাম্মদ বলেন, অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমাদের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। পরে পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় আরও ইউনিট যুক্ত করা হয়। প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় পাঁচটি ইউনিটের সমন্বিত অভিযানে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক গোলযোগ থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। তবে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় আশপাশের আরও বেশ কয়েকটি দোকান রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে।
১৫ দিন আগে
অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট সংকটে মধ্যপাড়া খনিতে পাথর উত্তোলন বন্ধ
অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটসহ বিস্ফোরক উপকরণের সংকটে দেশের একমাত্র ভূগর্ভস্থ কঠিন শিলা খনি মধ্যপাড়ায় আবারও পাথর উত্তোলন বন্ধ হয়ে গেছে।
মঙ্গলবার (১৯ মে) থেকে পাথর উত্তোলন কার্যক্রম বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জার্মানিয়া ট্রেস্ট কনসোর্টিয়াম (জিটিসি)।
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, আগামী জুনের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে থাইল্যান্ড থেকে অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট খনিতে পৌঁছালে পুনরায় পাথর উত্তোলন শুরু করা সম্ভব হবে।
মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের (এমজিএমসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী ডি এম জোবায়েদ হোসেন জানান, থাইল্যান্ড থেকে অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট আমদানি করা হচ্ছে। তবে চলমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে এসব উপকরণ আসতে বিলম্ব হচ্ছে।
তিনি বলেন, খনির অভ্যন্তরে পাথরের স্তর ভাঙতে অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের বিস্ফোরক প্রয়োজন হয়। খনিতে বছরে প্রায় ৫ থেকে ৬ কোটি টাকার বিস্ফোরক লাগে, যার পুরোটাই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। সরকারি নানা নিয়মনীতি অনুসরণ করায় আমদানি প্রক্রিয়াও দীর্ঘ হয়।
তিনি আরও জানান, অতীতেও বিস্ফোরক সংকটে একাধিকবার খনিতে উৎপাদন বন্ধ ছিল। এর আগে ২০১৪ সালে ২২ দিন, ২০১৫ সালে দুই মাস এবং ২০১৮ সালে সাত দিন পাথর উত্তোলন বন্ধ রাখতে হয়েছিল।
তবে পাথর উত্তোলন বন্ধ থাকলেও খনির রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম চালিয়ে যাবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জিটিসি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পাথর উত্তোলনের স্বার্থে আগে বিস্ফোরক আমদানির দায়িত্ব ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জিটিসিকে দেওয়া হয়েছিল। প্রতিষ্ঠানটি ২০২৪ সাল পর্যন্ত এ দায়িত্ব পালন করে এবং ওই সময়ে বিস্ফোরকের অভাবে এক দিনও উৎপাদন বন্ধ হয়নি।
তবে গত বছর থেকে খনি কর্তৃপক্ষ সরাসরি বিস্ফোরক আমদানি শুরু করে। সময়মতো আমদানি করতে না পারায় গত ৯ মাসে এ নিয়ে দুই দফা পাথর উত্তোলন বন্ধ হলো।
১৫ দিন আগে
গাইবান্ধায় সড়ক দুর্ঘটনায় রিকশাচালকসহ নিহত ২
গাইবান্ধা-দাড়িয়াপুর সড়কে পিকআপের ধাক্কায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালকসহ ২ জন নিহত হয়েছেন। এতে আহত হয়েছে আরও ৪ যাত্রী।
মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে সড়কের ঠাকুরের দীঘি নামক এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, সুন্দরগঞ্জ থেকে একটি মুরগিবাহী পিকআপ ঠাকুরের দীঘি নামক স্থানে পৌঁছালে একটি চাকা নষ্ট হয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাকে ধাক্কা দেয় পিকআপটি। এতে রিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে রাস্তার পাশে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই রিকশাচালক ফরিদ হোসেন নিহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পথে রুস্তম আলী নামের ওই রিকশার যাত্রী মারা যান। অপর আহত ৪ যাত্রীকে গাইবান্ধা আধুনিক হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন ।
নিহত রিকশাচালক গাইবান্ধা সদর উপজেলার আনালেরতাড়ি গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। আর রোস্তম আলীর বাড়ি সুন্দরগঞ্জ উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের ছাতনাবাড়ি গ্রামে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
১৬ দিন আগে
মাদক কারবারে জড়িয়ে চাকরি খুইয়েও থামেননি পুলিশ কর্মকর্তা
গাইবান্ধায় পুলিশের চাকরিচ্যুত সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মনির হোসেন ও তার গাড়ি চালককে আবারও বিপুল পরিমাণ মাদকসহ আটক করেছে ডিবি পুলিশ। অপরদিকে, মিন্টু মিয়া নামের এক মোটরসাইকেল আরোহীকে ৬৬৫ ইয়াবাসহ আটক করেছেন গাইবান্ধা র্যাব-৩-এর সদস্যরা।
শুক্রবার (১৫ মে) রাতে বোয়ালী ইউনিয়নের দক্ষিণ ফলিয়ার বাড়ি থেকে মনির হোসেনকে ৯২০ পিস ইয়াবাসহ আটক করা হয়।
গাইবান্ধা থানা পুলিশ জানায়, গাইবান্ধার বাাসিন্দা মনির হোসেন পুলিশের এএসআই হিসেবে চাকরিতে যোগদান করেন। চাকরিকালীন তিনি কুড়িগ্রাম, রংপুর, লালমনিরহাট, ঢাকা ও গাইবান্ধাসহ বিভিন্ন স্থানে কর্মরত ছিলেন। ২০১৬ ও ২০২২ সালে মাদকের বড় চালান বহন করার সময় মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের হাতে তিনি দুই দফায় গ্রেপ্তার হন। এ ব্যাপারে মনির হোসেনের বিরুদ্ধে থানায় মামলাও হয়। বিভাগীয় তদন্তের পর পুলিশের চাকরি থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
পুলিশ আরও জানায়, দীর্ঘদিন কারাভোগের পর তিনি গাইবান্ধায় বাড়িতে চলে আসেন। এরপর পুলিশের পরিচয় দিয়ে তিনি আবারও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। গোয়েন্দা পুলিশ খবর পেয়ে ওরিন কাউন্টারের সামনে থেকে ইয়াবাসহ তার গাড়ি চালককে আটক করে। পরে তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, গতকাল (শুক্রবার) রাতে ডিবি পুলিশ মনির হোসেনের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ৯২০ পিস ইয়াবাসহ তাকে আটক করা হয়।
অপরদিকে, গাইবান্ধা র্যাব-৩-এর সদস্যরা পলাশবাড়িতে মোটরসাইকেলআরোহী মিন্টু মিয়াকে ৬৬৫ ইয়াবাসহ আটক করেন। তার বাড়ি পলাশবাড়ি উপজেলার রাইতি গ্রামে।
এ ব্যাপারে গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মোত্তালিব সরকার জানান, আটক হওয়া মনির হোসেন পুলিশের এএসআই ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে পুলিশের চাকরির সুযোগ নিয়ে তিনি ইয়াবার ব্যবসা করে আসছিলেন। এ কারণে তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছিল। আবারও তিনি একই ঘটনায় আটক হয়েছেন।
১৯ দিন আগে
লালমনিরহাটে পানিতে ডুবে আপন দুই ভাই নিহত
লালমনিরহাটে তিস্তা নদীতে গোসল করতে গিয়ে পানিতে ডুবে আপন দুই ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে।
শনিবার (১৬ মে) দুপুরে সদর উপজেলার রাজপুর ইউনিয়নের সলেডি স্প্যার বাঁধ এলাকায় তিস্তা নদীতে ডুবে তারা নিহত হন।
নিহতরা হলেন— লালমনিরহাট সদর উপজেলার রাজপুর ইউনিয়নের খলাইঘাট নিম্ন মাধ্যমিকের প্রধান শিক্ষক রেজাউল ইসলামের ছেলে কলেজছাত্র সিফাত আহমেদ (১৮) ও নবম শ্রেণির ছাত্র স্বচ্ছ আহমেদ (১৪)। তারা দুই ভাই লালমনিরহাট ক্যান্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, বাড়ির পাশে তিস্তা নদীর চরাঞ্চলে অন্যান্য দিনের মতো আজ (শনিবার) সকালে গ্রামের সহপাঠীদের সঙ্গে খেলতে যান দুই ভাই সিফাত ও স্বচ্ছ। খেলা শেষে স্বচ্ছ তিস্তা নদীতে গোসলে নেমে গভীর পানিতে ডুবে যায়। ছোট ভাইকে বাঁচাতে নদীতে লাফ দিলে বড় ভাই সিফাতও ডুবে যান। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
রাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য ডাব্লু অধিকারী তাদের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে বলেন, এমন মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
লালমনিরহাট সদর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাদ আহমেদ বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ কর্মকর্তা পাঠানো হয়েছে। তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
১৯ দিন আগে
অবহেলায় রোগীর মৃত্যুর অভিযাগ, রংপুরে চিকিৎসকের ওপর হামলা
রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ‘চিকিৎসকের অবহেলায়’ দুর্ঘটনায় আহত এক বৃদ্ধ রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে হাসপাতালে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
বুধবার (১৩ মে) রাতে পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ ঘটনা ঘটে।
থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্বজন ও স্থানীয়রা চিকিৎসকের ওপর হামলা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পরে হাসপাতালে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
গতকাল (বুধবার) রাত ১০টার দিকে পীরগঞ্জ উপজেলার খেজমতপুর বাজার এলাকায় হাইওয়ে সড়ক পার হওয়ার সময় মোটরসাইকেলের ধাক্কায় আহত হন আব্দুর রউফ (৮০) নামের এক পথচারী। স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে দ্রুত পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক ডা. নাজমুন নাহার ও কমিউনিটি মেডিকেল কর্মকর্তা বাহারুল ইসলাম সময়মতো চিকিৎসা দেননি। তাদের দাবি, দীর্ঘ সময় অবহেলায় ফেলে রাখার কারণেই আব্দুর রউফের মৃত্যু হয়েছে।
রোগীর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তারা হাসপাতালের দায়িত্বরত চিকিৎসকের ওপর চড়াও হন। এ সময় হাসপাতালে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এ বিষয়ে ডা. নাজমুন নাহার বলেন, রোগীকে হাসপাতালে আনার পর প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তবে রোগীর অবস্থা গুরুতর ছিল। আমাদের ওপর হামলার ঘটনাটি দুঃখজনক।
২১ দিন আগে
লালমনিরহাটে বিএসএফের গুলিতে ঝরল আরও এক বাংলাদেশির প্রাণ
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী—বিএসএফের গুলিতে মো. খাদেমুল (২৫) নামে আরও এক বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) ভোরে উপজেলার বনচৌকি বিওপির আমঝোল সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত খাদেমুল ওই গ্রামের আমজাদ হোসেনের ছেলে ছিলেন।
স্থানীয়রা জানান, উপজেলার আমঝোল সীমান্তের ৯০৫/৬ এস নম্বর পিলার এলাকা হয়ে কয়েকজন বাংলাদেশি চোরাকারবারির সঙ্গে ভারতের ১৫০ গজ ভেতরে অনুপ্রবেশ করেন খাদেমুল হক। এ সময় বিএসএফের ৭৮ ব্যাটালিয়নের পাগলামারী ক্যাম্পের টহল দল তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে খাদেমুলের মুখ, বুক ও মাথায় আঘাত লাগে।
সহযোগীদের সহায়তায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় বাংলাদেশে ফিরে আসেন খাদেমুল। পরে স্থানীয় ও তার সহযোগীরা তাকে উদ্ধার করে রংপুরের একটি ক্লিনিকে ভর্তি করলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
লালমনিরহাট বিজিবির ১৫ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, গুলির কথা প্রাথমিকভাবে বিএসএফ অস্বীকার করেছে। এ ঘটনায় কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠকের আহ্বান করা হয়েছে। বৈঠকে বিষয়টি আরও নিশ্চিত হওয়া যাবে।
২১ দিন আগে
গাইবান্ধায় পাগলা কুকুরের কামড়ে এক সপ্তাহে ৫ জনের মৃত্যু
গাইবান্ধা, ১৪ মে (ইউএনবি)— গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় পাগলা কুকুরের কামড়ে সংক্রমিত হয়ে গত এক সপ্তাহে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভ্যাকসিন না থাকায় এলাকায় জলাতঙ্ক রোগের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
বুধবার (১৩ মে) সকালে রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সর্বশেষ ইয়াসমিন সুলতানা (৪০) নামের এক নারীর মৃত্যু হয়েছে।
নিহত ইয়াসমিন গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বজরা কঞ্চিবাড়ির বাসিন্দা।
কঞ্চিবাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান মনোয়ার আলম সরকার জানান, ২২ এপ্রিল সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কঞ্চিবাড়ি ও ছাপরহাটী ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে একটি পাগলা কুকুর কয়েকজনকে কামড়ে দেয়। এতে অন্তত ২ শিশু ও ২ নারীসহ ১৩ জন আক্রান্ত হয়। আক্রান্তদের প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে তাদের গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে ভ্যাকসিনের জন্য নিয়ে আসা হয়, কিন্তু সেখানে ভ্যাকসিন পাওয়া যায়নি। অর্থনৈতিক সংকটের কারণে দোকান থেকেও অনেকের ভ্যাকসিন কেনা সম্ভব হয়নি। এরপর তারা রমেক হাসপাতালে ভর্তি হন।
হাসপাতালে ভর্তি থাকাকালীন আক্রান্তদের মধ্যে জলাতঙ্কের উপসর্গ দেখা দেয়। জলাতঙ্কে আক্রান্ত হয়ে ৬ মে কঞ্চিবাড়ী গ্রামের খোকা রামের স্ত্রী নন্দ রানী ও নাইব উদ্দিনের ছেলে ফুলু মিয়া মারা যান। ৮ মে মারা যান রাজমিস্ত্রি রতনেশ্বর কুমার। এছাড়া চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার (১২ মে) সকালে আফরোজা বেগম (৫০) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়। সর্বশেষ গতকাল (বুধবার) মারা গেছেন ইয়াসমিন নামের এক নারী। বর্তমানে অসুস্থ অবস্থায় রমেক হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরে এসে ৯ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা সংকটাপন্ন।
এ ঘটনায় সুন্দরগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন থেকে সোমবার প্রত্যেক পরিবারকে ১০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেয়া হয়েছে ।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইফফাত জাহান তুলি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, নিহত ৫ জনের পরিবারকে ১০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। আরও যারা অসুস্থ অবস্থায় রয়েছেন, তাদের বিষয়ে খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে।
২১ দিন আগে
কোরবানির বাজার মাতাতে আসছে ‘কালা বাবু’ ও ‘ধলা বাবু’
আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে ঠাকুরগাঁওয়ে দুটি গরুকে ঘিরে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ। ‘কালা বাবু’ও ‘ধলা বাবু’ নামের বিশালাকৃতির এই দুই গরুর মোট ওজন প্রায় ৮৫ মণ। গরু দুটি দেখতে প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে খামারে ভিড় করছেন নানা বয়সী মানুষ। কেউ আসছেন কৌতূহলবশত, আবার কেউ আসছেন কোরবানির জন্য পছন্দের গরুটি কিনতে।
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ‘বিসমিল্লাহ অ্যাগ্রো ফার্মে’ বিশেষ পরিচর্যায় বেড়ে উঠেছে গরু দুটি।
খামারজুড়ে এখন যেন উৎসবমুখর পরিবেশ। বিশাল দেহের কারণে গরু দুটি ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনায় এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি পাশের জেলা থেকেও মানুষ ছুটে আসছেন ‘কালা বাবু’ ও ‘ধলা বাবু’কে একনজর দেখতে।
খামার সূত্রে জানা যায়, কয়েক বছর ধরে অত্যন্ত যত্নের সঙ্গে লালন পালন করা হয়েছে গরু দুটি। ফ্রিজিয়ান জাতের এই গরুগুলোকে প্রতিদিন নির্দিষ্ট খাদ্যতালিকা অনুযায়ী খাওয়ানো হয়। সবুজ ঘাস, ভুসি, খৈল, ভুট্টা ও খড়ের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের ফলমূলও খাওয়ানো হয়েছে তাদের।
খামারের কর্মীরা জানান, গরু দুটিকে কোনো ধরনের ক্ষতিকর ওষুধ বা ইনজেকশন ছাড়াই প্রাকৃতিক উপায়ে বড় করা হয়েছে।
খামারের এক কর্মচারী বলেন, সকালে গরু দুটিকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার পর বিশেষ খাবার দেওয়া হয়। দুপুর ও রাতেও আলাদা খাদ্যতালিকা মেনে খাওয়ানো হয়। গরমের কারণে নিয়মিত গোসল করানো এবং বিশ্রামের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
কোরবানির বাজারকে সামনে রেখে গরু দুটিকে সাজানো হয়েছে বিশেষভাবে। বর-কনের আদলে সাজসজ্জা করায় দর্শনার্থীদের আগ্রহ আরও বেড়েছে। গলায় রঙিন ফিতা, মাথায় অলংকার ও শরীরে নকশা করা কাপড় পরিয়ে আলাদা আকর্ষণ তৈরি করা হয়েছে। অনেকেই গরু দুটির সঙ্গে ছবি তুলছেন, ভিডিও করছেন এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছেন। তবে বিশাল আকৃতির কারণে গরু দুটি সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে খামারের শ্রমিকদের। দর্শনার্থীদের অনুরোধে মাঝে মাঝে খামারের বাইরে বের করা হলেও তখন বাড়তি সতর্কতা নিতে হচ্ছে। কয়েকজন শ্রমিক একসঙ্গে চেষ্টা করেও গরুগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করতে কষ্ট হচ্ছে বলে জানান তারা।
খামারের পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, তিন বছর ধরে অনেক যত্ন করে গরু দুটি বড় করেছি। কালা বাবুর চার দাঁত এবং ধলা বাবুর দুই দাঁত উঠেছে। প্রতিদিন নিয়মিত পরিচর্যা ও ভালো খাবার দেওয়ায় গরুগুলো এমন আকৃতি পেয়েছে। ক্রেতাদের সুবিধার জন্য ওজন অনুযায়ী প্রতি কেজি ৪৫০ টাকা দরে বিক্রি করা হবে।
তিনি আরও বলেন, অনেকেই শুধু দেখতে আসছেন। আবার অনেকে আগ্রহ নিয়ে দামও জানতে চাচ্ছেন। আমরা কোরবানির জন্য ভালো ও স্বাস্থ্যকর গরু মানুষের হাতে তুলে দিতে চাই।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. সাইদুর রহমান বলেন, কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে জেলায় পশু মোটাতাজাকরণে যাতে কেউ ক্ষতিকর ওষুধ ব্যবহার করতে না পারে, সে বিষয়ে আমাদের নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। খামারগুলো নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত পশু নিশ্চিত করতে প্রাণিসম্পদ বিভাগ কাজ করছে। এ সময়ে কালা বাবু ও ধলা বাবুর কথা তিনি জানেন বলে জানান।
২৩ দিন আগে