ময়মনসিংহ
ব্রহ্মপুত্র নদে গোসল করতে গিয়ে নিখোঁজ, একদিন পর মিলল শিক্ষার্থীর মরদেহ
ময়মনসিংহের গৌরীপুরে ব্রহ্মপুত্র নদে বন্ধুদের সঙ্গে গোসল করতে গিয়ে নিখোঁজের একদিন পর এক শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকালে উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদের বয়রা বাজার খেয়া ঘাট এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহতের নাম মোকরামিন হাসান রাফি (২৫)। তিনি বয়রা এলাকার আবুল হোসেনের ছেলে এবং ময়মনসিংহ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।
পুলিশ ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গতকাল (বুধবার) বিকেল ৩টার দিকে তিন বন্ধুর সঙ্গে ব্রহ্মপুত্র নদে গোসল করতে যান রাফি। একপর্যায়ে তারা সাঁতরে বেশি পানিতে চলে যান। এ সময় ধীরে ধীরে দুই বন্ধু সাঁতরে পাড়ে উঠতে পারলেও রাফি পানির স্রোতে পানিতে তলিয়ে যান। পরে নিজেরা খোঁজাখুজির পরও সন্ধান না পেয়ে ফায়ার সার্ভিসে খবর দিলে সন্ধ্যা পর্যন্ত পানিতে নেমে খোঁজাখুঁজি করে ডুবুরি দল, কিন্তু তাতেও সন্ধান পাওয়া যায়নি। রাত হয়ে যাওয়ার উদ্ধার কাজ স্থগিত রাখা হয়। এরপর আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে আবারও ফায়ারসার্ভিসের ডুবুরি দল উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।
নিহত রাফির ফুফাতো ভাই এখলাছুর রহমান বলেন, রাফি সাঁতার জানে। গোসলের একপর্যায়ে গভীর পানিতে চলে যাওয়ার পর সে পাড়ে ওঠার চেষ্টা চালাচ্ছিল, কিন্তু স্রোতের মধ্যে পড়ে শত চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয় সে। এরপর সে ধীরে ধীরে পানিতে তলিয়ে যায়।
তিনি আরও বলেন, রাফি খুব ভালো ছেলে ছিল। তার এই মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আজ (বৃস্পতিবার) জোহরের নামাজ শেষে নিজ বাড়িতে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে।
এ বিষয়ে গৌরীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবার কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ করেনি। ফলে এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যু মামলা হবে।
২০ ঘণ্টা আগে
মমেক হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু
হামের উপসর্গ নিয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে আইসোলেশন ওয়ার্ডে আজ শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এই হাসপাতালে মোট ৪৩ শিশুর মৃত্যু হলো।
এছাড়া এই সময়ে নতুন করে আরও ৩৮ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছে মোট ১১৬ শিশু। আইসোলেশন ওয়ার্ডে শয্যা সংকট থাকায় রোগীরা হাসপাতালের মেঝেতে ও বারান্দায় স্থান নিয়েছে।
হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডের ফোকালপারসন সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহা. গোলাম মাওলা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, হাসপাতালে আইসোলেশন ওয়ার্ডে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ৪ মাস ও সাড়ে ৩ মাস বয়সী দুই ছেলে শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
তিনি জানান, ২২ মে কিশোরগঞ্জের পূর্ব ঝিনাইর থেকে হামের লক্ষণ নিয়ে ৪ মাস বয়সী এক ছেলে শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি হয়। তাকে যথাযথ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৯মে সকালে হাম-পরবর্তী নিউমোনিয়া ও শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত ব্যর্থতায় শিশুটি মারা যায়।
অন্যদিকে, ২৫ মে ময়মনসিংহ সদরের আকুয়া থেকে হামের লক্ষণ নিয়ে সাড়ে তিন মাস বয়সী এক ছেলে শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি হয়। তাকে যথাযথ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছিল। এরই মধ্যে ২৯ মে সকালে হাম-পরবর্তী নিউমোনিয়া ও শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত ব্যর্থতায় তারও মৃত্যু হয়।
ডা. গোলাম মাওলা আরও জানান, গত ১৭ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামের লক্ষণ নিয়ে মোট ১ হাজার ৭০৮ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৫৪৯ শিশু সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে এবং ৪৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
তিনি বলেন, সর্বনিম্ন ৩ মাস থেকে ১০ বছর বয়সী রোগী হাসপাতালে ভর্তি আছে। তবে হাসপাতালে ৩ মাস থেকে ১ বছর বয়সী শিশুর সংখ্যা বেশি।
এ বিষয়ে মমেক হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান বলেন, তিনটি মেডিকেল টিম গঠন করে হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। সব রোগীদের যথাযথ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, এই হাসপাতালে লোকবল ও যন্ত্রপাতির অভাবে শিশুদের জন্য নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) এখনও চালু করা সম্ভব হয়নি । তবে বর্তমানে বাবল সিপ্যাপের মাধ্যমে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
৫ দিন আগে
ময়মনসিংহে পিকআপ-অটোরিকশা সংঘর্ষে বাবা-ছেলে নিহত
ময়মনসিংহ সদর উপজেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় এক পরিবারের দুই সদস্য নিহত হয়েছেন। সম্পর্কে তারা বাবা ও ছেলে ছিলেন।
শনিবার (৩০ মে) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ময়মনসিংহ-শেরপুর অঞ্চলিক সড়কের ময়মনসিংহ সদর উপজেলার আলালপুরে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— ফুলপুর উপজেলার বাঁশতলা গ্রামের জাহাঙ্গীর (৩৮) ও তার চার বছরের ছেলে রোহান। তারা সিএনজিচালিত অটোরিকশার যাত্রী ছিলেন। তারা ঢাকা থেকে বাড়ি ফিরছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
কোতোয়ালী মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফরিদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, যাত্রীবাহী অটোরিকশাটি ফুলপুরের দিকে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে ময়মনসিংহ-ফুলপুর সড়কের আলালপুর নামক এলাকায় পৌঁছাতেই বিপরীত দিক থেকে আসা পিকআপের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই অটোরিকশায় থাকা ও ব্যক্তি ও তার ছেলে নিহত হন।
এসআই ফরিদ বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে মরদেহ উদ্ধার করেছি। সড়কের যানজট নিয়ন্ত্রণে কাজ করছি। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
৫ দিন আগে
মমেক হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু
হামের উপসর্গ নিয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে আইসোলেশন ওয়ার্ডে আজ বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এই হাসপাতালে মোট ৪১ শিশুর মৃত্যু হলো।
এছাড়া এই সময়ে নতুন করে আরও ১৪ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছে মোট ৪৭ শিশু। আইসোলেশন ওয়ার্ডে শয্যা সংকট থাকায় রোগীরা হাসপাতালের মেঝেতে ও বারান্দায় স্থান নিয়েছে।
হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডের ফোকালপারসন সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহা. গোলাম মাওলা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, হাসপাতালে আইসোলেশন ওয়ার্ডে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ১৭ মাস ও ৮ মাস বয়সী দুই ছেলে শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
তিনি জানান, গত ২০ মে নেত্রকোনার পূর্বধলা থেকে হামের লক্ষণ নিয়ে ১৭ মাস বয়সী এক ছেলে শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাকে যথাযথ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৬ মে রাতে হাম-পরবর্তী নিউমোনিয়া ও শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত ব্যর্থতায় শিশুটি মারা যায়।
অন্যদিকে, ১৬ মে নেত্রকোনার কলমাকান্দা থেকে হামের লক্ষণ নিয়ে ৮ মাস বয়সী এক ছেলে শিশুকে হাসপাতালে করা ভর্তি হয়। তাকেও যথাযথ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছিল। ২৬ মে রাতে হাম-পরবর্তী নিউমোনিয়া ও শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত ব্যর্থতায় তারও মৃত্যু হয় বলে জানান তিনি।
ডা. গোলাম মাওলা আরও জানান, গত ১৭ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামের লক্ষণ নিয়ে মোট ১ হাজার ৬২৩ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৫৩৫ শিশু সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে এবং ৪১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ২৮ শিশু সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।
তিনি বলেন, সর্বনিম্ন ৩ মাস থেকে ১০ বছর বয়সী রোগী হাসপাতালে ভর্তি আছে। তবে হাসপাতালে ৩ মাস থেকে ১ বছর বয়সী শিশুর সংখ্যা বেশি।
এ বিষয়ে মমেক হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান বলেন, তিনটি মেডিকেল টিম গঠন করে হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। সব রোগীদের যথাযথ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, এই হাসপাতালে লোকবল ও যন্ত্রপাতির অভাবে শিশুদের জন্য নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) এখনও চালু করা সম্ভব হয়নি । তবে বর্তমানে বাবল সিপ্যাপের মাধ্যমে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
৮ দিন আগে
হামের উপসর্গ নিয়ে মমেকে আরও এক শিশুর মৃত্যু
হামের উপসর্গ নিয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে আইসোলেশন ওয়ার্ডে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এই হাসপাতালে মোট ৩৭ শিশুর মৃত্যু হলো।
এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ১৪ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছে মোট ৭৭ শিশু। আইসোলেশন ওয়ার্ডে শয্যা সংকট থাকায় রোগীরা হাসপাতালের মেঝেতে ও বারান্দায় স্থান নিয়েছে।
হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডের ফোকালপারসন সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহা. গোলাম মাওলা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, গত ১৩ মে ময়মনসিংহ সদরের মির্জাপুর থেকে হামের লক্ষণ নিয়ে ১১ মাস বয়সী এক ছেলে শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাকে যথাযথ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রবিবার (২৫ মে) দুপুরে হাম-পরবর্তী নিউমোনিয়া ও শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত জটিলতায় শিশুটি মারা যায়।
তিনি আরও বলেন, গত ১৭ মার্চ থেকে সোমবার (২৬ এপ্রিল) সকাল ৯টা পর্যন্ত হামের লক্ষণ নিয়ে এ হাসপাতালে মোট ১ হাজার ৫৯৩ টি শিশু ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে ৪৭৯ টি শিশু সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে এবং ৩৭টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৪৬টি শিশু সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে।
তিনি বলেন, হাম ও আমের উপসর্গ নিয়ে বর্তমানে হাসপাতালে সর্বনিম্ন ৩ মাস থেকে ১০ বছর বয়সী রোগী ভর্তি আছে। তবে ৩ মাস থেকে ১ বছর বয়সী শিশুর সংখ্যা বেশি।
এ বিষয়ে মমেক হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান বলেন, তিনটি মেডিকেল টিম গঠন করে হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। সব রোগীদের যথাযথ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, এই হাসপাতালে লোকবল ও যন্ত্রপাতির অভাবে শিশুদের জন্য নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) এখনও চালু করা সম্ভব হয়নি। তবে বর্তমানে বাবল সিপ্যাপের মাধ্যমে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
১০ দিন আগে
শেরপুরে পৃথক ধর্ষণের অভিযোগ: যুবককে পিটুনি, পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীর গর্ভপাতের ঘটনায় আটক ১
শেরপুর শহরে গৃহবধু ও পঞ্চম শ্রেণি পড়ুয়া স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে পৃথক দুটি মামলা হয়েছে।
সজবরখিলা এলাকার ঘটনায় গৃহবধুকে ধর্ষণের অভিযোগে এনামুল হোসেন নামে এক যুবককে স্থানীয় আটক করে পিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে জনতা।
অপরদিকে, শহরের ঢাকলহাটি মহল্লায় পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের ফলে অন্তঃসত্ত্বা হওয়ায় গর্ভপাতের অভিযোগে একটি মামলা হয়েছে। ওই ঘটনায় মুল অভিযুক্তকে আটক করতে না পারলেও মামলার অপর আসামি সুন্নত আলী সন্তু (৬০) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।
শনিবার (২৩ মে) শহরের সজবরখিলা ও ঢাকলহাটি এলাকায় এ ঘটনা দুটি ঘটে। ধর্ষণের এসব ঘটনায় শহরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় বয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, গতকাল (শনিবার) রাত ১০টার দিকে শহরের সজবরখিলা এলাকার মোবারক মিয়ার ছেলে এনামুল হোসেনকে স্থানীয় জনতা এক গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে আটক করে পিটুনি দেয়। সংবাদ পেয়ে সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে হাজির হয়ে এনামুলকে হেফাজতে নেয়। পরে তার শাস্তির দাবিতে শহরে বিক্ষোভও করে এলাকাবাসী।
অভিযোগ থেকে জানা গেছে, ভুক্তভোগী গৃহবধূ স্বামীর সঙ্গে এনামুলের বাসায় গত ৫ মাস ধরে ভাড়া রয়েছেন। বেশ কিছুদিন ধরে এনামুল ওই গৃহবধূকে মেসেঞ্জারে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। বিষয়টি তিনি তার স্বামীকে জানালে পরিবার ও স্থানীয়দের উপস্থিতিতে এনামুলকে সতর্কও করা হয়। এরপর থেকেই এনামুল ওই গৃহবধুর প্রতি ক্ষুব্ধ ছিলেন। এর জেরেই গতকাল দুপুরে বাড়িতে ওই গৃহবধূর স্বামীর অনুপস্থিতির সুযোগে এনামুল ঘরে প্রবেশ করে মুখ চেপে ধরে তাকে ধর্ষণ করেন। পরে বিষয়টি গৃহবধু তার স্বামী ও পরিবারের সদস্যদের জানান। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে রাতে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী এনামুলকে আটক করে পিটুনি দিয়ে পুলিশে দেয়।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাসরিন আক্তার বলেছেন, ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে অভিযুক্তকে থানায় নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
শেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা জানান, জনতার কাছ থেকে এনামুলকে উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়েছে। ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ দেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে, শহরের ঢাকলহাটি মহল্লায় পঞ্চম শ্রেণি পড়ুয়া এক ছাত্রীকে (১২) ধর্ষণ এবং পরবর্তীতে অন্তঃসত্ত্বা হওয়ায় গর্ভপাতের অভিযোগ উঠেছে। গতকাল (শনিবার) নির্যাতনের শিকার ওই শিশুর পরিবার বাদী হয়ে স্থানীয় যুবক কাউছার ওরফে কায়েস (২৪), সুন্নত আলী সন্তুসহ (৬০) আরও কয়েকজনের নামে সদর থানায় মামলা করেছেন।
ভুক্তভোগীর পরিবার ও মামলার বিবরণে জানা গেছে, শিশুটিকে বিভিন্ন সময় স্থানীয় কাউছার মিয়া ফুসলিয়ে ধর্ষণ করেন। একাধিকবার এমন নিপীড়নে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে শিশুটি। পরে ভুক্তভোগীর শারীরিক গঠনে পরিবর্তন এলে কাউসার মিয়া অন্যান্য আসামিদের সহযোগিতায় তার গর্ভপাত করান। এ সময় শিশুটির ব্যাপক রক্তক্ষরণ হলে অসুস্থ হয়ে পড়ে।
এদিকে, বিষয়টি ধামাচাপা দিতে একটি মহল চাপ প্রয়োগ করে। পরে গত শুক্রবার শিশুটির মা আশঙ্কাজনক অবস্থায় শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে তাকে ভর্তি করান।
ভুক্তভোগী শিশুর মা বলেন, আমার মেয়েকে ফুসলিয়ে ধর্ষণ করেছে, এরপর গর্ভপাত করানোর ফলে মেয়ের প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে। এখন আমার মেয়ে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে আছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই। অপরাধীর শাস্তি চাই।
শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. তাহেরাতুল আশরাফী বলেন, ১২ বছরের একটি কন্যাশিশু স্ত্রীরোগ-সংক্রান্ত জটিলতায় গাইনি বিভাগে ভর্তি রয়েছে। শিশুটি বর্তমানে স্থিতিশীল অবস্থায় আছে এবং চিকিৎসা চলছে। যেহেতু এটি পুলিশ কেস, সে কারণে মেডিকেল বোর্ড গঠন করে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
শেরপুর সদর থানার ওসি সোহেল রানা বলেন, শেরপুর পৌর শহরের একটি মহল্লায় শিশুকে ধর্ষণ ও গর্ভপাতের অভিযোগে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় এক আসামিকে গ্রেপ্তার করে গতকাল বিকেলে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। আদালতের বিচারক তাকে জেলা কারাগারে পাঠিয়েছেন। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারেও অভিযান চলছে।
১১ দিন আগে
মমেক হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও এক শিশুর মৃত্যু
হামের উপসর্গ নিয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে আইসোলেশন ওয়ার্ডে গত চব্বিশ ঘণ্টায় আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এই হাসপাতালে মোট ৩৬ শিশুর মৃত্যু হলো।
রবিবার (২৪ মে) হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডের ফোকালপারসন সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহা. গোলাম মাওলা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, হাসপাতালে আইসোলেশন ওয়ার্ডে গত চব্বিশ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ৪ বছর বয়সের আরও এক ছেলে শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
ডা. গোলাম মাওলা জানান, ২০ মে ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ার পাহাড় অনন্তপুর থেকে হামের লক্ষণ নিয়ে ৪ বছর বয়সী এই শিশুটি হাসপাতালে ভর্তি হয়। তাকে যথাযথ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছিল। এরই মধ্যে গতকাল (শনিবার) সকালে হাম-পরবর্তী নিউমোনিয়া ও শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত ব্যর্থতায় শিশুটি মারা যায়।
তিনি বলেন, গত ১৭ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামের লক্ষণ নিয়ে মোট ১ হাজার ৫৭৯ শিশু মমেক হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ১ হাজার ৪৮১ শিশু আর মৃত্যু হয়েছে ৩৬ শিশুর। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে আরও ৪৬ শিশু। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ১৯ শিশু ভর্তি হয়েছে। এ নিয়ে সেখানে বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছে মোট ৭২ শিশু। আইসোলেশন ওয়ার্ডে শয্যা সংকট থাকায় রোগীরা হাসপাতালের মেঝেতে ও বারান্দায় স্থান নিয়েছে।
তিনি বলেন, সর্বনিম্ন ৩ মাস থেকে ১০ বছর বয়সী রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। তবে হাসপাতালে ৩ মাস থেকে ১ বছর বয়সী শিশুর সংখ্যা বেশি।
এ বিষয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান বলেন, তিনটি মেডিকেল টিম গঠন করে হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। সব রোগীদের যথাযথ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে।
তিন আরও বলেন, এই হাসপাতালে লোকবল ও যন্ত্রপাতির অভাবে শিশুদের আইসিইউ এখনও চালু করা সম্ভব হয়নি। তবে বর্তমানে বাবল সিপ্যাপেই চালানো হচ্ছে চিকিৎসা।
১১ দিন আগে
নেত্রকোনায় চাঁদাবাজির মামলায় যুবদল নেতাসহ গ্রেপ্তার ৩
নেত্রকোনার দুর্গাপুরে ব্যবসায়ীকে প্রাণনাশের হুমকি ও চাঁদা দাবির অভিযোগে করা মামলার আসামি যুবদল নেতা মেহেদী হাসান ওরফে সাহসসহ (৩০) তার দুই সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৯ মে) গভীর রাতে রাজধানীর উত্তরা দিয়াবাড়ি এলাকা থেকে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে। বুধবার (২০ মে) বিকেলে আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।
গ্রেপ্তার মেহেদী হাসান দুর্গাপুর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও পৌরসভার পশ্চিম মোক্তারপাড়া এলাকার বাসিন্দা মঞ্জুরুল হকের ছেলে। অন্য দুজন হলেন বাগিচাপাড়া এলাকার হাসু মিয়ার ছেলে রাসেল মিয়া (৩০) এবং সাধুপাড়া এলাকার মো. মেহেদী (২৮)।
এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা, মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে থানায় হত্যাসহ একাধিক ফৌজদারি মামলা রয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তিনি দলীয় প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পৌরসভার নাজিরপুর মোড়ে ‘ভাই ভাই এন্ড জনতা হোটেলে’ তার সহযোগীদের নিয়ে বাকিতে খাবার খেতেন। গত ৪ এপ্রিল রাতে খাবার খেতে এসে হোটেলের মালিক ও কর্মচারীদের সঙ্গে তিনি উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তারা চলে যান। এরপরও ভয়ভীতি দেখিয়ে বাকিতে খাবার খেতে থাকেন। গত ৩০ এপ্রিল দিবাগত রাত ১টার দিকে তিনি তার প্রায় ১৫ জন সহযোগী নিয়ে ওই হোটেলে গিয়ে খাবার খান। পরে হোটেল কর্তৃপক্ষ বকেয়া মিলিয়ে প্রায় ১ লাখ টাকা বিল চান। এতে মেহেদী হাসান ক্ষিপ্ত হয়ে হোটেলের মালিক ও কর্মচারীদের মারধরসহ প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে উল্টো দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। এ নিয়ে মামলা বা পুলিশকে জানানোর ব্যাপারে নিষেধ করা হয়। ভয়ে হোটেলমালিক তিন দিন প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখেন। পরে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নুরুল ইসলাম বাদী হয়ে মেহেদী হাসানকে প্রধান আসামি করে তার ৮ জন সহযোগীর নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও আটজনের নামে মামলা করেন। গতকাল রাতে পুলিশ মেহেদী হাসানসহ তিনজন আসামিকে গ্রেপ্তার করে।
হোটেলমালিক খোকন মিয়া বলেন, মেহেদী হাসান বিভিন্ন সময় তার সহযোগীদের নিয়ে আমার হোটেলে খেয়ে এক লাখ টাকা বকেয়া করেন। টাকা চাইতে গেলেই তিনি উচ্ছৃঙ্খল আচরণ, প্রাণনাশসহ নানা ধরনের হুমকি দেন। ওই দিন গভীর রাতে খাবার খাওয়ার পর আমার ম্যানেজার টাকা চাইলে তিনি উল্টো দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। ব্যবসা করতে হলে তাকে চাঁদা দিয়ে করতে হবে বলে জানান। তাই খুন-জখমের ভয়ে তিন দিন হোটেল বন্ধ রাখা হয়। তার ভয়ে এলাকার মানুষ আতঙ্কিত ও অতিষ্ঠ হয়ে যাচ্ছে। পরে এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করে।
এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. শহীদুল্লাহ বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গতকাল গভীর রাতে ঢাকার উত্তরা দিয়াবাড়ি এলাকা থেকে মেহেদী হাসান সাহসসহ তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার আদালতের নির্দেশে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের অভিযান চলছে।
১৪ দিন আগে
ময়মনসিংহে গাছের সঙ্গে বাঁধা অজ্ঞাত যুবকের মস্তকবিহীন মরদেহ উদ্ধার
ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে গাছের সঙ্গে বাঁধা এক যুবকের মস্তকবিহীন মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) দুপুরে উপজেলার মশাখালী ইউনিয়নের দরিচারবাড়িয়া গ্রামের শাহ ভিটা নামকস্থান থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিকভাবে পুলিশ ধারণা করছে, বুধবার (২০ মে) রাতের কোনো এক সময় নির্জন জঙ্গলে দুর্বৃত্তরা এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। নিহত যুবকের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তার বয়স আনুমানিক ৩০ থেকে ৩৫ বছর।
পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, গতকাল (বৃহস্পতিবার) সকালে উপজেলার মশাখালী ইউনিয়নের দরিচারবাড়িয়া গ্রামের এক যুবক প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে পরিত্যক্ত শাহ ভিটার জঙ্গলে যান। এ সময় জঙ্গলের ভেতরে একটি জামগাছের সঙ্গে হাত বাঁধা অবস্থায় এক যুবকের মস্তকবিহীন মরদেহ দেখতে পান তিনি। পরে তিনি স্থানীয়দের খবর দেন। স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ দেখতে পান। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানান তারা। নিহত যুবকের পরণের শার্ট ও গেঞ্জি দিয়ে গাছের সঙ্গে দুই হাত বাঁধা ছিল। তার পরণে প্যান্ট ছিল এবং বাঁ হাতে ঘড়ি পাওয়া গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা নুরুল কবির জানান, এ ঘটনার বেশ কয়েক বছর আগে এখানে আরও একটি হত্যার ঘটনা ঘটেছিল। এ ঘটনায় এলাকার মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
গফরগাঁও সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মনোতোষ পাল জানান, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে নিহত ওই যুবকের পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
১৪ দিন আগে
মমেক হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও এক শিশুর মৃত্যু
হামের উপসর্গ নিয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে আইসোলেশন ওয়ার্ডে গত ২৪ ঘন্টায় আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এই হাসপাতালে মোট ৩৪ শিশুর মৃত্যু হলো।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল ৮ টা থেকে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ৩৪ শিশু ভর্তি হয়েছে। এ নিয়ে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছে মোট ১০৪টি শিশু। আইসোলেশন ওয়ার্ডে শয্যা সংকট থাকায় রোগীরা হাসপাতালের মেঝেতে ও বারান্দায় স্থান নিয়েছে।
হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডের ফোকালপারসন সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহা. গোলাম মাওলা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, হাসপাতালে আইসোলেশন ওয়ার্ডে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ৯ মাস বয়সের আরও এক ছেলে শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
তিনি জানান, রবিবার (১৭ মে) ময়মনসিংহের ভালুকা থেকে হামের লক্ষণ নিয়ে ৮ মাস বয়সী এক ছেলে শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তি হয়। তাকে যথাযথ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছিল। এরই মধ্যে আজ (মঙ্গলবার) সকালে হাম-পরবর্তী নিউমোনিয়া ও শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত ব্যর্থতায় শিশুটি মারা যায়।
তিনি বলেন, গত রবিবার থেকে এ পর্যন্ত হামের লক্ষণ নিয়ে মোট ১ হাজার ৪৫২ শিশু ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ১ হাজার ৩১৪ শিশু আর মৃত্যু হয়েছে ৩৪ শিশুর। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে আরও ২০ শিশু।
গোলাম মাওলা বলেন, সর্বনিম্ন ৩ মাস থেকে ১০ বছর বয়সী রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। তবে হাসপাতালে ৩ মাস থেকে ১ বছর বয়সী শিশুর সংখ্যা বেশি।
এ বিষয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান বলেন, ৩টি মেডিকেল টিম গঠন করে হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। সব রোগীদের যথাযথ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, এই হাসপাতালে লোকবল ও যন্ত্রপাতির অভাবে শিশুদের আইসিইউ এখনও চালু করা সম্ভব হয়নি । তবে বর্তমানে বাবল সিপ্যাপই চালানো হচ্ছে চিকিৎসায়।
১৬ দিন আগে