বিএনপি
৫ আগস্টের আগের পরিস্থিতিতে ফিরতে চাই না: তারেক রহমান
স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের জন্য কাজ করলে জাতিকে সঠিক পথে নেওয়া সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, মতপার্থক্য যেন মতবিভেদে পরিণত না হয়। মতপার্থক্য থাকলেও আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে। আমরা ৫ আগস্টের আগের পরিস্থিতিতে ফিরতে চাই না।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুরে বনানীর হোটেল শেরাটনে সংবাদমাধ্যমের সম্পাদকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।
অনুষ্ঠানের শুরু থেকে দেশের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে যেন সেগুলোর সমাধানে মনোযোগ দেয়, সে বিষয়ে নিজেদের বক্তব্যে তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন সম্পাদকেরা।
নিজের বক্তব্যে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, অতিথিদের বক্তব্য থেকে কয়েকটি বিষয় ফুটে উঠেছে।… একজন বক্তা বলেছেন যে আগামী দিন, অর্থাৎ আমাদের ভবিষ্যৎ কেমন হবে। আমরা অবশ্যই আর ৫ আগস্টের আগে (আগের পরিস্থিতিতে) ফিরে যেতে চাই না। আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়ার কোনো কারণ নেই আমাদের।
তিনি বলেন, হিংসা, প্রতিশোধ, প্রতিহিংসার কারণে একটি মানুষ, একটি দলের কী পরিণতি হতে পারে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তা আমরা দেখেছি। তাই আমি সবাইকে অনুরোধ করব, আমাদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও সেটিকে পাশে রেখে আলোচনার মাধ্যমে অনেক সমস্যার সমাধান আমরা বের করে আনতে সক্ষম হব।
কোনোভাবেই মতপার্থক্য যেন মতবিভেদের পর্যায়ে চলে না যায়। বিভেদের মাধ্যমে জাতিকে বিভক্ত করে ফেললে কী হতে পারে, আমরা দেখেছি। আজকে আমরা অনেক বিভেদ, হতাশার কথা শুনি। তবে হতাশা থাকলেও অনেক পরিকল্পনাও কিন্তু আছে বলে জানান তিনি।
তারেক রহমান বলেন, দেশে ফিরে আমি যতটুকু যে কয়টি জায়গায় গিয়েছি, আমার মনে হয়েছে, নতুন প্রজন্ম একটি গাইডেন্স (দিকনির্দেশনা) চাইছে, একটি আশা দেখতে চাইছে। শুধু নতুন প্রজন্ম কেন, আসলে সবাই একটি গাইডেন্স চাইছে বলে মনে হয়েছে। আমরা যারা রাজনীতি করি, তাদের কাছে সবার অনেক প্রত্যাশা। সব প্রত্যাশা হয়তো পূরণ করা সম্ভব নয়, কিন্তু আমরা রাজনীতিকরা যদি ১৯৭১ সাল, ১৯৯০, ২০০৪, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট—এই সবগুলোকে সমানে রেখে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্বের জন্য কাজ করি, তাহলে একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আমার আছে মনে হয়, আমরা জাতিকে একটি সঠিক পথে পরিচালিত করতে সক্ষম হব।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আরও বক্তব্য দেন সাংবাদিক রেজাউল করিম রনি, আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান, শিক্ষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক জাহেদুর রহমান, নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবীর, কালের কণ্ঠ সম্পাদক হাসান হাফিজ, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী, মানবজমিন সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, যুগান্তর সম্পাদক আব্দুল হাই সিকদার, সাংবাদিক মমতাজ বিলকিস, ঢাকা স্ট্রিমের সম্পাদক ইফতেখার মাহমুদ, ইনকিলাব সম্পাদক এ এম এম বাহাউদ্দীন, দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদক ও প্রকাশক মাহফুজ আনাম, বর্ষীয়ান সাংবাদিক শফিক রেহমান এবং বিএনপি বিটের বেশ কয়েকজন সাংবাদিক।
১৪৫ দিন আগে
তরুণদের কর্মসংস্থান করতে না পারলে ৫ আগস্ট, একাত্তরের প্রত্যাশা ধ্বংস হয়ে যাবে: তারেক
দেশের মোট জনসংখ্যার একটা বড় অংশ তরুণ উল্লেখ করে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, এই তরুণদের জন্য যদি আমরা কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে না পারি, তাহলে ৫ আগস্ট হোক, কিংবা ৯০ বা ৭১, সব প্রত্যাশা ধ্বংস হয়ে যাবে।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) বনানীর হোটেল শেরাটনে সংবাদমাধ্যমের সম্পাদকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, এ দেশে ২০ কোটির মতো মানুষ, যার মধ্যে একটি বড় অংশ তরুণ সমাজের সদস্য। এই তরুণ সমাজের জন্য কীভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা যায়, দেশের ভেতরে হোক কিংবা বাইরে, তা আমাদের ভাবতে হবে। আমরা যদি কাজটি করতে সক্ষম না হই, তাহলে আমরা ৫ আগস্ট বলি, ৯০ বলি আর ৭১, আমাদের প্রত্যেকটি প্রত্যাশা ধ্বংস হয়ে যাবে।
তরুণদের কর্মসংস্থানের পরিকল্পনার ব্যাপারে তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন ভোকেশনাল (কারিগরি) শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর আমরা আধুনিকায়ন করতে চাই। এসব প্রতিষ্ঠানে ২০০ থেকে ২৫০ বিষয়ে শিক্ষাদান করা হয়, যার সবগুলোর প্রয়োজন আমাদের নেই। দেশের বাইরে কর্মী পাঠাতে যেসব দক্ষতা অত্যাবশ্যক, সেগুলোর প্রতি বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
তারেক বলেন, সাধারণভাবে আমাদের দেশের মানুষ যেসব দেশে যেতে পারে বা পারবে, যেমন: মধ্যপ্রাচ্য। সেখানে বর্তমানে কী কী কাজের সুযোগ আছে বা আগামী ৫-১০ বছরে কী কী কাজের সুযোগ তৈরি হবে, সে বিষয়গুলোতে গুরুত্ব দিয়ে দেশের তরুণদের দক্ষ করে গড়ে তোলার কথা বলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, জাপান, ইউরোপ, এমনকি চীনেও দক্ষ কর্মী পাঠানোর একটি বড় বাজার তৈরি হচ্ছে। সেসব জায়গায় কোন কোন বিষয়ে দক্ষ মানুষের প্রয়োজন হবে, সে বিষয়ে আমরা রিসার্চ করে দেখেছি। সেই অনুযায়ীই আমরা আমাদের কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর আধুনিকায়ন করতে চাই।
সম্প্রতি আমার সঙ্গে যেসব বিদেশি কূটনীতিকের সাক্ষাত হয়েছে, তাদের কাছেও আমি এ ব্যাপারে সহযোগিতা চেয়েছি। তারা খুশি মনে সহযোগিতা করতে রাজি হয়েছেন বলে তিনি জানান।
বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, কাজের উদ্দেশ্যে আমাদের দেশ থেকে যারা দেশের বাইরে যাচ্ছেন, তাদের যদি আমরা সেই দেশের ভাষাটা শিখিয়ে দিতে পারি, সেখানে যে কাজগুলোতে তারা যাচ্ছেন, তাদের যদি সেসব কাজে আমরা প্রশিক্ষণ দিয়ে পাঠাতে পারি, তাহলে সেখানে গিয়ে আরও ভালো করতে সক্ষম হবে।
ব্যাখ্যা করে তিনি আরও বলেন, আমরা গবেষণা করে শ্রমবাজারগুলো যদি বের করতে পারি, তাহলে এখন যে আট থেকে দশ লাখ মানুষ বিদেশে যাচ্ছে, সেটাকে দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে ১৫ থেকে ২০ লাখে উন্নীত করতে পারি। এর সঙ্গে যে মানুষগুলো যাচ্ছেন, তাদের যদি আমরা প্রশিক্ষণ ও ভাষা শিখিয়ে পাঠাতে পারি, তাহলে আরও মূল্য বাড়বে। এখন যদি তারা মাসে ১০০ ডলার আয় করেন, তাহলে সেটাকে সহজেই ৩০০ ডলারে নিয়ে আসতে পারব। তাহলে দেশে বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহও অনেক বাড়বে, যা দেশের উন্নয়নে কাজে লাগানো যাবে।
এর আগে, দেশের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে যেন সেগুলোর সমাধানে মনোযোগ দেয়, সে বিষয়ে নিজেদের বক্তব্যে তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন সম্পাদকেরা।
নিজের বক্তব্যে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, অতিথিদের বক্তব্য থেকে কয়েকটি বিষয় ফুটে উঠেছে। ভবিষ্যৎকে আমরা যদি দুই-তিনটি ভাগে ভাগ করি, তাহলে দেখতে পাচ্ছি, ব্যক্তি হিসেবে হোক কিংবা সংবাদকর্মী হিসেবে, আপনার স্বাধীনতা, আপনার নিরাপত্তা। আরেকটি বিষয় আমার চোখে যেটা পড়েছে, গণতান্ত্রিক অধিকারের ব্যাপারে আপনার, আমার, আমাদের সকলের উদ্বেগ বক্তারা প্রকাশ করেছেন। একজন বক্তা বলেছেন যে আগামী দিন, অর্থাৎ আমাদের ভবিষ্যৎ কেমন হবে।
তিনি বলেন, আমি দীর্ঘদিন দেশে থাকতে না পারলেও দেশের সঙ্গে আমার সবসময় যোগাযোগ ছিল। আমরা অবশ্যই আর ৫ আগস্টের আগে (আগের পরিস্থিতিতে) ফিরে যেতে চাই না। আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়ার কোনো কারণ নেই আমাদের।
হিংসা, প্রতিশোধ, প্রতিহিংসার কারণে একটি মানুষ, একটি দলের কী পরিণতি হতে পারে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তা আমরা দেখেছি। তাই আমি সবাইকে অনুরোধ করব, আমাদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও সেটিকে পাশে রেখে আলোচনার মাধ্যমে অনেক সমস্যার সমাধান আমরা বের করে আনতে সক্ষম হব। কোনোভাবেই মতপার্থক্য যেন মতবিভেদের পর্যায়ে চলে না যায়। বিভেদের মাধ্যমে জাতিকে বিভক্ত করে ফেললে কী হতে পারে, আমরা দেখেছি। আজকে আমরা অনেক বিভেদ, হতাশার কথা শুনি। তবে হতাশা থাকলেও অনেক পরিকল্পনাও কিন্তু আছে বলে জানান তিনি।
তারেক রহমান বলেন, দেশে ফিরে আমি যতটুকু যে কয়টি জায়গায় গিয়েছি, আমার মনে হয়েছে, নতুন প্রজন্ম একটি গাইডেন্স (দিকনির্দেশনা) চাইছে, একটি আশা দেখতে চাইছে। শুধু নতুন প্রজন্ম কেন, আসলে সবাই একটি গাইডেন্স চাইছে বলে মনে হয়েছে। আমরা যারা রাজনীতি করি, তাদের কাছে সবার অনেক প্রত্যাশা। সব প্রত্যাশা হয়তো পূরণ করা সম্ভব নয়, কিন্তু আমরা রাজনীতিকরা যদি ১৯৭১ সাল, ১৯৯০, ২০০৪, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট—এই সবগুলোকে সমানে রেখে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্বের জন্য কাজ করি, তাহলে একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আমার আছে মনে হয়, আমরা জাতিকে একটি সঠিক পথে পরিচালিত করতে সক্ষম হব।
একজন সংবাদকর্মীর নারীর নিরাপত্তা বিষয়ে বলা বক্তব্যের সূত্র ধরে তিনি বলেন, নিরাপত্তা শুধু নারীর নয়, নারী-পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রে হওয়া উচিত। বাংলাদেশে গত বছর ৭ হাজারের মতো মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছে। বিষয়টি আপনার-আমার কাছে অস্বাভাবিক লাগলেও ঘটনাটি ঘটছে, কোনো বছর বেশি, কোনো বছর কম। এটি কেন ঘটবে?
সড়ক দুর্ঘটনায় যে মানুষটি মারা যাচ্ছে, তিনি হয়তো ওই পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্য। তার মৃত্যুর পর তার পরিবারের কী হচ্ছে? বা যারা দুর্ঘটনায় পঙ্গু হয়ে যায়, তাদের পরিবারের কী হচ্ছে—এই বিষয়টি আমাদের নজরে আনা উচিত। এমন অনেক বিষয় রয়েছে যেগুলো নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর চিন্তা করা দরকার বলে মন্তব্য করেন তিনি। এর পাশাপাশি দেশের কৃষি ও কৃষকদের নিয়েও আলোচনা, চিন্তাভাবনা হওয়া উচিত বলে জানান এই নেতা।
নারীর উন্নয়ন বিষয়ে তিনি বলেন, বেগম রোকেয়া নারীর শিক্ষার জন্য আন্দোলন করেছিলেন, মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া নারীদের শিক্ষার ব্যাপারটা নিশ্চিত করেছিলেন। আগামী নির্বাচনে জিতে জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে সরকার গঠনে সক্ষম হলে আমাদের একটি পরিকল্পনা রয়েছে, যেসব নারী শিক্ষিত হয়েছে, তাদের স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলা।
এ সময় নিজের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, দেশে ফিরে যে ‘প্লানের’ কথা আমি বলেছিলাম, তার একটি হচ্ছে ফ্যামিলি কার্ড। আমাদের দেশে গড়ে ৪ কোটি পরিবার রয়েছে। ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে আমরা একটা পরিবারকে সারাজীবন সহায়তা করে যাব, এমনটি নয়। ৫ থেকে ৭ বছর আমরা ওই পরিবারটিকে সাপোর্ট দিয়ে যাব, সেটা টাকার হিসাবে কিংবা অত্যাবশ্যকীয় খাদ্যপণ্যের মাধ্যমে। আমরা দেখেছি, একজন নারীকে যদি এই সাপোর্টটা দেওয়া যায়, তাহলে তিনি সেটি তার পরিবারের জন্য সঠিকভাবে খরচ করেন।
আমরা রিসার্চ করে দেখেছি, ৫-৭ বছর যদি এই সাপোর্টটা দেওয়া যায়, তাহলে যে অর্থটা তার (নারী) হাতে জমা হয়, সেটা তিনি মূলত তিনটি কাজে খরচ করেন: প্রথমত, তার পরিবারের স্বাস্থ্যের পেছনে, দ্বিতীয়ত, ছেলেমেয়েদের শিক্ষার পেছনে এবং তৃতীয়ত, জমা করা অর্থ তিনি ছোট ছোট খাতে বিনিয়োগ করেন। এভাবে বিনিয়োগের ফলে ধীরে ধীরে গ্রামের, সমাজের অর্থনীতি মজবুত হবে। এভাবে একটি উপজেলা, জেলার অর্থনীতি মজবুত হবে বলে ব্যাখ্যা করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, এভাবে পরিবার শিক্ষিত হলে, সুস্থ থাকলে গ্রামের জনস্বাস্থ্য, উপজেলা, জেলা, একসময় গিয়ে দেশের জনস্বাস্থ্যে তা ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
তারেক রহমান বলেন, চার কোটি পরিবারকে একবারে এই সুবিধার আওতায় আনা সম্ভব নয়। যারা প্রান্তিক, যাদের জন্য এটি আগে দরকার, তাদের দিয়ে আমরা শুরু করব। দুর্নীতি এড়াতে এই পরিকল্পনাটি কোনো প্রকল্পের আওতায় রাখা হবে না জানিয়ে তিনি বলেন, বিষয়টি আমরা সর্বজনীন রেখেছি। একজন কৃষকের স্ত্রী, ইমাম সাহেবের স্ত্রী যেমন পাবেন, একজন ডিসির স্ত্রীও পেতে পারেন। তবে ডিসির স্ত্রী এই সুবিধা গ্রহণ করবেন না বলে মনে করেন তিনি।
পাশাপাশি কৃষি কার্ড, এমনকি জনস্বাস্থ্যসেবার বিষয়টি নিয়েও একইরকম পরিকল্পনার কথা জানান বিএনপি চেয়ারম্যান।
দেশের জনসংখ্যার বৃদ্ধির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, জনসংখ্যা যেভাবে বাড়ছে, তাতে সৌদি আরব-কুয়েতের সবগুলো তেলের খনিও এখানে নিয়ে আসি, তারপরও আমরা হয়তো এত রিসোর্স (সম্পদ) দিয়েও এত মানুষের সমস্যার সমাধান করতে পারব না। সেজন্য আমাদের অবশ্য জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের দিকে যেতে হবে।
সরকার গঠন করতে পারলে স্বাস্থ্যসেবা খাতে ১ লাখের মতো কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, এর মধ্যে ৮০-৮৫ শতাংশ আমরা নারী কর্মী নিয়োগ করতে চাই, যাতে তারা ঘরে ঘরে গিয়ে নারীদের বোঝাতে সক্ষম হন যে পরিবারের সদস্যসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখা, সদস্যদের স্বাস্থ্যের খেয়াল রাখা ইত্যাদি কী কারণে প্রয়োজন।
১৪৫ দিন আগে
উদার গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠনের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে: ফখরুল
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে ফেরায় একটি উদার গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠনের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেছেন, ইতোমধ্যে তিনি দূর থেকে জাতির উদ্দেশে যেসব কথা বলেছেন, তাতেই গোটা জাতি আজ আশান্বিত হয়েছে।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) সকালে বনানীর হোটেল শেরাটনে সংবাদমাধ্যমের সম্পাদকদের সঙ্গে তারেক রহমানের শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানের শুরুতে মির্জা ফখরুল এ কথা বলেন।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, আজকে একটা কঠিন সময়ে আমাদের নেতা তারেক রহমান বিদেশ থেকে দেশে এসেছেন। সমগ্র দেশের মানুষ এক বুকভরা প্রত্যাশা নিয়ে তার দিকে তাকিয়ে আছে। ইতোমধ্যে তিনি দূর থেকে, ডিজিটালি যে সমস্ত কথা আমাদের সামনে, জাতির সামনে বলেছেন, তাতে গোটা জাতি আজ আশান্বিত হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আশান্বিত হয়েছে এ জন্যেই যে এবার একটা সুযোগ সৃষ্টি হবে। সত্যিকার অর্থেই উদার একটা গণতন্ত্রপন্থী ব্যবস্থা আমরা এখানে সৃষ্টি করতে পারব। এই সুযোগ আমাদের সামনে উপস্থিত হয়েছে।’
এ সময় সম্পাদকমণ্ডলীর উদ্দেশে তিনি মন খুলে কথা বলার আহ্বান জানান। তারেক রহমানও যে তাদের সঙ্গে কথা বলতে উৎসুক, সে কথাও জানান মির্জা ফখরুল।
১৪৫ দিন আগে
রাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির জরুরি বৈঠক
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দলের স্থায়ী কমিটির জরুরি বৈঠক ডেকেছেন।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) রাত ৯টায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বৈঠকটি হবে বলে
জানিয়েছেন বিএনপির মিডিয়া সেল সদস্য শায়রুল কবির খান।
তিনি জানান, বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
বিএনপির এক জ্যেষ্ঠ নেতা জানান, আজকের বৈঠকটি নির্ধারিত শিডিউলের বৈঠক নয়। তাই নির্দিষ্ট এজেন্ডাও থাকছে না। তবে এটি অবশ্যই গুরত্বপূর্ণ। কারণ, এ বৈঠকেই দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে বিএনপির চেয়ারম্যান নির্বাচিত করা হতে পারে।
তিনি জানান, বৈঠকে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, দলের সাংগঠনিক বিষয় এবং নির্বাচন ও বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হবে।
গত ৪ জানুয়ারি সিলেটে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছিলেন, কয়েকদিনের মধ্যেই তারেক রহমানকে বিএনপির চেয়ারম্যান নির্বাচিত করা হবে।
২০১৮ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে বন্দী হওয়ার পর তারেক রহমানকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে মনোনীত করা হয়।
১৪৬ দিন আগে
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে সন্তুষ্ট নই: মির্জা ফখরুল
নির্বাচনের আগে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও দলের নেতাদের ওপর হামলার ঘটনায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সকালে ঠাকুরগাঁও শহরের কালিবাড়ির নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় তিনি এ কথা বলেন।
বিএনপির মহাসচিব বলেন, দেশের মানুষ অপেক্ষা করছে নির্বাচনের জন্য। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিস্থিতি যেভাবে দাঁড়িয়েছে সেটাতে আমি সন্তুষ্ট হতে পারছি না। যে হারে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে খুন করা হচ্ছে, বিশেষ করে আমাদের দলের কয়েকজন নেতাকে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছি। কিন্তু সরকারের তরফ থেকে কোনো ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। আমরা আশা করব সরকার এ ব্যাপারে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবেন এবং এবং নির্বাচনের সময় এই ঘটনাগুলোর যেন পুনরাবৃত্তি না ঘটে সে ব্যাপারে তারা আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করবেন।
তারেক রহমানের সফর সম্পর্কে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘তার এটা একটা ব্যক্তিগত সফরই বলা যাবে। কারণ ওনি আসছেন নিজের গ্রামে বগুড়ায়। সেখান থেকে তিনি রংপুরে জুলাই শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করবেন। এরপর তিনি দিনাজপুরে যাবেন তার নানির কবর জিয়ারত করতে। সেখান থেকে তিনি ঠাকুরগাঁওয়ে আসবেন, আমাদের এখানে কয়েকজন শহীদ আছেন, তার মধ্যে একজন শহীদের কবর তিনি জিয়ারত করবেন এবং পরে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মাগফিরাত কামনায় বড় একটি দোয়া মাহফিল হবে, সেখানে অংশগ্রহণ করবেন এবং সেখান থেকে তিনি পঞ্চগড় যাবেন।’
তিনি বলেন, তিনি যখন দেশে আসলেন তখন ঢাকাতে লক্ষ লক্ষ মানুষ জমায়েত হয়েছিল। তাকে সংবর্ধনা জানাতে। এখন জেলাগুলোতে আসছেন। সাধারণভাবেই নেতা কর্মীরা উজ্জ্বীবিত হবেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভোটের প্রভাব জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পরবে না মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, আরেকটি বিষয়ট যেটা আমি জোড় দিয়ে বলতে চাই-বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচন এটা আপনার জাতীয় নির্বাচনে কখনো বা কোনদিনই প্রভাব ফেলেনি। আমরা আশা করি সেভাবে এবারও কোনো প্রভাব ফেলবে না।
বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, আমাদের অন্যান্য ছাত্র সংগঠনগুলো বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কাজ করার কোনো সুযোগ পায়নি। বিশেষ করে আমাদের ছাত্রদল, তাদেরকে ঢুকতেই দেওয়া হয়নি। আর যে বিষয়টা আমি জোর দিয়ে বলতে চাই বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচন, এটা জাতীয় নির্বাচনে কখনোই কোনদিনও প্রভাব ফেলে নাই। আশা করি এবারও ফেলবে না।
গণভোট প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, গণভোটে আমরা নিজেরাই-একইদিনে গণভোট ও জাতীয় সংসদ ভোট চেয়েছিলাম, সেভাবেই হয়েছে এবং এই সংসদ নির্বাচনে যে সমস্ত সংস্কারগুলো নিয়ে গণভোট হচ্ছে, সেই সংস্কারগুলো আমরাই বহু আগে ২০১৬ সালে এবং ২০২৩ সালে ৩১ দফার মাধ্যমে সেটা জাতির সামনে প্রস্তাব তুলে ধরেছি।
‘সুতরাং সংস্কার তো একটা চলমান প্রক্রিয়া সেটা থাকবে। সেখানে না বলার কোনো কারণ আছে, সেটা আমার মনে হয়না।’
১৪৬ দিন আগে
চার দিনের উত্তরবঙ্গ সফরে যাচ্ছেন তারেক রহমান
দেশে ফেরার পর ঢাকার বাইরে প্রথম সফরসূচি নির্ধারণ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আগামী ১১ থেকে ১৪ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশের উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় ধারাবাহিক কর্মসূচিতে অংশ নেবেন তিনি।
চূড়ান্ত কর্মসূচি অনুযায়ী, ১১ জানুয়ারি তিনি ঢাকা ত্যাগ করে ১৪ জানুয়ারি ঢাকায় ফিরবেন। এ সময় উত্তরাঞ্চলের মোট নয়টি জেলা সফর করবেন তারেক রহমান।
সফরের প্রথম দিন ১১ জানুয়ারি ঢাকায় কর্মসূচি শেষে গাজীপুর, টাঙ্গাইল ও সিরাজগঞ্জে দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন তারেক রহমান। পরে তিনি বগুড়ায় পৌঁছাবেন।
১২ জানুয়ারি বগুড়া থেকে সফর শুরু করে তিনি রংপুর, দিনাজপুর ও ঠাকুরগাঁও জেলায় সাংগঠনিক কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। একই দিনে রংপুরে জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে শহীদ আবু সাঈদের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন ও দোয়া করার কর্মসূচিও রয়েছে।
১৩ জানুয়ারি পঞ্চগড়, নীলফামারী, লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম জেলায় দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক ও মতবিনিময় করবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান।
সফরের শেষ দিন ১৪ জানুয়ারি রংপুর ও বগুড়ায় আরও কয়েকটি কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে তারেক রহমানের।
নিহত জুলাই যোদ্ধা ও দীর্ঘ গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শহীদদের কবর জিয়ারত এবং বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে আয়োজিত দোয়া অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য এই সফরের আয়োজন করা হয়েছে।
সফরকালে তিনি মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী, শহীদ আবু সাঈদ এবং তৈয়বা মজুমদারসহ নিহত জুলাই যোদ্ধা ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নিহতদের কবর জিয়ারত করবেন। এছাড়া তাদের পরিবারের সঙ্গেও সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।
বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, সফরকালে তারেক রহমান নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত নির্বাচনি আচরণবিধি পুরোপুরি অনুসরণ করবেন এবং কোনোভাবেই আচরণবিধি লঙ্ঘন করবেন না। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন ও রিটার্নিং কর্মকর্তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে এই সফরের বিষয়ে জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত সচিব এবিএম আবদুস সাত্তারের সই করা এক চিঠিতে ঢাকা, গাজীপুর, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, গাইবান্ধা, রংপুর, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, নীলফামারী, লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কর্মসূচির বিষয়টি অবহিত করা হয়।
কর্মসূচি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেছে বিএনপি।
১৪৮ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ছেড়ে ভোটের মাঠে আব্দুল আউয়াল মিন্টু
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনী-৩ (সোনাগাজী-দাগনভুঞা) আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টুর মনোনয়নপত্র জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা বৈধ ঘোষণা করেছেন। মিন্টু হলফনামায় উল্লেখ করেছেন, তিনি গত ৯ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন।
ব্যবসায়ী মিন্টুর মোট সম্পদ ৫০৭ কোটি ৮০ লাখ ৮ হাজার ১৭১ টাকা। নিজের নামে কোনো ঋণ নেই, তবে সম্পর্কিত প্রতিষ্ঠানগুলোর নামে ২৯৪ কোটি টাকা ঋণ রয়েছে। স্থাবর সম্পত্তির বাজার মূল্য ৩৩৩ কোটি ৯ লাখ ৩৭ হাজার ৭৭০ টাকা, যার মধ্যে অকৃষি জমি ৭ কোটি ১৫ লাখ, আবাসিক-বাণিজ্যিক ভবন ৪২ লাখ এবং বাড়ি ও অ্যাপার্টমেন্ট ৩০ লাখ টাকা। অস্থাবর সম্পদ ১৭৪ কোটি ৭০ লাখ ৭০ হাজার, নগদ ৩ কোটি ৩৬ লাখ টাকা, ব্যাংকে ১ কোটি টাকা, শেয়ার ও বন্ডে ১৫১ কোটি টাকা।
হলফনামায় তার স্ত্রী নাসরিন ফাতেমার সম্পদ ৯৯ কোটি ২৪ লাখ, বড় ছেলে তাবিথ আউয়াল ৫৯ কোটি, মেজো ছেলে তাফসির ৪৯ কোটি, ছোট ছেলে তাজোয়ার ২৬ কোটি টাকা। দেশে তার ২০২৫-২৬ অর্থবছরের আয় ১ কোটি ১২ লাখ, আয়কর ৩৯ লাখ ৩২ হাজার টাকা।
মিন্টুর বিরুদ্ধে ২৬টি মামলায় খালাস বা অব্যাহতি হয়েছে; তবে ধানমন্ডির সিএমএম আদালতে ২০০৭ সালে জামিনপ্রাপ্ত একটি মামলা স্থগিত রয়েছে। তিনি ১৯৪৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি জন্মগ্রহণ করেছেন, ফেনীর দাগনভুঞা উপজেলার আলাইয়াপুর ফরাজি বাড়িকে স্থায়ী ঠিকানা হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং বর্তমানে গুলশানে বসবাস করছেন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: স্নাতকোত্তর।
১৫০ দিন আগে
সালেক চৌধুরীকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার
দলীয় নীতি ও সংগঠন পরিপন্থী কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে নওগাঁর বিএনপি নেতা ডা. সালেক চৌধুরীকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
রবিবার (৪ জানুয়ারি) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ন-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সই করা দলীয় প্যাডে তাকে বহিষ্কারের আদেশ দেওয়া হয়।
ডা. সালেক চৌধুরী জেলার নিয়ামতপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ছিলেন। নওগাঁ-১ আসন থেকে তিনি সংসদ সদস্যও হয়েছেন।
ইতোমধ্যে বহিষ্কারের একটি চিঠি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে শেয়ার করেছেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রহমান রিপন। তিনি বলেন, কেন্দ্র থেকে ডা. সালেক চৌধুরীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। যেটার চিঠি আমরা পেয়েছি।
এ বিষয়ে ডা. সালেক চৌধুরী বলেন, এ বিষয়ে আমি এখনও জানি না। আর যদি বহিষ্কার করে থাকে সেটা নিয়মের মধ্যে হয়নি। কারণ আগামী ২০ তারিখ পর্যন্ত বিবেচনা করার সময় ছিল। যদি আমি মনোনয়ন প্রত্যাহার না করতাম, তাহলে একটা কথা ছিল। আর যদি সত্যি সত্যি দল থেকে বহিষ্কার করে, তাহলে আমি নির্বাচন করব। কারণ আমার তো আর কোনো পথ নেই। কাজেই শেষ পর্যন্ত ভোটে লড়াই করব বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে, বহিষ্কারের কারণ সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ না থাকলেও খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সদ্য বহিষ্কৃত উপজেলা বিএনপির নেতা সালেক চৌধুরী নওগাঁ-১ (নিয়ামতপুর-সাপাহার-পোরশা) আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন চেয়েছিলেন। কিন্তু তাকে মনোনয়ন না দিয়ে নিয়ামতপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমানকে দলীয়ভাবে মনোনীত করে কেন্দ্রীয় বিএনপি। যার কারণে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দেন সাবেক সংসদ সদস্য ডা. সালেক চৌধুরী। গত রবিবার ছিল মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ের দিন। মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ে বৈধ হিসেবে বিবেচিত হয় বিএনপি থেকে সদ্য বহিষ্কৃত ওই নেতার মনোনয়ন।
ডা. সালেক চৌধুরী নওগাঁ-১ (নিয়ামতপুর-সাপাহার-পোরশা) আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ১৯৯৬ সালে ও ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।
১৫০ দিন আগে
তারেক রহমানের একান্ত সচিব আবদুস সাত্তার, প্রেস সচিব সালেহ শিবলী
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের একান্ত সচিব হিসেবে সাবেক সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার এবং প্রেস সচিব হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন এ এ এম সালেহ (সালেহ শিবলী)।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশ সরকারের সাবেক সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তারকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এর একান্ত সচিব হিসেবে এবং ঢাকা রিপোর্টাস ইউনিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এ এ এম সালেহ (সালেহ শিবলী)-কে প্রেস সচিব হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে।’
এর আগে এ বি এম আব্দুস সাত্তার বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার একান্ত সচিব এবং সালেহ শিবলী দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রেসসহ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে আসছেন। গত ২৫ ডিসেম্বর যুক্তরাজ্য থেকে একই বিমানে দেশে ফেরেন সালেহ শিবলী।
১৫২ দিন আগে
শোকের সময় জাতির মাঝেই পরিবার খুঁজে নিলেন তারেক রহমান
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শেষ বিদায়ে লাখ লাখ মানুষ শ্রদ্ধা-ভালোবাসা জানানোয় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তার বড় ছেলে তারেক রহমান। তার মার বিদায়ের এই চরম দুঃখের সময়ে জাতি যে বিপুল ভালোবাসা ও সংহতি প্রকাশ করেছে , তাতে তার মনে হয়েছে যে পুরো জাতিই তার পরিবার।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জতির কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে এ কথা বলেছেন।
তারেক রহমান বলেন, গভীর শোক ও কৃতজ্ঞতায় ভাস্বর হয়ে আমি আমার প্রিয় মা, জীবনের প্রথম শিক্ষক, তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে আমার বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত করেছি। তার অনুপস্থিতির শূন্যতা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। তবু, এই কঠিন মুহূর্তে দেশের মানুষের অভূতপূর্ব উপস্থিতি আমাকে একাকিত্বে ভুগতে দেয়নি।
তারেক রহমান আরও বলেন, অগণিত নেতাকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী, পরিবার ও দেশবাসীর ভালোবাসা ও শ্রদ্ধায় আমি গভীরভাবে আবেগাপ্লুত। লক্ষ-লক্ষ মানুষ একসাথে এসে যেভাবে সম্মান জানিয়েছে, ভালোবাসা দিয়েছে, এবং এই কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়িয়েছে; তা আমাকে আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে, তিনি শুধু আমার মা ছিলেন না; অনেক দিক থেকে তিনি ছিলেন সমগ্র জাতির মা।
এ সময় বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি যারা খালেদা জিয়াকে শ্রদ্ধা জানাতে এসেছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের শীর্ষ প্রতিনিধি, বৈশ্বিক কূটনীতিক এবং উন্নয়ন সহোযোগীরা সশরীরে উপস্থিত থেকে শ্রদ্ধা জানান, আমি গভীরভাবে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ। যেসব দেশ সমবেদনা প্রকাশ করেছে, তাদের প্রতিও আমি আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি। আপনাদের এই সহমর্মিতা আমাদের হৃদয় গভীরভাবে ছুঁয়ে গেছে।
তারেক রহমান বলেন, শোকের এই মুহূর্তে আমি আমার প্রাণপ্রিয় বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং ভাই আরাফাত রহমান কোকোকে স্মরণ করছি। আজ এত মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে মনে হচ্ছে, নিকটজন হারানোর শূন্যতা পেরিয়ে, পুরো বাংলাদেশই আমার পরিবার হয়ে উঠেছে।
তিনি বলেন, আমার মা সারাজীবন নিরলসভাবে মানুষের সেবা করেছেন। আজ তার সেই দায়িত্ব ও উত্তরাধিকার আমি গভীরভাবে অনুভব করছি। একাগ্রতা ও দায়বদ্ধতার সঙ্গে আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, যেখানে আমার মার পথচলা থেমেছে, সেখানে আমি চেষ্টা করবো সেই পথযাত্রাকে এগিয়ে নিতে—সেই মানুষদের জন্য, যাদের ভালোবাসা ও বিশ্বাস তাকে শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত শক্তি দিয়েছে, প্রেরণা যুগিয়েছে।
তিনি তার মায়ের জন্য দোয়া কামনা করে বলেন, আল্লাহ যেন আমার মার রূহকে শান্তি দান করেন। আর তিনি যে অসীম ভালোবাসা, ত্যাগ ও উদারতার উদাহরণ আমাদের সবাইকে দিয়ে গেছেন, সেখান থেকেই আমরা শক্তি, ঐক্য এবং দেশপ্রেম খুঁজে পাই।
১৫৪ দিন আগে