বিএনপি
খালেদা জিয়ার দূরদর্শিতা ও উত্তরাধিকার আমাদের অংশীদারত্বকে পথ দেখাবে: মোদি
বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) এই শোক প্রকাশ করেন তিনি।
শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, ‘ঢাকায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর খবরে আমি গভীরভাবে শোকাহত। তার পরিবার ও বাংলাদেশের জনগণের প্রতি আমাদের আন্তরিক সমবেদনা। সর্বশক্তিমান সৃষ্টিকর্তা এই বিয়োগান্তক ক্ষতি সয়ে নেওয়ার জন্য তার পরিবারকে ধৈর্য দান করুন।’
বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে খালেদা জিয়ার ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেছেন, ‘বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশের উন্নয়ন ও ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে তার গুরুত্বপূর্ণ অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।’
২০১৫ সালে ঢাকায় খালেদা জিয়ার সঙ্গে উষ্ণ সাক্ষাতের কথা স্মরণ করে তিনি আরও লিখেছেন, ‘তার দূরদর্শিতা ও উত্তরাধিকার দুই দেশের অংশীদারত্বকে ভবিষ্যতেও আমাদের পথ দেখাবে। তার আত্মা শান্তিতে থাকুক।’
১৫৬ দিন আগে
খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বিএনপির ৭ দিনের শোক
দলের চেয়ারপারসন ও দেশের তিনবারের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ৭ দিনব্যাপী শোক পালনের ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি।
মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকাল ৯টার দিকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
রিজভী বলেন, আগামী সাতদিনব্যাপী দলের নেতা-কর্মীরা কালো ব্যাজ ধারণ করবেন এবং প্রত্যেকটা অফিসে কোরআন খতম ও দোয়া মাহফিল করা হবে। এছাড়া নয়া পল্টন ও গুলশান কার্যালয়ে শোক বই খোলা হবে। পরবর্তীতে দাফন-কাফনের সময়সূচি জানানো হবে।
রাজনীতিতে ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে পরিচিত খালেদা জিয়া আজ মঙ্গলবার সকাল ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।
দীর্ঘদিন ধরে গুরুতর অসুস্থতায় ভোগা দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রয়াণে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
১৫৬ দিন আগে
খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ বৈঠক আহ্বান
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে।
খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকালে এভারকেয়ার হাসপাতালে ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেন, দেশনেত্রীর মৃত্যুর খবরে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস আমাদের ফোন করেছিলেন। ওনারা বলেছেন উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক হবে ১০টায়। সেখানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফনের সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হবে।
তিনি জানান, বৈঠকে তাকে উপস্থিত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূস।
১৫৬ দিন আগে
খালেদা জিয়ার জীবনাবসান: দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনের এক দীর্ঘ যুগের পরিসমাপ্তি
দীর্ঘদিন রোগব্যাধির সঙ্গে লড়াই করে অবশেষে হার মেনেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। ৮০ বছর বয়সী এই রাজনীতিকের জীবনাবসানে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে তা এক দীর্ঘ যাত্রার অবসান হলো।
মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকাল ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বিএনপির আইসিটি বিষয়ক সম্পাদক ও দলের অনলাইন অ্যাকটিভিস্ট নেটওয়ার্কের প্রধান একেএম ওয়াহিদুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এই খবরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে আসে।
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্ত্রী খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশের রাজনৈতিক উত্থান-পতন, উত্তেজনা, আশা ও বৈরিতার নাটকীয় পালাবদলের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে ছিলেন।
নিউমোনিয়া, দীর্ঘস্থায়ী ফুসফুসের সংক্রমণ এবং জটিল হৃদ্যন্ত্রের সমস্যার বিরুদ্ধে অবিরাম লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে তার শেষ মাসগুলো কেটেছে। অবস্থা ক্রমেই অবনতির দিকে গেলেও তার ঘনিষ্ঠজনরা স্মরণ করেন, যে দৃঢ়তা একসময় তার রাজনৈতিক জীবনের পরিচয় ছিল, শেষ সময়েও সেই দৃঢ়তার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন।
সমর্থকদের কাছে তার মৃত্যু একটি যুগের অবসান; বিরোধী রাজনীতিকে দশকের পর দশক গড়ে তোলা এক মাতৃতুল্য নেত্রীর বেদনাদায়ক বিদায়। অন্যদের কাছে এটি এমন এক অধ্যায়ের শেষ, যার উত্তরাধিকার নিয়ে জনমনে চিরকাল একটি প্রশ্ন রয়ে যাবে। আর বাংলাদেশের জন্য খালেদা জিয়ার প্রস্থান রেখে গেল ইতিহাসের ভারে ভারাক্রান্ত এক গভীর নীরবতা।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি দিনাজপুর-৩, ফেনী-১ এবং বগুড়া-৭—এই তিনটি আসনে মনোনয়ন পেয়েছিলেন। তবে তার মৃত্যুতে সব লড়াইয়ের আগেই থেমে গেল সব।
বাংলাদেশ রাজনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটাল এই প্রস্থান। মৃত্যুকালে তিনি রেখে গেলেন তার বড় ছেলে তারেক রহমান, তিন নাতনি এবং লাখো সমর্থক ও অনুরাগীকে। তবে দেশের রাজনীতিতে তিনি যে গভীর ছাপ রেখে গেলেন, তা অনাগত বহু প্রজন্মকে প্রভাবিত করবে।
দীর্ঘদিন ধরেই তিনি লিভার সিরোসিস, আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, কিডনি, ফুসফুস, হৃদ্যন্ত্র ও চোখের জটিল সমস্যায় ভুগছিলেন। গত ২৩ নভেম্বর রাতে হৃদ্যন্ত্র ও ফুসফুসে সংক্রমণ ধরা পড়ার পর মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শে তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
২০২০ সালে শর্তসাপেক্ষ মুক্তির পর থেকে তিনি হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক শহীদউদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বাধীন মেডিকেল বোর্ডের অধীনে নিয়মিত চিকিৎসা নিয়ে আসছিলেন। ২০২২ সালের জুনে তার হৃদযন্ত্রের বাম ধমনীতে ৯৫ শতাংশ ব্লক ধরা পড়ে এবং একটি স্টেন্ট বসানো হয়। পরে আরও দুটি ব্লক পাওয়া গেলেও শারীরিক দুর্বলতার কারণে তা অপসারণ করা সম্ভব হয়নি। এরপর ২০২৪ সালের ২৩ জুন অধ্যাপক শহীদউদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বাধীন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা তার বুকে একটি পেসমেকার প্রতিস্থাপন করেন।
এর মাঝে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ২০২১ সালের নভেম্বরে লিভার সিরোসিস ধরা পড়ার পর তার চিকিৎসকরা বারবার বিদেশে নেওয়ার সুপারিশ করেন। তবে আইনগত জটিলতার কথা বলে সরকার তাকে সে সময় বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দেয়নি। এরপর ২০২৩ সালের ২৬ অক্টোবর খালেদা জিয়ার অবস্থার অবনতি হলে মার্কিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা তার পেটে ও বুকে পানি জমা কমাতে এবং লিভারজনিত রক্তক্ষরণ ঠেকাতে ‘টিপস’ (TIPS) প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন।
তবে ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার পতনের একদিন পর রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের নির্দেশে তিনি সম্পূর্ণ মুক্তি পান। এই মুক্তি তার বিদেশে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়ার পথও খুলে দেয়।
এরপর এ বছরের ৭ জানুয়ারি কাতারের আমিরের পাঠানো বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে যুক্তরাজ্যের উদ্দেশে দেশ ছাড়েন। এক দিন পর লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরে তারেক রহমানের সঙ্গে দীর্ঘ সাত বছরের বেশি সময় পর মা-ছেলের আবেগঘন পুনর্মিলন ঘটে। সেখান থেকেই তাকে লন্ডন ক্লিনিকে নেওয়া হয়।
সেখানে লিভার রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক জন প্যাট্রিক কেনেডির নেতৃত্বাধীন মেডিকেল বোর্ডের অধীনে তিনি ১৭ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ২৫ জানুয়ারি হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পান। এরপর তিনি তারেক রহমানের বাসায় ওঠেন এবং অধ্যাপক কেনেডি ও জেনিফার ক্রসের তত্ত্বাবধানে সেখানেই তার চিকিৎসা চলতে থাকে।
ছয় বছরের বেশি সময় পর তিনি লন্ডনে পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদ্যাপন করে গত ৬ মে কাতারের আমিরের সেই এয়ার অ্যাম্বুলেন্সেই দেশে ফেরেন। ফেরার সময় সঙ্গে নিয়ে আসেন তার দুই পুত্রবধূকে।
দেশে ফিরে তিনি তার গুলশানের বাসা ফিরোজায় মেডিকেল বোর্ড ও ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে ছিলেন। মাঝে কয়েক দফা অবশ্য তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।
১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট দিনাজপুরে জন্ম নেন খালেদা জিয়া। অতি সাধারণ পরিবেশে কাটে তার শৈশব। পরে জেনারেল জিয়াউর রহমানের সঙ্গে তার বিয়ে হয়, যিনি পরবর্তীতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হন। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন জিয়াউর রহমান, যার ফলে স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে তাকে ‘বীর উত্তম’ খেতাবে ভূষিত করা হয়।
১৯৮১ সালে জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের শিকার হলে দেশের রাজনীতিতে প্রবেশ করেন খালেদা জিয়া। তারপর ১৯৮৪ সালে তিনি বিএনপির চেয়ারপারসন হয়ে প্রায় চার দশক ধরে এই পদ অলঙ্কৃত করে ছিলেন।
তৎকালীন সামরিক শাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের বিরুদ্ধে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা আন্দোলনে তিনি ছিলেন কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। দৃঢ় ব্যক্তিত্বের কারণে সে সময় সর্বসাধারণের কাছ থেকে তিনি ব্যাপক শ্রদ্ধা অর্জন করেন।
১৯৯১ সালে তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হন। ওই বছরের ২০ মার্চ তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে সেটি ছিল এক মাইলফলক।
তার নেতৃত্বেই রাষ্ট্রপতির শাসনব্যবস্থা বাতিল করে পুনরায় সংসদীয় সরকারব্যবস্থায় ফেরে দেশে। ১৯৯১ সালের ৬ আগস্ট জাতীয় সংসদ দ্বাদশ সংশোধনী পাস করে এবং ১৯ সেপ্টেম্বর সংসদীয় ব্যবস্থার অধীনে শপথ নেন তিনি।
প্রথম মেয়াদে (১৯৯১–১৯৯৬) তার সরকার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষায় অভূতপূর্ব অগ্রগতি আনে। এই সময়েই বিনামূল্যে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা, মেয়েদের জন্য দশম শ্রেণি পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা, উপবৃত্তি, ‘শিক্ষার বিনিময়ে খাদ্য’ কর্মসূচি চালু হয়।
তার সরকারের উদ্যোগেই সারা দেশে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং যমুনা সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ১৯৯৩ সালে ঢাকায় সার্ক সম্মেলন আয়োজনের মাধ্যমে আঞ্চলিক কূটনীতিতেও তিনি ভূমিকা রাখেন। তবে এই মেয়াদে বিরোধী দলগুলোর তীব্র আন্দোলনও দেখতে হয় তার সরকারকে। নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে তখন দেশজুড়ে ব্যাপক রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হয়।
এরপর ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি জয়ী হলেও প্রধান বিরোধী দলগুলো নির্বাচন বর্জন করে। পরে তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রণয়ন করে ত্রয়োদশ সংশোধনী পাস হয় এবং ওই বছরের ৩০ মার্চ তিনি ক্ষমতা হস্তান্তর করেন। তারপর ১৯৯৬ সালের ১২ জুন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীন অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জয়ী হয়, আর ১৯৯৬–২০০১ মেয়াদে তিনি জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের নেত্রী থেকে দেশের রাজনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা করেন।
২০০১ সালের ১ অক্টোবর নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীন নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ জয়লাভ করলে ১০ অক্টোবর তিনি তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন।
তৃতীয় মেয়াদে খালেদা জিয়া ক্ষমতা গ্রহণের পর দেশের রপ্তানি আয় ও প্রবাসী আয়ে বড় প্রবৃদ্ধি ঘটে; শিল্প ও টেলিযোগাযোগ খাতেও উন্নয়ন সাধিত হয়। সে সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অপারেশন ক্লিন হার্ট, র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-র্যাবের প্রতিষ্ঠা এবং জঙ্গীগোষ্ঠী জেএমবি ও হুজিদের দমনের মতো উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নেয় তার সরকার। তবে দুর্নীতি নিয়ে বিএনপি সরকারের সমালোচনাও ছিল।
বিভিন্ন নির্বাচনে পাঁচটি সংসদীয় আসন থেকে নির্বাচিত হওয়ার অনন্য রেকর্ডের অধিকারী খালেদা জিয়া। কোনো আসনেই তিনি ব্যক্তিগতভাবে কখনো পরাজিত হননি।
২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর তিনি ক্ষমতা ছাড়েন। এরপর ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তার দল মাত্র ৩০টি আসন পায়।
২০০৭–০৮ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে একাধিক মামলা হয়। ২০০৭ সালের ৩ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তার হয়ে প্রায় এক বছর কারাবন্দী থেকে ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর মুক্তি পান খালেদা জিয়া। এরপর ২০০৮ সালের নির্বাচনে পরাজয়ের পর ফের বিরোধী দলীয় নেত্রী হন তিনি।
২০১১ সালে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করলে তিনি তার প্রতিবাদ জানান। তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ফেরাতে তিনি আন্দোলনও চালিয়ে যান। পরবর্তীতে ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে তাকে বাসা ও অফিসে অবরুদ্ধ রাখা হয়। বিএনপি সেই নির্বাচন বর্জন করে।
২০১৪ সালে তার গুলশান অফিসের সামনে বালুবোঝাই ট্রাক রেখে তাকে কার্যত অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। সে সময় ৯২ দিন তিনি অফিসেই অবস্থান করেন। সে সময় তার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যু হলেও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকায় তিনি তার জানাজায় অংশগ্রহণ করতে পারেননি।
২০০৮ সালের পর তার পরিবারের সদস্যরা একে একে বিদেশে চলে যেতে থাকেন। ফলে আইনি ও রোগব্যাধির সঙ্গে লড়াইয়ে তিনি প্রায় একা হয়ে পড়েন।
২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে কারাগারে যেতে হয় সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে। পরে হাইকোর্ট তার সাজার মেয়াদ ১০ বছর করে। জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় তিনি সাজা পেয়েছিলেন।
২০২০ সালের ২৫ মার্চ করোনা পরিস্থিতিতে মানবিক বিবেচনায় খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেয়া হলেও তাকে কার্যত গৃহবন্দি করে রাখা হয়। সে সময় তার বিদেশ গমনেও নিষেধাজ্ঞা ছিল।
২০২৪ সালের ৬ আগস্ট রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ক্ষমতাবলে সকল দণ্ড থেকে মুক্ত হন তিনি।
এরপর ২০২৪ সালের ২১ নভেম্বর ছয় বছর পর সশরীরে সশস্ত্র বাহিনী দিবসের সেনাকুঞ্জের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন তিনি। তবে তার দুদিন পরই আবার তাকে হাসপাতাল ভর্তি করা হয়।
খালেদা জিয়া গণতন্ত্রের আপসহীন রক্ষক হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। ১৯৮৬ সালে সামরিক শাসক এরশাদের অধীনে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনে অংশ নিলেও তিনি তা বর্জন করেন। তার অবস্থান ছিল স্পষ্ট— বাংলাদেশই তার একমাত্র ঠিকানা এবং সে দেশ বা জনগণকে তিনি কখনো ছেড়ে যাবেন না।
২০১৭ সালে যুক্তরাজ্যে থাকার সুযোগ থাকলেও তিনি দেশে ফিরে আসেন এবং ছয় মাস পর তাকে জেলে যেতে হয়। তার ওই সিদ্ধান্ত তার চরিত্রের নীতি ও আদর্শকে সংজ্ঞায়িত করে। গণতন্ত্রের প্রশ্নে তিনি ছিলেন আপসহীন। স্বৈরশাসনের চাপে তিনি কখনো মাথা নত করেননি।
জাতীয় সংকটকালে মানুষকে একত্রিত করতে এবং দেশ পরিচালনায় নেতৃত্ব দিতে তিনি সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন।
সর্বশেষ হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা তার খোঁজ নিতে গিয়েছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুভকামনার বন্যা বয়ে গেছে।
গৃহিণী থেকে জাতীয় রাজনীতির মুখ্য চরিত্র হয়ে ওঠা এই নেত্রীর অবদান বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে চিরকাল প্রাসঙ্গিক থাকবে।
১৫৭ দিন আগে
দেশকে নতুন করে গড়ে তোলার আহ্বান তারেক রহমানের
দেশের নতুন রূপরেখা ও জাতি গঠনে প্রতিটি নাগরিককে নিজ নিজ জায়গা থেকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
তিনি বলেছেন, ‘দেশকে নতুন করে গড়ে তুলতে হবে। এক্ষেত্রে যার যতটুকু সামর্থ্য আছে, তাকে সে অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করতে হবে। এমনকি রাস্তায় একটি ময়লা কাগজ পড়ে থাকলেও তা নিজ দায়িত্বে পরিষ্কার করার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে।’
সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) বিকেলে প্রায় দেড় যুগ পর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গিয়ে নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তিনি এ আহ্বান জানান।
এর আগে, বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পৌঁছান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। এসময় দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী ও কোষাধ্যক্ষ এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত ফুল দিয়ে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে অভ্যর্থনা জানান।
এসময় কার্যালয়ের বাইরে ভিড় জমান বিএনপির হাজারো নেতা-কর্মী। তারেক রহমান কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের বারান্দায় এসে নেতা-কর্মীদের হাত নেড়ে অভিবাদন জানান।
সেসময় তিনি লক্ষ্য করেন, কার্যালয়ের সামনের সড়ক ও আশপাশে নেতা-কর্মীদের ভিড়ে সড়কে যান চলাচল স্থবির হয়ে পড়েছে।
সঙ্গে সঙ্গে মাইক হাতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ‘যেহেতু আজকে আমাদের কোনো কর্মসূচি নেই, তাই জনদুর্ভোগ এড়াতে আমি আপনাদের রাস্তা ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি। আপনাদের অবস্থানের কারণে সাধারণ মানুষের চলাচলে বিঘ্ন ও যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে।’
একইসঙ্গে তিনি তার অসুস্থ মা বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতার জন্য সবার কাছে দোয়া চান।
এর আগে, বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে গুলশানের বাসভবন থেকে তারেক রহমানের গাড়িবহর নয়াপল্টনের উদ্দেশে রওনা হয়। নেতা-কর্মীদের উপচে পড়া ভিড় ঠেলে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রবেশ করতে তার প্রায় আধঘণ্টা সময় লাগে। বিকেল ৪টার দিকে তিনি কার্যালয়ের মূল ফটকে পৌঁছালে তাকে স্বাগত জানান রিজভী ও মিল্লাতসহ দলের শীর্ষ নেতারা।
এ সময় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম, দলের যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল এবং বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতারাসহ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
তারেক রহমানের আগমনের খবরে দুপুর থেকেই নয়াপল্টন ও আশপাশের এলাকায় জড়ো হতে থাকেন নেতা-কর্মীরা। তারা জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের ছবিসম্বলিত ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে শোডাউন করেন। এ সময় যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে দলটির কার্যালয় ও সংলগ্ন এলাকায় বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিএনপির অঙ্গ-সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবকদেরও তৎপর থাকতে দেখা যায়।
১৫৭ দিন আগে
ফেনীতে খালেদা জিয়ার পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা, রয়েছে বিকল্প প্রার্থী
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনী-১ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন দলের নেতারা।
সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) দুপুর দেড়টার দিকে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মনিরা হকের কাছে তার পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়।
তবে বিএনপি চেয়ারপারসনের শারীরিক অবস্থার কথা বিবেচনায় রেখে এই আসনটিতে বিকল্প প্রার্থীও রেখেছে দলটি। এ কারণে আসনটিতে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহবায়ক ও ওই আসনের নির্বাচনি সমন্বয়ক রফিকুল আলম মজনুও মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
ফেনী-১ আসন থেকে এর আগে পাঁচ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।
আজ (সোমবার) খালেদা জিয়ার পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দিতে সেখানে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ মহানগর বিএনপির আহবায়ক রফিকুল আলম মজনু, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু তালেব, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ ফরিদ বাহার, আলাল উদ্দিন আলালসহ জেলা-উপজেলার নেতা-কর্মীরা।
এই আসনে বিকল্প প্রার্থী ঠিক করে রাখার ব্যাপারে দলের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, নেত্রী অসুস্থ থাকায় বিকল্প প্রার্থী রাখা হয়েছে। যদি শেষ মুহূর্তে তিনি ভোটে দাঁড়াতে না পারেন, তখন বিকল্প চিন্তা করা হবে। তবে খালেদা জিয়া মাঠে না থাকলেও তার পক্ষে প্রচার-প্রচারণা অব্যাহত রয়েছে।
বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু তালেবের নেতৃত্বে গত ২১ ডিসেম্বর বিকেলে ফেনী-১ আসন থেকে খালেদা জিয়ার পক্ষে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন দলটির নেতারা।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, খালেদা জিয়া এই আসন থেকে ১৯৯১, ১৯৯৬ (দুইবার), ২০০১ ও ২০০৮ সালের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। আসনটি বরাবরই খালেদা জিয়ার আসন হিসেবে পরিচিত। এই আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে তিনি তিনবার দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। ইতোমধ্যে এই আসনে তার পক্ষে ভোট চেয়ে প্রচারপত্র বিলি করছেন স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতারা।
একই সময়ে ফেনী-১ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন জামায়াত মনোনীত প্রার্থী এস এম কামাল উদ্দিন; ফেনী-২ আসনে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অধ্যাপক জয়নাল আবেদিন, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া; ফেনী-৩ আসনে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু, ছাত্র শিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ডা. ফখরুদ্দিন মানিক এবং জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের সাধারণ সম্পাদক শহিদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন।
ফেনী জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মনিরা হক বলেন, ফেনী-১ আসনে ১৩, ফেনী-২ আসনে ১৬ এবং ফেনী-৩ আসনে ১৬ জনসহ মোট ৪৫ জন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন।
নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র জমার শেষ সময় ছিল আজ (সোমবার) বিকেল ৫টা।
১১ ডিসেম্বর জাতির উদ্দেশে ভাষণের মাধ্যমে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন। এরপর গত ১৮ ডিসেম্বর তফসিল-সংক্রান্ত সংশোধিত প্রজ্ঞাপন জারি করে ইসি। সেখানে মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার সময় দুদিন কমিয়ে আপিল নিষ্পত্তির সময় দুদিন বাড়ানো হয়।
সংশোধিত তফসিলের নির্বাচন সময়সূচি অনুযায়ী, সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাছাই হবে ৩০ ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত। রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে ৫ জানুয়ারি থেকে ৯ জানুয়ারির মধ্যে, আপিল নিষ্পত্তি হবে ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারির মধ্যে, আর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি।
রিটার্নিং কর্মকর্তা চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে প্রতীক বরাদ্দ করবেন ২১ জানুয়ারি। নির্বাচনি প্রচারণা শুরু হবে ২২ জানুয়ারি। প্রচার চালানো যাবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত। আর ভোট গ্রহণ করা হবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি।
১৫৭ দিন আগে
মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন মির্জা ফখরুল
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) সকালে ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা ইশরাত ফারজানার কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেন তিনি।
মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের মির্জা ফখরুল বলেন, দীর্ঘদিন পর আমরা বাংলাদেশের মানুষ ভোটাধিকার ফিরে পেয়েছি। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচনে বিএনপির পক্ষ থেকে আমাকে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এজন্য বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। তারা আবারো আমাকে এ আসন থেকে নির্বাচন করার সুযোগ করে দিয়েছেন।
এ সময় সৃষ্টিকর্তার দরবারে শুকরিয়া আদায় করে তিনি বলেন, যদি আমরা সুযোগ পাই, জনগণের ভালোবাসায় যদি নির্বাচিত হতে পারি, তাহলে নিশ্চয় এই ঠাকুরগাঁও অঞ্চলের উন্নয়ন, সামাজিক পরিবেশ, এখানকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো ও আর্থ সামাজিক ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটাব এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি করব। এ ছাড়াও কর্মসংস্থানকে সৃষ্টির বিষয়গুলোতে সবচেয়ে গুরুত্ব আরোপ করব। এর পাশাপাশি কৃষকদের যেসব সমস্যা রয়েছে, সেগুলো সমাধানের চেষ্টা করব।
মির্জা ফখরুল বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই এলাকার জনগণের কাছে আমার আবেদন ও অনুরোধ থাকবে, আপনারা দয়া করে এই অঞ্চলে আগে আমাকে যেভাবে সমর্থন দিয়েছেন, এখনো সেইভাবে সমর্থন দিয়ে ধানের শীষে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করবেন।
ঠাকুরগাঁও-১ আসনে মির্জা ফখরুল ছাড়াও জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের মাওলানা দেলোয়ার হোসেন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
১৫৭ দিন আগে
ঢাকা-১৭ আসনে তারেক রহমানের মনোনয়নপত্র জমা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৭ আসন থেকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) দুপুর পৌনে ১২টার দিকে সেগুনবাগিচায় বিভাগীয় কমিশনার ও রিটার্নিং কর্মকর্তা শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরীর কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেন তার প্রধান নির্বাচনি সমন্বয়ক ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আব্দুস সালাম এবং অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার।
এ সময় ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হকসহ দলের অন্যান্য নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর আব্দুস সালাম সাংবাদিকদের বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দেশের বাইরে রাখা হয়েছে। তাকে অত্যাচার-নিপীড়ন করা হয়েছে। আমরা আপনাদের সবার কাছে তার জন্য দোয়া চাই। আগামী নির্বাচনে আমরা বিশ্বাস করি, উনি এ আসন থেকে বিপুল ভোটে জয়লাভ করবেন এবং দেশের সরকার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে দেশের যে আজকে একটা ক্রাইসিস, সংকট চলছে, সেটা থেকে উত্তরণ ঘটাতে সচেষ্ট হবেন।
অন্যদিকে, বগুড়া-৬ আসনে তারেক রহমানের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার কথা রয়েছে বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশার।
এছাড়া, বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষে আজ বগুড়া-৭ আসনের মনোনয়নপত্রও জমা দেওয়া হবে। পাশাপাশি ঢাকা দক্ষিণ সিটি বিএনপির আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম মজনুর নেতৃত্বে বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষে ফেনী-১ আসনের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হবে।
এর আগে, রবিবার বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষে দিনাজপুর-৩ আসনের মনোনয়নপত্র জমা দেন জেলা বিএনপির সভাপতি মোফাজ্জল হোসেন দুলাল ও সাধারণ সম্পাদক বখতিয়ার আহমেদ।
বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শয়রুল কবির খান জানিয়েছেন, ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির অন্যান্য সদস্য এবং দলের সব প্রার্থী নিজ নিজ আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে তাদের মনোনয়নপত্র জমা দেবেন।
নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র জমার শেষ সময় আজ (সোমবার) বিকেল ৫টা পর্যন্ত।
১১ ডিসেম্বর জাতির উদ্দেশে ভাষণের মাধ্যমে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন। এরপর গত ১৮ ডিসেম্বর তফসিল-সংক্রান্ত সংশোধিত প্রজ্ঞাপন জারি করে ইসি। সেখানে মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার সময় দুদিন কমিয়ে আপিল নিষ্পত্তির সময় দুদিন বাড়ানো হয়।
সংশোধিত তফসিলের নির্বাচন সময়সূচি অনুযায়ী, সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাছাই হবে ৩০ ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত। রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে ৫ জানুয়ারি থেকে ৯ জানুয়ারির মধ্যে, আপিল নিষ্পত্তি হবে ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারির মধ্যে, আর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি।
রিটার্নিং কর্মকর্তা চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে প্রতীক বরাদ্দ করবেন ২১ জানুয়ারি। নির্বাচনি প্রচারণা শুরু হবে ২২ জানুয়ারি। প্রচার চালানো যাবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত। আর ভোট গ্রহণ করা হবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি।
১৫৭ দিন আগে
ভোটার হলেন তারেক রহমান
২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে ভোটার হয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। নিবন্ধনের আনুষ্ঠানিকতা সারার পরের দিনই তার নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির অনুমোদন দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
রবিবার (২৮ ডিসেম্বর) বিকেলে ইসির জনসংযোগ পরিচালক রুহুল আমিন মল্লিক এ কথা জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘তারেক রহমান সাহেবের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার বিষয়টি মাননীয় নির্বাচন কমিশন কর্তৃক অনুমোদিত হয়েছে।’
এর আগে, গতকাল (শনিবার) তারেক রহমান ও তার মেয়ে জাইমা রহমান আগাওগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশনে গিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নিবন্ধন ও ভোটার হওয়ার প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন।
তারেক রহমান ও জাইমা রহমান গুলশান এলাকার ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের আওতায় ঢাকা-১৭ আসনে ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছেন। ভোটার নিবন্ধনে গুলশান-২-এর ১৯৬ নম্বর বাড়ি তাদের ঠিকানা হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।
গতকাল ইসি সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছিলেন, তারেক রহমান ও তার মেয়ে জাইমা রহমানের ভোটার নিবন্ধন কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। তাদের নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে কি না, সে বিষয়ে রবিবার সিদ্ধান্ত নেবে ইসি।
তিনি আরও বলেছিলেন, ভোটার নিবন্ধন আইন ২০০৯-এর ১৫ ধারা অনুযায়ী যেকোনো প্রাপ্তবয়স্ক, ভোটার হতে সক্ষম ব্যক্তিকে ভোটার করার এখতিয়ার কমিশনের আছে। তাদের (তারেক ও জাইমা) আবেদন আগামীকাল (রবিবার) কমিশনে পেশ করা হবে। কমিশনের সিদ্ধান্ত মোতাবেক তাদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
১৫৮ দিন আগে
নির্বাচনের মধ্য দিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠাই বিএনপির লক্ষ্য: ফখরুল
ইসলাম শান্তির ধর্ম উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমরা শান্তি চাই। আমরা চাই, নির্বাচনের মধ্য দিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হোক। আমরা চাই, এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে একটা নতুন বাংলাদেশ গড়ে উঠুক, যেখানে আমার ভবিষ্যৎ বংশের জন্য একটা সুন্দর ভবিষ্যৎ রচনা করতে পারব। এটাই হচ্ছে আমাদের একমাত্র লক্ষ্য।
রবিবার (২৮ ডিসেম্বর) দুপুরে নিজের নির্বাচনি এলাকা ঠাকুরগাঁও শহরের মানব কল্যাণ পরিষদ চত্বরে আলেম-ওলামাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ। এ দেশে কোরআন ও সুন্নাহর বাইরে কোনো আইন আমরা করতে দেব না। এটা আমাদের কমিটমেন্ট। এই কমিটমেন্ট আমরা সবসময় করে এসেছি।
‘আমি যখন চরমোনাই পীর সাহেবের সঙ্গে বসেছিলাম, আমরা ১০টা বিষয়ের মধ্যে একমত হয়েছিলাম। তার মধ্যে এটা একটা। অনেকেই আপনাদের বিভ্রান্ত করার জন্য বলে, আমরা নাকি কুরআন ও সুন্নাহর আইন চাই না। নাউজুবিল্লাহ! আমরা সবসময় কোরআন-সুন্নাহর মধ্যে থাকতে চাই। আমাদের বংশ সেটা, আমাদের রক্তের মধ্যে সেটা। আমি গর্বিত যে আমি একজন মুসলমান।’
তিনি বলেন, ‘ইসলাম শান্তির ধর্ম, আমরা শান্তি চাই। আমরা চাই, নির্বাচনের মধ্য দিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হোক। আমরা চাই, এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে একটা নতুন বাংলাদেশ গড়ে উঠুক, যেখানে আমি আমার ইবাদত শান্তিতে করতে পারব, আমার ধর্মচর্চা শান্তিতে করতে পারব, আমার ভবিষ্যৎ বংশের জন্য একটা সুন্দর ভবিষ্যৎ রচনা করতে পারব। এটাই হচ্ছে আমাদের একমাত্র লক্ষ্য।’
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আপনারা দেখেছেন আমাদের নেতা তারেক রহমান সাহেব নির্বাসিত অবস্থা থেকে দেশে আসার পরে কীভাবে স্বতঃস্ফুর্তভাবে জনগণ ঢাকার রাজপথে ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে তিনি যে বক্তব্য রেখেছেন, আমি বিশ্বাস করি, আমাদের আলেম-ওলামারা সবাই সেটাকে পছন্দ করেছেন। তিনি সেখানে বারবার ইসলামের কথা বলেছেন, আল্লাহর কথা বলেছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের সম্পর্কে অনেকেই অনেক কথা বলে ভুল বোঝানোর চেষ্টা করে, কিন্তু আমরা এদেশের ৯৫ ভাগ মানুষ মুসলমান। আমাদের ধর্ম, কৃষ্টি ও সংস্কৃতি রক্ষা করার জন্য আমরা সবচেয়ে বেশি ভূমিকা পালন করেছি।’
দেশের বর্তমান পরিস্থিতি প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, দেশ এখন একটি ক্রান্তিকালের মধ্যে পার হচ্ছে। বিভিন্ন রকম কথাবার্তা উঠছে। বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে, আন্দোলন হচ্ছে। দেশকে অস্থির করার জন্য পেছন থেকে কিছু লোক কাজ করছে।
আবার যেন অন্ধকারের দিকে চলে না যেতে হয়, সেজন্য আমাদের এই সময়ে একটু সাবধান থাকতে হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা নিজেরা যেন বিভেদ ও চক্রান্তকারীদের হাতে না পড়ি। নাহলে দেশ আমাদের আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। নির্বাচনকে ভাঙার চেষ্টা করা হচ্ছে। সেটা যেন করতে না পারে, সেদিকে আপনাদের খেয়াল রাখতে হবে।’
নির্বাচনে জয়ী হয়ে বিএনপি সরকার গঠন করলে ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়ন পরিকল্পনাও এসময় তুলে ধরেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, ‘আমরা যদি সরকারে যেতে পারি, তাহলে অবশ্যই ঠাকুরগাঁওয়ে পুনরায় বিমানবন্দর চালু করা হবে। আপনারা মেডিকেল কলেজের কথা বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা বলেছেন, সবগুলোই প্রতিষ্ঠা করা হবে। আমরা আপনাদের সঙ্গে আছি। এই ঠাকুরগাঁওয়ে যতগুলো স্কুল-কলেজ, মাদরাসা রয়েছে, আমি বিশ্বাস করি, তার ৯০ শতাংশে আমাদের অবদান রয়েছে।
‘আপনারা জানেন, বিএনপি একটা পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে। খতিব, ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের সামাজিক মর্যাদা ও জীবনমান উন্নয়নে মাসিক সম্মানী-ভাতা দেওয়া হবে। বিএনপি ক্ষমতায় এলে ধর্মীয় উৎসবে বিশেষ ভাতা প্রদান করা হবে। দক্ষতার উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে।’
সবশেষে প্রবীণ এই রাজনীতিক বলেন, ‘এই নির্বাচন আমার শেষ নির্বাচন। বয়স হয়ে গেছে। এরপরে আমার পক্ষে নির্বাচন করা সম্ভব হবে কিনা জানি না। আমি আপনাদের কাছে এইটুকু অনুরোধ করতে চাই, আপনারা যদি মনে করেন যে আমি অতীতে আপনাদের পাশে দাঁড়াতে পেরেছি, কাজ করতে পেরেছি, তাহলে দয়া করে আমাকে (নির্বাচনে) সহযোগিতা করবেন এবং আমার জন্য দোয়া করবেন।’
এ সময় জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন, সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল হামিদ, পৌর বিএনপির সভাপতি শরিফুল ইসলাম শরীফসহ জেলা বিএনপির নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
১৫৮ দিন আগে