বিএনপি
এবার নির্বাচনে নৌকা নেই, কান্ডারি দিল্লিতে: মির্জা ফখরুল
আগে নৌকা আর ধানের শীষ ছিল। এবার নৌকা নাই। নৌকার কান্ডারি সাবেক প্রধানমন্ত্রী হাসিনা আপনাদের ফেলে ভারতে চলে গেছে। দিল্লিতে গিয়ে বসে আছে। আমাদের বিপদে ফেলে চলে গেছে। থাকলে অত্যন্ত একটা গণতান্ত্রিক অবস্থা বিরাজ করত বলে মন্তব্য করেছেন ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ও দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে সদর উপজেলার বেগুনবাড়ি ইউনিয়নের বিডি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নির্বাচনি গণসংযোগে তিনি এ মন্তব্য করেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ছাত্রদের তাড়া খেয়ে শেখ হাসিনা পালাইছে। তার নেতা-কর্মীরা এখন বিপদে। যারা পালায় তাদের আমরা চাই না। অনেক ছাত্রের রক্তের বিনিময়ে আমরা ভোট দেওয়ার অধিকার পেয়েছি। ১৫ বছর মত প্রকাশের সুযোগ পাইনি, এবার পেয়েছি। যারা ভোট দিতে চেয়েছে, তাদের মামলা দিয়ে জেলে দিত আওয়ামী লীগ।’
তিনি বলেন, আমরা ১৯৭১ সালকে মাথায় তুলে রাখতে চাই। কারণ একাত্তরই আমাদের ও বাংলাদেশের অস্তিত্ব। পাকিস্তানের শোষণ-নির্যাতনের কারণেই বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধ করে আমরা দেশ স্বাধীন করেছি। অথচ যারা শেষ মুহূর্তে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে সহযোগিতা করেছে আজ তারা আবার দেশ শাসনের জন্য ভোট চাচ্ছে। তাদের ভোট দিয়ে দেশের সর্বনাশ করবেন না।
দেশের হিন্দু জনগোষ্ঠীর উদ্দেশে বিএনপি মহাসচিব বলেন, হিন্দু ভাই-বোনদের মধ্যে একটি ভয় কাজ করে— তারা সংখ্যালঘু, তাদের ওপর নির্যাতন হতে পারে। কিন্তু বিএনপি স্পষ্টভাবে বিশ্বাস করে, এই দেশে কেউ সংখ্যালঘু নয়। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া পরিষ্কার করে বলে গেছেন এই দেশের সংখ্যালঘু কেউ নাই, সবাই বাংলাদেশের নাগরিক। এই দেশের সবাই সমান নাগরিক। তাই কাউকে ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই। সবাই বুক উঁচু করে দাঁড়াবেন, আমরা আপনাদের পাশেই থাকব।
এ সময় প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি কথা দিচ্ছি, বিএনপি সব সময় আপনাদের অধিকার রক্ষা করবে। হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে সকল নাগরিকের অধিকার, বিশেষ করে মা-বোনদের অধিকার রক্ষায় বিএনপি আপসহীন থাকবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের দেশের কৃষি এখনও সঠিকভাবে হয়নি। আমাদের জেলার কৃষকরা সবচেয়ে বেশি অসহায়। আমরা ক্ষমতায় গেলে কৃষিভিত্তিক শিল্পায়ন করতে চাই। শুধু বিএ পাস করলেই হবে না। টেকনিক্যাল ট্রেনিং নাও, বিদেশে ভুরিভুরি চাকরি অপেক্ষা করছে।’
সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল হামিদসহ দলটির নেতা-কর্মীরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
১২৯ দিন আগে
১৪ ঘণ্টায় ৬ জনসভায় সম্পন্ন তারেকের দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনি প্রচার
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান রবিবার (২৫ জানুয়ারি) প্রায় ১৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ছয়টি জনসভায় যোগ দেওয়ার মাধ্যমে তার নির্বাচনি প্রচারণার দ্বিতীয় ধাপ সম্পন্ন করেছেন। এসব সভায় তিনি তার দলের প্রার্থী ও জোটের শরিকদের পক্ষে ভোট চান।
বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, তারেক রহমান গতকাল দিবাগত রাত সোয়া ২টার দিকে নারায়ণগঞ্জের বালুর মাঠে তার শেষ নির্বাচনি জনসভায় বক্তব্য রাখেন। এরপর রাত ৩টা ১০ মিনিটের দিকে তিনি তার গুলশানের বাসভবনে ফিরে আসেন। এর আগে, তিনি চট্টগ্রাম, ফেনী, কুমিল্লা ও নারায়ণগঞ্জে জনসভায় অংশ নেন।
রবিবার (২৫ জানুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে চট্টগ্রামের পোলোগ্রাউন্ডে মহাসমাবেশে যোগ দিয়ে দিনের কর্মসূচি শুরু করেন তারেক রহমান। এরপর পর্যায়ক্রমে ফেনী পাইলট স্কুল মাঠ, চৌদ্দগ্রাম স্কুল মাঠ, সোয়াগাজী ডিগবাজী মাঠ, দাউদকান্দি ঈদগাহ মাঠ এবং নারায়ণগঞ্জের বালুরমাঠে জনসভায় বক্তব্য দেন।
প্রতিটি জনসভায় তিনি বিএনপি ও জোট প্রার্থীদের সমর্থনে ভোট চান এবং ক্ষমতায় এলে দেশ পুনর্গঠনে দলের নেওয়া বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।
প্রচণ্ড শীত উপেক্ষা করে নারীসহ হাজার হাজার বিএনপি নেতা-কর্মী ও সমর্থক তার বক্তব্য শোনার জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেন।
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে নির্বাচনি সমাবেশে তিনি বলেন, ‘যেদিন ভোট, সেদিন তাহাজ্জুদের নামাজ পড়তে হবে। তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ে যে যার ভোটকেন্দ্রের সামনে যাবেন। ওখানে গিয়ে সবাই মিলে ফজরের নামাজ পড়বেন। ফজরের নামাজ জামাতে পড়ে একদম ভোটকেন্দ্রের সামনে দাঁড়িয়ে যাবেন।’
দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনি প্রচারণার উদ্দেশ্যে শনিবার রাতে চট্টগ্রামে পৌঁছান তারেক রহমান এবং সেখানে একটি হোটেলে রাত্রিযাপন করেন। রবিবার দিনের শুরুতে তিনি একটি ইয়ুথ পলিসি ডায়ালগে অংশ নিয়ে শিক্ষার্থীদের সাথে নীতি-নির্ধারণী বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করেন এবং তাদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।
উল্লেখ্য, গত ২২ জানুয়ারি সিলেটের আলিয়া মাদ্রাসা মাঠ থেকে বিএনপির নির্বাচনি প্রচারণার প্রথম ধাপ শুরু হয়েছিল। প্রথম ধাপে তারেক রহমান সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, নরসিংদী এবং নারায়ণগঞ্জে মোট ৭টি জনসভায় অংশ নিয়েছিলেন।
এদিকে, আজ (সোমবার) বিকেল ৪টায় তিনি ভার্চুয়ালি নোয়াখালীর হাতিয়ায় একটি জনসভায় বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে বিএনপি চেয়ারম্যানের। সেখানে তিনি নোয়াখালী-৬ আসনের বিএনপি প্রার্থী মাহবুবুর রহমান শামীমের পক্ষে ভোট চাইবেন।
১২৯ দিন আগে
চট্টগ্রামে দুর্নীতিবিরোধী কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের অঙ্গীকার তারেক রহমানের
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, আসন্ন সংসদীয় নির্বাচনের মাধ্যমে তার দল ক্ষমতায় এলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করা হবে এবং জননিরাপত্তা জোরদার করা হবে।
রবিবার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রাম নগরীর পলোগ্রাউন্ড মাঠে চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপি আয়োজিত নির্বাচনি মহাসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জনতার উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা খুব স্পষ্ট করে বলতে চাই যে দুর্নীতি একটি অপরাধ। যে-ই দুর্নীতি করুক না কেন, আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হবে। ইনশাআল্লাহ, কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।’ দুর্নীতি দমন এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা জনগণের প্রতি তাদের প্রধান অঙ্গীকার বলে এ সময় উল্লেখ করেন তিনি।
অতীত স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, বিএনপি অতীতেও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে সফল হয়েছে। ২০০১ সালে খালেদা জিয়ার সরকার ক্ষমতায় আসার পর এমনকি দলের নিজস্ব নেতা-কর্মীরা অন্যায় করলেও তাদের রেহাই দেওয়া হয়নি।
দলীয় শৃঙ্খলা ও দুর্নীতির বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘বিএনপি ক্ষমতায় গেলে দলের কেউ সন্ত্রাসে জড়িত থাকলে ছাড় দেওয়া হবে না। যেকোনো মূল্যে দুর্নীতি প্রতিরোধ করা হবে এবং দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
চট্টগ্রাম বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রাণকেন্দ্র উল্লেখ করে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘এখানকার মানুষসহ সারা দেশের জনগণ একটি নিরাপদ পরিবেশ চায়, যেখানে তারা নির্বিঘ্নে ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা করতে পারবে। একই সঙ্গে তারা চায় তাদের সন্তানরা নিরাপদ পরিবেশে লেখাপড়া করুক।’
তিনি বলেন, ‘এ অঞ্চলের মানুষের একটি বড় দাবি ছিল চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলা। বিএনপি সরকার এ উদ্যোগ গ্রহণ করলেও সময়ের অভাবে তা সম্পূর্ণ করা যায়নি। গত ১৫ বছরে এই উদ্যোগ নিয়ে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে শুধু চট্টগ্রাম নয়, সারা দেশের মানুষের জন্য ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। ইনশাআল্লাহ, আগামী নির্বাচনে জনগণের সমর্থনে বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে বেগম খালেদা জিয়ার নেওয়া বাণিজ্যিক রাজধানীর উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে।’
তারেক রহমান জানান, ‘চট্টগ্রামে অবস্থিত ইপিজেডগুলো বিএনপির শাসনামলেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, যেখানে বর্তমানে লাখ লাখ মানুষ কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছে। ভবিষ্যতে বিএনপি সরকার গঠন করলে আরও নতুন ইপিজেড গড়ে তোলা হবে, যা কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’
চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দিয়ে তিনি ভোটারদের ধানের শীষ প্রতীকে আস্থা রাখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘আমরা সবাইকে নিয়ে—পাহাড় বা সমতল, মুসলিম বা অন্য ধর্মাবলম্বী—একটি কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়তে চাই।’
বিএনপির নির্বাচনি স্লোগান ‘করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে গণতন্ত্রের পক্ষের সব শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’ ওয়াসিমসহ জুলাই শহিদ এবং সব শহিদের আত্মত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন ও তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য ধানের শীষের প্রার্থীদের বিজয়ী করার আহ্বান জানান তিনি।
ভোটের দিনের প্রস্তুতি নিয়ে তিনি সমর্থকদের পরামর্শ দেন যেন তারা তাহাজ্জুদ ও ফজরের নামাজ পড়ে ভোর হওয়ার আগেই ভোটকেন্দ্রে লাইনে গিয়ে দাঁড়ান।
এর আগে, তারেক রহমান তার বক্তব্যে শুরুতে বলেন, ‘আজ আমরা সবাই একত্র হয়েছি একটা লক্ষ্য সামনে রেখে। অর্থাৎ, একটি পরিবর্তন সামনে রেখে আমরা একত্র হয়েছি। এই সেই চট্টগ্রাম, এই সেই পুণ্যভূমি, যেখান থেকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। এই সেই চট্টগ্রামের পুণ্যভূমি, যেখানে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শহীদ হয়েছিলেন।’
বিএনপি চেয়ারম্যান আরও বলেন, ‘এই সেই চট্টগ্রামের পুণ্যভূমি, যেখানে দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে দেশনেত্রী উপাধি দেওয়া হয়েছিল। এই চট্টগ্রামের সঙ্গে আমি ও আমার পরিবারের আবেগের সম্পর্ক রয়েছে।’
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তারেক রহমান চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। পরে তিনি নগরের একটি পাঁচতারকা হোটেলে অবস্থান নেন। আজ (রবিবার) সকাল ৯টায় তিনি সেখানে ‘দ্য প্ল্যান’ শিরোনামে ‘ইয়ুথ পলিসি টক উইথ তারেক রহমান’ অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
তিনি দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পোলোগ্রাউন্ড মঞ্চে উপস্থিত হন এবং দুপুর ১টা ৪০ মিনিটের দিকে ফেনীর উদ্দেশে রওনা হন। সেখানে তিনি আরেকটি নির্বাচনি সমাবেশে অংশ নেবেন। এরপর তিনি কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম, সুয়াগাজী, দাউদকান্দি ও পরবর্তীতে নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুরে সমাবেশে অংশ নেবেন।
১৩০ দিন আগে
ওরা মামলাবাজি করেছে বলে আমরাও করব, সেটা যেন না হয়: মির্জা ফখরুল
ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ১৫ বছর আমাদের ওপর বহু জুলুম-নির্যাতন গেছে আমাদের ছেলেদের ওপর। এমন কোনো মামলা নাই যে দেওয়া হয়নি। আমার বিরুদ্ধে একশরও বেশি মামলা হয়েছে। ১১ বার জেলে গেছি। সাড়ে তিন বছর জেল খেটেছি।
তিনি বলেন, কিন্তু আল্লাহর হুকুমে আমরা রাস্তাটাকে ছাড়ি নাই। আমাদের লক্ষ্য একটাই, এই দেশে আমরা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করবই। আমরা সেই লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছি। ঠাকুরগাঁও সদর থানায় আমার দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে সাড়ে ৭ হাজার মামলা হয়েছে। কিন্তু কেউ দমে যায়নি, কেউ আওয়ামী লীগে যায়নি। কারণ আমরা সঠিক পথে ছিলাম, সত্যের পক্ষে ছিলাম। সত্যের পক্ষে ছিলাম বলেই ২০২৪-এর আন্দোলনের পর আমরা একটা মুক্ত বাতাস পেয়েছি।
রবিবার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার সালন্দর ইউনিয়নের বরুনাগাঁও দাখিল মাদরাসা মাঠে নির্বাচনি গণসংযোগে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, বাংলাদেশের মানুষ এখন রাতে একটু আরাম করে ঘুমাতে পারে। আগে কেউ ঘরে ঘুমাতে পারত না। পুলিশের ভয়ে, খোলা মাঠে রাতে ঘুমাত। এখন আমাদের দায়িত্ব, সুন্দর একটা দেশ তৈরি করা; ভালো দিন তৈরি করা; পাল্টা মামলাবাজি না করা। ওরা মামলাবাজি করেছে বলে আমরা যে পাল্টা মামলাবাজি করব সেটা যেন না হয়।
তিনি আরও বলেন, আমাদের নেত্রী বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন কোনো প্রতিহিংসা নয়, প্রতিশোধ নয়, হিংসা নয়। আসুন আমরা সবার সঙ্গে ভালোবাসা দিয়ে নতুন বাংলাদেশ নির্মাণ করি। এগুলা বললে আবার কিছু কিছু মানুষ স্যোশাল মিডিয়ায় বলে, আমরা নাকি আপোস করেছি। এটা আপস নয়, এটা হচ্ছে ভ্রাতৃত্ববোধের নতুন সমাজ তৈরি করা, হিংসা তৈরি না করা।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমাদের দেশে হিন্দু-বৌদ্ধসহ অন্যান্য ধর্মের মানুষ আছে। ধর্ম টেনে আনলে পক্ষপাতিত্ব হয়ে যাবে। রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার ঠিক নয়। এই নতুন নির্বাচন যে আমরা করতে যাচ্ছি, প্রথম কথা হচ্ছে আমরা আপনাদের শান্তি দিতে চাই, নিরাপত্তা দিতে চাই। হিন্দু ভাই-বোনরা অনেক সময় বলেন, নিরাপত্তার সমস্যা। তারা বলেন, ‘জিতলেও আমাদের মারেন, হারলেও আমাদের মারেন।’ হিন্দু ভাই-বোনদেরকে বলতে চাচ্ছি, আপনারা আগে নিজেরা শক্ত হোন; বুকের মধ্যে সাহস আনুন।
তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে বিএনপির পার্থক্য হলো, বিএনপি পরীক্ষিত দল। আমাদের আপনারা সবাই চেনেন। ক্ষমতায় এলে মায়েদের ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। কার্ড দিয়ে ন্যায্যমূল্যে চাল, ডাল, আটা পাবেন। হাসপাতালে গেলে চিকিৎসা পাবেন। সন্তানদের শিক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারবেন। কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড দেওয়া হবে। সার-বীজ ন্যায্যমূল্যে পাওয়া যাবে।
মির্জা ফখরুল বলেন, আপনাদের জন্য এর আগেও পৌরসভার চেয়ারম্যান থাকাকালে কাজ করেছি। সংসদে গিয়েও কাজ করেছি। আমাকে আপনারা দীর্ঘদিন ধরে চেনেন। আমার নতুন করে পরিচয় দেবার কিছু নেই। আমার গোটা পরিবারকে আপনারা চেনেন। বাবা-দাদার জমি বিক্রি করে রাজনীতি করি, আপনাদের আমানতের খেয়ানত করব না। আপনাদের সব সমস্যার স্থায়ী সমাধান করব। আপনারা অভিযোগ করেছেন, এখানে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের দুর্বৃত্তদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ, এগুলো আর থাকবে না। আমার দলের কেউ দুর্বৃত্তায়নে জড়িত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেব।
১৩০ দিন আগে
চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ডে বিএনপির নির্বাচনি সমাবেশ চলছে
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চট্টগ্রামে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির আনুষ্ঠানিক নির্বাচনি মহাসমাবেশ শুরু হয়েছে।
রবিবার (২৫ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টায় মহানগরীর ঐতিহাসিক পলোগ্রাউন্ড ময়দানে এই জনসভার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপস্থিতিকে ঘিরে পুরো চট্টগ্রাম নগরীতে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।
জনসভা শুরুর আগেই সমাবেশস্থল কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। ভোর থেকেই চট্টগ্রাম নগরী ছাড়াও জেলার ১৬ উপজেলা, কক্সবাজার ও তিন পার্বত্য জেলা থেকে বিএনপির নেতা-কর্মীরা পলোগ্রাউন্ড ময়দানে জড়ো হতে শুরু করেন।
সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে নগরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে নেতা-কর্মীরা স্লোগান দিতে দিতে জনসভাস্থলে প্রবেশ করেন। এতে পুরো এলাকা স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে।
চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহর সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব নাজিমুর রহমানের সঞ্চালনায় আয়োজিত এই জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে দিকনির্দেশনামূলক ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের। দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর চট্টগ্রামে কোনো জনসভায় ভাষণ দিতে যাচ্ছেন তিনি।
মঞ্চে উপস্থিত আছেন দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা। নেতা-কর্মীরা অধীর আগ্রহে তাদের নেতার বক্তব্য শোনার অপেক্ষায় রয়েছেন।
এর আগে, শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তারেক রহমান চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। পরে তিনি নগরের একটি পাঁচতারকা হোটেলে অবস্থান নেন। আজ (রবিবার) সকাল ৯টায় তিনি সেখানে ‘দ্য প্ল্যান’ শিরোনামে ‘ইয়ুথ পলিসি টক উইথ তারেক রহমান’ অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
চট্টগ্রামের জনসভা শেষে সড়কপথে ঢাকায় ফেরার পথে ফেনী, কুমিল্লা ও নারায়ণগঞ্জে একাধিক নির্বাচনি জনসভায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের।
১৩০ দিন আগে
ভারতের সঙ্গে বিএনপির চুক্তির বিষয়টি ভিত্তিহীন: মাহদী আমিন
বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন বলেছেন, ভারতের সঙ্গে বিএনপির চুক্তির অভিযোগের কোনও ভিত্তি নেই। এটা সম্পূর্ণ অপপ্রচার। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করাই বিএনপির রাজনীতি।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সকালে গুলশানে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
মাহদী আমিন বলেন, ভারতের সঙ্গে বিএনপির চুক্তির বিষয়ে যে দাবি করা হয়েছে, তার পক্ষে কোনও প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি এবং ভবিষ্যতেও তা করা সম্ভব নয়। যেসব তথ্য একটি নির্দিষ্ট মিডিয়ায় এসেছে বলে দাবি করা হচ্ছে, সেগুলোর ন্যূনতম বাস্তবতা বা সত্যতা নেই।
গত ২২ জানুয়ারি কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে দলীয় কর্মসূচিতে জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের অভিযোগ করেন, ১০ দলীয় জোটের প্রতিদ্বন্দ্বী দলের প্রধান আগামী নির্বাচন ঘিরে তিন শর্তে ভারতের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন।
এর জবাবে মাহদী জানান, ‘যদি জামায়াত নেতা ভুল তথ্য পেয়ে অথবা বিভ্রান্তি ছড়ানোর জন্য ব্যবহার হয়ে থাকেন, তা তার অজ্ঞতার পরিচায়ক। আমাদের বিশ্বাস, এটা হয় একটি কৌশল, নয়তো অজ্ঞতার বিষয়। আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই যে ভারতের সঙ্গে বিএনপির কোনো চুক্তি সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং এটি প্রচারণার অংশ।’
তিনি বলেন, আমরা গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বলতে সেটাই বুঝি যে এখানে ইতিবাচক রাজনীতি হবে। কোনো অপপ্রচার, অপরাজনীতি সেটা হওয়া উচিত না। কারণ বিএনপির রাজনীতি মানেই বাংলাদেশপন্থি রাজনীতি। আমাদের নেতা তারেক রহমানের যে রাজনীতি সেটা হচ্ছে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। বাংলাদেশের স্বার্থ, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, জনগণের ক্ষমতা এটিকে কেন্দ্র করেই বিএনপির রাজনীতি।
মাহদী আমিন জানান, একটি প্রতারক চক্র বিতর্ক সৃষ্টির লক্ষ্যে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড দেওয়ার নামে কিছু কিছু জায়গায় টাকা চাচ্ছে। তারেক রহমানের নারীর ক্ষমতায়ন এবং কৃষকের সমৃদ্ধির জন্য ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড দেওয়ার যে পরিকল্পনা, ইতোমধ্যে তা দেশব্যাপী আলোচিত-সমাদৃত হয়েছে। বিএনপি যদি জনগণের ভোটে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পায়, ইনশআল্লাহ তখন সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এবং যথাযথ ব্যক্তিদের হাতে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে এই কার্ডগুলো পৌঁছে দেওয়া হবে। যদি কেউ এই বিষয়ে কোনো অসাধু উদ্দেশ্য হাসিলের চেষ্টা করে সেক্ষেত্রে আপনারা আমাদের অবহিত করবেন এবং অবশ্যই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্বারস্থ হবেন।’
মাহদী আমীন বলেন, আমাদের নেতা তারেক রহমান তার নির্বাচনি প্রচারণার অংশ হিসেবে আজকে চট্টগ্রামে যাচ্ছেন। সফরের শুরুতে তিনি আজ রাত ৭টা ৩৫ মিনিটে ঢাকা থেকে বিমান যোগে চট্টগ্রামে পৌঁছাবেন এবং সেখানে রাত্রিযাপন করবেন।
তারেক রহমান আগামীকাল অর্থাৎ ২৫ জানুয়ারি সকালে চট্টগ্রামের একটি হোটেলে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে ‘ইউথ পলিসি টক’ এ অংশগ্রহণ করবেন। এই পলিসি টকে তিনি শিক্ষা, কর্মসংস্থান, কৃষি, স্বাস্থ্য, নারীর ক্ষমতায়ন, পরিবেশসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিএনপির পলিসি নিয়ে আলোচনা করবেন। এরপর তিনি চট্টগ্রাম পোলোগ্রাউন্ডে আয়োজিত নির্বাচনি সমাবেশে অংশগ্রহণ করবেন।
চট্টগ্রামে সমাবেশের পর বিএনপি চেয়ারম্যান ফেনী, কুমিল্লা ও নারায়নগঞ্জে সমাবেশে অংশ নেবেন।
১৩১ দিন আগে
বিএনপি ছাড়া দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার মতো কেউ নেই: মির্জা ফখরুল
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশের উন্নয়ন একমাত্র ধানের শীষ করতে পারবে, আর কেউ করতে পারবে না। আমরা সেই জিয়ার সৈনিক, খালেদা জিয়ার সৈনিক। যাদের আপন ভেবে মানুষ কাঁদে।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বিকেলে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার শোল্টোহরি বাজারে এক নির্বাচনি পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
ঠাকুরগাঁও-১ আসনে তিনি এদিন আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনি প্রচারণা শুরু করেন।
এ সময় সরকারে থাকাকালীন যে সকল উন্নয়ন করেছেন সেসব উন্নয়ন তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, অতীত অভিজ্ঞতা থেকে বলছি। বিএনপি ছাড়া দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার মত এখন আর কেউ নেই।
ভোটারদের সজাগ করে তিনি বলেন, ‘সামনের মাসে ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন হবে। একটা দল ভোট চাইতে আসছে আপনাদের কাছে। দাঁড়িপাল্লার কথা বলছে। তারা কখনো কি সরকারে গেছে? আপনাদের জন্য কোনো কাজ করেছে? করে নাই। আমরা কাজ করেছি। আমরা পরীক্ষিত দল। আপনাদের কাছে ভোট চেয়েছি। আপনারা ভোট দিয়েছেন। আমরা সরকারে গিয়ে আপনাদের জন্য কাজ করেছি।’
বিএনপি মহাসচিব উপস্থিত ভোটারদের কাছে জানতে চান গত পনেরো বছরে আপনারা কি কেউ ভোট দিতে পেরেছেন? জবাবে ভোটাররা বলেন—পারিনি।
তিনি বলেন, ভোটের আগের রাতেই ভোট হয়ে গেছে। আবার কখনো ভোটটা নিয়ে চলে গেছে। এই ছিল গত পনেরো বছর। এখন একটা সুযোগ আসছে, আমাদের হাসিনা আপা চলে গেছে ভারতে। চলে গেছেন ভালো করছেন। কিন্তু যারা সমর্থন করতো তাদের বিপদে ফেলে গেছেন। আমরা বলছি যারা নিরপরাধ তাদের কেউ বিপদে পড়বেন না। আমরা আছি তাদের পাশে। যারা অন্যায় করেনি তাদের কোনো শাস্তি হতে দেব না।
তিনি আরও বলেন, আমি আমার এলাকার হিন্দু-মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টানসহ সকল ধর্মের মানুষ একসঙ্গে কাজ করি। আমাদের উন্নয়নের জন্য কাজ করি। আমরা একসঙ্গে কাজ করতে চাই। সবাইকে সমান নিরাপত্তা দিতে চাই।
তিনি আরও বলেন, কিছু লোক হিন্দু-মুসলিম ভাগ করতে চায়। কিন্তু আমাদের ভাগ করার কোনো সুযোগ নেই। আমরা হিন্দু-মুসলিম একসঙ্গে বসবাস করি।
১৩২ দিন আগে
দেশের ভেতরে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে, সবাইকে সজাগ থাকতে হবে: তারেক রহমান
দেশের ভেতরের কোনো কোনো মহল ষড়যন্ত্রের চেষ্টা করছে উল্লেখ করে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, যারা এদেশ থেকে পালিয়ে গেছে, তারা যেভাবে ভোট ডাকাতি করেছিল, ঠিক একইভাবে সেই ষড়যন্ত্র আবার শুরু হয়েছে। সেই ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধ সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।
সিলেটের সরকারি আলিয়া মাদরাসা মাঠে বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) দুপুরে বিএনপির প্রথম নির্বাচনি জনসভায় তিনি এই আহ্বান জানান।
সিলেটে হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতের পর স্থানীয় জনসভায় ভাষণের মাধ্যমে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রচারণা শুরু করেছে বিএনপি। সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
বহু মানুষের ত্যাগের বিনিময়ে দেশ গণতন্ত্রের পথে এগিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে উপস্থিত লাখো জনতার উদ্দেশে তিনি বলেন, কিন্তু আমরা লক্ষ করছি, দেশের ভেতরের কোনো কোনো মহল ষড়যন্ত্রের চেষ্টা করছে। গত কয়েকদিনে পত্রপত্রিকা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসেছে—মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে পাঠানো পোস্টাল ব্যালটগুলো কীভাবে ডাকাতি করা হয়েছে। যারা এদেশ থেকে পালিয়ে গেছে, তারা যেভাবে আপনাদের ভোট ডাকাতি করেছিল, ঠিক একইভাবে সেই ষড়যন্ত্র আবার শুরু হয়েছে। সেই ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধ আমাদের সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।
তবে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে বাংলাদেশের মানুষ দেখিয়ে দিয়েছে, জনগণ ঐক্যবদ্ধ থাকলে যেকোনো ষড়যন্ত্রকে তারা প্রতিহত করতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এ সময় জামায়াতে ইসলামীর সমালোচনা করে তারেক রহমান বলেন, সবকিছুর মালিক আল্লাহ। অথচ নির্বাচনের আগেই একটি দল এই দেব, ওই দেব বলছে। সেটা যদি তারা বলে, তাহলে শিরকি করা হচ্ছে। কাজেই আগেই আপনাদের ঠকাচ্ছে, নির্বাচনের পরে তাহলে আপনাদের কেমন ঠকানো ঠকাবে, বোঝেন এবার। তারা শুধু আপনাদের ঠকাচ্ছেই না, যারা মুসলমান তাদের শিরকি করাচ্ছে, নাউজুবিল্লাহ!
তিনি বলেন, কেউ কেউ বলে—অমুককে দেখেছি, তমুককে দেখেছি, এবার একে দেখেন। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় অনেকের ভূমিকা আমরা দেখেছি। যাদের ভূমিকার কারণে এদেশের লাখ লাখ ভাইয়েরা শহিদ হয়েছে, এদেশের লাখ লাখ মা-বোনেরা সম্মানহানি হয়েছেন। কাজেই তাদের তো বাংলাদেশের মানুষ দেখেই নিয়েছে। এই কুফরি, হঠকারিতা ও মিথ্যার বিরুদ্ধে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
১৩৩ দিন আগে
সিলেটে বিএনপির নির্বাচনি জনসভা শুরু, সমাবেশস্থলে তারেক রহমান
এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রথম জনসভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে বিএনপির। সিলেট থেকে বরাবরের মতো এবারও প্রচারণা শুরু করতে যাচ্ছে দলটি। এ উপলক্ষে আলিয়া মাদরাসা মাঠের জনসভায় দুপুর সাড়ে ১২টায় উপস্থিত হয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
আজ (বৃহস্পতিবার) সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে বিএনপির নির্বাচনি জনসভা শুরু হয়েছে। সেখানে বিএনপির স্থানীয় নেতারা বক্তব্য শুরু করেছেন।
সিলেট জেলা ও মহানগর এবং সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির উদ্যোগে এ জনসভার আয়োজন করেছে। এতে সভাপতিত্ব করছেন সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী। বিশেষ অতিথি বক্তব্য দেবেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বেলা ১১ টার দিকে সভাস্থলে পৌঁছান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করছেন সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী ও সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী।
জনসভায় শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন সিলেট মহানগর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ফজলে রাব্বি এহসান। এ সময় ছাত্রদলের পক্ষ থেকে ধানের শীষ নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
সিলেট মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি সুদীপ জ্যোতি (এষ) বলেন, ‘আজকের দিনটি আমাদের কাছে স্বপ্নের মতো। আমাদের স্বপ্ন ছিল দলের চেয়ারম্যানকে নিয়ে সিলেটে জনসভা করা। সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। এখন নতুন করে স্বপ্ন দেখার সময় এসেছে। ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে ধানের শীষকে বিজয়ী করে নতুন স্বপ্ন বাস্তবায়ন হবে।’
মঞ্চে আছেন বিএনপি সিলেট-১ (মহানগর ও সদর) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর, সিলেট–২ আসনের তাহসিনা রুশদীর প্রমুখ। এ ছাড়া সুনামগঞ্জের বিএনপির সংসদ সদস্য প্রার্থী এবং হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলার সংসদ সদস্য প্রার্থীরা আছেন। এ ছাড়া সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপির নেতারা উপস্থিত রয়েছেন।
সকালে গ্র্যান্ড সিলেট হোটেলে ‘দ্য প্ল্যান: ইয়ুথ পলিসি টক উইথ তারেক রহমান’ শীর্ষক আলোচনাসভায় বক্তব্য রাখেন বিএনপি চেয়ারম্যান। এতে সিলেটের ১৯টি কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের অরাজনৈতিক শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।
জনসভায় যোগ দিতে গতকাল (বুধবার) রাত ৮টার দিকে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান আকাশপথে সিলেটে আসেন। পরে তিনি হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন। পাশাপাশি তিনি হজরত শাহজালাল (রহ.) দরগাহ কবরস্থানে মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক এম এ জি ওসমানীর কবরও জিয়ারত করেন।
এরপর তিনি নগরের উপকণ্ঠে দক্ষিণ সুরমা উপজেলার বিরাইমপুর গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে যান। সেখানে উপস্থিত নেতা-কর্মী এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন তিনি। শ্বশুরবাড়িতে কিছু সময় অবস্থান করে সিলেট বিমানবন্দর–সংলগ্ন হোটেলে ফেরেন তিনি।
উল্লেখ্য, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত জিয়াউর রহমান এবং সদ্যপ্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াও প্রতিবার নির্বাচনের আগে মাজার জিয়ারতের পাশাপাশি সিলেটে প্রথম নির্বাচনি জনসভা করতেন।
১৩৩ দিন আগে
চার কোটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেবে বিএনপি: তারেক রহমান
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ক্ষমতায় গেলে দেশের চার কোটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। পরিবারের প্রধান নারীকে এ কার্ড দেওয়া হবে।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সকালে সিলেটের একটি পাঁচ তারকা হোটেলের কনফারেন্স রুমে তরুণদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
এই কার্ডের সুবিধাদি প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, এর মাধ্যমে মাসিক ভিত্তিক একটি পরিবারকে ২ থেকে আড়াই হাজার টাকা দেওয়া হবে। এছাড়া দেওয়া হবে খাদ্যসামগ্রী।
তিনি আরও বলেছেন, বিদেশ গমনেচ্ছুদের জন্য বহুমাত্রিক দক্ষতা বাড়াতে কারিগরি শিক্ষা আধুনিকায়ন করা হবে। বিভিন্ন দেশের ভাষা শিক্ষায়ও গুরুত্ব দেওয়া হবে।
‘দ্য প্ল্যান, ইয়ুথ পলিসি টক উইথ তারেক রহমান’ শীর্ষক এ অনুষ্ঠানে তরুণদের কথা শুনেন তারেক রহমান। তরুণদের উদ্দেশে নিজেও দিকনির্দেশনা দেন।
এতে উপস্থিত তরুণরা সকলেই বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত সাধারণ শিক্ষার্থী বলে জানা গেছে। এই মতবিনিময় পর্ব শেষে আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে জনসভায় যোগ দেবেন তারেক রহমান।
১৩৩ দিন আগে