স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের জন্য কাজ করলে জাতিকে সঠিক পথে নেওয়া সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, মতপার্থক্য যেন মতবিভেদে পরিণত না হয়। মতপার্থক্য থাকলেও আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে। আমরা ৫ আগস্টের আগের পরিস্থিতিতে ফিরতে চাই না।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুরে বনানীর হোটেল শেরাটনে সংবাদমাধ্যমের সম্পাদকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।
অনুষ্ঠানের শুরু থেকে দেশের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে যেন সেগুলোর সমাধানে মনোযোগ দেয়, সে বিষয়ে নিজেদের বক্তব্যে তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন সম্পাদকেরা।
নিজের বক্তব্যে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, অতিথিদের বক্তব্য থেকে কয়েকটি বিষয় ফুটে উঠেছে।… একজন বক্তা বলেছেন যে আগামী দিন, অর্থাৎ আমাদের ভবিষ্যৎ কেমন হবে। আমরা অবশ্যই আর ৫ আগস্টের আগে (আগের পরিস্থিতিতে) ফিরে যেতে চাই না। আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়ার কোনো কারণ নেই আমাদের।
তিনি বলেন, হিংসা, প্রতিশোধ, প্রতিহিংসার কারণে একটি মানুষ, একটি দলের কী পরিণতি হতে পারে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তা আমরা দেখেছি। তাই আমি সবাইকে অনুরোধ করব, আমাদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও সেটিকে পাশে রেখে আলোচনার মাধ্যমে অনেক সমস্যার সমাধান আমরা বের করে আনতে সক্ষম হব।
কোনোভাবেই মতপার্থক্য যেন মতবিভেদের পর্যায়ে চলে না যায়। বিভেদের মাধ্যমে জাতিকে বিভক্ত করে ফেললে কী হতে পারে, আমরা দেখেছি। আজকে আমরা অনেক বিভেদ, হতাশার কথা শুনি। তবে হতাশা থাকলেও অনেক পরিকল্পনাও কিন্তু আছে বলে জানান তিনি।
তারেক রহমান বলেন, দেশে ফিরে আমি যতটুকু যে কয়টি জায়গায় গিয়েছি, আমার মনে হয়েছে, নতুন প্রজন্ম একটি গাইডেন্স (দিকনির্দেশনা) চাইছে, একটি আশা দেখতে চাইছে। শুধু নতুন প্রজন্ম কেন, আসলে সবাই একটি গাইডেন্স চাইছে বলে মনে হয়েছে। আমরা যারা রাজনীতি করি, তাদের কাছে সবার অনেক প্রত্যাশা। সব প্রত্যাশা হয়তো পূরণ করা সম্ভব নয়, কিন্তু আমরা রাজনীতিকরা যদি ১৯৭১ সাল, ১৯৯০, ২০০৪, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট—এই সবগুলোকে সমানে রেখে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্বের জন্য কাজ করি, তাহলে একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আমার আছে মনে হয়, আমরা জাতিকে একটি সঠিক পথে পরিচালিত করতে সক্ষম হব।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আরও বক্তব্য দেন সাংবাদিক রেজাউল করিম রনি, আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান, শিক্ষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক জাহেদুর রহমান, নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবীর, কালের কণ্ঠ সম্পাদক হাসান হাফিজ, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী, মানবজমিন সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, যুগান্তর সম্পাদক আব্দুল হাই সিকদার, সাংবাদিক মমতাজ বিলকিস, ঢাকা স্ট্রিমের সম্পাদক ইফতেখার মাহমুদ, ইনকিলাব সম্পাদক এ এম এম বাহাউদ্দীন, দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদক ও প্রকাশক মাহফুজ আনাম, বর্ষীয়ান সাংবাদিক শফিক রেহমান এবং বিএনপি বিটের বেশ কয়েকজন সাংবাদিক।