আইনশৃঙ্খলা
বরিশালে মহিউদ্দিন রনি ও কাফিসহ ৪২ জনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ
বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (শেবাচিম) চিকিৎসক নার্স ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মানববন্ধন কর্মসূচিতে হামলার অভিযোগে স্বাস্থ্যখাতের সংস্কার আন্দোলনের সংগঠক ছাত্র মহিউদ্দির রনি ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর কাফিসহ ৪২ জনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দেয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ আগস্ট) গভীর রাতে হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার জুয়েল চন্দ্র শীল বাদী হয়ে কোতয়ালী মডেল থানায় এ অভিযোগ করেন। শুক্রবার বিকাল পৌঁনে চারটার দিকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন কোতয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান।
তিনি বলেন, অভিযোগে ১২ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত ৩০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
অভিযুক্তরা হলেন— আন্দোলনের প্রধান নেতা মহিউদ্দিন রনি (৩০), রাকিন (২৫), সুনান (২৪), সিফাত (২৩), শামিম (২৫), আল মুসা (২৬), বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক নেত্রী সিফা (২২), হাসপাতালে অনশন করে অসুস্থ হয়ে পড়া শিক্ষার্থী দাইয়ান (২১), কনটেন্ট ক্রিয়েটর কাফি (৩০), এইচ এম আবুল খায়ের (৫০), হাসপাতালের দালাল নুরুন নাহার (৪০) ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর মো. সিয়াম ওরফে ন্যাভাই (৩৮)।
মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, বৃহস্পতিবার (১৪ আগষ্ট) বেলা সাড়ে ১১টায় শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালের সুষ্ঠু কর্ম পরিবেশের দাবিতে হাসপাতালের গেটের সামনে চিকিৎসক, নার্স এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে।
এ সময় অভিযুক্তরা চাপাতি, লোহার রড, এসএস পাইপ, হকিস্টিক, লাঠি-সোটাসহ দেশীয় অস্ত্র-সস্ত্রে সজ্জিত হয়ে চিকিৎসক, নার্স এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর অতর্কিত হামলা করে। এর মধ্যে মহিউদ্দিন রনি লোহার রড দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে পরিচ্ছন্নতা কর্মী রফিকুল পাটোয়ারী মাথায় আঘাত করে রক্তাক্ত জখম করে।
এ ছাড়া মামলায় ২-১১ নম্বরসহ অজ্ঞাত অভিযুক্তরা হত্যার উদ্দেশ্য হাতে থাকা চাপাতি, লোহার রড, এসএস পাইপ, হকিস্টিক, লাঠি দিয়ে এলোপাথারি আঘাত করে। এতে অফিস সহায়ক পারভেজের ডান হাতে, আয়া সেলিনার ডান হাতের কনুর উপরীভাগে, অফিস সহায়ক রাব্বির বাম হাতের কব্জিতে এবং পরিচ্ছন্নতা কর্মী শামীসের ডান হাতে হাড় ভাঙা জখম হয়।
এ ছাড়াও তাদের হামলায় পরিচ্ছন্নতা কর্মী হাসান, সাকিব, জাকারিয়া রুবেল, অফিস সহায়ক ফয়সাল রাব্বি, আয়া সুমরত মন্ডল, লিফট অপারেটর শাকিলসহ মানবন্ধনে অংশ নেয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আহত হন। এমনকি কর্মসূচিতে অংশ নেয়া নারী নার্স ও আয়াদের সেলোয়ার-কামিজ ছিড়ে শ্রীলতাহানী ঘটানো হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
এই সময় পথচারী ও স্থানীয় লোকজন এসে অভিযুক্তদের কবল থেকে হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্ধার করে। পরবর্তীতে ওই স্থানে পুনরায় মানববন্ধন করলে তাদের খুন-জখমের হুমকি দিয়ে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। এরপর আহত ১১ জন কর্মচারীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা করানো হয়।
এ বিষয়ে কোতয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, হাসপাতালের কর্মচারীদের ওপর হামলার ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে এ বিষয়ে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এর আগে কর্মচারীদের ওপর হামলার ঘটনায় পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ৷ উপপরিচালক ডা. এসএম মনিরুজ্জামান শাহীনকে প্রধান করে গঠিত কমিটিকে সাত দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম মশিউল মুনীর।
অপরদিকে ঘটনার দিন বৃহস্পতিবার বিকেলে হামলার ঘটনা নিয়ে সদর রোড অশ্বিনী কুমার হল চত্বরে জরুরি সংবাদ সম্মেলন করেন স্বাস্থ্যখাত সংস্কার আন্দোলনের নেতৃত্ব দেয়া মহিউদ্দির রনি।
তিনি অভিযোগ করেন হাসপাতালের কর্মচারীরা তাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন, শান্তিপূর্ণ অনশন কর্মসূচিতে হামলা করেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের উস্কানিতে এ হামলার ঘটনায় তাদের অনেক শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। এরপরও স্বাস্থ্যখাতে সংস্কার আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন মহিউদ্দিন রনি।
২৯৩ দিন আগে
জয়পুরহাটে নৈশপ্রহরীর হাত-পা বাঁধা লাশ উদ্ধার
জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার কলিঙ্গা মাঠের গভীর নলকূপের ঘর থেকে সাঈদ ফকির (৬১) নামে এক নৈশপ্রহরীর হাত-পা বাঁধা লাশ (মরদেহ) উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (১৫ আগস্ট) লাশটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত সাঈদ ফকিরের বাড়ি একই উপজেলার কলিঙ্গা মাঠের পার্শ্ববতী বেলগাড়ি গ্রামে।
পুলিশের ধারণা, তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে।
ক্ষেতলাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল করিম জানান, কলিঙ্গা গ্রামের মোহাম্মদ আলীর গভীর নলকূপের নৈশপ্রহরীর দায়িত্ব পালন করেন সাঈদ ফকির। মৌসুম শেষ হওয়ায় বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার পাহারা দিতে তিনি রাতে গভীর নলকুপের ঘরে ছিলেন। গতরাতে দুর্বৃত্তরা দড়ি দিয়ে হাত-পা বেধে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে।
খবর পেয়ে আজ (শুক্রবার) সকালে তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য জয়পুরহাটের ২৫০শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে মামলা হলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
২৯৩ দিন আগে
সুন্দরবনে সাড়ে ১৩ কেজি হরিণের মাংস, বিষ ও কাঁকড়াসহ আটক ৮
বাগেরহাটের সুন্দরবনে সাড়ে ১৩ কেজি হরিণের মাংস, বিষ ও ১৮ কেজি অবৈধ কাঁকড়াসহ ৮ হরিণ শিকারীকে আটক করেছে কোস্ট গার্ড।
বৃহস্পতিবার (১৫ আগস্ট) রাতে সুন্দরবনের হারবারিয়ায় দিঘির খাল সংলগ্ন এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
এ সময়, সাড়ে ১৩ কেজি হরিণের মাংস, ১টি হরিণের মাথা, ৪টি পা, ১টি হরিণ ধরার ফাঁদ জাল, ১৮ কেজি অবৈধ কাঁকড়া, ৫ লিটার বিষ ও ২টি নৌকা জব্দ করে কোস্টগার্ড সদস্যরা।
কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট রাফিদ-আস-সামি এ তথ্য জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে হরিণ ও অবৈধ কাঁকড়া শিকারের সাথে জড়িত একটি চক্রের ৮ সদস্যকে আটক করা হয়।
জব্দ হরিণের মাংস, কাঁকড়া, বিষ, ফাঁদ জাল, নৌকা ও অন্যান্য আলামতসহ আটকদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চাঁদপাই ফরেস্ট অফিসের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
২৯৩ দিন আগে
চানখারপুলে ৬ জনকে হত্যা: প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষীর নিরাপত্তা নিশ্চিতে ট্রাইব্যুনালের নির্দেশ
রাজধানীর চানখারপুলে গত বছরের ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষ্য দেওয়া এক প্রত্যক্ষদর্শীর নিরাপত্তা নিশ্চিতের নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
একই সঙ্গে ওই ঘটনায় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বেঞ্চ প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই আদেশ দেন।
প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম বলেন, ‘চানখারপুলে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দুদিন আগে ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি দিয়েছেন একজন প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী। ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দেওয়ার দিনই তার বিরুদ্ধে অপ্রীতিকর, অসম্মানজনক ও নিরাপত্তাহীনতাজনক কার্যক্রম করেছেন একই প্রতিষ্ঠানের কিছু ব্যক্তি। ব্যানার টানানোসহ তার বিরুদ্ধে মিছিলও করা হয়। এ–সংক্রান্ত কিছু ছবি ও ভিডিও প্রসিকিউশনকে দিয়েছেন ওই সাক্ষী। এর পরিপ্রেক্ষিতে তার সুরক্ষার আবেদন করা হয়। আবেদনটির ওপর আজ শুনানি হয়। একই সঙ্গে সাক্ষীর সঙ্গে সরাসরি কথা বলেছেন ট্রাইব্যুনাল এবং তার কাছে থাকা ছবি–ভিডিও দেখেছেন। শুনানি শেষে সাক্ষীর সুরক্ষায় আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।’
আদেশে বলা হয়, সাক্ষীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও তার কর্মস্থলের প্রধানকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ওই প্রতিষ্ঠানসহ আশপাশের এলাকায় তাকে নিয়ে কোনো অবমাননাকর পোস্টার–ব্যানার থাকলে দ্রুত তা অপসারণ করতে বলা হয়।
এ ছাড়া প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনে ওই প্রতিষ্ঠানের ঘটনার সঠিক অনুসন্ধানে সাক্ষীর কর্মস্থলের প্রধানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল। কমিটিকে দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
প্রসিকিউটর তামিম আরও বলেন, ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের আইন অনুযায়ী, সাক্ষী জবানবন্দি দেওয়ার পর তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। সে অনুযায়ীই আজ আবেদন করা হয়েছে।’
২৯৪ দিন আগে
শেখ হাসিনা সরকারের নজরদারি সরঞ্জাম ক্রয় খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি
ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের সময় দেশে নজরদারির সরঞ্জাম ক্রয়ের বিষয় খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এ তথ্য জানান।
প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও আইসিটি বিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবকে কমিটির প্রধান করা হয়েছে। কমিটি খতিয়ে দেখবে কীভাবে, কোথা থেকে এবং কত দাম দিয়ে এসব যন্ত্র কেনা হয়েছে এবং কীভাবে এর ব্যবহার হয়েছে।
শফিকুল আলম বলেন, নজরদারি যন্ত্রপাতি বিগত সরকারের সময়ে কেউ বলছেন প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ডলারে কেনা হয়েছে, কেউ বলছেন ২০০ মিলিয়ন ডলারে। পুরো রিপোর্টে আমরা যা পড়েছি সেখানে স্পষ্ট—গত স্বৈরাচারী সরকার বাংলাদেশের মানুষের নাগরিক অধিকার হরণের জন্য নজরদারির যন্ত্রপাতি ও স্পাইওয়ার ব্যবহার করেছে। এই অবৈধ নজরদারির মাধ্যমে নাগরিকদের ন্যূনতম বাক-স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। সংবিধানে প্রদত্ত গোপনীয়তার অধিকারও তারা খর্ব করেছে।
পড়ুন: চাঁদাবাজিতে আমার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত: আসিফ মাহমুদ
‘উপদেষ্টা পরিষদের সভায় কমিটি গঠন করা হয়েছে তদন্তের জন্য। কত টাকা দিয়ে এগুলো কেনা হয়েছে, কোথা থেকে কেনা হয়েছে তা খতিয়ে দেখা হবে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, অনেক কিছু ইসরায়েল থেকে কেনা হয়েছে। এই বিষয়গুলো কমিটি খতিয়ে দেখবে,’ যোগ করেন তিনি।
গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ২০১৬ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে জাতীয় টেলিযোগাযোগ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র (এনটিএমসি), পুলিশ ও র্যাব যৌথভাবে ১ হাজার ৩৮২ কোটি টাকা মূল্যের নজরদারি সরঞ্জাম ক্রয় করেছে।
তিনি বলেন, পুলিশের জন্য কীভাবে মারণাস্ত্র কেনা হয়েছিল তা নিয়েও রিপোর্ট হয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে। কীভাবে এগুলো কেনা ও ব্যবহার করা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে তেজগাঁওস্থ প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে উপদেষ্টা পরিষদের সভা অনুষ্ঠিত হয়।
২৯৪ দিন আগে
যুব মহিলা লীগের বহিষ্কৃত নেত্রী পাপিয়া ও স্বামীর সাড়ে তিন বছরের কারাদণ্ড
অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় যুব মহিলা লীগের বহিষ্কৃত নেত্রী শামীমা নূর পাপিয়া ও তার স্বামী মফিজুর রহমান সুমনকে সাড়ে তিন বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের প্রত্যেককে পাঁচ লাখ টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড ভোগের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক আবু তাহের এই রায় ঘোষণা করেন।
রায় ঘোষণার সময় পাপিয়া ও তার স্বামী আদালতে উপস্থিত ছিলেন। জামিনে থাকা অবস্থায় রায় ঘোষণার পর তাদের জামিন বাতিল করে সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মামলার বিবরণে জানা গেছে, ২০২০ সালের ৪ আগস্ট সাড়ে ছয় কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুদকের উপপরিচালক শাহীন আরা মমতাজ এ মামলাটি দায়ের করেন। ২০২১ সালের ১২ মার্চ আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়। একই বছরের ৩০ নভেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।
মামলায় বলা হয়েছে, ২০১৯ সালের ১২ অক্টোবর থেকে ২০২০ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত গুলশানের ওয়েস্টিন হোটেলের প্রেসিডেনসিয়াল স্যুট ও চেয়ারম্যান স্যুটসহ ২৫টি কক্ষে অবস্থান করে খাবার, মদ, স্পা, লন্ড্রি ও বারের খরচ বাবদ তিন কোটি ২৩ লাখ ২৪ হাজার ৭৬১ টাকা নগদে পরিশোধ করেন পাপিয়া। এছাড়া ওয়েস্টিন হোটেলে প্রায় ৪০ লাখ টাকার কেনাকাটা করেছেন, যা বৈধ উৎস প্রমাণ করতে পারেননি।
২০১৫ সালের এপ্রিল থেকে ২০২০ সালের এপ্রিল পর্যন্ত মাসে ৫০ হাজার টাকা করে ৩০ লাখ টাকা বাসা ভাড়া দিয়েছেন। গাড়ির ব্যবসায় এক কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছেন এবং নরসিংদীতে কেএমসি কার ওয়াশ সলিউশনে ২০ লাখ টাকা বিনিয়োগের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। বিভিন্ন ব্যাংকে তাদের নামে ৩০ লাখ ৫২ হাজার ৯৫৮ টাকা জমা রয়েছে, যা দুদকের অনুসন্ধানে বৈধ উৎসে পাওয়া যায়নি।
২০২০ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি পাপিয়া ও তার স্বামী ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার হন। পরে ঢাকা ও নরসিংদীতে তাদের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে বিপুল সম্পদের খোঁজ পাওয়া যায়। অভিযানে নগদ ৫৮ লাখ ৪১ হাজার টাকা এবং মফিজুর রহমান সুমনের নামে হোন্ডা সিভিএ ২০১২ মডেলের গাড়ি জব্দ করা হয়, যার মূল্য ২২ লাখ টাকা।
আরও পড়ুন: অর্থপাচার মামলা : পাপিয়ার কারাদণ্ড, খালাস পেলেন স্বামীসহ ৪ জন
মামলায় বলা হয়েছে, তাদের নামে ছয় কোটি ২৪ লাখ ১৮ হাজার ৭১৮ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ রয়েছে, যা তারা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে অর্জন করেছেন।
গ্রেপ্তারের পর পাপিয়া ও তার স্বামীর বিরুদ্ধে শেরেবাংলা নগর থানায় অস্ত্র ও মাদক আইনে দুটি মামলা দায়ের করে র্যাব। বিমানবন্দর থানায়ও তাদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইন-১৯৭৪ এর অধীনে মামলা করা হয়।
এর আগে, অর্থপাচার মামলায় গত ২৫ মে আদালত পাপিয়াকে চার বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন। তবে তার স্বামী মফিজুর রহমান সুমন ওই মামলায় খালাস পান।
২৯৪ দিন আগে
সাদা পাথর লুটকারীদের তালিকা দাখিলের নির্দেশ
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভোলাগঞ্জ থেকে সাদা পাথর লুটকারীদের তালিকা দাখিলের জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে ভোলাগঞ্জের লুট হওয়া সব পাথর দেশের যেসব এলাকায় গেছে, সেখান থেকে ফেরত এনে সাত দিনের মধ্যে স্থানীয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতায় আগের জায়গায় ফেলতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এছাড়া এই সাদা পাথর লুটের ঘটনায় কি পরিমাণ আর্থিক ও পরিবেশগত ক্ষতি হয়েছে তা বুয়েটের একজন বিশেষজ্ঞের নেতৃত্বে উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন একটি কমিটি গঠন করে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করতে বিবাদীদেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে এসব আদেশ বাস্তবায়নের অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল করতে প্রশাসনকে বলা হয়েছে। জনস্বার্থে করা এক রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) বিচারপতি কাজী জিনাত হক ও বিচারপতি আইনুন নাহার সিদ্দিকার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এই আদেশ দেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ।
ভোলাগঞ্জে সাদা পাথর লুট করা এবং প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তাকে কেন অবৈধ ও বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, সেই সঙ্গে এলাকা সংরক্ষণের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না তা জানতে রুল জারি করা হয়েছে। এছাড়া পরিবেশ আইনের ৫ ধারা অনুযায়ী ওই এলাকায় ইকোলজিক্যাল ক্রিটিক্যাল এরিয়া ঘোষণা করা হবে কি না এবং যারা পাথর লুট করে পরিবেশের ক্ষতি করেছেন তাদের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তাও রুলে জানতে চাওয়া হয়েছে। পরিবেশ সচিব, সিলেটের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, বিজিবি, র্যাবসহ স্থানীয় প্রশাসনকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
আরও পড়ুন: সাদাপাথরে লুটকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে রিট শুনবেন হাইকোর্ট
অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ জানান, প্রশাসনের চোখের সামনে সাদা পাথর লুট করা হয়েছে এবং পরিবেশের ক্ষতি হয়েছে। আমরা পরিবেশ সংরক্ষণের স্বার্থে জনস্বার্থে রিট করি। সকালেই রিট করা হলে দুপুরে হাইকোর্ট শুনানি নিয়ে রুলসহ অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেন।
এদিকে, ভোলাগঞ্জ থেকে সাদা পাথর লুটের ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য দায়ের করা আরেকটি রিটের শুনানি রবিবার (১৭ আগস্ট) ধার্য করেছেন হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি সৈয়দ জাহেদ মনসুরের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ দিন ধার্য করেন।
আদালতে রিট আবেদনটি শুনানির জন্য উপস্থাপন করেন অ্যাডভোকেট মীর একেএম নূরুন নবী। গতকাল বুধবার আইনজীবী নূরুন নবী রিট আবেদনটি দায়ের করেন। রিটে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেন দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয় এবং সেখানে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়। পাশাপাশি, সাদা পাথর লুটের বিষয়ে প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ ও বেআইনী ঘোষণা করা হবে না তা ব্যাখ্যা করতে একটি রুলও জারির আবেদন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত এক বছরে কোম্পানীগঞ্জ ও গোয়াইনঘাট উপজেলায় অবৈধভাবে বিপুল পরিমাণ পাথর উত্তোলন করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের চোখে-আমলে দিনে-দুপুরে এসব পাথর তোলা হয়েছে এবং কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। পাথর লুটের ঘটনায় দেশব্যাপী সমালোচনার ঝড় বয়ে গেছে।
২৯৪ দিন আগে
সাদাপাথরে লুটকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে রিট শুনবেন হাইকোর্ট
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভোলাগঞ্জ থেকে সাদা পাথর লুটের ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নিতে দায়ের করা রিট শুনানির জন্য আগামী রোববার (১৭ আগস্ট) দিন ধার্য করেছেন হাইকোর্ট।
বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি সৈয়দ জাহেদ মনসুরের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ দিন ধার্য করেন।
আদালতে রিট আবেদনটি শুনানির জন্য উপস্থাপন করেন অ্যাডভোকেট মীর একেএম নূরুন নবী। গতকাল বুধবার আইনজীবী নূরুন নবী রিট আবেদনটি করেন। রিট আবেদনের মাধ্যমে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভোলাগঞ্জ থেকে সাদা পাথর লুটের ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
রিটে বলা হয়েছে, ওই ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেন যথাযথ ব্যবস্থা নেয় এবং সেখানে যেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়।
আরও পড়ুন: খুলে দেওয়া হয়েছে সিলেটের সাদা পাথর পর্যটনকেন্দ্র
এ ছাড়া, সিলেটের পর্যটন এলাকা ভোলাগঞ্জ থেকে পাথর লুটের জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ ও বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তার ব্যাখ্যা চেয়ে একটি রুল জারি করার আবেদনও করা হয়েছে রিটে।
উল্লেখ্য, গত এক বছরে কোম্পানীগঞ্জ ও গোয়াইনঘাট উপজেলায় অবৈধভাবে বিপুল পরিমাণ পাথর উত্তোলন করা হয়। স্থানীয় প্রশাসনের সামনে দিন-দুপুরে এসব পাথর তোলা হয় এবং প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেনি বলে অভিযোগ করা হচ্ছে বিভিন্ন মহল থেকে। পাথর লুটের ঘটনায় দেশব্যাপী সমালোচনার ঝড় বয়ে যাচ্ছে।
২৯৪ দিন আগে
রাষ্ট্রপতিকে শপথ কে পড়াবেন, মতামত জানতে ৭ অ্যামিক্যাস কিউরি নিয়োগ
রাষ্ট্রপতিকে প্রধান বিচারপতির পরিবর্তে স্পিকারের শপথ পড়ানো–সংক্রান্ত পঞ্চদশ সংশোধনীর বিধানের বৈধতার প্রশ্নে রুলের ওপর পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ২৬ অক্টোবর দিন ধার্য করেছেন হাইকোর্ট।
একই সঙ্গে রাষ্ট্রপতিকে স্পিকার নাকি প্রধান বিচারপতি শপথ পড়াবেন, সে বিষয়ে আইনী মতামত জানতে ৭ জন অ্যামিকাস কিউরি (আদালতকে আইনগত পরামর্শ দানকারী) নিয়োগ দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) বিচারপতি শশাঙ্ক শেখর সরকার ও বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
৭ অ্যামিকাস কিউরি হলেন— জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন, অ্যাডভোকেট প্রবীর নিয়োগী, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, ড. শাহদীন মালিক, অ্যাডভোকেট আহসানুল করিম, ব্যারিস্টার মোস্তাফিজুর রহমান খান ও ব্যারিস্টার জ্যোর্তিময় বড়ুয়া।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার ওমর ফারুক।
আরও পড়ুন: খসড়া অর্ডিন্যান্স: কেন্দ্রীয় ব্যাংকে গভর্নর নিয়োগ দেবে রাষ্ট্রপতি, বাড়বে মেয়াদ
রাষ্ট্রপতিকে দেশের প্রধান বিচারপতি শপথ পাঠ করানো–সংক্রান্ত বাহাত্তরের সংবিধানের বিধান পুনর্বহালে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশনা চেয়ে গীতিকবি শহীদুল্লাহ ফরায়জী গত ১০ মার্চ রিট করেন। রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ১১ মার্চ হাইকোর্ট রুল দেন।
‘রাষ্ট্রপতিকে প্রধান বিচারপতি শপথবাক্য পাঠ করাবেন’ বাদ দিয়ে পঞ্চদশ সংশোধনীর স্পিকারের পড়ানোর–সংক্রান্ত বিধান কেন বাহাত্তরের মূল সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করা হবে না এবং সংশোধনীর অংশটুকু কেন বাতিল (শুরু থেকেই) হবে না, তা জানতে চাওয়া হয় রুলে। আইনসচিব, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব ও সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়।
২৯৪ দিন আগে
অধস্তন আদালতের নিয়ন্ত্রণ ও পৃথক সচিবালয়: হাইকোর্টের রায় ২ সেপ্টেম্বর
অধস্তন আদালতের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা সংক্রান্ত সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ এবং বিচার বিভাগের জন্য পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠা বিষয়ে জারি করা রুলের শুনানি শেষ হয়েছে।
দীর্ঘ শুনানি শেষে হাইকোর্টের বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ বুধবার (১৩ আগস্ট) রায়ের জন্য আগামী ২ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেন।
রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান এবং অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী শরীফ ভূঁইয়া।
শুনানিতে অ্যাটর্নি জেনারেল জানান, পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠায় সরকার একমত এবং প্রক্রিয়া চলছে। তবে বিচার বিভাগে চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স বজায় রাখতে সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ বহাল রাখার পক্ষে তিনি যুক্তি দেন। রিটকারী পক্ষ ওই অনুচ্ছেদ বাতিলের দাবি জানান।
২০২৩ সালের ২৫ আগস্ট সাতজন আইনজীবী সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ ও ২০১৭ সালের জুডিশিয়াল সার্ভিস (শৃঙ্খলা) বিধিমালার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট দায়ের করেন। তারা পৃথক বিচার বিভাগীয় সচিবালয় গঠনের নির্দেশনাও চান।
প্রাথমিক শুনানি শেষে ২০২৩ সালের ২৭ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চান— কেন ১১৬ অনুচ্ছেদ ও সংশ্লিষ্ট বিধিমালা অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না এবং কেন পৃথক সচিবালয় গঠন করা হবে না। আইন মন্ত্রণালয়ের দুই সচিব ও সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে ৬০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়।
এর আগে, ১৯৭২ সালের সংবিধানে অধস্তন আদালতের নিয়ন্ত্রণ সুপ্রিম কোর্টের হাতে ছিল। ১৯৭৪ সালের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে তা রাষ্ট্রপতির হাতে ন্যস্ত হয়। পরে পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে যুক্ত হয়— “সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক”। আপিল বিভাগ পঞ্চম সংশোধনী অসাংবিধানিক ঘোষণা করলেও ১১৬ অনুচ্ছেদের এই বিধান বহাল থাকে।
রিট আবেদনকারী আইনজীবীরা হলেন— মোহাম্মদ সাদ্দাম হোসেন, মো. জহিরুল ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান, আবদুল্লাহ সাদিক, মো. মিজানুল হক, আমিনুল ইসলাম শাকিল ও জায়েদ বিন আমজাদ।
২৯৫ দিন আগে