আইনশৃঙ্খলা
পল্লবী থানা হেফাজতে জনি হত্যা: দুই পুলিশ কর্মকর্তার যাবজ্জীবন দণ্ড বহাল
রাজধানীর পল্লবীতে পুলিশের হেফাজতে নির্যাতনে গাড়িচালক ইশতিয়াক হোসেন জনি হত্যা মামলায় পল্লবী থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) জাহিদুর রহমান ও সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) কামরুজ্জামানের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট।
এদিন অপর আসামি এএসআই রাশেদুল হাসানের যাবজ্জীবন দণ্ড কমিয়ে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (১১ আগস্ট) বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামান ও বিচারপতি এ কে এম রবিউল হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। গতকাল (রবিবার) এই রায় ঘোষণা শুরু হয় এবং আজ (সোমবার) তা শেষ হয়।
আদালতে আসামিপক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এস এম শাহজাহান ও আইনজীবী মো. আবদুর রাজ্জাক এবং রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বদিউজ্জামান তপাদার উপস্থিত ছিলেন। বাদীপক্ষে উপস্থিত ছিলেন আইনজীবী এস এম রেজাউল করিম।
রায় ঘোষণার সময় মামলার বাদী নিহত ইশতিয়াকের ভাই ইমতিয়াজ হোসেন ও তাদের পরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: জনি হত্যা মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার
এর আগে গত ৭ আগস্ট হাইকোর্টে শুনানি শেষে ১০ আগস্ট রায় ঘোষণার দিন ধার্য করা হয়।
দণ্ডিত পাঁচ আসামির মধ্যে কামারুজ্জামান (তৎকালীন এএসআই) শুরু থেকেই পলাতক। অন্য আসামি সুমন সাজাভোগ করে কারামুক্তি পেয়েছেন। বাকি তিনজনের বিষয়ে আজ রায় দেন হাইকোর্ট।
জনির মৃত্যুর ঘটনায় ২০১৪ সালের ৭ আগস্ট ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে নির্যাতন ও পুলিশ হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইন, ২০১৩ এর অধীনে জনি হত্যার মামলাটি করা হয়। এই মামলায় ২০২০ সালের ৯ সেপ্টেম্বর রায় দেন ঢাকার মহানগর দায়রা জজ।
২৯৭ দিন আগে
বাধ্যতামূলক অবসরে ৯ পুলিশ পরিদর্শক
পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) পদমর্যাদার ৯ জন কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে সরকার। রবিবার (১০ আগস্ট) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে আলাদা প্রজ্ঞাপন জারি করে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।
বিগত সরকারের সময় তারা বিভিন্ন থানায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এসব পুলিশ পরিদর্শক। অবসরে পাঠানো কর্মকর্তারা হলেন বগুড়ার এপিবিএন ৪–এর পুলিশ পরিদর্শক শিকদার মো. শামীম হোসেন, সিআইডি কন্ট্রোল রুমের পুলিশ পরিদর্শক আব্দুল লতিফ, নারায়ণগঞ্জ জেলার রিজার্ভ অফিসের পুলিশ পরিদর্শক এস এম কামরুজ্জামান, সিআইডি নরসিংদীর পুলিশ পরিদর্শক আ. কুদ্দুছ ফকির, ট্যুরিস্ট পুলিশের মুন্সিগঞ্জ ও পদ্মা সেতু জোনের পরিদর্শক মামুন অর রশিদ, সিআইডির মৌলভীবাজারের পুলিশ পরিদর্শক নুরুল ইসলাম, নৌ পুলিশে কর্মরত যমুনা সেতু-পূর্ব নৌ ফাঁড়ির পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. কামাল হোসেন, কুলাউড়া রেলওয়ে থানার পুলিশ পরিদর্শক মো. সেলিমুজ্জামান এবং টাঙ্গাইলের মধুপুর সার্কেল অফিসের পুলিশ পরিদর্শক আবু বকর সিদ্দিক।
৯ জনকেই সরকারি চাকরি আইনের ৪৫ ধারার বিধান অনুযায়ী অবসরে পাঠানো হয়। আইনের ওই ধারায় বলা হয়েছে, কোনো সরকারি কর্মচারীর চাকরির মেয়াদ ২৫ বছর পূর্ণ হওয়ার পর যেকোনো সময় সরকার জনস্বার্থে প্রয়োজন মনে করলে কোনো কারণ না দর্শিয়ে তাকে চাকরি থেকে অবসর দিতে পারবে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সরকারি চাকরি আইনের বিধান অনুযায়ী জনস্বার্থে সরকারি চাকরি থেকে অবসর প্রদান করা হলো। বিধি অনুযায়ী তাঁরা অবসরজনিত সুবিধা পাবেন। জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
২৯৮ দিন আগে
কুমিল্লায় আইনজীবী হত্যা: সাবেক এমপি বাহারসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট
কুমিল্লায় আইনজীবী আবুল কালাম আজাদ হত্যাকাণ্ডের মামলায় সদর আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার ও তার মেয়ে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন সাবেক মেয়র তাহসিন বাহার সূচনাসহ ৩৫ জনের নামে চার্জশিট দাখিল করেছে পুলিশ।
রবিবার (১০ আগস্ট) কুমিল্লার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কুমিল্লা কোতয়ালী থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ মহিনুল ইসলাম।
কুমিল্লা কোতোয়ালি থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মহিনুল ইসলাম জানান, গত বছরের ৫ আগস্ট কুমিল্লা নগরীর মোগলটুলি এলাকায় বিজয় মিছিলে অতর্কিত গুলিতে আইনজীবী আবুল কালাম আজাদ আহত হন। দশ দিন পর ১৬ আগস্ট ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
ঘটনার পর নিহত আবুল কালাম আজাদের সহকর্মী আইনজীবী মোস্তফা জামান জসিম বাদী হয়ে পাঁচজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২৫ জনের বিরুদ্ধে কুমিল্লা কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন।
দীর্ঘ তদন্ত শেষে পুলিশ হত্যাকাণ্ডে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত সাবেক সংসদ সদস্য আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার, তার মেয়ে ও সাবেক মেয়র তাহসিন বাহার সূচনা এবং আরও ৩৫ জনের নামে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছে।
নিহত আইনজীবী আবুল কালাম আজাদ কুমিল্লা আইনজীবী ফোরামের যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন। তার বাড়ি কুমিল্লা নগরীর রাণীর দিঘির দক্ষিণপাড় এলাকায় এবং গ্রামের বাড়ি চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলায়।
২৯৮ দিন আগে
সাবেক ডিএমপি কমিশনারসহ চার জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে রাজধানীর রামপুরায় ছাদের কার্নিশে ঝুলে থাকা আমির হোসেনকে গুলি করাসহ দুজনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ চারজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। এ মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেওয়ার পর রবিবার (১০ আগস্ট) বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ আদেশ দেন।
হাবিবুর রহমান ছাড়াও এ মামলার পলাতক অপর তিন আসামি হলেন— খিলগাঁও জোনের সাবেক এডিসি মো. রাশেদুল ইসলাম, রামপুরা থানার সাবেক ওসি মো. মশিউর রহমান ও রামপুরা থানার সাবেক এসআই তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া। এ মামলায় গ্রেপ্তার একমাত্র আসামি রামপুরা পুলিশ ফাঁড়ির সাবেক এএসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকারকে আজ আদালতে হাজির করা হয়।
আগামী ১৭ আগস্ট এ বিষয়ে পরবর্তী আদেশের তারিখ রেখে সেদিনও তাকে হাজির করতে বলা হয়েছে। এর আগে, গত ৭ আগস্ট সকালে এ মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার বরাবর দাখিল করা হয়।
জানা যায়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালীন ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই আমির হোসেন জুমার নামাজ পড়ে বাসায় ফিরছিলেন। আমিরের ভাষ্য, বাসার কাছে তখন পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার মধ্যে পড়ে যান তিনি। এসময় পুলিশ গুলি করা শুরু করে। তখন আমির হোসেন দৌড়ে নির্মাণাধীন একটি ভবনের চারতলায় গিয়ে আশ্রয় নেন।
একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীদের ধাওয়া করে পুলিশ ভবনটির চারতলায় উঠে যায়। সেখানে আমির হোসেনকে পেয়ে পুলিশ সদস্যরা তার দিকে আগ্নেয়াস্ত্র তাক করে বারবার নিচে লাফ দিতে বলেন। একজন পুলিশ সদস্য তাকে ভয় দেখাতে কয়েকটি গুলিও করেন। ভয়ে আমির হোসেন লাফ দিয়ে নির্মাণাধীন ভবনের রড ধরে ঝুলে থাকেন। তখন তৃতীয় তলা থেকে একজন পুলিশ সদস্য আমির হোসেনকে লক্ষ্য করে ছয়টি গুলি করেন। গুলিগুলো আমিরের দুই পায়ে লাগে।
পরে পুলিশ চলে গেলে আমির হোসেন ঝাঁপ দিয়ে কোনোরকমে তৃতীয় তলায় পড়েন। তখন তার দুই পা দিয়ে রক্ত ঝরছিল। প্রায় তিন ঘণ্টা পর একজন শিক্ষার্থী ও দুজন চিকিৎসক আমির হোসেনকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যান এবং পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। নির্মম এই ঘটনায় ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান আমির হোসেন।
এছাড়া রামপুরায় ওই একই দিন ঘটনাস্থলের সামনে আরও দুজনকে নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করার অভিযোগ রয়েছে।
গত ২৬ জানুয়ারি রাতে আমির হোসেনকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো সাবেক এএসআই চঞ্চল সরকারকে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা থেকে গ্রেপ্তার করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহার নেতৃত্বাধীন ঢাকা মহানগর পুলিশের একটি দল। পরে এএসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকারকে গত ২৮ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
গত ১৪ জুলাই দুই মাসের মধ্যে এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। পরে গত ৩১ জুলাই চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন তদন্ত সংস্থার কর্মকর্তারা।
ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ, প্রসিকিউটর সাইমুম রেজা তালুকদার, মঈনুল করিম ও আবদুস সাত্তার পালোয়ান।
২৯৮ দিন আগে
চট্টগ্রামে আইনজীবী আলিফ হত্যা মামলায় বাদীর উপস্থিতি চেয়ে সমন জারি
চট্টগ্রামে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলার চার্জশিট গ্রহণযোগ্যতা শুনানির জন্য বাদীর ব্যক্তিগত উপস্থিতি চেয়ে সমন জারি করেছেন আদালত। আগামী ২৫ আগস্ট বাদীর উপস্থিতিতে শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
রবিবার (১০ আগস্ট) চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ৬ষ্ঠ আদালতের বিচারক এস এম আলাউদ্দীন এ আদেশ দেন।
শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) অ্যাডভোকেট মো. রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী জানান, নিহত আলিফের পিতা ও মামলার বাদী বয়সজনিত অসুস্থতার কারণে আদালতে উপস্থিত হতে পারেননি। পরে আদালত বাদীর বরাবরে সমন ইস্যু করে ২৫ আগস্ট শুনানির দিন ধার্য করেন।
আরও পড়ুন: আলিফ হত্যা মামলা: চিন্ময় দাসহ ৩৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল
গত ১ জুলাই চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (কোতোয়ালি) মাহফুজুর রহমান ৩৮ জনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মামলায় মোট ৪২ জন আসামি রয়েছে, এদের মধ্যে চারজনকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে। বর্তমানে ২০ জন গ্রেপ্তার ও ১৮ জন পলাতক।
২০১৯ সালের ২৫ অক্টোবর সনাতনী সম্প্রদায়ের বড় সমাবেশের সময় সংঘটিত ঘটনার প্রেক্ষিতে মামলা শুরু হয়। চিন্ময় কৃষ্ণ দাসসহ বিভিন্ন আসামির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ আনা হয়। মামলার এক পর্যায়ে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
২৯৮ দিন আগে
দ্রুতই সাংবাদিক তুহিন হত্যার চার্জশিট: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
গাজীপুর মহানগরের চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিনকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় দ্রুত চার্জশিট দাখিল করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
রবিবার (১০ আগস্ট) সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটির বৈঠক শেষে উপদেষ্টা এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ‘আমরা জাতি হিসেবে অসহিষ্ণু হয়ে পড়েছি। আগে সমাজে কোনো খারাপ ঘটনা ঘটতে থাকলে লোকজন তা প্রতিহত করত, যাতে ঘটনা না ঘটে। কিন্তু এখন সবাই ভিডিও করার জন্য ব্যস্ত থাকে।’
উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘জনসমক্ষে একটি ঘটনা ঘটছে, কিন্তু কেউ তা প্রতিহত করছে না। গাজীপুরে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। আমাদের সমাজে এ ধরনের ঘটনা কেউ কল্পনাও করতে পারে না। তবে এটা ঘটেছে।’
তিনি জানান, ‘গাজীপুরের ঘটনায় জড়িত বেশিরভাগকে আইনের আওতায় এনেছি। কিন্তু যেই জীবন চলে গেছে, সেই ক্ষতি পূরণের উপায় নেই। আসামিদের বিচারের আওতায় আনার জন্য সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ভিডিও ফুটেজে ঘটনার স্পষ্টতা তুলে ধরে চার্জশিট কত দ্রুত দাখিল করা যাবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘চার্জশিট দ্রুত দেওয়া হবে। কয়েকজন আসামিকে গ্রেপ্তার করাও বাকি রয়েছে।’
পড়ুন: পুলিশের লুট হওয়া অস্ত্রের সন্ধান দিলে মিলবে পুরস্কার
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা পুলিশের মনোবলের ঘাটতি নিয়ে বলেন, ‘আমরা একটি সংকটময় পরিস্থিতি পেয়েছি। আগে এমন পরিস্থিতি বাংলাদেশে ছিল কি না জানা নেই। পুলিশ কাজ করছে না, আনসার বিদ্রোহ করছে, অন্য বাহিনীগুলোও তত সক্রিয় নয়। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি অনেক উন্নতি হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আমরা যতটা আশা করেছিলাম, হয়তো তত ভালো হয়নি, কিন্তু একটি স্ট্যান্ডার্ডে পৌঁছেছি। আমাদের আরও কিছু সময় আছে, আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি, প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করছি। আমরা আশা করছি সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিতে পারব।’
২৯৮ দিন আগে
আসন্ন নির্বাচনে পুলিশের জন্য ৪০ হাজার ‘বডিক্যাম’ সংগ্রহের পরিকল্পনা
আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে আসন্ন সাধারণ নির্বাচনের সময় ভোটকেন্দ্রে নিরাপত্তা জোরদার করতে পুলিশের জন্য কমপক্ষে ৪০ হাজার শরীরে ধারণ উপযোগী ক্যামেরা (বডি-ওয়্যার ক্যামেরা) সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।
শনিবার (৯ আগস্ট) ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে এক উচ্চ পর্যায়ের সভায় এই পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করা হয়।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী খোদা বকস চৌধুরী এবং ফয়েজ তৈয়ব আহমেদও সভায় উপস্থিত ছিলেন।
ফয়েজ তৈয়ব আহমেদ বলেন, ৪০ হাজার বডি ক্যামেরা সংগ্রহের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে যা সাধারণত ‘বডিক্যাম’ নামে পরিচিত। এই ডিভাইসগুলো হাজার হাজার ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রে নিরাপত্তা জোরদার করবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা অক্টোবরের মধ্যে বডিক্যামগুলো সংগ্রহ করতে চাই যাতে পুলিশ বাহিনী এসব ক্যামেরার এআই সক্ষমতাসহ মূল বৈশিষ্ট্যগুলোর ওপর পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ পেতে পারে।’
তিনি জানান, ক্যামেরা সরবরাহের জন্য জার্মানি, চীন ও থাইল্যান্ডের তিনটি কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যরা নির্বাচনের সময় ডিভাইসগুলো তাদের বুকে পরবেন।
আরও পড়ুন: আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে জাতীয় নির্বাচন: সিইসি
এই ক্যামেরাগুলো দ্রুত কিনে হাজার হাজার পুলিশ কর্মীর জন্য যথাযথ প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতে এ সময় কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন প্রধান উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, ‘আমাদের অবশ্যই সমস্ত ভোটকেন্দ্রে সম্পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, তাতে খরচ যাই হোক না কেন। আমাদের লক্ষ্য হলো ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে অবাধ, সুষ্ঠু এবং শান্তিপূর্ণ করা।’
বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টার টেলিযোগাযোগ ও তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিবিষয়ক বিশেষ সহকারী আসন্ন ভোটের জন্য একটি নির্বাচনী অ্যাপ চালু করার পরিকল্পনার কথাও জানান।
তার প্রস্তাব অনুসারে, অ্যাপটি ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের ওপর বিশদ তথ্য প্রদান করবে। এর মধ্যে প্রার্থীর বিবরণ, ভোটকেন্দ্রের আপডেট ও অভিযোগ জমা দেওয়ার ব্যবস্থা থাকবে।
প্রস্তাবিত অ্যাপটি দ্রুত চালু করতে এবং দেশের ১০ কোটিরও বেশি ভোটারের জন্য এটি ব্যবহার উপযোগী কিনা, তা নিশ্চিত করতেও কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেন প্রধান উপদেষ্টা।
২৯৯ দিন আগে
গাজীপুরের সাংবাদিক তুহিন হত্যা মামলার ৭ আসামির ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর
গাজীপুরের বহুল আলোচিত সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিন হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া ৭ আসামির প্রত্যেকের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে।
শনিবার (৯ আগস্ট) বিকেলে গ্রেপ্তার আসামিদের গাজীপুরের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানায়। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক আলমগীর আল মামুন আসামিদের প্রত্যেকের দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
গ্রেপ্তাররা হলেন— কেটু মিজান, কেটু মিজানের স্ত্রী পারুল আক্তার ওরফে গোলাপি, আল আমিন, স্বাধীন, শাহজালাল, ফয়সাল হাসান ও সুমন।
আরেক আসামি আরমান পলাতক রয়েছেন, তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলমান রয়েছে।
এদিকে, শনিবার (৯ আগস্ট) বিকেলে কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলা সদরের পুরাতন বাজার থেকে আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত একজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। র্যাব-১৪ এর কিশোরগঞ্জ ক্যাম্পের অধিনায়ক মো. আশরাফুল কোভিড বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) রাত সাড়ে ৮টার দিকে চান্দনা চৌরাস্তায় মসজিদ মার্কেটের সামনে সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিনকে চাপাতি দিয়ে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। এদিন (৭ আগস্ট) দিবাগত রাতেই গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের বাসন থানায় হত্যা মামলা করেন নিহত তুহিনের বড় ভাই মো. সেলিম। মামলায় অজ্ঞাত ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
২৯৯ দিন আগে
মোহাম্মদপুর ও আদাবরে পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার ১৭
রাজধানীর মোহাম্মদপুর ও আদাবর থানার বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ এলাকায় বিশেষ অভিযানে ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) দিনব্যাপী এই অভিযান পরিচালনা করা হয় বলে শুক্রবার (৮ আগস্ট) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া ও জনসংযোগ বিভাগের ডেপুটি কমিশনার মোহাম্মদ তালেবুর রহমান।
মোহাম্মদপুর থানায় তথ্য অনুযায়ী, এই এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে দুই কেজি গাঁজা ও একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন- জাবির (২৫), মিঠু (১৯), আদর (২২), অনন (১৮), নয়ন (২০), হৃদয় (২৬), মেহেদী হাসান (২১), আল আমিন (২১), দিগন্ত (২২), জুয়েল (২৭), রায়হান (১৯), মনির (২৯) ও শাহীন (৩৫)।
অন্যদিকে, আদাবর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তারা হলেন: মো. মামুনুর রশীদ ওরফে আবির (৩৫), কাজী মো. জায়েদ (৩২), মো. ইউনুস (২২) ও মো. রুস্তম আলী (৫০)। অভিযানে একটি প্রাইভেট কারও জব্দ করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারদের মধ্যে নিয়মিত মামলার আসামি, পরোয়ানাভুক্ত আসামি ও বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ব্যক্তিরা রয়েছেন। তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
৩০০ দিন আগে
হাতিয়ায় আগ্নেয়াস্ত্র ও হাতবোমাসহ আটক ১
নোয়াখালীর হাতিয়ার চরঈশ্বর ইউনিয়নে অভিযান চালিয়ে আবু বক্কর সিদ্দিক নিজাম নামের একজনকে আটক করেছে কোস্টগার্ড। এসময় তার কাছ থেকে ৯টি পাইপগান, ৩ রাউন্ড কার্তুজ, ২৯টি হাত বোমা ও ৩টি বগিদা জব্দ করা হয়।
শুক্রবার (৮ আগস্ট) বিকালে এক প্রেসবিফিংয়ে কোস্টগার্ড দক্ষিণ জোনের স্টাফ অফিসার (অপারেশন) লেফটেন্যান্ট কমান্ডার রিফাত আহমেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
এর আগে চরঈশ্বর ইউনিয়নের বাংলাবাজার মাছঘাটের বিসমিল্লাহ মৎস্য আড়ত থেকে তাকে আটক করা হয়। আটক আবু বক্কর সিদ্দিক নিজাম (৪৫) লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি উপজেলার বাসিন্দা।
কোস্টগার্ড জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বাংলা বাজার মাছ ঘাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিসমিল্লাহ আড়ৎ থেকে নিজামকে আটক করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আড়তে তল্লাশি চালিয়ে আগ্নেয়াস্ত্র, কার্তুজ, বগিদা ও হাতবোমাগুলো জব্দ করা হয়। নিজাম দীর্ঘদিন থেকে এ ঘাটে অবস্থান করে মাছের ব্যবসার আড়ালে বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করে আসছিলেন।লেফটেন্যান্ট কমান্ডার রিফাত আহমেদ জানান, ডাকাত আবু বকর সিদ্দিক নিজামের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করে তাকে হাতিয়া থানায় হস্তান্তর করা হবে।
৩০০ দিন আগে