আইনশৃঙ্খলা
গোপালগঞ্জে এনসিপির পদযাত্রা কেন্দ্র করে পুলিশের গাড়িতে হামলা
গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পদযাত্রা কেন্দ্র করে পুলিশের গাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
বুধবার (১৬ জুলাই) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সদর উপজেলার উলপুর-দুর্গাপুর সড়কের খাটিয়াগড় চরপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মির মো. সাজেদুর রহমান।
তিনি বলেন, ‘এনসিপির মাসজুড়ে জুলাই পদযাত্রার অংশ হিসেবে আজ (বুধবার) গোপালগঞ্জ শহরের পৌর পার্কে পদযাত্রায় কেন্দ্রীয় নেতাদের আগমনের কথা রয়েছে। তাদের পদযাত্রা বানচাল করতে সদর উপজেলার উলপুর এলাকায় পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন ও ভাঙচুর করা হয়েছে। এতে বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।’
আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন, সদর উপজেলার গোপীনাথপুর পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক (আইসি) আহমেদ বিশ্বাস, কনস্টেবল কাওছার ও মিনহাজ। তাদের গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: মোহাম্মদপুরে চাঁদাবাজির প্রতিবাদে করায় এনসিপি কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ, পুলিশ বলছে ভিন্ন কথা
পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান সংবাদমাধ্যমে বলেন, ‘কারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে, আমরা এখন পর্যন্ত জানি না। এতে পুলিশের তিনজন সদস্য আহত হয়েছেন এবং একটি গাড়ি পুড়ে গেছে। আহত তিন পুলিশ সদস্যকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।’
১ জুলাই থেকে ‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচি পালন করছে এনসিপি। এর মধ্যে দেশের বেশ কয়েকটি জেলায় এই কর্মসূচি পালন করেছে দলটি। মাসব্যাপী এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ গোপালগঞ্জে পদযাত্রা করবে দলটি।
মিজানুর রহমান জানান, আজ গোপালগঞ্জ শহরে এনসিপির পথসভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। উলপুর-দুর্গাপুর সড়ক দিয়ে তাদের গাড়িবহর যাওয়ার কথা ছিল। এ জন্য ওই এলাকায় পুলিশ টহল দিচ্ছিল। সেখানে পুলিশের ওপর হামলা ও গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
২৩৩ দিন আগে
সোহাগ হত্যাকাণ্ড: এবার সেই পাথর নিক্ষেপকারী গ্রেপ্তার
পুরান ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতাল চত্বরে ভাঙারি ব্যবসায়ী লালচাঁদ সোহাগকে পাথর দিয়ে মাথা থেঁতলে দেওয়া আসামি গ্রেপ্তার হয়েছেন। পটুয়াখালীর ইটবাড়িয়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকার ডিবি পুলিশ।
মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) রাতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আজ বুধবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পটুয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাজেদুল ইসলাম।
তিনি জানান, ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল এসে রাতে সোহাগ হত্যা মামলার এক আসামীকে ইটবাড়িয়া থেকে ধরে নিয়ে চলে গেছে। মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান এখনো চলমান থাকায় গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।
ঢাকার ডিবি পুলিশের নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, গ্রেপ্তার অন্যান্য আসামিদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নিশ্চিত হয়েই তারা রাতে পটুয়াখালীতে অবস্থান করে। পরবর্তীতে প্রযুক্তির সহায়তায় ইটবাড়িয়া এলাকার একটি বাসা থেকে ওই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী আরও এক আসামিকে গ্রেপ্তার করতে অভিযান অব্যাহত রেখেছে বলেও সুত্রটি জানায়।
সূত্র আরও জানায়, পটুয়াখালীর ইটবাড়িয়া থেকে গ্রেপ্তার হওয়া আসামিই ব্যবসায়ী সোহাগের নিথর দেহের ওপর পাথর নিক্ষেপকারী এতটুকু নিশ্চিত হওয়া গেছে। কিন্তু গ্রেপ্তার না হওয়া অন্য আসামিরা যাতে সতর্ক না হয়ে যায়, সে কারণে তার নাম প্রকাশ করা হচ্ছে না জানান তিনিও।
এই গ্রেপ্তারের মাধ্যমে আলোচিত সোহাগ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া আসামির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৯ জনে।
এর আগে, সোমবার (১৪ জুলাই) র্যাব-১১ ও র্যাব-১০ এর যৌথ অভিযানে নারায়ণগঞ্জের বন্দরের একটি এলাকা থেকে মামলার অন্যতম আসামি মো. নান্নু কাজীকে (৩৩) গ্রেপ্তার করা হয়।
আরও পড়ুন: মিটফোর্ড হত্যা মামলার অন্যতম আসামি নান্নু গ্রেপ্তার
গত ৯ জুলাই বিকালে মিটফোর্ড হাসপাতালের ৩ নম্বর ফটকের সামনে নির্মমভাবে খুন হন ভাঙারি ব্যবসায়ী সোহাগ। প্রত্যক্ষদর্শীদের সামনে তাকে কংক্রিটের বড় বোল্ডার দিয়ে মাথা ও শরীরে বারবার আঘাত করে হত্যা করা হয়। ঘটনাটি সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়লে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায় এবং দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করে।
ঘটনার পরদিন নিহত সোহাগের বড় বোন মঞ্জুয়ারা বেগম বাদী হয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।
নৃশংস এই হত্যাকাণ্ড ঘিরে তদন্ত জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। দ্রুত সময়ের মধ্যেই বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
২৩৩ দিন আগে
কারাবন্দিদের মানবাধিকার রক্ষায় সরকার সচেষ্ট রয়েছে: ধর্ম উপদেষ্টা
দেশের কারাবন্দিদের মানবাধিকার রক্ষায় সরকার সচেষ্ট বলে জানিয়েছেন ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন। তিনি বলেন, আদালত কাউকে দোষী সাব্যস্ত না করলে তাকে অপরাধী বলা যাবে না।
মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) সকালে চট্টগ্রাম জেলা কারাগার পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এ কথা বলেন।
ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, ‘কোনো ব্যক্তি গ্রেপ্তার হলেই তিনি অপরাধী না-ও হতে পারেন। মিথ্যা মামলায়ও অনেকে আটক হতে পারেন। সামাজিক কারণেও অনেকে মিথ্যা মামলায় আটক হন। যতক্ষণ আদালত কর্তৃক কাউকে দোষী সাব্যস্ত না করা হয় এবং শাস্তি দেওয়া না হয়, ততক্ষণ তাকে অপরাধী বলা যাবে না।’
ট্টগ্রাম জেলা কারাগারের আবাসন সংকটের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, ‘এ কারাগারটি ব্রিটিশ আমলের। এখানে আসামিদের স্থান সংকুলান হয় না। আসামিদের গাদাগাদি করে থাকতে হয়।’
এ কারাগারের আরেকটি ইউনিট চালু করে স্থান সংকুলান সম্ভব বলে তিনি মন্তব্য করেন। কারা অভ্যন্তরে উপাসনার ব্যবস্থা থাকার গুরুত্ব তুলে ধরে ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, কারাগার কেবলই শাস্তির স্থান নয়, এটি সংশোধনাগারও বটে। এখানে কোনো উপাসনালয় নেই—মুসলমানদের জন্যও নেই, হিন্দুদের জন্যও নেই।
তিনি কারা কর্তৃপক্ষকে অন্তত একটি কক্ষে মুসলমানদের এবং একটি কক্ষে হিন্দুদের উপাসনার ব্যবস্থা রাখার পরামর্শ দেন। এ কাজে তিনি ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
কারাগারে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা চালুর বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ড. খালিদ বলেন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে কারাগারে ধর্মীয় শিক্ষক নিযুক্ত করে কারাবন্দিদের ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধের জাগরণ ঘটানো সম্ভব। এর মাধ্যমে তাদের মধ্যে অপরাধপ্রবণতা কমে আসবে।
ধর্ম উপদেষ্টা আদালতে আসামিদের ডিজিটাল হাজিরা ও দর্শনার্থীদের জন্য অনলাইনে সময়সূচি অবহিত করাসহ কারাগারের আধুনিকীকরণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন।
এ সময় ডিআইজি প্রিজন টিপু সুলতান, সিনিয়র জেল সুপার মো. ইকবাল হোসেন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক সরকার সরোয়ার আলম এবং বেসরকারি কারা পরিদর্শকরা উপস্থিত ছিলেন।
পরে আন্তঃমন্ত্রণালয় আইনশৃঙ্খলা কমিটির সদস্য হিসেবে ধর্ম উপদেষ্টা চট্টগ্রামে বিভিন্ন বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে সভায় মিলিত হন।
২৩৪ দিন আগে
বিদেশ পাঠানোর নামে প্রতারণা মামলা: বিএসবি গ্লোবালের বাশার রিমান্ডে
বিদেশে উচ্চশিক্ষার প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে শত শত কোটি টাকা আত্মসাৎ করার মামলায় বিএসবি গ্লোবাল নেটওয়ার্কের মালিক খায়রুল বাশার বাহারের ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন ঢাকার একটি আদালত।
মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. ছানাউল্লাহর আদালত এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
বাশারের রিমান্ড আবেদন সূত্রে জানা গেছে, খায়রুল বাশার ও তার সহযোগীরা কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশে উচ্চশিক্ষার চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে ১৪১ জন ভুক্তভোগীর কাছ থেকে ১৮ কোটি ২৯ লাখ ৫৭ হাজার ৬৮০ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ৪৪৮ জন ভুক্তভোগীর কাছ থেকে ৫৩ কোটি টাকারও বেশি অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে। চূড়ান্ত তদন্ত শেষে এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। আসামির বিরুদ্ধে গুলশান থানায় একাধিক প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের মামলা চলমান রয়েছে। আসামি একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের সঙ্গে যুক্ত, যারা মানি লন্ডারিংয়ের সাথেও সম্পৃক্ত।
এর আগে সোমবার (১৪ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর ধানমন্ডির একটি ভবন থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
২৩৪ দিন আগে
সংখ্যালঘু নির্যাতনের প্রতিটি অভিযোগের তদন্ত করছে পুলিশ: প্রেস উইং
দেশের বিভিন্ন এলাকায় ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার প্রতিটি অভিযোগ পুলিশ গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখছে এবং তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে তদন্ত চালাচ্ছে।
মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানায়। এতে বলা হয়, ‘এখন পর্যন্ত কোনো ঘটনার পেছনে সাম্প্রদায়িক উদ্দেশ্যের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এগুলো পৃথক ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সহিংসতা মাত্র। তবে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে।’
গত ১০ জুলাই বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ ও সংখ্যালঘু ঐক্য জোটের ব্যানারে এক সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ছয় মাসে ২৭ জন নিহত হয়েছেন এবং গত ১১ মাসে ২ হাজার ৪৪২টি সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে।
এ প্রসঙ্গে বিবৃতিতে বলা হয়, এর মধ্যে কোনো ঘটনাই সাম্প্রদায়িক সহিংসতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয়। নিহত ২৭ জনের ঘটনায় ২২টি হত্যা মামলা এবং ৫টি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। খুনের পেছনে জমি সংক্রান্ত বিরোধ, আর্থিক লেনদেন, ডাকাতি, সন্ত্রাসী আক্রমণ এবং পারিবারিক কলহের মতো কারণ ছিল।
এ পর্যন্ত এসব ঘটনায় ৪৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, ১৫ জন আত্মসমর্পণ করেছেন এবং ১৮ জন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানানো হয়।
পড়ুন: জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষে বুধবার রাষ্ট্রীয় শোক
বিবৃতিতে বলা হয়, সংবাদ সম্মেলনে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের ২০টি ঘটনার কথা বলা হলেও এর মধ্যে ১৬টি ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং ২৫ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনটি ঘটনায় কোনো অভিযোগ হয়নি।
ঐক্য পরিষদের দাবি, ২০২৪ সালের ৪ থেকে ২০ আগস্টের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সহিংসতা হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে ১ হাজার ৭৬৯টি হামলা ও নিপীড়নসহ মোট ২ হাজার ১০টি সাম্প্রদায়িক ঘটনার কথা বলা হয়।
এ বিষয়ে প্রেস উইং জানায়, বাংলাদেশ পুলিশ এসব অভিযোগের মধ্যে ৫৬ জেলায় সংঘটিত ১ হাজার ৪৫৭টি ঘটনার সত্যতা পেয়েছে।
এ ছাড়া, ৬০টি ঘটনার মধ্যে মন্দিরে চুরি, প্রতিমা ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, জমি দখল ও উচ্ছেদ চেষ্টার অভিযোগ রয়েছে। ঐক্য পরিষদ এসবসহ আরও কিছু ঘটনার তথ্য পরে তুলে ধরবে বলে প্রেস উইং’র বিবৃতিতে জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, পুলিশ চূড়ান্ত তালিকা পাওয়ার পর পুনরায় তা পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্ট আপডেট জানাবে।
২৩৪ দিন আগে
ফ্যাসিস্ট ও জঙ্গিবাদের সবকিছু উপড়ে ফেলতে হবে: ডিআইজি রেজাউল
ফ্যাসিস্ট ও জঙ্গিবাদের সবকিছুর উপড়ে ফেলতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক। তিনি বলেন, নিষিদ্ধ সংগঠনের যে সকল অপরাধী রয়েছে, তাদেরকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে। তা না হলে জুলাই শহীদদের প্রতি অবমাননা করা হবে।
মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) ফরিদপুর পুলিশ লাইনে বিশেষ কল্যাণ সভা ও জুলাই আন্দোলনের নিহতদের স্মরণে এক সভায় এ কথা বলেন।
ফরিদপুরের পুলিশ সুপার আব্দুল জলিলের সভাপতিত্বে সভায় পুলিশের ঢাকা বিভাগের এই শীর্ষ কর্মকর্তা আরও বলেন, পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের কোনো অনিয়ম, দুর্নীতি সহ্য করা হবে না। যদি কোনো অপরাধ পরিলক্ষিত হয়, তাহলে পুলিশের আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
‘কোনো রকম অর্থনৈতিক অনিয়ম–দুর্নীতি—এ ধরনের কোনো কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়া যাবে না,’ যোগ করেন তিনি।
পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘আপনারা (পুলিশ) জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করবেন, জনগণের কল্যাণে কাজ করবেন। থানায় যেন কোনো সেবাগ্রহীতা এসে ভোগান্তির শিকার না হন ‘
‘আমি শুনতে চাই না, কোনো সেবাগ্রহীতা থানায় এসে হয়রানির শিকার হয়েছেন। সকল মানুষের প্রতি সম্মানসহকারে কাজ করতে হবে। আইনশৃঙ্খলায় যেন কোনো অবনতি না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে ‘
আরও পড়ুন: সংখ্যালঘু নির্যাতনের অধিকাংশ ঘটনায় সাম্প্রদায়িকতার প্রমাণ মেলেনি: পুলিশ সদর দপ্তর
পুলিশ সদস্যদের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ‘আমরা নিষিদ্ধ সংগঠনের যে সমস্ত অপরাধী সদস্য রয়েছে, তার সঙ্গে যদি কোনো সম্পর্কের গন্ধ পাই—কাউকে আমি ছাড় দেব না।এই ফরিদপুরে যারা সন্ত্রাসী, গডফাদার, চাঁদাবাজ—তাদের কোনো ছাড় দেওয়া চলবে না।’
এর পরে তিনি জুলাই চব্বিশে শহীদ পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উপহারসামগ্রী তুলে দেন এবং পুলিশের মাল্টিপারপাস হল উদ্বোধন করেন। এ সময় জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শামসুল আজম, সদর পুলিশ সার্কেলের আজমির হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
২৩৪ দিন আগে
মিটফোর্ড হত্যা মামলার অন্যতম আসামি নান্নু গ্রেপ্তার
পুরান ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালের সামনে ভাঙারি ব্যবসায়ী লালচাঁদ ওরফে মো. সোহাগকে (৩৯) পাথর মেরে নির্মমভাবে হত্যার মামলার অন্যতম আসামি নান্নুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সোমবার (১৪ জুলাই) দিবাগত রাত ২টার দিকে নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
বিষয়টি নিশ্চিত করে র্যাব-১১ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এইচএম সাজ্জাদ হোসেন। তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাবের একটি বিশেষ দলের অভিযানে আসামি নান্নুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, সোহাগকে নৃশংসভাবে হত্যার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল। সেই ভিডিওতে সোহাগের মৃত্যু নিশ্চিত করতে যে চারজনকে ইট ও সিমেন্টের ব্লক দিয়ে আক্রমণ করতে দেখা গিয়েছিল, আসামি নান্নু তাদেরই একজন।
আরও পড়ুন: মিটফোর্ডে হাসপাতালের বাইরে যাওয়ার সুযোগ ছিল না আনসারদের: ডিজি
এ নিয়ে এ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া আসামির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে আটজনে।
এর আগে, সর্বশেষ রবিবার (১৩ জুলাই) নেত্রকোনা থেকে সজিব ও রাজিব নামে দুই ভাইকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাদের পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।
গত ৯ জুলাই সন্ধ্যা ৬টার দিকে মিটফোর্ড হাসপাতালের ৩ নম্বর গেট-সংলগ্ন রজনী ঘোষ লেনে পাকা রাস্তার ওপর একদল সোহাগকে এলোপাথাড়িভাবে পাথর দিয়ে আঘাত করে ও কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে।
ওই ঘটনায় পরের দিন ১০ জুলাই নিহতের বড় বোন মঞ্জুয়ারা বেগম বাদী হয়ে ১৯ জনের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করা হয়।
২৩৪ দিন আগে
টোলপ্লাজায় ৬ জনের মৃত্যু: দেড় কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ দিতে রুল
ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের ধলেশ্বরী টোলপ্লাজায় তিনটি গাড়িকে চাপা দিয়ে ৬ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় প্রত্যেকের পরিবারকে দেড় কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ দিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
এক রিটের প্রাথমিক শুনানি করে সোমবার (১৪ জুলাই) বিচারপতি কাজী জিনাত হক ও বিচারপতি আইনুন নাহার সিদ্দিকার হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন।
আদালতে রিটের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান, অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান বাদল, অ্যাডভোকেট রিপন চৌধুরী, অ্যাডভোকেট আব্দুর রাজ্জাক।
আরও পড়ুন: আবু সাঈদ-মুগ্ধদের জাতীয় বীর ঘোষণা করতে হাইকোর্টের রুল
২০২৪ সালের ২৭ ডিসেম্বর ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের ধলেশ্বরী টোলপ্লাজায় তিনটি গাড়িকে চাপা দেওয়ার ঘটনায় ৬ জন নিহত হয়।
ধলেশ্বরী টোলপ্লাজায় টোল দেওয়ার জন্য দাঁড়ানো প্রাইভেটকার, মোটরসাইকেল ও মাইক্রোবাসকে পেছন থেকে চাপায় দেয় বেপারী পরিবহনের বেপরোয়া একটি যাত্রীবাহী বাস।
এতে ঘটনাস্থলেই বাইকে থাকা এক শিশু নিহত হয়। আহত ৮ জনকে ঢাকার হাসপাতালে নেওয়ার পথে আরও ৪ জন মারা যান। পরে হাসপাতালে আরও একজনের মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় ক্ষতিপূরণ চেয়ে রিট করেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।
২৩৫ দিন আগে
আবু সাঈদ-মুগ্ধদের জাতীয় বীর ঘোষণা করতে হাইকোর্টের রুল
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ আবু সাঈদ, মীর মুগ্ধ ও ওয়াসিমসহ অন্যান্য শহীদদের কেন জাতীয় বীর ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
এক রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে সোমবার (১৪ জুলাই) বিচারপতি ফাহমিদা কাদেরের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন।
আন্দোলনে শহীদদের প্রকৃত ও নির্ভরযোগ্য তালিকা করে তা গেজেট আকারে প্রকাশের কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না—রুলে তা জানতে চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসকে নতুন বাংলাদেশের ‘জাতীয় সংস্কারক’ কেন ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব, আইন সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ইকরামুল কবির।
আরও পড়ুন: চাঁনখারপুলে ছয় শিক্ষার্থী হত্যা: ৮ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন
এর আগে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে জাতীয় সংস্কারক ঘোষণা, ’২৪-এর অভ্যুত্থানে নিহত ব্যক্তিদের প্রকৃত তালিকা প্রকাশ ও তাদের জাতীয় শহীদ হিসেবে ঘোষণার নির্দেশনা চেয়ে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সদস্য ইমদাদুল হক (হোয়াইট ম্যান) গত ফেব্রুয়ারি মাসে রিটটি করেন।
আদেশের পর আইনজীবী মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বলেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থানের পর দেশের হাল ধরার জন্য সাহস করে এগিয়ে এসেছেন অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। ক্ষমতায় আসার পর তিনি বলেছেন, দেশটাকে বিনির্মাণ করে নতুন রাষ্ট্র গঠনে সংস্কারের পথে এগিয়ে নিয়ে যাবেন।
‘সে লক্ষ্যে তিনি বিভিন্ন সংস্কার কমিশন গঠন করেছেন। বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশনসহ অন্যান্য সংস্কারে হাত দেওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে দেখা গেছে, এই প্রথম তিনি জাতীয় সংস্কার ও দেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের জন্য কাজ করতে চান এবং নিজে বলেছেন মালয়েশিয়া বা অন্যান্য উন্নত জাতির সঙ্গে তুলনা করার জন্য কাজ করতে চান,’ যোগ করেন তিনি।
২৩৫ দিন আগে
চাঁনখারপুলে ছয় শিক্ষার্থী হত্যা: ৮ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন
রাজধানীর চাঁনখারপুল এলাকায় গত বছরের ছাত্র-জনতার জুলাই আন্দোলনের সময় ছয় শিক্ষার্থী হত্যার ঘটনায় করা মামলায় সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ আট পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।
সোমবার (১৪ জুলাই) ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মার্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বেঞ্চ আনুষ্ঠানিকভাবে এই অভিযোগ গঠন করেন।
মামলার চার আসামি—ইন্সপেক্টর আরশাদ, কনস্টেবল সুজন, কনস্টেবল এমাজ হোসেন ইমন ও কনস্টেবল নাসিরুল ইসলামকে এদিন ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
অন্য চার আসামি—সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার (রমনা জোন) শাহ আলম মো. আখতারুল ইসলাম এবং সাবেক সহকারী কমিশনার (রমনা জোন) মোহাম্মদ এমরুল পলাতক রয়েছেন।
পড়ুন: মিটফোর্ড হত্যাকাণ্ড রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহারের অভিযোগ ফখরুলের
এর আগে, গত ২৫ মে ট্রাইব্যুনাল মামলার অভিযোগপত্র আমলে নেয়। ওই দিন প্রধান প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম অভিযোগপত্র জমা দিলে তা গ্রহণ করা হয়।
তদন্ত সংস্থা ২১ এপ্রিল ট্রাইব্যুনালে ৯০ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়, যা ১৯৫ দিনের তদন্ত শেষে প্রস্তুত করা হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছরের ৫ আগস্ট চাঁনখারপুল এলাকায় গুলিতে শাহরিয়ার খান আনাস, শেখ মাহদি হাসান জুনায়েদ, মো. ইয়াকুব, মো. রাকিব হাওলাদার, মো. ইসমামুল হক ও মানিক মিয়া নিহত হন।
প্রধান প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম জানান, মামলার অভিযোগপত্রে বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমে কয়েকজন আসামির গুলিবর্ষণে সরাসরি জড়িত থাকার প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া, উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ‘কমান্ড দায়বদ্ধতা’র আওতায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
২৩৫ দিন আগে