আইনশৃঙ্খলা
খাগড়াছড়িতে ভারতীয় ৮০ নাগরিককে পুশ ইন করেছে বিএসএফ
সীমান্তবর্তী জেলা খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা ও পানছড়ি উপজেলার একাধিক পয়েন্ট দিয়ে ভারতীয় ৮০ নাগরিককে বাংলাদেশে ঠেলে দিয়েছে (পুশ ইন) দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।
বুধবার (৭ মে) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মাটিরাঙ্গা উপজেলার গোমতী ইউনিয়নের দক্ষিণ শান্তিপুর এলাকায় গিয়ে জানা যায়, খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলার দক্ষিণ শান্তিপুর সীমান্ত দিয়ে ২৭ জন, তাইন্দং-এর আচালং সীমান্ত দিয়ে ২৩ জন এবং পানছড়ি উপজেলার রুপসেন পাড়া সীমান্ত দিয়ে ৩০ জনকে পুশ-ইন করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় প্রশাসন। তাদের অধিকাংশ শিশু ও নারী।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অনুপ্রবেশকারীরা নিজেরা ভারতের নাগরিক বলে জানান। এরা সবাই চরম হতবিহ্বল ও আতঙ্কগ্রস্ত। অধিকাংশের গায়ে ছিল শুধু এক কাপড়। অনেক নারী ও শিশু রয়েছে, যাদের চোখে মুখে ছিল অজানা ভয় ও অনিশ্চয়তা।
স্থানীয় জনগণ এই ঘটনাকে একটি মানবিক সংকট হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ধর্মীয় কারণে নিপীড়নের শিকার মানবাধিকার লঙ্ঘন মনে করছেন অনেকেই। এদিকে, স্থানীয় প্রশাসন ও বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি সতর্ক অবস্থানোর থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রেখেছে। এই ঘটনাটি শুধুই একটি সীমান্ত লঙ্ঘনের বিষয় নয, বিষয়টি অমানবিকও।
দক্ষিণ শান্তিপুর এলাকার বাসিন্দা মো. আবুল হাসেম বলেন, ফজরের নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বেরিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করা ভারতীয় নাগরিকদের আবুল মেম্বরের বাড়ির সামনে দেখেছেন। সকলেই খুব বেশি আতঙ্কগ্রস্ত এবং ক্ষুধার্ত ছিল। তিনিসহ আরও কয়েকজন মিলে পাশের দোকান থেকে মুড়ি, চানাচুর কিনে তাদের খাবারের জন্য দিয়েছেন। তাদের বিষয়ে পাশের বিজিবি ক্যাম্পে খবর দিয়েছেন।
মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনজুর আলমসহ বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাইন্দং এর আচালং এবং দক্ষিণ শান্তিপুর এলাকায় অনুপ্রবেশকারীদের সঙ্গে দেখা করে কথা বলেছেন। মানবিক দিক বিবেচনা করে আপাতত তাদের স্থানীয় দুই জনের বাড়িতে থাকতে দিয়েছেন। তবে তিনি এ বিষয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কোনো মন্তব্য করেননি।
অনুপ্রবেশের বিষয়ে জানতে বিজিবির কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও বিজিবির তেমন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পলাশপুর জোন অধিনায়ক সেক্টর হেডকোয়ার্টার থেকে তথ্য সংগ্রহের পরামর্শ দিয়েছেন।
আরও পড়ুন: ঠাকুরগাঁও সীমান্তে ৪ বাংলাদেশিকে আটক করেছে বিএসএফ
বিজিবির পক্ষ থেকে অনুপ্রবেশকারীদের তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিজিবির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।
খাগড়াছড়ি জেলার ভারপ্রাপ্ত প্রশাসক স্থানীয়, সরকার বিভাগের উপপরিচালক নাজমুন আরা সুলতানা জানান, রাত আটটা পর্যন্ত খাগড়াছড়ি জেলায় সর্বমোট ৮০ জনের মতো অনুপ্রবেশের তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। তিনি জানান, অনুপ্রবেশের বিষয়ে সকল ধরনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বিজিবি। তবে বর্তমানে অনুপ্রবেশকারীদের মানবিক সহযোগিতা হিসেবে খাবারের ব্যবস্থা করছে জেলা প্রশাসন।
এছাড়া বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, সীমান্তের ওপারে বিভিন্ন স্থানে এখনো অনেক লোকজন জড়ো করে রেখেছে বিএসএফ। যেকোনো মুহুর্তে বাংলাদেশে ঠেলে দিতে পারে।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে এই ধরনের 'পুশ-ইন' কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ভারতের বিএসএফকে কড়া প্রতিবাদ জানানো হয়েছে এবং বিভিন্ন স্তরে পতাকা বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে। যদি তারা ভারতীয় নাগরিক হিসেবে প্রমাণিত হয়, তবে তাদের দেশে ফেরত পাঠানো হবে। এ বিষয়ে ভারতের যথাযথ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হয়েছে।
বিজিবি সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করেছে, নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থেকে সীমান্তে সজাগ দৃষ্টি রাখছে।
৩০৩ দিন আগে
রিমান্ড শেষে কারাগারে অভিনেতা সিদ্দিক
অভিনেতা সিদ্দিকুর রহমান সিদ্দিককে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
বুধবার (৭ মে) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসাইন উভয় পক্ষের শুনানি শেষে জামিনের আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
গত ৩০ এপ্রিল বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় গুলশানে ভ্যানচালক জব্বার আলী হাওলাদারকে হত্যাচেষ্টার মামলায় অভিনেতা সিদ্দিকুর রহমান সিদ্দিককে সাত দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ।
সাত দিনের রিমান্ড শেষে সিদ্দিককে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুস সালাম কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানো নির্দেশ দেন।
গত ২৯ এপ্রিল বিকালে বেইলি রোড দিয়ে যাওয়ার সময় কিছু যুবক সিদ্দিককে আটক করেন। তাকে মারধর করে রমনা মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়। পরে তাকে গুলশান থানায় হস্তান্তর করলে তাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়।
আরও পড়ুন: ভ্যানচালক হত্যাচেষ্টা মামলায় সাতদিনের রিমান্ডে সিদ্দিক
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় গত ১৯ জুলাই গুলশানের শাহজাদপুরে কনফিডেন্স টাওয়ারের সামনে আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালানো হয়। এতে জব্বার আলী হাওলাদার গুলিবিদ্ধ হন।
এ ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১০৯ জনের বিরুদ্ধে গুলশান থানায় এ মামলাটি করে জব্বার আলী হাওলাদার নিজেই।
৩০৩ দিন আগে
জুলাই হত্যা মামলা: গান বাংলার তাপসসহ গ্রেপ্তার ৪
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকেন্দ্রিক রাজধানীর দুই থানায় হওয়া পৃথক তিনটি মামলায় গান বাংলা টেলিভিশনের প্রধান নির্বাহী কৌশিক হোসেন তাপসসহ চারজনকে ঢাকার আদালতে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
গ্রেপ্তার অন্যরা হলেন— নিয়ন ফামাসিউটিক্যালস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুস সালাম, দৈনিক সরেজমিন বার্তার সাংবাদিক সিকদার লিটন ও যুব মহিলা লীগ নেত্রী আশা আক্তার।
বুধবার (৭ মে) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জি এম ফারহান ইসতিয়াক শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। এর আগে তাদের আদালতে হাজির করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তারা রাজধানীর তিন হত্যা মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। পরে আদালত সেটি মঞ্জুর করেন।
তাপসের মামলা সূত্রে জানা গেছে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে গত ১৯ জুলাই গুলশানের শাহজাদপুরের কনফিডেন্স টাওয়ারের সামনে আন্দোলনকারীদের ওপর গুলিবর্ষণ করা হয়। এতে জব্বার আলী হাওলাদার নামে একজন গুলিবিদ্ধ হন। চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১০৯ জনের বিরুদ্ধে গুলশান থানায় মামলা করেন।
আরও পড়ুন: রাজধানীতে সাবেক এমপিসহ গ্রেপ্তার ৯
আব্দুস সালামের মামলা সূত্রে জানা গেছে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে গত ৪ আগস্ট রাজধানীর ধানমণ্ডির সাইন্সল্যাব থেকে জিগাতলা এলাকায় যাওয়ার পথে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন মো. রিয়াজ (২৩)। দুই সপ্তাহ চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ১৭ আগস্ট বিকালে মারা যান তিনি। এ ঘটনায় নিহতের মা মোসা. শাফিয়া বেগম ৯ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ধানমণ্ডি থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।
এছাড়া আশা ও সিকদার লিটনের মামলার সূত্রে জানা গেছে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে ভাটারা থানাধীন যমুনা ফিউচার পার্কের পাশে গত ২০ জুলাই আন্দোলনে অংশ নেন মো. জাহাঙ্গীর। এদিন দুপুর ১২টায় আসামিদের ছোঁড়া গুলিতে আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি। এরপর ২১ জুলাই তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় এ বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি ভাটারা থানায় একটি হত্যা মামলা করা হয়।
৩০৩ দিন আগে
শেখ হেলাল-তন্ময়ের বিরুদ্ধে ২০০ কোটি টাকার চাঁদাবাজির মামলা
বাগেরহাট-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শেখ হেলাল উদ্দীন ও তার ছেলে বাগেরহাট–২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শেখ তন্ময়সহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে ২০০ কোটি টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে মামলা হয়েছে।
স্থানীয় নিউ বসুন্ধরা রিয়েল এস্টেটের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল মান্নান তালুকদার বাদি হয়ে সোমবার (৫ মে) বাগেরহাট মডেল থানায় এই মামলা করেন।
এ মামলার অপর আসামিরা হলেন—শেখ হেলালের ব্যক্তিগত সহকারী বাগেরহাট জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও সদর উপজেলার মুক্ষাইট এলাকার বাসিন্দা মো. ফিরোজুল ইসলাম, তন্ময়ের ব্যক্তিগত সহকারী ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা উপজেলার বাসিন্দা এমএইচ শাহীন ও শেখ শহীদুল ইসলাম। এর মধ্যে শেখ শহীদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করেছে পুলিশ।
এমএইচ শেখ তন্ময়ের ব্যক্তিগত সহকারী হওয়ার সুবাদে তিনি বাগেরহাটে বিভিন্ন সময় প্রভাব বিস্তার করেছেনে। শেখ শহীদুল ইসলাম বরিশালের গোড়াচাঁদদাস সড়কের বাসিন্দা।
৫ আগস্টের পর থেকে হেলাল, তন্ময়, ফিরোজুল ও এমএইচ শাহীন আত্মগোপনের রয়েছেন।
মামলার এজাহারের বরাত দিয়ে বাগেরহাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহামুদ-উল-হাসান জানান, ২০১৮ সালের ১৫ নভেম্বর রাতে শেখ হেলাল উদ্দীন, শেখ তন্ময়সহ পাঁচজন আব্দুল মান্নান তালুকদারের শহরের সরুই কার্যালয়ে গিয়ে ২০০ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করেন।
তিনি জানান, চাঁদা না দিলে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া, মিথ্যা মামলায় জড়ানোসহ মেরে ফেলার হুমকি দেয়। তখন মামলার বাদী আব্দুল মান্নান তালুকদার নিজের ব্যবসা রক্ষার স্বার্থে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রাহকের রক্ষিত টাকা থেকে সাত কোটি ৩০ লাখ টাকা তাদের হাতে তুলে দেন।
আরও পড়ুন: বিএনপি ছেড়ে চরমোনাই পীরের দলে যোগ দিলেন সাবেক এমপি
তিনি আরও জানান, তারা বাকি টাকা দ্রুত দিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে তখনকার মত চলে যান।
পরে ২০১৯ সালের ৩ জানুয়ারি আসামিরা আবারও তার অফিসে এসে বাকি টাকা পরিশোধের জন্য হুমকি দেয়। তখন জীবন ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রক্ষায় মান্নান তালুকদার আসামিদের আরও ১২ কোটি ৭০ লাখ টাকা চাঁদা দেন। এই নিয়ে দুই দফায় আসামিরা আব্দুল মান্নান তালুকদারের কাছ থেকে ২০ কোটি টাকা চাঁদা নেয় বলে মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।
আসামিরা প্রভাবশালী নেতা হওয়ায় আগে তিনি থানা বা আদালতে মামলা করতে সাহস পাননি। এখন পরিবেশ তৈরি হওয়ায় মামলাটি করেছেন বলে জানান ব্যবসায়ী আব্দুল মান্নান তালুকদার।
ওসি মাহামুদ-উল-হাসান আরও বলেন, ‘আব্দুল মান্নান তালুকদারের লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে পেনাল কোডের ৩৮৬ ও ৩৮৭ ধারা অনুযায়ী মামলাটি গ্রহণ করা হয়েছে। সোমবার এই মামলার এজাহারভুক্ত ৩ নম্বর আসামি মো. শহীদুল ইসলামকে (৩৭) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’
এছাড়া অন্যান্য আসামিদের ধরতে পুলিশ তৎপর রয়েছে বলেও জানান ওসি।
৩০৪ দিন আগে
চাঁপাইনবাবগঞ্জে মাদক মামলায় যুবকের যাবজ্জীবন
চাঁপাইনবাবগঞ্জে মাদক মামলায় আখতারুজ্জামান (৪৫) নামে এক যুবকের যাবজ্জীবন দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে ২০ হাজার টাকা জরিমানাসহ অনাদায়ে আরও ৬ মাস কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ মে) দুপুরে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-১ আব্দুল্লাহ আল মামুন আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।
আখতারুজ্জামান সদর উপজেলার শাজাহানপুর ইউনিয়নের হাকিমপুর গ্রামের বাসিন্দা।
আরও পড়ুন: হকার জুবায়ের হত্যা: ৪ জনের মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন দুজনের
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী রেজাউল করিম জানান, ২০২০ সালের ২০ এপ্রিল জেলা গোয়েন্দা পুলিশ আখতারুজ্জামানের নিজ বাড়িতে অভিযান চালিয়ে দেড় কেজি হেরোইনসহ তাকে গ্রেপ্তার করে।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় ওই দিন সদর থানায় মামলা করেন গোয়েন্দা পুলিশের উপপরিদর্শক মশিউর রহমান। ২০২০ সালের ৩০ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক অনুপ কুমার সরকার আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।
৩০৪ দিন আগে
হকার জুবায়ের হত্যা: ৪ জনের মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন দুজনের
নারায়ণগঞ্জের আলোচিত হকার জুবায়ের হত্যা মামলায় চারজনের মৃত্যুদণ্ড ও দুজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (৬ মে) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ অতিরিক্ত দায়রা জজ চতুর্থ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান ভূঁইয়া এই রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— সোনারগাঁও বরুমদী এলাকার আব্দুস সামাদ মুন্সীর ছেলে মো ইকবাল হোসেন (৩৭), বন্দরের নূর ইসলামের ছেলে মো. স্বপন (৪৯), কুমিল্লার মুরাদনগর এলাকার মো. আব্দুল মান্নানের ছেলে সায়মন ওরফে ইউনুস মিয়া (২৬) ও মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ এলাকার মো. মুহিতুর রহমানের ছেলে মো. আনোয়ার হোসেন সানি (২৭)।
যাবজ্জীবন পাওয়া দুজন হলেন— কুমিল্লার মুরাদনগর এলাকার হাছান আল মামুন (২২) ও কুমিল্লার বাঙ্গারা বাজারের রাসেল হোসেন (২৭)। তাদের মধ্যে রাসেল পলাতক রয়েছেন।
কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক মো. কাইউম খান বলেন, ‘২০২১ সালে নারায়ণগঞ্জ সদর থানার একটি হত্যা মামলায় পাঁচজনের উপস্থিতি ও একজনের অনুপস্থিতিতে আদালত রায় ঘোষণা করেছেন।’
আরও পড়ুন: নারায়ণগঞ্জে হত্যা মামলায় দুই ভাইয়ের যাবজ্জীবন
মামলার বাদী মুক্তা বেগম বলেন, ‘আদালতের এই রায়ে আমি সন্তুষ্ট। আমি দ্রুত এই রায় কার্যকর দেখতে চাই।’
আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মাছুদা বেগম শম্পা বলেন, ‘এটি একটি আলোচিত হত্যা মামলা। ২০২১ সালের ১৪ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কে বলাকা পেট্রোল পাম্পের সামনে ফুটপাতে দোকান বসানোকে কেন্দ্র করে দণ্ডপ্রাপ্তদের হাতে হকার জুবায়ের ছুরিকাঘাতে খুন হন। এ ঘটনায় নিহত জুবায়েরের মা মুক্তা বাদী হয়ে আটজনের নাম উল্লেখ করে সদর মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় আদালত এই রায় ঘোষণা করেছেন।’
৩০৪ দিন আগে
মহেশপুর সীমান্তে নারী-শিশুসহ আটক ১৯
ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে যাওয়ার সময় নারী ও শিশুসহ ১৯ জনকে আটক করেছে বিজিবি।
সোমবার (৫ মে) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত উপজেলার খোশালপুর ও সামন্তা এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।
সোমবার সন্ধ্যায় খালিশপুর ৫৮ বিজিবির সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের সই করা এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
আরও পড়ুন: গাজীপুরে অন্যের পরীক্ষা দিতে গিয়ে আটক ২
বিজিবি জানায়, মহেশপুরের কয়েকটি সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে যাওয়ার চেষ্টাকালে খোশালপুর সীমান্তের মাইলবাড়িয়া গ্রাম থেকে নারী ও শিশুসহ ৮ জন, সামন্তা সীমান্তের রুলি গ্রামের মোমিনতলা মোড় এলাকা থেকে ৮ জন ও আনন্দ বাজার গ্রাম থেকে ৩ বাংলাদেশিকে আটক করা হয়। পরে বিজিবির পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করে আসামিদের মহেশপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তাদের বাড়ি রাজবাড়ী, সাতক্ষীরা, নড়াইল, বাগেরহাট জেলার বিভিন্ন গ্রামে।
৩০৪ দিন আগে
রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় চিন্ময় দাসের জামিন স্থগিত
জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগে করা রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন আদেশ স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালত।
রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন শুনে মঙ্গলবার(৬ মে) আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হকের আদালত এই আদেশ দেন।
আদালতে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এম কে রহমান। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার অনীক আর হক ও অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল আরশাদুর রউফ।
এর আগে গত ৩০ এপ্রিল রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে জামিন দেন হাইকোর্ট। পরে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সেদিন সন্ধ্যায় আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত ওই জামিন আদেশ স্থগিত করেন। কিছুক্ষণ পরে ওই স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে ফের রবিবার রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের ওপর শুনানির জন্য ধার্য করেন। আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হকের আদালত এই আদেশ দেন। সে অনুযায়ী আজ রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের শুনানি হয়।
জানা যায়, রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় জামিন চেয়ে চিন্ময় দাসের করা আবেদনের শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট গত ৪ ফেব্রুয়ারি রুল দিয়েছিলেন। আবেদনকারীকে (চিন্ময়) কেন জামিন দেওয়া হবে না, রুলে তা জানতে চাওয়া হয়।
গত ২৩ এপ্রিল হাইকোর্ট রুল শুনানির জন্য ৩০ এপ্রিল তারিখ নির্ধারণ করেন। এর ধারাবাহিকতায় গতকাল শুনানি নিয়ে রুল ‘অ্যাবসলিউট’ ঘোষণা করে সিদ্ধান্ত দেন হাইকোর্ট।
আদালতে চিন্ময় দাসের পক্ষে আইনজীবী জেড আই খান পান্না, প্রবীর হালদার ও অপূর্ব কুমার ভট্টাচার্য শুনানিতে ছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুহাম্মদ আবদুল জব্বার ভুঞা, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ফরিদ উদ্দিন খান উপস্থিত ছিলেন।
জামিনের পরে আইনজীবী প্রবীর হালদার বলেন, হাইকোর্ট চিন্ময় দাসকে জামিন দিয়েছেন। জামিন হওয়ায় তার মুক্তিতে আইনগত কোনো বাধা নেই। তবে হাইকোর্টের রায়ের পর পরই রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন জানায়। পরে সন্ধ্যায় চেম্বার বিচারপতির আদালতে শুনানি হয়।
আরও পড়ুন: রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় চট্টগ্রামে চিন্ময়ের জামিন আবেদন নামঞ্জুর
এই মামলায় চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ গত ২ জানুয়ারি চিন্ময়ের জামিন আবেদন খারিজ করে আদেশ দিয়েছিলেন। এ নিয়ে হাইকোর্টে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন চেয়ে গত ১২ জানুয়ারি আবেদনটি করেছিলেন চিন্ময় দাস। এ আবেদনের শুনানি নিয়ে গত ৪ ফেব্রুয়ারি রুল দেন হাইকোর্ট। রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি শেষে আজ সিদ্ধান্ত দেন আদালত। মামলায় গ্রেপ্তার চিন্ময় দাসের জামিন নামঞ্জুর হওয়া নিয়ে গত বছরের ২৬ নভেম্বর চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গণে সংঘর্ষ হয়েছিল। এ সময় আইনজীবী সাইফুল ইসলামকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। জামিন নামঞ্জুর হওয়ার পর চিন্ময় দাসকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। পরদিন জামিন শুনানির দিন ধার্য থাকলেও আইনজীবী হত্যার প্রতিবাদে কর্মবিরতির ডাক দিলে আদালতের কার্যক্রম বন্ধ থাকে। পরে আদালত গত ৩ ডিসেম্বর শুনানির দিন রাখেন। সেদিন চিন্ময়ের কোনো আইনজীবী উপস্থিত না থাকায় আদালত শুনানির জন্য ২ জানুয়ারি পরবর্তী দিন রাখেন। সেদিন তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর হয়।
গত বছরের ৩১ অক্টোবর নগরের চান্দগাঁও মোহরা ওয়ার্ড বিএনপির তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ খান বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে ওই মামলা করেন। পরে ফিরোজ খানকে বিএনপি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এ মামলায় চিন্ময়সহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
৩০৪ দিন আগে
গাজীপুরে অন্যের পরীক্ষা দিতে গিয়ে আটক ২
গাজীপুরের শ্রীপুরে চলমান এসএসসি পরীক্ষায় অন্যের হয়ে পরীক্ষা দিতে গিয়ে কেন্দ্রে আটক হয়েছেন দুইজন। মঙ্গলবার (৬ মে) শ্রীপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে তাদের আটক করা হয়।
আটকরা হলেন—শ্রীপুর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের লোহাগাছ গ্রামের শামছুল আলমের ছেলে জুনায়েদ আহাম্মেদ সাগর এবং কেওয়া পূর্বখণ্ড গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে মামুন। তারা শ্রীপুর উপজেলার জৈনাবাজার আদর্শ কারিগরি স্কুলের শিক্ষার্থী খায়রুল ইসলাম ও রানা মোল্লার পক্ষে পরীক্ষা দিতে এসেছিলেন।
তারা পাঁচ হাজার টাকার বিনিময়ে প্রত্যেকে অন্যের পরীক্ষা দিতে গিয়েছেন বলে জানা গেছে। মঙ্গলবার এসএসসি পরীক্ষার অষ্টম দিনে ‘বিল্ডিং মেইনটেন্যান্স’ বিষয়ে পরীক্ষায় অংশ নিতে এসে তারা ধরা পড়েন।
আরও পড়ুন: ডিবির হারুনের ঘনিষ্ঠ জাহাঙ্গীরসহ তিনজনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা
শ্রীপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জানান, পরীক্ষা চলাকালে কেন্দ্র পরিদর্শনের সময় পরীক্ষার্থীদের আচরণ সন্দেহজনক মনে হয়। পরে আইডি কার্ড যাচাই করে দেখা যায়, তাদের সঙ্গে থাকা ছবির সঙ্গে আসল শিক্ষার্থীদের মিল নেই। জিজ্ঞাসাবাদে তারা প্রক্সি (বদলি) পরীক্ষা দেওয়ার কথা স্বীকার করেন।
এ বিষয়ে শ্রীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জয়নাল আবেদীন মণ্ডল জানান, আটক দুজনকে থানায় নেওয়া হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
৩০৪ দিন আগে
ডিবির হারুনের ঘনিষ্ঠ জাহাঙ্গীরসহ তিনজনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা
সাবেক ডিবিপ্রধান হারুন অর রশিদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী জাহাঙ্গীর আলম ও রাজশাহীর সাবেক দুই উপজেলা চেয়ারম্যানের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (৬ মে) ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ জাকির হোসেন গালিবের আদালত দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন।
দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত অন্য দুইজন হলেন—রাজশাহীর তানোর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান মো. লুৎফর হায়দার রশিদ ও গোদাগাড়ী উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান মো. জাহাঙ্গীর আলম।
সাবেক ডিবিপ্রধান হারুনের ঘনিষ্ঠ জাহাঙ্গীরের দেশত্যাগের নিষেধাজ্ঞার আবেদনে বলা হয়, হারুন ও তার পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ট ব্যক্তিরা অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন। অনুসন্ধানকালে জানা যায়, হারুনের ঘনিষ্ঠদের মধ্যে অন্যতম জাহাঙ্গীর স্বপরিবারে দেশত্যাগের চেষ্টা করছেন। সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া প্রয়োজন।
আরও পড়ুন: বিমান বাহিনীর সাবেক প্রধান হান্নান-বিজ্ঞানী মঞ্জু ও তাদের পরিবারের সদস্যদের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা
রাজশাহী সাবেক দুই উপজেলা চেয়ারম্যানের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার আবেদনে বলা হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে মাদক ব্যাবসা, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজিসহ অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ ও জ্ঞাত আয় বর্হিভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগের মামলা চলমান রয়েছে। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, তারা দেশত্যাগের চেষ্টা করছেন। সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা প্রয়োজন।
৩০৪ দিন আগে