আইনশৃঙ্খলা
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ঘটনার মামলায় গ্রেপ্তারে ঊর্ধ্বতনের অনুমতির সিদ্ধান্ত স্থগিত
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ঘটনায় করা মামলায় আসামি গ্রেপ্তারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি-সংক্রান্ত ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের জারি করা সার্কুলারের কার্যকারিতা তিন মাসের জন্য স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট।
একইসঙ্গে আসামিদের গ্রেপ্তারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি নিতে হবে মর্মে ডিএমপি কমিশনারের পক্ষে স্বাক্ষরিত অফিস আদেশ কেন বেআইনি হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত।
এক রিটের শুনানি নিয়ে বিচারপতি ফাতেমা নজীব ও বিচারপতি শিকদার মাহমুদুর রাজীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ বুধবার (২৩ এপ্রিল) রুলসহ এই আদেশ দেন।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। তিনি বলেন, দেশ ও জাতির স্বার্থে এই মামলায় বিনা পয়সায় লড়েছি।
আরও পড়ুন: জুলাই আন্দোলন নিয়ে চলচ্চিত্র ‘দ্য রিমান্ড’ প্রদর্শনীর অনুমতি দিতে নির্দেশ হাইকোর্টের
এর আগে গত ৯ এপ্রিল ঢাকা মহানগর পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স থেকে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন-সংক্রান্ত মামলায় আসামি গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে একটি অফিস আদেশ জারি করা হয়।
আদেশে বলা হয়, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন-সংক্রান্ত মামলায় অধিকাংশ ক্ষেত্রে এজাহারভুক্ত আসামির সংখ্যা অধিক। এসব মামলার এজাহারভুক্ত কিংবা তদন্তে প্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে উপযুক্ত প্রমাণসহ অবশ্যই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হবে।
উপযুক্ত প্রমাণ ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ঘটনার মামলার এজাহারভুক্ত কিংবা তদন্তে প্রাপ্ত কোনো আসামি গ্রেপ্তার না করার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো। এই আদেশের বৈধতা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. জসিম উদ্দিন গত রোববার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিট করেন।
৪০৭ দিন আগে
মেজর সিনহা হত্যা মামলায় ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানি শুরু
মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যা মামলায় আসামিদের ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) ও আপিলের ওপর শুনানি শুরু হয়েছে। বুধবার (২৩ এপ্রিল) বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমান ও বিচারপতি মো. সগীর হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ শুনানি গ্রহণ করছেন।
শুরুতে রাষ্ট্রপক্ষ এ মামলার পেপারবুক উপস্থাপন শুরু করেছেন। রাষ্ট্রপক্ষে মামলার পেপার বুক পড়া শুরু করেছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শামীমা সুলতানা দিপ্তি। আসামি পক্ষে উপস্থিত রয়েছেন সিনিয়র আইনজীবী এস এম শাহজাহান। এর আগে মামলাটি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিষ্পত্তির জন্য প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ এই বেঞ্চে পাঠান।
২০২০ সালের ৩১ জুলাই রাতে টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান। এই ঘটনায় করা মামলার বিচার শেষে ২০২২ সালের ৩১ জানুয়ারি কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালত দুজনকে মৃত্যুদণ্ড, ছয়জনকে যাবজ্জীবন ও সাতজনকে খালাস দিয়ে রায় দিয়েছিলেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের তৎকালীন পরিদর্শক বরখাস্ত লিয়াকত আলী ও টেকনাফ থানার বরখাস্তকৃত ওসি প্রদীপ কুমার দাশ।
আরও পড়ুন: মেজর সিনহা হত্যা: ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে
যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের বরখাস্ত উপ-পরিদর্শক (এসআই) নন্দ দুলাল রক্ষিত, সাগর দেব, রুবেল শর্মা, টেকনাফ থানায় পুলিশের করা মামলার সাক্ষী টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুরের মারিশবুনিয়া গ্রামের নুরুল আমিন, মো. নেজামুদ্দিন ও আয়াজ উদ্দিন।
কোনো মামলায় বিচারিক আদালতে রায়ে আসামির মৃত্যুদণ্ড হলে তা কার্যকরে হাইকোর্টের অনুমোদন লাগে, যা ডেথ রেফারেন্স মামলা হিসেবে পরিচিত। এ ছাড়া দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আসামিদের জেল আপিল ও নিয়মিত আপিল ও বিবিধ আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। সাধারণত ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের করা এসব আপিল ও আবেদনের ওপর একসঙ্গে শুনানি হয়ে থাকে।
সিনহা হত্যা মামলায় বিচারিক আদালতের রায়ের পর রায়সহ নথিপত্র ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় পৌঁছে, যা একই বছর ডেথ রেফারেন্স মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হয়।
অন্যদিকে দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে ২০২২ সালে আসামিরা পৃথক আপিল ও জেল আপিল করেন। ডেথ রেফারেন্স মামলা শুনানির পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে পেপারবুক (মামলার বৃত্তান্ত) প্রস্তুত করতে হয়। পেপারবুক প্রস্তুতসহ আনুষঙ্গিক প্রক্রিয়া শেষে প্রধান বিচারপতি মামলাটি শুনানি ও নিষ্পত্তির জন্য হাইকোর্টের ওই দ্বৈত বেঞ্চ নির্ধারণ করেন।
৪০৭ দিন আগে
ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা বাতিল
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে দুদকের করা দুর্নীতির মামলা বাতিল করে দিয়েছেন আপিল বিভাগ।
ড. ইউনূসসহ সাতজনের করা আপিল মঞ্জুর করে বুধবার (২৩ এপ্রিল) প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন ছয় বিচারপতির বেঞ্চ এই রায় দিয়েছেন।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও গ্রামীণ টেলিকমের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলাটি হয়। মামলায় অভিযোগ গঠনের আদেশ বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে মুহাম্মদ ইউনূস ও গ্রামীণ টেলিকমের তৎকালীন শীর্ষ ছয় কর্মকর্তা গত বছরের ৮ জুলাই আবেদন করেন।
শুনানি নিয়ে গত ২৪ জুলাই হাইকোর্ট আবেদনটি খারিজ করে আদেশ দেন। বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কাজী ইবাদত হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ ওই আদেশ দেন।
অন্য ছয় আবেদনকারী হলেন, গ্রামীণ টেলিকমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজমুল ইসলাম, পরিচালক আশরাফুল হাসান, নাজনীন সুলতানা, শাহজাহান, নূরজাহান বেগম (বর্তমানে স্বাস্থ্য উপদেষ্টা) ও এস এম হাজ্জাতুল ইসলাম লতিফী।
হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল (আপিল করার অনুমতি চেয়ে আবেদন) করেন মুহাম্মদ ইউনূস ও গ্রামীণ টেলিকমের শীর্ষ কর্মকর্তারা। এদিকে এরই মধ্যে রাষ্ট্র বা দুদকের পক্ষে পিপি মামলাটি প্রত্যাহার চেয়ে আবেদন করেন। গত বছরের ১১ আগস্ট সেই আবেদন মঞ্জুর করেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪-এর বিচারক।
লিভ টু আপিল মঞ্জুর করে গত বছরের ২১ অক্টোবর আপিল বিভাগ আদেশ দেন। পাশাপাশি কনসাইজ স্টেটমেন্ট (আপিলের সারসংক্ষেপ) জমা দিতে সময় নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। এর ধারাবাহিকতায় আপিলের ওপর শুনানি হয়।
আপিলকারীদের আইনজীবীর ভাষ্য, মামলাটি শুনানির জন্য বিচারিক আদালতে গত বছরের ৫ সেপ্টেম্বর তারিখ ধার্য থাকা অবস্থায় এর আগেই তাদের (আপিলকারীদের) না জানিয়ে গত বছরের ১১ আগস্ট মামলাটি প্রত্যাহার করা হয়, যাতে আইনের লঙ্ঘন হয়েছে।
আরও পড়ুন: ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে করা শ্রম আইনের ৫ মামলা বাতিলের রায় বহাল
গ্রামীণ টেলিকমের কর্মীদের লভ্যাংশের ২৫ কোটি ২২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে করা এই মামলায় গত ১ ফেব্রুয়ারি ঢাকার সিনিয়র স্পেশাল জজ আছাদুজ্জামানের আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। অন্যদিকে গত ২৯ জানুয়ারি দুদকের প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত কমিশন বৈঠকে ড. ইউনূসসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট অনুমোদন দেয়া হয়।
দুদকের উপপরিচালক গুলশান আনোয়ার প্রধান বাদী হয়ে গত বছরের ৩০ মে মামলাটি করেন। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আসামিরা ২৫ কোটি ২২ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। অবৈধভাবে অর্থ স্থানান্তর করা হয়েছে, যা মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে অপরাধ।
৪০৭ দিন আগে
শিবির সন্দেহে আটক, তিন বছর পর অব্যাহতি জবির ১১ শিক্ষার্থীর
শিবির সন্দেহে আটকের তিন বছর পরে অব্যাহতি পেয়েছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ১১ শিক্ষার্থী। ২০২২ সালে রাজধানীর কোতোয়ালি থানায় দায়ের করা এক গায়েবি মামলা থেকে অব্যাহতি পান তারা। এছাড়াও মামলার বাকি ৬৪ জন অভিযুক্তকেও অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২২ এপ্রিল) আসামিদের অব্যাহতির এই আদেশ দেন ঢাকার বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মো. জাকির হোসেন গালিব।
এর আগে ২০২৪ সালের ২১ অক্টোবর তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আদালতে আসামিদের অব্যাহতির সুপারিশ করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে পুলিশ। পুলিশের দাখিল করা চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে অব্যাহতির আদেশ দেন আদালত। আসামি পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবদুর রাজ্জাক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, এটি ২০২২ সালের ২৪ শে মার্চ শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা হয় গায়েবি মিথ্যা মামলা। কুরআনের তাফসীর পাওয়ায় ছাত্রশিবির সন্দেহে সদ্য ভর্তি হওয়া ১১ শিক্ষার্থী সে সময় গ্রেপ্তার করা হয়।
আরও পড়ুন: দিনাজপুরে শিবিরের সাবেক নেতার উপর দুর্বৃত্তের হামলা
অব্যাহতিপ্রাপ্ত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা হলেন, হিসাববিজ্ঞান বিভাগের রউসন-উল দেরদৌস ও শাহিন ইসলাম, বাংলা বিভাগের শ্রাবণ ইসলাম রাহাত, ব্যবস্থাপনা বিভাগের ফাহাদ হোসেন, মনোবিজ্ঞান বিভাগের আব্দুর রহমান অলি, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ইব্রাহিম আলী, মেহেদী হাসান ও ওবায়দুল, ইতিহাস বিভাগের ইসরাফিল, লোকপ্রশাসন বিভাগের মেহেদী হাসান ও সংগীত বিভাগের আল মামুন রিপন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালে পুরান ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতাল এলাকায় দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি রোধের দাবিতে হওয়া মিছিলে অংশগ্রহণ করার অভিযোগে ছাত্রশিবির সন্দেহে গ্রেপ্তার করা হয় এই ১১ জনকে। গেন্ডারিয়ার একটি মেস থেকে ১১ জনকে সে বছরের ২৪ মার্চ দিবাগত রাতে আটক করা হয়। পরে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ১৫ (৩) ধারায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
মামলা থেকে অব্যাহতি পাওয়া শিক্ষার্থী রউশন উল ফেরদৌস বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে ঢাকায় আসার পরপরই আমি গ্রেপ্তার হই। আমার জীবন থেকে একটা বছর শেষ হয়ে গেছে এই মিথ্যা মামলায়। আমার গ্রেপ্তারের খবর শুনে আমার বাবা হার্ট অ্যাটাক করেন। আমি পড়াশোনাসহ বন্ধু-বান্ধব সবই হারিয়েছি।’
আরেক ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী শাহীন ইসলাম বলেন, ‘আমি ঢাকায় এসেছি ২০২২ এর পহেলা মার্চ। আমাকে গ্রেপ্তার করা হয় ২৪ মার্চ। মাত্র ২৪ দিনের মাথায় আমাকে গ্রেপ্তার করা হয় কোনো ধরনের প্রমাণ ছাড়া। বিশ্ববিদ্যালয় আমাদেরকে সাময়িক বহিষ্কার করে। ঢাকায় আসার একমাস পূর্ণ না হয়েও এক বছর আগের মামলায় আমাদের আসামি হিসেবে দেখানো হয়। মামলা সম্পূর্ণ বানোয়াট এবং মিথ্যা আমাদের পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হয়েছিল।’
৪০৮ দিন আগে
রাজধানীতে ঢাবি শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার
রাজধানীর কলাবাগান থানাধীন হাতিরপুলের ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের একটি বাসা থেকে পিনাক রঞ্জন সরকার (২৪) নামের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
সোমবার (২১ এপ্রিল) দিবাগত রাত পৌনে ১টার দিকে তার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠায় পুলিশ।
মঙ্গলবার (২২ এপ্রিল) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) পক্ষ থেকে এসব তথ্য জানানো হয়।
নিহত পিনাক ঢাবির ড্রয়িং অ্যান্ড পেইন্টিং বিভাগে মাস্টার্সের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি ময়মনসিংহ জেলা সদরের টি এন রায় সড়ক এলাকার বাসিন্দা রঞ্জন সরকারের সন্তান। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার বড়।
নিহতের রুমমেট জাহিদ হাসান বলেন, সন্ধ্যার পর বাসায় ফিরে দেখি, তার কোনো সাড়াশব্দ নাই। রুমের দরজাও বন্ধ, ভেতর থেকে লক করা। পরে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করে খবর দিলে কলাবাগান থানা পুলিশ এসে দরজা ভেঙে তার লাশ উদ্ধার করে।
তিনি বলেন, কী কারণে সে আত্মহত্যা করেছে, তা বলতে পারছি না। তবে মাসখানেক ধরে সে সম্ভবত ডিপ্রেশনে ছিল। সবসময় চুপচাপ থাকত, কারণ জানতে চাইলে কিছুই বলত না।
কলাবাগান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ইকবাল হোসেন বলেন, খবর পেয়ে রাতে ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের ৩৮৭/৫ নম্বর বাসার নবম তলার একটি ফ্ল্যাট থেকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় গামছা পেঁচানো অবস্থায় ওই যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি ঢামেকের মর্গে পাঠানো হয়।
তিনি জানান, ওই বাসায় কয়েকজন মিলে ভাড়া থাকতেন পিনাক। এটা হত্যা নাকি আত্মহত্যা— প্রাথমিকভাবে বিষয়টি জানা যায়নি।
ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
৪০৮ দিন আগে
চাঁনখারপুলে ৬ জনকে হত্যা: ৮ পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল ২৫ মে
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মধ্যে রাজধানীর চাঁনখারপুলে আনাসসহ ৬ জনকে হত্যার ঘটনায় ৮ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিলের জন্য ২৫ মে পর্যন্ত সময় দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
প্রসিকিউশনের সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার (২২ এপ্রিল) ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধবিষয়ক ট্র্যাইব্যুনাল এ আদেশ দেন।
ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন, বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারপতি মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। আদালতে আজ প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম, শহিদুল ইসলাম সরদার ও গাজী এমএইচ তামিম।
তদন্ত প্রতিবেদন যাচাই-বাছায়ের জন্যে চার সপ্তাহ সময় নিয়েছি বলে সাংবাদিকদের জানান চিফ প্রসিকিউটর মুহাম্মদ তাজুল ইসলাম।
তিনি বলেন, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান চলাকালে গত ৫ আগস্ট রাজধানীর চানখাঁরপুলে গুলি করে ৬ জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে পুলিশের আট সদস্যের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হবে।
আরও পড়ুন: সাগর-রুনির হত্যা: তদন্ত শেষ করতে আরও ছয় মাস সময় পেল টাস্কফোর্স
চিফ প্রসিকিউটর জানান, এই মামলায় তদন্ত সংস্থার জমা দেওয়া তদন্ত প্রতিবেদন যাচাই-বাছাই শেষে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ হিসেবে দাখিল করতে চার সপ্তাহ সময় চাওয়া হয়েছে। এরপর ট্র্যাইব্যুনাল সময় আবেদন মঞ্জুর করে আগামী ২৫ মে এই মামলায় পরবর্তী তারিখ ধার্য করেন।
শুনানিতে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, চানখাঁরপুলের ঘটনার মামলার তদন্ত প্রতিবেদন চূড়ান্ত করে গত রবিবার (২০ এপ্রিল) চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে জমা দিয়েছে তদন্ত সংস্থা।
এখন এই মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিলের জন্য চার সপ্তাহ সময় প্রয়োজন। ট্রাইব্যুনাল এই আবেদন মঞ্জুর করে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিলের জন্য ২৫ মে পরবর্তী দিন ধার্য করেন আদালত। মামলায় আটজনকে আসামি করে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা।
তারা সবাই পুলিশের সাবেক সদস্য। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত হত্যা, গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় এই প্রথম কোনো মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন চূড়ান্ত করে তা জমা দিলো ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা।
আট আসামি হলেন- ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, রমনা অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার শাহ আলম মো. আখতারুল ইসলাম, রমনা অঞ্চলের সাবেক সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ ইমরুল, শাহবাগ থানার সাবেক পরিদর্শক মো. আরশাদ হোসেন, কনস্টেবল মো. সুজন হোসেন, ইমাজ হোসেন ও মো. নাসিরুল ইসলাম। এই আট আসামির মধ্যে শেষের চারজন এখন কারাগারে, বাকিরা পলাতক। কারাগারে থাকা চার আসামিকে আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এ মামলার তদন্ত শেষ করতে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার সময় লেগেছে ৬ মাস ১৩ দিন। প্রতিবেদনটি ৯০ পৃষ্ঠার। তদন্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করতে ৭৯ সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনের সঙ্গে ঘটনার তথ্যপ্রমাণ হিসেবে ১৯টি ভিডিও, ২টি অডিও রেকর্ড, সংবাদপত্রের ১১টি প্রতিবেদন ও ৬ জনের মৃত্যুসনদ দাখিল করা হয়েছে। এ ছাড়া জুলাই গণহত্যা নিয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তরের (ওএইচসিএইচআর) তথ্যানুসন্ধান দলের প্রতিবেদনও মূল তদন্ত প্রতিবেদনের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপে বলা হয়েছে, গণঅভ্যুত্থানের সময় উল্লেখিত আসামিরা চানখাঁরপুল এলাকায় নিরস্ত্র ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের ওপর প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করেন। এতে শাহরিয়ার খান আনাস, শেখ মাহদি হাসান জুনায়েদ, মো. ইয়াকুব, মো. রাকিব হাওলাদার, মো. ইসমামুল হক ও মানিক মিয়া গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হন। সারসংক্ষেপে উল্লেখ করা হয়েছে, পলাতক আসামি সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ অন্য আসামিরা মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত বছরের ৫ আগস্ট সকালে শাহবাগের মধ্য দিয়ে গণভবনের দিকে বিক্ষোভকারীদের অগ্রসর হওয়া ঠেকাতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ এবং আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের ইউনিটগুলোকে চাঁনখারপুল এলাকায় মোতায়েন করা হয়। প্রাথমিকভাবে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো জনতাকে ছত্রভঙ্গ করার জন্য কাঁদানে গ্যাস, সাউন্ড গ্রেনেড এবং রাবার বুলেট ব্যবহার করে।
তবে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের কনস্টেবল মো. সুজন হোসেনসহ কিছু অফিসার বিক্ষোভকারীদের ওপর নির্বিচারে তাজা গুলি চালান, যার ফলে বেশ কয়েকজন হতাহত হন।
আরও পড়ুন: বেনজীরের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ
নিহতদের মধ্যে ছিলেন পুরান ঢাকার গেন্ডারিয়ায় অবস্থিত আদর্শ একাডেমির দশম শ্রেণির ছাত্র শাহরিয়ার খান আনাস। মিছিলে অংশ নেওয়ার আগে, আনাস তার বাবা-মায়ের কাছে একটি মর্মস্পর্শী চিঠি রেখে যায়, যেখানে সে এই আন্দোলনের প্রতি তার অঙ্গীকার প্রকাশ করে। চাঁনখারপুল এলাকায় পুলিশ তাকে তিনবার গুলি করে হত্যা করে।
পরে তার মরদেহ ঢাকা মিটফোর্ড হাসপাতাল থেকে উদ্ধার করা হয় এবং জুরাইন কবরস্থানে দাফন করা হয়। তার মৃত্যুর পর শহীদের সম্মানে গেন্ডারিয়ার ‘দীননাথ সেন রোড’-এর নামকরণ করা হয় ‘শহীদ আনাস রোড’। ঘটনার এক মাসেরও বেশি সময় পরে ১২ সেপ্টেম্বর কনস্টেবল সুজন হোসেনকে গণহত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর গ্রেফতার করা হয় আরও তিন পুলিশ সদস্যকে।
৪০৮ দিন আগে
বেনজীরের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ
পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ‘রেড নোটিশ’ জারি করেছে আর্ন্তজাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোল।
মঙ্গলবার (২২ এপ্রিল) বার্তা সংস্থা ইউএনবিকে এমন তথ্য নিশ্চিত করেছেন পুলিশ সদর দপ্তরের জনসংযোগ ও গণমাধ্যম শাখার সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি) এনামুল হক সাগর।
তিনি বলেন, ‘বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোল রেড নোটিশ জারি করেছে, যেটা আমরা সম্প্রতি জানতে পেরেছি।’
তবে এখন পর্যন্ত ইন্টারপোলের ওয়েবসাইটে বেনজীর আহমেদের ছবি ও তথ্য মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায় এখনো দেখা যায়নি।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে ‘রেড নোটিশ’ জারির জন্য ইন্টারপোলের কাছে আবেদন করা হয়েছে।
বিদেশে পলাতক ওই ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করতে ইন্টারপোলের কাছে পৃথক তিনটি ধাপে আবেদন করে বাংলাদেশ পুলিশের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি)।
আরও পড়ুন: সাবেক আইজিপি বেনজীর ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা
আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলেই ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করেছিল দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
অনুসন্ধান চলাকালে গত বছরের ৪ মে সপরিবার দেশ ছাড়েন বেনজীর। তিনি ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আইজিপি ছিলেন। এর আগে তিনি ২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২০ সালের এপ্রিল পর্যন্ত র্যাবের মহাপরিচালক ছিলেন।
৪০৮ দিন আগে
সাগর-রুনির হত্যা: তদন্ত শেষ করতে আরও ছয় মাস সময় পেল টাস্কফোর্স
সাংবাদিক দম্পত্তি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্ত শেষ করতে বিভিন্ন এজেন্সির অভিজ্ঞদের সমন্বয়ে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্সকে আরও ছয় মাস সময় দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২২ এপ্রিল) তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন দিতে সময় চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদনের শুনানি নিয়ে বিচারপতি ফাতেমা নজীব ও বিচারপতি শিকদার মাহমুদুর রাজীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আরশাদুর রউফ। বাদীপক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।
এর আগে গত ৩০ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট সাগর-রুনি হত্যা মামলা তদন্তে বিভিন্ন এজেন্সির অভিজ্ঞদের সমন্বয়ে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্স গঠন করতে নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে তদন্ত শেষে ছয় মাসের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়। আদালতের আদেশের পর উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন একটি কমিটি গঠন করে অন্তর্বর্তী সরকার।
আরও পড়ুন: সাগর-রুনি হত্যা মামলার নথি পুড়ে যাওয়ার খবর সঠিক নয়
এদিকে তদন্ত শেষ করে ছয় মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে হাইকোর্টের দেওয়া ছয় মাস সময় শেষ হয় ৬ এপ্রিল। পরে তদন্ত চলমান ও অগ্রগতি আছে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপক্ষ নয় মাস সময় চেয়ে আবেদন করে। শুনানি নিয়ে আদালত ছয় মাস সময় মঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে আগামী ২২ অক্টোবর আদেশের জন্য পরবর্তী দিন রেখেছেন।
এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল হাইকোর্টের দেওয়া এক আদেশে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পায় র্যাব। গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে র্যাবের কাছে মামলাটির তদন্তে আদেশ পাঠানোর সংশোধন চেয়ে স্বরাষ্ট্রসচিবের পক্ষে হাইকোর্টে আবেদন করা হয়। এর শুনানি নিয়ে গত ৩০ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট ওই আদেশ দেন। এর ধারাবাহিকতায় আজ (মঙ্গলবার) বিষয়টি আদেশের জন্য ওঠে।
এর আগে ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া করা বাসায় খুন হন সাংবাদিক দম্পতি সাগর ও রুনি। সাগর বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল মাছরাঙা টিভিতে আর রুনি এটিএন বাংলায় কর্মরত ছিলেন। সাগর-রুনি হত্যার ঘটনায় রুনির ভাই নওশের আলম বাদী হয়ে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেছিলেন।
প্রথমে এই মামলা তদন্ত করছিল শেরেবাংলা নগর থানার পুলিশ। চার দিন পর মামলার তদন্তভার ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়। তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার ৬২ দিনের মাথায় ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল হাইকোর্টে ব্যর্থতা স্বীকার করে ডিবি। এরপর আদালত র্যাবকে মামলাটি তদন্তের নির্দেশ দেন। তখন থেকে মামলাটির তদন্ত করছিল র্যাব।
৪০৮ দিন আগে
গাজীপুর আদালতে দীপু মনি-পলকসহ ৬ জন
গাজীপুরের গাছা থানায় দায়ের করা তিনটি হত্যা মামলায় পতিত সরকারের সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাধন চন্দ্র মজুমদার, কামরুল ইসলাম, সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক, সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান এবং ব্যাংক কর্মকর্তা নজরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৩ এ হাজির করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২২ এপ্রিল) সকালে আদালতের বিচারক ওমর হায়দার সংক্ষিপ্ত শুনানি শেষে এই ছয়জনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
আরও পড়ুন: আমু-সালমান-দীপু মনি-শমী কায়সারসহ ১০ জন নতুন মামলায় গ্রেফতার
আদালত সূত্রে জানা গেছে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের সময় গাজীপুর মহানগরের গাছা থানা এলাকায় নিহতের ঘটনায় দায়ের করা তিনটি হত্যা মামলার আসামি তারা। এদিন সকালে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে দীপু মনি, জুনায়েদ আহমেদ পলক, সাধন চন্দ্র মজুমদার এবং কেরাণীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে কামরুল ইসলাম, জিয়াউল আহসান ও নজরুল ইসলামকে গাজীপুর আদালতে আনা হয়।
আলোচিত এই বন্দিদের আদালতে আনার পর বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা তাদের ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেন। এ সময় উত্তেজিত জনতা সাবেক মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর ওপর ডিম নিক্ষেপ করে। জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের নেতরা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীদের বিচারের দাবি জানান।
৪০৮ দিন আগে
জামায়াত নেতা আজহারের পরবর্তী আপিল শুনানি ৬ মে
একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় মৃত্যুদণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে জামায়াতে ইসলামীর তৎকালীন সহকারী সেক্রটারি জেনারেল এ টি এম আজহারুল ইসলামের আপিলের শুনানি পিছিয়েছে। তার পরবর্তী আপিল শুনানির জন্য ৬ মে দিন ধার্য করেছেন আপিল বিভাগ।
প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চে মঙ্গলবার (২২ এপ্রিল) এ দিন ধার্য করেন।
আদালতে আবেদনের পক্ষে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী এহসান এ সিদ্দিক ও আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।
একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে রংপুর অঞ্চলে গণহত্যা-হত্যা, অপহরণ, ধর্ষণ, আটক, নির্যাতন ও গুরুতর জখম এবং বাড়িঘরে লুণ্ঠন ও অগ্নিসংযোগের মতো ৯ ধরনের ছয়টি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছিল এ টি এম আজহারের বিরুদ্ধে।
আরও পড়ুন: মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা আজহারের শুনানির তারিখ ধার্য
২০১৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া রায়ে ২ নম্বর, ৩ নম্বর এবং ৪ নম্বর অভিযোগে ফাঁসির দণ্ডাদেশ দেওয়া হয় আজহারুল ইসলামকে।
এ ছাড়া ৫ নম্বর অভিযোগে অপহরণ, নির্যাতন, ধর্ষণসহ বিভিন্ন অমানবিক অপরাধের দায়ে ২৫ বছর ও ৬ নম্বর অভিযোগে নির্যাতনের দায়ে ৫ বছরের কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়।
ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলে শুনানির পর ২০১৯ সালের ৩১ অক্টোবর মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে রায় ঘোষণা করেন তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ। আপিল বিভাগের রায়ে ২, ৩, ৪ (সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে) ও ৬ নম্বর অভিযোগের দণ্ড বহাল রাখা হয়। আর ৫ নম্বর অভিযোগ থেকে তাকে খালাস দেওয়া হয়।
ওই দিন আদালতে আসামিপক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী (প্রয়াত) খন্দকার মাহবুব হোসেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন (প্রয়াত) অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।
আরও পড়ুন: ‘জামায়াত নেতার নেতৃত্বে’ বৈষম্যবিরোধী ছাত্রনেতার বাড়িতে হামলা
২০২০ সালের ১৫ মার্চ আপিল বিভাগের রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হয়। ওই রায়ের রিভিউ চেয়ে ২০২০ সালের ১৯ জুলাই আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট আবেদন করেছিলেন এ টি এম আজহারুল ইসলাম। ২৩ পৃষ্ঠার পুনর্বিবেচনার এ আবেদনে মোট ১৪টি যুক্তি উপস্থাপন করা হয়।
ওই পুনর্বিবেচনার আবেদনের শুনানি শেষে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় মৃত্যুদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে এ টি এম আজহারুল ইসলামকে আপিলের অনুমতি দিয়েছেন আপিল বিভাগ। এছাড়া দুই সপ্তাহের মধ্যে আপিলের সার সংক্ষেপ জমা দিতে বলেন। এরপর আপিলের ওপর শুনানি কয়েক দফা পেছানো হয়।
৪০৮ দিন আগে