আইনশৃঙ্খলা
সন্ত্রাসীদের ছাড় দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
সন্ত্রাসীদের কোনোভাবে ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। বুধবার (২ এপ্রিল) রাজধানীর বাড্ডা, রামপুরা, হাতিরঝিল ও তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এমন মন্তব্য করেন।
উপদেষ্টা বলেন, ‘আমি তাদের সাথে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করতে এসেছি। আপনারা জানেন, সবাই ছুটিতে গেলেও বাহিনীগুলো ছুটিতে যেতে পারেনি। তারা রাত-দিন একাকার করে কাজ করেছেন। এছাড়া এখানে তাদের থাকা-খাওয়ার অবস্থা খুবই খারাপ।’
‘এখন তাদের থাকার অবস্থাটা কীভাবে উন্নতি করা যায়, সেটা নিয়ে আলাপ করেছি। তাদের থাকার অবস্থার অবশ্যই উন্নতি করতে হবে,’ বলেন তিনি।আরও পড়ুন: রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স পরিদর্শন করলেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
থানাগুলো পরিদর্শন শেষে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে কী মূল্যায়ন দাঁড় করিয়েছেন, সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, ‘আপনারা সারাদিনই তো আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দেখতেছেন। আগের বছরগুলোর তুলনায় এ বছর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো না খারাপ আপনারাই বলেন।
জবাবে সাংবাদিক বলেন, ‘ভালো’।
তখন চওড়া হাসি দিয়ে উপদেষ্টা বলেন, ‘আপনি ভালো বলছেন, আমিও তো ভালোই বলবো।’
এর পেছনে ম্যাজিকটা কী, প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘সেটা জানিয়ে দিলে সবাই তো ম্যাজিক শিখে যাবেন। এ জন্য ম্যাজিক তো বলা যাবে না।’
থানা পরিদর্শনে গিয়ে কী নির্দেশনা দিয়েছেন, জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, ‘আপনারা (পুলিশ) ভালোভাবে জেগে থাকলে জনগণ ভালোভাবে ঘুমাতে পারবে। আর আমরা সন্ত্রাসীদের কোনোভাবে ছাড় দেব না। নিরীহরা যাতে হয়রানির শিকার না হন, সেই ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’
৪২৮ দিন আগে
লিবিয়ায় ২৩ অপহৃত বাংলাদেশি উদ্ধার, গ্রেপ্তার ২
লিবিয়ার মিসরাতা শহরে ২৩ অপহৃত বাংলাদেশিকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় দুজন অপহরণকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) দিবাগত রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে লিবিয়ায় বাংলাদেশি দূতাবাস এমন তথ্য জানিয়েছে।
এতে বলা হয়, লিবিয়া পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) অভিযান চালিয়ে কমপক্ষে ২৩ জন অপহৃত বাংলাদেশিকে উদ্ধার করেছে এবং এ ঘটনায় জড়িত দুই অপহরণকারীকে গ্রেপ্তার করেছে। মিসরাতার আল-গিরান থানায় বেশ কয়েকজন বিদেশিকে অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবিতে নির্যাতনের অভিযোগের ভিত্তিতে সিআইডি এই তদন্ত শুরু করে।
আরও পড়ুন: চোর সন্দেহে পিটুনিতে শ্রমিকদল নেতার মৃত্যু, লক্ষ্মীপুরে গ্রেপ্তার ৪
তদন্তের মাধ্যমে অপহরণকারী চক্রের অবস্থান চিহ্নিত করে পুলিশ সফল অভিযান পরিচালনা করে জিম্মিদের মুক্ত করে। পরবর্তীতে উদ্ধারকৃত ব্যক্তি ও গ্রেপ্তারকৃতদের আইনি প্রক্রিয়ার জন্য আল-গিরান থানায় হস্তান্তর করা হয়।
বাংলাদেশ দূতাবাস মিসরাতার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দ্রুত ও কার্যকর উদ্যোগের জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছে। একই সঙ্গে মুক্তিপ্রাপ্ত বাংলাদেশিদের প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা ও সহযোগিতা নিশ্চিত করতে দূতাবাস সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যোগাযোগ রক্ষা করছে।
৪২৯ দিন আগে
শরীয়তপুরে দুই ব্যবসায়ীকে অপহরণ: ৩ পুলিশ সদস্যসহ আটক ৪
শরীয়তপুরের ডামুড্যায় প্রকাশ্যে দুই ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের সময় তিন পুলিশ সদস্যসহ চারজনকে আটক করেছে স্থানীয়রা। এ ঘটনায় আরও পাঁচজন পালিয়ে গেলেও পরে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ) রাত সাড়ে ৯টার দিকে ডামুড্যার দারুল আমান বাজার এলাকায় মোহাম্মদ জুয়েল সরদার (৩২) ও ফয়সাল সরদার (২৪) নামের দুই কাপড় ব্যবসায়ীকে জোর করে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায় একদল দুর্বৃত্ত।
আরও পড়ুন: কুষ্টিয়ায় ট্রাকচাপায় মা-ছেলে নিহত
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ধূসর রঙের একটি মাইক্রোবাস (ঢাকা মেট্রো-চ-১৫-৯৮৫৮) এবং একটি কালো সুজুকি জিকসার মোটরসাইকেল এসে তাদের গতিরোধ করে। আটজনের একটি দল তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং জোর করে তুলে নিয়ে যায়।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা জানান, অপহরণকারীরা নিজেদের পুলিশ সদস্য পরিচয় দিয়ে তাদের হাতকড়া পরিয়ে ভয়ভীতি দেখায় এবং পিস্তল ঠেকিয়ে ২০ লাখ টাকা দাবি করে। টাকা না দিলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। তাদের মারধর করে লোহার রড, কিল-ঘুষি দিয়ে নির্যাতন চালানো হয়। পরে মাদারীপুরের লেকপাড় এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে জুয়েলের ভাই স্বাধীন সরদারের কাছে ফোন করিয়ে মুক্তিপণ চাওয়া হয়।
প্রথমে ব্যাংক, বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে অপহরণকারীদের ৩ লাখ ৯১ হাজার টাকা পাঠানো হয়। পরে আরও টাকা দাবি করলে কৌশলে তাদের ডামুড্যা শহরের বাসস্ট্যান্ডে আসতে বলা হয়।
রাত ১টার দিকে অপহরণকারীরা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছালে ব্যবসায়ীরা চিৎকার শুরু করেন। স্থানীয়রা এগিয়ে এসে মাইক্রোবাস থামিয়ে দেয় এবং তিনজনকে ধরে গণধোলাই দিয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। বাকিরা পালিয়ে গেলেও পরে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আটকরা হলেন- খুলনা জেলা পুলিশের কনস্টেবল কৌশিক আহমেদ সেতু (৩০), চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কনস্টেবল কাউসার তালুকদার (২৯), ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কনস্টেবল রুবায়েত মীর (২৭), কুমিল্লার লাকসামের বাসিন্দা শরীফ হোসেন (৩৫)।
আরও পড়ুন: বরিশালে আগুনে পুড়ল যাত্রীবাহী লঞ্চ
আটক রুবায়েত মীর বলেন, ‘কাউসার আমাদের বস। অপহরণের সময় পাওয়া সব টাকা তার কাছেই আছে। আমি আর কিছু জানি না।’
ডামুড্যা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান মানিক জানান, ‘অপহরণের ঘটনায় চারজনকে আটক করা হয়েছে, যাদের মধ্যে তিনজন পুলিশ সদস্য। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং তাদের বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়াধীন। পলাতকদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।’
৪৩৩ দিন আগে
যবিপ্রবির সাবেক ভিসিসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
দুর্নীতির মামলায় যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) সাবেক উপাচার্য ড. আব্দুস সাত্তারসহ তিনজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।
অন্য দুই আসামি হলেন— যবিপ্রবির উপপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) আব্দুর রউফ ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপউপাচার্য ড. কামাল উদ্দিন।
মামলার অভিযোগ পত্রের ওপর শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ) আসামিদের বিরুদ্ধে সিনিয়র স্পেশাল জজ (জেলা ও দায়রা জজ) শেখ নাজমুল আলম এই আদেশ দেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পাবলিক প্রসিকিউটর সিরাজুল ইসলাম।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০০৯ সালের এক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বাছাই বোর্ডের সভাপতির দায়িত্বে থেকে ড. আব্দুস সাত্তার নিয়মবহির্ভূতভাবে আব্দুর রউফকে সহকারী পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) পদে নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টা করেন।
যথাযথ যোগ্যতা না থাকায় পরবর্তীতে তাকে সেকশন অফিসার (গ্রেড-১, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) পদে নিয়োগের সুপারিশ করা হয় ও বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই নিয়োগ দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন: ময়মনসিংহে ফ্রি র্যাবিস ভ্যাক্সিনেশন ও ক্যাট শো আয়োজন
এভাবে অবৈধভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে আব্দুর রউফ পরে পদোন্নতি পেয়ে ২০২১ সালে উপপরিচালক পদে উন্নীত হন। ২০০৯ সালের অক্টোবর থেকে ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত সরকারি বেতন-ভাতা বাবদ ৬১ লাখ ৩১ হাজার ৭৩২ টাকা আত্মসাৎ করেছেন।
এ ঘটনায় ২০২৩ সালের ২১ আগস্ট দুদকের যশোর কার্যালয়ের তৎকালীন উপপরিচালক মো. আল আমিন বাদী হয়ে তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
তদন্ত শেষে তিন আসামিকে পলাতক দেখিয়ে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পত্র দেন। পরে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।
৪৩৩ দিন আগে
সিলেট সীমান্তে ১ কোটি ৪৩ লাখ টাকার চোরাই পণ্য জব্দ
সিলেটের সীমান্তবর্তী এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১ কোটি ৪৩ লাখ ২১ হাজার ৫১০ টাকার চোরাই পণ্য জব্দ করেছে সিলেট ব্যাটালিয়ন (৪৮ বিজিবি)।
বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ) সিলেটের সোনালীচেলা, নোয়াকোট, বিছনাকান্দি, বাংলাবাজার, কালাসাদেক, সোনারহাট, প্রতাপপুর ও সদর অভিযান চালিয়ে এসব পণ্য জব্দ করা হয়।
পণ্যগুলো হলো— ভারতীয় নিমেসুলাইড ট্যাবলেট, পন্ডস ব্রাইট বিউটি ফেসওয়াস, স্কিন সানরাইজ ক্রিম, প্রিমিয়াম মিল্ক লাচ্ছা সেমাই, কর্ণফ্লেক্স মিক্স, ট্যাং, ফ্যাশন হার্বস গোল্ড ক্রিম, নূপুর, জিরা, মাল্টা, সুপারি, আঙ্গুর, গরু, চিনি, ছাগল ও মদ।
আরও পড়ুন: চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে ৩ কেজি ৬ গ্রাম স্বর্ণ জব্দ, আটক ১
সিলেট ব্যাটালিয়নের (৪৮ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নাজমুল হক এসব পণ্য জব্দের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, ‘সীমান্তে নিরাপত্তা রক্ষা ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি সীমান্তবর্তী এলাকার অভিযান পরিচালনা এই বিপুল পরিমাণ চোরাচালানের মালামাল জব্দ করেছে। আটক মালামালগুলোর বিষয়ে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আটক মালামালের মূল্য ১ কোটি ৪৩ লাখ ২১ হাজার ৫১০ টাকা বলেও জানান তিনি।
৪৩৪ দিন আগে
সিলেট সীমান্তে ৯৩৮০ ইয়াবা জব্দ, আটক ১
বুধবার (২৬ মার্চ) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে বিয়ানীবাজার উপজেলার গহেলাপুর প্রথম এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।
আটক আসলাম হোসেন উপজেলার দুবাগ এলাকার গজুকাটা গ্রামের বাসিন্দা।
বিজিবি জানায়, বিয়ানীবাজার ব্যাটালিয়নের (৫২ বিজিবি) গজুকাটা বিওপি কমান্ডারের নেতৃত্বে বিয়ানীবাজার থানার গহেলাপুর প্রথম ব্রিজ (জামালের বাড়ীর সামনে) অভিযান চালিয়ে ৫ জন যাত্রীবহনকারী অটোরিকশা থামিয়ে তল্লাশি করে। এ সময় পালানোর চেষ্টা করলে আসলাম হোসেনকে আটক করে বিজিবি। পরে আটক ব্যক্তির পকেট ও সিএনজিতে তল্লাশি করে ৮১টি পলিথিনের প্যাকেট থেকে ৯ হাজার ৩৮০ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। যার আনুমানিক মূল্য ৩০ লাখ টাকা।
এদিকে বিজিবির উপস্থিতির টের পেয়ে আরও ৪ জন ব্যক্তি পালিয়ে যায়। তারা হলেন— দুবাগ এলাকার গজুকাটা গ্রামের মো. আলম হোসেন, মো. আব্দুস সামাদ, আব্দুস সালাম ও আব্দুর রাজ্জাক বটলা।
আরও পড়ুন: কক্সবাজার বিমানবন্দরে দুই বোন আটক, পাকস্থলীতে মিলল ইয়াবা
পলাতক আসামি আব্দুস সামাদ এবং আব্দুস সালামের বিরুদ্ধে ভারতের গুপ্তচর হয়ে বিএসএফের কাছে তথ্য পাচার করার অভিযোগ রয়েছে বলে জানান বিজিবি।
বিয়ানীবাজার ব্যাটালিয়নের (৫২ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মেহেদী হাসান বলেন, ‘সীমান্ত এলাকায় মাদকের প্রবাহ রোধে বিজিবি সর্বদা কঠোর অবস্থানে রয়েছে। আমাদের নিয়মিত অভিযানের মাধ্যমে মাদক চোরাচালান প্রতিরোধ করা হচ্ছে ও ভবিষ্যতেও এই কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।’
৪৩৫ দিন আগে
যায়যায়দিন ডিক্লারেশন অবৈধ কেন নয় জানতে চেয়ে হাইকোর্টের রুল
সাঈদ হোসেন চৌধুরী বরাবরে দৈনিক যায়যায়দিন পত্রিকার প্রকাশক ও মুদ্রাকর হিসেবে প্রদত্ত ঘোষণাপত্র বাতিল আদেশ কেন অবৈধ ও বেআইনি ঘোষণা করা হবে না মর্মে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ওই যায়যায়দিন পত্রিকার প্রকাশক মুদ্রাকর হিসেবে শফিক রেহমানকে দেওয়া ঘোষণাপত্র কেন অবৈধ ও বেআইনি ঘোষণা করা হবে না তার কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রুলে ঢাকা জেলা প্রশাসকসহ অন্য রেসপন্ডেন্টদের জবাব দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়।
বুধবার (২৪ মার্চ) সাঈদ হোসেন চৌধুরীর করা এক রিট পিটিশনের প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি রাজিক আল জলিল এবং বিচারপতি তামান্না রহমান খালিদি উভয় পক্ষের আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক ও উপস্থাপিত কাগজপত্র পর্যালোচনা করে রেসপন্ডেন্টগণের বিরুদ্ধে এই মর্মে রুল জারি করেন।
আরও পড়ুন: যায়যায়দিনের ডিক্লারেশন ফিরিয়ে দিতে তিন দিনের আল্টিমেটাম
পত্রিকা প্রকাশের ক্ষেত্রে নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে সাংবাদিক শফিক রেহমানের এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১২ মার্চ ২০২৫ সাঈদ হোসেন চৌধুরীর বরাবরে থাকা দৈনিক যায়যায়দিন পত্রিকার প্রকাশক ও মুদ্রাকর হিসেবে ঘোষণাপত্র বাতিল করে সরকার।
ঢাকা জেলা প্রশাসক তানভীর আহমেদের সই করা অফিস আদেশে এ তথ্য জানা যায়। এর মাত্র ৬ দিন পর ১৮ মার্চ সাংবাদিক শফিক রেহমানের নামে দৈনিক যায়যায়দিন পত্রিকার ডিক্লেয়ারেশন দেওয়া হয়।
৪৩৫ দিন আগে
সাভারে স্মৃতিসৌধে আওয়ামী লীগের স্লোগান, আটক ৩
স্বাধীনতা দিবসে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টার অভিযোগে ৩ জনকে আটক পুলিশ। বুধবার (২৬ মার্চ) সকাল ১১টার দিকে তাদের আটক করা হয়।
আটকরা হলেন— মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্ম লীগের মহাসচিব সেলিম রেজা, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শহিদুল ইসলাম ও সোহেল পারভেজ।
সেলিম রেজা সিরাজগঞ্জ জেলার কাজিপুর উপজেলার গাজী আহম্মদ হোসেন চাকলাদারের ছেলে, শহিদুল ইসলাম রাজধানীর কাফরুল থানার ইব্রাহিমপুর এলাকার ইছাহাক জমাদারের ছেলে ও সোহেল পারভেজ আশুলিয়ার দক্ষিণ গাজীরচটের (শেরআলী মার্কেট) মৃত আব্দুল জব্বারের ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ১১টার দিকে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ জনের একটি দল শহীদ বেদীতে শ্রদ্ধা জানিয়ে লাল পতাকা হাতে ফিরছিলেন। এ সময় তারা আওয়ামী লীগের বিভিন্ন স্লোগান দেন। পরে উপস্থিত জনতা তাদের ধাওয়া দিয়ে কয়েকজনকে মারধর করে। এ সময় পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আওয়ামী লীগ সন্দেহে ওই তিনজনকে আটক করে।
আরও পড়ুন: মানিকগঞ্জে স্কুলছাত্রীকে ৬ দিন আটকে রেখে ধর্ষণ, যুবক গ্রেপ্তার
ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) শাহিনুর কবির বলেন, ‘আনুমানিক ১১টার দিকে স্মৃতিসৌধে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করছিলেন। এ সময় তাদের আটক করে থানায় নেওয়া হয়।’
এছাড়া তারা সবাই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার।
৪৩৫ দিন আগে
মিরসরাইয়ে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে নিহত, ১৪৪ ধারা জারি
চট্টগ্রামে বিএনপির দুগ্রুপের সংঘর্ষে মো. জাবেদ নামে একজন নিহত হয়েছেন। এ সময় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
উপজেলার বারইয়ারহাট পৌরসভা এলাকায় বুধবার (২৬ মার্চ) দুপুর ২টার দিকে মিরসরাই উপজেলার বারৈয়ারহাট পৌর বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনাটি ঘটে।
নিহত মো. জাবেদের বিস্তারিত পরিচয় জানা যায়নি। তবে তিনি পথচারী ছিলেন বলে জানায় স্থানীয়রা। এর আগে বিএনপির দুটি পক্ষের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিতে সংঘর্ষের আশঙ্কায় উপজেলার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের ৫০০ গজের মধ্যে বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি করে প্রশাসন।
কিন্তু দুপুরে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে বিএনপির নুরুল আমিনের সমর্থকরা শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে। বিএনপির নবগঠিত কমিটি ও পদবঞ্চিত সংক্ষুদ্ধ নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরোধের জেরে এই সংঘর্ষ হয়েছে।
মীরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজা জেরিন বলেন, ‘জনগণের জানমাল ও সরকারি সম্পত্তি রক্ষার্থে উপজেলা পরিষদের ৫০০ গজের মধ্যে ১৪৪ ধারা জারি অব্যাহত থাকবে।’
আরও পড়ুন: আউলিয়াপুরে মন্দিরে আবারও ১৪৪ ধারা জারি
উপজেলার জোরারগঞ্জ থানার মো. জাবেদ সাব্বির মোহাম্মদ সেলিম বলেন, ‘বিএনপি নেতা নুরুল আমিন চেয়ারম্যানের অনুসারী ও নুরুল আমিন কালার অনুসারীর মধ্যে দলীয় পদ পাওয়া না পাওয়া নিয়ে বিরোধ চলছে। সে বিরোধের সূত্র ধরে আজ বারইয়ারহাটে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘এদের মধ্যে জাবেদ নামে একজন ঘটনাস্থলে মারা যায়। নিহত জাবেদের শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। আহত অনেককে মীরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।’
৪৩৫ দিন আগে
সম্পত্তি নিয়ে মাকে মারধর, ২ ছেলের বিরুদ্ধে মামলা
ফেনীর ফুলগাজীতে পারিবারিক সম্পত্তি বণ্টন ও ঘর নির্মাণকে কেন্দ্র করে মারধরের ঘটনায় দুই ছেলের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন এক ভুক্তভোগী মা।
উপজেলার আমজাদহাট ইউনিয়নের দক্ষিণ ধর্মপুরে ভুক্তভোগী জাহারা বেগম তার দুই ছেলে হোসেন ও মীর হোসেনের বিরুদ্ধে এই মামলা করেন।
অভিযোগ রয়েছে, ছেলেরা তাকে মারধর করে ঘর থেকেও বের করে দিয়েছেন। একই ঘটনায় জাহারা বেগমের বড় ছেলে প্রবাসী জয়নাল আবেদীনের স্ত্রী শাহেদা আক্তারকে মারধর করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: খুলনায় গণঅধিকারের সভাপতি নুরসহ ৫ নেতার বিরুদ্ধে ২ মামলা
এ ঘটনা ফুলগাজী থানায় একটি অভিযোগ দিয়েছেন। মঙ্গলবার (২৫ মার্চ) মা জাহারা বেগম তার দুই ছেলের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি শাহেদা আক্তারের দেবর বেলাল হোসেন তার স্বামীর কেনা সম্পত্তি দখল করে জোরপূর্বক ঘর নির্মাণ শুরু করেন। এতে বাঁধা দেওয়ায় ভাইয়ের স্ত্রী শাহেদা আক্তারের সঙ্গে হাতাহাতি হয়।
একই ঘটনায় মা জাহারা বেগম বড় ছেলে জয়নাল আবেদীন পক্ষে কথা বলায় বেলাল হোসেন ও মীর হোসেন ও তাদের স্ত্রীরা মিলে তাকে ঘর থেকে বের করে দেন।
স্থানীয়রা জানয়, জয়নাল আবেদীন তার আপন চাচা মুসলিম মিয়ার কাছ থেকে তার বসতঘরের সামনের সম্পত্তি কেনেন। জয়নালেনের কেনা সম্পত্তিতে জোরপূর্বক দখল করে দালান নির্মাণের জন্য ইট, বালু ও সিমেন্ট আনেন তার মেঝ ও ছোট ভাই।
এদিকে দালান নির্মাণে বাঁধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে তার ভাই বেলাল হোসেন ও মীর হোসেন তাদের মায়ের থাকার ঘরে তালা লাগিয়ে দেন।
ভুক্তভোগী জাহারা বেগম বলেন, ‘আমার স্বামী মারা গেছেন। সম্পত্তি বণ্টনকে কেন্দ্র করে আমার ছেলেদের মধ্যে বিরোধ দেখা দিয়েছে। এই সম্পত্তির জেরে আমার মেঝ ছেলে ও ছোট ছেলে আমাকে মারধর করেছে। আমার থাকার ঘরে তালা দিয়ে আমাকে ঘর থেকে বের করে দেয়। আমার ভাই আজিজ উল্লাহ মানিকের সহযোগিতায় তারা একাধিকবার আমি ও আমার বড় ছেলের বৌয়ের ওপর হামলা চালায়। আমি আলাদতে তাদের বিষয়ে অভিযোগ দিয়েছি।’
প্রত্যক্ষদর্শী একই এলাকার মুসলিম মিয়ার স্ত্রী রেজিয়া বেগম বলেন, ‘আমাদের জায়গা জোর করে দখল করে বেলাল দালান নির্মাণ করার জন্য ইট, বালু ও সিমেন্ট আনে। এ সময় বেলাল আমাকে ধাক্কা দিয়ে তাদের বাড়ি থেকে বের করে দেয়। তারা জয়নালের বউয়ের ওপর ও হাত তুলে এবং জাহারার ঘরে তালা লাগিয়ে দেয়।’
অভিযুক্ত বেলাল হোসেন বলেন, ‘শুধুমাত্র আমার মা ও বড় ভাইয়ের কারণে আমাদের সম্পত্তি বণ্টনে করতে ব্যর্থ হয়েছি। আমার মা আমার নামে মামলা পর্যন্ত করেন। ইতোপূর্বেও আমার নামে মামলা করায় আমি ১৮ মাস জেল হাজতে ছিলাম। ‘আমি কিছু করিনি। এটি ভিত্তিহীন অভিযোগ। আমি যতটুকু পাব বড় ভাই ততটুকু পাবে। আইন অনুযায়ী আমিন এনে মাপ করার পর যা পাবে, আমরা সে কথাই বলেছি।’
আরও পড়ুন: কুমিল্লায় হত্যা মামলায় এক ব্যক্তির যাবজ্জীবন
মায়ের ওপর হামলা ও ঘর থেকে বের করে দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমার মা বড় ভাইয়ের কথা অনুযায়ী আমাদের নামে মামলা দিয়েছে। আমি আমার নিরাপত্তার স্বার্থে বলেছি ঝামেলা মিটে যাওয়া পর্যন্ত বড় ভাইয়ের ঘরে থাকতে। মায়ের সঙ্গে কোনো বিরোধ নেই। যার পক্ষপাতিত্ব করছে তার কাছে থাকতে বলেছি।’
ফুলগাজী থানা পুলিশের পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. নুরুল ইসলাম বলেন, ‘পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই পক্ষের সঙ্গে কথা বলেছে। মায়ের ঘরটির তালা ইতোমধ্যে খুলে দেওয়া হয়েছে। যেহেতু এখানে দুই পক্ষের আলোচনা আছে ঈদের পর আগামী ১০ এপ্রিল দুই পক্ষের সঙ্গে সামাজিকভাবে বসে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।’
৪৩৫ দিন আগে