শিক্ষা
মুহসীন হল অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক কমিটি গঠন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) হাজী মুহাম্মদ মুহসীন হল অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৪ জানুয়ারি) সাধারণ সভায় ঐতিহ্যবাহী এই হলটির সাবেক শিক্ষার্থীদের ৩১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা করা হয়।
এতে হলটির সাবেক জিএস সাইদুর রহমানকে আহ্বায়ক ও শেখ নাসিমকে সদস্য সচিবচ পদে নির্বাচিত করা হয়েছে।
আগামী ৯০ দিনের মধ্যে তারা একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করবে।
৩৯৩ দিন আগে
পোষ্য কোটা বাতিলের দাবিতে জাবির প্রশাসনিক ভবন অবরোধ
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) পোষ্য কোটা বাতিলের দাবিতে প্রশাসনিক ভবন অবরোধ করেছেন শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা থেকে শিক্ষার্থীরা মিছিল বের করে ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও আবাসিক হলগুলো প্রদক্ষিণ শেষে রেজিস্ট্রার বিল্ডিংয়ের সামনে একত্রিত হন।
এ সময় তাদের ‘জ্বালো রে জ্বালো, আগুন জ্বালো’, ‘জনে জনে খবর দে, পোষ্য কোটার কবর দে’, ‘কোটা না মেধা, মেধা মেধা’, ‘হলে হলে খবর দে, পোষ্য কোটার কবর দে’, ‘এসো ভাই এসো বোন, গড়ে তুলি আন্দোলন’, ‘সংস্কার না বাতিল, বাতিল বাতিল’, ‘আপোষ না সংগ্রাম, সংগ্রাম সংগ্রাম’, আবু সাইদ মুগ্ধ, শেষ হয়নি যুদ্ধ’ প্রভৃতি স্লোগান দিতে দেখা যায়।
আরও পড়ুন: জাবিতে পোষ্য কোটা বাতিলের দাবিতে শিক্ষার্থীদের অবস্থান কর্মসূচি
ইতিহাস বিভাগের ৫০তম আবর্তনের শিক্ষার্থী নিবিড় ভূইয়া বলেন, ‘আমরা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা অযৌক্তিক পোষ্য কোটা বাতিলের দাবিতে রেজিস্ট্রার ভবনের সামনে অবস্থান নিয়েছি। আমরা বিশ্বাস করি, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী—কারোরই পোষ্য কোটার কোনো যৌক্তিকতা নেই। অজপাড়াগাঁয়ের একজন কৃষকের সন্তান যদি মেধার ভিত্তিতে জাহাঙ্গীরনগরে পড়াশোনা করতে পারে, তাহলে একজন শিক্ষার্থী যে জাহাঙ্গীরনগরে ছোট থেকে বড় হয়েছে, ভালো স্কুল কলেজে পড়াশোনা করেছে, তার কোনো ধরনের প্রিভিলেজ (সুবিধা) লাগবে বলে আমরা বিশ্বাস করি না।’
‘আমরা বিশ্বাস করি, কোটা একটি প্রিভিলেজ, এটি কোনো অধিকার নয়। এই প্রিভিলেজটা ততক্ষণ পর্যন্ত দেওয়া হবে যতক্ষণ পর্যন্ত তাদের দরকার, কিন্তু এটি কোনোভাবেই দরকার না। আজ পোষ্য কোটা চিরতরে বাতিল করার জন্য আমরা আন্দোলনে নেমেছি।’
আইন ও বিচার বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী কাওছার আলম বলেন, ‘বৈষম্যবিরোধী আন্দলনের পর বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পোষ্য কোটা বাতিলের যৌক্তিক দাবি ওঠে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়েও এরই ধারাবাহিকতায় পোষ্য কোটা বাতিল নিয়ে আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করি। একপর্যায়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের একাংশ আমরণ অনশনে বসে। তারপর ভিসি মহোদয় ও সংশ্লিষ্টজনদের মাধ্যমে পোষ্য কোটার যৌক্তিক একটি সংস্কারের আশ্বাসে শিক্ষার্থীরা অনশন থেকে সরে আসে। তবে এই সংস্কারের বিপরীতে পোষ্য কোটার সুবিধাভোগীরা আজ অযোক্তিক আন্দোলন করে রেজিস্ট্রার ভবনের সামনে অবস্থানের সময় তারা এক সাধারণ শিক্ষার্থী ভাইয়ের ওপর চড়াও হয় এবং তাকে শারীরিকভাবে হেনস্তা করে। তারই প্রতিবাদে আমরা শিক্ষার্থীরা পোষ্য কোটা বাতিল ও তাদের হামলার বিচার চেয়ে রেজিস্ট্রার ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছি।’
আরও পড়ুন: পোষ্য কোটা বাতিলের দাবিতে জাবিতে এবার আমৃত্যু গণঅনশন
এর আগে, গত দুদিন ধরে পোষ্য কোটা বাতিলের দাবিতে গণ-অনশন কর্মসূচি পালন করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা। তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে গতরাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক কামরুল আহসান পোষ্য কোটা সংস্কারের ঘোষণা দেন।
এর বিরুদ্ধে আজ (মঙ্গলবার) সকাল ১১টায় পোষ্য কোটা পুনর্বহালের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা একটি মিছিল নিয়ে প্রশাসনিক ভবন অবরোধ করেন। এ সময় তারা পোষ্য কোটার পক্ষে লাগানো পোস্টার ছিঁড়ে ফেললে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
৩৯৫ দিন আগে
কৃষি সুরক্ষা পদ্ধতির উন্নয়নে বাকৃবি-মারডক বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ গবেষণা
কৃষি সুরক্ষা পদ্ধতির দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব নিয়ে যৌথভাবে গবেষণা চালাচ্ছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) ও অস্ট্রেলিয়ার মারডক বিশ্ববিদ্যালয়। গবেষণায় বাংলাদেশের মাটি ও পানি সম্পদের ওপর সংরক্ষণমূলক কৃষির প্রভাব, সীমাবদ্ধতা ও সম্ভাব্য ঝুঁকি বিশ্লেষণ করা হবে।
গবেষণা দলের প্রধান বাকৃবির মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মফিজুর রহমান জাহাঙ্গীর ইউএনবিকে বলেন, ‘মাটি ও পানি সম্পদের ওপর কৃষি সুরক্ষা পদ্ধতির দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব এবং এই পদ্ধতির সম্প্রসারণের উপযুক্ত কৌশল নির্ধারণ করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।’
কৃষি সুরক্ষা পদ্ধতি সম্পর্কে তিনি জানান, সংরক্ষণমূলক কৃষি বা কৃষি সুরক্ষা পদ্ধতি টেকসই চাষাবাদের একটি আধুনিক পদ্ধতি যা মাটির স্বাস্থ্য সংরক্ষণ, উৎপাদন বৃদ্ধি ও পরিবেশ রক্ষায় সহায়ক। এতে তিনটি মূলনীতি অনুসরণ করা হয়— ন্যূনতম চাষ, ফসলের আচ্ছাদন বজায় রাখা ও ফসলের বৈচিত্র্য নিশ্চিত করা।
গবেষণায় মারডক বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. রিচার্ড ডব্লিউ বেল ও ড. ডাভিনা বয়েড প্রজেক্ট লিডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। কৃষি অর্থনীতি বিষয়ের প্রধান গবেষক হিসেবে কাজ করছেন বাকৃবির কৃষি অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. হাসনীন জাহান।
ড. রিচার্ড ডব্লিউ বেল বলেন, ‘বাংলাদেশের মাটি অত্যন্ত উর্বর হলেও এর উর্বরতা দ্রুত কমছে। ২০১২ সাল থেকে মারডক বিশ্ববিদ্যালয় এ দেশের কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে। বর্তমানে আমরা কৃষি সুরক্ষা পদ্ধতি গ্রহণে সহায়তা এবং মাটি ও পানির গুণগত পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করছি।’
আরও পড়ুন: বৃত্তি পেল বাকৃবির ভেটেরিনারি অনুষদের ৩৬ শিক্ষার্থী
গবেষণা প্রকল্পের আওতায় ৮টি পিএইচডি ও ৪টি মাস্টার্স ফেলোশিপের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যেখানে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার শিক্ষার্থীরা গবেষণার সুযোগ পাবে বলে জানিয়েছেন অধ্যাপক জাহাঙ্গীর।
এটি দেশের বিজ্ঞানীদের দক্ষতা, শিক্ষা ও গবেষণায় ব্যাপকভাবে সাহায্য করবে বলে মন্তব্য করেছেন অধ্যাপক জাহাঙ্গীর।
‘বাংলাদেশে সংরক্ষণমূলক কৃষি গ্রহণে সহায়তা এবং মাটি ও পানির গতিশীলতার পরিবর্তন (সাকা)’ শীর্ষক চার বছর মেয়াদি প্রকল্পটি ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে শুরু হয়েছে। এটি অস্ট্রেলিয়ান সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল এগ্রিকালচারাল রিসার্চ (এসিআইএআর) ও কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশনের (কেজিএফ) অর্থায়নে পরিচালিত হচ্ছে।
এই প্রকল্পে আরও অংশ নিয়েছে— বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি), বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি), বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি), সংরক্ষণমূলক কৃষি সেবা প্রদানকারী সংস্থা (ক্যাসপা) ও পিআইও কনসাল্টিং লিমিটেড।
গবেষকরা আশা করছেন, এই প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশের কৃষি ব্যবস্থায় টেকসই পরিবর্তন আসার পাশাপাশি কৃষকদের উৎপাদনশীলতা ও আয় বাড়বে।
৩৯৫ দিন আগে
তিতুমীরের শিক্ষার্থীদের আন্দোলন এক সপ্তাহের জন্য স্থগিত
সরকার সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেওয়ার পর এক সপ্তাহের জন্য আন্দোলন স্থগিত করেছেন সরকারি তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থীরা।
সোমবার (৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে শিক্ষার্থী ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি প্রতিনিধি দলের বৈঠকের পর গত কয়েকদিন ধরে ঢাকার কার্যক্রম বিঘ্নিত করে চলা ধর্মঘট প্রত্যাহারের এ সিদ্ধান্ত আসে।
বৈঠক শেষে আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থী নূর মোহাম্মদ।
তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি আদায় না হলে তারা আবারও রাস্তায় নামবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
এর আগে মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব নুরুজ্জামানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দেখা করে তাদের সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন।
সোমবার রাতে বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসেল সরোয়ার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
কলেজটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরসহ ৬ দফা দাবিতে গত কয়েকদিন ধরে আন্দোলন করে আসছিলেন কলেজটির শিক্ষার্থীরা।
রবিবার (৩ ফেব্রুয়ারি) তারা কলেজের সামনের মহাখালী ও গুলশান লিংক রোড অবরোধ করে যান চলাচল বন্ধ করে দেয় এবং ঢাকায় রেললাইনে ব্যারিকেড দেয়, এতে ঢাকার সঙ্গে সারা দেশের ট্রেন যোগাযোগ বিঘ্নিত হয়।
দাবি আদায়ে আমরণ অনশনও কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীদের কেউ কেউ।
আরও পড়ুন: তিতুমীর কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয় করার যৌক্তিকতা পাচ্ছে না সরকার: সিনিয়র সচিব
৩৯৬ দিন আগে
তিতুমীর কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয় করার যৌক্তিকতা পাচ্ছে না সরকার: সিনিয়র সচিব
রাজধানীর তিতুমীর কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের দাবির বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় যৌক্তিকতা পাচ্ছে না বলে ফের জানিয়েছেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব সিদ্দিক জোবায়ের।
সোমবার (৩ ফেব্রুয়ারি) শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস সুষ্ঠুভাবে উদযাপনের লক্ষ্যে আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ সংক্রান্ত সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সিনিয়র সচিব এ কথা বলেন। এ সময় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
তিতুমীর কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয় করার দাবিতে গত কিছুদিন ধরে আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা। সোমবার বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটে রেললাইন অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। এতে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। একপর্যায়ে মহাখালী থেকে উল্টোপথে ফিরে যায় ট্রেন। শিক্ষার্থীদের অবরোধে বর্তমানে মহাখালী থেকে জাহাঙ্গীর গেট পর্যন্ত সড়কের উভয় পাশের যান চলাচল বন্ধ।আরও পড়ুন: তিতুমীর কলেজ শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ, যান চলাচলে বিঘ্ন
তিতুমীর কলেজ নিয়ে এরইমধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে একটি বিবৃতি দেওয়া হয়েছে জানিয়ে সিনিয়র সচিব বলেন, ‘সাতটা কলেজ নিয়ে একটি বিশ্ববিদ্যালয় করার জন্য উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে ইউজিসির চেয়ারম্যান মহোদয়ের নেতৃত্বে। সেই কমিটি কাজ করছে। সেই কমিটি যখন কাজ করছে, এর মধ্যে তিতুমীর বলল যে তারা আলাদা বিশ্ববিদ্যালয় চায়। আলাদাভাবে বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ার যে দাবি, এর স্বপক্ষে যৌক্তিকতা প্রমাণ করতে হবে। কারণ তিতুমীরের মতো আরও অনেকগুলো কলেজ রয়েছে। ঢাকা শহরে আছে, ঢাকার বাইরে আছে।’
তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমাদের উপদেষ্টা মহোদয় একটি বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি সেখানে বলেছেন যে এ দাবি যৌক্তিকভাবে গ্রহণযোগ্য হয় না। যেহেতু আরও অনেকগুলো এ রকম কলেজ রয়েছে।’
‘তিতুমীরের যে ছাত্ররা আন্দোলনে আছে, তাদের প্রতি আমরা সহানুভূতিশীল। কিন্তু সাধারণ ছাত্ররা চাচ্ছে যে তাদের পড়াশুনা যাতে নির্বিঘ্ন থাকে। তাদের পড়াশোনা যাতে এই ধরনের আন্দোলনের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। সুতরাং সরকার সেটাতেও লক্ষ্য রাখছে।’
এরইমধ্য ইউজিসি থেকে একটি প্রস্তাব এসেছে জানিয়ে মাধ্যমিকে ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব বলেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন অর্থাৎ যে সময় পর্যন্ত একটি বিশ্ববিদ্যালয় না হয়, ততক্ষণ পর্যন্ত এই বিষয়টিকে কিভাবে মোকাবেলা করা যায়। সেই কারণে আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গেও কথা বলেছি। তারা নীতিগতভাবে এটুকু একমত আছে যে, সাত কলেজের দায়িত্ব তারা নেবে না। তবে এ বছর যারা নতুন ভর্তি হবে, তাদের ভবিষ্যৎ যাতে নষ্ট না হয় এবং যারা পরীক্ষা দেবে, তাদের ভবিষ্যৎ যাতে নষ্ট না হয়; এজন্য সরকার যেভাবে বলবে তারা সেভাবে করবে।’
সিদ্দিক জোবায়ের বলেন, ‘তিতুমীর কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় করার দাবি ছাড়াও আরও দুটি দাবি জানিয়েছে। সেটা হচ্ছে, তাদের সেখানে আরও পিএইচডি অধ্যাপক দিতে হবে। এতে আমরা একমত হয়েছি। সেখানে ১৭ জন পিএইচডি হোল্ডার আছেন, আমরা আরও দেব।
‘দ্বিতীয় তারা আরেকটি দাবি জানিয়েছে যে, গবেষণার জন্য বরাদ্দ বাড়াতে হবে। সেটা তো আমরা রাজি হয়েছি যে বরাদ্দ আরও বাড়াবো।’
সিনিয়র সচিব আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় দাবির বিষয়ে আমরা বলেছি, ইউজিসির কমিটি যেভাবে সিদ্ধান্ত দেবে; সেটার ওপরেই আমরা পর্যালোচনা করে পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত নেব।
তারা রেলপথ অবরোধ করেছে- এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা দুজন যুগ্ম-সচিবকে তাদের সঙ্গে কথা বলার জন্য পাঠিয়েছি।’
তিতুমীর কলেজ কর্তৃপক্ষ ছাত্রদের দাবির বিষয়ে কি বলছে- এ বিষয়ে সিনিয়র সচিব বলেন, ‘তারা চায় শিক্ষার একটা পরিবেশ কলেজগুলোতে আসুক। সাধারণ ছাত্র-ছাত্রী বা অধিকাংশ ছাত্রছাত্রী যারা এই আন্দোলনের মধ্যে নেই, এরা ৯০ শতাংশ ছাত্রছাত্রী, তারা কিন্তু চায় যাতে পড়াশুনা অব্যাহত থাকে। শিক্ষার্থীরা যেই দিন আন্দোলন করছেও সেই দিনও কিন্তু সেখানে অনার্স পরীক্ষা হয়েছে। ছাত্রছাত্রীরা পরীক্ষা অংশগ্রহণ করেছে তারা পরীক্ষা বর্জন করেনি।’আরও পড়ুন: তিতুমীর কলেজের ইস্যুটির দ্রুতই সমাধান হবে: প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব
তবে কি এটা গুটিকয়েক শিক্ষার্থীর আন্দোলন- এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সেটা আপনাদের বুঝে নিতে হবে। আমি বিশ্লেষণ দিতে পারবো না, আমি ঘটনা বলতে পারি।’
তিতুমীর বিশ্ববিদ্যালয় হবে কি হবে না সেই বিষয়ে আপনারা পরিষ্কার করে কিছু বলছেন না কেন- এ বিষয়ে সিনিয়র সচিব সিদ্দিক জোবায়ের বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমাদের উপদেষ্টা যে বক্তব্য দিয়েছেন, এর অতিরিক্ত আমার কোনো বক্তব্য নেই। এখন পর্যন্ত তিতুমীরের এই দাবির যৌক্তিকতা দেখা যাচ্ছে না। যেহেতু আমরা একটি কমিটি করেছি, সেই কমিটিকে তিতুমীরের বিষয়টিও গুরুত্বে সঙ্গে দেখার জন্য বলা হয়েছে। যেখানে কমিটি করা হয়েছে, সেই কমিটির রিপোর্ট দেওয়ার আগে আমরা মন্ত্রণালয় থেকে আরেকটা কথা বলে ফেলা ঠিক হবে না।’
৩৯৬ দিন আগে
পোষ্য কোটা বাতিলের দাবিতে জাবিতে এবার আমৃত্যু গণঅনশন
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ভর্তি পরীক্ষায় পোষ্য কোটা বাতিলের দাবিতে এবার আমৃত্যু গণঅনশন শুরু করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জাবি শাখার নেতাকর্মীরা।
রবিবার (২ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রশাসনিক ভবনের সামনে তারা এ কর্মসূচি শুরু করেন।
এদিকে, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণাও দিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জাবি শাখা।
অনশনরত শিক্ষার্থীরা বলেন, ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে লড়াইয়ের মূলমন্ত্র ছিল বৈষম্যমূলক কোটা পদ্ধতি বাতিল ও যৌক্তিক সংস্কার করা। সেজন্য অনেককে রক্ত দিতে হয়েছে। কিন্তু গণঅভ্যুত্থানের পর সেই কোটা নিয়ে আবারও অনশনে বসতে হচ্ছে যা হতাশা ও লজ্জার বিষয়।
আরও পড়ুন: প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে জাবি উপাচার্যের সাক্ষাৎ, পরামর্শ চাইলন জাকসু নির্বাচনের বিষয়ে
তাদের দাবি, ভর্তি পরীক্ষায় অযৌক্তিক পোষ্য কোটার জন্য বঞ্চিত হচ্ছে গরীব কৃষক ও শ্রমিকের সন্তান। তাই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়কে চিরতরে অযৌক্তিক পোষ্য কোটার কলঙ্ক থেকে মুক্ত করার জন্য আমাদের আমৃত্যু অনশনে বসা।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন জাবি শাখার যুগ্ম সদস্য সচিব নাহিদ হাসান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে যে অযৌক্তিক কোটা পদ্ধতি রয়েছে, তা গোড়া থেকে উপড়ে দিতে আমরা অনশনে বসেছি। ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে আমাদের প্রাণের দাবি ছিল—মেধা দিয়েই আমাদের মূল্য যাচাই হবে, কোনো কোটা দিয়ে নয়। কিন্তু অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে এমন অযৌক্তিক কোটা পদ্ধতি জাবিতে বিদ্যমান থাকা আমাদের জন্য লজ্জার। এমনকি আমাদের ভাইবোনের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা প্রশাসনের জন্যও লজ্জার। অযৌক্তিক পোষ্য কোটা বাতিল না হলে আমাদের কর্মসূচি চলবে।’
সংগঠক মোহাম্মদ রায়হান বলেন, ‘জুলাইয়ে কোটা পদ্ধতি বাতিলের জন্য আবু সাইদ, মুগ্ধসহ অসংখ্য ভাইবোন শহিদ হয়েছেন। এত রক্ত কোটা পদ্ধতি বাতিলের জন্য দেওয়া হলো, এরপরও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অযৌক্তিক পোষ্য কোটা রয়ে গেছে। এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত লজ্জার।’
আরও পড়ুন: জাবিতে পোষ্য কোটা বাতিলের দাবিতে শিক্ষার্থীদের অবস্থান কর্মসূচি
অনশনে বসা শিক্ষার্থী নাজমুল হাসান বলেন, ‘পৌষ্য কোটার মতো বৈষম্য আর নেই। আমরা বৈষম্যহীন এক নতুন বাংলাদেশের জন্য জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণ করেছি। অথচ মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য গলার কাঁটা নামক পোষ্য কোটা চালু রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ে, যা গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা পূরণে ব্যত্যয় ঘটায়।’
এ বিষয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন জাবি শাখার সদস্যসচিব তৌহিদ মোহাম্মদ সিয়াম বলেন, ‘জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনও অযৌক্তিক পোষ্য কোটা বিদ্যমান। আমরা দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের কাছে এই পোষ্য কোটা সম্পূর্ণরূপে বাতিলের দাবি জানিয়ে আসছি। যেহেতু এই কোটার কোনো যৌক্তিকতা নেই, সেহেতু এটি সংস্কারের প্রয়োজন আছে বলে আমরা মনে করি না; এটি সম্পূর্ণরূপে বাতিল করতে হবে।’
৩৯৭ দিন আগে
৫ শতাধিক গবেষকের অংশগ্রহণে বাকৃবিতে বৈজ্ঞানিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত
৫ শতাধিক গবেষক, প্রাণী চিকিৎসক ও ভেটেরিনারি শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) বাংলাদেশ সোসাইটি ফর ভেটেরিনারি অ্যাডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চের (বিএসভিইআর) ৩১তম বৈজ্ঞানিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (১ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে ‘প্রাণীর স্বাস্থ্য ও খাদ্য নিরাপত্তার ওপর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বাকৃবির শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন মিলনায়তনে সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধান অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী ঘোষণা করেন বাকৃবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া।
তিনি বলেন, ‘মানসম্মত সেবা খামারিদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে ভেটেরিনারিয়ানদের এগিয়ে আসতে হবে। কোয়ান্টিটি নয় কোয়ালিটিতে আমাদের বেশি জোর দিতে হবে।’
আরও পড়ুন: নানা অভিযোগে ডিন অফিসে তালা দিলেন বাকৃবির ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষার্থীরা
বাকৃবি উপাচার্য বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রযুক্তির ব্যবহার দ্বারা গবাদিপশুর উৎপাদন, মান ও রোগের প্রাদুর্ভাব পরিবর্তিত হচ্ছে। চার দশক আগে খামার ও খামারিদের চিত্রের সঙ্গে বর্তমান অবস্থার অনেক পরিবর্তন হয়েছে। খামারিদের দক্ষতা, মন-মানসিকতা, দক্ষতার অবস্থারও পরিবর্তন হচ্ছে। খামারিরা পশুর লালন-পালন ও চিকিৎসায় প্রযুক্তির ব্যবহার করছে। তাই দেশের খামার ও খামারিদের পরিবর্তনের বিষয়টি মাথায় রেখেই ভেটেরিনারিয়ানদের কাজ করতে হবে।’
৩৯৮ দিন আগে
তিতুমীর কলেজ শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ, যান চলাচলে বিঘ্ন
তিতুমীর কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয় ঘোষণার দাবিতে কলেজের সামনের মহাখালী-গুলশান-বাড্ডা লিংক সড়কটি শিক্ষার্থীরা অবরোধ করায় তিন ঘণ্টার জন্য যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
বৃহস্পতিবার (৩০ জানুয়ারি) দুপুর থেকে শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আর দুপুরে কলেজের প্রায় আড়াইশ’ শিক্ষার্থী রাস্তায় নেমে বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদাসহ বিভিন্ন দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন।
আওর পড়ুন: মাঠে আদালত স্থাপনের প্রতিবাদে ঢাকা আলিয়ার শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ
অবরোধের কারণে যাত্রীরা নিজ নিজ গন্তব্যে যেতে চরম ভোগান্তির মুখোমুখি হন।
বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসেল সরোয়ার বলেন, অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
এর আগে আন্দোলনের কারণে তিতুমীর কলেজসহ সাত কলেজের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অধিভুক্তি বাতিলের ঘোষণা দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান।
গত সোমবার অধিভুক্ত কলেজগুলোর অধ্যক্ষদের সঙ্গে জরুরি সভা শেষে উপাচার্য এ ঘোষণা দেন।
আরও পড়ুন: তিতুমীর কলেজের ইস্যুটির দ্রুতই সমাধান হবে: প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব
৪০০ দিন আগে
নানা অভিযোগে ডিন অফিসে তালা দিলেন বাকৃবির ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষার্থীরা
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের অধীনস্ত ফুড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগে বুধবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিনের কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেন ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থীরা।
এ সময় ফুড শিক্ষার্থীরা জানান, ৪ মাস আগে ক্লাসরুম সংকট, ক্লাসরুমের দুরাবস্থা, নষ্ট প্রজেক্টর, ওয়াশরুমের দুরবস্থাসহ নানা সমস্যা প্রশাসনকে জানানো হলেও সমাধান হয়নি।
এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে বাকৃবির কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো জয়নাল আবেদীন বিষয়টি অস্বীকার করেন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা আজকে (বুধবার) অভিযোগপত্র দিয়েছে। এর আগে কেউ কোনো লিখিত অভিযোগ দেয়নি।
এ সময় উপস্থিত ফুড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, আমাদের ক্লাসরুম ৩টি ও এর বিপরীতে ব্যাচ মোট ৬টি। দেখা যায়, অনেক সময় রুটিনে ক্লাস ওভারল্যাপ হলে ক্লাসরুমই পাওয়া যায় না। আজও একজন শিক্ষক ক্লাসরুম ফাঁকা না পেয়ে ক্লাস না নিয়েই চলে যান।
তারা আরও বলেন, ক্লাসের প্রজেক্টর নষ্ট, ফ্যান নষ্ট, ওয়াশরুম নষ্ট, ক্লাসরুমের পাশাপাশি ক্লাসে সিটেরও সংকট, ৩০ জনের ক্লাসে ৫০ জনকে ক্লাস করতে হয়, ল্যাবের অবস্থাও করুণ। আমরা কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিনের কাছে এসব বিষয় নিয়ে প্রায় চার মাস আগে কথা বলি, কিন্তু তিনি শুধু আশ্বাস দিয়েই ক্ষান্ত।
এ বিষয়ে ফুড টেকনোলজি ও গ্রামীণ শিল্প বিভাগে অধ্যাপক ড. মো. আনিছুর রহমান মজুমদার জানান, শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিন ধরে ক্লাসরুম সংকট, ল্যাব ও বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা নিয়ে অভিযোগ করে আসছে। এই বিষয়টা শিক্ষার্থী ও শিক্ষক ডিনকে অবহিত করলেও তিনি কোনো ব্যবস্থা নেননি। পরে ক্ষুব্ধ হয়ে শিক্ষার্থীরা তালা ঝুলিয়ে দিয়ে আসে।
কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের শিক্ষার্থীদের ফুড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের শিক্ষার্থীদের তুলনায় বেশি সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হচ্ছে এমন অভিযোগের বিষয়ে ডিন বলেন, ‘এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দিলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। এছাড়া এ বছর নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি হওয়াতে ক্লাসরুমের দরকার। বায়োইনফরম্যাটিকসে মাত্র ২টি ক্লাসরুম। ফুড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ২টি মাস্টার্স ডিগ্রি হওয়াতে রুমের সংকট হচ্ছে। রুটিন বিন্যাসে পরিকল্পনা ত্রুটির কারণে ক্লাসের অধিক্রমণ হচ্ছে। ছাত্র উপদেষ্টা ও প্রক্টর এসে মেইন বিল্ডিংয়ে সাময়িকভাবে একটি রুমের ব্যবস্থা করেছেন।’
বাকৃবির কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদ বিএসসি এগ্রিকালচারাল ইঞ্জিনিয়ারিং, ফুড ইঞ্জিনিয়ারিংসহ বায়োইনফরমেটিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং—তিনটি ডিগ্রি প্রদান করে থাকে।
৪০১ দিন আগে
জাবিতে পোষ্য কোটা বাতিলের দাবিতে শিক্ষার্থীদের অবস্থান কর্মসূচি
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ভর্তি পরীক্ষায় পোষ্য কোটা ‘অযৌক্তিক’ অ্যাখ্যা দিয়ে তা বাতিলের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থীরা।
বুধবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে জাবির নতুন প্রশাসনিক ভবনের সামনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে এই কর্মসূচি পালন করা হয়।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জাবি শাখার সদস্য সচিব তৌহিদ সিয়াম বলেন, ‘পোষ্য কোটা চিরতরের জন্য বাতিল করতে হবে। জাবির শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অন্তত একটা চাকরির ব্যবস্থা আছে। কিন্তু জাবিতে পড়তে আসা এমন হাজারো শিক্ষার্থী আছে, যাদের বাবা কৃষক বা শ্রমিক। তাহলে তাদের সঙ্গে সব থেকে বড় বৈষম্য করছে প্রশাসন।’
অতি দ্রুত জাবির ভর্তি পরীক্ষা থেকে এই বৈষম্যমূলক পোষ্য কোটা বাতিল করতে হবে বলে জানান তিনি।
আরও পড়ুন: প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে জাবি উপাচার্যের সাক্ষাৎ, পরামর্শ চাইলন জাকসু নির্বাচনের বিষয়ে
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জাবি শাখার আহ্বায়ক আরিফুজ্জামান উজ্জল বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় নূন্যতম নম্বর তুলেই একজন পোষ্য ভর্তির সুযোগ পাচ্ছে। অথচ দেশের কৃষক-শ্রমিকদের সন্তানরাও মেধার ভিত্তিতে ভর্তি হচ্ছে। তাই আমরা মনে করি, পোষ্য কোটা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বৈষম্য তৈরি করছে।’
তিনি বলেন, ‘বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের লক্ষ্যে সংগঠিত গণঅভ্যুত্থানের পর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পোষ্য কোটা নামের কোনো কোটা থাকতে পারে না। দ্রুত জাবির ভর্তি পরীক্ষায় অযৌক্তিক পোষ্য কোটা বাতিল করতে হবে। অন্যথায় সচেতন শিক্ষার্থীদের নিয়ে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।’
এ সময় আরও বক্তব্য দেন ছাত্র অধিকার পরিষদ, জাবি শাখার সদস্য সচিব ইকবাল হোসাইন, সংস্কার আন্দোলনের মুখপাত্র নাজিরুল ইসলাম প্রমুখ।
৪০১ দিন আগে