প্রধানমন্ত্রীর-কার্যালয়
মহামারির বিরুদ্ধে আরও সহনশীল বিশ্বের জন্য শক্তিশালী নেতৃত্ব প্রয়োজন: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ভবিষ্যৎ মহামারি মোকাবিলায় আরও সহনশীল ও প্রস্তুত বিশ্ব গঠনে বলিষ্ঠ ও শক্তিশালী নেতৃত্ব অপরিহার্য।
তিনি বলেন, 'আমরা যখন ভবিষ্যতের মহামারির জটিলতাগুলো মোকাবেলা করছি, তখন আরও সহনশীল ও প্রস্তুত বিশ্ব গঠনে শক্তিশালী ও বলিষ্ঠ নেতৃত্ব অপরিহার্য হবে।’
মঙ্গলবার (৭ মে) নিউজিল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং ইন্ডিপেন্ডেন্ট প্যানেল ফর প্যানডেমিক প্রিপেয়ার্ডনেস অ্যান্ড রেসপন্সের কো-চেয়ার হেলেন ক্লার্কের সঙ্গে গণভবন থেকে এক ভার্চুয়াল বৈঠকে যোগ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, পদ্ধতিগত পরিবর্তনগুলো চালানোর জন্য রাজনৈতিক নেতৃত্বের ব্যস্ততা এবং প্রতিশ্রুতি অপরিহার্য যা ভবিষ্যতের মহামারি প্রতিরোধ, শনাক্তকরণ এবং কার্যকরভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে আমাদের ক্ষমতা বাড়িাতে পারে।
শেখ হাসিনা বলেন, 'উচ্চ পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতৃত্ব নিশ্চিত করে যে, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক এজেন্ডায় মহামারি প্রস্তুতি ও প্রতিক্রিয়াকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।’
তিনি আরও বলেন, এটি ২০৩০ সালের মধ্যে সর্বজনীন স্বাস্থ্য কভারেজের অভিন্ন প্রতিশ্রুতি অর্জনের জন্য আর্থিক সংস্থান সংগ্রহ, দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধিতে উৎসাহ দেয় এবং জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থায় উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করে।
আরও পড়ুন: উপজেলা নির্বাচন প্রভাবিত করবেন না: মন্ত্রী-এমপিদের প্রধানমন্ত্রী
তিনি বলেন, 'বৈশ্বিক স্বাস্থ্য শাসন ব্যবস্থাকে ব্যাপকভাবে বিভক্ত করে মহামারি প্রতিরোধ ও মোকাবিলায় ডব্লিউএইচওর জ্ঞান, কারিগরি এবং আর্থিক সক্ষমতা জোরদার করতে আমাদের অবশ্যই সম্মিলিত রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও অঙ্গীকার জোরদার করতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোভিড-১৯ থেকে প্রাপ্ত শিক্ষায় বৈজ্ঞানিক প্রমাণ, বৈশ্বিক সহযোগিতা এবং ন্যায্যতা ও সমতার ভিত্তিতে মহামারি প্রস্তুতি ও প্রতিক্রিয়ার জন্য সমন্বিত পদ্ধতির প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, 'ভবিষ্যতে মহামারির প্রভাব প্রশমিত করা এবং বৈশ্বিক স্বাস্থ্য নিরাপত্তা রক্ষায় এই শিক্ষাগুলোর অর্থবহ প্রয়োগ অপরিহার্য।’
এ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা পাঁচটি সুপারিশের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সুপারিশগুলো উত্থাপন করে তিনি বলেন, বৈশ্বিক স্বাস্থ্য সংকট কার্যকরভাবে মোকাবিলায় তথ্য, দক্ষতা ও সম্পদ বিনিময়ের জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও সমন্বয় অপরিহার্য, যা কোনো সীমানাকে আমলে নেয় না।
আরও পড়ুন: জনগণের পাশে দাঁড়ানোর কারণেই আস্থা অর্জন করেছে সেনাবাহিনী: প্রধানমন্ত্রী
তিনি তার দ্বিতীয় সুপারিশে বলেন, ভ্যাকসিনের প্রতিযোগিতায় উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে প্রাপ্যতার ক্ষেত্রে চরম বৈষম্য প্রকাশ পেয়েছে। এই বৈষম্য দূর করতে ভ্যাকসিন, ডায়াগনস্টিকস এবং চিকিৎসার ন্যায়সঙ্গত বিতরণ এবং সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।
তৃতীয় সুপারিশ করে তিনি বলেন, কোভিড-১৯ মানব, প্রাণী ও পরিবেশগত স্বাস্থ্যের আন্তঃসম্পর্ককে তুলে ধরেছে। একই স্বাস্থ্য পদ্ধতি অবলম্বন করা, যা মানুষ, প্রাণী এবং বাস্তুতন্ত্রের স্বাস্থ্যকে আন্তঃসংযুক্ত হিসাবে বিবেচনা করে, ভবিষ্যতের মহামারি প্রতিরোধে সহায়তা করতে পারে।
চতুর্থ সুপারিশে শেখ হাসিনা বলেন, কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনের দ্রুত উন্নয়ন মহামারি প্রস্তুতির জন্য গবেষণা ও উন্নয়নে বিনিয়োগের গুরুত্ব প্রমাণ করেছে। তিনি বলেন, উদীয়মান ও মারাত্মক সংক্রামক রোগ মোকাবিলায় ভ্যাকসিন, থেরাপিউটিক্স এবং রোগ শনাক্তকরণের জন্য গবেষণা ও উন্নয়নে অব্যাহত বিনিয়োগ অপরিহার্য।
প্রধানমন্ত্রী তার পঞ্চম ও শেষ সুপারিশে বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা, চিকিৎসা সামগ্রীর মজুদ এবং সক্ষমতা বৃদ্ধিসহ প্রস্তুতির প্রচেষ্টায় সহায়তা করার জন্য পর্যাপ্ত ও টেকসই অর্থায়ন প্রক্রিয়া প্রয়োজন।
বাংলাদেশের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০২০ সালের শুরুর দিকে অন্যান্য অনেক দেশের মতো বাংলাদেশেও কোভিড-১৯ মহামারি আঘাত হানে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তবে স্বাস্থ্য খাতে আমাদের দীর্ঘদিনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখা এবং সরকারের সময়োপযোগী পদক্ষেপের ফলে আমরা মানুষের প্রাণহানি কমিয়ে আনতে এবং অর্থনীতিকে সচল রাখতে সক্ষম হয়েছি।’
শেখ হাসিনা বলেন, তার সরকারকে জীবন বাঁচানো এবং কর্মসংস্থান রক্ষার মধ্যে একটি ন্যায়সঙ্গত ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে। একইভাবে, তার সরকার শিল্পের জন্য একটি বাস্তব প্রণোদনা প্যাকেজ এবং আমাদের নিম্ন আয়ের এবং প্রান্তিক জনগণের জন্য একটি বিস্তৃত সামাজিক সুরক্ষা পোর্টফোলিও চালু করেছে।
আরও পড়ুন: রোহিঙ্গাদের জন্য আরও আন্তর্জাতিক তহবিল গঠনে নতুন অংশীদার খুঁজুন: আইওএমের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী
তিনি বলেন, 'আমাদের প্রচেষ্টার কারণে সার্বিক কোভিড-১৯ ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধারে বাংলাদেশ বিশ্বের শীর্ষ পাঁচটি দেশের মধ্যে স্থান পেয়েছে।’
ভ্যাকসিন সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'বাংলাদেশে আমরা ব্যয়সাশ্রয়ী উপায়ে ভ্যাকসিন গবেষণা এবং উৎপাদনে অবদান রাখার অবস্থানে রয়েছি। অন্যান্য নীতি সহায়ক পদক্ষেপের মধ্যে আমি ইতোমধ্যে একটি অত্যাধুনিক ভ্যাকসিন রিসার্চ ইনস্টিটিউট স্থাপনে জমি বরাদ্দ করেছি।’
তিনি বলেন, কোভিড-১৯ একটি বিশ্বব্যাপী জেগে ওঠার আহ্বান হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা আন্তর্জাতিক মহামারি প্রস্তুতি ও প্রতিক্রিয়ায় ব্যাপক সংস্কারের জরুরি প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে।
তিনি আরও বলেন, ‘এই মহামারি আমাদের দেখিয়েছে যে আমরা সবাই সংযুক্ত। আমরা কেউই সত্যিকার অর্থে নিরাপদ হতে পারব না যতক্ষণ না আমরা নিশ্চিত হচ্ছি যে সবাই নিরাপদ। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা-৩ ও লক্ষ্যমাত্রা-১৭ -এ বর্ণিত জনস্বাস্থ্য লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বিশ্বব্যাপী একসঙ্গে কাজ করার এখনই সময়।’
শেখ হাসিনা বলেন, গত ১৫ বছরে বাংলাদেশ অব্যাহতভাবে স্বাস্থ্য নিরাপত্তা মূল্যায়নের ফলাফল এবং অতীতের জরুরি অবস্থা থেকে শিক্ষা নিয়ে প্রস্তুতি ও প্রতিক্রিয়া কার্যক্রম জোরদার করেছে।
তিনি বলেন, অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও কোভিড-১৯ মহামারি প্রস্তুতি, প্রতিক্রিয়া এবং ঘুরে দাঁড়ানোর সহনশীলতার একটি পরীক্ষা।
তিনি বলেন, কোভিড-১৯ দেখিয়ে দিয়েছে যে, বাংলাদেশে স্বাস্থ্য নিরাপত্তায় পূর্ববর্তী বিনিয়োগ খুবই কার্যকর ছিল। কারণ জরুরি প্রতিক্রিয়ার জন্য বিদ্যমান প্রস্তুতি ও প্রতিক্রিয়া পরিকল্পনা, নজরদারি প্ল্যাটফর্ম, পরীক্ষাগার এবং জনশক্তি দ্রুত কাজে লাগাতে সক্ষম হয়েছে দেশটি।
তিনি বলেন, ‘আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা দ্রুত রোগ নির্ণয়ের জন্য পরীক্ষাগার নেটওয়ার্ক প্রসারিত করতে পারে এবং চিকিৎসা সেবা সরবরাহ করতে পারে। এই শিক্ষাগুলো তুলে ধরে যে, আমরা এখন অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল প্রতিরোধের মতো নীরব মহামারিসহ ভবিষ্যতের প্রাদুর্ভাব এবং জরুরি অবস্থা প্রতিরোধ, শনাক্তকরণ এবং আরও ভালভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে আমাদের প্রচেষ্টা সর্বাধিক করে তুলছি।
জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং কোভিড-১৯ মহামারির প্রভাব মোকাবিলায় অতীতের সাফল্যের কথা বিবেচনা করে বাংলাদেশ এ ক্ষেত্রে গঠনমূলক ভূমিকা অব্যাহত রাখবে বলে আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী।
আরও পড়ুন: উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের আগে জনগণের সুবিধার কথা ভাবুন: প্রধানমন্ত্রী
৬৬৮ দিন আগে
উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের আগে জনগণের সুবিধার কথা ভাবুন: প্রধানমন্ত্রী
কোনো উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের আগে সেখান থেকে জনগণ ও অর্থনৈতিক কী কী সুবিধা পাওয়া যাবে তা বিবেচনায় নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, 'আমাদের প্রথমে চিন্তা করতে হবে এ প্রকল্প থেকে আমাদের কী লাভ হবে, এটি দেশের জনগণের কতটা উন্নয়ন করবে এবং এটি দেশের জনগণের কল্যাণে কতটা কাজে লাগানো যাবে।’
আরও পড়ুন: জনগণের পাশে দাঁড়ানোর কারণেই আস্থা অর্জন করেছে সেনাবাহিনী: প্রধানমন্ত্রী
মঙ্গলবার (৭ মে) সরকারি বাসভবন গণভবনে ২০৪১ সালের মধ্যে স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের কর্মসূচির রূপরেখা উপস্থাপনকালে প্রধানমন্ত্রী একথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব কে এম সাখাওয়াত মুন এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জানান, প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নে অগ্রাধিকার দেওয়ার পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় ব্যয় এড়াতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
শেখ হাসিনা বলেন, কোনো পরিকল্পনা গ্রহণের ক্ষেত্রে সবাইকে মাথায় রাখতে হবে, দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের কতটুকু গতি বাড়বে, স্থানীয় জনগণ কতটুকু উপকৃত হবে এবং একটি প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বা একটি সেতু নির্মাণ করা হলে কী ধরনের সুফল পাওয়া যাবে।
তিনি বলেন, কিছু অবকাঠামোগত উন্নয়ন দ্রুত হওয়ায় দেশবাসী এখন এর সুফল ভোগ করছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার রূপকল্প ২০২১ ঘোষণা করেছে এবং সফলভাবে তা বাস্তবায়ন করেছে। এভাবেই বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি পেয়েছে।
তিনি বলেন, ‘এখন আমাদের লক্ষ্য ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও স্মার্ট দেশে পরিণত করা। আমরা রূপকল্প বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছি।’
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব তোফাজ্জল হোসেন মিয়া এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: রোহিঙ্গাদের জন্য আরও আন্তর্জাতিক তহবিল গঠনে নতুন অংশীদার খুঁজুন: আইওএমের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী
৬৬৮ দিন আগে
রোহিঙ্গাদের জন্য আরও আন্তর্জাতিক তহবিল গঠনে নতুন অংশীদার খুঁজুন: আইওএমের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী
রোহিঙ্গাদের জন্য আন্তর্জাতিক তহবিল বাড়াতে নতুন অংশীদার খুঁজতে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, ‘যেহেতু রোহিঙ্গাদের জন্য সহায়তা হ্রাস পেয়েছে, তাই আইওএমের উচিৎ তাদের জন্য আরও তহবিল সংগ্রহের জন্য নতুন অংশীদারদের সন্ধান করা।’
আজ মঙ্গলবার (৭ মে) আইওএম মহাপরিচালক অ্যামি পোপ প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ আহ্বান জানান।
সাক্ষাৎ শেষে প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার মো. নজরুল ইসলাম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।
আরও পড়ুন: রোহিঙ্গাদের স্বদেশে প্রত্যাবাসনে ইন্দোনেশিয়া ও আইওএমের সহযোগিতার আহ্বান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর
রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সহায়তায় আন্তর্জাতিক তহবিল উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাওয়ায় সাক্ষাৎকালে তারা রোহিঙ্গা মানবিক সংকট মোকাবিলায় জাতিসংঘের ‘জয়েন্ট রেসপন্স প্ল্যান’ নিয়ে আলোচনা করেন।
শেখ হাসিনা আইওএমকে কক্সবাজারের শিবির থেকে ভাসানচরে (দ্বীপ) স্থানান্তরে সহায়তা করার জন্য আইওএমকে বলেন, ভাসানচরে প্রায় এক লাখ মানুষের জন্য আত্মকর্মসংস্থান, তাদের সন্তানদের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং অবকাঠামোসহ আবাসন ও জীবিকার সুবিধা রয়েছে।
ইতোমধ্যে কক্সবাজারের ক্যাম্প থেকে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার রোহিঙ্গা ভাসানচরে স্থানান্তরিত হয়েছেন।
আরও পড়ুন: জনগণের পাশে দাঁড়ানোর কারণেই আস্থা অর্জন করেছে সেনাবাহিনী: প্রধানমন্ত্রী
সোমবার কক্সবাজার রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে গিয়ে আইওএম মহাপরিচালক রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিরাপত্তার বিষয়টি তুলে ধরেন।
এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমারে সংঘাত অব্যাহত রয়েছে এবং কক্সবাজারের জনাকীর্ণ শিবিরে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীও বিভিন্ন গ্রুপ ও উপ-গ্রুপে বিভক্ত। তাই তারা অভ্যন্তরীণ কোন্দলে জড়িয়ে পড়েছে।
তিনি বলেন, এছাড়া রোহিঙ্গারা সংখ্যায় কক্সবাজারের স্থানীয় জনগোষ্ঠীকেও ছাড়িয়ে গেছে। তাই সেখানে সীমিত সম্পদের জন্য দ্বন্দ্ব রয়েছে।
তিনি বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পর্যাপ্ত সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: ঢাকা সেনানিবাসে এএফআইপি ও সেনা প্রাঙ্গণ ভবন উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী
৬৬৮ দিন আগে
জনগণের পাশে দাঁড়ানোর কারণেই আস্থা অর্জন করেছে সেনাবাহিনী: প্রধানমন্ত্রী
জনগণের পাশে দাঁড়িয়েই সেনাবাহিনী তাদের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, 'আমাদের সেনাবাহিনী এখন জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছে এবং জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করেছে।’
রবিবার ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে আয়োজিত দরবারে প্রদত্ত ভাষণে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী ঢাকা সেনানিবাসে নবনির্মিত আর্মড ফোর্সেস ইনস্টিটিউট অব প্যাথলজি (এএফআইপি) ভবন ও সেনা প্রাঙ্গণ (আর্মি সেন্ট্রাল অডিটোরিয়াম) ভবন উদ্বোধন করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৫ সালের আগস্টের পর সাধারণ মানুষ সেনাবাহিনীর ওপর আস্থা ও বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছিল। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যাকাণ্ডে কয়েকজন বিপথগামী সেনা সদস্যের ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
১৯৯৬ সালে প্রথমবার ক্ষমতায় আসার পর থেকে সেনাবাহিনীর প্রতি জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস ফিরিয়ে আনার পদক্ষেপ নিয়েছেন বলে জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'আমি আমাদের সেনাবাহিনী সম্পর্কে জনগণের মধ্যে আস্থা ও বিশ্বাস সৃষ্টির চেষ্টা করেছি, যা (তাদের নিজ দেশের) স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার করতে দেশের সেনাবাহিনীর জন্য অত্যন্ত অপরিহার্য।’
আরও পড়ুন: ঢাকা সেনানিবাসে এএফআইপি ও সেনা প্রাঙ্গণ ভবন উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী
যেকোনো প্রতিকূল পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে সেনাবাহিনী এখন জনগণের পাশে থাকবে বলে জানান শেখ হাসিনা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রণীত প্রতিরক্ষা নীতি ১৯৭৪-এর আলোকে ফোর্সেস গোল-২০৩০ প্রণয়ন করেছে।
এখন আওয়ামী লীগ সরকার দেশের সশস্ত্র বাহিনীকে আধুনিক ও সর্বাধুনিক প্রযুক্তিতে সুসজ্জিত করে গড়ে তোলার কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে আমাদের সশস্ত্র বাহিনীকে আধুনিক প্রযুক্তিগত জ্ঞান অর্জনে যোগ্য হিসেবে গড়ে তোলা। আমরা সে অনুযায়ী কাজ করে যাচ্ছি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অসামান্য অবদানের জন্য বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী বিশ্বে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত। এখন তার সরকারের লক্ষ্য সশস্ত্র বাহিনীর ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করা।
সেনাবাহিনীর কেন্দ্রীয় মিলনায়তন প্রাঙ্গণে একটি গাছের চারা রোপণ করেন প্রধানমন্ত্রী।
আরও পড়ুন: সাধারণ রোগীর মতো জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে চিকিৎসা নিলেন প্রধানমন্ত্রী
৬৭০ দিন আগে
ঢাকা সেনানিবাসে এএফআইপি ও সেনা প্রাঙ্গণ ভবন উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী
ঢাকা সেনানিবাসে নবনির্মিত আর্মড ফোর্সেস ইনস্টিটিউট অব প্যাথলজি (এএফআইপি) ভবন এবং সেনা প্রাঙ্গণ (আর্মি সেন্ট্রাল অডিটোরিয়াম) ভবনের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
রবিবার (৫ মে) প্রধানমন্ত্রী ঢাকা সেনানিবাসে বহুতল এএফআইপি ভবন এবং সেনা প্রাঙ্গণ ভবনের নামফলক উন্মোচন করেন।
প্রধানমন্ত্রী ফিতা কেটে এএফআইপি ভবনে প্রবেশ করেন এবং নতুন ভবনের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পরিদর্শন করেন।
আরও পড়ুন: উপজেলা নির্বাচন প্রভাবিত করবেন না: মন্ত্রী-এমপিদের প্রধানমন্ত্রী
এএফআইপি কমান্ড্যান্ট মেজর জেনারেল ডা. নিশাত জোবাইদা নতুন ভবনের মূল বৈশিষ্ট্য ও সুযোগ-সুবিধা প্রধানমন্ত্রীকে তুলে ধরেন।
২০১৯ সালে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) প্যাথলজি সেবার ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে 'আর্মড ফোর্সেস ইনস্টিটিউট অব প্যাথলজি (এএফআইপি)' সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন শীর্ষক প্রকল্পটি অনুমোদন করে।
২০২৪ সালের ডিসেম্বরের নির্ধারিত সময়ের আগেই প্রকল্পটির বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
১৪ তলা বিশিষ্ট এএফআইপি ভবনে আধুনিক ল্যাবরেটরিতে রয়েছে যেখানে আন্তর্জাতিক মানের সেবা নিশ্চিত করতে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি যেমন নেক্সট জেনারেশন সিকোয়েন্সিং, অটোমেটেড মাইক্রোবিয়াল আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম, ট্রান্সমিশন ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপ ও মাল্টিহেডেড মাইক্রোস্কোপ স্থাপন করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: আমাকে হটিয়ে তারা কাকে ক্ষমতায় আনতে চায়: বামপন্থীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্ন
এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ এবং নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান উপস্থিত ছিলেন।
এরপর প্রধানমন্ত্রী সেনা প্রাঙ্গণ উদ্বোধন করতে যান এবং ফিতা কেটে নতুন ভবনে প্রবেশ করেন।
সেনাবাহিনীর কেন্দ্রীয় মিলনায়তন সেনা প্রাঙ্গণ গুরুত্বপূর্ণ সভা, সেমিনার ও সামাজিক অনুষ্ঠানের মতো জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য নির্মিত হয়েছে।
এ সময় সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদসহ ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ সুরক্ষা ও আঞ্চলিক সম্পৃক্ততা বৃদ্ধিতে থাইল্যান্ড সফর ফলপ্রসূ হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী
৬৭০ দিন আগে
উপজেলা নির্বাচন প্রভাবিত করবেন না: মন্ত্রী-এমপিদের প্রধানমন্ত্রী
আসন্ন উপজেলা নির্বাচন প্রভাবিত না করার বিষয়ে নিজ দলের মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের সতর্ক করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
গতকাল বৃহস্পতিবার (২ মে) জাতীয় সংসদ ভবনে ক্ষমতাসীন দলের সভাকক্ষে আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের বৈঠকে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
তিনি বলেন, যারা দলের নির্দেশনা অমান্য করে উপজেলা নির্বাচনে পরিবার-পরিজন ও আত্মীয়-স্বজনকে মাঠে নামিয়েছেন, ভবিষ্যতে তাদেরকে তাদের সঙ্গে থাকতে হবে।
আরও পড়ুন: বিলাসিতায় খরচ কমিয়ে শ্রমিকদের বেশি বেতন দিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী
বৈঠকে উপস্থিত আওয়ামী লীগের একজন সংসদ সদস্য শেখ হাসিনাকে উদ্ধৃত করে বলেন, ‘তারা জনগণের ভোট পাবে না।’
তিনি উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে প্রশাসনকে সর্বাত্মক সহযোগিতা দিতে দলীয় কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেন।
আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংসদ সদস্যদের আত্মীয়রা উপজেলা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে এটা খুবই খারাপ।
আরেক সংসদ সদস্য তাকে উদ্ধৃত করে বলেন, ‘তাদের এটা করা ঠিক নয়। দলের কর্মীরা কী করবেন? দলের নেতা-কর্মীদের যথাযথ সম্মান ও জায়গা করে দিতে হবে।’
আরও পড়ুন: বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ সুরক্ষা ও আঞ্চলিক সম্পৃক্ততা বৃদ্ধিতে থাইল্যান্ড সফর ফলপ্রসূ হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী
যারা দলের নির্দেশ অমান্য করে উপজেলা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দেন প্রধানমন্ত্রী।
আওয়ামী লীগের একজন সংসদ সদস্য বলেন, প্রধানমন্ত্রী তাদের বলেছেন যে দলটি সবার।
তিনি প্রধানমন্ত্রীকে উদ্ধৃত করে বলেন, ‘আওয়ামী পরিবারকে আরও বড় করতে হবে। শুধুমাত্র সংসদ সদস্যদের আত্মীয়-স্বজন নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য লড়বে এটা মোটেই ভালো দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করবে না, সবার সমান সুযোগ পাওয়া উচিৎ।’
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৭৫ সালের পর দেশে সবচেয়ে সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছে গত ৭ জানুয়ারি। উপজেলা নির্বাচনেও এমন ভোট চাই।’
দলীয় সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার অনুমতি নিয়ে অনেকেই স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। তাদের জন্য কোনো ধরনের সমস্যা তৈরি করবেন না।
আরও পড়ুন: আমাকে হটিয়ে তারা কাকে ক্ষমতায় আনতে চায়: বামপন্থীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্ন
৬৭২ দিন আগে
আমাকে হটিয়ে তারা কাকে ক্ষমতায় আনতে চায়: বামপন্থীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্ন
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের বামপন্থী দলগুলোর উদ্দেশে প্রশ্ন করেছেন, তাকে ক্ষমতাচ্যুত করে তারা কাকে ক্ষমতায় আনতে চায়।
তিনি বলেন, ‘বামপন্থীরা ৯০ ডিগ্রি ঘুরে দাঁড়িয়েছে। তারা আমাকে ক্ষমতাচ্যুত করতে চায়। কিন্তু তারা কি নির্ধারণ করতে পারবে এরপর কে আসবে? এটা আমার প্রশ্ন। কে ক্ষমতায় আসবে আর কে দেশের জন্য কাজ করবে? কিন্তু তারা কাকে আনতে চায় তা স্পষ্ট নয়।’
সম্প্রতি থাইল্যান্ডে ছয় দিনের সফর শেষে গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বামপন্থীরা কাকে পরবর্তীতে ক্ষমতায় আনতে চায় তা যেহেতু পরিষ্কার নয়, তাই তারা কেউই জনগণের কাছ থেকে সাড়া পান না।
তিনি বলেন, হ্যাঁ, আন্দোলন চলছে। পলাতক হয়ে বিদেশের মাটিতে অবস্থান করে কেউ আন্দোলন করছে এবং তার সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশের বদৌলতে প্রতিদিন অনলাইনে নানা নির্দেশ দিচ্ছে।
তিনি বলেন, 'যারা আন্দোলন করছে, তাদের করতে দিন। আমরা অন্তত এতে বাধা দিচ্ছি না।’
ফিলিস্তিনে ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে চলমান বিক্ষোভ দমনে যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমেরিকান স্টাইলে বাংলাদেশের পক্ষে এখন এখানে আন্দোলন বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি আমাদের পুলিশ এখন আমেরিকান পুলিশকে অনুসরণ করতে পারে। আমরা তাদের (বাংলাদেশ পুলিশ) ধৈর্য ধরতে বলেছি্।’
তিনি আরও বলেন, গত বছরের অক্টোবরে তাদের সদস্যকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছিল।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তাই আমাদের পুলিশ আমেরিকান স্টাইলে চলাচল ঠেকাতে ব্যবস্থা নিতে পারে।’
অপর এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, চলমান উপজেলা নির্বাচনকে অর্থবহ করাই তার সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অনেক রাজনৈতিক দল নির্বাচন বর্জন করেছে। কারণ তাদের নির্বাচন করার সক্ষমতা নেই।
আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘কেন তারা নির্বাচন বর্জন করে? এর কারণ হচ্ছে তাদের আসলে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সক্ষমতা নেই।’
থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী শ্রেষ্ঠ থাভিসিনের আমন্ত্রণে ২৪ এপ্রিল শুরু হওয়া সফর শেষ করে ২৯ এপ্রিল দেশে ফিরে আসেন প্রধানমন্ত্রী।
৬৭৩ দিন আগে
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ সুরক্ষা ও আঞ্চলিক সম্পৃক্ততা বৃদ্ধিতে থাইল্যান্ড সফর ফলপ্রসূ হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষা এবং আঞ্চলিক সম্পৃক্ততা বাড়াতে বাংলাদেশের বিশেষ প্রচেষ্টা হিসেবে তার সাম্প্রতিক থাইল্যান্ড সফর সফল ও ফলপ্রসূ হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ সুরক্ষা এবং আঞ্চলিক সম্পৃক্ততা বৃদ্ধির জন্য বাংলাদেশের বিশেষ প্রয়াস হিসেবে এ সফরটি সফল ও ফলপ্রসূ হয়েছে বলে আমি মনে করি।’
আজ বৃহস্পতিবার (২ মে) প্রধানমন্ত্রী তার সরকারি বাসভবন গণভবনে সাম্প্রতিক ৬ দিনের থাইল্যান্ড সফরের ফলাফল জানাতে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
আরও পড়ুন: থাইল্যান্ড সফর নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন প্রধানমন্ত্রী
৬ দিনের থাইল্যান্ড সফর শেষে ২৯ এপ্রিল ব্যাংকক থেকে দেশে ফেরেন প্রধানমন্ত্রী।
দু'দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারে থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী স্রেথা থাভিসিনের আমন্ত্রণে ২৪ এপ্রিল দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সফরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা থাইল্যান্ড যান।
শেখ হাসিনা বলেন, থাইল্যান্ডে তার সরকারি সফর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।
তিনি বলেন, ‘এটি আমাদের দুই দেশের মধ্যে ফলপ্রসূ অংশীদারিত্বের এক নতুন যুগের সূচনা করেছে।’
আরও পড়ুন: বিলাসিতায় খরচ কমিয়ে শ্রমিকদের বেশি বেতন দিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী
শেখ হাসিনা বলেন, আসিয়ানের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য রাষ্ট্র থাইল্যান্ডে বাংলাদেশের সরকার প্রধানের সরকারি সফর অত্যন্ত তাৎর্পযর্পূণ।
তিনি বলেন, ‘সফরে দ্বিপক্ষীয় ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধিসহ, মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা শুরুর বিষয়ে অগ্রগতি, আন্তঃযোগাযোগ বৃদ্ধি প্রভৃতি দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সম্পর্ক সুদৃঢ়করণে বিশেষ গুরুত্ব পালন করবে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশের আসিয়ানের ‘সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার’ এর প্রার্থীতা লাভের জন্য এ সফর উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা যায়।
তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অনুষ্ঠিত আলোচনা থাইল্যান্ডকে দ্বিপক্ষীয়ভাবে এবং আঞ্চলিক জোট আসিয়ানে রোহিঙ্গাদের দ্রুত প্রত্যাবাসনে জোরালো অবস্থান নেওয়ায় সহায়তা করবে মর্মে আমি আশাবাদী।’
আরও পড়ুন: সরকারের পদক্ষেপে বেকারত্ব ৩ শতাংশে নেমে এসেছে: প্রধানমন্ত্রী
৬৭৩ দিন আগে
থাইল্যান্ড সফর নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার সাম্প্রতিক ৬ দিনের থাইল্যান্ড সফর নিয়ে আজ বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘বেলা সাড়ে ১১টায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে এ সংবাদ সম্মেলন শুরু হয়।’
৬ দিনের থাইল্যান্ড সফর শেষে ২৯ এপ্রিল ব্যাংকক থেকে দেশে ফেরেন প্রধানমন্ত্রী।
দু'দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারে থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী স্রেথা থাভিসিনের আমন্ত্রণে ২৪ এপ্রিল দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সফরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা থাইল্যান্ড যান।
আরও পড়ুন: ৬ দিনে সফর শেষে ঢাকায় ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী
৬৭৩ দিন আগে
বিলাসিতায় খরচ কমিয়ে শ্রমিকদের বেশি বেতন দিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী
শ্রমিক ও কারখানা মালিকদের নিজেদের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রেখে উৎপাদন বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বুধবার (১ মে) বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে মহান মে দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এই আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, 'আসুন আমরা একসঙ্গে কাজ করি এবং দেশকে এগিয়ে নিই।’
শেখ হাসিনা বলেন, অর্থনীতির অগ্রগতির স্বার্থে এবং মুনাফা অর্জনে মালিকদেরকে শ্রমিকদের সঠিকভাবে যত্ন নিতে হবে।
তিনি বলেন, কল-কারখানার মালিকরা যদি মুনাফা বাড়াতে চান, তাহলে তাদের শ্রমিকদের দেখাশোনা করতে হবে।
মালিকদের একটু বিলাসিতা কমিয়ে জমানো টাকা দিয়ে শ্রমিকদের দেখভাল করার অনুরোধ জানান তিনি।
তিনি বলেন, 'আমি মালিকদের বলব, আপনারা কারখানা তৈরি করুন, মুনাফার জন্য বিনিয়োগ করুন। আমি চাই মালিকরা তাদের বিলাসিতা একটু কমিয়ে সেই টাকা দিয়ে শ্রমিকদের দেখভাল করবেন।’
তিনি শ্রমিকদের দায়িত্বশীলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘এসব কল-কারখানা তাদের রুটি ও জীবিকা নির্বাহের সুযোগ করে দিয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘এসব কারখানায় শ্রমিকদের কর্মসংস্থান হয়েছে। কারখানাগুলো আপনাকে কাজ এবং জীবিকা, আয় রোজগারের সুযোগ দিচ্ছে। উভয়েরই নিজ নিজ দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে।’
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের হস্তক্ষেপ বদলে দিয়েছে একজন রিকশাচালকের জীবন
প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, যদি কোনো সমস্যা দেখা দেয়, তা সমাধানের জন্য সরকার রয়েছে।
তিনি বলেন, 'কোনো সমস্যা হলে দয়া করে জানাবেন। কিন্তু অন্যের দ্বারা প্ররোচিত হয়ে আপনার জন্য আয় ও জীবিকা নিয়ে আসা কারখানাগুলো ধ্বংস করবেন না। এ ব্যাপারে আপনাদের সতর্ক থাকতে হবে।’
যেকোনো সমস্যা সমাধানে যা যা করা দরকার তা করার আশ্বাস দেন তিনি।
তিনি বলেন, 'যেকোনো সমস্যা সমাধানের জন্য যা যা করা দরকার আমরা অবশ্যই তা করব। জাতির কাছে এটা আমাদের অঙ্গীকার। আমরা সেটা করছি এবং এটা অব্যাহত রাখব।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, সমাধান খুঁজতে হলে দ্বারে দ্বারে ছুটে যাওয়ার প্রয়োজন নেই।
তিনি বলেন, 'এটা আমাদের দেশ এবং আমরা এই দেশের মাটি ও মানুষকে খুব ভালো করে জানি। এ দেশের মানুষের ভাগ্য কীভাবে পরিবর্তন করতে হয় তা আমাদের চেয়ে ভালো কেউ জানে না।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে কিছু ভাড়াটে লোক আছে যারা সবসময় যে কোনো খোঁড়া অজুহাতে শ্রমিকদের রাস্তায় নামিয়ে আনে।
তিনি বিশ্বের তৈরি পোশাক ক্রেতাদের মূল্যস্ফীতি বিবেচনায় নিয়ে পণ্যের দাম বাড়ানোর আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, 'আপনারা যদি তা করেন তাহলে আমি তৈরি পোশাক কারখানার মালিকদের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারব, যাতে তারা শ্রমিকদের আরও সুবিধা দেয়।’
আরও পড়ুন: আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি সত্ত্বেও শ্রমিকদের মজুরি থেকে বঞ্চিত করলে ছাড় দেওয়া হবে না: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে দেশের শ্রমশক্তিকে আরও দক্ষ করে গড়ে তোলা।
তিনি বলেন, ‘আমরা দক্ষ জনশক্তি তৈরি করতে চাই। শ্রমিকদের সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে আমরা ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছি।’
শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নজরুল ইসলাম চৌধুরী, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এইচ এম ইব্রাহিম, বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) কান্ট্রি ডিরেক্টর টুমো পৌটিয়ানেন, বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের সভাপতি আরদাশীর কবির, জাতীয় শ্রমিক লীগের সভাপতি নূর কুতুব আলম মান্নান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব এম মাহবুব হোসেন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।
অনুষ্ঠানে মহান মে দিবসের ওপর একটি ভিডিও ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে দুস্থ শ্রমিকদের মাঝে চেক বিতরণ করা হয়।
শ্রমিকদের পরিবেশিত একটি বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয় এবং প্রধানমন্ত্রী তা উপভোগ করেন।
আরও পড়ুন: সরকারের পদক্ষেপে বেকারত্ব ৩ শতাংশে নেমে এসেছে: প্রধানমন্ত্রী
৬৭৪ দিন আগে