রাজনীতি
জাতিসংঘের নির্বাচনী চাহিদা মূল্যায়ন মিশনের সঙ্গে জামায়াতের বৈঠক
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহেরের নেতৃত্বে ৪ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে সফররত জাতিসংঘের নির্বাচনী চাহিদা মূল্যায়ন মিশনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।
সোমবার (২০ জানুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টায় জাতিসংঘের আবাসিক কার্যালয়ে এই বৈঠক করেন তারা।
জাতিসংঘ মিশনের প্রতিনিধি দলে ছিলেন রাজনৈতিক বিষয়ক কর্মকর্তা, জাতিসংঘের রাজনৈতিক ও শান্তি প্রতিষ্ঠা বিষয়ক বিভাগ এবং নির্বাচনী সহায়তা বিভাগের সারা পিট্রোপাওলি; রাজনৈতিক বিষয়ক কর্মকর্তা, এশিয়া প্যাসিফিক বিভাগ, জাতিসংঘের রাজনৈতিক ও শান্তি প্রতিষ্ঠা বিষয়ক বিভাগ এবং শান্তিরক্ষা কার্যক্রম বিভাগের আদিত্য অধিকারী, ডিজিটাল যুগে অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রতিষ্ঠান এবং প্রক্রিয়া (ইউএনডিপি) উপদেষ্টা নাজিয়া হাশেমি।
জামায়াতে ইসলামীর প্রতিনিধি দলে ছিলেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ।
আরও পড়ুন: চাঁদাবাজি-দখলদারির বিরুদ্ধে আমাদের যুদ্ধ চলবে: জামায়াতের আমির
৫৬০ দিন আগে
দ্রুত নির্বাচন দিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি বিএনপির আহ্বান
শান্তিপূর্ণভাবে জনপ্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরে দ্রুত একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন।
বিএনপির এই নেতা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে হুঁশিয়ার করে বলেন, ‘দেশের জনগণ বিদ্রোহের মাধ্যমে এইচ এম এরশাদ ও শেখ হাসিনা সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করেছে, কারণ তাদের ভোটের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।’
খন্দকার মোশাররফ বলেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদ কখনোই অনির্দিষ্ট থাকবে না। এক পর্যায়ে তাদের চলে যেতে হয়। জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা যদি শান্তিপূর্ণভাবে ও মর্যাদার সঙ্গে চলে যেতে চায় তাহলে তাদের অবশ্যই নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে।’
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৮৯তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে সোমবার (২০ জানুয়ারি) ঢাকা মেডিকেল কলেজের (মেডিকেল) মিলন মিলনায়তনে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) আয়োজিত 'শহীদ জিয়া ও বহুদলীয় গণতন্ত্র ও বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট' শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, তাদের দল অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের পর থেকেই সমর্থন দিয়েছে। একই সঙ্গে যাতে তারা যত তারাতারি সম্ভব সংস্কার প্রক্রিয়া শেষ করে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে সেই আহ্বান জানিয়ে আসছে।
আরও পড়ুন: নির্বাচন নিয়ে ধানাই-পানাই শোনার জন্য আন্দোলন করিনি: মিন্টু
তিনি বলেন, ‘সরকার যদি এটা করে তাহলে দেশের মানুষ শান্তি ও স্বাচ্ছন্দ্যে ভবিষ্যৎ সরকারকে সহযোগিতা করতে পারবে এবং দেশকে এগিয়ে নিতে সহায়তা করতে পারবে।’
তিনি বলেন, সরকার সংস্কারের কথা বলছে, কিন্তু কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়ে সব সংস্কার করা যাবে না। কারণ এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া।
বিএনপির এই নেতা বলেন, সরকারের আহ্বানে সাড়া দিয়ে তার দল সংস্কার প্রস্তাব জমা দিয়েছে। ‘সরকারের এখন উচিত সব দলের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সংস্কার প্রস্তাবগুলো চূড়ান্ত করা এবং সেগুলো বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া।’
খন্দকার মোশাররফ বলেন, এই প্রশাসন যে সংস্কার বাস্তবায়ন করতে পারবে না। যে সংস্কারগুলো বাকী থাকবে সেগুলো পরবর্তী সরকার সম্পন্ন করতে পারে। ‘সুতরাং এই সরকার যদি শান্তিপূর্ণভাবে ও মর্যাদার সঙ্গে বিদায় নিতে চায়, তাহলে আর দেরি না করে সংস্কার কাজ সম্পন্ন করে নির্বাচনের ব্যবস্থা করে জনপ্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করা অপরিহার্য।’
বিএনপির এই আরও নেতা বলেন, বাংলাদেশের জনগণ ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে ভোটের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তন করেছিল কারণ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।
তবে তিনি বলেন, যখনি ভোটাধিকার বাধাগ্রস্ত হয়েছে, তখনি এদেশের ছাত্র ও জনগণ গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে এরশাদ-হাসিনাসহ বিভিন্ন সরকারকে উৎখাত করেছে।
তিনি বলেন, ‘তাই আমরা বর্তমান সরকারকে অনুরোধ করব, এসব বাস্তবতা অনুধাবন করে স্থায়ী সমাধানের জন্য অতি শিগগিরই একটি নির্বাচনের ব্যবস্থা করুন।’
আরও পড়ুন: সংস্কার ও নির্বাচনের মধ্যে কোনো বিরোধ নেই: ফখরুল
৫৬০ দিন আগে
যেকোনো মূল্যে ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়া হবে: সিইসি
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাছির উদ্দিন বলেছেন, যেকোনো মূল্যে জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়া হবে।
সোমবার (২০ জানুয়ারি) সকালে সাভার উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম-২০২৫ উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন।
সিইসি বলেন, ‘সুযোগের অভাবে মানুষ ভোট দেওয়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে। আমরা তাদের দুঃখ দূর করার লক্ষ্য নিয়েছি।’
নাসির উদ্দিন বলেন, ভোটের অধিকার তখনই প্রতিষ্ঠিত হবে, যখন সাধারণ মানুষ নির্ভয়ে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবেন।
অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনাররা তথ্য সংগ্রহকারীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। কারণ, সর্বশেষ হালনাগাদ কর্মসূচিতে নারী ভোটারের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কম ছিল।
একই সঙ্গে দুই জায়গায় ভোট দেওয়া ভোটারদের বিরুদ্ধেও সতর্ক করেছেন তারা।
বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ অভিযান চলবে ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এবং যোগ্য ভোটারদের বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ করা হবে ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত।
মাঠ পর্যায়ের তথ্য সংগ্রহ অভিযানের সময় গণনাকারীরা ২০০৮ সালের ১ জানুয়ারি ও তার আগে জন্মগ্রহণকারী যোগ্য ভোটারদের তথ্য সংগ্রহ করবেন।
এছাড়া ভোটার তালিকায় বিদ্যমান ঠিকানা পরিবর্তনের জন্য ভোটারদের কাছ থেকে আবেদনপত্র গ্রহণ এবং তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়োর জন্য মৃত ভোটারদের তথ্যও সংগ্রহ করবেন গণনাকারীরা।
আরও পড়ুন: আওয়ামী লীগের নিবন্ধন থাকবে কিনা ‘সময় বলে দিবে’: সিইসি
নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রমের ওপর ৬৬ হাজারের বেশি মানুষ প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের মধ্যে ৫৫ হাজার ১৬ জন গণনাকারী এবং ১১ হাজার ৮০১ জন সুপারভাইজার রয়েছেন।
২০২৬ সালের ২ জানুয়ারি নতুন ভোটারদের নাম অন্তর্ভুক্ত করে হালনাগাদ ভোটার তালিকার খসড়া প্রকাশ করবে ইসি। দাবি ও আপত্তি পুনর্বিবেচনার পর কমিশন ২০২৬ সালের ২ মার্চ চূড়ান্ত ভোটার তালিকা তৈরি করবে।
তথ্য সংগ্রহ অভিযানে নিয়োজিত কর্মকর্তা ও গণনাকারীদের জন্য সম্প্রতি ১৬টি নির্দেশনা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে নির্বাচন কমিশন।
নির্দেশনার মধ্যে রয়েছে- ২০০৮ সালের ১ জানুয়ারি বা তার আগে যাদের জন্ম কিন্তু ভোটার তালিকার বাইরে রয়েছেন তাদের তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ, অতীতে ভোটার হয়েছেন কিনা তা নিশ্চয়তা, সম্ভাব্য ভোটারদের নামের বানান বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভাষাতেই লিখে রাখা এবং রোহিঙ্গা ও বিদেশি নাগরিকদের তথ্য যাতে কোনোভাবেই সংগ্রহ করা না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকা।
বিদ্যমান ভোটার তালিকা অনুযায়ী (২ মার্চ ২০২৪ তারিখে প্রকাশিত) দেশে মোট ভোটার ১২ কোটি ১৮ লাখ ৫০ হাজার জন।
আরও পড়ুন: সন্দেহ দূর করতে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করা হচ্ছে: সিইসি
৫৬০ দিন আগে
নির্বাচন নিয়ে ধানাই-পানাই শোনার জন্য আন্দোলন করিনি: মিন্টু
বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ও বরিশাল বিভাগীয় নেতা আব্দুল আউয়াল মিন্টু বলেছেন, আমরা নির্বাচন নিয়ে ধানাই-পানাই শোনার জন্য আন্দোলন করিনি, বরং স্বৈরাচার হটানোর এই আন্দোলনের একটাই লক্ষ্য ছিল—জনগণের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা। দেশের সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিতের প্রথম কাজ হচ্ছে নির্বাচন।
রবিবার (১৯ জানুয়ারি) জিয়াউর রহমানের ৮৯তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মিন্টু বলেন, ‘একজন বলে বছরের শেষেই নির্বাচন, আরেকজন বলে সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন পেয়ে কথাবার্তার পরে নির্বাচনের তারিখ জানানো হবে। আমরা কিন্তু নির্বাচন নিয়ে ধানাই-পানাই শোনার জন্য আন্দোলন করিনি।
আরও পড়ুন: জিয়ার জন্মবার্ষিকীতে বিএনপির শ্রদ্ধা নিবেদন
‘গত ১৭ বছর আন্দোলন করেছি, এখনও করছি। এই আন্দোলন দেশের মানুষের সাংবিধানিক, মৌলিক, ভোটের অধিকার ফেরত না পাওয়া পর্যন্ত চলবে। এসব অধিকার নিশ্চিতের প্রথম কাজ হচ্ছে নির্বাচন।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য ছিল আওয়ামী সরকারের পতনের মধ্য দিয়ে জনগণের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা। সংগ্রামের প্রাথমিক বিজয় পেয়েছি। এবার মূল লক্ষ্য পূরণ করতে হলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’
বরিশাল বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘স্বৈরাচার হটানোর আন্দোলনে বিএনপির অবদানকে কারও স্বীকৃতি দিতে হবে না। গত ১৭ বছর ধরে বিএনপির নেতাকর্মীরা বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনর্প্রতিষ্ঠায় অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছেন। ৬২ লাখ (বিএনপি) নেতাকর্মীর নামে মিথ্যা ও প্রহসনমূলক মামলা হয়েছে। এসব মামলার সংখ্যা ১ লাখ ৬০ হাজারের বেশি। এগুলো ইতিহাস থেকে কেউ মুছে ফেলতে পারবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘যদি কেউ মনে করে আমাদের ১৭ বছরের সংগ্রামের পরিবর্তে এক-দেড় মাসের আন্দোলনে একটা সরকারকে ফেলে দিয়েছি, তাহলে তারা বোকার স্বর্গে বাস করেন। আমাদের স্বীকৃতি ভোটের মাধ্যমে দেবে জনগণ।’
আরও পড়ুন: আলমডাঙ্গায় বিএনপি নেতাকে দুর্বৃত্তের এলোপাতাড়ি কোপ
দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবুল কালাম শাহিনের সভাপতিত্বে আরও বক্তৃতা দেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান, মাহাবুবুল হক নান্নু, সদস্য এস সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু ও আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ।
৫৬১ দিন আগে
সংস্কার ও নির্বাচনের মধ্যে কোনো বিরোধ নেই: ফখরুল
সংস্কার ও নির্বাচনের মধ্যে কোনো বিরোধ নেই এবং দুটোই একসঙ্গে চলতে পারে বলে এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, ‘সংস্কারও চলবে, নির্বাচন হবে এবং যে সরকার আসবে, তারা সংস্কারগুলো এগিয়ে নিয়ে যাবে।’
রবিবার (১৯ জানুয়ারি) জিয়াউর রহমানের ৮৯তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
বিএনপির এই নেতা আশ্বস্ত করে বলেন, ‘আমাদের দলের পক্ষ থেকে পরিষ্কার করে বলতে পারি, প্রতিটি সংস্কারকে (যদি সরকার গঠন করি) এগিয়ে নিয়ে যাব।’
এ সময় চার সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনের বিষয়ে জানতে চাইলে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি বিএনপি মহাসচিব।
তিনি বলেন, ‘আমরা এ বিষয়ে এখনই কোনো মন্তব্য করতে চাই না। কারণ পুরো রিপোর্ট এখনও আমাদের কাছে এসে পৌঁছায়নি। সরকার যেটা বলেছে এবং পরিকল্পনা করেছে—এই রিপোর্টগুলো পাওয়ার পর রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করবে, তার পরেই সিদ্ধান্ত হবে। ঐকমত্য ছাড়া কোনোকিছুই গ্রহণযোগ্য হবে না।’
আরও পড়ুন: আগামী নির্বাচনে ঋণখেলাপিদের মনোনয়ন না দিতে সতর্ক থাকবে বিএনপি
তিনি বলেন, ‘একইসঙ্গে আমরা সব মানুষের মধ্যে শক্তিশালী ঐক্য কামনা করি এবং আশা করি যে আমরা শিগগিরই একটি নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রে ফিরে আসতে পারব, একটি সঠিক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে পারব।’
এর আগে, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন মির্জা ফখরুল।
এদিন বেলা সোয়া ১১টার দিকে মির্জা ফখরুলের নেতৃত্বে বিএনপির ও দলটির অঙ্গ সংগঠনের কয়েক হাজার নেতাকর্মী শেরেবাংলা নগরে দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
এ সময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আযম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আমানউল্লাহ আমান, জয়নুল আবদিন ফারুক, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, কেন্দ্রীয় নেতা খায়রুল কবির খোকন, আবদুস সালাম, কামরুজ্জামান রতন, মীর সরাফত আলী, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, সাইফুল আলম নীরব, ডা. রফিকুল আলম মঞ্জু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: জিয়ার জন্মবার্ষিকীতে বিএনপির শ্রদ্ধা নিবেদন
৫৬১ দিন আগে
রক্ত ঝরলেও সীমান্ত সুরক্ষিত থাকবে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
রক্ত ঝরলেও দেশের সীমান্ত সুরক্ষিত থাকবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। রবিবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে তেজগাঁওয়ের ভূমি ভবনে বিসিএস ক্যাডার ও জুডিশিয়াল সার্ভিস কর্মকর্তাদের সার্ভে ও সেটেলমেন্ট প্রশিক্ষণের সনদপত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।উপদেষ্টা বলেন, ‘দেশের সীমান্ত সুরক্ষিত আছে। সীমান্তের নিরাপত্তা জোরদার করতে আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। রক্ত ঝরলেও সীমান্ত সুরক্ষিত থাকবে। আমাদের পাশে এখন জনগণ আছে। সীমন্তের নিরাপত্তা নিয়ে আগে কোনো ব্যবস্থা বা পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এখন সেটা করা হচ্ছে বলেই সমস্যা সামনে আসছে।’
‘বর্ডারে ঝামেলা হচ্ছে। তবে বিজিবি সবসময় সতর্ক রয়েছে। সীমান্ত সম্পূর্ণরূপে সুরক্ষিত। সীমান্তে ওপারের কেউ আসতে পারবে না। রক্ত ঝরবে, কিন্তু সীমান্ত সুরক্ষিত থাকবে।’
এ সময়ে উপদেষ্টাদের নামে কেউ সুযোগ-সুবিধা নিতে চাইলে তাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়ার অনুরোধ জানান তিনি। বলেন, ‘চাকরি হারানোর ভয় না থাকলে সিভিল সার্ভিস কর্মীরা সেবাদানে অনীহা দেখায়। শৃঙ্খলা থাকলে ক্যাডারদের মধ্যে রাজনীতি থাকত না।’
আরও পড়ুন: সীমান্তে কোনো উত্তেজনা নেই: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাদুর্নীতিকে বাংলাদেশের একটি প্রধান সমস্যা আখ্যায়িত করে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা দাবি করেন, ‘এটি না কমলে দেশকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব না।’চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে হামলা ও উদ্ভূত পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘চাঁপাইনবাবগঞ্জের ঘটনার সূত্রপাত জমির ধান ও গাছকাটা কেন্দ্র করে। এতে দুপক্ষের লোকজন আহত হয়েছেন। গুরুতর কিছু ঘটেনি। এ বিষয়ে বিজিবি-বিএসএফ আলোচনায় সমাধান হয়ে গেছে।’
এর আগে শনিবার (১৮ জানুয়ারি) শিবগঞ্জ উপজেলার কালিগঞ্জ সীমান্তে দুই দেশের নাগরিকদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। এ সময় পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) সামনেই বাংলাদেশিদের লক্ষ্য করে ককটেল নিক্ষেপ করছে ভারতীয় নাগরিকরা। ওপার থেকে টিয়ারশেল ছুড়তেও দেখা গেছে। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছিল বিজিবি।
স্থানীয় বাংলাদেশিদের অভিযোগ, সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে ঢুকে পড়ে ৫ শতাধিক ভারতীয় নাগরিক ও বিএসএফ সদস্য। এ খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সীমান্তে জড়ো হতে থাকেন স্থানীয়রা। ফলে সৃষ্টি হয় উত্তেজনা। এ সময় দুই দেশের নাগরিকের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনাও ঘটে।
আরও পড়ুন: ঢাবিতে কুশপুতুল পুড়িয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগ দাবিউপস্থিত কয়েকজন বলেন, বিএসএফ সদস্যরা হঠাৎ করেই কাঁটাতারের বেড়ার পাশে ৫ শতাধিক ভারতীয় নাগরিক নিয়ে আসেন। একপর্যায়ে তারা বাংলাদেশের ভেতরে ঢুকে পড়েন। এ সময় তারা একাধিক ককটেল ফাটান। পাশাপাশি টিয়ারশেল নিক্ষেপ করেন বিএসএফ সদস্যরা।
৫৬১ দিন আগে
জিয়ার জন্মবার্ষিকীতে বিএনপির শ্রদ্ধা নিবেদন
দলের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৮৯তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে বিএনপি।
রবিবার (১৯ জানুয়ারি) বেলা সোয়া ১১টার দিকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে কয়েক হাজার নেতাকর্মী শেরেবাংলা নগরে জিয়ার সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
পরে তারা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে ফাতেহা পাঠ ও বিশেষ মোনাজাত করেন।
এ সময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আযম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আমানউল্লাহ আমান, জয়নুল আবদিন ফারুক, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, কেন্দ্রীয় নেতা খায়রুল কবির খোকন, আবদুস সালাম, কামরুজ্জামান রতন, মীর সরাফত আলী, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, সাইফুল আলম নীরব, ডা. রফিকুল ইসলাম মঞ্জুসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও জিয়ার সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
জিয়াউর রহমান ১৯৩৬ সালের ১৯ জানুয়ারি বগুড়ার বাগবাড়ীতে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭৮ সালে তিনি বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন এবং দেশের সপ্তম রাষ্ট্রপতি হন।
দিবসটি উপলক্ষে সারা দেশে বিএনপির সব কার্যালয়ে দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়।
আরও পড়ুন: শতাধিক পণ্যে ভ্যাট ও শুল্ক বৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়বে: বিএনপি
বিকালে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে জিয়ার স্মরণে আলোচনা সভার আয়োজন করবে বিএনপি।
জন্মবার্ষিকীর কর্মসূচির অংশ হিসেবে আলোচনা সভা, শীতবস্ত্র বিতরণসহ নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করছে বিএনপির সহযোগী সংগঠনগুলো।
দিবসটি উপলক্ষে মহানগর জেলা ও উপজেলা বিএনপি নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
এদিকে জিয়াউর রহমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বাণী দিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
এতে তিনি মুক্তিযুদ্ধ, দেশের উন্নয়ন ও বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় বিএনপি প্রতিষ্ঠাতার অবদানের কথা স্মরণ করেছেন।
জিয়াউর রহমানের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন বিএনপি মহাসচিব।
আরও পড়ুন: আগামী নির্বাচনে ঋণখেলাপিদের মনোনয়ন না দিতে সতর্ক থাকবে বিএনপি
৫৬১ দিন আগে
সন্দেহ দূর করতে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করা হচ্ছে: সিইসি
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাছির উদ্দিন বলেছেন, ভোটার তালিকা নিয়ে সব সন্দেহ দূর করতে নির্বাচন কমিশন কাজ করছে।
তিনি বলেন, 'সংশয় দূর করার জন্য আমরা এটা (ভোটার তালিকা হালনাগাদ) করছি। আমরা মাঠে অনেক মানুষকে সম্পৃক্ত করছি।’
রবিবার (১৯ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁয়ের নির্বাচন ভবনে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, 'আমরা অবশ্যই আশাবাদী, সব সংশয় দূর হবে, ইনশাল্লাহ।’
সোমবার থেকে সারা দেশে শুরু হতে যাওয়া ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রমে সহায়তার জন্য কিছু উপকরণ সহায়তা দেয় জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)।
ইউএনডিপি বাংলাদেশের আবাসিক প্রতিনিধি স্টিফেন লিলার ১৭৫টি ল্যাপটপ, ২০০টি স্ক্যানার ও ৪ হাজার ৩০০ ব্যাগ সিইসির কাছে হস্তান্তর করেন।
নাসির উদ্দিন বলেন, তারা ছয় মাসের মধ্যে ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম শেষ করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন এবং প্রায় ৬৫ হাজার লোক এই বিশাল কর্মসূচিতে কাজ করবেন।
আরও পড়ুন: নারীর তুলনায় পুরুষ ভোটার বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ
তিনি বলেন, 'এই ছয় মাসের মধ্যে কাজটি শেষ করার জন্য আমাদের প্রাণান্তকর চেষ্টা করতে হবে।’
সিইসি বলেন, নির্বাচন কমিশন যে বিশাল কর্মসূচি গ্রহণ করেছে সেজন্য কমিশন যাতে দ্রুত এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এই কাজ শেষ করতে পারে, সেজন্য বিভিন্ন পর্যায়ে প্রায় ৬৫ হাজার লোক কাজ করবে।
চলতি বছরের মাঝামাঝি সময়ে বিএনপির জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবির বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, তারা রাজনৈতিক বক্তব্য (বিতর্ক) করেন না এবং আইন, বিধি ও বিধিবিধানের মধ্যে থাকবেন। তিনি বলেন, ‘আমরা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিতে চাই।’
সরকার ঘোষিত সময়সীমার মধ্যে কমিশন কাজ করছে কিনা জানতে চাইলে সিইসি প্রধান উপদেষ্টার ঘোষিত সময়সীমার সঙ্গে তাদের প্রস্তুতি সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, 'আমরা বিষয়টি মাথায় রেখেই কাজ করছি।’
ইউএনডিপির সহায়তার বিষয়ে তিনি বলেন, নির্বাচন প্রক্রিয়ায় ইসি ইউএনডিপির সহায়তা চাইবে। তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করি, তারা আমাদের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখবে।’
আরও পড়ুন: আওয়ামী লীগের নিবন্ধন থাকবে কিনা ‘সময় বলে দিবে’: সিইসি
৫৬২ দিন আগে
আগামী নির্বাচনে ঋণখেলাপিদের মনোনয়ন না দিতে সতর্ক থাকবে বিএনপি
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোনো ঋণখেলাপিকে মনোনয়ন না দেওয়ার ব্যাপারে বিএনপি সতর্ক থাকবে বলে অঙ্গীকার করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, আমরা জনগণের কাছে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি যে, খেলাপিরা মনোনয়ন যেন না পান তা নিশ্চিত করতে আমরা সচেষ্ট থাকব। এ বিষয়ে অত্যন্ত সতর্ক থাকব।
শনিবার (১৮ জানুয়ারি) রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) আয়োজিত 'শ্বেতপত্র ও অতঃপর : অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা, সংস্কার ও জাতীয় বাজেট' শীর্ষক সিম্পোজিয়ামে তিনি এসব কথা বলেন।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) ফেলো অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের সভাপতিত্বে সিম্পোজিয়ামে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা অধ্যাপক রেহমান সোবহান উপস্থিত ছিলেন।
অর্থ ও পেশিশক্তির প্রভাব খর্ব করতে ঋণখেলাপিদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে বিরত রাখার প্রস্তাব বিএনপি সমর্থন করবে কি না— অধ্যাপক রেহমান সোবহানের এমন প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল এ কথা বলেন।
তিনি জানান, অতীত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে ভবিষ্যতের কর্মপন্থা নিয়ে কাজ করছে তার দল। তবে রাতারাতি সবকিছু পরিবর্তন করা সম্ভব নয় বলেও স্বীকার করেন এই রাজনীতিক।
আরও পড়ুন: শতাধিক পণ্যে ভ্যাট ও শুল্ক বৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়বে: বিএনপি
দেশের প্রতিষ্ঠানগুলোকে যথাযথভাবে পুনর্গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আমাদের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস হয়ে গেছে। আমরা প্রাতিষ্ঠানিক মীমাংসায় বিশ্বাস করি। এখন আমাদের প্রয়োজন প্রতিষ্ঠানগুলোকে সঠিকভাবে পুনর্গঠন করা। যথেষ্ট হয়েছে। আসুন, আমরা সত্যিকার অর্থে আমাদের স্বপ্ন ও জনগণের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী বাংলাদেশকে গড়ে তুলি।’
ফ্যাসিবাদী রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে অংশ নিতে দেওয়া হবে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে ফখরুল বলেন, ‘এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে দেশের জনগণ। একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে আমরা এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে রাজি নই।’
জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানে বিএনপি কেন অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর চাপ দিচ্ছে— জানতে চাইলে তিনি বলেন, তাদের বিশ্বাস, কেবল নির্বাচিত সরকারই দেশের সমস্যাগুলোর কার্যকর সমাধান দিতে পারে। যেহেতু নির্বাচিত সরকার জনগণের সমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় আসে, তাই জনগণের সমস্যা সমাধানে তাদের সক্ষমতা থাকে।
ফখরুল বলেন, ‘অনেকেই আশা করছেন ছয় মাসের মধ্যে অন্তর্বর্তী সরকার সব পেরে যাবে, যা আসলে সম্ভব না। এজন্য আমরা নির্বাচনে বেশি জোর দিচ্ছি। আমাদের সংসদে কখনো গণতন্ত্রের চর্চা হয়নি। আমরা চেষ্টা করে দেখি পারি কি না।’
এ বিষয়ে তিনি আরও বলেন, ‘সংস্কারের বিষয়ে দুই বছর আগেই বলেছি। এজন্য বিএনপি ৩১ দফা দিয়েছে। অর্থনৈতিক সংস্কার ও রাজনৈতিক সংস্কার। আমরা রাজনৈতিক সংস্কারে বেশি গুরুত্ব দিতে চাই। অনেকে এই গণঅভ্যুত্থানকে বিপ্লবের সঙ্গে তুলনা করেন। আমি বলব এটা গণঅভ্যুত্থান। এজন্য আমরা রাজনৈতিক সংস্কারের কথা বলছি।’
বিএনপি কী ধরনের সংস্কার চায় সেই প্রসঙ্গে এই রাজনীতিক বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী দুবারের বেশি হতে পারবেন না। সংসদ দুই কক্ষবিশিষ্ট হবে। যারা নির্বাচন করেন না কিন্তু তারা যেন দেশ চালানোয় অংশগ্রহণ করতে পারেন—এ ব্যবস্থা করব।’
‘আমরা বৈষম্য দূর করতে চেষ্টা করব। এজন্য নির্বাচনের পর আমরা জাতীয় সরকার গঠনের কথা বলেছি।’
বিএনপি ক্ষমতায় গেলে সংস্কার বাস্তবায়ন করতে পারবে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘পারবো না এ কথা বলা যাবে না। আমরা জনগণের কাছে ঐক্যবদ্ধ।’
আরও পড়ুন: আগস্টের মধ্যেই নির্বাচন চায় বিএনপি
রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে এ সময় তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকার সংকট সমাধানে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়নি। চীন ও ভারতের সঙ্গে আলোচনাসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া তাদের অগ্রাধিকারে ছিল না।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বিএনপি যদি ক্ষমতায় ফেরে, তবে অতীতের মতো রোহিঙ্গা সংকটের যথাযথ সমাধান খুঁজে বের করতে তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে।’
৫৬২ দিন আগে
শতাধিক পণ্যে ভ্যাট ও শুল্ক বৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়বে: বিএনপি
শতাধিক পণ্যের ওপর যে মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ও সম্পূরক শুল্ক বাড়িয়েছে সরকার, সেটিকে ‘হঠকারী সিদ্ধান্ত’ হিসেবে আখ্যায়িত করে তা প্রত্যাহারে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছে বিএনপি। এতে সাধারণ মানুষকে ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়তে হবে বলে মনে করছে দলটি। যদিও অন্তবর্তী সরকারের দাবি, এতে ‘ন্যূনতম’ প্রভাব পড়বে।
শনিবার (১৮ জানুয়ারি) বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার যে ভ্যাট ও পরোক্ষ কর বাড়িয়েছে, তাতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়বে।’
দেশের চলমান অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও মুদ্রাস্ফীতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘শতাধিক পণ্যের ওপর ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক বাড়িয়েছে সরকার। কিছু কিছু পণ্যের ওপর থেকে কর অব্যাহতিও প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে খাদ্য, পোশাক, ওষুধ ও মোবাইল ইন্টারনেট সেবাসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যও রয়েছে।’
আরও পড়ুন: চীনা রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বিষয়ে আলোচনা ফখরুলের
এতে সাধারণ মানুষের প্রাত্যহিক জীবনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করেন তিনি। তার ভাষ্যে, ‘বিশেষ করে গরিব ও মধ্যবিত্তদের ব্যাপক দুর্ভোগে পড়তে হবে।’
এসব ভোগান্তি থেকে সাধারণ মানুষকে রেহাই দিতে বিকল্প পদক্ষেপ নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ফখরুল। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের ওপর ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক বাড়ানোর পরিবর্তে সরকার যাতে অপ্রয়োজনীয় উন্নয়ন খরচ কমিয়ে দেয়, অন্তবর্তী সরকারকে সেই পরামর্শও দিয়েছে বিএনপি।
এই বিএনপি নেতা বলেন, ‘জবাবদিহিতামূলক একটি প্রশাসনের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উচিত একটি জাতীয় নির্বাচনের আয়োজন করা।’
এর আগে, চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের মাঝপথে এসে শতাধিক পণ্য ও সেবার ওপর মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ও সম্পূরক শুল্ক বাড়ায় সরকার।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এতে দৈনন্দিন জীবনযাত্রার খরচ আরেক দফা বেড়ে যেতে পারে সাধারণ মানুষের। যেমন মুঠোফোন সেবার ওপর সম্পূরক শুল্ক বৃদ্ধির ফলে কথা বলা ও ইন্টারনেট ব্যবহারের খরচ বাড়বে। আবার পোশাক–পরিচ্ছেদের দামও বাড়তে পারে ভ্যাট বৃদ্ধির কারণে।
এছাড়া মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে মিষ্টি, ওষুধ, এলপি গ্যাস, ফলের রস, ড্রিংক, বিস্কুট, চশমার ফ্রেম, সিগারেটসহ নানা পণ্যের।
গত ৯ জানুয়ারি রাতে এ–সংক্রান্ত দুটি অধ্যাদেশ জারি করা হয়। অধ্যাদেশ দুটি হলো— মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫ এবং দি এক্সাইজ অ্যান্ড সল্ট (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫।
তবে এই ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক বৃদ্ধির কারণে সাধারণ মানুষের ওপর তেমন কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না বলে জানিয়েছে সরকার।
এ বিষয়ে ১২ জানুয়ারি রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক বাড়লেও সাধারণ মানুষের ওপর খুব বড় প্রভাব পড়বে না। এ প্রভাব হবে খুবই ন্যূনতম। এ বছর (অর্থবছর) পাঁচ মাসে রাজস্ব আয়ে ঘাটতি হয়েছে প্রায় ৪২ হাজার কোটি টাকা। লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ৬৯ হাজার কোটি টাকা। সংগ্রহ হয়েছে ১ লাখ ২৬ হাজার কোটি টাকার কিছু বেশি।
তিনি বলেন, ‘আমরা বলছি না যে কিছু প্রভাব পড়বে না। কিন্তু আমরা মনে করছি, এটি খুবই ন্যূনতম (মিনিমাম) হবে। আমরা মনে করি না যে এটা খুব বড় প্রভাব (ম্যাসিভ ইমপ্যাক্ট) হবে।’
প্রেস সচিব বলেন, সরকার চাচ্ছে অর্থনীতির স্বাস্থ্যটা স্থিতিশীল করতে, ঠিক করতে; এটি দেশের জন্যই ভালো হবে।
আরও পড়ুন: মির্জা ফখরুলের সঙ্গে ইইউ রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ
৫৬২ দিন আগে