ক্রিকেট
বাংলাদেশের হারে ‘আইসিসির আইনকে’ কাঠগড়ায় তুললেন বিশ্লেষকরা
মাত্র চার রানে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হওয়ার পর আইসিসির আইন নিয়ে সমালোচনা করেন তৌহিদ হৃদয়। ম্যাচশেষে হতাশ কণ্ঠে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘আইন তো আর আমার হাতে নেই।’
সোমবার (১০ জুন) দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে আম্পায়ারের একটি ভুল সিদ্ধান্তে চার রান পাওয়া থেকে বঞ্চিত হয় টাইগাররা। কাকতালীয়ভাবে ওই চার রানেই হেরেছে বাংলাদেশ।
ঘটনাটি সপ্তদশ ওভারের। ওটনিয়েল বার্টম্যানের একটি ডেলিভারি মাহমুদউল্লাহর প্যাডে লেগে পেছন দিয়ে সীমানা পার হয়ে যায়। তবে বল প্যাডে লাগার পর ফিল্ডারদের দুর্বল আবেদনেও আঙুল তুলতে দেরি করেননি আম্পায়ার। পরে রিভিউ নিয়ে অবশ্য বেঁচে যান মাহমুদউল্লাহ। তবে ওই চার রান আর বাংলাদেশের স্কোরবোর্ডে যোগ হয়নি।
আইসিসির নিয়ম অনুসারে, আম্পায়ার আউট দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বলটি ডেড বল হিসেবে গণ্য হবে। ফলে চার রান থেকে বঞ্চিত হয় বাংলাদেশ। অথচ বলটি আউট ছিল না।
আরও পড়ুন: নিজের আউটটি এখনও পোড়াচ্ছে তৌহিদ হৃদয়কে
এই নিয়মের কঠোর সমালোচনা করেছেন বেশ কয়েকজন সাবেক ক্রিকেটার।
ইএসপিএন ক্রিকইনফোকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্ষোভ ঝেড়েছেন তামিম। তিনি বলেন, ‘আইসিসি চাইলেই এই আইন পরিবর্তন করে বিতর্ক এড়াতে পারে।’
এই ধরনের পরিস্থিতিতে বলের গতিবিধি ও ব্যাটারদের রান নেওয়া পর্যন্ত আম্পায়ার অপেক্ষা করতে পারেন বলে মত তার।
‘আপনার হাতে তো সময় আছে। আপনি চাইলেই ২ সেকেন্ড অপেক্ষা করে দেখতে পারেন, বল কোথায় যাচ্ছে, বাউন্ডারি হলো কি না। এসব দেখেও আপনি সিদ্ধান্ত জানাতে পারেন।’
তামিমের মতে, ব্যাটসম্যান যদি আউট না হন, তাহলে ওই বলে হওয়া রান দেওয়া উচিত।
তিনি বলেন, ‘আমার কথা হয়তো সমর্থকদের মতো শোনাচ্ছে। তবে চিন্তা করলে দেখবেন, ওই ৪ রান খুব গুরুত্বপূর্ণ হতে পারত। ধারাভাষ্যকাররাও এটি নিয়ে কথা বলছিলেন।
‘আমি মনে করি, আইসিসি এ ব্যাপারে ভেবে দেখতে পারে। চাইলেই এটি এড়ানো সম্ভব। এমন নয় যে, খুব বড় কোনো পরিবর্তন করতে হবে তাদের।’
ক্রিকইনফোর ওই আয়োজনে থাকা দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক বোলার মরনে মরকেলের কণ্ঠেও শোনা যায় একই সুর।
তামিমের কথায় সমর্থন দিয়ে তিনি বলেন, ‘এমন হলে (পরিবর্তন) ফিল্ডাররাও বাউন্ডারি বা এক-দুই রানগুলো ঠেকানোর চেষ্টা করবে। খেলায় অবশ্যই কিছু একটা পরিবর্তন প্রয়োজন। আশা করছি, বিশ্বকাপের পর এটি নিয়ে ভাবা হবে।’
এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পাকিস্তানের সাবেক পেসার ওয়াকার ইউনুসও এই নিয়মের সমালোচনা করেছেন।
আইসিসির নিয়মের বলি হয়ে বাংলাদেশের হারে আক্ষেপ করে তিনি বলেন, ‘এলবিডব্লিউতে ডেড বলের বিতর্কিত নিয়মটির ব্যাপারে (আইসিসির) পুনর্বিবেচনা করা উচিত। এ কারণে একটি অল্প রানের থ্রিলার ম্যাচ (দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে) হেরে গেল বাংলাদেশ।’
ম্যাচ শেষে সাংবাদিকদের অভিযোগে প্রথম সাড়া দেন হৃদয়। তিনি বলেন, ‘সত্যি কথা বলতে, এত টানটান একটি ম্যাচে আমাদের জন্য এটা একেবারেই ভালো কল ছিল না। আম্পায়ার আউট দিয়েছিলেন, কিন্তু এটা আমাদের জন্য বেশ খরুচে হয়ে গেল। এই চার রান পেলে ম্যাচের দৃশ্যপট বদলে যেতে পারত।’
আরও পড়ুন: উত্তেজনার পারদ চড়িয়ে হেরে গেল বাংলাদেশ
তিনি বলেন, ‘এই ধরনের একটি ভেন্যুতে যেখানে লো স্কোরিং ম্যাচ হচ্ছে, এই চার রান বা দুটি ওয়াইডের কল, যা আমাদের পক্ষে দেওয়া হলো না- এমন জায়গাগুলোতে (আম্পায়ারের) আরও উন্নতির জায়গা আছে।’
ক্রিকবাজের ম্যাচ-পরবর্তী আলোচনায়ও এ বিষয়টি নিয়ে বিশদ ব্যাখ্যা দেন নিউ জিল্যান্ডের সাবেক অলরাউন্ডার ও প্রখ্যাত ধারাভাষ্যকার সাইমন ডুল।
তিনি বলেন, ‘একবার ভাবুন তো, ফাইনাল ম্যাচে এমন কিছু হলো আর ভারত এর ভুক্তভোগী!
‘আমি জানি, খেলার নিয়ম পুরোপুরি বদলে ফেলা কঠিন। তবে এটা তেমন কোনো আইন নয়। কিছু একটা পরিবর্তন অবশ্যই দরকার।
‘ওই বল কোনোভাবেই স্ট্যাম্পে লাগত না, অথচ আম্পায়ার সঙ্গে সঙ্গে আঙুল তুলে দিলেন। এটা অনেকটা বন্দুকের ট্রিগারে চাপ দেওয়ার মতো। খুবই বাজে সিদ্ধান্ত ছিল।’
উল্লেখ্য, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষ প্রথম ম্যাচে জিতলেও দ্বিতীয় ম্যাচটি হেরে খানিকটা পিছিয়ে গেছে বাংলাদেশ। এতে বাকি তিন দলেরই লাভ হয়েছে। শেষ আটে উঠতে তাই আগামী ১৩ ও ১৬ জুন যথাক্রমে নেদারল্যান্ডস ও নেপালের বিপক্ষে জয়ের বিকল্প নেই বাংলাদেশের সামনে।
৭৩৮ দিন আগে
নিজের আউটটি এখনও পোড়াচ্ছে তৌহিদ হৃদয়কে
দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে মাত্র চার রানের হার বাংলাদেশি ভক্তদের হৃদয়ে গভীর ক্ষতের সৃষ্টি করেছে। এমন হারে মানসিকভাবে ভুগছে টিম টাইগারও।
নিজের আউটটি নিয়ে এখনও কষ্টে রয়েছেন তৌহিদ হৃদয়। ওই সময় তার ওই আউটটি ছিল ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট। তিনিও মনে করেন, তার আউটটিই ম্যাচের ভাগ্য পরিবর্তন করে দিয়েছে।
দুই বলে যখন ৬ রান প্রয়োজন, সেসময় মহারাজের ফুলটস ডেলিভারিতে ব্যাটি চালিয়ে লং-অনে ধরা পড়েন মাহমুদুল্লাহ। এরপরই পরাজয়ের গ্লানিতে ডোবে বাংলাদেশ।
আরও পড়ুন: উত্তেজনার পারদ চড়িয়ে হেরে গেল বাংলাদেশ
ম্যাচ শেষে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ রান করা হৃদয় বলেন, ‘ম্যাচটি আমার শেষ করে আসা উচিৎ ছিল। আমার আউট হওয়াটাই ম্যাচ হারের মুহূর্ত ছিল বলে আমি মনে করি।’
১১৪ রানের লক্ষ্যে ব্যাটর করতে নেমে শুরুতেই কয়েকটি উইকেট হারায় বাংলাদেশ। এরপর দলকে টেনে তুলে জয়ের স্বপ্ন দেখান হৃদয় ও মাহমুদুল্লাহ। একেবারে কাছাকাছি চলেও গিয়েছিলেন তারা। কিন্তু শেষের দিকে খেই হারিয়ে ফেলে বাংলাদেশ, আর তার খেসারত দিতে হয়েছে হেরে।
উল্লেখ্য, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে প্রোটিয়াদের বিপক্ষে এখনও জয় পায়নি বাংলাদেশ। এই ম্যাচের আগে আটবারের দেখায় প্রতিবারই টাইগারদের হতাশ করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত চারবার দেখা হয়েছে দুই দলের। ২০০৭ সালের প্রথম আসরে ৭ স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে উইকেটে হারে বাংলাদেশ। ২০২১ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিত আসরে ৬ উইকেটে, ২০২২ সালে অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত আসরে ১০৪ রানে এবং ২০২৪ সালের ১০ জুনের এই ম্যাচে মাত্র চার রানে হেরে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথম জয়ের স্বাদবঞ্চিত হলো নাজমুল হোসেন শান্তর বাংলাদেশ।
আরও পড়ুন: শেষ আটে যেতে পাকিস্তানের সামনে যে সমীকরণ
বিশ্বকাপের এই চার ম্যাচের বাইরে দুই দলের আরও পাঁচবার দেখা হয়েছে। ২০০৮ সালে জোহানেসবার্গে ১২ রানে, ২০১৫ সালে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে ১৫ রানে ও ৩১ রানে, ২০১৭ সালে ব্লোয়েমফন্টেইনে ২০ রানে ও পচেফস্ট্রুমে ৮৩ রানে হারে বাংলাদেশ।
এই ম্যাচ হেরে শেষ আটে উঠতে তাই আগামী ১৩ ও ১৬ জুন যথাক্রমে নেদারল্যান্ডস ও নেপালের বিপক্ষে জয়ের বিকল্প নেই বাংলাদেশের সামনে।
৭৩৮ দিন আগে
উত্তেজনার পারদ চড়িয়ে হেরে গেল বাংলাদেশ
শেষ ওভারে প্রয়োজন ১১ রান। প্রথম ডেলিভারিটি ওয়াইড দিয়ে লক্ষ্য দশে নামালেন কেশব মহারাজ। পরের বলে বাই থেকে এক রান নিয়ে জাকের আলীকে স্ট্রাইক দিলেন মাহমুদউল্লাহ। তৃতীয় বলটি উড়িয়ে মারতে গিয়ে লং অনে ধরা পড়লেন জাকের। চতুর্থ বলে রিশাদকে লেগ বিফোরের জন্য রিভিউ নিলেন মহারাজ, তবে ব্যর্থ হলেন। এরই মধ্যে এক রান নিয়ে জায়গা বদল করলেন তারা।
দুই বলে তখন প্রয়োজন ৬ রান। স্ট্রাইকে মাহমুদউল্লাহ, বাংলাদেশকে একা হাতে অসংখ্য ম্যাচ জেতানো মাহমুদউল্লাহ। মহারাজ ফুল টস দিলেন, কষে মারলেনও মাহমুদউল্লাহ, তবে সীমান্তে ধরা পড়লেন তিনি। মাথায় হাত উঠে গেল তার, মাথায় হাত দিলেন গ্যালারিভর্তি টাইগার-সমর্থকও। পরের বলটিও ফুল টস হলো, তবে ব্যাট-বলে সংযোগ ঘটাতে ব্যর্থ হলেন রিশাদ। হেরে গেল বাংলাদেশ।
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে জয়ের খুব কাছে গিয়েও মাত্র চার রানে হেরে হৃদয় ভাঙল টাইগারদের। এর ফলে টানা তিন জয়ে গ্রুপের শীর্ষে থেকে বিশ্বকাপের প্রথম দল হিসেবে শেষ আট নিশ্চিত করল প্রোটিয়ারা। আর ঝুলে রইল বাংলাদেশের ভাগ্য।
১১৪ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে সাত উইকেটে ১০৯ রান করেছে বাংলাদেশ। দলের হয়ে তৌহিদ হৃদয় সর্বোচ্চ ৩৭ ও মাহমুদউল্লাহ ২০ রান করেন। দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে কেশব মহারাজ নেন সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট। এছাড়া নর্টকিয়া ও রাবাদা উইকেট নিয়েছেন দুটি করে।
৪৬ রান করে দলের সংগ্রহের ভিত গড়ে দেওয়ায় হাইনরিখ ক্লাসেনকে দেওয়া হয়েছে ম্যাচসেরার পুরস্কার।
আরও পড়ুন: দলের বিপদকালে আরও একবার জয়ের নায়ক মাহমুদউল্লাহ
দ্বিতীয় ইনিংসে মার্কো ইয়ানসেনের প্রথম ওভারে এক রান নেওয়ার পর জোড়া চারে দ্বিতীয় ওভার শুরু করেন তানজিদ তামিম। তবে রাবাদার ওই ওভারের শেষ বলে ওয়াইড লেংথের বলে ব্যাট চালিয়ে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। ফলে ৯ রানে প্রথম উইকেট হারায় বাংলাদেশ।
এরপর লিটনকে নিয়ে দেখেশুনে খেলে পাওয়ার প্লেতে আর উইকেট না হারিয়েই দলীয় সংগ্রহ ২৯ রানে নিয়ে যান অধিনায়ক শান্ত। তবে পরের ওভারের প্রথম বলেই সাজঘরে ফেরেন লিটন। কেশব মহারাজের আউটসাইড অফের ডেলিভারিতে সজোরে ব্যাট চালিয়ে শর্ট কভার অঞ্চলে মিলারের তালুবন্দি হন তিনি।
লিটন ১৩ বলে ৯ রান করে ফিরলে ভালো শুরুর ইঙ্গিত দেওয়া সাকিবও পরের ওভারে ক্যাচ হয়ে ফেরেন। আনরিখ নর্টকিয়ার প্রথম ওভারেই তার শিকার হন তিনি।
দশম ওভারে ফিরে যান শান্ত। প্রোটিয়া পেসারদের মোকাবিলা করতে শুরু থেকেই যথেষ্ট ভুগছিলেন তিনি। শেষমেষ দশম ওভারের পঞ্চম বলে নর্টকিয়ার দ্বিতীয় শিকার হন তিনি। ১৪৬ কিলোমিটার গতির বলটিকে বাউন্সার দেন নর্টকিয়া। সেটি শরীরের মধ্যে উঠে গেলে পুল করতে চান শান্ত। তবে এজ হয়ে বলটি ওপরে উঠে গেলে শর্ট মিড উইকেট থেকে সহজ ক্যাচটি লুফে নেন মার্করাম।
এর ফলে দশ ওভার শেষ ৫০ রানে ৪ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। এরপর দলকে টেনে তোলার চেষ্টা করেন তৌহিদ হৃদয় ও মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ।
আরও পড়ুন: শেষ আটে যেতে পাকিস্তানের সামনে যে সমীকরণ
হৃদয়-মাহমুদউল্লাহর ব্যাটে একসময় জয়ের স্বপ্ন দেখতে শুরু করে বাংলাদেশ। তবে ১৬.২ ওভারে জয়ের জন্য যখন আর ২৬ রান প্রয়োজন, তখন টাইগার ভক্তদের হৃদয়ে কাঁপুনি ধরিয়ে দেয় দক্ষিণ আফ্রিকা। ওটনিয়েল বার্টম্যানের বল মাহমুদুল্লাহর প্যাডে আঘাত করলে আঙুল তুলে দেন আম্পায়ার। তবে রিভিউ নিলে দেখা যায়, লেগ স্ট্যাম্প মিস করেছে বল। ফলে বেঁচে যান মাহমুদুল্লাহ; এর সঙ্গে হাঁফ ছেড়ে বাঁচে সমর্থকরাও।
কিন্তু পরের ওভারে রাবাদার প্রথম বলেই এলবিডব্লিউ হয়ে ফিরতে হয় হৃদয়কে। তিনিও রিভিউ নিয়েছিলেন, তবে বাঁচতে পারেননি। ৩৪ বল খেলে দুটি করে ছক্কা ও চারের সাহায্যে ৩৭ রান করে হৃদয় যখন ফিরছেন, তখন দলের প্রয়োজন ১৭ বলে ২০ রান।
এরপর শেষ ওভারের নাটকীয়তায় চার রানে জিতে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা।
উল্লেখ্য, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে প্রোটিয়াদের বিপক্ষে এখনও জয় পায়নি বাংলাদেশ। এই ম্যাচের আগে আটবারের দেখায় প্রতিবারই টাইগারদের হতাশ করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত চারবার দেখা হয়েছে দুই দলের। ২০০৭ সালের প্রথম আসরে ৭ স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে উইকেটে হারে বাংলাদেশ। ২০২১ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিত আসরে ৬ উইকেটে, ২০২২ সালে অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত আসরে ১০৪ রানে এবং ২০২৪ সালের ১০ জুনের এই ম্যাচে মাত্র চার রানে হেরে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথম জয়ের স্বাদবঞ্চিত হলো নাজমুল হোসেন শান্তর বাংলাদেশ।
বিশ্বকাপের এই চার ম্যাচের বাইরে দুই দলের আরও পাঁচবার দেখা হয়েছে। ২০০৮ সালে জোহানেসবার্গে ১২ রানে, ২০১৫ সালে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে ১৫ রানে ও ৩১ রানে, ২০১৭ সালে ব্লোয়েমফন্টেইনে ২০ রানে ও পচেফস্ট্রুমে ৮৩ রানে হারে বাংলাদেশ।
এই ম্যাচ হেরে শেষ আটে উঠতে তাই আগামী ১৩ ও ১৬ জুন যথাক্রমে নেদারল্যান্ডস ও নেপালের বিপক্ষে জয়ের বিকল্প নেই বাংলাদেশের সামনে।
৭৩৯ দিন আগে
মিলার-ক্লাসেনের ব্যাটে ১১৩ রানে থামল দক্ষিণ আফ্রিকা
প্রথম দুই ম্যাচ জিতে খানিকটা স্বস্তিতে থাকা দক্ষিণ আফ্রিকা ‘চেনা’ নাসাউ কাউন্টি স্টেডিয়ামে প্রথমবার শুরুতে ব্যাট করেছে। তবে বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণের সামনে খুব বেশি সুবিধা করতে পারেনি তারা।
নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১১৩ রান করেছে প্রোটিয়ারা। ফলে দ্বিতীয় ম্যাচে জয় পেতে ধৈর্য ধরে প্রোটিয়া বোলিং তোপ সামলে এই লক্ষ্য অতিক্রম করতে হবে টাইগারদের।
ব্যাট হাতে হাইনরিখ ক্লাসেন সর্বোচ্চ ৪৬ রান করেন। এছাড়া ডেভিড মিলার করেন ২৯ রান। বাংলাদেশের পক্ষে তানজিম সাকিব সর্বোচ্চ তিনটি ও তাসকিন দুই উইকেট নিয়েছেন। বাকি উইকেটটি গেছে রিশাদ হোসেনের ঝুলিতে।
এদিন টস জিতে শুরুতে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশি বোলারদের তোপের মুখে পড়েন দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটাররা। ২৩ রান তুলতেই প্রথম চার ব্যাটারকে হারিয়ে চোখে সর্ষের ফুল দেখে তারা।
আরও পড়ুন: শেষ আটে যেতে পাকিস্তানের সামনে যে সমীকরণ
ইনিংসের শুরুতে রিশাদের হাতে বল তুলে দেন অধিনায়ক শান্ত। তার প্রথম বলটি ডট গেলেও পরের দুই বলে ছক্কা ও চার মেরে রানের খাতা খোলেন কুইন্টন ডি কক। পঞ্চম বলে স্ট্রাইক রোটেট করলে রিশাদের প্রথম বল মোকাবিলা করতে গিয়েই লেগ বিফোর হয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন রিজা হেনড্রিকস।
প্রথম ওভারে ১১ রান দিলেও ব্রেকথ্রু পান রিশাদ। সফল হয় শান্তর কৌশল।
দ্বিতীয় ওভারের দ্বিতীয় বলেও তাসকিনকে ছক্কা মারেন ডি কক। তবে তৃতীয় ওভারে বোলিংয়ে আসা তানজিম সাকিবের কাছে পরাস্ত হন তিনি। ওভারের প্রথম দুটি বল ডট যাওয়ার পর অফ স্ট্যাম্পে রাখা তৃতীয় বলটি স্কয়ার ড্রাইভ করতে চেয়েছিলেন ডি কক। কিন্তু বল কিছুটা নিচে হওয়ায় ব্যাটে সংযোগ ঘটাতে ব্যর্থ হন তিনি। ফলে অফ স্ট্যাম্প ভেঙে দিয়ে চলে যায় তা। আর এর সঙ্গে উল্লাসে মাতে টাইগার সমর্থকরা। তিনি ১১ বলে দুই ছক্কা ও একটি চারে ১৮ রান করে ফিরলে দলীয় ১৯ রানের মাথায় দুই ওপেনারকে হারায় প্রোটিয়ারা।
পরের ওভারের দ্বিতীয় বলে তাসকিনকে একটি চার মেরে পঞ্চম বলে বোল্ড হয়ে যান এইডেন মার্করাম। এর ফলে চলমান বিশ্বকাপে ব্যাট হাতে তার ব্যর্থতা অব্যাহত থাকল।
আরও পড়ুন: সৌম্যকে বাদ দিয়ে ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ
পঞ্চম ওভারের দ্বিতীয় বলে ফের গ্যালারির বাংলাদেশি ভক্তদের মাঝে উচ্ছ্বাস। ট্রিস্টান স্টাবসকে আউট করেন তানজিম সাকিব। তানজিমের আউটসাইড অফ স্ট্যাম্পের ডেলিভারিটি কভারের দিকে সজোরে পেটান স্টাবস। কিন্তু চকিতে ঝাঁপিয়ে তা তালুবন্দি করেন সাকিব আল হাসান। ফলে ৫ বলে খালি হাতে ফিরতে হয় তাকে।
২৩ রানের মাথায় তৃতীয় ও চতুর্থ উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে দক্ষিণ আফ্রিকা। এরপর উইকেটে থিতু হয়ে হাত খোলা শুরু করেন ডেভিড মিলার ও হাইনরিখ ক্লাসেন। এই দুই ব্যাটারের দৃঢ়তায় আর উইকেট না হারিয়ে দশ ওভারে ৫৭ রান তোলে দক্ষিণ আফ্রিকা।
তবে একাদশ ওভারে বোলিংয়ে এসে উইকেট পেয়েই যাচ্ছিলেন মাহমুদউল্লাহ। তার নিচু হওয়া বলে ব্যাট স্পর্শ করেই বিপদে পড়ে যান মিলার। তবে লিটন উইকেটের পেছনে এত কাছে ছিলেন যে, তিনি বুঝে ওঠার আগেই বলটি তার উরুতে লেগে মাটিতে পড়ে। ফলে সে যাত্রায় বেঁচে যান মিলার।
এরপর ৭৯ রানের জুটি গড়ে বিদায় নেন ক্লাসেন। ১৭.৩ ওভারে তাসকিনের বলে বোল্ড হয়ে সাজঘরের পথ ধরেন তিনি। তার আগে খেলে যান ৪৪ বলে ৪৬ রানের মূল্যবান ইনিংস। তিনটি ছক্কা ও দুটি চারের সাহায্যে এই রান করেন ক্লাসেন। ফলে ২৩ রানে চতুর্থ উইকেটে হারানোর পর ১০২ রানে পঞ্চম উইকেটের পতন হয় দক্ষিণ আফ্রিকার।
পরের ওভারে রিশাদের দ্বিতীয় বলে বোল্ড হয়ে যান অপর প্রান্তের মিলারও। আউটসাইড অফস্ট্যাম্প থেকে উইকেটে আসা ডেলিভারিটি উড়িয়ে মারতে গিয়ে ব্যর্থ হন মিলার। ফলে বল স্ট্যাম্প উড়িয়ে দিয়ে চলে যায়। ৩৮ বলে একটি করে ছক্কা ও চারে ২৯ রান করে ফেরেন মিলার।
শেষে মার্কো ইয়ানসেন ও কেশব মহারাজ যথাক্রমে ৫ ও ৪ রানে অপরাজিত থেকে ১১৩ রানে ইনিংস শেষ করেন।
আরও পড়ুন: টাইগারদের বোলিং তোপে কাঁপছে দক্ষিণ আফ্রিকা
৭৩৯ দিন আগে
টাইগারদের বোলিং তোপে কাঁপছে দক্ষিণ আফ্রিকা
টস জিতে প্রথমবারের মতো শুরুতে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশি বোলারদের তোপের মুখে পড়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটাররা। ২৩ রান তুলতেই প্রথম চার ব্যাটারকে হারিয়ে চোখে সর্ষের ফুল দেখছে প্রোটিয়ারা।
এদিন ইনিংসের শুরুতে রিশাদের হাতে বল তুলে দেন অধিনায়ক শান্ত। তার প্রথম বলটি ডট গেলেও পরের দুই বলে ছক্কা ও চার মেরে রানের খাতা খোলেন কুইন্টন ডি কক। পঞ্চম বলে স্ট্রাইক রোটেট করলে রিশাদের প্রথম বল মোকাবিলা করতে গিয়েই লেগ বিফোর হয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন রিজা হেনড্রিকস।
প্রথম ওভারে ১১ রান দিলেও ব্রেকথ্রু পান রিশাদ। সফল হয় শান্তর কৌশল।
দ্বিতীয় ওভারের দ্বিতীয় বলেও তাসকিনকে ছক্কা মারেন ডি কক। তবে তৃতীয় ওভারে বোলিংয়ে আসা তানজিম সাকিবের কাছে পরাস্ত হন তিনি। ওভারের প্রথম দুটি বল ডট যাওয়ার পর অফ স্ট্যাম্পে রাখা তৃতীয় বলটি স্কয়ার ড্রাইভ করতে চেয়েছিলেন ডি কক। কিন্তু বল কিছুটা নিচে হওয়ায় ব্যাটে সংযোগ ঘটাতে ব্যর্থ হন তিনি। ফলে অফ স্ট্যাম্প ভেঙে দিয়ে চলে যায় তা। আর এর সঙ্গে উল্লাসে মাতে টাইগার সমর্থকরা। তিনি ১১ বলে দুই ছক্কা ও একটি চারে ১৮ রান করে ফিরলে দলীয় ১৯ রানের মাথায় দুই ওপেনারকে হারায় প্রোটিয়ারা।
পরের ওভারের দ্বিতীয় বলে তাসকিনকে একটি চার মেরে পঞ্চম বলে বোল্ড হয়ে যান এইডেন মার্করাম। এর ফলে চলমান বিশ্বকাপে ব্যাট হাতে তার ব্যর্থতা অব্যাহত থাকল।
পঞ্চম ওভারের দ্বিতীয় বলে ফের গ্যালারির বাংলাদেশি ভক্তদের মাঝে উচ্ছ্বাস। ট্রিস্টান স্টাবসকে আউট করেন তানজিম সাকিব। তানজিমের আউটসাইড অফ স্ট্যাম্পের ডেলিভারিটি কভারের দিকে সজোরে পেটান স্টাবস। কিন্তু চকিতে ঝাঁপিয়ে তা তালুবন্দি করেন সাকিব আল হাসান। ফলে ৫ বলে খালি হাতে ফিরতে হয় তাকে।
২৩ রানের মাথায় তৃতীয় ও চতুর্থ উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ৫ ওভার শেষ চার উইকেটে ২৪ রান করেছে প্রোটিয়ারা। ডেভিড মিলার ১ ও ক্লাসেন শূন্য রানে অপরাজিত থেকে ক্রিজে রয়েছেন।
বাংলাদেশ একাদশ: তানজিদ হাসান তামিম, লিটন দাস, নাজমুল হোসেন শান্ত (অধিনায়ক), তৌহিদ হৃদয়, সাকিব আল হাসান, জাকের আলী, মাহমুদউল্লাহ, রিশাদ হোসেন, তাসকিন আহমেদ, তানজিম হাসান সাকিব, মুস্তাফিজুর রহমান।
দক্ষিণ আফ্রিকা একাদশ: রিজা হেনড্রিকস, কুইন্টন ডি কক, এইডেন মার্করাম (অধিনায়ক), ট্রিস্টান স্টাবস, হাইনরিখ ক্লাসেন, ডেভিড মিলার, মার্কো ইয়ানসেন, কেশব মহারাজ, কাগিসো রাবাদা, আনরিখ নর্টকিয়া, ওটনিয়েল বার্টম্যান।
৭৩৯ দিন আগে
সৌম্যকে বাদ দিয়ে ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে মাঠে নামছে বাংলাদেশ। এই ম্যাচেও টস জিতেছেন প্রোটিয়া অধিনায়ক এইডেন মার্করাম। তবে এদিন আগে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।
নিউ ইয়র্কের নাসাউ কাউন্টি স্টেডিয়ামে আগের দুই ম্যাচে রান তাড়া করে জয় পেয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। স্লো এই উইকেটের আচরণও বেশ বুঝতে পেরেছে তারা। সে কথাই ঝরল মার্করামের কণ্ঠে।
‘শুরুতে ব্যাট করব। কারণ এটি পরিচিত উইকেট। যদি খুব বেশি পরিবর্তন না হয়ে থাকে, তাহলে আমরা (রানের) লক্ষ্য দিয়ে তা আটকে দিতেও পারব।’
আরও পড়ুন: প্রোটিয়াদের বিপক্ষে ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে চায় বাংলাদেশ
তিনি বলেন, ‘টুর্নামেন্টের প্রায় সব দলই শুরুতে ব্যাটিংয়ের দিকে ঝুঁকেছে। এ ধরনের উইকেটে বিশেষত শেষ ১০ ওভার গুরুত্বপূর্ণ। আর রান তাড়া করা নিঃসন্দেহে কঠিন হবে।’
ব্যাটারদের ফর্মহীনতার বিষয়টিও এসময় তুললেন তিনি। বলেন, ‘আমাদের অবশ্যই ফর্মে ফিরতে হবে। আমিও এই দলে পড়ি। মাথা ঠিকঠাকই আছে, সময়ের ব্যাপার মাত্র।’
নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে নামানো একাদশ নিয়েই দক্ষিণ আফ্রিকা মাঠে নামছে বলে জানান তিনি।
অপরদিকে, টস জিতলে শুরুতে বোলিংই করতেন বলে জানিয়েছেন নাজমুল হোসেন শান্ত।
তিনি বলেন, ‘শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আমরা গুরুত্বপূর্ণ একটি জয় পেয়েছি। এই ম্যাচের আগেও ছেলেরা যথেষ্ট পরিশ্রম করেছে। আশা করছি, ভালো ফল আসবে।’
দ্বিতীয় ম্যাচে সৌম্য সরকারকে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সৌম্যর পরিবর্তে আজ জাকের আলী খেলছে।’
বাংলাদেশ একাদশ: তানজিদ হাসান তামিম, লিটন দাস, নাজমুল হোসেন শান্ত (অধিনায়ক), তৌহিদ হৃদয়, সাকিব আল হাসান, জাকের আলী, মাহমুদউল্লাহ, রিশাদ হোসেন, তাসকিন আহমেদ, তানজিম হাসান সাকিব, মুস্তাফিজুর রহমান।
দক্ষিণ আফ্রিকা একাদশ: রিজা হেনড্রিকস, কুইন্টন ডি কক, এইডেন মার্করাম (অধিনায়ক), ট্রিস্টান স্টাবস, হাইনরিখ ক্লাসেন, ডেভিড মিলার, মার্কো ইয়ানসেন, কেশব মহারাজ, কাগিসো রাবাদা, আনরিখ নর্টকিয়া, ওটনিয়েল বার্টম্যান।
আরও পড়ুন: বোলিংয়ে ফিরেছেন শরিফুল, দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ‘বিবেচনায়’
৭৩৯ দিন আগে
শেষ আটে যেতে পাকিস্তানের সামনে যে সমীকরণ
ক্রিকেটে নবাগত স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ হেরে বিশ্বকাপ মিশনের শুরুতেই ব্যাকফুটে চলে যায় পাকিস্তান। সেখান থেকে ফিরে আসতে গতকাল ভারতের বিপক্ষে জয়ের বিকল্প ছিল না বাবর আজমের দলের। তবে উল্টো চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের একেবারে খাদের কিনারায় পাঠিয়ে দিয়েছে ভারত।
টানা দুই জয়ে একদিকে যেমন ভারতের পরবর্তী রাউন্ডে যাওয়ার পথ সুগম হয়েছে, অন্যদিকে পাকিস্তানের সুপার এইট স্বপ্ন প্রায় ভাঙতে চলেছে। যদিও কাগজে-কলমে এখনো টিকে আছে তাদের আশা। তবে নিজেদের বাকি কাজটুকু ভালোভাবে শেষ করার পাশাপাশি গ্রুপের অন্য দলগুলোর জয়-পরাজয়ে ঝুলে গেছে তাদের সুপার এইট ভাগ্য।
আরও পড়ুন: প্রোটিয়াদের বিপক্ষে ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে চায় বাংলাদেশ
প্রথমে কানাডা ও পরে সুপার ওভার নাটকীয়তায় পাকিস্তানের বিপক্ষে জিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নিয়েই শেষ আটে খেলার ভালো সুযোগ তৈরি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের। তাদের হাতে আর দুই ম্যাচ। আগামী ১২ জুন ভারত ও ১৪ জুন আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে খেলবে স্বাগতিকরা। এই দুই ম্যাচের একটি জিতলে বা কোনো ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়ে এক পয়েন্ট পেলেও পরের রাউন্ড যেতে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য তা যথেষ্ট হবে।
সেক্ষেত্রে কপাল পুড়বে পাকিস্তানের। তবে যদি পরের দুই ম্যাচেই যুক্তরাষ্ট্র বড় ব্যবধানে হারে, আর রান রেট বাড়িয়ে পাকিস্তান যদি বড় ব্যবধানে বাকি দুই ম্যাচ জিততে পারে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রকে টপকে শেষ আটের টিকিট কাটবে তারা।
আরও পড়ুন: বাবরের অধিনায়কত্ব নিয়ে পাকিস্তানের দুই ক্রিকেটারের লড়াই
তবে হিসাব এখানেই শেষ নয়। কানাডাও আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে জিতে দুই পয়েন্ট সংগ্রহ করেছে। সেক্ষেত্রে পরবর্তী ম্যাচে তাদের হারিয়ে পাকিস্তানকে ভারতের মুখের দিকে চেয়ে থাকতে হবে। ভারত যদি তাদের হারায়, তবে কানাডা বাদ পড়বে। না হলে যুক্তরাষ্ট্রের মতো কানাডার সঙ্গেও হিসাব-নিকাশ মেলাতে হবে পাকিস্তানের।
মোট কথা, শেষ আটে উঠতে পাকিস্তানকে সামনের দুই ম্যাচ শুধু বড় ব্যবধানে জিতলেই হবে না। ভারত যেন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা- দুই দলকেই বড় ব্যবধানে হারায় এবং আয়ারল্যান্ড যেন যুক্তরাষ্ট্রকে হারিয়ে দেয়, সেই প্রতীক্ষায় চাতকপ্রাণ হয়ে থাকতে হবে পাকিস্তানের।
আরও পড়ুন: আয়ারল্যান্ডকে সুযোগই দিল না ভারত
৭৩৯ দিন আগে
প্রোটিয়াদের বিপক্ষে ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে চায় বাংলাদেশ
টানা দুই ম্যাচ জিতে চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ‘ডি’ গ্রুপে সবচেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। সোমবার এই দলটির বিপক্ষেই মাঠে নামছে বাংলাদেশ।
চ্যালেঞ্জিং পিচ হওয়া সত্ত্বেও নিউইয়র্কের নাসাউ কাউন্টি আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে শ্রীলঙ্কা ও নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে দুই ম্যাচেই জয় পেয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। পিচ সম্পর্কে ধারণা ও অভিজ্ঞাতা বিবেচনায় তাই বাংলাদেশের বিপক্ষেও তারাই এগিয়ে থাকবে।
নবনির্মিত এই স্টেডিয়ামে এখন পর্যন্ত পাঁচটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং সবগুলো ম্যাচেই ব্যাটারদের ভুগতে দেখা গেছে। ভারতের মতো শক্তিশালী ব্যাটিং লাইন-আপও গতকাল ১১৯ রানে অলআউট হয়ে গেছে। এই মাঠে সর্বোচ্চ ১৩৭ রান করেছে কানাডা।
আরও পড়ুন: বোলিংয়ে ফিরেছেন শরিফুল, দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ‘বিবেচনায়’
নাসাউ কাউন্টির পিচকে ‘অসম’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। বিভিন্ন সময় বল এখানে অনিয়মিত আচরণ করছে। কখনও বাঁক পাচ্ছে, কখনও তা পেতে কষ্ট হচ্ছে; আবার কখনও মাটি কামড়ে যাওয়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে তো কখনও ব্যাটারের মাথার ওপর দিয়ে চলে যাচ্ছে; কখনও বলে গতি উঠছে, আবার কখনও গতিই পাচ্ছে না।
পিচ নিয়ে ক্রিকেটের সাবেক তারকা ও বিশ্লেষকদের সমালোচনার পর তা আরও ভালো করার জন্য কঠোর পরিশ্রম করছে বলে জানিয়েছে আইসিসি।
বাংলাদেশের কোচ চণ্ডিকা হাথুরুসিংহেও বলেছেন একই কথা। নাসাউ কাউন্টির পিচে ব্যাট করা যে কঠিন হবে, তা অকপটে স্বীকার করেছেন তিনি।
হাথুরুসিংহে বলেন, ‘এই পিচে ব্যাটিং করাটা সত্যিই কঠিন হয়ে যাচ্ছে। বেশিরভাগ ম্যাচেই আমরা সেটিই দেখছি। আমরাও এখানে খেলেছি (বিশ্বকাপের আগে), ব্যাটারদের জন্য এই পিচ সহজ ছিল না।’
এ কারণে দুই দলই এখানে সমান সুবিধা পাবে এবং সমানভাবে ভুগবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এসময় দক্ষিণ আফ্রিকার বোলিং আক্রমণের শক্তির কথা স্বীকার করে তিনি জানান, তার দলেরও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সক্ষমতা রয়েছে।
আরও পড়ুন: দলের বিপদকালে আরও একবার জয়ের নায়ক মাহমুদউল্লাহ
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টাইগার একাদশে পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা কম। তবে ‘পিচের অবস্থা অনুযায়ী তাদের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত’ করা হবে বলে জানিয়েছেন হাথুরুসিংহে।
‘আমাদের কিছু পরিবর্তন করতে হলে তা সবসময় পরিস্থিতি ও প্রতিপক্ষের ওপর নির্ভর করে করতে হয়। পিচ পর্যবেক্ষণ করে আমরা এর আচরণ বোঝার চেষ্টা করব। এছাড়া দক্ষিণ আফ্রিকার শক্তি-সামর্থ্য সম্পর্কেও আমাদের জানা আছে। সম্ভবত, আপনারা একই দল (গত ম্যাচের) দেখতে পাবেন। তবে আমাদের যেটা সবচেয়ে ভালো বলে মনে হয়, তেমন সংমিশ্রণই করব।’
প্রোটিয়াদের বিপক্ষে এর আগে ৮টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলে এখনও জয়ের দেখা পায়নি বাংলাদেশ। বিশ্বকাপে তাদের মোকাবিলায় তাই পিচের অবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
দুই জয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা গ্রুপের শীর্ষস্থান ধরে রাখলেও বিশ্বকাপের আগে টানা হারের হতাশা কাটিয়ে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। তাই কিছুটা হলেও আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নামবেন টাইগাররা।
৭৩৯ দিন আগে
বোলিংয়ে ফিরেছেন শরিফুল, দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ‘বিবেচনায়’
আঙুলের চোট কাটিয়ে বোলিংয়ে ফিরেছেন বাংলাদেশি পেসার শরিফুল ইসলাম। ইতোমধ্যে নেটে অনুশীলন শুরু করেছেন তিনি।
বাংলাদেশ সময় সোমবার রাত সাড়ে আটটায় দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে ভালো খবর শুনিয়েছেন কোচ চণ্ডিকা হাথুরুসিংহে।
তিনি বলেছেন, শরিফুল বোলিংয়ে ফিরেছেন। দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচের জন্য তাকে বিবেচনায় রাখা হয়েছে।
আরও পড়ুন: মিলার-স্টাবসের দৃঢ়তায় ঘুরে দাঁড়িয়ে জিতল দক্ষিণ আফ্রিকা
বিশ্বকাপের পর্দা ওঠার আগে ভারতের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে খেলতে নেমে আঙুলে চোট পান বাঁহাতি এই পেসার। হাতে ছয়টি সেলাই লাগায় বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে খেলতে পারেননি তিনি। আরও কয় ম্যাচ মিস করেন, তা নিয়েও ছিল ধোঁয়াশা। তবে এত তাড়াতাড়ি তার অনুশীলনে ফেরা বাংলাদেশ ক্রিকেটের ভক্তদের জন্য সুখবরই বটে।
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচের আগেও অনুশীলনে উপস্থিত ছিলেন শরিফুল। তবে তখন নেট বোলিংয়ে অংশ নিতে পারেননি তিনি।
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাচের জন্য প্রস্তুতি নিতে বর্তমানে নিউ ইয়র্কে রয়েছে বাংলাদেশ দল। স্থানীয় সময় রবিবার ম্যাচের ভেন্যু থেকে সামান্য দূরে ক্যান্টিয়াগ পার্কে অনুশীলন করেছে তারা।
চলমান বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। এই জয় টাইগারদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে।
আরও পড়ুন: দলের বিপদকালে আরও একবার জয়ের নায়ক মাহমুদউল্লাহ
৭৩৯ দিন আগে
শুধু ভারত নয়, নাসাউ কাউন্টির পিচও পাকিস্তানকে ভোগাবে
যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ হেরে আগে থেকেই বিপাকে রয়েছে পাকিস্তান। দ্বিতীয় ম্যাচে রবিবার রাতে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের বিপক্ষে খেলতে নামছে তারা। পরবর্তী রাউন্ডে যেতে হলে ভারতবধের বিকল্প নেই পাকিস্তানের সামনে।
তবে বাবর আজমদের দুশ্চিন্তা বাড়িয়েছে ভারতের বোলিং ব্যাটিং সব বিভাগের দারুণ ফর্ম। সেইসঙ্গে নাসাউ কাউন্টির পিচ পাকিস্তানের জন্য গোদের ওপর বিষফোঁড়া হয়ে দেখা দিয়েছে।
চলমান টুর্নামেন্টের গত কয়েক ম্যাচেই দেখা গেছে, এই স্টেডিয়ামে খেলা প্রত্যেকটি দলের ব্যাটাররা কী পরিমাণ ভুগেছেন। প্রমাণিত ব্যাটাররাও খুব বেশি সুবিধা আদায় করতে পারছেন না। অনেকে ক্রিজেই থাকতে পারছেন না বেশিক্ষণ। আবার উইকেটে টিকে থাকতে হলে লড়াই করতে দেখা গেছে অনেককে। সেক্ষেত্রে টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ওয়ানডে কিংবা টেস্টের মতো স্ট্রাইক রেটে রান তুলছেন ব্যাটাররা।
আরও পড়ুন: মিলার-স্টাবসের দৃঢ়তায় ঘুরে দাঁড়িয়ে জিতল দক্ষিণ আফ্রিকা
এক্ষেত্রে বাবর আজমের ভাবনা বাড়াবে পাকিস্তানি ব্যাটারদের সাম্প্রতিক ফর্ম। সম্প্রতি আফগানিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে হেরেছে পাকিস্তান। এছাড়া তুলনামূলক কম শক্তিসম্পন্ন নিউজিল্যান্ড দল, আয়ারল্যান্ড ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হেরে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করে বাবর অ্যান্ড কোং। তবে প্রথম ম্যাচে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রের কাছেও হেরে তাদের ব্যাটারদের আত্মবিশ্বাসের বেলুন চুপসে যাওয়ার কথা।
এই অবস্থায় দুর্দান্ত ফর্মে থাকা জসপ্রীত বুমরাহ, মোহাম্মদ সিরাজদের মোকাবিলা করতে পাকিস্তানি ব্যাটারদের কতটা বেগ পেতে হবে, তা সহজেই অনুমেয়। তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নাসাউ কাউন্টির পিচ।
মাত্র ১২ রান করতে গিয়ে নেদারল্যান্ডসের বোলারদের কাছে কুইন্টন ডি কক, রিজা হেনড্রিকস, এইডেন মার্করাম ও হাইনরিখ ক্লাসেনকে একে একে উইকেট বিলিয়ে দিতে দেখেছে সবাই।
এমন পিচে বুমরাহদের বোলিং তোপ সামলানো কতটা কঠিন হবে, তা প্রোটিয়া বোলিংয়ের সামনে নিদারুণ ভোগা শ্রীলঙ্কা কিংবা নেদারল্যান্ডসের ব্যাটাররাই রিজওয়ান-ফখর জামানদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে।
তবে এর মাঝে দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটারদের কাছ থেকে আশার আলোও অবশ্য পাওয়া যায়। উল্লিখিত দুই প্রতিপক্ষের সঙ্গে জিতলেও বেশ ভুগতে হয়েছে তাদেরও। কিন্তু শুরুতে কিংবা নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারালেও মানসিকতা শক্ত রেখে দুই ম্যাচেই উতরে গেছে প্রোটিয়ারা।
পাকিস্তানের টিম ম্যানেজমেন্টও নিশ্চয় এ বিষয়ে খেলোয়াড়দের যথেষ্ট যত্ন নিয়েছে। তবে আসল পরীক্ষাটা মাঠেই হবে।
আরও পড়ুন: ভারতের বোলিং বিষে নীল আয়ারল্যান্ড
আত্মবিশ্বাস ধরে রেখে যদি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার মানসিকতা রাখতে পারেন বাবর-উসমানরা, তাহলে শুরুতে ব্যাট করে ভারতের সামনে লড়াকু পুঁজি দাঁড় করাতে সক্ষম হবেন তারা। আর বাকি কাজটুকু করার জন্য তাদের ঝুলিতে শাহীন আফ্রিদি, মোহাম্মদ আমিররা তো রয়েছেনই।
আবার ভারত শুরুতে ব্যাট করলে সেক্ষেত্রেও পিচের সুবিধা নিয়ে রোহিত-কোহলিদের যতটা সম্ভব কম রানে আটকে রখার চেষ্টা করতে হবে পাকিস্তানি বোলারদের। আর ধৈর্য্যশীল ইনিংস খেলে ভারত-পাহাড় অতিক্রমের চেষ্টায় থাকতে হবে ব্যাটারদের।
৭৪০ দিন আগে