আইনশৃঙ্খলা
রায়ে অসন্তোষ, সব আসামির ফাঁসি চান আবু সাঈদের বাবা
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহিদ আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন তার বাবা মকবুল হোসেন। তিনি বলেছেন, আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় যারা নির্দেশ দিয়েছেন, সেই উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তারা বিচারের বাইরে থেকে গেছেন। এ সময় হত্যার সঙ্গে জড়িত সবার ফাঁসি দাবি করেন তিনি ।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় ঘোষণার পর প্রতিক্রিয়ায় তিনি এসব কথা বলেন।
মকবুল হোসেন বলেন, ‘আমার ছেলেকে হত্যার ঘটনাটি শুধু কনস্টেবলের ওপর দিয়ে গেল। যাদের আদেশে আমার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে, তারা বেঁচে গেল। আমরা সব আসামির ফাঁসি চাই।’
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আইনজীবীদের সঙ্গে পরামর্শ করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এ সময় আবু সাঈদের মা মনোয়ারা বেগম বলেন, ‘আমার ছেলেকে হত্যার সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের (সাজার) রায় হয়েছে।’ তবে এই রায় কার্যকর করতে হবে দাবি করে তিনি বলেন, ‘রায় কার্যকর হলে আমার ছেলের আত্মা শান্তি পাবে।’
আবু সাঈদের বড় ভাই আবু রায়হান বলেন, ‘আমার ভাইকে হত্যার সঙ্গে যারা যারা জড়িত, সবার ফাঁসি কার্যকর চাই। তাহলেই ভাই হত্যার সঠিক বিচার হবে।’
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম শহিদ, রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড ও তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড রায় দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এছাড়া রায়ে অন্য আসামিদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া রায়ে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. হাসিবুর রশীদ, গণিত বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক মো. মশিউর রহমান এবং লোকপ্রশাসন বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক আসাদুজ্জামান মন্ডলকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আরও কয়েকজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
এর আগে, দুপুরে বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এই রায় ঘোষণা করন। ট্রাইব্যুনালের অন্য সদস্যরা হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
গত ৫ মার্চ ট্রাইব্যুনাল রায় ঘোষণার জন্য ৯ এপ্রিল তারিখ নির্ধারণ করেছিল। গত বছরের ৩০ জুন আইসিটি সাবেক উপাচার্য হাসিবুর রশিদসহ ৩০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নেয়। আইসিটির তদন্ত সংস্থা একই বছরের ২৪ জুন তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন এলাকায় শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলাকালে ইংরেজি বিভাগের দ্বাদশ ব্যাচের শিক্ষার্থী আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এই হত্যাকাণ্ডটি আন্দোলনকে আরও তীব্র করে তোলে যা শেষ পর্যন্ত গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। এর ফলশ্রুতিতে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে।
৭১ দিন আগে
আবু সাঈদ হত্যা মামলা: ২ জনের মৃত্যুদণ্ড, ২৭ জনের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড
জুলাই অভ্যুত্থানের প্রথম শহিদ রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক দুই পুলিশ সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি)। বাকিদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ রায় ঘোষণা করে।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন— পুলিশের সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আমির হোসেন এবং সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়।
অন্য দণ্ডিতদের মধ্যে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) সাবেক সহকারী উপকমিশনার আরিফুজ্জামান জীবন, সাবেক পরিদর্শক রবিউল ইসলাম নয়ন এবং সাবেক উপপরিদর্শক বিভূতি ভূষণ রায় মাধবকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বেরোবির সাবেক উপাচার্য হাসিবুর রশীদ, শিক্ষক মশিউর রহমান ও আসাদুজ্জামান মন্ডল, আরএমপির সাবেক কমিশনার মো. মনিরুজ্জামান এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের বেরোবি শাখার সভাপতি পোমেল বড়ুয়াকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া আরএমপির সাবেক উপকমিশনার আবু মারুফ হোসেন ওরফে টিটু, সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার শাহ নূর আলম পাটোয়ারী সুমন, বেরোবির সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, হাফিজুর রহমান তুফান, ইমরান চৌধুরী আকাশ, মাসুদুল হাসান মাসুদ, এ কে এম আমির হোসেন আমু এবং ড. সারোয়ার হোসেন চন্দনকে পাঁচ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
তিন বছরের কারাদণ্ড পেয়েছেন মো. মনিরুজ্জামান পলাশ, মাহফুজুর রহমান শামীম, ফজলে রাব্বি, আখতার হোসেন, সেজান আহমেদ আরিফ, ধনঞ্জয় কুমার টগর, বাবুল হোসেন, মোহাম্মদ নুরুন্নবী মন্ডল, নূর আলম মিয়া এবং মাহবুবুর রহমান বাবু। আসামিদের মধ্যে আনোয়ার পারভেজকে অভিযোগ থেকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
রায় ঘোষণার সময় দণ্ডিতদের মধ্যে ৫ জন কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। বাকিরা পলাতক রয়েছেন।
কারা হেফাজতে রয়েছেন— আমির হোসেন, সুজন চন্দ্র, শরিফুল ইসলাম, ইমরান চৌধুরী এবং রাফিউল হাসান রাসেল। এছাড়া আনোয়ার পারভেজও কারাগারে ছিলেন।
এর আগে, গত ৫ মার্চ ট্রাইব্যুনাল রায় ঘোষণার জন্য ৯ এপ্রিল তারিখ নির্ধারণ করেছিল। গত বছরের ৩০ জুন আইসিটি সাবেক উপাচার্য হাসিবুর রশিদসহ ৩০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নেয়। আইসিটির তদন্ত সংস্থা একই বছরের ২৪ জুন তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন এলাকায় শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলাকালে ইংরেজি বিভাগের দ্বাদশ ব্যাচের শিক্ষার্থী আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এই হত্যাকাণ্ডটি আন্দোলনকে আরও তীব্র করে তোলে যা শেষ পর্যন্ত গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। এর ফলশ্রুতিতে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে।
৭১ দিন আগে
আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় আজ
২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থান চলাকালে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালযয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় আজ বৃহস্পতিবার ঘোষণা করবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি)।
বিচারপতি নজরুল ইসলাম মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আইসিটি-২ গত ৫ মার্চ এই মামলার রায়ের তারিখ ৯ এপ্রিল নির্ধারণ করেছিলেন।
২০২৫ সালের ৩০ জুন আইসিটি এই মামলার অভিযোগ আমলে নেয়। মামলায় বেরোবির সাবেক উপাচার্য হাসিবুর রশিদ এবং রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) সাবেক কমিশনার মো. মনিরুজ্জামানসহ ৩০ জনের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে হত্যা, হত্যাচেষ্টা, সুপিরিয়র কমান্ড রেসপন্সিবিলিটি (ঊর্ধ্বতন পদের দায়িত্ব), প্ররোচনা এবং মানবতাবিরোধী অপরাধে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে।
এর আগে, ২০২৫ সালের ২৪ জুন আইসিটির তদন্ত সংস্থা আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেছিল।
মামলার ৩০ জন আসামির মধ্যে ২৪ জন পলাতক এবং ৬ জন বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। যারা কারা হেফাজতে রয়েছেন তারা হলেন— সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আমির হোসেন, সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়, বেরোবির সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, ছাত্রলীগ নেতা ইমরান চৌধুরী, রাফিউল হাসান রাসেল এবং আনোয়ার পারভেজ।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলাকালে ইংরেজি বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এই হত্যাকাণ্ডটি ছাত্র আন্দোলনকে তীব্রতর করে তোলে যা শেষ পর্যন্ত গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয় এবং ৫ আগস্ট ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে।
৭১ দিন আগে
জুলাই আন্দোলনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হলো শিরীন শারমিনকে
রাজধানীর ধানমণ্ডি এলাকা থেকে আজ মঙ্গলবার ভোরে আটক হওয়া সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীকে জুলাই আন্দোলনের একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার একটি বিশেষ দল অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।
ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (ডিবি-উত্তর) রবিউল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর রাজধানীর বিভিন্ন থানায় দায়ের করা বেশ কয়েকটি মামলায় শিরীন শারমিন চৌধুরী এজাহারভুক্ত আসামি ছিলেন।
তিনি আরও জানান, আজই তাকে চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে হাজির করা হবে।
উল্লেখ্য, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের ২৭ দিনের মাথায় ২০২৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর স্পিকার পদ থেকে পদত্যাগ করেন শিরীন শারমিন চৌধুরী।
২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর আব্দুল হামিদ স্পিকার নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে ২০১৩ সালের ৩০ এপ্রিল শিরীন শারমিন স্পিকার হিসেবে তার স্থলাভিষিক্ত হন। তিনি রংপুর-৬ আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন।
৭৩ দিন আগে
১০০ কোটি টাকার মানহানি মামলায় এমপি আমির হামজার বিরুদ্ধে সমন জারি
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে ‘নাস্তিক’ ও ‘ইসলামবিদ্বেষী’ আখ্যা দেওয়ার অভিযোগে জামায়াত নেতা ও সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে দায়ের করা ১০০ কোটি টাকার মানহানি মামলায় সমন জারি করেছেন আদালত।
সিরাজগঞ্জের আমলী আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সুমন ভুইয়া বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দুপুরে শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
এর আগে, সোমবার (৩০ মার্চ) দুপুরে বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট নাজমুল ইসলাম বাদী হয়ে দণ্ডবিধির ৫০০ ধারায় মামলাটি করেন।
বাদী নাজমুল ইসলাম বলেন, কুষ্টিয়া-৩ আসনের জামায়াতের এমপি মুফতি আমির হামজা সিরাজগঞ্জ-২ আসনের বিএনপির এমপি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে প্রকাশ্যে নাস্তিক ও ইসলাম বিদ্বেষী আখ্যা দিয়ে বক্তব্য দেন। এজন্য তার বিরুদ্ধে উল্লিখিত টাকার মানহানি মামলা করা হয়েছে। বিজ্ঞ বিচারক এ মামলা আদেশের অপেক্ষায় রেখে ছিলেন। আজ (বৃহস্পতিবার) দুপুরে এ মামলা শুনানি শেষে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সুমন ভুইয়া এ সমন জারির নির্দেশ দেন।
এ বিষয়ে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু বলেন, ২৬ মার্চ জেলা প্রশাসনের আয়োজিত মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে তাকে আপাদমস্তক ইসলামবিদ্বেষী ও নাস্তিক আখ্যা দেওয়া হয়। এতে আমাদের হুদয়ে রক্তক্ষরণ হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু নামাজ আদায় করেন। তিনি হজ পালন করেছেন।
৭৮ দিন আগে
ক্রিপ্টোকারেন্সি প্রতারণা: পাচার হওয়া ৪৪ কোটি টাকা ফিরিয়ে আনল সিআইডি
ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ফরেক্স ট্রেডিংয়ে উচ্চ মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে পরিচালিত অনলাইনভিত্তিক প্রতারণামূলক বিনিয়োগ প্ল্যাটফর্ম ‘মেটাভার্স ফরেইন এক্সচেঞ্জ’ (এমটিএফই)–এর মাধ্যমে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থের একটি বড় অংশ ফেরত এনেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
উদ্ধার হওয়া অর্থের পরিমাণ প্রায় ৩ দশমিক ৬ মিলিয়ন ইউএসডিটি, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪৪ কোটি ১৪ লাখ ৬২ হাজার ৩০৩ টাকা।
সোমবার (৩০ মার্চ) রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাইবার পুলিশ সেন্টারের (সিপিসি) ডিআইজি মো. আবুল বাশার তালুকদার এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, এমটিএফইর মাধ্যমে প্রতারণার শিকার হয়ে ২০২৩ সালের ২৮ আগস্ট খিলগাঁও থানায় একটি মামলা হয়। মামলায় এক ভুক্তভোগী প্রায় ২ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে প্রতারিত হওয়ার অভিযোগ করেন। তবে সিআইডির তদন্তে দেখা যায়, এ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অসংখ্য বিনিয়োগকারী কোটি কোটি টাকার প্রতারণার শিকার হয়েছেন।
তদন্তে জানা যায়, ২০২২ সালের জুন থেকে বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করে এমটিএফই। ফেসবুক ও ইউটিউবে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে দ্রুত লাভের প্রলোভন দেখিয়ে বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করা হয়। ব্যবহারকারীদের ভার্চুয়াল ট্রেডিং অ্যাকাউন্টে ডিজিটাল ডলার দেখানো হলেও বাস্তবে এসব লেনদেন ছিল সম্পূর্ণ ভুয়া। কৃত্রিমভাবে লাভ দেখিয়ে নতুন বিনিয়োগ আনাই ছিল তাদের মূল কৌশল।
প্রথম দিকে কিছু অর্থ ফেরত দিয়ে বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জন করে চক্রটি। পরে ২০২৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে হঠাৎ কার্যক্রম বন্ধ করে উধাও হয়ে যায়। বিনিয়োগকারীদের অর্থ বিভিন্ন ক্রিপ্টোকারেন্সি ওয়ালেটে স্থানান্তরের মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা হয়।
আরও জানা যায়, প্রতারণার মাধ্যমে আদায় করা প্রায় ৩ দশমিক ৬ মিলিয়ন ডলার আন্তর্জাতিক ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জ ওকেএক্সে সংরক্ষিত ছিল। ব্লকচেইন বিশ্লেষণ টুল ব্যবহার করে এ অর্থের সঙ্গে প্রতারণা চক্রের সংশ্লিষ্টতা নিশ্চিত করা হয়। পরে ওকেএক্সের লিগ্যাল টিমের সঙ্গে যোগাযোগ করে আইনগত প্রক্রিয়ায় অর্থ ফেরতের উদ্যোগ নেয় সিআইডি।
আদালতের নির্দেশনায় রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংকের মালিবাগ শাখায় সিআইডির নামে একটি সরকারি হিসাব খোলা হয়। পাশাপাশি যুক্তরাজ্যভিত্তিক অ্যাসেট রিয়েলিটি লিমিটেডের সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে পাচার হওয়া ক্রিপ্টোকারেন্সি বৈধ মুদ্রায় রূপান্তর করা হয়।
সব প্রক্রিয়া শেষে ৩৬ লাখ ২২ হাজার ৯৯৮ মার্কিন ডলার সমপরিমাণ অর্থ সোনালী ব্যাংকের ওই হিসাবে জমা হয়, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪৪ কোটি ১৪ লাখ টাকার বেশি।
সিআইডি জানায়, যুক্তরাষ্ট্রসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সহযোগিতা ও কূটনৈতিক সহায়তার ফলে স্বল্প সময়ে এ অর্থ উদ্ধার সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে। ভুক্তভোগীদের শনাক্ত করে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী তাদের মধ্যে অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে। পাশাপাশি পাচার হওয়া অবশিষ্ট অর্থ উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
৮১ দিন আগে
ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক আফজাল নাছের গ্রেপ্তার
প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (বরখাস্ত) মো. আফজাল নাছেরকে (৬১) গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।
রবিবার (১৯ মার্চ) দিবাগত রাতে রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএসের একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় হয় বলে সোমবার নিশ্চিত করেছেন ডিবি যুগ্ম কমিশনার (উত্তর) রবিউল ইসলাম ভূঁইয়া।
তিনি জানান, মিরপুর থানায় জুলাই আন্দোলনের করা একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
আফজাল নাছের ২০০৬ সালের মার্চ থেকে ২০০৮ সালের মার্চ পর্যন্ত ডিজিএফআইয়ের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। অভিযোগ রয়েছে, তার দায়িত্ব পালনকালে হেফাজতে থাকাকালীন বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা ও ব্যবসায়ীকে নির্যাতনের ঘটনায় তিনি জড়িত ছিলেন।
৮১ দিন আগে
পুলিশের পোশাক পরিবর্তনের ইঙ্গিত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, পুলিশের বর্তমান পোশাক নিয়ে বাহিনীর মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। এ অবস্থায় বাংলাদেশ পুলিশকে আগের কোনো ঐতিহ্যমণ্ডিত পোশাকে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের সর্বোচ্চ মহলে আলোচনা করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
শনিবার (২৮ মার্চ) রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার সারদায় অবস্থিত বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে ৪৩তম বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারদের মৌলিক প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আইন সবার জন্য সমান—এ কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘দেশ এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। রাষ্ট্রের এই রূপান্তরকালে আপনাদের দায়িত্ব অনেক বেশি। নিজেদের এর উপযোগী করে তুলতে হবে। সততা, দক্ষতা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘পুলিশের আচরণ হতে হবে মানবিক এবং আইনের প্রতি গভীর শ্রদ্ধাশীল। মনে রাখতে হবে, চেইন অব কমান্ড, শৃঙ্খলা, আনুগত্য ও সমন্বিত নেতৃত্বই একটি বাহিনীর মূল শক্তি। আইনের চোখে সবাই সমান, হোক সে কোনো রাজনৈতিক কর্মী বা সাধারণ কৃষক।’
তিনি আরও বলেন, ‘দেশের আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় পুলিশের ভূমিকা অগ্রগণ্য। বর্তমান সরকার বিশ্বাস করে, পুলিশ কোনো বিশেষ দল বা গোষ্ঠীর লাঠিয়াল বাহিনী নয়। পুলিশ বাহিনীকে দলীয় প্রভাবমুক্ত করে একটি আধুনিক, সেবাধর্মী ও মানবিক সংস্থায় রূপান্তর করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।’ পুলিশের জনবল বৃদ্ধিতে সরকার ইতোমধ্যে নানাবিধ উদ্যোগ নিয়েছে বলেও জানান তিনি।
এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, স্বাধীন ও শক্তিশালী পুলিশ সংস্কার কমিশন গঠনে কাজ করা হচ্ছে, যার প্রধান কাজ হবে পুলিশ বাহিনীকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখা। বক্তব্যের শুরুতে তিনি মুক্তিযুদ্ধের শহিদ, স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী এবং স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমানসহ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহিদদের গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন।
এর আগে মন্ত্রী শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারদের অভিবাদন গ্রহণ ও প্যারেড পরিদর্শন করেন। পরে প্রশিক্ষণ শেষে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।
৮৩ দিন আগে
জনপ্রত্যাশা ও ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, সংবিধান সংস্কারের ক্ষেত্রে জনপ্রত্যাশা এবং ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের শহিদদের আকাঙ্ক্ষাকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়া হবে। বিশেষ করে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘জুলাই জাতীয় সনদ’-এর ভিত্তিতে সমঝোতার মাধ্যমে যাবতীয় সংশোধনী প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
শনিবার (২৮ মার্চ) রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে ৪৩তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
সংবিধানে জিয়াউর রহমান-এর নাম স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘এ সমস্ত বিষয়ে সংবিধান সংস্কার সংক্রান্ত কমিটি গঠন করা হবে এবং সেখানে বিস্তারিত আলাপ-আলোচনা করা হবে। জুলাই জাতীয় সনদের ভিত্তিতে আমরা সব কিছুই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রণয়ন করবো। সেখানে বাংলাদেশের মানুষের বর্তমান সময়ের প্রত্যাশা এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহিদদের স্বপ্নকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।’
তিনি আরও জানান, রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল হিসেবে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’-এ স্বীকৃত বিষয়গুলোকে প্রাধান্য দিয়ে সংবিধান সংশোধন কমিটি খসড়া প্রণয়ন করবে। পরবর্তীতে জাতীয় সংসদে বিধি মোতাবেক প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় পাঠের মাধ্যমে আলোচনা শেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
পরে ৪৩তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের নবীন কর্মকর্তাদের মাঝে সনদপত্র প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আজ থেকে আপনাদের জীবনের এক নতুন অধ্যায় শুরু হলো। এই ইউনিফর্ম কেবল ক্ষমতার প্রতীক নয়; এটি দায়িত্ব, ত্যাগ এবং সেবার প্রতীক।’
এ সময় নবীন কর্মকর্তাদের সততা, সাহস ও মানবিকতার সঙ্গে দেশসেবায় আত্মনিয়োগ করার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রী ৪৩তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের সদস্যদের সফলভাবে প্রশিক্ষণ সমাপ্তিতে আন্তরিক অভিনন্দন জানান এবং তাদের পেশাগত ও ব্যক্তিগত জীবনের সর্বাঙ্গীন সাফল্য কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির এবং বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির প্রিন্সিপাল (অ্যাডিশনাল আইজিপি) জি এম আজিজুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
৮৩ দিন আগে
নতুন বাংলাদেশে পুলিশকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপমুক্ত রাখা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলা এবং জনবান্ধব পুলিশিং ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নবীন পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, ‘২০২৪ সালের ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের শহিদদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত নতুন বাংলাদেশে পুলিশ বাহিনীকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত রাখা হবে।’
শনিবার সকালে রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির প্যারেড গ্রাউন্ডে ৪৩তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের শিক্ষানবিস সহকারী পুলিশ সুপারদের এক বছর মেয়াদি মৌলিক প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এমন এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি যেখানে নবীন কর্মকর্তাদের দায়িত্ব অনেক বেশি।’ তিনি জানান, বর্তমান সরকার একটি স্বাধীন ও শক্তিশালী ‘পুলিশ সংস্কার কমিশন’ গঠন করে নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে মেধা ও জ্যেষ্ঠতাকে একমাত্র মানদণ্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে কাজ করছে।
নবীন কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘জনগণের সেবক হোন। ব্রিটিশ আমলের সেকেলে পুলিশ আইন পরিবর্তন করে সময়োপযোগী আইন প্রণয়ন করা হচ্ছে। আপনারা অপরাধীর মনে ভয় এবং নিরপরাধীর মনে প্রশান্তি জাগাবেন।’ একইসঙ্গে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ এবং ডিজিটাল অপরাধ দমনে সর্বোচ্চ কারিগরি দক্ষতা অর্জনের তাগিদ দেন তিনি।
৮৩ দিন আগে