আইনশৃঙ্খলা
ধানমণ্ডিতে পিঠা খাওয়াকে কেন্দ্র করে ছুরিকাঘাত, গাড়িচালক নিহত
রাজধানীর ধানমণ্ডি থানার তিন নম্বর রোডে ফুটপাতে পিঠা বিক্রেতার সঙ্গে কথা কাটাকাটির জেরে ছুরিকাঘাতে রনি খন্দকার (৪৭) নামে এক গাড়িচালক নিহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাতে এ ঘটনা ঘটে। পরে আজ (বুধবার) সকালে তার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) মর্গে পাঠায় পুলিশ।
ধানমণ্ডি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. শাহজালাল মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আমরা খবর পেয়ে রাতে ধানমণ্ডির একটি আমরা বেসরকারি হাসপাতালের জরুরি বিভাগ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করি। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেকের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, গতকাল রাতে ধানমণ্ডির তিন নম্বর রোডের ফুটপাতে একটি পিঠার দোকানে পিঠা খাওয়াকে কেন্দ্র করে দোকানদারের সঙ্গে ঝগড়া হয় ওই ব্যক্তির। একপর্যায়ে পিঠাওয়ালা তার পিঠে ও বুকে ছুরিকাঘাত করেন। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ধানমণ্ডির একটি বেসরকারি হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে বলে জানান এসআই শাহজালাল।
নিহতের ছেলে মো. রায়হান খন্দকার বলেন, আমার বাবা একটি প্রাইভেট কোম্পানির গাড়িচালক ছিলেন। আমরা জানতে পেরেছি, পিঠা খাওয়াকে কেন্দ্র করে পিঠা বিক্রেতার সঙ্গে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে ওই বিক্রেতা আমার বাবাকে ছুরিকাঘাত করেন। পরে তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে তার মৃত্যু হয়। কী কারণে ওই পিঠা বিক্রেতা বাবাকে ছুরিকাঘাত করেছেন, আগে থেকে কোনো শত্রুতা ছিল কি না—এ বিষয়ে আমরা বলতে পারি না।
তিনি আরও জানান, তাদের বাড়ি বাগেরহাট জেলা চিতলমারী থানার শ্যামপাড়া গ্রামে। বর্তমানে রাজধানীর হাজারীবাগের বউবাজার এলাকায় পরিবার নিয়ে ভাড়া বাসায় থাকতেন রনি খন্দকার।
৯৭ দিন আগে
মোটরশ্রমিক নেতা বাসু হত্যা মামলায় ৫ জনের মৃত্যুদণ্ড
গোপালগঞ্জ মোটরশ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি সাইদুর রহমান বাসু হত্যা মামলায় পাঁচ আসামির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে চার আসামির আমৃত্যু কারাদণ্ড ও ১১ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক মো. রহিবুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন। আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আব্দুর রশীদ মোল্লা সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন— বুলবুল শেখ, হেদায়েত শেখ, তফসির শেখ, কিবরিয়া আল কাজী ও ঝন্টু শেখ।
আমৃত্যু দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— মিন্টু শেখ,কেনাই শেখ, আলীমুজ্জামান বিটু, প্রিন্স খাঁ। এ ছাড়াও, ইকবাল খা, টুটুল শেখ, রনি শেখ, আক্রাম আলী, হাবিব কাজী, বুলগান কাজী, সজিব শেখ, পনির শেখ, সিহাব শেখ, রাশেদ শেখ ওরফে রাশেদ খাঁ ও শওকত শেখকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রত্যেক আসামিকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পিপি।
মামলার নথি থেকে জানা গেছে, ২০১৬ সালে ১৭ ফেব্রুয়ারি রাতে গোপালগঞ্জের কুয়াডাঙ্গা মোটরশ্রমিক ইউনিয়নের কার্যালয় থেকে মৌলভীপাড়ার বাসায় ফেরার পথে বাসুকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় একদল হামলাকারী। চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরদিন ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় ওই বছরের ১৯ ফেব্রুয়ারি গোপালগঞ্জ সদর থানায় বাসুর ছোট ভাই জাসু শেখ মামলা করেন। এরপর ওই বছরের ১২ জুলাই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও গোপালগঞ্জ সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হযরত আলী ২৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
৯৭ দিন আগে
ফরিদপুরে বিচারকের আচরণ ঘিরে চলছে আইনজীবীদের আদালত বর্জন
ফরিদপুরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সেলিম রেজাকে কেন্দ্র করে আইনজীবীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তিনি আইনজীবী ও মক্কেলদের সঙ্গে রুঢ় আচরণ ও অশোভন ব্যবহার করেন—এমন অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
এ পরিস্থিতিতে, ফরিদপুর জেলা আইনজীবী সমিতি মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুর দেড়টার দিকে এক জরুরি সভা ডেকে ওই আদালত বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আজও (বুধবার) আইনজীবীদের আদালত বর্জন কর্মসূচি চলমান রয়েছে। সমস্যা সমাধানে আইনজীবী সমিতির সঙ্গে কথা বলার আহ্বান জানিয়েছেন জেলা ও দায়রা জজ জিয়া হায়দার।
সমিতির সভাপতি আইনজীবী খোন্দকার লুৎফর রহমান পিলু বলেন, ‘চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টের বিচারক সেলিম রেজা আইনজীবী এবং মামলার পক্ষদের সঙ্গে নিয়মিত খারাপ আচরণ এবং রুঢ় ব্যবহার করেন। এটি একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাই সমিতি এই জরুরি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলার প্রতি আমাদের পূর্ণ সমর্থন থাকলেও বিচারপ্রক্রিয়ায় সম্মান ও মার্জিত আচরণ বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। আইনজীবীদের সঙ্গে এমন আচরণ সহ্য করা যায় না। আমরা আশা করি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখবেন।’
আদালত সূত্রে জানা যায়, গতকাল (মঙ্গলবার) কোর্ট বর্জন ঘোষণার পরই জেলা ও দায়রা জজ আদালতে চলমান কিছু মামলার শুনানি সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। আইনজীবীদের মধ্যে এই সিদ্ধান্ত ব্যাপক সমর্থন পেয়েছে। তারা বলছেন, এটি শুধু আদালতে কর্মপরিবেশের মান রক্ষা নয়, বরং বিচারপ্রক্রিয়ার প্রতি সবার আস্থা বজায় রাখার একটি পদক্ষেপ।
এ ঘটনার পর জেলা প্রশাসন ও উচ্চ আদালতের পক্ষ থেকে বিষয়টি মনিটর করা হচ্ছে। স্থানীয় আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ ধরনের ঘটনা বিচারব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও নৈতিকতার জন্য উদ্বেগজনক। এটি সমাধানের জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
ফরিদপুর সাহিত্য ও সংস্কৃতি উন্নয়ন সংস্থার আহ্বায়ক আইনজীবী তৌহিদুল ইসলাম স্ট্যালিন জানান, ফরিদপুরের আইনজীবী সমাজ এই প্রেক্ষাপটে সতর্কবার্তা দিয়েছেন যাতে আদালতের মর্যাদা ও আইনশৃঙ্খলা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। তারা বলছেন, আদালত হলো ন্যায়ের শেষ ঠিকানা, আর সেখানে সকল পক্ষের প্রতি শালীন ও সম্মানজনক আচরণ অপরিহার্য।
৯৭ দিন আগে
অবৈধভাবে সচিবালয়ে প্রবেশ, ৩ জনের জেল
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্র বাংলাদেশ সচিবালয়ের নিরাপত্তা জোরদার করেছে সরকার। এজন্য সচিবালয়ে প্রবেশ ও যানবাহন নিয়ন্ত্রণে কঠোর নজরদারি চালাচ্ছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এরই অংশ হিসেবে অবৈধভাবে সচিবালয় প্রবেশের কারণে ইতোমধ্যে তিনজনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দিবাগত মধ্যরাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রবেশের ক্ষেত্রে ‘বাংলাদেশ সচিবালয় প্রবেশ নীতিমালা–২০২৫’ যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে গত ২৫ জানুয়ারি সচিবালয়ে অননুমোদিতভাবে প্রবেশের দায়ে দুইজনকে আটক করে মন্ত্রণালয়ের মনিটরিং টিম।
আটকরা হলেন— মো. আলিফ শরীফ ও মো. আশিক। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিবালয় নিরাপত্তা শাখার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সই জাল করে তারা সচিবালয়ে প্রবেশ করেছিলেন যা সরকারি নির্দেশনার স্পষ্ট লঙ্ঘন।
জিজ্ঞাসাবাদে আরও জানা যায়, মো. আলিফ শরীফ দীর্ঘদিন ধরে সচিবালয়ে প্রবেশের জন্য অবৈধ পাস তৈরির সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং এর আগে একাধিক ব্যক্তিকে এ ধরনের পাস তৈরিতে সহায়তা করেছেন। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে মো. আলিফ শরীফকে ১ মাস এবং মো. আশিককে ৭ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
এ ঘটনার সূত্র ধরে এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে একই অপরাধে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে কর্মরত মো. দিদারুল আলমকে চিহ্নিত করা হয়। তাকেও ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ১ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, সচিবালয়ে অননুমোদিত যানবাহন প্রবেশের বিষয়টিও কঠোরভাবে নজরদারিতে রয়েছে। স্টিকারবিহীন ও মেয়াদোত্তীর্ণ স্টিকারযুক্ত গাড়ির প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।
সচিবালয়ের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের মনিটরিং ও অভিযান ভবিষ্যতেও নিয়মিতভাবে চলবে বলে জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
৯৭ দিন আগে
রাজবাড়ীর আদালত চত্বরে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে বিশৃঙ্খলার চেষ্টা, গ্রেপ্তার ৫
রাজবাড়ী জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি মো. শাহিন শেখ (৩৩) আদালতে হাজিরা দিয়ে ফেরার সময় দলীয় নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগে পুলিশ গতকাল (রবিবার) সন্ধ্যায় ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
রবিবার (২৫ জানুয়ারি) রাত ১১টার দিকে সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে রাজবাড়ীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. শামসুল হক গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
গ্রেপ্তাররা হলেন— সাজ্জাদ হোসাইন (২১), পরশ আলী শেখ ওরফে শান্ত (২০), জনি শেখ (১৬), তৌফিক আহম্মেদ তাহিম (১৭) এবং মুনজিল শেখ (১৭) নামের পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তারা প্রত্যেকেই ছাত্রলীগের কর্মী ও সমর্থক।
পুলিশের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার মামলাসহ একাধিক মামলার আসামী রাজবাড়ী জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. শাহিন শেখকে গত শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) কাতার পালিয়ে যাওয়ার সময় হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অভিবাসন থেকে অভিবাসন পুলিশ গ্রেপ্তার করে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, মামলার হাজিরা থাকায় পুলিশ কারাগার থেকে শাহিন শেখকে রবিবার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে আদালতে নিয়ে যায়। শুনানি শেষে আদালত থেকে বের করে কারাভ্যানে তোলার সময় দলীয় নেতা-কর্মী, সমর্থকরা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করেন। পুলিশ ছাত্রলীগ নেতা শাহিনকে নিয়ে দ্রুত আদালত চত্বর ত্যাগ করে কারা ভ্যানে তুলে তৎপর হলে নেতা-কর্মীরা দ্রুত সটকে পড়েন।
পুলিশ জানায়, এ ঘটনার পর গতকাল সন্ধ্যায় রাজবাড়ী সদর উপজেলার চরলক্ষ্মীপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে সাজ্জাদ হোসাইন (২১), পরশ আলী শেখ ওরফে শান্ত (২০), জনি শেখ (১৬), তৌফিক আহম্মেদ তাহিম (১৭) এবং মুনজিল শেখ (১৭) নামের পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তারা প্রত্যেকেই ছাত্রলীগের কর্মী ও সমর্থক।
উল্লেখ্য, শাহিন শেখ রাজবাড়ী জেলা শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি। তিনি রাজবাড়ী সদর উপজেলার চরলক্ষ্মীপুর গ্রামের বাসিন্দা। ২০২২ সালের মার্চ মাসে তিনি রাজবাড়ী জেলা ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্ব পান। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন। তার বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা, গুলিবর্ষণ, হত্যাচেষ্টাসহ চারটি মামলা রয়েছে।
রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোন্দকার জিয়াউর রহমান আজ (সোমবার) সকালে জানান, আদালত চত্বরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টার অভিযোগে রবিবার সন্ধ্যায় ছাত্রলীগের পাঁচ কর্মী ও সমর্থককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ব্যাপারে ২০২৪ সালের ৩০ আগস্ট সদর থানায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলার মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাদের আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।
৯৯ দিন আগে
আ.লীগ নেতাকে ধরতে গিয়ে হামলার শিকার, ৩ পুলিশ সদস্য আহত
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে কার্যক্রম নিষিদ্ধ উপজেলা আওয়ামী লীগের এক নেতাকে ধরতে গিয়ে পুলিশের ওপর হামলা হয়েছে। এ ঘটনায় তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। এ সময় হামলাকারীরা পুলিশের দুটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে।
রবিবার (২৫ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার কাটাবাড়ি ইউনিয়নের বাগদা বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন— গোবিন্দগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সেলিম রেজা, কায়েস ও মমিনুল।
পুলিশ জানায়, গতকাল (রবিবার) রাত সাড়ে ৮টার দিকে ওই এলাকায় উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক এবং কাটাবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জোবায়ের হাসান শফিক মাহমুদ গোলাপকে গ্রেপ্তার করতে তার বাড়িতে যায় পুলিশ। এ সময় বাড়ির ভেতরে পুলিশ সদস্যদের অবরুদ্ধ করে মারধর শুরু করে হামলাকারীরা। সেই সঙ্গে পুলিশের দুটি মোটরসাইকেলেও ভাঙচুর চালানো হয়।
হামলায় এসআই সেলিম রেজা এবং এসআই কায়েস আহত হন। পরে পুলিশ সুপার জসিম উদ্দীনের নির্দেশে সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) এবিএম রশীদুল বারীর নেতৃত্বে পুলিশের আরেকটি দল গিয়ে তাদের গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করে।
ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে এলাকায় তল্লাশি অভিযান চালায় সেনাবাহিনী।
এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছেন গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক।
৯৯ দিন আগে
চানখারপুল হত্যা মামলা: ৩ পুলিশ কর্মকর্তার মৃত্যুদণ্ড
জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে চানখারপুলে ৬ জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ তিন পুলিশ কর্মকর্তাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। মৃত্যুদণ্ড পাওয়া অপর দুজন হলেন ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী এবং রমনা অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপ-কমিশনার শাহ আলম মো. আখতারুল ইসলাম।
এছাড়া রমনা অঞ্চলের সাবেক সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ ইমরুলকে ৬ বছরের কারাদণ্ড; শাহবাগ থানার সাবেক পুলিশ পরিদর্শক আরশাদ হোসেনকে ৪ বছরের কারাদণ্ড এবং ওই থানার তিন পুলিশ কনস্টেবল মো. সুজন, ইমাজ হোসেন ইমন ও নাসিরুল ইসলামকে ৩ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় দেন। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে এই মামলায় শুনানি করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম ও প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম। তার সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামীম, সহিদুল ইসলাম ও আবদুল্লাহ আল নোমানসহ অপর প্রসিকিউটররা।
অন্যদিকে, আসামি ইমাজ হোসেন ইমনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মো. জিয়াউর রশিদ এবং পলাতক চার আসামির পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হিসেবে ছিলেন কুতুবউদ্দিন আহমেদ।
রায়ের পর চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, সব আসামির বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে, কিন্তু রায় ন্যায়সঙ্গত হয়নি।
তিনি আরও বলেন, তবে ট্রাইব্যুনাল রায় যেটা দিয়েছেন তা মানতে হবে। তবে এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে।
এই মামলায় গ্রেপ্তার চার আসামি হলেন— শাহবাগ থানার সাবেক ওসি (অপারেশন) মো. আরশেদ হোসেন, কনস্টেবল মো. সুজন মিয়া, মো. ইমাজ হোসেন ইমন ও মো. নাসিরুল ইসলাম। তবে ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী ও রমনা অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) শাহ আলম মো. আখতারুল ইসলাম ও সাবেক সহকারী কমিশনার (এসি) মোহাম্মদ ইমরুল পলাতক রয়েছেন।
এর আগে, গত মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) এ মামলার রায় ঘোষণা করার কথা ছিল। ওইদিন রায় প্রস্তুত না হওয়ায় পিছিয়ে সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট চানখাঁরপুল এলাকায় শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে পুলিশ গুলি চালায়। এতে শাহরিয়ার খান আনাস, শেখ মাহদী হাসান জুনায়েদ, মো. ইয়াকুব, মো. রাকিব হাওলাদার, মো. ইসমামুল হক ও মানিক মিয়া শাহরিক শহিদ হন। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা করা হয়।
গত ১১ আগস্ট চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন শেষে এই মামলার প্রথম সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেন শহিদ আনাসের বাবা সাহরিয়ার খান পলাশ। এরপর শহিদ আনাসের মা ও নানাসহ মোট ২৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন করা হয়। এই মামলায় সাক্ষ্য দেন সাবেক স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া।
৯৯ দিন আগে
চানখারপুল হত্যা মামলার রায় আজ
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রাজধানীর চানখারপুলে ৬ জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় আজ (সোমবার) ঘোষণা করা হবে।
গত মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) এ মামলার রায় ঘোষণা করার কথা ছিল। ওইদিন রায় প্রস্তুত না হওয়ায় পিছিয়ে সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল।
এর আগে, প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম জানিয়েছিলেন, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ-ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে এ রায় দেবেন ট্রাইব্যুনাল-১।
প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে রায়ের জন্য ২০ জানুয়ারি দিন নির্ধারণ করেছিলেন। ২৪ ডিসেম্বর ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ তারিখ ধার্য করেন। ওই দিন আসামি ইমাজ হোসেন ইমনের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন আইনজীবী মো. জিয়াউর রশিদ। পরে পলাতক ৪ আসামির হয়ে যুক্তি তুলে ধরেন স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী কুতুবউদ্দিন আহমেদ। প্রসিকিউশনের পক্ষে পাল্টা যুক্তি খণ্ডন করেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম। সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর সহিদুল ইসলাম, আবদুল্লাহ আল নোমানসহ অন্যরা।
ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ মোট ৮ জন এই মামলার আসামি। এর মধ্যে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে আছেন ৪ জন। এরা হলেন— শাহবাগ থানার সাবেক পরিদর্শক (অপারেশন) মো. আরশাদ হোসেন, কনস্টেবল মো. সুজন মিয়া, মো. ইমাজ হোসেন ইমন ও মো. নাসিরুল ইসলাম।
পলাতক বাকি ৪ আসামি হলেন— সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, রমনা অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার শাহ আলম মো. আখতারুল ইসলাম এবং সাবেক সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ ইমরুল।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট চানখারপুল এলাকায় শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে পুলিশের নির্বিচার গুলিতে শাহরিয়ার খান আনাস, শেখ জুনায়েদ, মো. ইয়াকুব, মো. রাকিব হাওলাদার, মো. ইসমামুল হক ও মানিক মিয়া শাহরিক নিহত হন। এ ঘটনায় আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় গত ১৪ জুলাই তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছিলেন আদালত।
৯৯ দিন আগে
রাজশাহীতে অস্ত্রসহ দুই জন আটক
রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায় সেনাবাহিনীর অভিযানে ‘সিক্স স্টার গ্রুপের’ দুই সদস্যকে আটক করা হয়েছে। অভিযানে তাদের কাছ থেকে একটি ওয়াকিটকি সেট ও একটি রাইফেল উদ্ধার করা হয়।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) ভোরে উপজেলার তাহেরপুর পৌরসভার মথুরাপুর এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়।
গ্রেপ্তার দুজন হলেন মথুরাপুর এলাকার বাসিন্দা আবদুল হালিম (২৯) ও আবু বাশার (২৭)।
পুলিশ জানায়, সেনাবাহিনীর বাগমারা ক্যাম্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মেজর আসিফ রায়হানের নেতৃত্বে একটি দল ভোরে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের সময় নিজ নিজ বসতবাড়ি থেকে হালিম ও বাশারকে আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি ওয়াকিটকি সেট এবং একটি রাইফেল উদ্ধার করা হয়। পরে সেনাবাহিনী আটক দুজনকে বাগমারা থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তাহেরপুর এলাকায় ‘সিক্স স্টার গ্রুপের’ আত্মপ্রকাশ ঘটে। তারা ওয়াকিটকি ব্যবহার করে এলাকায় চলাচল ও প্রভাব বিস্তার করত। পুকুর খননসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও তাদের জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদুল আলম বলেন, সেনাবাহিনীর অভিযানের শেষ পর্যায়ে পুলিশ সহযোগিতা করেছে। গতকাল (শুক্রবার) সকালে আটকদের থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগ ও অপরাধের তথ্য যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মামলা করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয় তাদের।
১০১ দিন আগে
সুন্দরবনে দুই বছরে ৫৭ বনদস্যু গ্রেপ্তার, ৪৩টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার
সুন্দরবনে দস্যু ও ডাকাত দমনে কোস্ট গার্ডের অভিযানে গত দুই বছরে ৫৭ জন বনদস্যু ও ৪৩টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে শুধু ২০২৫ সালেই গ্রেপ্তার হয়েছে ৪৯ জন। কোস্ট গার্ড সদর দপ্তর সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
কোস্ট গার্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে মাত্র ৮ জন দস্যু গ্রেপ্তার হলেও ২০২৫ সালে সেই সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়ে দাঁড়ায় ৪৯ জনে। গত দুই বছরে দস্যুদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ৪৩টি আগ্নেয়াস্ত্র, ৫টি হাতবোমা, ৭৮টি দেশি অস্ত্র এবং বিপুল পরিমাণ গুলি ও অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম।
২০২৫ সালে দস্যু বিরোধী অভিযানে ৪৪৮টি কার্তুজ উদ্ধার করার পাশাপাশি জিম্মি দশা থেকে ৫২ জন নারী-পুরুষকে উদ্ধার করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ২০২৪ সালে উদ্ধার করা অস্ত্রের তালিকায় ৫টি আগ্নেয়াস্ত্রের পাশাপাশি ইয়াবা ও স্প্লিন্টার বলও ছিল।
কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, গত এক বছরে সুন্দরবনে অন্তত ২৭টি সফল অভিযান পরিচালিত হয়েছে। এসব অভিযানে আছাবুর বাহিনী, হান্নান বাহিনী, আনারুল বাহিনী, মঞ্জু বাহিনী, রাঙ্গা বাহিনীসহ প্রায় ১০টি ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্যদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
কোস্ট গার্ডের কমান্ডার লে. কর্নেল সিয়াম বলেন, সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত রাখতে এবং পর্যটক ও বনজীবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে টহল ও অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে।
১০২ দিন আগে