অর্থ আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে করা একটি মামলায় আওয়ামী লীগের সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদসহ ৩৬ জনের বিচার শুরু হয়েছে।
বুধবার (১১ মার্চ) সকালে চট্টগ্রাম বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মিজানুর রহমান খান আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের নির্দেশ দেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মো. মোকাররম হোসাইন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, আদালত সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করেন ৫ এপ্রিল। একইসঙ্গে পলাতক জাবেদসহ ২৮ আসামির নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা করা হয়েছে। এই মামলায় কারাগারে রয়েছেন ৮ জন। ব্যাংক থেকে ঋণের নামে নিয়ে ২৫ কোটি টাকা লোপাট এবং বিদেশে পাচারের অভিযোগে দুদক গত বছরের ২৪ জুলাই মামলাটি করে।
সাবেক মন্ত্রী সাইফুজ্জামানের বিরুদ্ধে এই প্রথম কোনো দুর্নীতি মামলায় বিচার শুরু হলো বলে জানান পিপি মো. মোকাররম হোসাইন ।
মামলার বিবরণে বলা হয়, ২০১৮ সালের আগস্ট থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত সময়কালে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসির পোর্ট শাখা, চট্টগ্রাম ও প্রধান কার্যালয়, ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে পরিকল্পিতভাবে এই অপরাধ সংঘটিত হয়।
তদন্তে উঠে এসেছে, সাইফুজ্জামান চৌধুরীর মালিকানাধীন আরামিট লিমিটেডের প্রোটোকল কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফরমান উল্লাহ চৌধুরীকে ব্যবসায়ী সাজিয়ে ‘ভিশন ট্রেডিং’ নামের একটি কাগুজে প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী দেখানো হয়। মিথ্যা তথ্য ও জাল কাগজপত্রের মাধ্যমে ১৩ অক্টোবর ২০১৯ তারিখে ইউসিবি পোর্ট শাখায় একটি চলতি হিসাব খোলা হয়।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, ওই শাখার জেষ্ঠ্য কর্মকর্তা মো. আকরামউল্লাহ এবং তৎকালীন শাখা প্রধান ও ডেপুটি প্রিন্সিপাল কর্মকর্তা আবদুল হামিদ চৌধুরী কোনো প্রকার যাচাই-বাছাই ছাড়াই বিধিবহির্ভূতভাবে হিসাবটি অনুমোদন দেন।
পরবর্তীতে ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০ তারিখে ভিশন ট্রেডিংয়ের নামে গম, মসুর, ছোলা ও হলুদ মটর কেনার কথা উল্লেখ করে ১৮০ দিনের জন্য ২৫ কোটি টাকার টাইম লোনের আবেদন করা হয়। মিথ্যা স্টক, অভিজ্ঞতা ও গুদাম-সংক্রান্ত তথ্য দেখিয়ে কোনো জামানত ছাড়াই ঋণ প্রদানের সুপারিশ করা হয়।
ইউসিবির কর্পোরেট ব্যাংকিং ও ক্রেডিট রিস্ক ম্যানেজমেন্ট ডিভিশনের যৌথ কমিটি ১৭টি নেতিবাচক পর্যবেক্ষণসহ ঋণ প্রস্তাবটি পরিচালনা পর্ষদের কাছে উপস্থাপন করে। এসব নেতিবাচক দিক উপেক্ষা করেই ১২ মার্চ ২০২০ তারিখে অনুষ্ঠিত ব্যাংকের ৪৪৮তম পরিচালনা পর্ষদ সভায় ঋণটির চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়।
ঋণ বিতরণের পর অর্থের গতিপথ আড়াল করতে ২০২০ সালের ২৩ ও ২৪ মার্চ যথাক্রমে ১০ কোটি ও ১৫ কোটি টাকা প্রথমে ব্যাংকের জেনারেল লেজার হিসাবে স্থানান্তর করা হয়। পরে পে-অর্ডারের মাধ্যমে অর্থ চারটি কাগুজে প্রতিষ্ঠান—আলফা ট্রেডার্স, ক্ল্যাসিক ট্রেডিং, মডেল ট্রেডিং ও ইম্পেরিয়াল ট্রেডিংয়ের হিসাবে পাঠানো হয়।
দুদক জানায়, এসব প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারীরা মূলত সাইফুজ্জামান চৌধুরীর মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী ও সহযোগী। পরবর্তীতে এই অর্থ আরামিট সিমেন্ট পিএলসি ও আরামিট থাই অ্যালুমিনিয়াম লিমিটেডের হিসাবে স্থানান্তর করে প্রায় ১৪ কোটি ১১ লাখ টাকা পূর্ব দায় সমন্বয়ে ব্যবহার করা হয়।
এছাড়া আরামিট গ্রুপের কয়েকজন কর্মচারী ৯ কোটি ৪১ লাখ ৭ হাজার ২০০ টাকা নগদ উত্তোলন করে হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করেছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
দুদক সূত্র জানায়, এ ঘটনায় সাইফুজ্জামান চৌধুরী, তার স্ত্রী ও ইউসিবি পিএলসির সাবেক চেয়ারম্যান রূকমিলা জামানসহ মোট ৩৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়।