সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে অর্থ পাচার, ব্যাপক অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং বদলি ও অন্যান্য প্রশাসনিক সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে আর্থিক লেনদেনের নতুন অভিযোগ তদন্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার এবং পর্তুগাল, দুবাই, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া ও সুইস ব্যাংকে সম্পদ গড়ে তোলা। আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে চলমান একটি অনুসন্ধানের সঙ্গে নতুন অভিযোগগুলো যুক্ত করে তদন্ত করবে দুদক।
রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে নিয়মিত মিডিয়া ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান কমিশনের জনসংযোগ বিভাগের সহকারী পরিচালক মো. তানজির আহমেদ।
দুদক কর্মকর্তা বলেন, উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নিয়োগ, ডিসি পদায়ন, বিভিন্ন সিটি করপোরেশন ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডার, নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতিতে আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, সেতু নির্মাণ, সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার ও শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম প্রকল্পে ব্যয় বাড়িয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে বলেও জানান তিনি।
সেই সঙ্গে বিদেশে বিপুল অর্থ পাচার করে পর্তুগাল, দুবাই, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া ও সুইস ব্যাংকে সম্পদ গড়ার অভিযোগ রয়েছে।
তানজির আহমেদ বলেন, আসিফ মাহমুদের বাবা, তার সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) ও ব্যক্তিগত কর্মকর্তার (পিও) বিরুদ্ধেও ঠিকাদারি সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ, ঘুষ লেনদেনের তদবির ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়েছে।
অভিযোগটি যাচাই-বাছাই শেষে কমিশন চলমান অনুসন্ধানের সঙ্গে সংযুক্ত করে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা জানেন, একটি অভিযোগ ইতোমধ্যে অনুসন্ধানে রয়েছে। সেই চলমান অনুসন্ধানের সঙ্গে সংযুক্ত করে এই অভিযোগটি অনুসন্ধান করা হবে।’
এদিকে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আসিফ মাহমুদ। এসব অভিযোগকে ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ ও ‘চরিত্র হনন’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন তিনি। রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ‘অভিযোগ বনাম বাস্তবতা’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ নিয়ে কথা বলেন আসিফ মাহমুদ।
নিজেই এসব অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করেছেন দাবি করে আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘বিএনপির সময়ে হওয়া পদোন্নতি, বদলির জন্য আমার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান হচ্ছে। মানে সার্কাসেরও একটা সীমা থাকা উচিত। ক্লিয়ারলি, মিডিয়া ট্রায়ালে ফেলা হচ্ছে আমাকে।’