সাভারের আশুলিয়ায় রাষ্ট্রপতির সই ও সিল জাল করার অভিযোগে একটি মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার (৭ অক্টোবর) আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ভোরে আশুলিয়ার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ড. মোহাম্মদ নিয়ামতুল্লাহ (৫০) ও উপপরিচালক (প্রশাসন) সৈয়দ সানজিদ (৪৫)।
এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় এজাহারভুক্ত পাঁচজনসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে। অন্য এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন মাদরাসার পরিচালক সৈয়দ আলী রায়হান ওরফে রুন্নান, জামগড়ার বাসিন্দা গাজী লিটন ও বিপ্লব।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আশুলিয়ার শ্রীপুর এলাকায় অবস্থিত তাহফিজুল কুরআনিল কারিম ফাজিল মাদরাসার প্রস্তাবিত এডহক কমিটির একটি তালিকা অনুমোদনের জন্য মাদরাসার নিজস্ব প্যাডে একটি আবেদন তৈরি করা হয়। এরপর রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সিল ও রাষ্ট্রপতির সই জাল করে আবেদনটি ঢাকার বছিলায় অবস্থিত ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ে জমা দেওয়া হয়।
প্রক্রিয়ার একপর্যায়ে বিষয়টি রাষ্ট্রপতির নজরে আসার পর তিনি এ নিয়ে অসন্তোষ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং স্পষ্ট জানিয়ে দেন, সইটি তার নয় এবং এটি জাল। পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের পুলিশ লিয়াজোঁ অফিসারের (পিএলও) মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সুপার (এসপি) ও ডিআইজি কার্যালয়কে বিষয়টি অবহিত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপর আশুলিয়া থানার একটি দল অভিযান চালিয়ে দুজনকে হেফাজতে নেয়।
আসামিদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, গত ৮ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টার মধ্যে কোনো এক সময়ে মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের কার্যালয়ে বসেই আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে রাষ্ট্রপতির সই ও সিল জাল করেন।
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষসহ এজাহারভুক্ত দুজনকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।