শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) হলের খাবারের মান নিয়ে কথা বলায় এক শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের দুই নেতাকে চার সেমিস্টারের জন্য বহিষ্কার করেছে প্রশাসন। একই সঙ্গে তারা দুই বছর ক্যাম্পাসে অবস্থান ও প্রবেশ করতে পারবেন না বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাত ১০টায় অনলাইনে অনুষ্ঠিত জরুরি সিন্ডিকেট সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক জহির বিন আলম।
বহিষ্কৃত দুই শিক্ষার্থী হলেন— পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যোগাযোগ সম্পাদক হাসিবুর রহমান এবং পরিসংখ্যান বিভাগের একই শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদলের শাখা সহ-দপ্তর সম্পাদক তারেক রহমান। তারা শাহপরান হলের আবাসিক শিক্ষার্থী।
সাংগঠনিক শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে গত রবিবার (১৯ জুলাই) তাদের দুজনকে দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়।
সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক জহির বিন আলম বলেন, ‘তদন্ত ও শৃঙ্খলা কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী সিন্ডিকেট এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তারা দুই বছর পর নিয়মিত শিক্ষার্থী হলেও আবাসিক হলের শিক্ষার্থী হতে পারবে না।’
এছাড়া ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর শারীরিক ও মানসিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তার চিকিৎসার সমস্ত ব্যয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বহন করবে বলে জানান তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ক্যান্টিনের খাবারের মান নিয়ে হলের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে অভিযোগ করায় গত ১৮ জুলাই শনিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগে উঠে শাখা ছাত্রদলের ওই দুই নেতার বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগী খাইরুল খন্দকার সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও শাহপরাণ হলের আবাসিক শিক্ষার্থী। মারধরের পর আহত অবস্থায় তাকে সিলেট নগরীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।