আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে একটি স্কুলের কাছে গ্রেনেড হামলায় অর্ধশতাধিক শিশু আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় সময় সোমবার (১৭ আগস্ট) বিকেলে কাবুলের দাশত-ই-বারচি এলাকায় অবস্থিত শিয়া মুসলিম অধ্যুষিত একটি এলাকায় ওই বিস্ফোরণ হয়।
কাবুল পুলিশের মুখপাত্র খালিদ জাদরান সোমবার রাতে বলেন, হামলায় ‘বেশ কয়েকজন শিশু’ আহত হয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত চলছে বলেও জানান তিনি। তবে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।
আফগানিস্তানে জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদক রিচার্ড বেনেট মঙ্গলবার আগের দিনের হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেন, স্কুলের কাছে বহু শিশুকে আহত করা এই জঘন্য হামলার নিন্দা জানাচ্ছি।
আফগান গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, বিস্ফোরণে অর্ধশতাধিক শিশু আহত হয়েছে। রাজধানীর যে এলাকায় বিস্ফোরণটি ঘটেছে, সেখানে প্রধানত হাজারা জাতিগোষ্ঠীর মানুষ বসবাস করেন।
আফগানিস্তানের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৯ শতাংশ হাজারা সম্প্রদায়ের মানুষ। দেশটিতে দীর্ঘদিন ধরে তারা হামলা ও নিপীড়নের শিকার হয়ে আসছেন। হাজারা সম্প্রদায়ের অধিকাংশই শিয়া মুসলিম। সুন্নি সংখ্যাগরিষ্ঠ আফগানিস্তানে ইসলামিক স্টেটের মতো সুন্নি উগ্রপন্থি গোষ্ঠীগুলো অতীতে বারবার তাদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে তারা বৈষম্যেরও শিকার হয়েছেন।
২০২১ সালের মে মাসে তালেবান আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখলের কয়েক মাস আগে কাবুলের একটি স্কুলে তিনটি বোমা হামলায় বহু মানুষ নিহত হন। নিহতদের সবাই ছিলেন হাজারা সম্প্রদায়ের এবং অধিকাংশই ছিলেন স্কুল ছুটি শেষে বের হওয়া কিশোরী।
সোমবার বিস্ফোরণের ঘটনা যে স্কুলের কাছে ঘটেছে, সেই স্কুলটিও কাবুলের দাশত-ই-বারচি এলাকায় অবস্থিত। রাজধানীর এই এলাকাটি হাজারা সম্প্রদায়ের প্রধান আবাসিক এলাকা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বেনেট বলেন, হামলার জন্য দায়ীদের বিচারের আওতায় আনতে একটি স্বাধীন তদন্ত করা জরুরি।
তিনি লিখেছেন, ‘আবারও কাবুলের হাজারা অধ্যুষিত এই এলাকাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। নিন্দনীয়!’