শিশু
ময়মনসিংহ মেডিকেলে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও এক শিশুর মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৭৮
হামের উপসর্গ নিয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ৩ মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এই হাসপাতালে মোট ১৪ শিশুর মৃত্যু হলো। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ৩৪ শিশু ভর্তি হয়েছে। এখন পর্যন্ত চিকিৎসাধীন রয়েছে মোট ৭৮ শিশু।
রবিবার (১৯ এপ্রিল) সকালে হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডের ফোকালপারসন সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহা. গোলাম মাওলা এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, গত ৯ এপ্রিল কিশোরগঞ্জের সদর উপজেলা থেকে হামের লক্ষণ নিয়ে ৩ মাস বয়সী এক ছেলে শিশুকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। হাসপাতালে ভর্তি থাকা অবস্থায় তাকে যথাযথ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছিল। এরই মধ্যে গতকাল (শনিবার) দুপুরে হাম-পরবর্তী নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টে শিশুটি মারা যায়।
আইসোলেশন ওয়ার্ডের ফোকালপারসন আরও বলেন, গত ১৭ মার্চ থেকে রবিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত হামের লক্ষণ নিয়ে মোট ৬১১ শিশু ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ৫১৯টি শিশু এবং ১৪টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে আরও ৭২টি শিশু।
তিনি জানান, সর্বনিম্ন ৩ মাস থেকে ১০ বছর বয়সী রোগী হাসপাতালে ভর্তি আছে। তবে ৬ মাস থেকে ১ বছর বয়সী শিশুর সংখ্যা বেশি।
এ বিষয়ে মমেক হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান বলেন, তিনটি মেডিকেল টিম গঠন করে হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। সব রোগীদের যথাযথ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, এই হাসপাতালে লোকবল ও যন্ত্রপাতির অভাবে এখনও শিশুদের আইসিইউ চালু করা সম্ভব হয়নি। তবে বর্তমানে সংকটাপন্ন অবস্থার শিশুদের জন্য অক্সিজেন সিলিন্ডারের বিকল্প বাবল সিপ্যাপ ব্যবহার করা হচ্ছে।
৮ ঘণ্টা আগে
২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে ৫ শিশুর মৃত্যু
সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামে আক্রান্ত ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে ৩ জন হাম আক্রান্ত হয়েই মারা গেছে বলে নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। বাকি শিশুর মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গ নিয়ে।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এসব তথ্য জানানো হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত হাম ও হাম সন্দেহে ৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া ১৫ মার্চের পর থেকে এ পর্যন্ত হামে ৩৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে সন্দেহভাজন হামজনিত মৃত্যুর সংখ্যা ১৭৪ জন।
১৫ মার্চের পর থেকে এ পর্যন্ত নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছে ৩ হাজার ১৯২ জন। একই সময়ে সন্দেহভাজন হামে আক্রান্তের সংখ্যা ২১ হাজার ৪৬৭ জন।
এ পর্যন্ত হাম সন্দেহে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১৩ হাজার ৮৯৮ জন এবং হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ১১ হাজার ২৪৩ জন।
২ দিন আগে
মানিকগঞ্জে শিশুকে হত্যার অভিযোগে ‘গণপিটুনি’, নিহত ২
মানিকগঞ্জ সদর উপজেলায় ৮ বছর বয়সি এক এক শিশুকে হত্যার অভিযোগে গণপিটুনিতে দুই ভাই নিহত হয়েছেন। গুরুতর আহত হয়েছেন আরেকজন।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকেলে হাটিপাড়া ইউনিয়নের বনপারিল (কান্দুরপার ব্রিজ) এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গতকাল (বৃহস্পতিবার) বিকেল ৫টার দিকে ওই এলাকার দুদুল মিয়ার মেয়ে আতিকা হঠাৎ নিখোঁজ হয়। পরিবারের সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি ছড়িয়ে দেন এবং এলাকায় মাইকিং করে খোঁজ শুরু করেন। কিন্তু দীর্ঘ সময়েও তার কোনো সন্ধান মেলেনি।
পরে রাত ১০টার দিকে বাড়ির পাশের একটি ভুট্টাক্ষেতে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় আতিকার নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। এ দৃশ্য মুহূর্তেই এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে, সৃষ্টি হয় তীব্র ক্ষোভের। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, শিশুটির পরনে থাকা স্বর্ণালঙ্কার লুটের উদ্দেশ্যেই তাকে হত্যা করা হয়েছে।
ঘটনার পরপরই জড়িত সন্দেহে স্থানীয় উত্তেজিত জনতা পান্নু মিয়া, তার ভাই ফজলুর রহমান ও ছেলে নাজমুলকে আটক করে ধোলাই দেয়। এতে পান্নু (৩৫) ও ফজলু (২৮) ঘটনাস্থলেই নিহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় নাজমুলকে (২০) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
খবর পেয়ে মানিকগঞ্জ সদর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এলাকাবাসী জানায়, নাজমুল মাদকাসক্ত ছিল। নেশার জন্য মেয়েটিকে হত্যা করে তার কানে থাকা স্বর্ণালংকার লুটে নেয় বলে অভিযোগ তাদের।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইকরাম হোসেন জানান, শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একইসঙ্গে গণধোলাইয়ের ঘটনাতেও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, এ ঘটনায় এখনও কোনো পক্ষ থেকে থানায় মামলা হয়নি।
পুলিশ সুপার মো. সারওয়ার আলম বলেন, ঘটনা তদন্তে মাঠে কাজ করছে পুলিশ। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। মামলা হওয়ার পর অধিকতর তদন্ত শেষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
২ দিন আগে
পটুয়াখালীতে লঞ্চে শিশুকে ফেলে রেখে ‘বাবা’ উধাও
পটুয়াখালীর বাউফলে ঢাকাগামী ডাবল ডেকার লঞ্চ বন্ধন-৫-এ একটি মেয়ে শিশুকে রেখে এক ব্যক্তি পালিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তিনি নিজেকে শিশুটির বাবা বলে পরিচয় দিয়েছিলেন। শিশুটির বয়স ৬ থেকে ৮ মাস বলে ধারণার কথা জানিয়েছে লঞ্চ কর্তৃপক্ষ।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার কালাইয়া লঞ্চঘাটে এ ঘটনা ঘটে।
লঞ্চের একাধিক যাত্রী ও লঞ্চ কর্তৃপক্ষ জানায়, গতকাল (বুধবার) বিকেল ৪টার দিকে কালাইয়া লঞ্চঘাট থেকে লঞ্চটি ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। এরপর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ধুলিয়া লঞ্চঘাটে নোঙর করলে এক ব্যক্তি ওই শিশুটিকে নিয়ে লঞ্চে ওঠেন। তিনি নিজেকে শিশুটির বাবা পরিচয় দিয়ে অন্য যাত্রীদের সঙ্গে বিছানা বিছিয়ে বসেন। তবে কিছু সময় পর শিশুটিকে রেখে লঞ্চ থেকে নেমে যান তিনি।
মো. সোহেল নামে এক যাত্রী বলেন, ওই ব্যক্তি ধুলিয়া ঘাট থেকে লঞ্চে উঠেন। লঞ্চে ওঠার কিছুক্ষণ পর বাচ্চাটির মা আসবে বলে তিনি লঞ্চ থেকে নেমে যান। লঞ্চ থেকে নামার সময় পাশের সিটের যাত্রীদের বাচ্চার প্রতি খেয়াল রাখার অনুরোধ জানিয়ে যান।
তবে লঞ্চটি ধুলিয়া ঘাট ত্যাগ করার পরও শিশুটির মা-বাবা কিংবা কোনো স্বজন লঞ্চে আসেননি। একপর্যায়ে বাচ্চাটি চিৎকার করতে থাকে। পরে যাত্রীরা বিষয়টি লঞ্চ কর্তৃপক্ষকে জানান। এরপর লঞ্চ কর্তৃপক্ষ বাচ্চাটিকে কয়েকজন নারী যাত্রীর হেফাজতে রাখেন।
এ বিষয়ে এমভি বন্ধন-৫ লঞ্চের সুপারভাইজার মো. সজল বলেন, কী কারণে শিশুটিকে রেখে লোকটি উধাও হয়ে গেছে তা বলতে পারছি না। শিশুটি কয়েকজন নারী যাত্রীর কাছে রয়েছে। খোঁজ-খবর নিয়ে শিশুটির পরিবারের সন্ধান করার চেষ্টা চলছে।
কালাইয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আল মামুন বলেন, বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে জেনেছি। ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
৩ দিন আগে
হামের উপসর্গ নিয়ে ওসমানী হাসপাতালে আরও ২ শিশুর মৃত্যু
হাম-রুবেলার সংক্রমণে উদ্বেগ বাড়ছে সিলেটে। এই রোগের উপসর্গ নিয়ে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক দিনে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে সেখানে শিশু মৃত্যুর সংখ্যা ৫ জনে পৌঁছেছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) হাসপাতালের উপপরিচালক মো. মাহবুবুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, গতকাল (বুধবার) রাতে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশু দুটি মারা যায়।
মারা যাওয়া দুই শিশুর মধ্যে হুজাইফা (১০ মাস) মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার আশিদুন এলাকার জাকির হোসেনের মেয়ে। অপর শিশু মো. আব্দুল্লাহর (১০ মাস) গ্রামের বাড়ি সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার পলভাগে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বুধবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হুজাইফের মৃত্যু হয়। সে হৃদ্যন্ত্র বিকলতা ও ব্রঙ্কোনিউমোনিয়ায় আক্রান্ত ছিল এবং হামের সন্দেহও ছিল। অন্যদিকে, একই দিন বিকেল পৌনে ৪টার দিকে পিআইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আব্দুল্লাহর মৃত্যু হয়। তাকে গত ১৩ এপ্রিল বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। চিকিৎসকদের প্রাথমিক ধারণা, শক, হৃদ্যন্ত্র বিকলতা, ব্রঙ্কোনিউমোনিয়া এবং হামজনিত জটিলতায় তার মৃত্যু হয়েছে।
শহিদ সামসুদ্দিন হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক মো. মিজানুর রহমান বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ২৩ জন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে ১১ জন প্রাপ্ত বয়স্ক, বাকিরা শিশু। এ নিয়ে হাসপাতালে ৬৭ জন রোগি ভর্তি রয়েছেন বলে জানান তিনি।
৩ দিন আগে
মমেক হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ২ শিশুর মৃত্যু
হামের উপসর্গ নিয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে ৯ ও ১০ মাস বয়সী দুই ছেলে শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এই হাসপাতালে মোট ১২ শিশুর মৃত্যু হলো। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ২৬ শিশু ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছে মোট ৭৩ শিশু।
রবিবার (১২ এপ্রিল) সকালে হাসপাতালের হাম মেডিকেল দলের ফোকাল পারসন সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহা. গোলাম মাওলা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, গত ২২ মার্চ ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলা থেকে হামের লক্ষণ নিয়ে ৯ মাস বয়সী এক ছেলে শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাকে যথাযথ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছিল। এরইমধ্যে শনিবার (১১ এপ্রিল) রাতে হাম-পরবর্তী নিউমোনিয়া ও শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত ব্যর্থতায় শিশুটির মৃত্যু হয়।
এছাড়া ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে হামের লক্ষণ নিয়ে ১০ মাস বয়সী আরেক ছেলে শিশুকে ১১ এপ্রিল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাকেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। পরে একই দিন সকালে হাম-পরবর্তী নিউমোনিয়া ও শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত ব্যর্থতায় শিশুটির মৃত্যু হয়।
ডা. গোলাম মাওলা আরও জানান, গত ১৭ মার্চ থেকে রবিবার (১২ এপ্রিল) সকাল ৯টা পর্যন্ত হামের লক্ষণ নিয়ে মোট ৩৯৭ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে ৩১২ শিশু সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে এবং ১২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ২৮ শিশু সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে ৭৩ শিশু।
তিনি বলেন, বর্তমানে হাসপাতালে সর্বনিম্ন ৩ মাস থেকে ১০ বছর বয়সী রোগী ভর্তি আছে। তবে ৬ মাস থেকে ১ বছর বয়সী শিশুর সংখ্যা বেশি।
এ বিষয়ে হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান বলেন, তিনটি মেডিকেল টিম গঠন করে হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। হাসপাতালে সব রোগীকে যথাযথ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে।
৭ দিন আগে
শিশুর অঙ্গহানি করে ভিক্ষাবৃত্তি: তিনজনের আমৃত্যু কারদণ্ডসহ ৫ জনের সাজা
রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর থানা এলাকায় সাত বছরের এক শিশুর অঙ্গহানি করে ভিক্ষাবৃত্তির করানোর দায়ে তিন জনের আমৃত্যু কারদণ্ডসহ মোট পাঁচজনকে সাজা দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক মুন্সী মো. মশিউর রহমান এই রায় দেন।
কারাদণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেকের পাঁচ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আসামিদের স্থাবর, অস্থাবর সম্পত্তি প্রকাশ্য নিলামে বিক্রি করে অর্থদণ্ডের টাকা আদায় করে ভুক্তভোগীর পরিবারকে দেওয়ার জন্য জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন— সালাউদ্দিন, মো. শরিফুল ইসলাম ওরফে কোরবান মিয়া এবং খন্দকার ওমর ফারুক। বয়স বিবেচনায় ১০ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি হলেন— মো. রমজান ও সাদ্দাম।
আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শরিফুল ইসলাম ও খন্দকার ওমর ফারুক কারাগারে আছেন। অন্য সবাই পলাতক। পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত ।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০১০ সালের ৬ মে কামরাঙ্গীরচর এলাকা থেকে সাত বছরের শিশুকে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে যান আসামিরা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, শিশুটিকে আজীবনের জন্য পঙ্গু করে ভিক্ষাবৃত্তিতে নিয়োজিত করতে নির্জন স্থানে নিয়ে তার লিঙ্গ কর্তন করেন এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্র ও ইট দিয়ে আঘাত করে গুরুতর জখম করেন তারা।
পরে শিশুটির মা তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করেন। এ ঘটনায় ওই নারী বাদী হয়ে কামরাঙ্গীরচর থানায় একটি মামলা করেন।
পরবর্তী সময়ে ২০১১ সালের ১৫ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা র্যাব-১-এর সহকারী পরিচালক এএসপি মোহাম্মদ আব্দুল বাতেন আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন। মামলাটির বিচার চলাকালে ২০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন আদালত।
১০ দিন আগে
বরিশালে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু
বরিশাল শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই নিয়ে বিভাগের ৬ জেলায় মোট ১২ শিশুর মৃত্যু হলো।
মৃতরা হলো ৫ মাস বয়সী ইমাম, বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার চরামদ্দি ইউনিয়নের পান্না খানের ছেলে, এবং ৯ মাস বয়সী আবু সালেহ, বরগুনার আমতলী উপজেলার বাসিন্দা আবু বক্করের ছেলে।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে শেবাচিম হাসপাতালের প্রশাসনিক শাখা জানায়, সর্বশেষ মৃত দুই শিশু, ইমাম গত ৬ এপ্রিল এবং আবু সালেহ ৭ এপ্রিল হাম উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়। এ নিয়ে শেবাচিম হাসপাতালে মোট তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মুশিউল মুনির জানান, বর্তমানে হাসপাতালে ৯১ জন হাম উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় ৩০ জন ভর্তি হয়েছেন। গত ২৪ ঘন্টায় ২৭ জন রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। এ পর্যন্ত এই হাসপাতালে মোট ৩১০ জন সন্দেহজনক হাম রোগী ভর্তি হয়েছেন।
বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. শ্যামল কৃষ্ণ মণ্ডল জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দুই শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এতে সন্দেহজনক হাম রোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১২ জনে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া বিভাগের ছয়টি জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ৭৬ জন সন্দেহজনক হাম রোগী ভর্তি হয়েছেন। এসব হাসপাতাল ৬২ জন ছাড়পত্র নিয়েছেন।
তিনি আরও জানান, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত বরিশাল বিভাগে ১ হাজার ৮০ জনের মধ্যে হাম উপসর্গ দেখা দিয়েছে। যার মধ্যে বিভিন্ন হাসপাতালে ৮২৭ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ৫২ জনের হাম নিশ্চিতভাবে শনাক্ত হয়েছে।
১০ দিন আগে
হামের উপসর্গ নিয়ে মমেকে আরও দুই শিশুর মৃত্যু
হামের উপসর্গ নিয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে আইসোলেশন ওয়ার্ডে ৩ ও ৮ মাস বয়সী আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এই হাসপাতালে মোট ৯ শিশুর মৃত্যু হলো।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকালে হাসপাতালের হাম মেডিকেল টিমের ফোকাল পারসন সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহা. গোলাম মাওলা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, গত ১৭ মার্চ নেত্রকোনা সদর উপজেলা থেকে হামের লক্ষণ নিয়ে ৩ মাস বয়সী একটি মেয়ে শিশুকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। তাকে যথাযথ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছিল। এরইমধ্যে গত বুধবার (৮ এপ্রিল) সকালে হাম-পরবর্তী নিউমোনিয়া ও শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত জটিলতায় শিশুটি মারা যায়।
এছাড়া ময়মনসিংহের ত্রিশাল থেকে হামের লক্ষণ নিয়ে ৮ মাস বয়সী একটি ছেলে শিশুকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছিল। তাকেও যথাযথ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছিল। তবে সেও হাম-পরবর্তী নিউমোনিয়া ও শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত জটিলতায় মারা গেছে বলে জানান এই স্বাস্থ্য কর্মকর্তা।
ডা. গোলাম মাওলা জানান, গত ১৭ মার্চ থেকে মঙ্গলবার (৯ এপ্রিল) সকাল ৯টা পর্যন্ত হামের লক্ষণ নিয়ে মোট ৩২৪ শিশু মমেক হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ২৩৯টি শিশু এবং ৯টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে আরও ২৬টি শিশু হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে ৭৬টি শিশু।
তিনি বলেন, সর্বনিম্ন ৩ মাস থেকে ১০ বছর বয়সী রোগী হাসপাতালে ভর্তি আছে। তবে হাসপাতালে ৬ মাস থেকে ১ বছর বয়সী শিশুর সংখ্যা বেশি।
এ বিষয়ে মমেক হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান বলেন, তিনটি মেডিকেল টিম গঠন করে হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। সব রোগীদের যথাযথ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে।
১০ দিন আগে
চট্টগ্রামে পানিভর্তি গর্তে পড়ে দুই শিশু নিহত
চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ইটভাটার মাটি কাটার পানিভর্তি গর্তে পড়ে সাকি (৮) ও সানজিদা (১১) নামে দুই শিশু নিহত হয়েছে।
শনিবার (৫ এপ্রিল) উপজেলার হারুয়ালছড়ি ইউনিয়নে সকালে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত সাকি ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের কলিম বাপের বাড়ির হাবিবুর রহমানের মেয়ে। নিহত সানজিদা একই বাড়ির জাকির হোসেনের মেয়ে।
এ বিষয়ে হারুয়ালছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন চৌধুরী জানান, বাড়ির পাশে ইটভাটার মাটি কাটার পানিভর্তি গর্তে পড়ে দুই শিশু নিহত হয়েছে। একজন পানিতে পড়ে গেলে অন্যজন তাকে বাঁচাতে গিয়ে দুজনই মারা যায়।
১৪ দিন আগে