শিশু
নাটোরে শিশু ধর্ষণের দায়ে যুবকের যাবজ্জীবন
নাটোরের সিংড়ায় তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের দায়ে আবু বকর সিদ্দিক (২১) নামে এক যুবককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নাটোরের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক জেলা জজ শারমিন আখতার এ রায় দেন।
রায়ে আসামিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করে তা আদায় করে তা ভুক্তভোগীকে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। জরিমানা অনাদায়ে তাকে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আব্দুল কাদের মিয়া জানান, গত বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি সিংড়া উপজেলার বিজয়নগর গ্রামের তৃতীয় শ্রেণির ওই শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে রাস্তা থেকে তাকে তুলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে একই এলাকার বখাটে যুবক আবু বকর সিদ্দিক।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পিতা ইমরান আলী বাদী হয়ে সিংড়া থানায় মামলা করলে তদন্ত শেষে চার্জশিট দাখিল করে পুলিশ। ঘটনার মাত্র দেড় বছরের মধ্যে নিম্ন আদালতে মামলাটির বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ করা হয় বলে জানান বিশেষ পিপি।
১ দিন আগে
প্রাপ্তবয়স্ক আসামিদের শিশু দেখানোয় ৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা
প্রাপ্তবয়স্ক চার আসামিকে শিশু হিসেবে দেখিয়ে জাল জন্মসনদ ও কাগজপত্র তৈরি করে জামিন নেওয়া, আদালতের অর্ডার শিটের আদেশ কাটাকাটি ও নথি গায়েবের অভিযোগে গাইবান্ধা জেলা বারের আইনজীবী, গোবিন্দগঞ্জ কোর্টের জিআরও ও মুহুরির বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আদেশটি গোবিন্দগঞ্জ থানায় পৌঁছালে এ ঘটনায় তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া শুরু করে পুলিশ। এর আগে গতকাল (বুধবার) গাইবান্ধা শিশু আদালত-২-এর বিচারক ও সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইফতেখার বিন আজিজ এ আদেশ দেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গোবিন্দগঞ্জ থানা পুলিশ বিভিন্ন মামলায় অভিযান চালিয়ে হ্যাকারসহ পলাশ রানা, সুমন মিয়া, শামীম চৌধুরী ও এনামুল হক নামের চারজনকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাদের কারামুক্ত করতে আত্মীয়স্বজনরা জেলা বারের আইনজীবী শেফাউল ইসলাম রিপনের পরামর্শ নেন।
অভিযোগ রয়েছে, আইনজীবী শেফাউল ইসলাম রিপন বড় অঙ্কের টাকার বিনিময়ে বিবাহিত যুবক এনামুল হককে নাবালক ও শিশু প্রমাণ করতে জাল জন্মসনদ তৈরি করেন। তিনটি মামলায় প্রাপ্তবয়স্ক আসামিকে শিশু হিসেবে দেখিয়ে জামিন করানোর অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এছাড়া আসামিদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে কোর্টের জিআরও পুলিশ সদস্য আব্দুস সবুর ও মুহুরি হাসান আলীর সহযোগিতায় আদালতের নথি গায়েব ও আদেশ কাটাকাটির অভিযোগ রয়েছে আইনজীবী শেফাউল ইসলামের বিরুদ্ধে। এভাবে ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে সাবালক আসামিদের নাবালক দেখিয়ে তাদের জামিন নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বিষয়টি নিয়ে আইনজীবী সারোয়ার হোসেন, মোত্তালিব হোসেনসহ কয়েকজন আইনজীবী আদালতে জামিনপ্রাপ্ত আসামিদের জামিন বাতিলের আবেদন করেন। শিশু আদালত-২-এর বিচারক বিষয়টি আমলে নিয়ে গোবিন্দগঞ্জ আমলী আদালতের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এস এম গালিব হাসানকে তদন্তভার দেন। গত ১৯ আগস্ট শিশু আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের পর অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়।
তদন্ত প্রতিবেদনে মূল অভিযুক্ত আইনজীবী শেফাউল ইসলাম রিপনের সনদ বাতিল, মুহুরি হাসান আলীর নিবন্ধনপত্র বাতিল ও দায়িত্বে অবহেলার কারণে গোবিন্দগঞ্জ চৌকি আদালতের তৎকালীন জিআরও পুলিশ সদস্য আব্দুস সবুরের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট।
সেই সঙ্গে এ ধরনের ঘটনাকে দেশের সামগ্রিক বিচার বিভাগের জন্য ‘কালো অধ্যায়’ বলে পর্যবেক্ষণ দেন আদালত।
এছাড়া শিশু আদালতের বিচারক মোহাম্মদ ইফতেখার বিন আজিজ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গোবিন্দগঞ্জ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বেঞ্চ সহকারীকে বাদী হয়ে গোবিন্দগঞ্জ থানায় মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন।
বুধবার আদেশ দেওয়া হলেও আজ (বৃহস্পতিবার) দুপুরে সেটি থানায় পৌঁছায়। পরে তিন অভিযুক্ত আইনজীবী, মুহুরি ও কোর্ট জিআরওর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া শুরু করে পুলিশ।
এ ব্যাপারে গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক বলেন, ‘আদেশটি পেয়েছি। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’
৪ দিন আগে
আইফোন কিনতে দেড় বছরের শিশুকে বিক্রি করলেন বাবা
সকালে দাদি মাহফুজা বেগমের কাছে গিয়ে বাবা বলেছিলেন, ‘মা, তোমার নাতিকে জামাকাপড় পরিয়ে দাও। ওকে নিয়ে বাজারে একটু ঘুরতে যাব।’
দেড় বছরের শিশু মুসাকে সাজিয়ে দেওয়ার পর তাকে নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান বাবা মো. মারুফ। কিন্তু দিন গড়িয়ে সন্ধ্যা হলেও বাবা-ছেলের কেউ আর বাড়িতে ফেরেননি।
উদ্বিগ্ন পরিবারের সদস্যরা শুরু করেন খোঁজাখুঁজি। এরপর তাদের সামনে আসে আরও বিস্ময়কর এক অভিযোগ—আইফোন কেনার জন্য নিজের দেড় বছরের শিশুপুত্রকে এক লাখ টাকায় বিক্রি করেছেন মারুফ।
পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার বেতাগী-সানকিপুর ইউনিয়নের বড় গোপালদী গ্রামের মুন্সিবাড়ি এলাকায় গতকাল শনিবার সকালে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। অভিযুক্ত মারুফ ওই গ্রামের মফিজ মুন্সির ছেলে এবং পেশায় একজন কাঠমিস্ত্রি।
শিশুটির দাদি ও স্থানীয় সূত্রের দাবি, গতকাল সকাল ৮টার দিকে মারুফ মুসাকে নিয়ে বাজারে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন। দীর্ঘ সময়েও তাদের কোনো খোঁজ না পাওয়ায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজ শুরু করেন। একপর্যায়ে মারুফের মামা বাহাদুর মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। পরে তাকে ঢাকায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে প্রথমে তিনি শিশুটির বিষয়ে কিছু স্বীকার করেননি বলে পরিবারের দাবি।
তবে পরে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে মারুফ স্বীকার করেন যে, আইফোন কেনার জন্য তিনি তার ছেলে মুসাকে দশমিনা উপজেলার আলীপুর ইউনিয়নের রোমানাথসেন গ্রামের ইমরান হোসেনের কাছে এক লাখ টাকায় লিখিতভাবে বিক্রি করেছেন।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, শিশুটিকে বিক্রি করে পাওয়া টাকা নিয়ে ঢাকায় গিয়ে একটি পুরোনো আইফোন বদলে নতুন একটি আইফোনও কিনেছেন মারুফ।
শিশুটির দাদি মাহফুজা বেগম বলেন, প্রায় চার বছর আগে সাভার থেকে বৃষ্টি নামে এক তরুণীকে বিয়ে করে বাড়িতে নিয়ে আসেন মারুফ। প্রায় তিন বছর পর তাদের ঘরে মুসার জন্ম হয়।
তিনি বলেন, প্রায় এক মাস আগে পারিবারিক বিষয় নিয়ে মারুফ ও তার স্ত্রীর মধ্যে কথা-কাটাকাটি হলে বৃষ্টি বাবার বাড়িতে চলে যান। এরপর কিছুদিন বাড়িতে থেকে মারুফ ঢাকায় চলে যান। গত শুক্রবার সন্ধ্যার আগে তিনি বাড়িতে ফেরেন।
মাহফুজা বেগম বলেন, ‘শনিবার সকালে মারুফ আমাকে বলে, মা, তোমার নাতিকে জামাকাপড় পরিয়ে দাও। আমি ওকে নিয়ে বাজারে একটু ঘুরতে যাব। এরপরে পরে সন্ধ্যা হয়ে গেলেও ছেলে ও নাতির কোনো খোঁজ পাইনি।’
তিনি বলেন, খোঁজাখুঁজির পর জানতে পারেন, আইফোন কেনার জন্য এক লাখ টাকার বিনিময়ে মুসাকে বিক্রি করেছেন বলে মারুফ স্বীকার করেছেন। এই বৃদ্ধা বলেন, ‘আমি আমার নাতিকে ফিরে পেতে চাই। প্রশাসনের কাছে সহযোগিতা কামনা করছি।’
অন্যদিকে, শিশুটিকে কেনার অভিযোগ ওঠা ইমরান হোসেন মুঠোফোনে বলেন, মারুফ দীর্ঘদিন ধরে তার কাছে শিশুটিকে দেওয়ার কথা বলে আসছিলেন।
তার শ্বশুরের পাঁচ মেয়ে থাকলেও কোনো ছেলে সন্তান নেই উল্লেখ করে ইমরান দাবি করেন, এ কারণেই মারুফের সঙ্গে আলোচনা করে এক লাখ টাকার বিনিময়ে লিখিতভাবে শিশুটিকে নিয়েছেন। পরে শিশুটিকে তার শ্বশুরবাড়িতে দিয়ে এসেছেন বলেও জানান তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, কয়েক বছর আগে মারুফ সাভার থেকে এক তরুণীকে বিয়ে করে বাড়িতে আনেন। পরে পারিবারিক নানা বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। তারা দ্রুত শিশুটিকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
এ বিষয়ে দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর শিশুটিকে উদ্ধারে পুলিশ সরেজমিনে কাজ করছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
৯ দিন আগে
পদ্মায় ফুটবল খেলতে গিয়ে শিশু নিখোঁজ
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পদ্মা নদীতে ফুটবল খেলতে গিয়ে মোস্তাকিম হোসেন (১২) নামে এক মাদ্রাসাছাত্র নিখোঁজ হয়েছে। এ সময় স্রোতের টানে ভেসে যাওয়া ইব্রাহিম হোসেন (১২) নামে আরেক শিক্ষার্থীকে জীবিত উদ্ধার করেছেন স্থানীয়রা।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ভাগজোত ঘাটে এ ঘটনা ঘটে।
নিখোঁজ মোস্তাকিম উপজেলার সোনাতলা গ্রামের হায়দারের চর এলাকার রতন জমাদারের ছেলে। উদ্ধার হওয়া ইব্রাহিম একই গ্রামের জিয়ারুল শাহের ছেলে। তারা দুজনই সোনাতলা দারুস সুন্নাহ ইসলামিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থী।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আজ (শুক্রবার) দুপুরে মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও স্থানীয় ছয়জন শিশু ভাগজোত ঘাট এলাকায় পদ্মা নদীর পানিতে ফুটবল খেলছিল। খেলার একপর্যায়ে তীব্র স্রোতের টানে মোস্তাকিম ও ইব্রাহিম গভীর পানির দিকে চলে যায়। তারা দুজনই পানিতে ডুবে যেতে থাকলে স্থানীয়রা দ্রুত এগিয়ে গিয়ে ইব্রাহিমকে উদ্ধার করতে সক্ষম হন। তবে প্রবল স্রোতের কারণে মোস্তাকিমকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।
খবর পেয়ে দৌলতপুর থানা পুলিশ ও ভেড়ামারা ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে।
ঘটনাস্থলে মোস্তাকিমের মা শিউলি খাতুন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার ছেলে মাদ্রাসায় পড়ে। সকালে খাওয়াদাওয়া শেষে মাদ্রাসায় না গিয়ে ছুটির দিনে বন্ধুদের সঙ্গে নদীর পাড়ে খেলতে গিয়েছিল। পরে নদীতে পড়ে ডুবে যায়। এখনও আমার ছেলের কোনো খোঁজ পাইনি।’
মাদ্রাসার শিক্ষক ওমর ফারুক বলেন, সকালে এক আত্মীয়ের বাড়িতে খাওয়া শেষে মোস্তাকিম বন্ধু ও স্থানীয় ছেলেদের সঙ্গে ফুটবল খেলতে আসে। পরে অসাবধানতাবশত নদীতে পড়ে নিখোঁজ হয়।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, শিশু নিখোঁজের খবর পাওয়ার পর পুলিশ সদস্যদের ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে।
ভেড়ামারা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ইনচার্জ শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘খবর পেয়ে আমিসহ আমাদের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করেছি। নদীতে প্রবল স্রোত থাকায় শিশুটি ভেসে অন্যত্র চলে যেতে পারে।’
১০ দিন আগে
চাঁপাইনবাবগঞ্জে নদীতে ডুবে ৫ শিশু নিহত
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার দেবিনগর ইউনিয়নের চর চাকলা এলাকায় মরা পাগলা নদীতে গোসল করতে নেমে ৫ শিশু নিহত হয়েছে।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দুপুরে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলো— চর চাকলা এলাকার মাসুদ আলীর দুই মেয়ে সুমাইয়া (১০) ও আরিফা (৮), নেজাম উদ্দিনের দুই মেয়ে সুরাইয়া (৯) ও সুমাইয়া (১১) এবং অপরজন হলো শরিফুল ইসলামের মেয়ে সরিফা (১১)।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একরামুল হোসাইন এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, শুক্রবার দুপুর ১টার দিকে উপজেলার দেবীনগর ইউপির ৩ নম্বর ওয়ার্ডের চর চাকলা এলাকায় মরা পাগলা নদীতে গোসল করতে নামে বেশ কিছু শিশু। গোসলের এক পর্যায়ে পাঁচ শিশু পানিতে ডুবে যায়। পরে স্থানীয়রা নদীতে তল্লাশী চালিয়ে একে এক ৫ শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে।
তিনি আরও জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।
১১ দিন আগে
যশোরে ১১ বছরের শিশুকে ধর্ষণ, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার
যশোরের শার্শায় ১১ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে মকছেদ আলী (৫৫) নামে এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার (১৯ আগস্ট) সকালে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় গতকাল (মঙ্গলবার) রাতে শার্শা থানায় মালমা করেন ভুক্তভোগী শিশুর বাবা।
গ্রেপ্তার মকছেদ আলী উপজেলার মহিষা মোল্লাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশ ও মামলার এজাহার থেকে জানা গেছে, গত ১২ আগস্ট বিকেলে স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পর শিশুটি খেলতে বের হয়। এ সময় মকছেদ আলী টাকা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তাকে গ্রামের একটি ঘেরের পাড়ে নিয়ে যান। সেখানে শিশুটিকে ধর্ষণ করেন তিনি। পরে শিশুটিকে ২০ টাকা দিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। ভয়ে ভুক্তভোগী শিশুটি প্রথমে পরিবারের কাউকে বিষয়টি জানায়নি। এরপর সে শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লে এক প্রতিবেশী নারীর কাছে ঘটনাটি জানায়। পরে ওই নারীর কাছ থেকে বিষয়টি জানতে পেরে শিশুটির বাবা তার মেয়ের কাছে ঘটনার বিস্তারিত শোনেন। পরে গতকাল (মঙ্গলবার) রাতে ভুক্তভোগীর বাবা মামলা করেন। মামলা পর আজ (বুধবার) সকালে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশ মকছেদ আলীকে গ্রেপ্তার করে।
ভুক্তভোগী শিশুটি স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশুটির প্রতিবেশী এবং শিশুটি তাকে চাচা বলে ডাকত।
শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামিনুল হক বলেন, শিশু ধর্ষণের অভিযোগে এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ দুপুরে তাকে যশোর আদালতে পাঠানো হয়েছে।
২০ দিন আগে
কাবুলে স্কুলের কাছে গ্রেনেড হামলা, অর্ধশতাধিক শিশু আহত
আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে একটি স্কুলের কাছে গ্রেনেড হামলায় অর্ধশতাধিক শিশু আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় সময় সোমবার (১৭ আগস্ট) বিকেলে কাবুলের দাশত-ই-বারচি এলাকায় অবস্থিত শিয়া মুসলিম অধ্যুষিত একটি এলাকায় ওই বিস্ফোরণ হয়।
কাবুল পুলিশের মুখপাত্র খালিদ জাদরান সোমবার রাতে বলেন, হামলায় ‘বেশ কয়েকজন শিশু’ আহত হয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত চলছে বলেও জানান তিনি। তবে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।
আফগানিস্তানে জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদক রিচার্ড বেনেট মঙ্গলবার আগের দিনের হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেন, স্কুলের কাছে বহু শিশুকে আহত করা এই জঘন্য হামলার নিন্দা জানাচ্ছি।
আফগান গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, বিস্ফোরণে অর্ধশতাধিক শিশু আহত হয়েছে। রাজধানীর যে এলাকায় বিস্ফোরণটি ঘটেছে, সেখানে প্রধানত হাজারা জাতিগোষ্ঠীর মানুষ বসবাস করেন।
আফগানিস্তানের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৯ শতাংশ হাজারা সম্প্রদায়ের মানুষ। দেশটিতে দীর্ঘদিন ধরে তারা হামলা ও নিপীড়নের শিকার হয়ে আসছেন। হাজারা সম্প্রদায়ের অধিকাংশই শিয়া মুসলিম। সুন্নি সংখ্যাগরিষ্ঠ আফগানিস্তানে ইসলামিক স্টেটের মতো সুন্নি উগ্রপন্থি গোষ্ঠীগুলো অতীতে বারবার তাদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে তারা বৈষম্যেরও শিকার হয়েছেন।
২০২১ সালের মে মাসে তালেবান আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখলের কয়েক মাস আগে কাবুলের একটি স্কুলে তিনটি বোমা হামলায় বহু মানুষ নিহত হন। নিহতদের সবাই ছিলেন হাজারা সম্প্রদায়ের এবং অধিকাংশই ছিলেন স্কুল ছুটি শেষে বের হওয়া কিশোরী।
সোমবার বিস্ফোরণের ঘটনা যে স্কুলের কাছে ঘটেছে, সেই স্কুলটিও কাবুলের দাশত-ই-বারচি এলাকায় অবস্থিত। রাজধানীর এই এলাকাটি হাজারা সম্প্রদায়ের প্রধান আবাসিক এলাকা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বেনেট বলেন, হামলার জন্য দায়ীদের বিচারের আওতায় আনতে একটি স্বাধীন তদন্ত করা জরুরি।
তিনি লিখেছেন, ‘আবারও কাবুলের হাজারা অধ্যুষিত এই এলাকাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। নিন্দনীয়!’
২১ দিন আগে
ময়মনসিংহে পানিতে ডুবে ২ শিশুর মৃত্যু
ময়মনসিংহের ত্রিশালে বাড়ির পাশের পুকুরের পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার ত্রিশাল ইউনিয়নের সতেরো পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলো: সতেরো পাড়া এলাকার তরিকুল ইসলামের ছেলে মো. ফারহান (৪) ও আশরাফুল ইসলামের ছেলে মো. মাশরাফি (৫)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুর আড়াইটার দিকে বাড়ির উঠানে খেলাধুলা করেছিল ফারহান ও মাশরাফি। একপর্যায়ে অসাবধানতাবশত পাশের পুকুরের পানিতে পড়ে যায় তারা। কিছুক্ষণ পর শিশুদের দেখতে না পেয়ে আশপাশে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন পরিবারের লোকজন। একপর্যায়ে পুকুরের পানি থেকে অচেতন অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।
দুই শিশুর এমন করুণ মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সন্তান হারিয়ে স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ।
এ বিষয়ে ত্রিশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনসুর আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, দুই শিশুর এমন অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যু মামলা প্রক্রিয়াধীন।
২২ দিন আগে
ডেমরায় শীতলক্ষ্যা নদীতে গোসলে নেমে শিশুর মৃত্যু
রাজধানীর ডেমরায় শীতলক্ষ্যা নদীতে গোসল করতে নেমে ফাহাদ (১০) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ডেমরার সারুলিয়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ফাহাদের বাড়ি ডেমরার সারুলিয়ায়। তার বাবার নাম ফারুক।
নিহতের দাদা মো. জাহাঙ্গীর জানান, ফাহাদ আমার সঙ্গে শীতলক্ষ্যা নদীতে গোসল করতে নেমেছিল। এক পর্যায়ে অসাবধানতাবশত সে পানিতে ডুবে যায়। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় অনেকে খোঁজার পরে তাকে উদ্ধার করে দ্রুত চিকিৎসার জন্য ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে বিকেল পৌনে ৪টার দিকে ফাহাদকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক জানান, বর্তমানে মরদেহটি হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানায় অবগত করা হয়েছে।
২৫ দিন আগে
যশোরের বাঘারপাড়ায় কক্ষ থেকে মা ও শিশুর মরদেহ উদ্ধার
যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলায় নিজ বাড়ির একটি কক্ষ থেকে মা ও শিশুসন্তানের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শনিবার (৮ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে উপজেলার দোহাকুলা ইউনিয়নের খলশী গ্রামের দক্ষিণপাড়া থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহতরা হলেন—ওই গ্রামের জাকির হোসেনের স্ত্রী জুবায়দা খাতুন (৩০) ও তাদের ৬ বছর বয়সী ছেলে জিসান।
স্থানীয়রা জানান, গতকাল (শনিবার) রাতে জাকির হোসেনের বাড়ির একটি কক্ষে তার স্ত্রী ও ছেলের মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন তারা। পরে রাত ১০টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে।
স্থানীয় পশু চিকিৎসক আক্তার হোসেন জানান, রাতে খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যান। সেখানে গিয়ে দেখতে পান, হাত-পা গামছা দিয়ে বাঁধা অবস্থায় জিসান খাটের ওপর পড়ে আছে। একই খাটে তার মায়ের মরদেহও ছিল। তার গলায় ওড়না পেঁচানো ও ওড়নার দুই প্রান্ত দুই হাতে ধরা ছিল।
ঘটনার খবর পেয়ে জুবায়দার স্বামী জাকির হোসেনকে জানানো হয়। ঘটনার সময় তিনি বহরামপুর বাজারে তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ছিলেন।
নিহত জুবায়দার ছোট বোন পিঞ্জিরা জানান, জাকির হোসেন দীর্ঘদিন প্রবাসে ছিলেন। প্রায় এক বছর আগে তিনি দেশে ফিরে আসেন।
মরদেহ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বাঘারপাড়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) পলাশ বলেন, ‘মরদেহের অবস্থা দেখে প্রাথমিকভাবে এটিকে আত্মহত্যা বলে মনে হচ্ছে না। তবে ময়নাতদন্ত ছাড়া মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।’
বাঘারপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ জালাল আলম বলেন, ‘ঘটনাটি সন্দেহজনক। আত্মহত্যা মনে হচ্ছে না। তবে ময়নাতদন্তের পর বিষয়টি পরিষ্কার হবে।’
৩০ দিন আগে