শিশু
কাবুলে স্কুলের কাছে গ্রেনেড হামলা, অর্ধশতাধিক শিশু আহত
আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে একটি স্কুলের কাছে গ্রেনেড হামলায় অর্ধশতাধিক শিশু আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় সময় সোমবার (১৭ আগস্ট) বিকেলে কাবুলের দাশত-ই-বারচি এলাকায় অবস্থিত শিয়া মুসলিম অধ্যুষিত একটি এলাকায় ওই বিস্ফোরণ হয়।
কাবুল পুলিশের মুখপাত্র খালিদ জাদরান সোমবার রাতে বলেন, হামলায় ‘বেশ কয়েকজন শিশু’ আহত হয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত চলছে বলেও জানান তিনি। তবে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।
আফগানিস্তানে জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদক রিচার্ড বেনেট মঙ্গলবার আগের দিনের হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেন, স্কুলের কাছে বহু শিশুকে আহত করা এই জঘন্য হামলার নিন্দা জানাচ্ছি।
আফগান গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, বিস্ফোরণে অর্ধশতাধিক শিশু আহত হয়েছে। রাজধানীর যে এলাকায় বিস্ফোরণটি ঘটেছে, সেখানে প্রধানত হাজারা জাতিগোষ্ঠীর মানুষ বসবাস করেন।
আফগানিস্তানের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৯ শতাংশ হাজারা সম্প্রদায়ের মানুষ। দেশটিতে দীর্ঘদিন ধরে তারা হামলা ও নিপীড়নের শিকার হয়ে আসছেন। হাজারা সম্প্রদায়ের অধিকাংশই শিয়া মুসলিম। সুন্নি সংখ্যাগরিষ্ঠ আফগানিস্তানে ইসলামিক স্টেটের মতো সুন্নি উগ্রপন্থি গোষ্ঠীগুলো অতীতে বারবার তাদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে তারা বৈষম্যেরও শিকার হয়েছেন।
২০২১ সালের মে মাসে তালেবান আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখলের কয়েক মাস আগে কাবুলের একটি স্কুলে তিনটি বোমা হামলায় বহু মানুষ নিহত হন। নিহতদের সবাই ছিলেন হাজারা সম্প্রদায়ের এবং অধিকাংশই ছিলেন স্কুল ছুটি শেষে বের হওয়া কিশোরী।
সোমবার বিস্ফোরণের ঘটনা যে স্কুলের কাছে ঘটেছে, সেই স্কুলটিও কাবুলের দাশত-ই-বারচি এলাকায় অবস্থিত। রাজধানীর এই এলাকাটি হাজারা সম্প্রদায়ের প্রধান আবাসিক এলাকা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বেনেট বলেন, হামলার জন্য দায়ীদের বিচারের আওতায় আনতে একটি স্বাধীন তদন্ত করা জরুরি।
তিনি লিখেছেন, ‘আবারও কাবুলের হাজারা অধ্যুষিত এই এলাকাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। নিন্দনীয়!’
১৯ ঘণ্টা আগে
ময়মনসিংহে পানিতে ডুবে ২ শিশুর মৃত্যু
ময়মনসিংহের ত্রিশালে বাড়ির পাশের পুকুরের পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার ত্রিশাল ইউনিয়নের সতেরো পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলো: সতেরো পাড়া এলাকার তরিকুল ইসলামের ছেলে মো. ফারহান (৪) ও আশরাফুল ইসলামের ছেলে মো. মাশরাফি (৫)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুর আড়াইটার দিকে বাড়ির উঠানে খেলাধুলা করেছিল ফারহান ও মাশরাফি। একপর্যায়ে অসাবধানতাবশত পাশের পুকুরের পানিতে পড়ে যায় তারা। কিছুক্ষণ পর শিশুদের দেখতে না পেয়ে আশপাশে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন পরিবারের লোকজন। একপর্যায়ে পুকুরের পানি থেকে অচেতন অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।
দুই শিশুর এমন করুণ মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সন্তান হারিয়ে স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ।
এ বিষয়ে ত্রিশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনসুর আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, দুই শিশুর এমন অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যু মামলা প্রক্রিয়াধীন।
১ দিন আগে
ডেমরায় শীতলক্ষ্যা নদীতে গোসলে নেমে শিশুর মৃত্যু
রাজধানীর ডেমরায় শীতলক্ষ্যা নদীতে গোসল করতে নেমে ফাহাদ (১০) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ডেমরার সারুলিয়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ফাহাদের বাড়ি ডেমরার সারুলিয়ায়। তার বাবার নাম ফারুক।
নিহতের দাদা মো. জাহাঙ্গীর জানান, ফাহাদ আমার সঙ্গে শীতলক্ষ্যা নদীতে গোসল করতে নেমেছিল। এক পর্যায়ে অসাবধানতাবশত সে পানিতে ডুবে যায়। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় অনেকে খোঁজার পরে তাকে উদ্ধার করে দ্রুত চিকিৎসার জন্য ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে বিকেল পৌনে ৪টার দিকে ফাহাদকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক জানান, বর্তমানে মরদেহটি হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানায় অবগত করা হয়েছে।
৪ দিন আগে
যশোরের বাঘারপাড়ায় কক্ষ থেকে মা ও শিশুর মরদেহ উদ্ধার
যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলায় নিজ বাড়ির একটি কক্ষ থেকে মা ও শিশুসন্তানের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শনিবার (৮ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে উপজেলার দোহাকুলা ইউনিয়নের খলশী গ্রামের দক্ষিণপাড়া থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহতরা হলেন—ওই গ্রামের জাকির হোসেনের স্ত্রী জুবায়দা খাতুন (৩০) ও তাদের ৬ বছর বয়সী ছেলে জিসান।
স্থানীয়রা জানান, গতকাল (শনিবার) রাতে জাকির হোসেনের বাড়ির একটি কক্ষে তার স্ত্রী ও ছেলের মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন তারা। পরে রাত ১০টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে।
স্থানীয় পশু চিকিৎসক আক্তার হোসেন জানান, রাতে খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যান। সেখানে গিয়ে দেখতে পান, হাত-পা গামছা দিয়ে বাঁধা অবস্থায় জিসান খাটের ওপর পড়ে আছে। একই খাটে তার মায়ের মরদেহও ছিল। তার গলায় ওড়না পেঁচানো ও ওড়নার দুই প্রান্ত দুই হাতে ধরা ছিল।
ঘটনার খবর পেয়ে জুবায়দার স্বামী জাকির হোসেনকে জানানো হয়। ঘটনার সময় তিনি বহরামপুর বাজারে তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ছিলেন।
নিহত জুবায়দার ছোট বোন পিঞ্জিরা জানান, জাকির হোসেন দীর্ঘদিন প্রবাসে ছিলেন। প্রায় এক বছর আগে তিনি দেশে ফিরে আসেন।
মরদেহ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বাঘারপাড়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) পলাশ বলেন, ‘মরদেহের অবস্থা দেখে প্রাথমিকভাবে এটিকে আত্মহত্যা বলে মনে হচ্ছে না। তবে ময়নাতদন্ত ছাড়া মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।’
বাঘারপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ জালাল আলম বলেন, ‘ঘটনাটি সন্দেহজনক। আত্মহত্যা মনে হচ্ছে না। তবে ময়নাতদন্তের পর বিষয়টি পরিষ্কার হবে।’
৯ দিন আগে
সিলেটে শিশু ফাহিমা হত্যা মামলায় আসামি জাকিরের মৃত্যুদণ্ড
সিলেটের চার বছরের শিশু ফাহিমা আক্তার হত্যা মামলার আসামি জাকির হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। মামলার অপর দুই আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে মহানগর শিশু সহিংসতা ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও বিশেষ জজ আবু ওবায়দা এ রায় ঘোষণা করেন।
মহানগর আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মো. বদরুল আহমদ চৌধুরী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জাকির হোসেন (৩০) সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের সোনাতলা পশ্চিমপাড়ার ধন রায়ের চক এলাকার বাসিন্দা। তিনি নিহত শিশুটির প্রতিবেশী ও সম্পর্কে চাচা হন।
পিপি মো. বদরুল আহমদ চৌধুরী জানান, মাত্র তিন মাসের মধ্যে এ মামলার রায় ঘোষণা করা হলো। আদালত জাকিরের দুই ভাই জয়নাল আবেদীন ও আবুল কালামের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য প্রমাণ না পাওয়ায় তাদের খালাস দিয়েছেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ১১ মে রাতে চার বছরের শিশু ফাহিমাকে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যার অভিযোগে তার প্রতিবেশী জাকির হোসেনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
ঘটনার এক মাস পর পুলিশ জাকির হোসেন ও তার দুই সহোদর জয়নাল আহমদ এবং আবুল কালামকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়।
অভিযোগপত্রে জাকির হোসেনকে প্রধান আসামি হিসেবে তার বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যার অভিযোগ আনা হয়। তার দুই ভাই জয়নাল আহমদ ও আবুল কালামকেও মরদেহ গুমে সহযোগিতার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়।
উল্লেখ্য, গত ৬ মে ফাহিমা নিখোঁজ হয়। নিহত ফাহিমা আক্তার (৪) সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামের দিনমজুর রাইসুল হকের মেয়ে।
ঘটনার দুই দিন পর গত ৮ মে ভোররাতে তার মরদেহ গ্রামের একটি ডোবার পাশ থেকে উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। গ্রেপ্তারের পর জাকির প্রথমে পুলিশের কাছে ও পরে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় এ ঘটনার লোমহর্ষক বর্ণনা দেন।
এর আগে, গত ১২ মে জাকিরকে গ্রেপ্তারের পর সংবাদ সম্মেলনে সিলেট মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (উত্তর) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, গত ৬ মে সকালে ফাহিমাকে একটি দোকান থেকে সিগারেট এনে দিতে পাঠান জাকির। শিশুটি সিগারেট এনে দেওয়ার পর তাকে নিজের ঘরে ডেকে নেন জাকির। সে সময় তার স্ত্রী বাড়িতে ছিলেন না। একা পেয়ে ঘরের দরজা বন্ধ করে শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয় বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানান আসামি। তবে ধর্ষণ সংঘটিত হয়েছিল কি না, তা মেডিকেল রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছিল পুলিশ।
পুলিশ জানায়, একপর্যায়ে শিশুটি অজ্ঞান হয়ে গেলে তাকে গলা টিপে হত্যা করা হয়। মরদেহ প্রথমে ঘরের ভেতরে একটি ব্রিফকেসে লুকিয়ে রাখা হয়। পরে এলাকায় শিশুটিকে খোঁজাখুঁজি শুরু হলে পরে মরদেহ সরিয়ে বাড়ির পেছনে রাখেন জাকির। সেখান থেকে দুর্গন্ধ বের হতে শুরু করলে গভীর রাতে পাশের একটি ডোবায় মরদেহ ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। তবে মরদেহ ডোবার পাশেই রেখে পালিয়ে যান জাকির।
এ ঘটনার পর ফাহিমা হত্যাকারীদের বিচার দাবিতে আন্দোলনে নামেন স্থানীয়রা। পরবর্তীতে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান ফাহিমার বাড়িতে গিয়ে দ্রুত বিচারের আশ্বাস দেন।
১২ দিন আগে
ভবিষ্যতের বাংলাদেশ বিনির্মাণে শিশুদের নিজেদের গড়ে তোলার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
শিশু-কিশোরদের বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ উল্লেখ করে তাদের নিজেদের সঠিকভাবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, আজকের শিশুরাই হবে আগামী দিনের ডাক্তার, প্রকৌশলী, স্থপতি, খেলোয়াড় ও দেশ গড়ার কারিগর।
সোমবার (২৭ জুলাই) রাজধানীর আর্মি স্টেডিয়ামে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৫-২৬’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এ অংশ নেওয়া শিশুদের উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকের এই ইভেন্ট হচ্ছে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। যারা প্যান্ডেলের নিচে বসে আছে, যারা গ্যালারিতে বসে আছে, তারা হচ্ছে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ।’
সরকারপ্রধান বলেন, দেশে অনেক সমস্যা রয়েছে, তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তবে এসব সমস্যার পাশাপাশি বাংলাদেশকে কোথায় নিয়ে যাওয়া সম্ভব, সেটিও দেখতে হবে।
তিনি বলেন, শিশুদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে সরকার কাজ করছে। স্কুলগুলোতে ধীরে ধীরে উন্নত পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে। তবে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হলে শিশুদের নিজেদেরও প্রস্তুত হতে হবে।
২২ দিন আগে
ফরিদপুরে শিশুধর্ষণ মামলায় আসামির যাবজ্জীবন
ফরিদপুরের সালথায় ৯ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণ মামলায় শওকত মিয়া (৩৮) নামে এক ব্যাক্তিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ফরিদপুরের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) আবুল বাসার আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার পর পুলিশ পাহারায় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
দণ্ডপ্রাপ্ত শওকত মিয়া ফরিদপুরের সালথা উপজেলার বড় বাংরাইল গ্রামের বাসিন্দা।
মামলার বিবরণ ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের ২২ মে বিকেলে সালথা উপজেলার বড় বাংরাইল গ্রামের তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া ৯ বছরের ওই শিশুটি বাড়ির পাশে নিজেদের শাক-সবজির (ডাটা) খেত দেখতে গিয়েছিল। এ সময় আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা প্রতিবেশী শওকত মিয়া শিশুটিকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে পাশের একটি নির্জন পাটখেতে নিয়ে ধর্ষণ করেন।
পরে শিশুটির রক্তাক্ত ও মুমূর্ষু অবস্থা দেখে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ‘ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার’ (ওসিএসি)-এ ভর্তি করান। ঘটনার পরদিনই ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা বাদী হয়ে সালথা থানায় শওকত মিয়াকে একমাত্র আসামি করে একটি ধর্ষণ মামলা করেন।
এরপর তদন্ত শেষে ২০২০ সালের ৫ অক্টোবর সালথা থানা পুলিশ আসামি শওকত মিয়াকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করে। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া, প্রয়োজনীয় সাক্ষী গ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে দীর্ঘ ৬ বছর পর আদালত আজ এ রায় প্রদান করেন।
রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) অ্যাডভোকেট অর্চনা দাস বলেন, ‘একটি অবুঝ শিশুকে নির্যাতন করে যে নৃশংসতা চালানো হয়েছিল, আজকের এই রায়ের মাধ্যমে তার ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হলো। এই শাস্তি সমাজে অপরাধীদের মনে ভীতি সঞ্চার করবে এবং শিশু সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আমরা এ রায়ে অত্যন্ত সন্তুষ্ট।’
২৬ দিন আগে
নড়াইলে শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে আটক ১
নড়াইল সদর উপজেলায় পাঁচ বছর বয়সী জান্নাতুল নামে এক শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে (৩৫) আটক করেছে সদর থানা পুলিশ।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার আউড়িয়া ইউনিয়নের দত্তপাড়া এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুন্ডু।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার সন্ধ্যায় সদর উপজেলার আউড়িয়া ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামে পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ ওঠে অভিযুক্ত ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে।
নিহত শিশুর স্বজনরা অভিযোগ করেন, ওই ব্যক্তি ঘরের ভেতর শিশুটিকে কাঁথা দিয়ে ঢাকা অবস্থায় দেখতে পান। তিনি মেয়েটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করেছেন বলে দাবি তাদের।
এ ঘটনায় অভিযুক্তকে আজ (মঙ্গলবার) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে দত্তপাড়া এলাকা থেকে স্থানীয় লোকজন আটক করে পিটুনি দেন। পরে খবর পেয়ে নড়াইল সদর থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। বর্তমানে তিনি থানা হেফাজতে রয়েছেন।
ওসি অজয় কুমার কুন্ডু বলেন, আটক ওই ব্যক্তিকে থানা হাজতে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
২৮ দিন আগে
চট্টগ্রামে শিশু ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যা মামলায় আসামির মৃত্যুদণ্ড
চট্টগ্রাম মহানগরীর পাহাড়তলী এলাকায় ১০ বছর বয়সী শিশু আবিদা সুলতানা আয়নীকে ধর্ষণের চেষ্টার পর শ্বাসরোধে হত্যা মামলায় আসামি মো. রুবেলকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (২০ জুলাই) দুপুরে নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনাল-২-এর বিচারক সাইফুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন।
মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবী গোলাম মাওলা মুরাদ রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ভুক্তভোগী আয়নীকে ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে আসামি রুবেল তাকে হত্যা করে মরদেহ গুম করেন। মামলায় তিনটি পৃথক ধারায় আসামিকে পৃথক ৩টি রায় দিয়েছেন বিচারক।
২০২৩ সালের ২৯ মার্চ ভোরে পাহাড়তলী থানার সাগরিকা বাইলেন মুরগি ফার্ম আলমতারা পুকুরপাড় এলাকার ডোবা থেকে আয়নীর মরদেহ উদ্ধার করে স্থানীয়রা।
২০২৩ সালের ২১ মার্চ বিকাল থেকে আয়নীর খোঁজ পাচ্ছিল না পরিবার। থানায় জিডি করেও তার সন্ধান না পাওয়ায় ২৮ মার্চ আদালতে গিয়ে অপহরণের মামলা করেন আয়নীর মা। বিচারক তার আর্জি শুনে অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গ্রহণ করতে পাহাড়তলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দেন।
মামলার পর প্রতিবেশী সবজি বিক্রেতা ৩৫ বছর বয়সী রুবেলকে আটক করা হয়। তাকে আটক করার পরই তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) শিশুটির মরদেহের খবর জানতে পারে। পরদিন আয়নীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৩ সালের ২০ মার্চ রাস্তায় বিড়াল ছানা ধরতে গিয়ে সবজি বিক্রেতা রুবেলের ভ্যানের সঙ্গে ধাক্কা লাগে আয়নীর। বিড়াল ছানা এনে দেবে বলে তখন শিশুটির সঙ্গে পাঁচ মিনিট কথা বলেছিলেন রুবেল।
পরদিন ২১ মার্চ বিকেলে আয়নীর সঙ্গে আসামির আবার রাস্তায় দেখা হলে শিশুটিকে বিড়াল ছানা এনে দেওয়ার কথা বলে তাকে ভ্যান করে নিয়ে যান তিনি। পরে পিবিআইয়ের তদন্তে উঠে আসে, রুবেল শিশুটিকে কাজীর দিঘী এলাকাতেই একটি ভবনের চতুর্থ তলায় নিয়ে যান। ভবনটিতে তার পরিচিত একজনের খালি বাসা ছিল। সেখানে রুবেল তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। ওই সময় আয়নী চিৎকার করে দরজা খুলে বাসা থেকে বের হওয়র চেষ্টা করলে তাকে ভয়ভীতি দেখান এবং বিষয়টি কাউকে না জানানোর জন্য হুমকি দেন তিনি। কিন্তু বিষয়টি অন্যদের জানিয়ে দেবে, সেই ভয় থেকে রুবেল শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করেন। এরপর রাত ৯টার দিকে লোকজন কমে গেলে সুযোগ বুঝে রুবেল ভ্যান নিয়ে আবার সেই বাসায় যান। সেখান থেকে তিনি শিশুটির মরদেহ বস্তায় ভরে আলমতারা পুকুর পাড় এলাকার ডোবায় ফেলে আসেন।
আয়নী পাহাড়তলী এলাকার আব্দুল হাদি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী ছিল। তাদের বাসা ছিল পাহাড়তলীর আব্দুর কাজীর দীঘির পাড় এলাকায় ।
শিশুটির মা মোছাম্মৎ বিবি ফাতেমা (২৬) একজন পোশাককর্মী। শিশুটির বাবাও ঢাকায় একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন।
আদালত সূত্র জানায়, মামলায় ২৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও উভয় পক্ষের জেরা শেষে আদালত আসামি মো. রুবেলকে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেন। আত্মপক্ষ সমর্থন শেষে উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক গ্রহণ করে বিচারক আজ এই মামলার রায় দেন।
২৯ দিন আগে
নরসিংদীতে পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু
নরসিংদীর রায়পুরায় পানিতে ডুবে দুই শিশু শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকালে উপজেলার শ্রীনগর ইউনিয়নের ভেলুয়ারচর গ্রামের নামারচর
বিলে দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহত শিশুরা হলো— ভেলুয়ারচর গ্রামের সাদ্দাম হোসেনের মেয়ে নিপা (৭) ও একই গ্রামের নূরুজ্জামানের মেয়ে জান্নাতি (৮)। তারা উভয়েই ভেলুয়ারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ সকাল ১০টার দিকে এই দুই শিক্ষার্থীসহ ৪-৫ জন মিলে বাড়ির সামনে নামারচর বিলে গোসল করতে যায়। ওই সময় তারা দুইজনেই পানিতে ডুবে যায়। তখন তাদের সঙ্গে থাকা অন্যান্য শিশুরা আশপাশের লোকজনদের ডেকে আনে। তারা দুই শিশুকে পানির নিচ থেকে উদ্ধার করে রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. শীলা জানান, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ভেলুয়ারচর থেকে দুই শিশুকে হাসপাতালে আনা হয়। হাসপাতালে আনার আগেই তাদের মৃত্যু হয়েছিল।
রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মজিবুর রহমান বলেন, পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
৩২ দিন আগে