নাইজেরিয়ার মাইদুগুরি শহরে এক আত্মঘাতী বোমা হামলায় কমপক্ষে ২৩ জন নিহত হয়েছে। এই ঘটনায় আরও শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন।
স্থানীয় সময় সোমবার (১৬ মার্চ) রাতে এ ঘটনা ঘটে বলে পুলিশ জানিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে সংঘাতপ্রবণ ওই শহরটিতে এটি অন্যতম প্রাণঘাতী হামলা।
শহরের বাসিন্দা এবং জরুরি পরিষেবা সংস্থাগুলো জানায়, বর্নো রাজ্যের রাজধানী মাইদুগুরির জনবহুল এলাকায় পরপর তিনটি বিস্ফোরণ ঘটে। এর মধ্যে একটি বিস্ফোরণ বড় বাজারে এবং আরেকটি ঘটে মাইদুগুরির টিচিং হাসপাতাল বিশ্ববিদ্যালয়ে।
বর্নো পুলিশের মুখপাত্র নাহুম কেনেথ দাসো এক বিবৃতিতে দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘এই হামলায় মোট ২৩ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং ১০৮ জন আহত হয়েছেন।’ এই হামলার জন্য সন্দেহভাজন আত্মঘাতী হামলাকারীদের দায়ী করেছেন তিনি।
তাৎক্ষণিকভাবে কোনো গোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার করেনি। তবে কাজটি জিহাদি সংগঠন বোকো হারাম করেছে বলে ধারণা করছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। এই গোষ্ঠিটি ২০০৯ সালে উত্তর-পূর্ব নাইজেরিয়ায় তাদের কট্টর শরিয়া আইন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বিদ্রোহ শুরু করেছিল।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বোকো হারাম আরও শক্তিশালী হয়েছে। তাদের হাজার হাজার যোদ্ধা এবং বিভিন্ন উপদল রয়েছে। এই উপদলগুলোর মধ্যে পশ্চিম আফ্রিকা প্রদেশের ইসলামিক স্টেট’ অন্যতম, যা আইএসের অঙ্গসংগঠন।
মাইদুগুরি শহর দীর্ঘদিন ধরে সহিংসতার কেন্দ্রবিন্দু হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তুলনামূলক শান্ত ছিল। তবে এর আশপাশের গ্রামাঞ্চলগুলো প্রায়ই জঙ্গি হামলার শিকার হয়ে থাকে।
নাইজেরিয়ার সেনাবাহিনী শহরের উপকণ্ঠে জঙ্গিদের হামলা প্রতিহত করার ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে এই আত্নঘাতী বোমা হামলা ঘটেছে। এলাকাবাসীর মতে, এটি পরিস্থিতি অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেওয়ার কৌশল হিসেবে পরিকল্পিতভাবে করা হয়ে থাকতে পারে।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকালে হামলার শিকার এলাকাগুলো এবং শহরের প্রধান সড়কগুলোতে কঠোর নিরাপত্তা মোতায়েন করা হয়, তবে আতঙ্কের কারণে অনেক জনসমাগমস্থল বন্ধ ছিল।
বর্নো পুলিশ জানায়, ‘ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং দোষীদের বিচারের আওতায় আনতে তদন্ত চলছে।’