রাশিয়ার অধিকৃত ক্রিমিয়া উপদ্বীপে একটি সামরিক বিমান বিধ্বস্ত হয়ে অন্তত ২৯ জন আরোহী নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে বিমানটির ছয়জন ক্রু ও ২৩ জন যাত্রী রয়েছে।
বুধবার (১ এপ্রিল) স্থানীয় সময় ভোরে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে রুশ সংবাদমাধ্যম।
খবরে বলা হয়েছে, সোভিয়েত আমলে নির্মিত অ্যান-২৬ সামরিক পরিবহন বিমানটি নির্ধারিত ফ্লাইটে ক্রিমিয়া উপদ্বীপের উপর দিয়ে উড়ে যাচ্ছিল। মঙ্গলবার সন্ধ্যা প্রায় ৬টার দিকে বিমানটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় সামরিক বাহিনীর। ২০১৪ সালে ইউক্রেন থেকে অঞ্চলটি অবৈধভাবে দখল করে রাশিয়া।
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাস ও আরআইএ নভোস্তির বরাতে জানা যায়, টার্বোপ্রপ ইঞ্জিনচালিত বিমানটি একটি খাড়াই পাহাড়ে আঘাত করে বিধ্বস্ত হয়।
রাশিয়ার তদন্ত কমিটি জানায়, বিমানটিতে মোট সাতজন ক্রু সদস্য ও ২৩ জন যাত্রী ছিলেন। তবে বাকি একজন ক্রু সদস্য বেঁচে আছেন কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
তদন্ত কমিটি জানিয়েছে, উড্ডয়ন বিধিমালা-সংক্রান্ত বিষয়ে একটি ফৌজদারি তদন্ত শুরু করা হয়েছে এবং বাখচিসারাই জেলার পার্বত্য বনাঞ্চলে তল্লাশি অভিযান চলছে।
দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা ইন্টারফ্যাক্সের খবরে বলা হয়েছে, কারিগরি ত্রুটির কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটে থাকতে পারে। এ দুর্ঘটনায় কোনো ধরনের ‘বাহ্যিক হস্তক্ষেপ’ ছিল না বলেও খবরে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইউক্রেনে আগ্রাসন শুরুর পর থেকে রাশিয়ায় সামরিক বিমান দুর্ঘটনা তুলনামূলকভাবে বেড়েছে।
গত ডিসেম্বর মাসে রাশিয়ার ইভানোভো অঞ্চলে একটি অ্যান-২২ সামরিক পরিবহন বিমান বিধ্বস্ত হয়ে সাতজন ক্রু নিহত হন। তার আগে অক্টোবরে লিপেৎস্ক অঞ্চলে একটি মিগ-৩১ যুদ্ধবিমান এবং ২০২৫ সালের এপ্রিলে সাইবেরিয়ার ইরকুত্স্ক অঞ্চলে একটি টু-২২এম৩ বোমারু বিমান বিধ্বস্ত হয়।
এছাড়া, ২০২২ সালের অক্টোবরে আজভ সাগর উপকূলবর্তী ইয়েইস্ক শহরের একটি আবাসিক এলাকায় একটি সু-৩৪ বোমারু বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়। ওই ঘটনায় ১৫ জন নিহত হন।