শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মো. নুরুজ্জামান বাদলের মৃত্যুতে ওই আসনের নির্বাচন স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। পাশাপাশি এ বিষয়ে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) ইসির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ইসি সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এই আসনে এখন নতুন করে নির্বাচনি তফসিল ঘোষণা করা হবে।
আসনটিতে নির্বাচন স্থগিতের ব্যাপারে গণবিজ্ঞপ্তি জারির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেরপুর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও), ১৯৭২-এর অনুচ্ছেদ ১৭-এর ১ উপধারা অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সময় শেষ হওয়ার পর এবং ভোটগ্রহণের আগে কোনো বৈধ প্রার্থী মারা গেলে সেই আসনের নির্বাচনি কার্যক্রম তাৎক্ষণিকভাবে বাতিল বা স্থগিত করতে হয়।
আইন অনুযায়ী, মৃত প্রার্থীকে অবশ্যই নির্বাচন কমিশন কর্তৃক ‘বৈধ প্রার্থী’ হিসেবে স্বীকৃত হতে হবে। প্রার্থীর মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ওই আসনের নির্বাচন স্থগিতের ঘোষণা দেবেন। পরে কমিশন নতুন তফসিল ঘোষণা করবে।
শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. নুরুজ্জামান বাদল কিডনি জটিলতায় গতকাল (মঙ্গলবার) দিবাগত রাত ৩টার দিকে ময়মনসিংহের স্বদেশ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।
পারিবারিক ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নুরুজ্জামান স্ত্রী ও এক সন্তান রেখে মারা গেছেন। তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর জেলা শাখার সেক্রেটারি এবং শ্রীবরদীর তাতিহাটি আইডিয়াল স্কুলের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। আজ ৪ ফেব্রয়ারি দুপুরে শেরপুর জেলা শহরের শহিদ দারোগ আলী পৌরপার্ক মাঠে প্রথম এবং বিকেল ৫টার দিকে দ্বিতীয় জানাজা শেষে শ্রীবরদীর পোড়াগর এলাকায় পারিবারিক কবস্থানে তাকে দাফন করা হবে।
বাদলের মৃত্যুর সংবাদে তার নির্বাচনি এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সেখানকার প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল এবং জামায়াত ও এনসিপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নেতারা তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমানও বাদলের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন।