সিলেটে সকাল থেকে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণ চলছে। সিলেট নগরের অনেক কেন্দ্রে ভোটারদের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। আবার কোনো কোনো ভোটকেন্দ্র অনেকটাই ফাঁকা দেখা গেছে।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টার দিকে নগরের সারদা হল কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায় ভোটারদের দীর্ঘ লাইন। পুরুষের চেয়ে নারী ভোটার বেশি। ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রচুর নারীরাও ভোটের লাইনে দাঁড়িয়েছেন।
তবে সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে নগরের মদন মোহন কলেজ কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, কেন্দ্র অনেকটাই ফাঁকা। দুই একজন করে ভোটাররা এসে ভোট দিচ্ছেন।
এই কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা জানান, এখানে ২ হাজার ৯৩৩ জন ভোটার রয়েছেন। প্রথম ২ ঘণ্টায় ১৫৪ জন ভোটার ভোট প্রদান করেছেন। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটার সংখ্যা বাড়বে।
ভোটের লাইনে থাকা তোপখানা এলাকার সাথি রানী দাস বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিতে সকালেই চলে এসেছি। ভোটের পরিবেশ খুব ভালো।
কাজিরবাজার এলাকার বাসিন্দা শিউলি আক্তার বলেন, সকালে ঝামেলা কম হবে মনে করে এসেছিলাম। এখন দেখি দীর্ঘ লাইন।
সকালে নগরের কদমতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিতে এসেছিলেন ৮০ বছরের বৃদ্ধা তৈয়বুন্নেছা। তিনি বলেন, আইডি কার্ড না আনায় প্রথমে ভোট দিতে পারিনি। পরে বাসা থেকে ছেলে আইডি কার্ড নিয়ে আসে। এরপর ভোট দিয়েছি।
সকাল থেকেই শান্তিপূর্ণভাবেই চলছে ভোটগ্রহণ। দুপুর ১২টা পর্যন্ত কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
সকাল ৮টায় শিবগঞ্জ স্কলার্স হোম কেন্দ্রে ভোট দেন সিলেট-১ আসনের জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মাওলানা হাবিবুর রহমান। আর ১০ টার কিছু আগে সারদা হল কেন্দ্রে তার ভোট প্রদান করেন বিএনপির প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীর। তারা দুজনই ভোট নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
এদিকে ভোটার উপস্থিতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে সিলেটের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম বলেছেন, সিলেট অঞ্চলে সাধারণত মানুষ সকালে একটু দেরিতে ভোটকেন্দ্রে আসেন। সেই তুলনায় বিভিন্ন কেন্দ্রে এখন পর্যন্ত যে ভোটের হার দেখা গেছে, তা মোটামুটি সন্তোষজনক। দিন শেষে ৫০–৬০ শতাংশের বেশি হতে পারে বলে তিনি মনে করছেন।
বেলা ১১টা পর্যন্ত কোথাও ১০ শতাংশ, কোথাও ১২ বা ১৫ শতাংশ, আবার কোনো কোনো কেন্দ্রে ১৭ শতাংশ পর্যন্ত ভোট পড়েছে বলে জানান তিনি।
তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটার উপস্থিতি আরও বাড়বে। এখন পর্যন্ত সামগ্রিক পরিবেশ ভালো রয়েছে বলেও জানান জেলা প্রশাসক। তবে গত রাতে দু-একটি স্থানে সামান্য সমস্যা হলেও তা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রার্থী ও ভোটারদের উদ্দেশে সরওয়ার আলম বলেন, নির্বাচন একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া। সবাইকে সহনশীল আচরণ করতে হবে এবং কোনো ধরনের সহিংসতা বা নির্বাচনী আইন লঙ্ঘন থেকে বিরত থাকতে হবে।
তিনি বলেন, সিলেট জেলার ছয়টি আসনে ৩৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, নির্বাচিত হবেন ছয়জন। জনগণ যাকে নির্বাচিত করবেন, সেই ফলাফল সবাইকে মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সামগ্রিক ভোটের হার এখনই নির্দিষ্ট করে বলা কঠিন হলেও দিনের শেষে ভালো একটি উপস্থিতি থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন সরওয়ার আলম। তার মতে, সকাল থেকেই বিভিন্ন কেন্দ্রে ১০ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত ভোট পড়েছে, যা দিন শেষে ৫০ থেকে ৬০ শতাংশের বেশি হতে পারে বলে তিনি মনে করছেন।