সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিকৃবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. আলিমুল ইসলামের অপসারণের দাবিতে চতুর্থ দিনের মতো অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন জাতীয়তাবাদী আদর্শের ‘সাদা দল’ সমর্থিত শিক্ষকরা। উপাচার্যের বিরুদ্ধে অনিয়ম, স্বেচ্ছাচার ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে শিক্ষক-কর্মকর্তাদের একটি অংশও আন্দোলনে যুক্ত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের মূল ফটকে তালা দিয়ে সেখানে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন আন্দোলনকারীরা। এ সময় তারা উপাচার্যকে ‘দুর্নীতিবাজ’ ও ‘জাতীয়তাবাদী আদর্শের শত্রু’ আখ্যা দিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরাও আন্দোলনে সমর্থন জানিয়ে তাতে যোগ দিয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক সানাউল হোসেন সনি, যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন, মো. গোলাম রব্বানী, রাকিব হোসেন অত্রাদ, জাহিদ হাসান ফাহাদ, মঈনুল হাসান সাদিক, মেহেদী হাসান রতন, সাদাব হোসেন রিয়ন, আহ্বায়ক সদস্য আশরাফুল ইসলাম, সদস্য রাজেশ বাছাড়, তারিকুল ইসলাম, মামুন মিয়া, মুক্তার হোসেন, নাজমুল হোসেন ও ধ্রুব সিদ্দিকী।
এর আগে, গেল সোমবার উপাচার্যের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১টি প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে পাঁচ শিক্ষকসহ ১১ জন শিক্ষক-কর্মকর্তা পদত্যাগ করেন। একই সঙ্গে উপাচার্যের অপসারণের দাবিতে রাষ্ট্রপতি বরাবর স্মারকলিপি দেন তারা।
পদত্যাগকারীদের মধ্যে বিভিন্ন আবাসিক হলের প্রভোস্টসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা শিক্ষক-কর্মকর্তারা রয়েছেন। তারা হলেন: এমএজি ওসমানী হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. কাওছার হোসেন, শহীদ জিয়া হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইউসুফ মিয়া, হযরত শাহজালাল (র.) হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. নাজমুল হক, হযরত শাহপরান (র.) হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. জসিম উদ্দিন, দুররে সামাদ রহমান হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. শাহজাহান মজুমদার, ঢাকার গেস্ট হাউসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. বাসির উদ্দিন, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক গাজী মো. জহিরুল ইসলাম, শরীরচর্চা শিক্ষা বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ নেয়ামত উল্যাহ, অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার মো. আশরাফুজ্জামান, ক্যাম্পাসের গেস্ট হাউসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গাজী মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম ও ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. বাসির উদ্দিন।
পদত্যাগকারী শিক্ষক-কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বর্তমান প্রশাসন দায়িত্ব নেওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন ও নির্মাণকাজ, ক্রয়প্রক্রিয়া এবং শিক্ষক নিয়োগে বিভিন্ন অনিয়ম হয়েছে। এসব বিষয়ে আপত্তি জানিয়েও কার্যকর ব্যবস্থা না পাওয়ায় তারা প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।
তাদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন ও নির্মাণকাজ অনেকটা স্থবির হয়ে আছে। রাজস্ব খাতের অর্থে কিছু উন্নয়ন ও মেরামতকাজ করা হলেও এসব ক্ষেত্রে সরকারি ক্রয়বিধি (পিপিআর) যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি।
অভিযোগ রয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়াম আনুষ্ঠানিকভাবে টেকওভার করার আগেই সেখানে মেরামতকাজ করা হয়েছে। এসব কাজের প্রয়োজনীয়তা ও বাস্তবায়নপ্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। কয়েকটি কাজের ক্ষেত্রে যথাযথ দরপত্র প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি বলেও দাবি তাদের।
ক্রয়প্রক্রিয়া নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ করেছেন তারা। তাদের ভাষ্য, ইলেকট্রনিকস ও আসবাবপত্র কেনার ক্ষেত্রে সরকারি ক্রয়বিধি অনুযায়ী যোগ্যতা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ঠিক থাকলে সর্বনিম্ন দরদাতাকে কাজ দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু কয়েকটি ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন দরদাতাকে বাদ দিয়ে পছন্দের ব্যক্তিকে কাজ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।