কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে ইঞ্জিনচালিত নছিমনের ধাক্কায় টিক্কা মোল্লা (৫৬) নামে এক ঝালমুড়ি বিক্রেতা নিহত হয়েছেন।
বুধবার (২৭ মে) সন্ধ্যায় কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী আঞ্চলিক মহাসড়কের জিলাপীতলা মোড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত টিক্কা মোল্লা খোকসা উপজেলার মোড়াগাছা ইউনিয়নের খালপাড়া এলাকার বাসিন্দা ছিলেন।
স্থানীয়রা জানান, গতকাল (বুধবার) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে খোকসার দিক থেকে আসা একটি নছিমন কুমারখালীর দিকে যাচ্ছিল। এ সময় ঝালমুড়ির মালামালবোঝাই ভ্যান নিয়ে টিক্কা মোল্লা সড়ক পার হচ্ছিলেন। হঠাৎ বেপরোয়া গতিতে আসা নছিমনটি ভ্যানটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি ভ্যানসহ সড়কে ছিটকে পড়েন। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
সন্ধ্যা ৭টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী আঞ্চলিক মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। সড়কের উত্তর পাশে গামছা দিয়ে ঢেকে রাখা ছিল টিক্কা মোল্লার মরদেহ। পাশে পড়ে ছিল ঝালমুড়িসহ দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া ভ্যানটি।
প্রত্যক্ষদর্শী আশকার হোসেন বলেন, ঝালমুড়ি বিক্রেতা টিক্কা মোল্লা সড়কের দক্ষিণ পাশ থেকে উত্তর দিকে আসছিলেন। এ সময় হঠাৎ বেপরোয়া গতিতে একটি গরুবোঝাই নছিমন এসে তাকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি ভ্যানসহ সড়কে ছিটকে পড়ে এ দুর্ঘটনাটি ঘটে।
কলেজছাত্র ইরফান রানা বলেন, জিলাপীতলা মোড়ে বাজার আছে। তবুও সড়কে স্পিডব্রেকার নেই। আবার নছিমনটির গতিও ছিল অতিরিক্ত। অতিরিক্ত গতি আর স্পিডব্রেকার না থাকায় আজ ঝালমুড়ি বিক্রেতার প্রাণ গেল।
নিহতের স্বজন মিন্টু হোসেন বলেন, প্রতিদিনের মতো দুপুর ২টার দিকে ঝালমুড়ি বিক্রির জন্য বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন আমার দুলাভাই। পরে দুর্ঘটনার খবর শুনে এসে দেখি রাস্তার ধারে তার মরদেহ পড়ে আছে; ভ্যানটিও ভেঙে গেছে। তার পরিবারে তার স্ত্রী ও দুই সন্তান আছে বলে জানান তিনি।
কুমারখালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আমিরুল ইসলাম বলেন, নছিমনের ধাক্কায় একজন ঝালমুড়ি বিক্রেতা নিহত হয়েছেন। স্থানীয়রা ঘাতক নছিমনটি আটক করেছে। তবে চালক পালিয়ে গেছেন। বিষয়টি হাইওয়ে পুলিশকে জানানো হয়েছে।