খাগড়াছড়ির সীমান্তবর্তী পানছড়ি উপজেলার চেঙ্গী ইউনিয়নের মধুমঙ্গলপাড়া এলাকায় পাহাড়ি আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠনগুলোর আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গোলাগুলিতে তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় দুইজনকে অপহরণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরে পানছড়ি-লোগাং সড়কের মধুমঙ্গলপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মধুমঙ্গলপাড়ায় একটি অটোরিকশা থামিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। একপর্যায়ে কাছ থেকে গুলি চালানো হলে ঘটনাস্থলেই তিনজন নিহত হন।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে একজন আগে জেএসএস (সন্তু লারমা) গ্রুপের সদস্য ছিলেন। তিনি গত ১৯ মে বিজিবি ক্যাম্পে আত্মসমর্পণ করেছিলেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, আত্মসমর্পণকে কেন্দ্র করে সংগঠনের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরেই এ রক্তক্ষয়ী ঘটনা ঘটতে পারে। তবে এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
নিহতরা হলেন— পদ্মা চাকমা (১৮), ধনা চাকমা (১৮) এবং রিয়েল চাকমা (১৮)। পদ্মা ও ধনা চাকমার বাড়ি রাঙ্গামাটিতে এবং রিয়েল চাকমার বাড়ি খাগড়াছড়ির পানছড়িতে। পদ্মা চাকমা সাংগঠনিক নামে পরিচিত ছিলেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
এ ঘটনায় দুইজনকে অপহরণ করা হয়েছে বলে স্থানীয়ভাবে দাবি করা হলেও তাদের পরিচয় বা অপহরণের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
ইউপিডিএফ (প্রসিত গ্রুপ)-এর পানছড়ি উপজেলা সমন্বয়ক আইচ্যুক ত্রিপুরা বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে তাদের সংগঠনের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
আবার, অন্য কোনো পক্ষেরও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনাস্থল থেকে দুটি মিসফায়ার গুলি, ১৪টি ব্যবহৃত কার্তুজের খোসা এবং চারটি গুলি উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
পানছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস ওয়াহিদ তিনজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ঘটনাস্থল থেকে তিনটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
এ ঘটনার পর এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।