খাগড়াছড়ি
পাহাড়ে বর্ষবরণ উৎসবের বর্ণিল সূচনা
পাহাড়ে শুরু হয়েছে ঐতিহ্যবাহী বর্ষবরণ উৎসব। খাগড়াছড়িতে চাকমা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী ফুল বিজুর মধ্য দিয়ে এ উৎসবের সূচনা হয়েছে।
চেঙ্গী ও মাইনী নদী এবং আশপাশের ছড়া ও খালে ফুল উৎসর্গের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়েছে চাকমাদের ফুল বিজু।
খাগড়াছড়ির খবংপুড়িয়া ও রিভারভিউ পয়েন্ট দিয়ে রবিবার (১২ এপ্রিল) ভোর থেকেই শিশু-কিশোর, তরুণ-তরুণীসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ দলবদ্ধভাবে নদীতে গিয়ে গঙ্গাদেবীর উদ্দেশ্যে ফুল নিবেদনের মাধ্যমে এই উৎসবের সূচন করেন।
এ সময় রঙিন ফুলে সাজানো চেঙ্গী নদীর দুই তীর যেন উৎসবের বর্ণিল রূপ ধারণ করে। পুরনো বছরের দুঃখ-গ্লানি ভুলে নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর প্রতীক হিসেবেই ছিল এই আয়োজন।
ফুল পূজা দেখতে ও অংশ নিতে নদীর পাড়ে ভিড় করেন শত শত মানুষ। এ সময় ফুল পূজা পরিদর্শন করেন খাগড়াছড়ি আসনের সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভুইয়ার সহধর্মিনী জেলা বিএনপির প্রধান উপদেষ্টা জাকিয়া জিনাত বিথী, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমএন আবছারসহ প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ।
আগামীকাল বাংলা বছরের শেষ দিন চাকমাদের মূল বিজু। মূল বিজুর দিন পাহাড়ি পল্লীর ঘরে ঘরে নানা ধরনের সবজি মিশিয়ে রান্না করা হবে একধরনের সুস্বাদু নিরামিষ জাতীয় সবজি, যা ‘পাজন’ নামে পরিচিত।
পাজনের স্বাদই অন্যরকম। একেবারেই আলাদা। এই পাজনের সবজি দিয়ে অতিথিদের আপ্যায়ন করা হয়। সঙ্গে থাকে নানা ফল, ঐতিহ্যবাহী ঘরে তৈরি পিঠা। সেদিন সবার দুয়ার খোলা থাকে। এ যেন পারস্পরিক সম্পর্কের সম্মিলন।
বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন পালিত হবে চাকমাদের ‘গইজ্জা পইজ্জা’ উৎসব। সেদিন হবে পাড়া পাড়া ঘুরে বেড়ানো। আর আনন্দ স্নাত উল্লাস।
৩ দিন আগে
খাগড়াছড়িতে আগুনে পুড়ে ছাই ৯ দোকান
খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার কবাখালী ইউনিয়নের পাবলাখালী শান্তিপুর এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৯টি দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১১টার দিকে হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত হয়। এরপর মুহূর্তের মধ্যেই তা আশপাশের দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয়রা জানান, আগুন লাগার পরপরই আশপাশের লোকজন এগিয়ে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালান, তবে ততক্ষণে আগুন ভয়াবহ আকার ধারণ করে। পরে খবর পেয়ে দীঘিনালা ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তারা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার আগেই ৯টি দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে যায়।
দীঘিনালা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার পঙ্কজ কুমার বড়ুয়া জানান, অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। এতে প্রায় ১২ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী উৎপল দেওয়ান বলেন, ‘বৈসাবি, বিজু ও পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে আমার কাপড়ের দোকানে প্রায় দেড় লাখ টাকার নতুন মালামাল তুলেছিলাম। রাতে দোকান বন্ধ করে বাসায় যাওয়ার পর আগুনের খবর পেয়ে এসে দেখি আমার দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। এতে আমার প্রায় দুই থেকে তিন লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।’
চা ও ফটোকপি দোকানদার সুরেশ চাকমা জানান, ‘আমি সকালে খবর পেয়ে এসে দেখি, আমার দোকানের কিছুই অবশিষ্ট নেই, সবকিছু পুড়ে গেছে।’
স্থানীয়দের মতে, অগ্নিকাণ্ডে ৯টি দোকানে মোট ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়ে থাকতে পারে।
দীঘিনালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানজিল পারভেজ আজ সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘অগ্নিকাণ্ডের মতো দুর্ঘটনা হঠাৎ করেই ঘটে এবং এতে ব্যাপক ক্ষতি হয়। বর্তমানে শুকনো মৌসুম চলায় সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হবে।’
৪ দিন আগে
বৈসাবিকে স্বাগত জানিয়ে খাগড়াছড়িতে বর্ণিল আয়োজন
পাহাড়জুড়ে উৎসবের আমেজ। পুরোনো বছরকে বিদায় আর নতুন বছরকে বরণ করে নিতে রঙ, সুর আর ঐতিহ্যের মেলবন্ধনে খাগড়াছড়িতে শুরু হয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রামের অন্যতম প্রধান সামাজিক উৎসব ‘বৈসাবি’র আয়োজন।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সকালে এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের উদ্যোগে তিন দিনব্যাপী এ আয়োজনের সূচনা হয়।
জেলা পরিষদ প্রাঙ্গণ থেকে শান্তির প্রতীক পায়রা ও রঙিন বেলুন উড়িয়ে উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন পরিষদের চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা। এ সময় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
শোভাযাত্রাটি জেলা পরিষদ চত্বর থেকে শুরু হয়ে টাউন হল প্রাঙ্গণে গিয়ে এক প্রাণবন্ত মিলনমেলায় মিলিত হয়। পাহাড়ি ও বাঙালি—সব সম্প্রদায়ের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এটি পরিণত হয় উৎসবের এক অনন্য বহির্প্রকাশে। ঐতিহ্যবাহী পোশাক, রঙিন অলংকার আর বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে হাজারো নারী-পুরুষ, তরুণ-তরুণী ও শিশু-কিশোর অংশ নেয় এই আনন্দযাত্রায়।
৯ দিন আগে
অকটেন না পেয়ে ট্যাগ কর্মকর্তাকে পিটিয়ে হাত ভেঙ্গে দেওয়ার অভিযোগ
খাগড়াছড়িতে অকটেন না পাওয়ায় ফিলিং স্টেশনের দায়িত্বে থাকা ট্যাগ কর্মকর্তার ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় তাকে পিটিয়ে হাত ভেঙ্গে দিয়েছে কয়েকজন যুবক।
সোমবার (৬ এপ্রিল) দুপুর পৌনে ৩টার দিকে জেলা সদরের মহাজন পাড়া এলাকায় মেহেরুন্নেছা ফিলিং স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে।
আহত ট্যাগ কর্মকর্তা হেমন্ত চাকমা খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা ভূমি অফিসের কর্মচারী।
স্থানীয়রা জানান, খাগড়াছড়ি পৌর শহরের মেহেরুন্নেছা ফিলিং স্টেশনে সকাল ৯টা থেকে জ্বালানি তেল বিতরণ শুরু হয়। এ সময় ৫০০ টাকার অকটেন বিতরণ করা হলেও কয়েকজন যুবক প্লাস্টিকের বোতলে অতিরিক্ত অকটেন দাবি করেন। তবে হেমন্ত চাকমা সরকারি নির্দেশনা মেনে অতিরিক্ত তেল দিতে অস্বীকৃতি জানান।
এ ঘটনার পর যুবকেরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। পরে দুপুরে মহাজন পাড়া এলাকায় দুপুরের খাবার খেতে এটি হোটেলে গেলে ওই যুবকরা হেমন্ত চাকমাকে সেখান থেকে বের করে লাঠিসোঠা দিয়ে হামলা চালিয়ে হাত ভেঙ্গে দেয়। আহত অবস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয়রা তাকে খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে নিয়ে যান।
খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারিয়া সুলতানা জানান, এ ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
৯ দিন আগে
খাগড়াছড়িতে ইউপিডিএফ নেতাকে গুলি করে হত্যা
খাগড়াছড়ির পানছড়িতে আঞ্চলিক সংগঠন ইউপিডিএফের (গণতান্ত্রিক) এক নেতাকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার সুতাকর্মপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত নীতি দত্ত চাকমা (৪৫) ইউপিডিএফের পানছড়ি উপজেলা সংগঠক ছিলেন। তিনি উপজেলার উত্তর শান্তিপুর এলাকার বাসিন্দা বর্ণনাতীত চাকমার ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, ঘটনার সময় নীতি দত্ত চাকমা সুতাকর্মপাড়ার একটি দোকানে বসে ছিলেন। এ সময় এক দল লোক সেখানে এসে তাকে লক্ষ্য করে কাছ থেকে গুলি চালায়। গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে খাগড়াছড়ি জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
খাগড়াছড়ি জেলা সদর হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. জয়া ত্রিপুরা জানান, হাসপাতালে আনার আগেই নীতি দত্ত চাকমার মৃত্যু হয়েছে।
পানছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস ওয়াহিদ বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত জানার চেষ্টা চলছে।
ইউপিডিএফের কেন্দ্রীয় সংগঠক অমর চাকমা এই হত্যাকাণ্ডের জন্য প্রসিত খীসাপন্থি ইউপিডিএফকে দায়ী করেছেন। তবে এ বিষয়ে প্রতিপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
১৯ দিন আগে
খাগড়াছড়িতে আগুনে পুড়ে ছাই ৩৫ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান
খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র বোয়ালখালী নতুন বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ৩৫টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) দিবাগত রাত ৩টার দিকে এ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়।
দীঘিনালা থানা পুলিশ, সেনাবাহিনী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এরই মধ্যে দোকানগুলোর মালামাল ও আসবাবপত্র সম্পূর্ণ পুড়ে যায়।
ফায়ার সার্ভিস জানায়, বাজারের আশপাশে পানির কোনো উৎস না থাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে বেগ পেতে হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও বাজার পরিচালনা কমিটির দাবি, অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ৪ থেকে ৫ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পুড়ে যাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে জুতার দোকান, কসমেটিকস, সেলুন, ফার্মেসি ও স্বর্ণের দোকান রয়েছে।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।
বোয়ালখালী বাজার পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর হোসেন বলেন, অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা সহায়-সম্বল হারিয়ে সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েছেন। এ ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা তাদের জন্য অত্যন্ত কঠিন।
দীঘিনালা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পঙ্কজ বড়ুয়া জানান, সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতায় প্রায় দেড় ঘণ্টার প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে।
এদিকে, উপজেলা বিএনপি নেতারা ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
১৯ দিন আগে
ঈদে খাগড়াছড়ির বিনোদনকেন্দ্রে স্থানীয়দের ভিড়, পর্যটক উপস্থিতি কম
পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটিতে খাগড়াছড়ির বিভিন্ন বিনোদনকেন্দ্রে দর্শনার্থীদের উপস্থিতি বাড়লেও বহিরাগত পর্যটকদের সংখ্যা অন্য বছরের তুলনায় এবার কিছুটা কম লক্ষ করা গেছে। পাহাড়, মেঘ আর ঝরনায় ঘেরা এই জনপদে ঈদের দ্বিতীয় দিন থেকেই স্থানীয়দের সরব উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো।
জেলার জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র আলুটিলা, হর্টিকালচার পার্ক ও রিসাং ঝরনাসহ বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে পরিবার-পরিজন নিয়ে অনেককে ঘুরতে দেখা গেছে। ঈদের দিন থেকেই এসব স্থানে মানুষের আনাগোনা শুরু হয়, তবে ভিড়ের বড় অংশই ছিল স্থানীয় বাসিন্দা।
সংশ্লিষ্টদের মতে, জ্বালানি তেল সংকটের কারণে ব্যক্তিগত যানবাহন চলাচল কমে যাওয়ায় দূর-দূরান্ত থেকে পর্যটকদের আগমন প্রত্যাশার তুলনায় কম হয়েছে। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে খাগড়াছড়ির হোটেল ও রিসোর্টগুলোর ওপর। গত বছরগুলোর তুলনায় এবার হোটেল-রিসোর্টে বুকিংয়ের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে।
তবে পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা এখনও আশাবাদী। তারা মনে করছেন, পর্যটকরা সাজেক ভ্যালি থেকে ফেরার পথে জেলার অন্যান্য দর্শনীয় স্থানগুলোতে ভিড় করতে পারেন। ফলে ছুটির শেষ দিনগুলোতে পর্যটকের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে তারা ধারণা করছেন।
২৪ দিন আগে
হেলিকপ্টারে করে খাগড়াছড়ির ৩ ভোটকেন্দ্রে পৌঁছেছে নির্বাচনি সরঞ্জাম
খাগড়াছড়ি ২৯৮ নম্বর সংসদীয় আসনের অতি দুর্গম এলাকায় অবস্থিত ৩টি ভোটকেন্দ্রে হেলিকপ্টারযোগে নির্বাচনি সরঞ্জাম পাঠানো হয়েছে।
কেন্দ্র ৩টি হলো— দীঘিনালা উপজেলার নাড়াইছড়ি, লক্ষ্মীছড়ি উপজেলার শুকনাছড়ি ও ফুত্যাছড়ি কেন্দ্র। খাগড়াছড়ি আসনের মধ্যে এসব কেন্দ্র সবচেয়ে বেশি দুর্গম হিসেবে বিবেচিত।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে প্রথমে সেনাবাহিনীর লক্ষ্মীছড়ি জোনের হেলিপ্যাড থেকে হেলিকপ্টার উড়ে যায় দুর্গম শুকনাছড়ি কেন্দ্রে। পরে পর্যায়ক্রমে একই হেলিকপ্টারে করে লক্ষ্মীছড়ির ফুত্যাছড়ি এবং দীঘিনালার নাড়াইছড়ি কেন্দ্রে নির্বাচনি সরঞ্জাম নিয়ে যাওয়া হয়।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এস এম শাহাদাত হোসেন বলেন, শুধু ব্যালট বাক্স ও নির্বাচনি সরঞ্জামই নয়, হেলিকপ্টারের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যদেরও ওই দুর্গম ভোটকেন্দ্রগুলোতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করার লক্ষ্যে এরই মধ্যে মাঠে নেমেছে সেনাবাহিনী, র্যাব, বিজিবি, পুলিশসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলাবাহিনী। বিশেষ করে সেনাবাহিনী, র্যাব ও বিজিবি বিভিন্ন এলাকায় টহল দিচ্ছে।
খাগড়াছড়ি আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ৫৪ হাজার ১১৪ জন। জেলার ২০৩টি ভোটকেন্দ্রে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এসব কেন্দ্রের মধ্যে ১২১টি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ৬৮টি কেন্দ্র অতিঝুঁকিপূর্ণ।
৬৫ দিন আগে
খাগড়াছড়িতে স্কুলছাত্রী ধর্ষণ: চলছে অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ, এলাকাজুড়ে থমথমে অবস্থা
স্কুলছাত্রী ধর্ষণের প্রতিবাদে খাগড়াছড়িতে অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ চলছে, বন্ধ রয়েছে সব ধরনের যানবাহন চলাচল। প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছেন না সাধারণ মানুষ। এ ছাড়া অবরোধকে কেন্দ্র করে সংঘটিত সহিংসতার পর এলাকাজুড়ে এখনো থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
রবিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, আতঙ্কে সাধারণ মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। কেউ বের হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তল্লাশির মুখে পড়ছেন। এমনকি শহরতলীর দোকানপাটও খোলেনি।
আজ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। গতকাল (শনিবার) সড়কে পিকেটারদের দেখা গেলেও আজ তা চোখে পড়ছে না।
তবে জেলা শহরসহ আশপাশ এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। সেনাবাহিনী টহলের পাশাপাশি ৭ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন রয়েছে।
এর আগে, শনিবার খাগড়াছড়ি পৌরসভা, সদর উপজেলা ও গুইমারায় অনির্দিষ্টকালের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করে প্রশাসন।
আরও পড়ুন: খাগড়াছড়িতে চলমান অবরোধের মধ্যে অনির্দিষ্টকালের জন্য ১৪৪ ধারা জারি
খাগড়াছড়ির জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসক এবিএম ইফতেখারুল ইসলাম খন্দকার এক বিজ্ঞপ্তিতে জানান, পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি থাকবে।
প্রসঙ্গত, এর আগে ২৩ সেপ্টেম্বর রাতে খাগড়াছড়ি পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের সিঙ্গিনালায় প্রাইভেট পড়া শেষে বাড়ি ফেরার পথে ধর্ষণের শিকার হন ৮ম শ্রেণির এক ছাত্রী। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা অজ্ঞাত তিনজনকে আসামি করে খাগড়াছড়ি সদর থানায় মামলা করেন।
পরদিন সকালে সেনাবাহিনীর সহায়তায় সন্দেহভাজন যুবক শয়ন শীলকে (১৯) গ্রেপ্তার করে পুলিশ। শয়ন শীলকে গ্রেপ্তার করা হলেও বাকি দুইজন এখনো পলাতক রয়েছে।
এই ঘটনার প্রতিবাদে জুম্ম ছাত্র জনতা ২৪ সেপ্টেম্বর খাগড়াছড়িতে বিক্ষোভ সমাবেশ করে এবং পরদিন (২৫ সেপ্টেম্বর) খাগড়াছড়ি জেলায় অর্ধদিবস অবরোধ কর্মসূচি পালন করে।
অবরোধে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় সাজেকে প্রায় দুই হাজার এবং রাঙামাটি শহরে সহস্রাধিক পর্যটক আটকা পড়েন। আটকে পড়া পর্যটকদের রাতেই খাগড়াছড়িতে নিয়ে আসা হয়। তাদের অনেকেই ফিরে গেছেন গন্তব্যে।
২০০ দিন আগে
দীঘিনালায় বজ্রপাতে যুবকের মৃত্যু
খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলায় বজ্রপাতে শরীফুল ইসলাম (২২) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।
শনিবার (১৬ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার কবাখালি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত শরীফুল ওই এলাকার নজরুল ইসলামের ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, শনিবার সন্ধ্যায় গরু নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে বজ্রপাতের শিকার হন শরীফুল। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে দ্রুত তাকে উদ্ধার করে দীঘিনালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানান চিকিৎসকরা।
আরও পড়ুন: সিলেটের গোয়াইনঘাটে বজ্রপাতে স্কুলছাত্রের মৃত্যু
এ বিষয়ে দীঘিনালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. রঞ্জন বড়ুয়া রাজন বলেন, বজ্রপাতে শরীফুল ইসলামের মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তিনি মারা গিয়েছিলেন।
২৪২ দিন আগে