চট্টগ্রাম মহানগরীর ষোলশহর মেয়র গলি ও জেলার সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে পৃথক পাহাড় ধসে মাটি চাপা পড়ে দুই শিশু নিহত হয়েছে।
বুধবার (৮ জুলাই) সকাল থেকে দুপুরের মধ্যে এসব ঘটনা ঘটে।
ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, গত কয়েকদিন ধরে টানা বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটছে। আজ দুপুর ১টার দিকে নগরীর শোলক বহর ওয়ার্ডের মুক্তিযোদ্ধা পাহাড়ের একাংশ ধসে পড়ে সুমাইয়া আক্তার (১২) নামে একটি মেয়ের মৃত্যু হয়েছে।
নগরীর পাঁচলাইশ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রিয়াজুল সালেহীন বলেন, মুক্তিযুদ্ধ কলোনিতে পাহাড়ের পাদদেশে ছয়টি ঘর ছিল। তার মধ্যে ৩ ও ৪ নম্বর ঘরের ওপর পাহাড়ের মাটি ধসে পড়ে। এ সময় ৩ নম্বর ঘরে থাকা সুমাইয়ার মৃত্যু হয়।
তিনি বলেন, পাহাড় ধসের পরপরই চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিস ও চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব ৮ নম্বর শুলক বহর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার জমির উদ্দিন নাহিদের টিম মিলে উদ্ধারকাজ চালায়। এ ঘটনায় আহত অবস্থায় মেয়েটিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেওয়া হলেও বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
অন্যদিকে, জেলার সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে ঘরের ওপর মাটি ধসে মো. আশরাফুল ইসলাম তানভীর নামে ১০ মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
নিহত তানভীর ওই এলাকার বাগান বাড়ির বাসিন্দা মহিন উদ্দীনের ছেলে।
আজ সকাল ১০টার দিকে জঙ্গল সলিমপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ৬ নম্বর সমাজ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, টানা বৃষ্টির কারণে পাহাড়ের কিনারে থাকা ঘরটির ওপর মাটি ধসে পড়ে। এ সময় শিশুটি গুরুতর আহত হয়। পরে তাকে উদ্ধার করা হলেও বাঁচানো যায়নি।
চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মো. জুনায়েত কাউছার জানান, ভারী বৃষ্টির কারণে মাটি ধসে পড়েছে ঘরটির ওপর। ঘরটি একেবারেই কাঁচা ছিল। এতে ওই ঘরে থাকা ১০ মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এর আগে, গতকাল মঙ্গলবার নগরীর পাঁচলাইশে পাহাড় ধসে পড়ে সফিকুল ইসলাম নামে একজন নিহত হন।