চাঁদপুরে পৃথক বিদুৎস্পৃষ্টের ঘটনায় প্রসূতিসহ দুই নারীর মৃত্যু হয়েছে।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার বড়কূল পশ্চিম ইউনিয়নের কুড়ুলী মুন্সী বাড়ি এবং মতলব দক্ষিণে উপাধী উত্তর ইউনিয়নের নওগাঁও গ্রামে দুর্ঘটনা দুটি ঘটে।
নিহতরা হলেন— সুমাইয়া আক্তার (২২) এবং ইসরাত জাহান ইমা (১৫)।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মুন্সী বাড়ির সুমাইয়া আক্তার গতকাল (শুক্রবার) দুপুরে স্বামী শরিফ হোসেনের অটোরিকশা নিজে চার্জ দিতে গিয়ে হঠাৎ বিদ্যুতের শক লেগে মাটিতে ছিটকে পড়েন। চিৎকার শুনে পরিবারের লোকজন দ্রুত উদ্ধার করে তাকে হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে পরীক্ষা করে মৃত ঘোষণা করেন।
অটোরিকশাচালক শরিফ হোসেন জানান, তার স্ত্রী পাঁচ মাসের অন্ত:সত্ত্বা ছিলেন। স্ত্রীসহ অনাগত সন্তানের কথা মনে করে তিনি কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।
হাজীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আব্দুল জব্বার বলেন, পরিবারের অভিযোগ না থাকায় লিখিত আবেদনের ভিত্তিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে।
এদিকে, ঠিক একই সময়ে চাঁদপুরের নওগাঁও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ইসরাত জাহান ইমা নামে এক স্কুল ছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে।
স্কুলের প্রধান শিক্ষক শিবির আহমেদ জানান, মেয়েটি তার স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। তার মা রুমা আক্তার বিদেশে থাকেন এবং বাবা চট্টগ্রামে কাজ করেন। ইমা নানার বাড়িতে থেকে লেখাপড়া করত।
তিনি আরও জানান, আজ দুপুরে নানা তাজুল ইসলামের অনুরোধে ইমা ঘরের চালের ওপর জমে থাকা পাতা পরিষ্কার করতে মই দিয়ে চালে উঠতেই হঠাৎ বিদ্যুৎতের শক খেয়ে নিচে মাটিতে পড়ে গিয়ে মারাত্মক আহত হয় । মূলত চালের উপর দিয়ে যাওয়া বিদ্যুতের তার ছিদ্র হয়ে ঘরের চাল আগেই বিদ্যুতায়িত ছিল। এ অবস্থায় তাকে দ্রুত উদ্ধার করে মতলব স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আরিফ হোসেন তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মতলব দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান মানিক জানান, এ ব্যাপারে অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।