৫০ শয্যার হাসপাতাল, রয়েছে চিকিৎসার প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও বিভিন্ন সরঞ্জাম। কিন্তু চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য জনবলের ঘাটতিতে কাঙ্ক্ষিত সেবা দিতে পারছে না শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হওয়া রোগীরা।
প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবে দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালটির অপারেশন থিয়েটার কার্যত বন্ধ রয়েছে। ফলে অস্ত্রোপচার প্রয়োজন, এমন রোগীদের চিকিৎসার জন্য পাঠানো হচ্ছে শরীয়তপুর জেলা সদর হাসপাতাল কিংবা ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে। এতে রোগী ও স্বজনদের বাড়তি সময়, অর্থ ও দুর্ভোগের মুখে পড়তে হচ্ছে।
নড়িয়া উপজেলার মুলফৎগঞ্জে অবস্থিত স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় মানুষের চিকিৎসার অন্যতম ভরসা। উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকা ছাড়াও আশপাশের বিভিন্ন এলাকার মানুষ এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন। কিন্তু চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় সহায়ক জনবলের সংকটে অনেক রোগীকে কাঙ্ক্ষিত সেবা না পেয়েই অন্যত্র যেতে হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
বিশেষ করে জরুরি ও জটিল রোগীদের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে ওঠে। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, হাসপাতালে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও নার্সসহ সংশ্লিষ্ট জনবল থাকলে অনেক রোগীর চিকিৎসা নড়িয়াতেই সম্ভব হতো। কিন্তু জনবল না থাকায় সাধারণ চিকিৎসার পাশাপাশি অস্ত্রোপচারের ক্ষেত্রেও রোগীদের নির্ভর করতে হচ্ছে দূরের হাসপাতালের ওপর।
হাসপাতালটিতে অপারেশন থিয়েটারের অবকাঠামো ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি থাকলেও সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও দক্ষ জনবলের অভাবে সেটি নিয়মিত চালু রাখা সম্ভব হচ্ছে না। এতে ছোটবড় বিভিন্ন অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হওয়া রোগীদেরও অন্য হাসপাতালে যেতে হচ্ছে। দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য এ পরিস্থিতি বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি করছে।
স্থানীয়দের মতে, নড়িয়ার মতো একটি বড় উপজেলার মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে প্রয়োজনীয় জনবল দ্রুত পূরণ করা জরুরি। চিকিৎসক, নার্স, টেকনোলজিস্ট ও অন্যান্য সহায়ক কর্মী নিয়োগের পাশাপাশি অপারেশন থিয়েটার পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা গেলে স্থানীয় পর্যায়েই অনেক রোগীর চিকিৎসা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে জেলা সদর ও রাজধানীর হাসপাতালগুলোর ওপর রোগীর চাপও কমবে।
এলাকাবাসী দ্রুত জনবল সংকট নিরসন করে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির চিকিৎসাসেবার পরিধি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন। তাদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় পদগুলোতে দ্রুত জনবল নিয়োগের উদ্যোগ নিয়ে অপারেশন থিয়েটারসহ হাসপাতালের সব সেবা কার্যকরভাবে চালু করবে।
নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিসংখ্যানবিদ মো. দিদার হোসেন বলেন, হাসপাতালে জনবল সংকট রয়েছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও নার্সের ঘাটতির কারণে অপারেশন থিয়েটার চালু রাখা সম্ভব হচ্ছে না। জনবল সংকট কাটলে হাসপাতালের সেবার পরিধি আরও বাড়ানো সম্ভব হবে।