রাজধানীর ওয়ারী থানার নারিন্দা রোডে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) কেন্দ্রীয় মন্দিরের পুরোহিত সুভাষ দেউরিকে (২৫) রাতভর নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ সময় তাকে উলঙ্গ করে ভিডিও ধারণের পর ব্ল্যাকমেইল করে পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে ২৬ হাজার টাকা আদায় করা হয় বলে অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগীর পরিবার। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকাল পৌনে ৮টার দিকে আহত অবস্থায় সুভাষকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়।
আহত সুভাষ দেউরির গ্রামের বাড়ি মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানায়। তিনি ওয়ারীর নারিন্দা এলাকায় মো. সেলিম হোসেনের বাসায় ভাড়াটিয়া হিসেবে থাকতেন।
আহতের বন্ধু দুর্জয় সাহা জানান, ‘আমি আর সুভাষ এক বাসাতেই থাকি। রাত সাড়ে ৯টার দিকে বাসায় আসার পরে আমি সুভাষকে দেখিনি। ভেবেছি, ওর কোনো কাজে হয়তো বাইরে গিয়েছে। বিষয়টা সেভাবে অতটা গুরুত্ব দিইনি। পরবর্তীতে রাত সাড়ে ১১টার দিকে সুভাষ আমাকে ওর নম্বর থেকে কল দিয়ে কিছু টাকা দিতে বলে, কিন্তু আমার কাছে টাকা না থাকায় দিতে পারিনি।’
তিনি বলেন, ‘আমরা বন্ধুরা মিলে কাল রাতে ব্রাজিলের খেলা দেখে সারা রাত ঘুরাঘুরির পর ভোর সাড়ে ৫টার দিকে বাসায় আসার পথে নারিন্দা রোডের অগ্রণী ব্যাংকের সামনে পৌঁছে দেখি, আমার বন্ধু গুরুতর আহত অবস্থায় রাস্তায় পড়ে আছে; তার মাথা, হাত ও পায়ে গুরুতর জখম। ওর কাছে মোবাইল, মানিব্যাগ কিছুই পাওয়া যায়নি। পরে আমরা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে সকাল পৌনে ৮টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসি। বর্তমানে ও এখানেই চিকিৎসাধীন আছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সুভাষ গুরুতর আহত হওয়ার পরও কিছু কথা আমাকে বলতে পেরেছিল। সে বলেছিল, রাত ১০টা থেকে ভোর ৪টা পর্যন্ত তার ওপর শারীরিক এবং মানসিক নির্যাতন করা হয়েছে। তাকে উলঙ্গ করে তার ভিডিও ধারণ করা হয়েছিল এবং তাকে ব্ল্যাকমেইল করে তার পরিবারের সবার কাছ থেকে টাকা চাইতে বলেছিল। সে যদি টাকা না দেয়, তবে তার সেই নগ্ন ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করা হবে বলেও জানিয়েছিল তারা।’
আহতের বোন জয়া বলেন, ‘রাত ১টার দিকে আমি আমার ভাইকে কল দিই। কিন্তু সেই কলটি আমার ভাই না ধরে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি ধরে আমাকে ৩০ হাজার টাকা পাঠাতে বলে। পরে ফোন কেটে দেয়। কিন্তু আমার কাছে এত টাকা ছিল না। বিষয়টি আমি পরিবারের সবাইকে জানাই। পরে জানতে পারি, পরিবারের সবার কাছেই নাকি টাকা চাওয়া হয়েছে। এরপর আমার ভাইয়ের নম্বর থেকে রাত আড়াইটার দিকে কল আসে এবং আমার ভাই কাঁদো কাঁদো সুরে টাকা দিতে বলে। এও বলে, টাকা না দিলে নাকি ওকে মেরে ফেলবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ওদের মধ্যে একজনের নম্বর দিয়ে দেয়। আমি রাতে টাকা ম্যানেজ করে ওই নম্বরে ২৬ হাজার টাকা পাঠিয়ে দিই। তারপর আমার ভাইয়ের সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ হয়নি। আমার ভাই এখন ঢাকা মেডিকেলে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে।’
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ফারুক চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে জানান, পুরান ঢাকা থেকে সুভাষ দেউরি নামের এক পুরোহিতকে রক্তাক্ত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেলে আনা হয়েছে। জরুরি বিভাগে তার চিকিৎসা চলছে। তার মাথা, হাত ও পায়ে গুরুতর জখম করেছে দুর্বৃত্তরা। চিকিৎসক জানিয়েছেন, তার অবস্থা গুরুতর। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে জানানো হয়েছে।