নওগাঁয় যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ আদালতের রায়ের জন্য অপেক্ষামাণ গুরুত্বপূর্ণ নথি চুরি করে চাঁদা দাবির অভিযোগে দুই কমর্চারীসহ ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছেন ডিবি পুলিশের সদস্যরা। সেইসঙ্গে চুরি হওয়া নথিও উদ্ধার করা হয়েছে।
শনিবার (২৩মে) দুপুর ১টার দিকে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এর আগে, গত বৃহস্পতিবার (২১মে) নওগাঁ যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ আদালত থেকে মামলার ওই নথিগুলো হারিয়ে যায়। এরপর শুক্রবার (২২মে) দিনব্যাপী রাজশাহী, নওগাঁ ও বগুড়া জেলায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম।
গ্রেপ্তাররা হলেন— নওগাঁ সদর উপজেলার সিংবাচা গ্রামের এস এম আকাশ (২৬), যুগ্ম জেলা ও দায়রা আদালতে-২-এর পিয়ন পলাশ হোসেন। পলাশের ভাই সাপাহার সাব জজ আদালতের পিয়ন আরিফ এবং শহরের বকুল তলা এলাকার সবুজ (৪০)। তিনি কোর্টের মুহুরী হিসেবে কাজ করতেন।
পুলিশ সুপারের তত্ত্বাবধানে ডিবির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসিবুল্লাহ হাবিবের নেতৃত্বে একটি চৌকষ দল দিনব্যাপী এই অভিযানটি পরিচালনা করেন।
তারিকুল ইসলাম বলেন, যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ আদালত-২ এর ৯০৪/২০২২ নম্বর মামলাটির রায় ঘোষণা হবার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই ওই মামলার নথি চুরি হয়ে গেছে। সেইসঙ্গে চুরি হওয়া নথিটি ফেরত দেওয়ার বিনিময়ে একটি অজ্ঞাত নাম্বার থেকে আদালতের এক কর্মচারীর নিকট ফোন করে ৩০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করা হচ্ছিল।
তিনি বলেন, বিষয়টি গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ আদালত-২ নওগাঁ হতে রায়ের জন্য অপেক্ষামাণ একটা গুরুত্বপূর্ণ মামলার নথি চুরি হয়ে গেছে জানার পর ডিবি পুলিশকে দ্রুত চোর শনাক্তসহ মামলার নথি উদ্ধারের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপর চুলচেরা বিশ্লেষণ ও তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে অল্প সময়ের মধ্যেই মূল চোরকে শনাক্ত করে প্রথমে রাজশাহীর বাগমারায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। পরে নওগাঁ সদর উপজেলার শৈলগাছি ইউনিয়নের সিংবাচা বাজার থেকে এস এম আকাশকে গ্রেপ্তার করা হয়। এবং তাকে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে আকাশ তার বাড়ির আঙিনায় একটি খড়ের পালা থেকে নথিটা বের করে দেন।
এসপি বলেন, পরবর্তীতে আকাশের দেওয়া তথ্যমতে নওগাঁ সদর ও বগুড়া জেলার আদমদিঘি উপজেলায় অভিযান চালিয়ে যুগ্ম জেলা ও দায়রা আদালতে-২-এর পিয়ন পলাশকে ও তার ভাই পিয়ন আরিফ এবং সর্বশেষ কোর্টের মুহুরী সবুজকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ সুপার আরও বলেন, আসামি আকাশ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা আদালতে স্বীকার করে তিনজনের নামসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজন জড়িত থাকা আসামির কথা উল্লেখ করেন। এর পেছনে কী উদ্দেশ্যে আছে, তা উদঘাটন করার জন্য তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত এবং আইনগত প্রক্রিয়া চলমান আছে।