নড়াইল শহরসংলগ্ন লস্করপুর-চাঁনমারি এলাকার মারকাযুল কোরআন মাদরাসার কিতাব বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র সৈয়দ সোলাইমান ইসলামের (১৪) মৃত্যু নিয়ে ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, মাদরাসায় নির্যাতনের শিকার হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে। তবে মাদরাসা কর্তৃপক্ষের দাবি, অসুস্থতার কারণে হাসপাতালে নেওয়ার পর তার মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মাদরাসাটির তিন শিক্ষককে আটক করেছে পুলিশ।
সোলাইমান সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামের সৈয়দ ইকরামুল ইসলামের ছেলে। সে মাদরাসাটির আবাসিক ছাত্র ছিল।
সোলাইমানের বাবা ইকরামুল ইসলাম জানান, গেল মঙ্গলবার সকালে বাড়ি থেকে মাদরাসায় যায় সোলাইমান। পরদিন বেলা ১১টার দিকে মাদরাসা থেকে পরিবারের কাছে খবর দেওয়া হয়, সে অসুস্থ হয়ে পড়েছে। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে নড়াইল জেলা হাসপাতালে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসার জন্য যশোর নেওয়ার পথে বুধবার বিকেলে তার মৃত্যু হয়।
ইকরামুল ইসলামের অভিযোগ, সোলাইমানের ঘাড়সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে নির্যাতনের চিহ্ন রয়েছে। তিনি বলেন, ‘অসুস্থ হওয়ার ছয় ঘণ্টা পরও আমার ছেলে সোলাইমানকে হাসপাতালে ভর্তি করেনি মাদরাসা কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার রাতেই আমার ছেলেকে নির্যাতন করে মেরে ফেলা হয়েছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চাই।’
তবে হত্যার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মারকাযুল কোরআন মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা নাজমুস সায়াদাৎ আল মামুন। তিনি বলেন, কোনো শিক্ষক সোলাইমানকে শারীরিক নির্যাতন করেননি। অসুস্থতার কারণে হাসপাতালে নেওয়ার পর তার মৃত্যু হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে। মাদরাসার কেউ জড়িত থাকলে আইন অনুযায়ী যে শাস্তি হবে, তা মেনে নেওয়া হবে।
নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসেল সরোয়ার জানান, এ ঘটনায় মাদরাসাটির তিন শিক্ষক ইউসুফ হায়দার, হাসিবুর রহমান ও ফাহাদ শেখকে আটক করা হয়েছে। তবে এখনও নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রকিবুল হাসান বলেন, ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।