নওগাঁ-ঢাকার রুটে চলাচলকারী একতা পরিবহনের এক বাসচালকে মারধরের প্রতিবাদে নওগাঁ থেকে বগুড়া, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটসহ দূরপাল্লার সব রুটের বাস চলাচল বন্ধ করে রেখেছেন শ্রমিকরা। কোনো ঘোষণা ছাড়াই হঠাৎ করে বাস চলাচল বন্ধ থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যাত্রীরা।
মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল ৯টার পর থেকে নওগাঁ শহরের ঢাকা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে চলাচল বন্ধ করে দেন শ্রমিকরা।
শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা একতা পরিবহনের একটি বাস গতকাল (সোমবার) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে ঢাকা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছায়। বাসটির চালক বাদল হোসেন যাত্রীদের নামিয়ে বাসটি ঘোরানোর সময় একটি অটো চার্জারের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এ সময় পাশের চায়ের দোকানে বসে থাকা কয়েকজন যুবক উঠে গিয়ে কোনো কথা ছাড়াই চালককে মারধর করেন। পরবর্তীতে বাসটি কাউন্টারে গেলে সেখানে গিয়েও কাউন্টার ভাঙচুরের চেষ্টা করেন তারা। এই মারধরের প্রতিবাদে বাস চলাচল বন্ধ রেখেছেন শ্রমিকরা। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত অবরোধ চলবে বলে জানান তারা।
গাইবান্ধা যাওয়ার জন্য কাউন্টারের সামনে অপেক্ষায় থাকা যাত্রী হাবিবুর রহমান বলেন, ‘ঈদ উপলক্ষে বাড়ি যাব। একটু আগে আগেই ছুটি নিয়েছি। এসে দেখছি বাস বন্ধ। নওগাঁতে মাঝেমাঝেই শ্রমিকেরা এমন কর্মসূচি দিয়ে আমাদের ভোগান্তিতে ফেলে।’
মুনিরা আক্তার নামে আরেক যাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘জরুরি কাজে ঢাকা যাব। কাউন্টারে এসে শুনি বাস চলবে না। সময়মতো পৌঁছানো দরকার ছিল, এখন কীভাবে যাব বুঝতে পারছি না।’
নওগাঁ জেলা বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, একতা বাস কাউন্টারের কর্মচারীদের কে বা কারা মারধর করেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। ঘটনা তদন্ত করে কী হয়েছে জেনে পরবর্তীতে বিস্তারিত জানাতে পারব।
নওগাঁ জেলা বাস মালিক সমিতির সভাপতি রেজাউল ইসলাম কালিমি বাবু জানান, নওগাঁ জেলা পরিষদের প্রশাসক ও নওগাঁ জেলা বিএনপির সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিক নান্নুর নেতৃত্বে শ্রমিকদের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা চলছে।
তিনি বলেন, হামলাকারীরা গ্রেপ্তার না হওয়া পর্যন্ত বাস চলাচল শুরু করবে না বলে শ্রমিকরা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। অতি দ্রুত বাস চলাচল স্বাভাবিক করা এবং যাত্রীদের জিম্মি না করার জন্য সকল প্রকার আলোচনা চলমান আছে।
নওগাঁ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, দুপুর পর্যন্ত কোনো সমঝোতা হয়নি। বাস চলাচল স্বাভাবিক করতে বৈঠক চলছে। তবে অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে সমঝোতা হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।