ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে পাওনা টাকা ও এক ব্যক্তির নিহতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে টানা তিন দিন ধরে চলা সংঘর্ষ বন্ধে আশ্বাস দিয়েছে কালিকচ্ছ ইউনিয়নের সূর্যকান্দি ও ধরন্তী গ্রামের বাসিন্দারা।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিকেলে জেলা পরিষদ প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম সিরাজের হস্তক্ষেপে উভয় গ্রামের বাসিন্দারা সংঘর্ষ থেকে বিরত থাকার আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে আইনি প্রক্রিয়ায় ন্যায়বিচারের দাবি জানান তারা ।
বিকেলে জেলা পরিষদ প্রশাসক সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি জসিম উদ্দিন রিপন, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সম্পাদক আলী আজম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি তাজুল ইসলাম, সরাইল উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন মাস্টারসহ বিএনপির নেতারা গ্রামের সর্দারদের নিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেন।
গ্রামবাসীর জানমালের নিরাপত্তা ও শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে নেতারা প্রথমে সূর্যকান্দি গ্রামে যান। সেখানে গ্রামবাসীর সঙ্গে আলোচনা করে সংঘর্ষ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তারা। পরে তারা ধরন্তী গ্রামে গিয়ে সংঘর্ষে নিহত খাদিম মিয়ার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সমবেদনা জানান এবং ন্যায়বিচারের আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে তারা ধরন্তী গ্রামের বাসিন্দাদের সঙ্গেও বৈঠক করে সংঘর্ষ বন্ধের আহ্বান জানান। এ সময় ধরন্তী গ্রামের বাসিন্দারা খাদিম মিয়া হত্যা মামলায় ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়ে সংঘর্ষ থেকে বিরত থাকার আশ্বাস দেন।
জেলা পরিষদ প্রশাসক সিরাজুল ইসলাম সিরাজ বলেন, ‘তুচ্ছ একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে সূর্যকান্দি ও ধরন্তী গ্রামবাসী গত তিন দিন ধরে সংঘর্ষে লিপ্ত রয়েছে। আমরা উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেছি। তারা আশ্বাস দিয়েছেন, আর সংঘর্ষে জড়াবেন না। বরং আইনিভাবে তারা তাদের সকল কার্যক্রম পরিচালনা করতে চান।’
প্রসঙ্গত, সূর্যকান্দি গ্রামের মোশাররফ মিয়ার কাছে ধরন্তী গ্রামের খাদিম মিয়া, আলাল ও আশিকের বিলের পাটি বিক্রির এক লাখ টাকা পাওনা ছিল। গত রবিবার সেই পাওনা টাকা পরিশোধ নিয়ে বিরোধের জেরে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এতে ধরন্তী গ্রামের খাদিম মিয়া নিহত হন।
এর জেরে সোমবার ও মঙ্গলবারও দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষে জড়ায় দুই গ্রামবাসী। টানা তিন দিনের সংঘর্ষে পুলিশ সদস্যসহ শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন।