রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলায় আকস্মিক কালবৈশাখীতে মাঠের পর মাঠ পাকা বোরো ধানখেত লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। প্রবল বাতাস ও ভারী বৃষ্টিতে ধানগাছ মাটিতে নুয়ে পড়ায় চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকালে উপজেলার কাবিলপুর, রায়পুর, চতরা, বড় আলমপুর, টুকুরিয়া, মদনখালী, ভেন্ডাবাড়িসহ বিভিন্ন এলাকায় হঠাৎ কালবৈশাখী ঝড় শুরু হয়। ঝড়ো হাওয়া ও ভারী বৃষ্টিতে বিস্তীর্ণ মাঠের পাকা ধান মাটিতে নুয়ে পড়ে। কোথাও কোথাও জমিতে পানি জমে যাওয়ায় ধান কাটতে আরও দুর্ভোগে পড়েছেন কৃষকরা।
বছরের প্রধান ফসল ঘরে তোলার আগ মুহূর্তে এমন দুর্যোগে অনেক কৃষকের স্বপ্ন ভেঙে গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, এ উপজেলার অন্তত ২৩ হেক্টর জমির পাকা ধান ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সরেজমিন দেখা যায়, বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে পাকা ধান মাটিতে লুটিয়ে আছে। অনেক কৃষক পরিবার নিয়ে মাঠে নেমে ধান রক্ষার চেষ্টা করছেন। তবে শ্রমিক সংকট ও বৃষ্টির কারণে ধান কাটতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের।
কৃষকদের আশঙ্কা, দ্রুত ধান কেটে না তুলতে পারলে পানিতে ভিজে ধানের গুণগত মান নষ্ট হয়ে যাবে। এতে করে ফলন কমার পাশাপাশি ধানের প্রত্যাশিত দামও পাওয়া যাবে না।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, ঋণ করে সার, বীজ ও কীটনাশক সংগ্রহ করে তারা বোরো ধানের আবাদ করেছিলেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার ফলনও ভালো হয়েছিল। কিন্তু আকস্মিক কালবৈশাখীতে সব হিসাব-নিকাশ এলোমেলো হয়ে গেছে।
কৃষক নজরুল ইসলাম বলেন, ‘সারা বছর কষ্ট করে ধান চাষ করেছি। ফলনও ভালো হয়েছিল। ভাবছিলাম ধান বিক্রি করে ঋণ শোধ করব। কিন্তু ঝড়ে সব শেষ হয়ে গেল। এখন শ্রমিকও পাওয়া যাচ্ছে না, কীভাবে ধান ঘরে তুলব বুঝতে পারছি না।’
আরেক কৃষক নুর ইসলাম বলেন, ‘ধান মাটিতে পড়ে থাকলে দ্রুত পচে যাবে। বৃষ্টি আরও হলে ক্ষতি বাড়বে। সরকারিভাবে সহায়তা না পেলে আমরা বড় বিপদে পড়ব।’
এদিকে ঝড়ে বিভিন্ন এলাকায় গাছপালা উপড়ে পড়েছে এবং বেশ কয়েকটি কাঁচা ঘরবাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় কয়েক ঘণ্টা দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমন আহমেদ জানান, আকস্মিক ঝড়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পাকা বোরো ধানের ক্ষতি হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ক্ষয়ক্ষতি নিরুপণ করা হয়েছে। কৃষকদের দ্রুত ধান কেটে ঘরে তোলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।