রংপুর জেলা ও মহানগরীতে তীব্র জ্বালানি সংকটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকার চালকেরা। দীর্ঘ লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও কাঙ্ক্ষিত জ্বালানি না পাওয়ায় দিন দিন ক্ষোভ বাড়ছে। নগরজুড়ে পেট্রোল পাম্পগুলোতে দেখা দিয়েছে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি। এর প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনেও।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রংপুরে প্রায় সাড়ে তিনশ পেট্রোল পাম্প থাকলেও অর্ধেকের বেশি পাম্পে নিয়মিত জ্বালানি সরবরাহ করা হচ্ছে না।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সকালে নগরীর বিভিন্ন পেট্রোল পাম্প ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ পাম্পেই পেট্রোল ও অকটেনের তীব্র সংকট চলছে। অনেক পাম্পে ‘তেল নেই’ সাইনবোর্ড ঝুলতে দেখা গেছে। যেসব পাম্পে সীমিত পরিসরে জ্বালানি দেওয়া হচ্ছে, সেখানে প্রতি গ্রাহককে সর্বোচ্চ ২০০ টাকার তেল দেওয়া হচ্ছে। ফলে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা অনেক চালকই শেষ পর্যন্ত খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন।
রংপুরের আট উপজেলাতেও একই চিত্র দেখা গেছে। মিঠাপুকুর, পীরগঞ্জ, পীরগাছা, কাউনিয়া, বদরগঞ্জ, তারাগঞ্জ ও গঙ্গাচড়ায় তেলের জন্য দীর্ঘ লাইনে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করেও অনেকেই জ্বালানি পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন।
ভুক্তভোগী চালকেরা জানান, ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পরও প্রয়োজনীয় জ্বালানি না পাওয়ায় তাদের জরুরি কাজ ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে অফিসগামী মানুষ, ব্যবসায়ী এবং রোগী বহনকারী যানবাহন সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে।
মোটরসাইকেলচালক সোহেল মিয়া বলেন, সকালে এসে লাইনে দাঁড়িয়েছি। দুই ঘণ্টা অপেক্ষার পর জানানো হলো তেল শেষ। এখন আবার অন্য পাম্পে যেতে হচ্ছে। একই ধরনের অভিযোগ করেছেন প্রাইভেটকার চালকেরাও।
পাম্প ম্যানেজার ও সংশ্লিষ্টরা জানান, একেকটি পাম্পে এক দিন পরপর মাত্র ৩ থেকে ৪ হাজার লিটার পেট্রোল বা অকটেন সরবরাহ করা হচ্ছে, যা চাহিদার তুলনায় খুবই কম। ফলে বাধ্য হয়ে সীমিত পরিসরে জ্বালানি বিক্রি করতে হচ্ছে।
যানবাহন মালিকদের আশঙ্কা, এভাবে চলতে থাকলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। তারা দ্রুত পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে মোটরযান পরিদর্শক ও ট্যাক্স অফিসার মাহবুবুর রহমান বলেন, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় এই সংকট তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।