রাজবাড়ীর কালুখালীতে জ্বালানি তেল নেওয়ার সিরিয়াল দেওয়াকে কেন্দ্র করে একটি তেলের পাম্পে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে অন্তত ২ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
সোমবার (২৩ মার্চ) রাত ১১টার দিকে কালুখালী উপজেলার মোহনপুর এলাকার শেখ ফিলিং স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে স্থানীয়দের করা একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জ্বালানি তেলের সংকটের কারণে সোমবার দিবাগত রাতে ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেলের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। এ সময় কয়েকজন সিরিয়াল ভেঙে আগে তেল নেওয়ার চেষ্টা করলে অপেক্ষমাণ অন্যদের সঙ্গে প্রথমে কথা কাটাকাটি, পরে হাতাহাতি শুরু হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে তা মারামারিতে রূপ নেয়। এতে উপস্থিতদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সাময়িকভাবে তেল সরবরাহ কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।
এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, চরম হট্টগোল চলছে। একে অপরকে কিলঘুষি মারছে। একজনকে শার্টের কলার ধরে রাখছে, অপর কয়েকজন কিলঘুষি মারছে। আবার অপর একজনকে হ্যান্ড মাইক নিয়ে হট্টগোল থামানোর চেষ্টা করতে দেখা যায়। আরেকজনকে তেল নিতে আসা হাতে প্লাস্টিকের বোতল নিয়ে তেলের ড্রামের ওপর বারবার আঘাত করতে দেখা যায়। এ সময় তেল নিতে আসা অন্যান্য মোটরসাইকেল আরোহীদের চোখেমুখে ছিল স্পষ্ট আতঙ্কের ছাপ।
ঈদের পর গত দুই দিন জেলার বিভিন্ন তেল পাম্প থেকে তেল সংগ্রহ বন্ধ থাকায় নানা স্থানে উত্তেজনা দেখা যায়।
এ বিষয়ে সোমবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (নেজারত শাখা) মো. হাফিজুর রহমান জানান, আজকে (সোমবার) থেকে সবগুলা পাম্প তেল পাবে। গত ২দিন ডিপো থেকে তেল সরবরাহ না করায় অধিকাংশ পাম্পেই তেল শেষ। সপ্তবর্ণা ও করিম ফিলিং স্টেশনে সীমিত পরিসরে তেল দেওয়া হচ্ছে।
সোমবার রাতের মারামারি প্রসঙ্গে কালুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোশাররফ হোসেন জানান, তেলের লাইনে দাঁড়ানো এবং আগে তেল নেয়াকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এ সময় রাজবাড়ী সদর উপজেলার চন্দনী আফরা এলাকা থেকে আসা এক যুবক তার হাতে থাকা চাবির রিং দিয়ে স্থানীয় মোহনপুর এলাকার এক যুবকের শরীরে আঘাত করলে তার মাথায় সামান্য রক্তপাত হয়। পরে আহত ব্যক্তিকে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়। খবর পাওয়া মাত্র ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠালে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। পরে স্থানীয় পর্যায়ে মীমাংসা হওয়ায় কোনো পক্ষ অভিযোগ দেয়নি।