রাজশাহীর দুর্গাপুরে নওপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আজাদ আলীকে (৬২) মারধর করে ভিজিএফ কার্ডের তালিকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় এক ইউপি সদস্যসহ বিএনপির কয়েকজন নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙুল তুলেছেন ভুক্তভোগী।
বুধবার (১১ মার্চ) দুপুরে উপজেলার নওপাড়া ইউনিয়নের শ্যামপুর বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
মারধরের সময় প্রাণ বাঁচাতে আজাদ আলী মোটরসাইকেল ফেলে পাশের একটি পুকুরে ঝাঁপ দেন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানান, আজাদ আলী দুপুরে মোটরসাইকেলে শ্যামপুর বাজার হয়ে উপজেলা সদরের দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় আগে থেকেই সেখানে অবস্থান করা ইউপি সদস্যসহ কয়েকজন বিএনপি নেতাকর্মী তার পথরোধ করেন। কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে তারা তাকে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করেন। পরে তার কাছ থেকে ভিজিএফ কার্ডের তালিকাও ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
এ ঘটনার একটি ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
চেয়ারম্যান আজাদ আলী অভিযোগ করেন, একই ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও শ্যামপুর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রেজাউল ইসলামের নেতৃত্বে পরিকল্পিতভাবে তার ওপর হামলা চালানো হয়েছে। এ সময় হামলাকারীরা তাকে মারধর করে এবং পরিষদের দাপ্তরিক কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ছিনিয়ে নেন।
হতদরিদ্রদের জন্য ভিজিএফ কার্ডের তালিকা প্রস্তুত ও চাল বিতরণকে কেন্দ্র করে কয়েকজন স্থানীয় নেতা-কর্মীর সঙ্গে আজাদ আলীর বিরোধ তৈরি হয়েছিল। এর জের ধরেই এই হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা এলাকাবাসীর।
নওপাড়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর (শ্যামপুর) ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাকিম বলেন, স্বচ্ছতার ভিত্তিতে চেয়ারম্যান ভিজিএফ কার্ডের তালিকা প্রস্তুত করেছিলেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ইউপি সদস্য রেজাউল ইসলাম ও বিএনপি নেতা আফাজ আলী তার পথরোধ করে হামলা চালান।
তবে অভিযুক্ত সাবেক ইউপি সদস্য রেজাউল ইসলাম হামলার ঘটনা স্বীকার করেন। তবে তার দাবি, ভিজিএফ কার্ড দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তার কাছে ৫ হাজার টাকা দাবি করেছিলেন। এ কারণেই তাকে মারধর করা হয়েছে।
অন্যদিকে, আজাদ আলী এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, টাকা দাবি করার বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। বরং রেজাউল ইসলামসহ কয়েকজন ব্যক্তি ২৪০ জনের একটি তালিকা তাকে দিয়েছিলেন। সেই তালিকা অনুযায়ী কার্ড দিতে না পারায় ক্ষুব্ধ হয়ে তারা পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়েছে।
এ ঘটনায় দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফোনে পুলিশকে বিষয়টি জানিয়েছেন। তবে এ ঘটনায় এখনও কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাশতুরা আমিনা বলেন, ঘটনাটির বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তাকে জানিয়েছেন। তাকে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।