গেল কয়েক বছর মন্দা যাচ্ছিল ব্যবসায়। চলতি বছর প্রায় ৫০ লাখ টাকার কেনা পেঁয়াজ পঁচে গেছে। সবমিলে ব্যাংক ও এনজিওর ঋণ এবং স্বজনদের ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় কয়েক কোটি টাকা। সেই ঋণ আর ধারদেনার চাপ সইতে না পেরে হারুন অর রশিদ খালেক (৩৮) নামের এক ব্যবাসীয় গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সোমবার (২৫ আগস্ট) গভীর রাতে কুষ্টিয়ার কুমারখালীর পান্টি ইউনিয়নের বিরিকয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
খবর পেয়ে মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকালে মরদেহটি উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।
হারুন অর রশিদ খালেক বিরিকয়া গ্রামের সদর উদ্দিনের ছেলে।
নিহতের স্বজনদের ভাষ্য, খালেক একজন বড় ব্যবসায়ী ছিলেন। তিনি ধান, পাট, পেঁয়াজসহ বিভিন্ন ফসলাদি কিনে তা বিক্রি করতেন। গেল কয়েক বছর ব্যবসায় লোকসান হচ্ছিল তার। চলতি বছর প্রায় ৫০ লাখ টাকার পেঁয়াজ পঁচে গেছে। সবমিলিয়ে ব্যাংক, এনজিও ও স্বজনদের কাছে কয়েক কোটি টাকার ঋণী ছিলেন তিনি।
সেই ঋণের চাপ সইতে না পেরে গতকাল (সোমবার) দিবাগত রাত ১টার দিকে ছোট ভাই আব্দুল মালেককে মুঠোফোনে জানান, ‘আমার ছোয়ালডা থাকল তুই দেখিস’। এ কথা শুনে মালেক জিজ্ঞেস করেন, ‘তুই কোনে? উত্তরে খালেক বলেছিলেন, ‘ওমক (শফিউল্লাহর আমবাগান) জায়গা সকালে পাবিনি’। এ কথা শুনেই মালেক, তার বাবা ও ভাবি দ্রুত শফিউল্লাহর বাগানে গিয়ে দেখেন একটি আমগাছের ডালে রশিতে ঝুলছে খালেকের মরদেহ।
আজ (মঙ্গলবার) দুপুরে সরেজমিন দেখা যায়, পান্টি-যদুবয়রা সড়ক ঘেঁষে বিরিকয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে অবস্থিত ব্যবসায়ী খালেকের বাড়ি। সেখানে আহাজারি করছেন তার স্বজনরা। উৎসুক জনতা তাদের শান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। ঋণের চাপে এমন মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
এ সময় কয়েক কোটি টাকা ঋণের কথা স্বীকার করে খালেকের বাবা সদর উদ্দিন বলেন, কয়েক বছর ব্যবসা ভালো যাচ্ছিল না খালেকের। তার ভাষ্য, ঋণের চাপ সইতে না পেরে খালেক আত্মহত্যা করেছেন।
এ বছর প্রায় ৫০ লাখ টাকার পেঁয়াজ পঁচে গেছে। এ নিয়ে সব সময় খালেক দুশ্চিন্তা করতেন বলে জানালেন খালেকের স্ত্রী মালা খাতুন। তিনি বলেন, সংসারে কোনো ঝগড়া-ঝামেলা ছিল না। তবে অনেক টাকা ঋণ ছিল তার। হয়ত সেজন্যই তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে ধারণা মালা খাতুনের।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক খালেকের এক বন্ধু বলেন, আমাকে দিয়ে ৫ লাখ টাকা ঋণ করিয়েছিলেন খালেক। এভাবে অনেককে দিয়ে ব্যাংক থেকেও ঋণ করেছেন তিনি। সব মিলিয়ে তিন থেকে চার কোটি টাকা ঋণ রয়েছে তার।
কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন বলেন, মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ঋণের চাপে আত্মহত্যা করেছেন খালেক।