আত্মহত্যা
হাঁস চুরির অভিযোগে সালিশ, অপমান সইতে না পেরে তরুণের ‘আত্মহত্যা’
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে হাঁস চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সালিশের শাস্তি ও অপমান সহ্য করতে না পেরে মাসুম (১৯) নামের এক তরুণ গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
রবিবার (৮ মার্চ) বিকেলে ফরিদগঞ্জের গোবিন্দপুর উত্তর ইউনিয়নের চরমথুরা গ্রামের নিজ বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিনটি হাঁস চুরির অভিযোগে শনিবার (৭ মার্চ) সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কয়েক দফায় মাসুমকে শাসানো ও মারধর করা হয়। রবিবার সকালে স্থানীয় ইউপি সদস্যের নেতৃত্বে সালিশ বৈঠক বসে। সালিশে মাসুমকে দোষী সাব্যস্ত করে নাকে খত দেওয়ানো হয়। পাশাপাশি তাকে ৫ হাজার টাকা জরিমানাও করা হয়। এ সময় তাকে ও তার পরিবারকে অপমান করা হয়েছে বলে অভিযোগ তার পরিবারের।
মাসুমের মা মৌসুমী বেগম বলেন, হাঁস চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকার কিছু লোকজন আমার ছেলেকে মারধর করেন ও হুমকি দেন। সালিশে তাকে অপমানজনক শাস্তি দেওয়া হয় এবং জরিমানা করা হয়। আমি বিকেলে বাড়ির বাইরে ছিলাম। এ সময় খবর পাই, অপমান সইতে না পেরে সে গলায় ফাঁস দিয়েছে।
মাসুমের খালা সুমি বেগম বলেন, এটি সাধারণ আত্মহত্যা নয়, তাকে আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।
সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল গনি বলেন, এমন মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
অভিযোগকারী পক্ষের সদস্য নয়ন পাটওয়ারী বলেন, শুক্রবার (৬ মার্চ) রাতে আমাদের ঘর থেকে তিনটি হাঁস চুরি হয়। পরে জানতে পারি, মাসুম ও আল-আমিন আমার আত্মীয়ের কাছে হাঁসগুলো বিক্রি করেছেন। বিষয়টি স্থানীয় ইউপি সদস্যকে জানালে তিনি সালিশের ব্যবস্থা করেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান বলেন, হাঁস চুরির অভিযোগের পর এলাকাবাসীকে নিয়ে সালিশ করা হয়। সালিশের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে জরিমানা করা এবং নাকে খত দিতে বলা হয়। পরে সন্ধ্যার দিকে তার আত্মহত্যার খবর পাই। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হেলাল উদ্দিন জানান, যুবকের আত্মহত্যার সংবাদ পেয়ে রাত সাড়ে ১০টায় ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ। তার মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য আজ জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
৭ ঘণ্টা আগে
নওগাঁয় স্ত্রী-সন্তানকে ছুরিকাঘাতে ‘হত্যার’ পর স্বামীর আত্মহত্যা
নওগাঁর আত্রাইয়ে স্ত্রী ও দুই বছরের সন্তানকে ছুরিকাঘাতে হত্যার পর নিজেও আত্মহত্যা করেছেন এক ব্যক্তি।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার বলরামচক চৌধুরীপাড়া গ্রামে নিজ বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— উপজেলার বলরামচক চৌধুরীপাড়া গ্রামের গৌতম সকারের ছেলে রাজ সরকার জয় (২৭), তার স্ত্রী বৃষ্টি সরকার (২২) ও কন্যাশিশু জিনি সরকার (২)।
স্থানীয়রা জানান, নিহত রাজ সরকার জয় মাদকাসক্ত ছিলেন। স্বামী মাদকাসক্ত ও বেপরোয়া হওয়ার কারণে স্ত্রী বৃষ্টি সরকার এর আগে অনেকবার সংসার ছেলে চলে যান এবং আবার ফিরে আসেন। গতকাল (বৃহস্পতিবার) রাতে পরিবারের সবাই ঘুমিয়ে পড়লে জয় তার স্ত্রী ও সন্তানকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই তার স্ত্রী মারা যান। পরে নিজেও ছুরি দিয়ে শরীরে আঘাত করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।
পরে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা টের পেয়ে সেখানে গিয়ে জয় ও জিনিকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। অবস্থা আশংঙ্কাজনক হওয়ায় সেখানকার চিকিৎসক তাদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেন। রামেকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ (শুক্রবার) সকালে তারা উভয়ই মারা যান।
আত্রাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্ত (ওসি) আব্দুল করিম বলেন, খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। গুরুতর আহত অবস্থায় তার স্বামী ও সন্তাকে উদ্ধার করে রামেক হাসপাতালে পাঠানো হয়।
পারিবারিক কলহ ও মাদকাসক্তির কারণে স্ত্রী-সন্তানকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছেন জয়; পরে তিনি নিজেও ছুরিকাঘাতে আত্মহত্যা করেন বলে ধারণা করছেন পুলিশের এ কর্মকর্তা।
তিনি আরও জানান, বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। এ ঘটনায় মামলা করার প্রস্তুতি চলছে।
৩ দিন আগে
রাজশাহীতে ফেসবুক লাইভে এসে তরুণীর আত্মহত্যা
রাজশাহীতে ফেসবুক লাইভে এসে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন এক তরুণী। প্রাথমিকভাবে প্রেমঘটিত মনোমালিন্যকে এ ঘটনার কারণ হিসেবে ধারণা করা হচ্ছে।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নগরীর রাজপাড়া থানার কাদের মণ্ডলের মোড় এলাকার একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত তরুণীর নাম রোজিনা সরকার পাখি (২১)। তিনি প্রায় দুই বছর ধরে তার পালিত মা রোজী খাতুনের (৪০) সঙ্গে ওই বাসায় ভাড়া থাকতেন। তার গ্রামের বাড়ি নওগাঁর সাপাহার উপজেলায়। তার বাবার নাম ইদ্রিস আলী।
এ বিষয়ে রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মালেক জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এক যুবকের সঙ্গে প্রেমঘটিত মনোমালিন্যের জেরে তিনি এ পথ বেছে নেন। আত্মহত্যার আগে তিনি ফেসবুকে লাইভে ছিলেন এবং নিজের আইডি থেকে আত্মহত্যার ইঙ্গিত দিয়ে একাধিক পোস্ট দেন।
বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়ে তিনি বলেন, সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে তার লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মৃত্যুর প্রায় ৫ ঘণ্টা আগে রোজিনা তার ফেসবুক আইডিতে একটি আবেগঘন পোস্ট দেন। সেখানে তিনি লেখেন, ‘আজকে আমার শেষ দিন। আল্লাহ মাফ করুক। জানি না জান্নাতে যাব নাকি জাহান্নামে যাব। পৃথিবীতে আমার জন্য কোনো সুখ নেই। আল্লাহ হাফেজ, প্রিয় বন্ধুরা।’
মৃত্যুর ২ ঘণ্টা আগে তিনি আরেকটি পোস্টে লেখেন, ‘বিদায় এই সুন্দর পৃথিবী।’ এছাড়া মৃত্যুর আগে কথিত প্রেমিককে উদ্দেশ করে ‘আই লাভ ইউ’ ও ‘আই মিস ইউ’ লিখেও পোস্ট দেন।
পরে তিনি ফেসবুক লাইভে এসে ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঘরের দরজা ভেঙে ঝুলন্ত অবস্থায় লাশ উদ্ধার করে।
১১ দিন আগে
কুড়িগ্রামে বেকারত্বের হতাশায় যুবকের আত্মহত্যা
কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলায় বেকারত্বজনিত হতাশায় আবুল কালাম আজাদ (১৯) নামে এক যুবক আত্মহত্যা করেছেন বলে জানা গেছে।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) ভোরে উপজেলার দলদলিয়া ইউনিয়নের গণকপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আবুল কালাম আজাদ দীর্ঘদিন ধরে বেকারত্ব ও মানসিক চাপে ভুগছিলেন। কাজের সন্ধানে বিভিন্ন জায়গায় চেষ্টা করেও সফল হতে না পারায় তিনি চরম হতাশায় ভেঙে পড়েন। মৃত্যুর আগে পরিবারের উদ্দেশে একটি আবেগঘন চিরকুট লিখে যান তিনি।
চিরকুটে তিনি লেখেন, ‘প্রিয় পরিবার। আমি অনেক ভাগ্যবান যে তোমাদের মতো পরিবার আমি পেয়েছি। কিন্তু আমার মনে হয়, আমার মতো ছেলে পেয়ে তোমরা একটুও সুখী নও। কারণ আমি বেকার। আমি সারাজীবন শুধু তোমাদের খেয়ে গেছি, কখনও তোমাদের খাওয়াতে পারি নাই। তোমরা সবাই আমাকে মাফ করে দিও। আর আমার জন্য দোয়া করো। আর আমিও দোয়া করি, আমার মতো ছেলে যেন কোনো পরিবারে না জন্মে।’
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায় পুলিশ।
উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাঈদ ইবনে সিদ্দীক বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে যুবকটি আত্মহত্যা করেছেন। তার কাছ থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এ ঘটনার পর স্থানীয়রা মনে করেন, বেকারত্ব ও কর্মসংস্থানের অভাব তরুণ সমাজকে গভীর সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। কর্মসংস্থান ও মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতার দাবি জানান তারা।
১৬ দিন আগে
মায়ের সঙ্গে অভিমান করে গলায় ফাঁস দিয়ে কিশোরীর আত্মহত্যা
শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলায় মায়ের সঙ্গে অভিমান করে নুরজাহান (১৪) নামে এক কিশোরী বসতঘরের আড়ার সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার ইদিলপুর ইউনিয়নের চরমহিষকান্দি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নুরজাহান ওই গ্রামের জহিরুল ইসলামের মেয়ে।
স্থানীয়রা জানান, নুরজাহানের সঙ্গে তার মা রুচিয়া বেগমের সাংসারিক কাজকর্ম নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। এর জেরে অভিমান করে সে নিজের শোবার ঘরে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দেয়। পরে ঘরের আড়ার সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেয়।
এ সময় পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি টের পেয়ে দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করেন। পরে তাকে উদ্ধার করে দ্রুত গোসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে জানান নুরজাহান আর বেঁচে নেই।
গোসাইরহাট থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সজিবুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতাল থেকে মরদেহ থানায় নিয়ে আসে। সুরতহাল শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।
তবে পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ হস্তান্তরের জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করা হয়েছে। অনুমতি পেলে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানান পুলিশের এ কর্মকর্তা।
১৬ দিন আগে
কুষ্টিয়ায় ভাড়া বাসা থেকে মেডিকেল শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
কুষ্টিয়া শহরের একটি ভাড়া বাসা থেকে মেডিকেল কলেজের চতুর্থ বর্ষের এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ পুলিশ উদ্ধার করেছে। ওই শিক্ষার্থীর নাম সামিয়া নিঝুম (২০)। তিনি কলেজের পাশে একটি ভাড়া বাসায় একটি রুম নিয়ে একাই থাকতেন।
রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৮টার দিকে কুষ্টিয়া সদর থানার হাউজিং ই-ব্লক এলাকার একটি সাততলা ভবনের চারতলার একটি কক্ষ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। কুষ্টিয়া মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে জানালার সঙ্গে দড়িতে ঝুলন্ত অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করে।
নিহত সামিয়া নিঝুম পাবনা জেলার চাটমোহর উপজেলার ছোট শালিখা এলাকার মো. আব্দুস সালামের মেয়ে। পড়াশোনার সুবাদে তিনি কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের কাছে ওই বাসার একটি কক্ষে একাই বসবাস করতেন।
বাসার কেয়ারটেকার রিয়াজ উদ্দিন জানান, সন্ধ্যার দিকে নিঝুমের বাবা মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে মেয়ের খোঁজ নিতে বলেন। পরে পাশের কক্ষের এক ছাত্রীকে সঙ্গে নিয়ে নিঝুমের কক্ষে গিয়ে একাধিকবার ডাকাডাকি করলেও তার কোনো সাড়াশব্দ পাওয়া যায়নি। পরে পরিবারের অনুমতিতে দরজা ভাঙার চেষ্টা করলে ভেতরে জানলার সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় তাকে দেখা যায়। এরপর পুলিশে খবর দেওয়া হয়।
পাশের কক্ষে থাকা এক মেডিকেল শিক্ষার্থী জানান, নিঝুম প্রায় দুই সপ্তাহ আগে ওই কক্ষে ওঠেন। ঘটনার সময় তারা দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করতে না পারায় পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ এসে দরজা ভেঙে মরদেহ উদ্ধার করে।
কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম বলেন, নিঝুম খুব ভালো ছাত্রী ছিলেন। তিনি চতুর্থ বর্ষে অধ্যয়নরত ছিলেন। আর এক বছর পরই তার এমবিবিএস কোর্স শেষ হওয়ার কথা ছিল।
কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেন মাতুব্বর বলেন, প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলছে।
২৮ দিন আগে
রাজধানীতে এক ব্যক্তির হাতবাঁধা ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
রাজধানীর রামপুরা থানা এলাকায় হাসান ভূঁইয়া (৪৩) নামে এক ব্যক্তির হাতবাঁধা ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় তার স্ত্রী মিলাকে (২৮) জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সকালে তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
নিহত হাসানের বড় ভাই নাসির ভূইয়ার অভিযোগ, পারিবারিক কলহের জেরে আমার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী মিলা তাকে হত্যা করেছে। পরে পুলিশ এসে তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেকের মর্গে পাঠিয়েছে।
তিনি বলেন, ‘প্রেম করে ৬ বছর আগে মিলাকে বিয়ে করে আমার ছোট ভাই। বিয়ের পর থেকে আমাদের সঙ্গে তার কোনো যোগাযোগ ছিল না। তাদের ৫ বছরের একটি ছেলে সন্তানও রয়েছে।
‘গতকাল সকালে জানতে পারি, ভাই আমার গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। এরপর ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি গলায় ফাঁস লাগানো আছে ঠিকই, কিন্তু তার পেছনে হাত বাঁধা রয়েছে। বাসার ছাদের পানির ট্যাংকির পাইপের সঙ্গে গলায় রশি ও হাত বেঁধে আমার ভাইকে তার স্ত্রী মিলা হত্যা করেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ধারণা করছি, তার স্ত্রীর সঙ্গে পারিবারিক কোনো বিষয় নিয়ে ঝামেলার কারণে তাকে হত্যা করে ঝুলিয়ে রেখেছে সে। এ ঘটনার পর মিলাকে আটক করে থানায় নিয়ে গেছে পুলিশ। আমি বাদী হয়ে রামপুরায় থানায় একটি মামলা দায়ের করেছি।’
বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে মতিঝিল বিভাগের খিলগাঁও জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) মো. আল আমিন জানান, গতকাল হাসান ভূঁইয়া নামে একজনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। কিন্তু মরদেহ উদ্ধার করার সময় তার হাত শরীরের পেছনে বাঁধা অবস্থায় ছিল। এতে মনে হচ্ছে, এটি একটি হত্যাকাণ্ড।
নিহতের বড় ভাই অজ্ঞাতদের আসামি করে মামলা করেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা সিসিটিভি ফুটেজ এবং বিভিন্ন বিষয়ে মাথায় রেখে তদন্ত করছি। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে বলে জানান তিনি।
৩৭ দিন আগে
রাবির নারী শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সমাজকর্ম বিভাগের এক নারী শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) রাতে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকাসংলগ্ন মেহেরচণ্ডীর একটি বাসা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
এই মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান।
নিহত ওই শিক্ষার্থীর নাম জোবাইদা ইসলাম ইতি। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
স্থানীয়রা জানান, গতকাল (শুক্রবার) সন্ধ্যার দিকে নিজ বাড়িতে গলায় ফাঁস দেন জোবাইদা। পরে তাকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এ বিষয়ে প্রক্টর মাহবুবুর রহমান বলেন, রাবির পার্শ্ববর্তী এলাকা মেহেরচণ্ডীর একটি বাসা থেকে ইতির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পরে তাকে রামেকে নিয়ে গেলে কর্মরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
রাজশাহীর চন্দ্রিমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, সন্ধ্যার পর খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ওই নারী শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে কি না এ বিষয়ে তদন্ত চলছে।
৩৭ দিন আগে
ঢামেকে বাথরুমের ভেন্টিলেটর দিয়ে লাফিয়ে রোগীর আত্মহত্যা
ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের নতুন ভবনের আটতলার বাথরুমের ভেন্টিলেটর দিয়ে লাফিয়ে পড়ে নাজমীন (২০) নামে এক রোগী আত্মহত্যা করেছে। তিনি কিডনি রোগে ভুগছিলেন বলে জানিয়েছেন তার স্বজনরা।
রবিবার (২৫ জানুয়ারি) রাত পৌনে ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত নাজনীন পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার জালাল মিয়ার মেয়ে ছিলেন।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে নাজমীনের মা পারভিন বলেন, ‘দুই মাস আগে আমার মেয়ে কিডনি রোগে আক্রান্ত হয়। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে এসেছিলাম। এরপর গত রবিবার তাকে চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করিয়েছি। আমার মেয়ের স্বামী রায়হানের আর্থিক অবস্থা খুব একটা ভালো না। তার পক্ষে চিকিৎসা সেবার খরচ বহন করা সম্ভব হচ্ছিল না।’
তিনি বলেন, ‘আজ সন্ধ্যার দিকে মেয়ে আমাকে বলে, “মা তোমাদের আর কষ্ট দেব না। তোমরা আমার মেয়েকে দেখে রেখো।” এর কিছুক্ষণ পরেই বাথরুমে যাওয়ার কথা বলে আমার মেয়ে আট তলার বাথরুমের ভেন্টিলেটর দিয়ে লাফিয়ে একটি প্রাইভেট কারের ওপর পড়ে। এতে সে ঘটনাস্থলেই মারা যায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার মেয়ে অনেক কষ্ট নিয়ে মারা গেছে। আর্থিক অবস্থা ভালো থাকলে হয়তো তাকে দীর্ঘদিন চিকিৎসা করানো যেত। কিন্তু সে যে এমন একটি কাজ করবে, বিষয়টি আমরা বুঝতেই পারিনি।’
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ফারুক জানান, মরদেহ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি শাহবাগ থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে।
৪২ দিন আগে
খিলগাঁওয়ে বাসা থেকে ব্যাংক কর্মকর্তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
রাজধানীর খিলগাঁওয়ের নিজ বাসায় শাহানুর রহমান (৪৫) নামে এক ব্যক্তি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তিনি সোনালী ব্যাংকের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ছিলেন।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় খিলগাঁওয়ের নিজ বাসার তৃতীয় তলায় এ ঘটনাটি ঘটে।
পরে অচেতন অবস্থায় শাহানুরকে রাত পৌনে ৯টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন বলে জানান ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ি ভারপ্রাপ্ত পরিদর্শক মো. ফারুক।
নিহত শাহানুর রহমান রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার বিল গজারিয়া গ্রামের আব্দুর রহমানের ছেলে।
নিহতের ভাই মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘আমার ভাই সোনালী ব্যাংকের মতিঝিল শাখায় জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ছিলেন। তিনি পারিবারিক কারণে কিছুদিন যাবত মানসিক বিষণ্নতায় ভুগছিলেন। আজ সন্ধ্যার দিকে কাউকে কিছু না বলে ঘরে গিয়ে তিনি দরজা বন্ধ করে রাখেন। বেশ কিছু সময় পেরিয়ে গেলেও কোনো সাড়া না পাওয়ায় আমরা পরিবারের সদস্যরা ঘরের দরজা ভেঙে দেখি সিলিং ফ্যানের সঙ্গে প্যান্টের কাপড় গলায় পেঁচিয়ে তিনি ঝুলে আছেন। পরে আমরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক জানান আমার ভাই আর বেঁচে নেই।’
মো. ফারুক জানান, মরদেহ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি খিলগাঁও থানা পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে।
৪৩ দিন আগে