আত্মহত্যা
নওগাঁয় ছাত্রাবাস থেকে শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
নওগাঁ শহরের একটি ছাত্রাবাস থেকে শাহরিয়ার আহম্মেদ ইমন (২৫) নামে এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শনিবার (২৫ জুলাই) সকাল ৯টার দিকে শহরের বাঙ্গাবাড়িয়া মধ্যপাড়া এলাকার জননী ছাত্রাবাস থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত শাহরিয়ার আহম্মেদ ইমন নওগাঁর মান্দা উপজেলার মাগুড়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল মান্নানের ছেলে। তিনি নওগাঁ সরকারি কলেজের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের স্নাতক চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জননী ছাত্রাবাসের ১০৯ নম্বর ডবল রুমে তিনি একাই থাকতেন। গতকাল (শুক্রবার) রাতে পরিবারের সঙ্গে তার কোনো যোগাযোগ হয়নি। এ কারণে আজ (শনিবার) সকাল সাড়ে ৭টায় তার মামা ছাত্রাবাসে এসে দরজায় বারবার ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে সেখানে থাকা শিক্ষার্থীদের সহযোগিতায় দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। এ সময় ঘরের ভেতরে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় ইমনের মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে নওগাঁ সদর মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নওগাঁ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান জানান, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ণয়ে তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ ব্যাপারে নওগাঁ সদর মডেল থানায় একটি ইউডি মামলা করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
৪ দিন আগে
ফুটবল খেলা দেখে দেরিতে বাড়ি ফেরায় স্ত্রীর সঙ্গে মনোমালিন্য, পরে যুবকের ‘আত্মহত্যা’
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলায় রাতে ফুটবল খেলা দেখে দেরিতে বাড়ি ফেরায় স্ত্রীর সঙ্গে মনোমালিন্য হওয়ার পর সকালে নিজ ঘর থেকে সুমন হোসেন (৩০) নামে এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
সোমবার (২০ জুলাই) সকালে উপজেলার বাহিরচর ইউনিয়নের ১৬ দাগ দক্ষিণপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত সুমন হোসেন একই এলাকার আফজাল হোসেনের ছেলে। তিনি কৃষিকাজ করতেন। তার পাঁচ বছর ও দেড় বছর বয়সী দুইটি সন্তান রয়েছে।
জানা গেছে, সুমন আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের সমর্থক ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল (রবিবার) দিবাগত রাতে বিশ্বকাপ ফুটবলের আর্জেন্টিনা ও স্পেনের মধ্যকার ফাইনাল ম্যাচ দেখে ভোরে বাড়ি ফেরেন সুমন। এ সময় পারিবারিক বিষয় নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে তার কথাকাটাকাটি ও মনোমালিন্য হয়। পরে আজ (সোমবার) সকালে পরিবারের সদস্যরা ঘরের ভেতরে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান।
নিহতের স্ত্রী জানান, ভোর ৪টার দিকে ফুটবল খেলা দেখে বাড়িতে ফেরেন সুমন। তাকে শুধু বলেছিলাম, ‘এখন তোমার আসার সময় হলো!’ তখনই আবার বাড়ি থেকে মাঠের দিকে বের হয়ে যান তিনি। এরপর আমি মোবাইল দেখতে দেখতে ঘুমিয়ে পড়ি। ভোরে হঠাৎ ঘুম ভেঙে দেখতে পাই ‘ঘরের ডাবের’ (ঘরের আড়া) সঙ্গে সুমনের দেহ ঝুলছে।
প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় আব্দুল জলিল বলেন, আনুমানিক ভোর সাড়ে ৫টা হবে। আমি ফজরের নামাজ শেষ করে বাড়ি ফিরছিলাম। এ সময় হঠাৎ সুমনের বাড়ি থেকে চিৎকারের শব্দ শুনে ভেতরে গিয়ে দেখি ঘরের ডাবের সঙ্গে সুমন ঝুলছে। তাৎক্ষণিক আমি ও আরেকজন মিলে সুমনকে নামাই। এরপর স্থানীয় চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ভেড়ামারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ জাহেদুর রহমান বলেন, সুমন নামে এক যুবক আত্মহত্যা করেছেন। তবে কারণ নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। জানতে পেরেছি, খেলা দেখে আসার পর স্ত্রীর সঙ্গে মনোমালিন্য হয়েছিল। আবার ওই যুবক আর্জেন্টিনা দলের সমর্থকও ছিলেন।
৯ দিন আগে
লালবাগে ভবনের ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়ে ব্যবসায়ীর ‘আত্মহত্যা’
রাজধানীর লালবাগের আজিমপুর এলাকার একটি সাততলা ভবনের ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়ে রাজ্জাক হোসেন (৬০) নামে এক ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের দাবি, ব্যবসায়িক মন্দার কারণে তিনি আত্মহত্যা করেছেন।
রবিবার (৫ জুলাই) বিকেল পৌনে ৩টার দিকে গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত রাজ্জাকের বাড়ি রাজধানীর মোহাম্মদপুরের সূচনা কমিউনিটি সেন্টার এলাকায়। তার বাবার নাম মৃত ফকির চান। তিনি একটি বেসরকারি কোম্পানির সঙ্গে জমিজমা-সংক্রান্ত ব্যবসা করতেন বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।
তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসা সিফাত জানান, নিহত ব্যক্তি সম্পর্কে আমার বড় ভাইয়ের শশুর। তিনি একটি বেসরকারি ডেভলপার কোম্পানির সঙ্গে ব্যবসা করতেন। ব্যবসায় মন্দা হওয়ার কারণে বেশ কিছুদিন ধরেই তিনি মানসিকভাবে চিন্তিত ছিলেন।
আজ (রবিবার) সকালে আজিমপুরে মেয়ের বাড়িতে বেড়াতে আসেন তিনি। এ সময় কাউকে কিছু না বলে ওই সাততলা ভবনের ছাদ থেকে নিচে লাফিয়ে পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে আমরা বিষয়টি জানতে পেরে দ্রুত তাকে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ফারুক চিকিৎসকের বরাত দিয়ে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে।
২৪ দিন আগে
গাজীপুরে ৫ খুন: আসামি ফোরকানের আত্মহত্যার বিষয়টি নিশ্চিত নয় পুলিশ
গাজীপুরের কাপাসিয়ায় স্ত্রী, তিন কন্যা সন্তান ও শ্যালককে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত ফোরকান মোল্লা পদ্মা নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন কিনা—সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত হতে পারেনি গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি)। তবে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে তদন্ত চলছে বলে জিএমপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) দুপুরে জিএমপির পুলিশ সুপার মো. শরীফ উদ্দিন এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ফোরকান মোল্লা।
গোপালগঞ্জের বাসিন্দা ফোরকান প্রায় ছয় মাস আগে স্ত্রী শারমিন ও তিন সন্তানকে নিয়ে গাজীপুরের কাপাসিয়ার রাউৎকোনা পূর্বপাড়া এলাকায় ভাড়া বাসায় ওঠেন। তিনি পেশায় প্রাইভেটকারচালক ছিলেন।
পুলিশ সুপার আরও জানান, পারিবারিক অশান্তির বিষয়টি তদন্তে উঠে এসেছে। গত ৮ মে রাতে চাকরির কথা বলে শ্যালক রসূল মোল্লাকেও গোপালগঞ্জ থেকে কাপাসিয়ায় নিয়ে আসেন ফোরকান। তদন্ত সংশ্লিষ্টদের ধারণা, রাতের খাবারের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ বা অচেতন করার কিছু মিশিয়ে স্ত্রী, তিন কন্যা ও শ্যালককে অচেতন করা হয়। এরপর ধারালো চাপাতি দিয়ে তাদের হত্যা করা হয়।
ব্রিফিংয়ে তিনি জানান, নিহত শারমিনের বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে কাপাসিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা করা হয়। পরে ঘটনাস্থল থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাপাতিসহ বিভিন্ন আলামত জব্দ করে পুলিশ। ঘটনার পর থেকেই ফোরকান মোল্লা পলাতক ছিলেন।
তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের অবস্থান মেহেরপুর এলাকায় শনাক্ত করা হয়। পরে তদন্তে নতুন তথ্য পাওয়া যায়। এক ট্রাক সহকারী পদ্মা সেতুর মাঝামাঝি এলাকা থেকে একটি মোবাইল কুড়িয়ে পান। ওই সূত্র ধরে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ।
ফুটেজে দেখা যায়, সাদা শার্ট ও কালো প্যান্ট পরা এক ব্যক্তি একটি সাদা প্রাইভেটকার থেকে নেমে রেলিংয়ের পাশে কিছু রেখে কিছুক্ষণ পর নদীতে ঝাঁপ দেন। ওই ব্যক্তি ফোরকান মোল্লা কি না, কিংবা তিনি মারা গেছেন কি না—এ বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
বিষয়টি যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট থানাগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানান পুলিশ সুপার মো. শরীফ উদ্দিন।
৭৬ দিন আগে
সীমান্তে মাদকের বিষাক্ত নিশ্বাস: ফুলবাড়ীতে বাড়ছে অপরাধ ও আত্মহত্যার প্রবণতা
উত্তরের সীমান্তঘেঁষা জেলা কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলায় উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে মাদকাসক্তি। মরণনেশার এই করাল গ্রাসে বিপথগামী হচ্ছে তরুণ ও যুবসমাজ, বাদ যাচ্ছে না স্কুল-কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থীরাও। মাদকাসক্তির জেরে চুরি, ছিনতাইসহ পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সামাজিক অপরাধ। ফলে চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটছে অভিভাবক, শিক্ষক ও সচেতন নাগরিকদের।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে মাদক সহজলভ্য হয়ে পড়ায় তরুণদের নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকলেও পরিস্থিতির দৃশ্যমান কোনো উন্নতি হচ্ছে না। এই অবস্থায় মাদকবিরোধী কঠোর পদক্ষেপের দাবি তুলেছেন স্থানীয়রা।
নেশার বলি চন্দন: একটি পরিবারের স্বপ্নভঙ্গ
সম্প্রতি ফুলবাড়ীর কুরুষাফেরুষা গ্রামের বাসিন্দা চন্দন কুমার রবিদাসের (৩৫) আত্মহত্যার ঘটনা পুরো উপজেলাকে নাড়িয়ে দিয়েছে। পেশায় স্বর্ণকার চন্দন এক ছেলে ও দুই মেয়ের জনক ছিলেন। বালারহাট বাজারে তিল তিল করে গড়ে তুলেছিলেন নিজের জুয়েলারি দোকান। কিন্তু মাদকাসক্তি তার সাজানো সংসার তছনছ করে দিয়েছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, উপার্জনের সিংহভাগই তিনি ব্যয় করতেন নেশার পেছনে। পরিবারের শত চেষ্টাতেও তাকে ফেরানো সম্ভব হয়নি। নেশার ঘোরে প্রায়ই স্ত্রী-সন্তান ও বাবা-মায়ের সঙ্গে অশান্তি লেগে থাকত। গত ৮ মে তিনি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন।
চন্দনের বাবা দ্বীনেশ কুমার রবিদাস কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘মাদক আমার ছেলেকে শেষ করে দিল। কয়েকবার চিকিৎসা করিয়েও তাকে ফেরাতে পারিনি। এখন তার ছোট ছোট সন্তানদের আহাজারি সইতে পারছি না। আর কোনো বাবা-মায়ের বুক যেন এভাবে খালি না হয়!’
বালারহাট বাজারের ব্যবসায়ী কিশোর কুমার ভট্টাচার্য বলেন, ‘চন্দন অত্যন্ত ভদ্র ও হাসিখুশি মানুষ ছিল। তার আত্মহত্যা আমরা কেউ মেনে নিতে পারছি না। মাদক তাকে ধীরে ধীরে শেষ করে দিয়েছে।’
আড়ালে থাকা অন্য ট্র্যাজেডি
চন্দনের মৃত্যুর দিনই উপজেলার নাওডাঙ্গা এলাকায় এক বিধবা নারী আত্মহত্যা করেন। স্থানীয়দের দাবি, একমাত্র ছেলের মাদকাসক্তি ও তাকে সুপথে ফেরাতে ব্যর্থ হয়ে চরম হতাশায় তিনি আত্মহননের পথ বেছে নেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নাওডাঙ্গা ইউনিয়নসহ পুরো উপজেলার বহু তরুণ বর্তমানে বিভিন্ন মাদক নিরাময় কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন। দরিদ্র কৃষিনির্ভর পরিবারগুলো ভিটেমাটি বিক্রি করেও সন্তানের চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে।
গোরকমন্ডল এলাকার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী বলেন, ‘মাদক এখন পরিবার ধ্বংসের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমার ছোট ভাইও মাদকাসক্ত হয়ে পড়েছে। তাকে রংপুরের একটি নিরাময় কেন্দ্রে চিকিৎসা দিতে প্রতি মাসে প্রায় ৪০ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। একজন কৃষকের পক্ষে এটা বহন করা খুব কঠিন।’
নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের বাসিন্দা আব্দুল মজিদ মানিক বলেন, ‘আমার নিজের ছেলেও একসময় মাদকে জড়িয়ে পড়েছিল। তাকে বাঁচাতে দুই দফায় নিরাময় কেন্দ্রে রাখতে হয়েছে। এমনকি, একপর্যায়ে পুলিশের হাতেও তুলে দিতে বাধ্য হয়েছি।’ সমাজের সবাই একসঙ্গে কাজ না করলে মাদক ঠেকানো সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন এই পিতা।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও সামাজিক উদ্বেগ
নাওডাঙ্গা স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল হানিফ সরকার বলেন, ‘সীমান্ত এলাকায় মাদকের বিস্তার এখন ভয়াবহ। অনেক শিক্ষার্থীও এর সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। আমরা সচেতনতামূলক কাজ করছি, তবে সামাজিক প্রতিরোধ ছাড়া এটি নির্মূল করা কঠিন।’
তিনি আরও বলেন, ‘মাদকাসক্তির কারণে অনেক তরুণ চুরি-ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। এটি শুধু ব্যক্তি নয়, পুরো সমাজের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।’
নাওডাঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান মো. হাছেন আলী মনে করেন, পরিবারের উদাসীনতাও এর জন্য দায়ী। তিনি বলেন, ‘বাড়ির ছেলে হঠাৎ দামী খাবার বা জিনিস নিয়ে এলে পরিবার আনন্দিত হয়, কিন্তু সেই টাকা কোথা থেকে আসছে তা খোঁজ নেয় না। এই অসচেতনতাই বিপদ ডেকে আনছে।’
ফুলবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদ হাসান নাঈম জানান, মাদক নির্মূলে পুলিশের অভিযান চলমান রয়েছে এবং প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে নিয়মিত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দিলারা আক্তার বলেন, ‘সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদকের প্রভাব বেশি। বিশেষ করে বালারহাট এলাকায় একটি স্থায়ী পুলিশ চেকপোস্ট স্থাপনের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘শুধু প্রশাসনের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। পরিবারকে আরও সচেতন হতে হবে। সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে মিশছে—এসব বিষয়ে অভিভাবকদের নজরদারি বাড়াতে হবে।’
স্থানীয় সচেতন মহলের আশঙ্কা, এখনই কার্যকর ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ফুলবাড়ীর ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এক ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।
৮০ দিন আগে
ঢাবি ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার; চিরকুটে শিক্ষকের নাম, হেফাজতে ২
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) এক ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করা হয়েছে, যাতে এক শিক্ষক ও এক সহপাঠীর নাম উল্লেখ থাকায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।
রবিবার (২৬ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বাড্ডা থানা পুলিশ উত্তর বাড্ডা পূর্বাচল উদয়ন ম্যানশন ১০ নম্বর লেনের ৫৯০ নম্বর বাড়ির নবম তলা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
নিহতের নাম মুনিরা মাহজাবিন মিমো (২৬)। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী ছিলেন। মাদারীপুর জেলার শিবচর থানা ডাইয়ারচর গ্রামের মো. গোলাম মোস্তফার মেয়ে ছিলেন তিনি।
তিনি নিজ বাসায় গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।
বাড্ডা থানা উপপরিদর্শক (এসআই) মোছা. ফাতেমা সিদ্দিকা সোমা বলেন, আমরা খবর পেয়ে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উত্তর বাড্ডার ওই বাসার একটি কক্ষ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করি। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সবার অজান্তে নিজ কক্ষে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে রশি দিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে জানিয়ে পরিবারের লোকজন থানায় ফোন দিলে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তার মরদেহ উদ্ধার করি।
নিহতের মা তাহামিনা আক্তার জানান, জানতে পেরেছি যে আমার মেয়ের মরদেহের পাশ থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করা হয়েছে। ওই নোটে লেখা ছিল, ‘সুদীপ স্যারকে ৫০ হাজার টাকা দিতে হবে, হানি আর সুদীপ স্যার ভাল থাকো, স্যারের দেওয়া গিফটগুলো ফেরত দেওয়া।’
নিহত শিক্ষার্থীর সুইসাইড নোটে বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সুদীপ চক্রবর্তী এবং এক ঘনিষ্ঠ সহপাঠীর নাম উল্লেখ থাকায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সাইফুদ্দিন আহমেদ আজ দুপুরে ইউএনবিকে জানান, মিমোর মরদেহ বর্তমানে ঢামেক হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। তিনি নিজ বাসায় আত্মহত্যা করেছেন বলে জানা গেছে। একটি চিরকুটে তিনি একজন শিক্ষক ও একজন সহপাঠীর নাম উল্লেখ করেছেন।
ত্রিকোণ প্রেমের জটিলতায় মেয়েটি আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন বলে নিজের ধারণার কথা জানান এ শিক্ষক।
৯৪ দিন আগে
নড়াইলে ট্রেনে কাটা পড়ে মা ও শিশু নিহত
নড়াইল শহরে ট্রেনে কাটা পড়ে অজ্ঞাত এক নারী ও শিশু নিহত হয়েছে। স্থানীয়দের ধারণা, পারিবারিক কলহের জেরে সন্তানকে নিয়ে ওই নারী আত্মহত্যা করেছেন।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুর পৌনে ১টার দিকে শহরের বরাশুলা চিত্রা সেতু এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
বরাশুলা এলাকার সাব্বির হোসেনসহ কয়েকজন জানান, অজ্ঞাত ওই নারী স্থানীয়দের কাছে কখন ট্রেন আসবে তা বারবার জানতে চাচ্ছিলেন। এরপর তিনি চিত্রা সেতু রেল ব্রিজের ওপর উঠে যান। পরে খবর পাই, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা বেনাপোলগামী ট্রেনে কাটা পড়ে ওই নারী এবং তার ছেলে সন্তান নিহত হয়েছেন।
এ ব্যাপারে নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি, তদন্ত) অজয় কুমার কুণ্ডু বলেন, অজ্ঞাত ওই নারী এবং তার দুই বছরের শিশু সন্তানের পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে।
৯৫ দিন আগে
মুন্সীগঞ্জে শ্বশুরবাড়িতে আত্মহত্যার চেষ্টা, উদ্ধারের পর যুবক গ্রেপ্তার
মুন্সীগঞ্জে পারিবারিক কলহের জেরে শ্বশুরবাড়িতে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন এক ব্যক্তি। এ খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা তাকে জীবিত উদ্ধার করার পর পুলিশে দিয়েছেন।
মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ে শনিবার (৪ এপ্রিল) ভোর রাতে ওই যুবক আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।
তিনি লৌহজং উপজেলার কুমারভোগ এলাকার বাসিন্দা। পেশায় তিনি একজন জেলে।
এ বিষয়ে মুন্সীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সফিকুল ইসলাম জানান, রাত ৩টা ৫৭ মিনিটে লৌহজং উপজেলার উত্তর মেদিনীমণ্ডলের আনোয়ার চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশে জলিল ব্যাপারী (৪০) নামের এক ব্যক্তি আত্মহত্যার উদ্দেশ্যে গলায় রশি দিয়ে শ্বশুরবাড়ির গাছের ডালের সঙ্গে ঝুলে পড়ার চেষ্টা করেন।
পারিবারিক কলহের জেরে শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে তিনি আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। স্থানীয় লোকজন তাকে নামানোর চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হন।
পরে শ্রীনগর ফায়ার স্টেশনের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে। ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা কৌশলে তাকে বুঝিয়ে গলার ফাঁস খুলে নিরাপদে উদ্ধার করতে সক্ষম হন।
উদ্ধারের পর জলিল ব্যাপারীকে পদ্মা সেতু উত্তর থানার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পুলিশ তাকে আত্মহত্যার চেষ্টার অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে বলে জানান সফিকুল ইসলাম।
১১৬ দিন আগে
রংপুরে শিশুকে হত্যার পর মায়ের আত্মহত্যা
রংপুরে নিজের দেড় বছরের শিশু সন্তানকে শ্বাসরোধে হত্যার পর এক মা গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।
শনিবার (১৪ মার্চ) রাত সাড়ে ১১টার দিকে নগরীর ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাজাপুর এলাকায় এই ঘটনা ঘটেছে।
নিহত ওই নারীর নাম সূচনা ঘোষ। শিশুপুত্র জয়দেব ঘোষকে হত্যার পর নিজের প্রাণ বিসর্জন দিয়েছেন তিনি।
পুলিশ জানায়, নগরীর সাজাপুর এলাকার শংকর ঘোষের (৪৫) স্ত্রী সূচনা ঘোষ (৪০) তার দেড় বছরের পুত্রসন্তান জয়দেব ঘোষকে শ্বাস রোধ করে হত্যার পর গলায় ওড়না পেঁচিয়ে নিজে আত্মহত্যা করেন। আত্মাহত্যার ঘটনাটি জানালার ফাঁক দিয়ে প্রথমে দেখতে পান তার দশম শ্রেণি পড়ুয়া মেয়ে পুষ্পিতা ঘোষ। ওই গৃহবধূর পূজা ঘোষ নামের বড় আরেকটি মেয়ের বিয়ে হয়েছে। গৃহবধূর স্বামী একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী এবং ক্ষুদ্র মুদি দোকানি। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।
শংকর ঘোষের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন তার স্ত্রী। বিভিন্ন সময়ে এ বিষয়ে চিকিৎসাও দেওয়া হয়েছে তাকে। তার ধারণা, মানসিক সমস্যা থেকেই সন্তানকে হত্যা করে নিজে আত্মহত্যা করেন সূচনা।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের তাজহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান জানান, মূলত অভাব অনটনের কারণে পারিবারিক অশান্তি ছিল পরিবারটিতে। তবে পারিবারিক কলহ নাকি মানসিক অসুস্থতার কারণে এ ঘটনা ঘটছে, তা তদন্তের পর জানা যাবে।
১৩৬ দিন আগে
হাঁস চুরির অভিযোগে সালিশ, অপমান সইতে না পেরে তরুণের ‘আত্মহত্যা’
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে হাঁস চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সালিশের শাস্তি ও অপমান সহ্য করতে না পেরে মাসুম (১৯) নামের এক তরুণ গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
রবিবার (৮ মার্চ) বিকেলে ফরিদগঞ্জের গোবিন্দপুর উত্তর ইউনিয়নের চরমথুরা গ্রামের নিজ বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিনটি হাঁস চুরির অভিযোগে শনিবার (৭ মার্চ) সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কয়েক দফায় মাসুমকে শাসানো ও মারধর করা হয়। রবিবার সকালে স্থানীয় ইউপি সদস্যের নেতৃত্বে সালিশ বৈঠক বসে। সালিশে মাসুমকে দোষী সাব্যস্ত করে নাকে খত দেওয়ানো হয়। পাশাপাশি তাকে ৫ হাজার টাকা জরিমানাও করা হয়। এ সময় তাকে ও তার পরিবারকে অপমান করা হয়েছে বলে অভিযোগ তার পরিবারের।
মাসুমের মা মৌসুমী বেগম বলেন, হাঁস চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকার কিছু লোকজন আমার ছেলেকে মারধর করেন ও হুমকি দেন। সালিশে তাকে অপমানজনক শাস্তি দেওয়া হয় এবং জরিমানা করা হয়। আমি বিকেলে বাড়ির বাইরে ছিলাম। এ সময় খবর পাই, অপমান সইতে না পেরে সে গলায় ফাঁস দিয়েছে।
মাসুমের খালা সুমি বেগম বলেন, এটি সাধারণ আত্মহত্যা নয়, তাকে আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।
সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল গনি বলেন, এমন মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
অভিযোগকারী পক্ষের সদস্য নয়ন পাটওয়ারী বলেন, শুক্রবার (৬ মার্চ) রাতে আমাদের ঘর থেকে তিনটি হাঁস চুরি হয়। পরে জানতে পারি, মাসুম ও আল-আমিন আমার আত্মীয়ের কাছে হাঁসগুলো বিক্রি করেছেন। বিষয়টি স্থানীয় ইউপি সদস্যকে জানালে তিনি সালিশের ব্যবস্থা করেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান বলেন, হাঁস চুরির অভিযোগের পর এলাকাবাসীকে নিয়ে সালিশ করা হয়। সালিশের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে জরিমানা করা এবং নাকে খত দিতে বলা হয়। পরে সন্ধ্যার দিকে তার আত্মহত্যার খবর পাই। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হেলাল উদ্দিন জানান, যুবকের আত্মহত্যার সংবাদ পেয়ে রাত সাড়ে ১০টায় ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ। তার মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য আজ জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
১৪২ দিন আগে