সারাদেশ
ভাটারায় গ্যারেজে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে কর্মচারী নিহত
রাজধানীর ভাটারার বারিধারা এলাকায় একটি গাড়ির গ্যারেজে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মো. রিয়াজ (২৮) নামে এক কর্মচারী নিহত হয়েছেন।
বুধবার (২০ মে) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে অচেতন অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়।
গ্যারেজের মালিক জাকির হোসেন জানান, সকালে গ্যারেজ খোলার পর লাইট জ্বালাতে গিয়ে অসাবধানতাবশত বিদ্যুতের সংস্পর্শে এসে রিয়াজ অচেতন হয়ে পড়েন। পরে দ্রুত তাকে উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফারুক চিকিৎসকের বরাত দিয়ে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানায় জানানো হয়েছে।
১৫ দিন আগে
গাইবান্ধায় অগ্নিকাণ্ডে ৮ দোকান ভস্মীভূত
গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলায় অগ্নিকাণ্ডে ৮টি দোকানঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আগুনে দোকানগুলোর মালামাল, আসবাবপত্র ও ব্যবসায়িক সরঞ্জাম পুড়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে হতাশা নেমে এসেছে।
বুধবার (২০ মে) ভোর ৪টার দিকে উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ফুলছড়ি হাটে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভোরে হাটের একটি দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই দাউ দাউ করে আগুন পাশের দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় আগুনের লেলিহান শিখা দেখে স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালান। পরে খবর পেয়ে ফুলছড়ি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করে। পরবর্তীতে সাঘাটার দুইটি ও গাইবান্ধার একটি ইউনিট মিলে প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, আগুনে ওষুধ, মুদি পণ্য, কাপড়, কসমেটিকস ও বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালামাল পুড়ে গেছে। এতে অনেক ব্যবসায়ী পথে বসার উপক্রম হয়েছেন।
ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক হিসেবে, অগ্নিকাণ্ডে আনুমানিক ৩৮ লাখ ১০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে আরও প্রায় ৭৩ লাখ ৫০ হাজার টাকার মালামাল উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী জেহাদ আলী বলেন, ‘ভোরে হঠাৎ খবর পাই, হাটে আগুন লেগেছে। ছুটে এসে দেখি, আমার দোকানসহ কয়েকটি দোকান আগুনে ছাই হয়ে গেছে। দোকানের সব মালামাল পুড়ে শেষ হয়ে গেছে। অনেক কষ্ট করে ব্যবসাটা দাঁড় করিয়েছিলাম, এখন কীভাবে আবার শুরু করব বুঝতে পারছি না।’
স্থানীয় ইউপি সদস্য জিহাদুর রহমান মওলা বলেন, আগুন লাগার খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসে এবং আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালায়। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। আগুনে ব্যবসায়ীদের অনেক বড় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
ফুলছড়ি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের পরিদর্শক নুর মোহাম্মদ বলেন, অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমাদের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। পরে পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় আরও ইউনিট যুক্ত করা হয়। প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় পাঁচটি ইউনিটের সমন্বিত অভিযানে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক গোলযোগ থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। তবে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় আশপাশের আরও বেশ কয়েকটি দোকান রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে।
১৫ দিন আগে
খুলনা-মোংলা মহাসড়কে ট্রাকচাপায় মোটরসাইকেলের ৩ আরোহী নিহত
বাগেরহাটের খুলনা-মোংলা মহাসড়কে ট্রাকচাপায় মোটরসাইকেলের তিন আরোহী নিহত হয়েছেন।
মহাসড়কের চুলকাঠি এলাকার ভট্ট বালিঘাটায় বুধবার (২০ মে) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতদের মধ্যে আব্দুল কাদের নামে একজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তিনি বাগেরহাটের ফকিরহাট থানার জাড়িয়া ভবনা এলাকার বাসিন্দা। তিনি মোটরসাইকেল চালাচ্ছিলেন। অন্য দুইজনের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
কাটাখালী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাফর আহমেদ জানান, মোংলা থেকে মোটরসাইকেলে তিন আরোহী খুলনার দিকে যাচ্ছিলেন। পথে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের সঙ্গে মোটরসাইকেলটির সংঘর্ষ হয়। এ সময় মোটরসাইকেলটি ট্রাকের নিচে ঢুকে গেলে ঘটনাস্থলেই একজন নিহত হন। আহত দুজনকে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধার করে বাগেরহাট জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
বাগেরহাট ২৫০ শয্যা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. এজাজুল ইসলাম জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় আহত দুই ব্যক্তিকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তাদের মৃত্যু হয়েছে।
বাগেরহাট ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার শেখ মামুনুর রাশিদ বলেন, আহত অবস্থায় দুজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
১৫ দিন আগে
রাজধানীতে শপিং কমপ্লেক্সে শর্ট সার্কিটের স্পার্কিংয়ে দগ্ধ ৪
রাজধানীর শান্তিনগরের ইস্টার্ন প্লাস শপিং কমপ্লেক্সে বিদ্যুতের শর্ট সার্কিট থেকে সৃষ্ট স্পার্কিংয়ে চারজন দগ্ধ হয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৯ মে) দিবাগত রাত ১২টার দিকে দগ্ধ অবস্থায় তাদের জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়।
দগ্ধরা হলেন— সোহরাব (২০), শামীম (১৮), সুজিত দাস (২৮) ও মোনায়েম হোসেন (৩৩)।
আজ (বুধবার) সকালে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক ডা. শাওন বিন রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, বিদ্যুতের স্পার্কিংয়ে দগ্ধ অবস্থায় চারজনকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। তাদের সবারই ইনহেলেশন বার্ন (শ্বাসনালী পুড়ে যাওয়া) রয়েছে। এর মধ্যে দুজনকে ভর্তি করা হয়েছে এবং অপর দুজনকে জরুরি বিভাগের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
দগ্ধদের হাসপাতালে নিয়ে আসা সহকর্মী রনি জানান, আহতরা সবাই ওই শপিং কমপ্লেক্সের কর্মচারী।
তিনি বলেন, গতকাল রাতে মার্কেটের বেসমেন্ট-১-এ বিদ্যুতের শর্ট সার্কিট থেকে তারা দগ্ধ হন। পরে দ্রুত তাদের জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে নেওয়া হলে চিকিৎসক দুজনকে ভর্তি দেন এবং বাকি দুজনকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
১৫ দিন আগে
অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট সংকটে মধ্যপাড়া খনিতে পাথর উত্তোলন বন্ধ
অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটসহ বিস্ফোরক উপকরণের সংকটে দেশের একমাত্র ভূগর্ভস্থ কঠিন শিলা খনি মধ্যপাড়ায় আবারও পাথর উত্তোলন বন্ধ হয়ে গেছে।
মঙ্গলবার (১৯ মে) থেকে পাথর উত্তোলন কার্যক্রম বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জার্মানিয়া ট্রেস্ট কনসোর্টিয়াম (জিটিসি)।
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, আগামী জুনের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে থাইল্যান্ড থেকে অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট খনিতে পৌঁছালে পুনরায় পাথর উত্তোলন শুরু করা সম্ভব হবে।
মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের (এমজিএমসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী ডি এম জোবায়েদ হোসেন জানান, থাইল্যান্ড থেকে অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট আমদানি করা হচ্ছে। তবে চলমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে এসব উপকরণ আসতে বিলম্ব হচ্ছে।
তিনি বলেন, খনির অভ্যন্তরে পাথরের স্তর ভাঙতে অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের বিস্ফোরক প্রয়োজন হয়। খনিতে বছরে প্রায় ৫ থেকে ৬ কোটি টাকার বিস্ফোরক লাগে, যার পুরোটাই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। সরকারি নানা নিয়মনীতি অনুসরণ করায় আমদানি প্রক্রিয়াও দীর্ঘ হয়।
তিনি আরও জানান, অতীতেও বিস্ফোরক সংকটে একাধিকবার খনিতে উৎপাদন বন্ধ ছিল। এর আগে ২০১৪ সালে ২২ দিন, ২০১৫ সালে দুই মাস এবং ২০১৮ সালে সাত দিন পাথর উত্তোলন বন্ধ রাখতে হয়েছিল।
তবে পাথর উত্তোলন বন্ধ থাকলেও খনির রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম চালিয়ে যাবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জিটিসি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পাথর উত্তোলনের স্বার্থে আগে বিস্ফোরক আমদানির দায়িত্ব ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জিটিসিকে দেওয়া হয়েছিল। প্রতিষ্ঠানটি ২০২৪ সাল পর্যন্ত এ দায়িত্ব পালন করে এবং ওই সময়ে বিস্ফোরকের অভাবে এক দিনও উৎপাদন বন্ধ হয়নি।
তবে গত বছর থেকে খনি কর্তৃপক্ষ সরাসরি বিস্ফোরক আমদানি শুরু করে। সময়মতো আমদানি করতে না পারায় গত ৯ মাসে এ নিয়ে দুই দফা পাথর উত্তোলন বন্ধ হলো।
১৫ দিন আগে
খুমেক হাসপাতালে আগুন, আতঙ্কে হুড়োহুড়িতে আহত বেশ কয়েকজন
খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালের চারতলা ভবনের তৃতীয় তলায় অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। আগুন ও ধোঁয়ায় মুহূর্তেই হাসপাতালে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ভয় ও হুড়োহুড়িতে নামতে গিয়ে হাসপাতালের কয়েকজন স্টাফ ও ফায়ার সার্ভিস কর্মী আহত হয়েছেন।
বুধবার (২০ মে) সকাল ৬টার দিকে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। তাদের প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
এ ঘটনায় আহতদের মধ্যে রয়েছেন হাসপাতালের স্টাফ সাইদুর রহমান (৫০), সিনিয়র স্টাফ নার্স নওরিন, দিপালী ও শারমিন এবং ফায়ার সার্ভিসকর্মী তৌহিদ।
হাসপাতালে কর্মরত ওয়ার্ডবয় রেজাউল জানান, কীভাবে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। তবে স্টোর রুম থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ধোঁয়ায় ওটি (অপরেশন থিয়েটার) ও পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ডে কিছু দেখা যাচ্ছিল না। পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ড থেকে মুমূর্ষু রোগীদের পেছনের দরজা দিয়ে বের করা হয়। আইসিইউ (নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্র) থেকেও কয়েকজন রোগীকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
তিনি আরও জানান, আগুন লাগার পর দুইজন নার্স অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাদের একটি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়েছে। আরেকজন নার্স তিনতলা থেকে নামার সময় পড়ে গিয়ে আহত হন। তবে এ ঘটনায় কোনো রোগী আহত হননি বলে জানান রেজাউল।
ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক সরকার মাসুদ আহমেদ বলেন, সকাল ৬টার দিকে আগুন লাগার খবর পেয়ে বয়রা ফায়ার স্টেশন থেকে তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করে। পরে আরও সাতটি ইউনিট যোগ দেয়। প্রায় এক ঘণ্টা পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
তিনি জানান, চারতলা ভবনের তৃতীয় তলার স্টোররুমে আগুন লাগে। তবে ভবনের সব গেটে তালা থাকায় সেগুলো ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করতে হয়েছে। প্রথমেই বারান্দা থেকে চার-পাঁচজনকে উদ্ধার করা হয়। পরে আগুন নিয়ন্ত্রণের পর আর কাউকে হতাহত অবস্থায় পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি।
রোগী ও তাদের স্বজনরা জানান, অগ্নিকাণ্ডের সময় অধিকাংশ রোগী ও স্বজন ঘুমিয়ে ছিলেন। স্টোররুমে আগুন লাগার পর তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ধোঁয়ায় পুরো এলাকা ঢেকে গেলে সবাই আতঙ্কিত হয়ে নিচে নেমে হাসপাতালের মাঠে অবস্থান নেন। অনেকে রোগীদের অন্য হাসপাতালে নিয়ে যান।
তাদের অভিযোগ, হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টা অপারেশন কার্যক্রম চললেও সেখানে এভাবে আগুন লাগার ঘটনা রহস্যজনক। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. হোসেন আলী বলেন, প্রাথমিকভাবে শর্ট সার্কিট অথবা এসি বিস্ফোরণ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তদন্তের পর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
হাসপাতালের নিরাপত্তাকর্মী আনসার কমান্ডার (এসিপি) মো. আরিফুল ইসলাম জানান, আগুন নিয়ন্ত্রণের সময় গ্রিল কাটতে গিয়ে গ্রিল ভেঙে পড়ে দুইজন স্টাফ নার্স ও ফায়ার সার্ভিসের এক সদস্য আহত হন। পরে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এদিকে, আগুনের ধোঁয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়েন সিনিয়র স্টাফ নার্স নওরিন। এছাড়া সিনিয়র স্টাফ নার্স দিপালী ও শারমিনকে ভবন থেকে উদ্ধার করে নিচে নামানোর সময় ফায়ার সার্ভিস সদস্য তৌহিদ আহত হন। পরে দিপালী ও শারমিনকেও চিকিৎসার জন্য খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
১৫ দিন আগে
টানা দশম দিনে গড়িয়েছে পবিপ্রবির ধর্মঘট
বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) ভিসি প্রফেসর ড. কাজী রফিকুল ইসলামের অপসারণ এবং আন্দোলনকারী শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর হামলার মূল আসামি রিপন শরীফের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে টানা দশম দিনের মতো ক্যাম্পাসে কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (২০ মে) বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আয়োজিত সমাবেশে আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. হাবিবুর রহমান।
এ ছাড়াও বক্তব্য দেন ইকোনোমিক অ্যান্ড সোসিওলজি সায়েন্স অনুষদের সাবেক ডিন প্রফেসর ড. বদিউজ্জামান, প্রফেসর ড. মাসুদুর রহমান, কর্মকর্তা ড. আমিনুল ইসলাম টিটো, ছাত্র প্রতিনিধি নাহিদ হোসেন ও নেছার আহম্মেদসহ অন্যরা।
বক্তারা বলেন, ঈদুল আজহার আগেই ভিসির অপসারণ না হলে তারা ক্লাস বর্জনসহ একাডেমিক কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার কর্মসূচি অব্যাহত রাখবেন।
আন্দোলনকারীরা জানান, বর্তমান ভিসি কাজী রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ এনে গত ১১ মে প্রশাসনিক ভবনের সামনে শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অবস্থান ধর্মঘট শুরু করেন। এ সময় বহিরাগত কিছু ব্যক্তি ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালায়।
হামলার ঘটনায় ভিসিকে দায়ী করে তার পদত্যাগ এবং হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ সমাবেশ করেন ছাত্র-শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. মুকিত মিয়া বাদী হয়ে ২৬ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। পুলিশ ইতোমধ্যে মামলার তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তাররা স্থানীয় দুমকি উপজেলা বিএনপির অঙ্গসংগঠনের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে জানা গেছে।
ঘটনার পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থান কর্মসূচি, বিক্ষোভ-সমাবেশ, ক্লাস বর্জন এবং ভিসি ও রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে তালাবদ্ধ কর্মসূচি চলমান রয়েছে।
১৫ দিন আগে
বরিশাল বিআইডব্লিউটিএ দপ্তর পরিদর্শনে গিয়ে কর্মকর্তাদের কাউকেই পেলেন না নৌ প্রতিমন্ত্রী
কোনো ধরনের পূর্বঘোষণা ছাড়াই বরিশালে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন দপ্তরে আকস্মিক পরিদর্শনে যান নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজীব আহসান। দপ্তরে গিয়ে কর্মকর্তা পর্যায়ের কাউকেই পাননি তিনি। বিষয়টি দেখে চরম অসন্তোষ প্রকাশের পাশাপাশি অনুপস্থিত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের তালিকা লিখে নেন তিনি। সেই সঙ্গে বলে যান তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা।
মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল ৯টার দিকে বরিশালে থাকা বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) এবং করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) দপ্তরগুলোতে আকস্মিকভাবে উপস্থিত হন প্রতিমন্ত্রী।
দপ্তর সূত্রে জানা যায়, অফিস কক্ষগুলো তিনি ঘুরে ঘুরে দেখেন। পরিদর্শনের সময় কর্মকর্তা পর্যায়ের কাউকেই পাওয়া যায়নি। এতে দপ্তরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়। যদিও কিছু কর্মচারীকে অফিসে দেখা যায়, তবে কর্মকর্তা না থাকায় সেবা কার্যক্রম কতটা স্বাভাবিকভাবে পরিচালিত হচ্ছিল, সে বিষয়েও খোঁজখবর নেন প্রতিমন্ত্রী।
পরিদর্শনকালে তিনি সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করেন এবং উপস্থিতির বিষয়টি নোট নেন। এ সময় কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করতে দেখা যায় তাকে।
পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় প্রতিমন্ত্রী বলেন, আপনারা যা দেখলেন, আমিও তাই দেখলাম। এ ধরনের অভিযান চলবে।
তিনি আরও ইঙ্গিত দেন, সরকারি দপ্তরে শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতে এমন আকস্মিক পরিদর্শন ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। পরে পরিদর্শন শেষ করে প্রতিমন্ত্রী স্পিডবোটে বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার উদ্দেশে রওনা দেন।
১৬ দিন আগে
নাটোরে পুকুরে ডুবে ২শিশুর মৃত্যু
নাটোরের বড়াইগ্রামে পুকুরে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুরে উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের পূর্নকলস গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলো— ওই গ্রামের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র প্রবাসী রাজু আহমেদের ছেলে নুর মোহম্মদ এবং তার চাচাতো ভাই তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্র ঢাকায় কর্মরত পিন্টু আহমেদের ছেলে আরাফাত।
স্থানীয়রা জানান, নুর মোহম্মদ ও আরাফাত আজ (মঙ্গলবার) দুপুরে বাড়ির পাশের পুকুরে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হয়। অনেক খুঁজেও সন্ধান না পেয়ে স্থানীয়রা পুকুরে তল্লাশি চালান। একপর্যায়ে পানির নিচে তলিয়ে থাকা অবস্থায় উভয় শিশুকে উদ্ধার করা হয়। পরে স্থানীয় ক্লিনিকে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় শোকে স্তব্ধ হয়ে গেছে পরিবার দুটি।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিষয়টি নিশ্চিত করেন গোপালপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুস সামাদ মন্ডল।
বিষয়টি খতিয়ে দেখতে পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস সালাম।
১৬ দিন আগে
বাসচালককে মারধরের জেরে নওগাঁয় দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ
নওগাঁ-ঢাকার রুটে চলাচলকারী একতা পরিবহনের এক বাসচালকে মারধরের প্রতিবাদে নওগাঁ থেকে বগুড়া, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটসহ দূরপাল্লার সব রুটের বাস চলাচল বন্ধ করে রেখেছেন শ্রমিকরা। কোনো ঘোষণা ছাড়াই হঠাৎ করে বাস চলাচল বন্ধ থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যাত্রীরা।
মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল ৯টার পর থেকে নওগাঁ শহরের ঢাকা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে চলাচল বন্ধ করে দেন শ্রমিকরা।
শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা একতা পরিবহনের একটি বাস গতকাল (সোমবার) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে ঢাকা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছায়। বাসটির চালক বাদল হোসেন যাত্রীদের নামিয়ে বাসটি ঘোরানোর সময় একটি অটো চার্জারের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এ সময় পাশের চায়ের দোকানে বসে থাকা কয়েকজন যুবক উঠে গিয়ে কোনো কথা ছাড়াই চালককে মারধর করেন। পরবর্তীতে বাসটি কাউন্টারে গেলে সেখানে গিয়েও কাউন্টার ভাঙচুরের চেষ্টা করেন তারা। এই মারধরের প্রতিবাদে বাস চলাচল বন্ধ রেখেছেন শ্রমিকরা। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত অবরোধ চলবে বলে জানান তারা।
গাইবান্ধা যাওয়ার জন্য কাউন্টারের সামনে অপেক্ষায় থাকা যাত্রী হাবিবুর রহমান বলেন, ‘ঈদ উপলক্ষে বাড়ি যাব। একটু আগে আগেই ছুটি নিয়েছি। এসে দেখছি বাস বন্ধ। নওগাঁতে মাঝেমাঝেই শ্রমিকেরা এমন কর্মসূচি দিয়ে আমাদের ভোগান্তিতে ফেলে।’
মুনিরা আক্তার নামে আরেক যাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘জরুরি কাজে ঢাকা যাব। কাউন্টারে এসে শুনি বাস চলবে না। সময়মতো পৌঁছানো দরকার ছিল, এখন কীভাবে যাব বুঝতে পারছি না।’
নওগাঁ জেলা বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, একতা বাস কাউন্টারের কর্মচারীদের কে বা কারা মারধর করেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। ঘটনা তদন্ত করে কী হয়েছে জেনে পরবর্তীতে বিস্তারিত জানাতে পারব।
নওগাঁ জেলা বাস মালিক সমিতির সভাপতি রেজাউল ইসলাম কালিমি বাবু জানান, নওগাঁ জেলা পরিষদের প্রশাসক ও নওগাঁ জেলা বিএনপির সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিক নান্নুর নেতৃত্বে শ্রমিকদের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা চলছে।
তিনি বলেন, হামলাকারীরা গ্রেপ্তার না হওয়া পর্যন্ত বাস চলাচল শুরু করবে না বলে শ্রমিকরা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। অতি দ্রুত বাস চলাচল স্বাভাবিক করা এবং যাত্রীদের জিম্মি না করার জন্য সকল প্রকার আলোচনা চলমান আছে।
নওগাঁ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, দুপুর পর্যন্ত কোনো সমঝোতা হয়নি। বাস চলাচল স্বাভাবিক করতে বৈঠক চলছে। তবে অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে সমঝোতা হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
১৬ দিন আগে