জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা শেষ করে সিলেটের ছয়টি আসনের প্রার্থী এবং ভোটাররা অপেক্ষার প্রহর গুনছেন ভোটের জন্য। তবে এবারের নির্বাচনে অন্য আসনের প্রার্থী হওয়ায় তিন জন নিজেকে ভোট দিতে পারবেন না।
সিলেট জেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলার ৬টি আসনে এবার ৩৩ জন প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারণ করবেন ২৯ লাখ ১৬ হাজার ৫৭৯ ভোটার।
সিলেটের ৬টি আসনের মধ্যে সিলেট-১ আসন গঠিত সিলেট সিটি করপোরেশন ও সদর উপজেলা নিয়ে। সিলেট-২ আসন গঠিত হয়েছে বিশ্বনাথ ও ওসমানীনগর উপজেলা নিয়ে। সিলেট-৩ আসন দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জ উপজেলা নিয়ে। সিলেট-৪ আসন গঠিত হয়েছে জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নিয়ে। সিলেট-৫ আসন জকিগঞ্জ ও কানাইঘাট উপজেলা নিয়ে গঠিত হয়েছে। সিলেট-৬ আসন গঠিত হয়েছে গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজার উপজেলা নিয়ে।
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে সিলেট জেলার ৬টি আসনে মোট ভোটার ২৯ লাখ ১৬ হাজার ৫৭৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১৪ লাখ ৯৮ হাজার ৯৫৩ এবং নারী ভোটার ১৪ লাখ ১৭ হাজার ৬১০ জন। এ ছাড়া তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১৬ জন।
নির্বাচনি আসনের হিসাব অনুযায়ী সিলেট-১ আসনে মোট ভোটার ৬ লাখ ৮০ হাজার ৯৪৩ জন, সিলেট-২ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৬৮ হাজার ৯০০ জন, সিলেট-৩ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ১৫ হাজার ৯৬৬ জন, সিলেট-৪ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ১২ হাজার ৯৩৩, সিলেট-৫ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ২৮ হাজার ৭৪৬ জন এবং সিলেট-৬ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ৯ হাজার ৯১ জন।
১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে সিলেট-১ আসনের ৮ প্রার্থী হলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা হাবিবুর রহমান, ইসলামী আন্দোলনের মাহমুদুল হাসান, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) প্রণবজ্যোতি পাল, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) সঞ্জয় কান্ত দাস, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, গণঅধিকার পরিষদের আকমল হোসেন এবং ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মো. শামীম মিয়া।
সিলেট-২ আসনের ৫ প্রার্থী হলেন বিএনপির মোছা. তাহসিনা রুশদীর লুনা, খেলাফত মজলিসের মুহাম্মদ মুনতাসির আলী, জাতীয় পার্টির মাহবুবুর রহমান চৌধুরী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. আমীর উদ্দিন এবং গণফোরামের মো. মুজিবুল হক।
সিলেট-৩ আসনের ৬ প্রার্থী হলেন বিএনপির মোহাম্মদ আবদুল মালিক, জাতীয় পার্টির মো. আতিকুর রহমান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মুছলেহ উদ্দিন রাজু, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের রেদওয়ানুল হক চৌধুরী, স্বতন্ত্র প্রার্থী মঈনুল বাকর এবং ব্যারিস্টার মোস্তাকিম রাজা চৌধুরী।
সিলেট-৪ আসনের ৫ প্রার্থী হলেন বিএনপির আরিফুল হক চৌধুরী, জামায়াতের জয়নাল আবেদীন, জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ মুজিবুর রহমান ডালিম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাওলানা সাঈদ আহমদ এবং গণঅধিকার পরিষদের জহিরুল ইসলাম।
সিলেট-৫ আসনের ৪ প্রার্থী হলেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক, খেলাফত মজলিসের মুফতি মোহাম্মদ আবুল হাসান, স্বতন্ত্র (বিএনপির বিদ্রোহী) মামুনুর রশিদ এবং বাংলাদেশ মুসলিম লীগের মো. বিলাল উদ্দিন।
সিলেট-৬ আসনের ৫ প্রার্থী হলেন বিএনপির এমরান আহমদ চৌধুরী, জামায়াতের মো. সেলিম উদ্দিন, জাতীয় পার্টির মো. আবদুন নূর, গণঅধিকার পরিষদের জাহিদুর রহমান এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হাফিজ মাওলানা ফখরুল ইসলাম।
সিলেটের ৬টি আসনে মোট ভোটকেন্দ্র ১ হাজার ১৬টি। এর মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত রয়েছে ২১৭টি কেন্দ্র। এই ২১৭টির মধ্যে বিয়ানীবাজার উপজেলায় ২টি, দক্ষিণ সুরমা উপজেলায় ৪টি, ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলায় ১২টি, গোয়াইনঘাট উপজেলায় ৪৬টি, কানাইঘাট উপজেলায় ৫০টি, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় ১টি, সদর উপজেলায় ৪৫টি, জকিগঞ্জ উপজেলায় ৯টি, জৈন্তাপুর উপজেলায় ২৪টি এবং বালাগঞ্জ উপজেলায় ২৪টি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র রয়েছে। এ ছাড়া সিলেট নগরীতে মোট ২৯৪টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৯৫টিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
সিলেট জেলা পুলিশের গণমাধ্যম কর্মকর্তা মো. সম্রাট তালুকদার বলেন, ‘ঝুঁকিপূর্ণ নয়, আমরা ভোটকেন্দ্রগুলোকে গুরুত্বপূর্ণ এবং সাধারণ দুইভাবে ভাগ করেছি। এসব কেন্দ্রে নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশন ও নির্বাচনে দায়িত্বরত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যারা আছেন সবার সঙ্গে সমন্বয় করেই আমরা কাজ করছি।’
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের গণমাধ্যম বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘নগরীর সব ভোটকেন্দ্রে পুলিশ, মোবাইল টিম ও স্ট্রাইকিং ফোর্স মোতায়েন থাকবে এবং পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’
নিজেকে ভোট দিতে পারবেন না ৩ প্রার্থী
নির্বাচনে নিজ আসনে নিজের ভোট দিতে পারবেন না সিলেটের ৩ প্রার্থী। এই তিন প্রার্থী যে আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, সে আসনে তাদের ভোট না থাকায় এবারের নির্বাচনে তারা নিজের ভোট নিজেকে দিতে পারবেন না।
ভোট না দিতে পারা প্রার্থীরা হলেন— সিলেট-১ (সিলেট সিটি করপোরেশন ও সদর উপজেলা) আসনের গণঅধিকার পরিষদের আকমল হোসেন, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থী মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন সুমন এবং সিলেট-২ আসনের জাতীয় পার্টির প্রার্থী মাহবুবুর রহমান চৌধুরী।
এসব প্রার্থীদের নির্বাচনি হলফনামা ও ভোটার তথ্য অনুযায়ী, সিলেট-১ আসনের ট্রাক প্রতীকে গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী আকমল হোসেনের ভোটকেন্দ্র তার স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা গোলাপগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণভাগ-১ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।
একই আসনে কাস্তে প্রতীকে বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থী মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন সুমনের ভোট তার স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা সুনামগঞ্জ জেলায়। তিনি সুনামগঞ্জ পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের ভোটার। তার ভোটকেন্দ্র প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র জামতলা সুনামগঞ্জে।
সিলেট-২ আসনে লাঙ্গল প্রতীকে জাতীয় পার্টির প্রার্থী মাহবুবুর রহমান চৌধুরীর ভোট তার বর্তমান ঠিকানা সিলেট সিটি করপোরেশনের মজুমদারি এলাকায়। তার ভোটকেন্দ্র সিলেট সিটি করপোরেশনের আম্বরখানা গালস স্কুল অ্যান্ড কলেজ।
প্রার্থীদের ভোট দেওয়ার ব্যাপারে সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা পিংকি সাহা বলেন, যার ভোট যেখানে তাকে সেখানেই ভোট দিতে হবে। তবে কোনো প্রার্থী যদি তার নির্বাচনি এলাকার ভোটার না হন তবে তিনি আবেদন করলে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে পারবেন।
এ ব্যাপারে সিলেট-১ আসনের বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থী মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন সুমন বলেন, আমার ভোট সুনামগঞ্জে। পোস্টাল ভোটের জন্য আবেদন করিনি। যেহেতু সিলেট-১ আসন আমার নির্বাচনি এলাকা, তাই ভোট দিতে সুনামগঞ্জ যেতে পারব না।
সিলেট-২ আসনের জাতীয় পার্টির প্রার্থী মাহবুবুর রহমান চৌধুরী বলেন, আমার ভোট সিলেট সিটি করপোরেশনে। পোস্টাল ভোটের জন্য আবেদন করিনি। নির্বাচনের দিন সময় হলে সিটি করপোরেশনে ভোট দিতে যাব।